Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গাত্রহরিদ্রা – সমীরণ গুহ

    সমীরণ গুহ এক পাতা গল্প237 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গাত্রহরিদ্রা – ২

    ২

    কলকাতার যোধপুর পার্কে ঝিলের ধারে সাত্যকিদের চমৎকার দোতলা বাড়ি। নীচের ফ্ল্যাটটা ভাড়া দিয়ে পুরো ওপরটা নিয়ে ওরাই থাকে। ওরা বলতে সাত্যকি, ওর মা এবং বাবা। বাবা নিখিল মৈত্র চাকরি করতেন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি নামী সংস্থায়। সেখানকার ডিরেক্টর হিসেবে তিনি অবসর নিয়েছেন এই মাসের চার তারিখে। অর্থাৎ মাত্র বারো দিন হয়েছে তিনি অফিসের সুউচ্চ পদের চাকরির মেয়াদ শেষ করে এখন রাতদিন বাড়িতেই বসে আছেন। টাকা-পয়সা যা পেয়েছেন এবং আরও যা পাবেন সেটা রীতিমতো মোটো অঙ্কের। তা ছাড়া সাত্যকি নিজেও একটা চমৎকার চাকরি করে। এই শুরুতেই তার বেতন এগারো হাজার টাকার মতো। সুতরাং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তো পড়েই আছে। এই যখন তাদের ফ্যামিলির অর্থনৈতিক অবস্থা সেখানে অবসরের পরেও নিখিল মৈত্রর যে হাসিখুশি চেহারাটা সাত্যকি দেখবে বলে আশা করেছিল তেমন করে কিন্তু বাবাকে সে একটা মুহূর্তের জন্যেও দেখলো না। অথচ বাবার মতো এমন প্রাণখোলা মানুষ সত্যি দেখা যায় না। সাত্যকির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা রীতিমতো বন্ধুর মতো। শুধু কী তার সঙ্গেই? মোটেই তা নয়। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী প্রত্যেকের কাছেই তিনি একজন চমৎকার ও স্বচ্ছ দৃষ্টির মানুষ। উদার মনের মানুষ। সবচেয়ে বড়ো কথাটা হলো, যিনি যতোই ভালোমানুষ হোন না কেন—অফিসে অন্তত সবার কাছে সমান গ্রহণীয় হতে পারেন না। বিশেষ করে তিনি যদি আবার উঁচু পদে আবৃত থাকেন। নিখিল মৈত্র অবশ্যই সেই ব্যতিক্রমী পুরুষ যিনি অফিসেও তাঁর একজন নিন্দুকও তৈরি করে আসতে পারেননি। সেই মানুষটা যদি অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই এমনভাবে মুষড়ে পড়েন, মুখ থেকে হাসি মিলিয়ে যায়., সে কষ্ট তো সাত্যকিরই।

    পুরো চার চারটে দিন সাত্যকি নীরবে লক্ষ্য করেছে বাবাকে। ঘুরে ফিরে শুধু মাকে জিজ্ঞেস করেছে, বাবার কী হয়েছে বলো তো?

    সেই প্রশ্নের উত্তর তো আমিই খুঁজছি।

    তুমি কিছু জিজ্ঞেস করোনি?

    করিনি আবার! বিজয়া ছেলের দিকে তাকিয়ে আরও বললেন, আমি অনেক, অনেকবার জিজ্ঞেস করেছি। নানারকম কথাবার্তা বলে বোঝাবার এবং ভেতরের ব্যাপারটা জেনে নেবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মানুষটাকে টলানো যায়নি। এরপরেও যদি আমি ‘তোমাকে বলতেই হবে’ বলে জেদাজেদি করতাম ব্যাপারটা অন্যদিকে গড়াতে পারে ভেবে চুপচাপ থাকাই শ্রেয় মনে করেছি। ওঁরও ওই এক কথা, আমাকে একটু চুপচাপ থাকতে দাও। তা আমার কাছে না এসে বাবার কাছে তুইই যা না—

    সেটা না হয় যাবো। কিন্তু মা—সাত্যকি হঠাৎ থেমে পড়লো।

    কী বলছিলি বল?

    ওই যে তুমি একটু আগেই বললে না, জেদাজেদি করলে ব্যাপারটা অন্যদিকে গড়াতে পারে— সেই অন্য দিক বলতে?

    বিষণ্ণ দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন বিজয়া। বাবার গুম হয়ে থাকার দরুণ ছেলেটা তাঁর খুবই কষ্ট পাচ্ছে। ওকে আর কতো কষ্ট দেওয়া যায়? কতো আর আশঙ্কার কথা বলা যায়? অথচ এই সময়ে ছেলের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা না করলে সমাধানের রাস্তাটা বের হবে কী করে? বিজয়া ছলছলে চোখে বললেন, ওঁর সঙ্গে এখন কোনোরকম জোরাজুরি করা ঠিক নয়। অনেক ধৈর্য নিয়ে অনেক মমতা নিয়ে আমাদের চলতে হবে। আমাদের সামান্য কথাতেও উনি যেন এতোটুকুও আঘাত না পান, দেখতে হবে সেই দিকটাও। খুব কঠিন অবস্থার মধ্যেও….বিজয়া থেমে পড়লেন।

    খুব কঠিন অবস্থার মধ্যেও কী? সাত্যকি মায়ের চোখের দিকে তাকিয়েই রইলো।

    খুব কঠিন অবস্থার মধ্যেও আমাদের স্বাভাবিক থাকতে হবে। নয়তো এই সব অস্থিরতা মানে ভেতরের নিরুচ্চার ঝড়-ঝাপটার সময়ে কোমল মন নিয়ে পাশে পাশে পায়ে-পায়ে না থাকলে মানুষটা দূরে সরে যেতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে। এমনকী নিজেকে শেষ করেও ফেলতে পারে। অবসাদের এইসময়ে দরকার শুধু ভালোবাসার দৃষ্টিতে মানুষটাকে সারাক্ষণ ঘিরে রাখা। তাঁকেই বেশি করে গুরুত্ব দেওয়া। এখানে বিন্দুমাত্র অসহিষ্ণুতা দেখানো চলবে না।

    সেদিন সন্ধ্যাবেলা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে এসে সাত্যকি দেখলো বাবা যথারীতি ব্যালকনিতে তাঁর নির্দিষ্ট আরামকেদারায় গুম হয়ে বসে আছেন। সাত্যকি কিছু বললো না। অফিসের জামা-প্যান্ট ছেড়ে হাত,মুখ ধুয়ে সে ফ্রেশ হয়ে নিল। পাজামা, পাঞ্জাবি পরে সাত্যকি যখন হালকা হয়ে বাবার পাশে গিয়ে বসলো ওঁর মুখখানা তখনও মেঘ-মেদুর আকাশের মতো থমথমে।

    সাধারণত বাবা ওকে আগে যেমন জিজ্ঞাসা করতেন, কখন ফিরলি? আজ একটু দেরিই হয়েছে, পথে নিশ্চয়ই জ্যামে পড়েছিলি? অথবা তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবার জন্য মনকে উতলা করে কক্ষনো ড্রাইভ করবি না। কিন্তু তিনি এ সব কিছুই বললেন না। যে শূন্য দৃষ্টি নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়েছিলেন তেমনভাবেই নিঃশব্দের প্রহর পেরিয়ে যেন এক বোবা মানুষের ভূমিকায় নিজেকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলবার জন্য গভীর থেকে আরও গভীরে চলে যাচ্ছিলেন।

    এই ক’দিনের অভিজ্ঞতায় সাত্যকি একটা জিনিস বুঝতে পারছে, বাবাকে এ ভাবে ছেড়ে দেওয়াটা ঠিক হচ্ছে না। অর্থাৎ তিনি যে ভাবে নিজেকে বাড়ির সবার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে গুটিয়ে নিয়ে মৌনী হয়ে থাকছেন এটার ফল ভালো হতে পারে না। এর অর্থ বাবা তো নিজেই নিজের দুশ্চিন্তার জালে জড়িয়ে পড়ে আরও দ্রুত ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় বাবার সঙ্গে বরং সারাক্ষণ কথা বলাই উচিত। ওঁকে ওঁর চিন্তার জগৎ থেকে সরিয়ে এনে স্বাভাবিক করে তোলার আকাঙ্ক্ষায় সাত্যকি খুব নরম গলায় ডাকলো, বাবা!

    নিখিল কোনো উত্তর দিলেন না। নিস্তেজ দৃষ্টিতে ছেলের দিকে একবার তাকাতেই সাত্যকি আরও আবেগ নিয়ে আরও অন্তরঙ্গ সুরে জিজ্ঞেস করলো, তোমার কী হয়েছে বাবা? তুমি নিজেকে হঠাৎ এইভাবে গুটিয়ে নিলে কেন? আমি….আমি তো আমার বাবাকে এ ভাবে দেখতে অভ্যস্ত নই। আমার খুব খারাপ লাগছে….আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমি এও বুঝতে পারছি আমার চেয়েও তোমার কষ্টটা নিশ্চয়ই বেশি….কিন্তু আবারও বলছিল বাবা, তোমাকে আমি এইভাবে কখনো পাইনি, দেখিনি—দুঃখ পেতে পেতে আমার বোধটাই ক্রমশ অসাড় হয়ে যাচ্ছে। আমিই শেষ হয়ে যাচ্ছি….আমিই…. পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তখন সাত্যকির।

    চকিতে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়েই রইলেন নিখিল। সত্যিই তো ওর কী দোষ? ছেলেটা ওর বাবাকে গভীরভাবে ভালোবাসে বলেই তো এতো কষ্ট পাচ্ছে। এ বারে নিখিলেরও তো তাতে সাড়া দেওয়া উচিত। ওকে কেন এই টানা-পোড়েনের মধ্যে ফেলে রাখা? তা ছাড়া নিখিল নিজেও তাঁর মনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আর পারছিলেন না। এ বারে একটু বিশ্রামের প্রয়োজন। মানসিক দিক দিয়ে একটু হালকা হয়ে নেওয়ার বিশ্রাম। সেজন্য তো অপর একজনের কাছে নিজেকে মেলে ধরতেই হবে। তাই যদি হয়, সেটা তো তবে নিজের ছেলের কাছে হওয়াই ভালো। নিখিল ব্যথাতুর এক দৃষ্টিতে সাত্যকির দিকে তাকিয়েছিলেন। আস্তে কিন্তু স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করলেন, তোর সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে।

    প্রচন্ড আগ্রহে সাত্যকি বললো, আমি তো শুনতেই চাইছি বাবা।

    কথাটা আমি….শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই নিখিল অদ্ভুত এক সংকোচে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আরও সত্যি কথাটা হলো, তিনি যেন পালিয়ে যেতে চাইছেন। কিন্তু এ ভাবে কতোদিন আড়ালের ঢাল খোঁজা যায়? সবার আগে যে কথাটা মনে রাখা প্রয়োজন তা হলো তাঁর ছেলেটা কাঁটার মুকুট পরে প্রতিনিয়ত বিদ্ধ হচ্ছে। ওকে একটু স্বস্তি দেওয়া দরকার। নিজের চেয়েও নিখিল এ বারে সাত্যকির চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। তার মনটা এক সময় হু-হু করে উঠতেই নিজেকে আর এক প্রস্থ ধরে রেখে পরিষ্কার বললেন, অহেতুক চিন্তা করিস না। কিছু দিন বাদে আমিই তোকে ডেকে সব বলবো। আমার কেন জানি আজকাল ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। এখন একটু ঘুমাবো।

    নিখিল আরাম কেদারা ছেড়ে ওঠার চেষ্টা করতেই সাত্যকি ওঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে উঠলো, বাবা আমি কী ডাক্তার করগুপ্তকে একবার ডাকবো? তোমাকে এসে দেখে যাবেন—

    আরে না-না, তুই অতো ভাবিস না।

    তোমার খাওয়া-দাওয়া অনেক কমে গেছে।

    ওসব দু’দিনের। ছেলেকে নিশ্চিন্ত করতে নিখিল অতঃপর বলে উঠলেন, এই বয়সে শরীর সব সময় এক রকম ভাবে চলে না।

    সাত্যকি বলতে পারতো, অসুখটা তোমার শরীরের নয় মনের। কিন্তু তেমনটা বললে বাবা কষ্ট পাবেন। বাবাকে এখন এতোটুকুও আঘাত্ব দেওয়া ঠিক নয়। তা ছাড়া উনি তো বললেনই, ‘কিছুদিন বাদে আমিই তোকে ডেকে সব বলবো।’ এরপর আর চাপাচাপি, জোরাজুরি করা চলে? বাবা নিজে থেকে যেদিন ডেকে সব বলবেন, সেই দিনটার জন্যেই এখন থেকে অপেক্ষা করা যাক। এই বিষয়ে ওঁকে আর বিরক্ত করা নয়।

    আরও সাত, আটটা দিন নিঃশব্দের প্রহর গুণে শেষ হলো। সাত্যকি এতোটুকু ধৈর্য হারালো না। বাবাকেও খোঁচাখুঁচি করলো না। মানুষটার প্রতি তার আস্থা আছে। সাত্যকি বেশ বুঝতে পারছিল বাবা আসলে এই সময়টুকু নিয়ে নিজেকে তৈরি করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সময় হলেই ডাকবেন।

    হলোও ঠিক তাই। সেদিন খুব ভোরে সাত্যকির ঘুম ভেঙে গেল। সময়টা সাড়ে চারটে, পৌনে পাঁচটা হবে। পাখিদের অবিরাম ডাকাডাকিতে ওর ঘুম ভেঙে যেতেই বিছানায় পড়ে না থেকে বাথরুমে যাবার জন্য উঠে পড়তেই দেখতে পেল বারান্দার আরাম কেদারায় শরীরটাকে ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ বসে রয়েছেন নিখিল।

    সাত্যকি জিজ্ঞেস করলো, বাবা তুমি কী সারারাত ঘুমাওনি? তোমাকে দেখে তো আমার তেমনই মনে হচ্ছে।

    তা ঘুমিয়েছি। তবে চারটে নাগাদ ঘুম ভেঙে যাবার পর আর বিছানায় না থেকে বারান্দায় চলে এলাম। এখানে বসলে চারপাশের গাছপালা দেখতে দেখতে মনে হয় যেন প্রকৃতির কোলেই বিশ্রাম নিচ্ছি। ভোরের এই নির্জনতাটুকু বড়ো ভালো লাগে রে। কথাগুলো শেষ করে নিখিল ছেলেকে সস্নেহে ডাকলেন, সাত্যকি আমার কাছে বোস তোর সঙ্গে কথা আছে।

    এক মিনিট বাবা—সাত্যকি যথেষ্ট আপ্লুত হলো, আমি এক্ষুণি আসছি।

    আয়।

    বাথরুম থেকে বেরিয়ে সাত্যকি বাবার পাশের চেয়ারটায় গিয়ে ঝুপ করে বসে পড়লো বটে তবে নিজে থেকে কোনো প্রশ্নই রাখলো না। বাবা তো বললেনই ‘তোর সঙ্গে কথা আছে।’ এরপরেও কোনো প্রশ্নমালা ধরিয়ে দেওয়া যায়?

    ছেলেকে এক ঝলক দেখলেন নিখিল। পরম মমতায় ওর কাঁধে একটা হাত রেখে আস্তে আস্তে বুলিয়ে দিতে লাগলেন। এক সময় বলে উঠলেন, কথাটা আমি ঠিক কীভাবে আরম্ভ করবো, আমি নিজেই বুঝতে পারছি না। নিখিল অগাধ এবং অন্তহীন নৈরাশ্যের প্রগাঢ় এক শূন্যতা নিয়ে বললেন, আমার সাংসারিক শান্তির সুখ- সুষমা ছুঁয়েই তো থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যেদিন রিটায়ার করলাম…. আমাকে অফিসের সহকর্মীরা সংবর্ধনা জানালেন….. আমার সম্পর্কে দারুণ ভালো ভালো সব কথা বললেন… ঠিক সেই দিনই হঠাৎ আমি যেন একটু একটু করে জেগে উঠলাম। ওই পর্যন্ত বলে নিখিল একটু থামলেন। তারপরে উদাস সুরে আবার বলতে লাগলেন, আমি দীর্ঘদিন বাদে নিজেকে আবিষ্কার করলাম। সকলেই আমার প্রশংসা করেন, আমাকে ভালো মানুষ বলে জানেন। তাঁদের সেই বিশ্বাসের কতোটা কাছাকাছি আমি, আমার হিসেব সে সব নিয়ে নয়। এতোদিন সেটা ছিলও না। কিন্তু চাকরির বিদায় মুহর্তে সহকর্মীরা যখন একের পর এক মঞ্চে উঠে অফিসে আমার আচার-ব্যবহারের আন্তরিক ছবিটা এঁকে চলছিলেন—ঠিক সেই মুহূর্তে আমি একান্ত মনে অন্য এক ছবি দেখতে পেলাম। আঠাশ বছর আগে আমি একজনকে চুরির দায়ে বরখাস্ত করেছিলাম।

    কে সে?

    জি.এম. বালযোগী।

    সেইজন্যই কী তুমি এখন মন খারাপ করছো? সাত্যকি স্পষ্টই বললো, যে চুরি করেছে তুমি তাকেই সাসপেন্ড করেছো। এর মধ্যে অন্যায়টা কীসের?

    গোপাল মনোহর বালযোগী চুরি করেনি। নিখিল অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে নিজের লজ্জা ঢাকতে চাইলেন। কাঁপা গলায় বললেন, ওর বিরুদ্ধে কেসটা আমি মিথ্যেই সাজিয়েছিলাম। আমার সারা জীবনে ওই একটাই….নিখিল মাথা নিচু করে নিজেকে এক পাপবোধের গহ্বরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই সাত্যকি বাবার বিধ্বস্ত চেহারাটার ওপর দ্রুত চোখ বুলিয়ে কোমল স্বরে জিজ্ঞেস করলো, ওই অন্যায়টা তুমি কেন করেছিলে? তোমার কোনো ওপরওয়ালার নির্দেশে?

    কোনো ওপরওয়ালার নির্দেশে নয়। নিখিল পরিষ্কারই উত্তর দিলেন, তোকে তো একটু আগেই জানালাম কেসটা আমিই সাজিয়েছিলাম। গোপাল মনোহর বালযোগী সম্পূর্ণ নির্দোষ।

    নিখিলের মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সাত্যকি হাজারো কথা ভেবে চলেছে। এক সময় সে প্রশ্ন করলো, কোনো ব্যক্তিগত সংঘাত অথবা….

    আমাকে কোনো প্রশ্ন করিস না সাত্যকি। নিখিল এ বারে সোজাসুজিই বললেন, নেপথ্যের ব্যাপারটা আর টেনে বার করার কোনো প্রয়োজন নেই। আসল কথাটা হলো, আমি তো সেদিন একজনের ওপর অবিচার করেছিলাম। পদমর্যাদার সুযোগ নিয়ে গোপাল মনোহরকে….হ্যাঁ, তোর কাছে এটুকু অন্তত স্বীকার করা উচিত ব্যক্তিগত একটা ব্যাপারেই ওকে ওই ভাবে সরিয়ে দিয়ে আমি নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ থাকতে চেয়েছিলাম। এতোদিন ওসব আমি দিব্যি ভুলেছিলাম। কিন্তু বেলা শেষের ছবিটা আঁকতে গিয়ে দেখলাম বেজায় ফাঁকিতে পড়ে যাচ্ছি। সব কিছু পেয়েও যেন রুক্ষ- শূন্য এক প্রান্তরে একা দাঁড়িয়ে আছি। আসলে হঠাৎ জেগে ওঠা দ্বীপের মতো অন্যায়ের পাহাড়টা আমার বুকের ওপর এমনই চেপে বসে আছে যে, আমি নিঃশ্বাস ফেলতেই পারছি না।

    তুমি এখন কী করতে চাও? সাত্যকি বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো।

    তার যেটুকু সর্বনাশ হওয়ার তা তো হয়েছেই। শত চেষ্টা করলেও এখন আর তাকে কিছুই ফিরিয়ে দেওয়ার নেই। নিখিল সূর্যের শেষ আলোর মতো ম্লান গলায় বললেন, গোপাল মনোহর আমার বন্ধু ছিল। একেবারেই ঘনিষ্ঠ। আর ও-ও আমায় খুবই ভালোবাসতো। অথচ…. মানসিক এক যন্ত্রণায়, হতাশায় শেষ পর্যন্ত আমিই কি না গোপাল মনোহরকে ফাঁসিয়ে দিলাম…. মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দিলাম। এই অন্যায়ের ক্ষমা হয় না। তবুও…. তবুও আমি সামান্য একটু হলেও শান্তি পেতে চাই। তুই যদি বিজয়ওয়াড়া গিয়ে পট্টভিনগরে ওর খোঁজ পাস তবে আমি সেখানে একবার যেতে পারি। গোপালের কাছে ক্ষমা চাইবো। ওর ক্ষমা পেলে অন্তত কিছুটা ভারমুক্ত হয়ে পরবর্তী জীবনটা কোনোরকমে কাটিয়ে দিতে পারবো। যাবি তুই?

    বাবার ব্যথার উৎসের সন্ধান পাবার পর স্বাভাবিক কারণেই সাত্যকি এখন অনেকটা শান্ত। এ বারে প্রয়োজন বাবাকে একটু শান্তি দেওয়া। অফিস থেকে ছুটিছাটা পাবার ব্যাপারটা নিয়ে নিজের মনেই একটু হিসেব টিসেব করে বাবার মুখের দিকে তাকাতেই দেখলো নিখিল প্রায় ছলছল চোখে তারই দিকে চেয়ে রয়েছেন। উনি যে ক্রমশ ভেঙে পড়ছিলেন সেটা বোঝা যাচ্ছিলো। সাত্যকি তাই অনেকটা সময় নিয়ে বেশি কিছু ভাবার সুযোগ পেল না। বাবাকে সবার আগে নিশ্চিন্ত করা দরকার। সে স্পষ্ট গলায় বললো, কেন যাবো না? আমি বিজয়ওয়াড়াতে গিয়ে তোমার হয়ে তো ক্ষমা চাইবোই, টেলিফান করে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে তোমাকেও সেখানে নিয়ে যাবো। আর যদি সম্ভব হয় তবে জি.এম. বালযোগীকে নিয়েই কলকাতায় ফিরবো।

    সেটা যদি করতে পারিস তো… ছেলের প্রতি মমতা মেশানো এক কৃতজ্ঞতায় নিখিলের গলাটা প্রায় বুজেই এলো। কোনোরকমে বললেন, ওকে কাছে পেলে ওর দেওয়া যে কোনো সাজা মাথা পেতে নেব। অনুশোচনার তুষের আগুনে যে ধিকধিক করে জ্বলছি, গোপাল মনোহরের উপস্থিতিই পারে শান্তির জল ছিটিয়ে মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিতে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতোমাকে আমি ছুঁতে পারিনি – সন্মাত্রানন্দ
    Next Article চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026
    Our Picks

    তার চোখের তারায় – সায়ক আমান

    August 6, 2026

    ভালোবাসা নাও, হারিয়ে যেও না – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026

    নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 6, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }