Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জীবন স্রোতের আঁকেবাঁকে – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প286 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেদিন মধ্যরাতে – অর্পিতা সরকার

    ‘এসো এসো বাবা সাবর্ণদেব এসো। এই দেখো বাবা সেকেন্ড বেঞ্চের ধারে তোমার সিট রাখা আছে বাবা। আচ্ছা বাবা সাবর্ণ, একটু বলো তো আজকে অনন্তস্যারের ইংরাজি পিরিয়ডে গোটা ক্লাস বকুনি খাবে, নাকি আমি একাই খাব?’ সাবর্ণ নিজের স্কুল ব্যাগ রেখে চুপচাপ সেকেন্ড বেঞ্চে বসে ঋতমের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। গোটা ক্লাস দুর্নিবারের কথায় হো হো করে হেসে উঠল। ঠিক যেন কোনো কমেডি শো হচ্ছে। মিরাক্কেলে মৃদুলদার পাঞ্চ লাইনের মত দুর্নিবার বলে উঠল, ‘বাবা সাবর্ণর হাতে আজ আর কোনো নতুন আংটি দেখতে পাচ্ছি না, শুধু কব্জিতে একটা লাল সুতো ছাড়া। এক টুকরো লাল সুতোর কিমত তুম কেয়া জান সুভাষস্যার?’ গোটা ক্লাস আরেক দফা হাসল প্রাণ খুলে। ঠিক তখনই ক্লাসে ঢুকল ঋতম, সাবর্ণর একমাত্র বন্ধু সেই ক্লাস ফাইভ থেকে। ফাইভ টু টেন এই একজনই ওর বন্ধু থেকেছে। বাকি সবাইকে সহপাঠী বলেই মানে সাবর্ণ। কিছুজনকে সহপাঠী নয় রীতিমত শত্রু মনে হয় ওর। দিনরাত শুধু সাবর্ণকে ছোট করার চেষ্টা। ও যেন গোটা ক্লাসের হাসির পাত্র। প্রতিদিন ক্লাসে ঢোকার সময় একপ্রস্থ মজা চলে ওকে নিয়ে। আর ঠিক তখনই মায়ের ওপরে রাগটা গিয়ে পড়ে সাবর্ণর। ঋতম ক্লাসে ঢুকেই বলল, ‘কী রে আবার তুই মুখ কাঁচুমাচু করে বসে আছিস?’ মাথাটা নামিয়ে নিল সাবর্ণ। না ওর ভাল লাগে না এদের সঙ্গে ঝগড়া করতে। তাছাড়া এই যে হাতে ছয়টা পাথরের আংটি, গলায় তাবিজ, হাতে সুতো এগুলো দেখে যদি ওরা লেগপুল করে তাহলে বলার কী থাকতে পারে সাবর্ণর? ওর নিজের মা-ই তো বোঝে না স্কুলে এইগুলোর জন্য ওকে সবাইকার কাছে ছোট হতে হয়। স্যারেরা বলেন, ‘সাবর্ণ তুই অন্তত সায়েন্স নিয়ে পড়ে স্কুলের মান-ইজ্জত ডোবাস না বাবা। এত রত্নের সমাহার তোর হাত দুখানা যে স্বয়ং গ্যালিলিও ওপর থেকে নেমে এসে বলবেন, বালক তুমি এখনও বিশ্বাস করো পৃথিবী, চন্দ্রের ঘূর্ণনে দিনরাত্রি, জোয়ার-ভাটা ছাড়াও তোমার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়? হে বালক তুমি কোন বিদ্যালয় থেকে এসেছো জিজ্ঞাসা করলেই তো তুই গর্বের সঙ্গে বলবি, হুগলী কলেজিয়েট থেকে এসেছি। বুঝতে পারছিস তো টিচারদের নিয়ে কী ভাববে?’

    স্কুল থেকেও অবজেকশন এসেছিল সাবর্ণর এই মাদুলি, আংটি, তাবিজ পরা নিয়ে। কিন্তু ওর মা স্কুলে এসে এমনভাবে দুঃখ করে গেছে ওর গুচ্ছের ফাঁড়া নিয়ে যে হেডস্যার আর সাহস পেলেন না এসব খুলে ফেলতে বলতে। অগত্যা ওর হাতে মায়ের গুরুদেব কাম জ্যোতিষ কাম ত্রিকালজ্ঞ বাবাজির দেওয়া আংটির সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকল। গলায় ঘোড়ার ঘণ্টার মত একগুচ্ছ মাদুলির টুংটাং আওয়াজ নিজের কানেই বিসদৃশ লাগতে শুরু করল। তার সঙ্গে বেড়ে গেল বন্ধুদের লেগপুল, স্যার-ম্যামদের হাসি। কারোর দোষ দেয় না সাবর্ণ, ওর সব রাগ গিয়ে পড়ে ওই ভণ্ড বাবাজির ওপরে। মা যতবার জোর করে ওর আশ্রমে নিয়ে যায় ততবারই ও খেয়াল করে গুরুজির গ্যারেজে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। ইনোভা থেকে স্কর্পিও, ফরচুনার গাড়ির ছড়াছড়ি। লাস্টবার গিয়ে দেখেছিল, অডি দাঁড় করান আছে গ্যারেজে। ঝকঝকে দুধ সাদা অডি।

    সাবর্ণ বলেছিল, ‘মা উনি তো বাবাজি ওনার এত গাড়ি হবে কী? কেনেন কেন?’

    মা কপালে হাত ঠেকিয়ে বলেছিল, ‘সবই ওনার ভক্তরা জোর করে দিয়ে যায়, আসলে ওনার পাথরে আর মাদুলিতে মানুষের এতটাই উপকার হয় যে তারা স্বেচ্ছায় সব দিয়ে যায়।’ বাবাজির এই সবজান্তা ভাবটাই বড় বিরক্ত লাগে সাবর্ণর। ওর শুধুই মনে হয় ঈশ্বরকে ডাকার জন্য মাধ্যমের কেন প্রয়োজন হবে?

    কিন্তু মা ওকে নিয়ে রীতিমত আতঙ্কে থাকে। এই বোধহয় ওর কোন বিপদ হল। মায়ের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখের দিকে তাকিয়ে এই অদ্ভুত অত্যাচারগুলো সহ্য করে নেয়। মায়ের ধারণা সাবর্ণ ক্লাসে ভাল রেজাল্ট করে ওর নিজের বুদ্ধি বা পড়াশোনার জন্য নয়। সবই নাকি বাবাজির তাবিজ আর আংটির জোরে। সাবর্ণদের বাড়িতে এখন সবকিছুই চলে বাবাজির মর্জি মতো। বাবাজি বলে দেন ওরা কোন কোন বারে কী কী খেতে পারবে। সাবর্ণ দেখত আগে বাবা এসবের প্রতিবাদ করত। মায়ের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হত। মায়ের কান্নাকাটি চলত। বাবা তবুও রাগ করে শনিবার নিরামিষের দিনে ডিম ভেজে খেতে বসত।

    তারপর হঠাৎ করেই ও লক্ষ করল, বাবা আর ঝগড়া করা প্রতিবাদ করা ছেড়ে দিয়ে চুপ করে গেল। মা সেই সুযোগে গুরুদেবের দেওয়া সমস্ত বিধান ওদের সংসারে কায়েম করে দিল। ইদানিং বাড়িটাকে ওর নিয়মের জেলখানা মনে হয়। স্কুল থেকে ফিরলে জুতোটার মুখও দক্ষিণ দিকে রাখা যাবে না। খেতে বসার আগে গুরুর ছবিতে প্রণাম করে বসতে হবে। এ এক বিড়ম্বনা। বাবা একদিন রেগে গিয়ে নিজের হাতের গলার সব কিছু খুলে দিয়েছিল, পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল, এসব তাবিজ কবজ আমি পরব না। তারপর থেকেই মা বাবার সঙ্গে ঠান্ডা একটা ব্যবহার করে। মায়ের ওই ব্যবহারটা বাবা মেনে নিলেও সাবর্ণর জন্য খুব কষ্টকর। মা রেগে গেলে ওকে আর ‘তুই’ বলে ডাকে না ‘তুমি’ বলে ডাকে। তাতেই যথেষ্ট কষ্ট হয় ওর। কিন্তু এই পাথরের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। সাবর্ণর বাবা বড় চাকরি করলেও এভাবে অযথা ঠকতে রাজি নয় বলেই এ ব্যাপারে মাকে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে অবশ্য মাকে আটকানো যায়নি। শিবচরণ মুখোপাধ্যায় তার একমাত্র সন্তান সায়ন্তনী মুখোপাধ্যায়ের জন্য অফুরন্ত অর্থের ভান্ডার রেখে গেছেন। মা আপাতত দাদুর রেখে যাওয়া টাকা এই বাবাজির পায়ে ঢেলে চলেছে। সাবর্ণ বাবার সঙ্গেও আড়ালে এই নিয়ে কথা বলে দেখেছে, বাবার চোখেও অসহায়তা স্পষ্ট। বাবা মিনমিন করে বলেছে, ‘একবার যদি সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানো যেত তোর মাকে তাহলে খুব ভাল হত। আসলে তোকে নিয়ে বড্ড প্রোটেকটিভ তোর মা। তাই অযথা দুশ্চিন্তা করতে করতেই এমন ভয় জন্মেছিল মনে। সেই ভয় থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে এসব পাথর-কবজের আশ্রয় নিয়েছে। বাড়তে বাড়তে এখন বিষয়টা চুড়ান্ত জায়গায় চলে যাচ্ছে।’ সাবর্ণ বলেছিল, ‘বাবা স্কুলে বন্ধুরা লেগপুল করে।’ বাবা ঘাড় নেড়ে বলেছিল, ‘জানি আমার অফিসেও কলিগরা মুখ টিপে হাসত। কিন্তু এসবে তো তোর মায়ের কিছু যায় আসে না। সে আমাদের ভাল চাইতে গিয়ে অত্যাচার করছে সেটা বুঝলে তবে না বোঝাবি? দেখেছিস তো ইদানিং আমার ওপরে রাগ থেকে দায়সারা কথা বলে।’ সাবর্ণ বুঝেছিল বাবা নিরুপায়। তাই বাবা এ ব্যাপারে চুপ করে থাকার পক্ষপাতী। কারণ দিনের শেষে শান্তি সকলেরই কাম্য।

    এসব ব্যাপারে ওর একমাত্র পরার্মশ করার বন্ধু ঋতম। ওকেই ও প্রাণের কথা খুলে বলতে পারে। ভরসা করতে পারে সেই কথাগুলো ভাসতে ভাসতে বারোয়ারি হয়ে যাবে না। আজকেও টিফিন পিরিয়ডে ঋতম বলল, ‘কষ্ট পাস না, তুই তো জানিস দুর্নিবার বরাবরই এরকম। অন্যের পিছনে লেগে আনন্দ পায়।’ সাবর্ণ ক্লান্ত হেসে বলল, ‘আমাদের বাড়ির পরিবেশটা গত দুবছরে আরও খারাপ হয়ে গেছে রে। আসলে ভালবাসার অত্যাচারে আমি অতিষ্ট। শুক্রবার টক খাওয়া যাবে না, শনিবার নিরামিষ, রবিবার লাল জামা পরা যাবে না.এমন কয়েকগুচ্ছ নিয়মের বেড়াজলে হাঁসফাঁস করি বাড়িতে। স্কুল বা কোচিংয়ে কেউ লেগপুল করলেও মনে হয় যেন বাড়ির থেকে ভাল আছি বাইরে। বিশ্বাস কর ঋতম, স্কুল থেকে ফিরে জুতো দুটো রাখার সময় আমায় মাথায় রাখতে হয় যেন দক্ষিণ মুখো না হয়। এভাবে আর কতদিন বলত? মায়ের যে আমায় নিয়ে কেন এত ভয় কে জানে? আর ওই বাবাজি মায়ের এই দুর্বলতাটাকেই কাজে লাগিয়ে চলেছে। আর আমাদের জীবনটাকে নরক করে দিয়েছে।’ ঋতম বন্ধুর মন ভাল করার জন্যই বলল, ‘এসব ছাড়। আইপিএল দেখব আজ রনজয়স্যারের টিউশন থেকে ফিরে।’ সাবর্ণ হেসে বলল, ‘তুই তো আরসিবি। আমি ভাই ধোনির জন্য সিএসকে ছেড়ে বেরোতে পারব না।’ ঋতম বলল, ‘তোর ধোনি হয়ত বেরিয়ে যাবে, তুই রয়ে যাবি নাকি?’

    সাবর্ণ ঘাড় নেড়ে বলল, ‘পাক্কা’

    ঋতম বলল, ‘শোন কাকিমাকে বলে আসবি টিউশন সেরে আমার বাড়িতে আসবি। মা আজ ফিসফ্রাই বানাবে। আর পপকর্ন কিনে আনব, খেতে খেতে ম্যাচ জমে যাবে।’ সাবর্ণ বলল, ‘একমাত্র তোর বাড়ি বললে ছাড়বে। কিন্তু খবরদার আজ বৃহস্পতিবার ফিসফ্রাই খেয়েছি জানলে বাঁচিয়ে রাখবে না।’ ঋতম ওর কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘জানবে না পাগল। চল বেল পড়ে গেল। আজ ক্লাসে আবার সন্তোষস্যার আসবেন। যত ভাল করেই পড়া বল স্যারের মনে সন্তোষ আসবে না।’ সাবর্ণর একমাত্র খোলা বারান্দা ঋতম। যতক্ষণ ঋতম সঙ্গে থাকে ততক্ষণ মনটা শিমুল তুলোর মত হালকা লাগে। আজকে ওর বাড়িতে আইপিএল দেখতে গেলে আরও কিছুক্ষণ আনন্দে কাটবে সাবর্ণর। দমবন্ধ করা চ্যাটার্জী বাড়ির থেকে অনেক ভাল কাটাবে ও।

    স্কুল থেকে বাড়ি ঢুকেই দেখল বাড়িতে হইহই পড়ে গেছে। মালাপিসি আর মা দুজনেই খুব ব্যস্ত। ওদের বাড়ির দোতলার দক্ষিণের ঘরটা যেটাতে আগে ওর দাদু থাকতেন সেটা পরিস্কার করতে লেগেছে দুজনে। দাদু মারা যাবার পরে ওই ঘরটা পড়েই ছিল। একমাত্র পিসিমণি এলে ওই ঘরটাতেই থাকে। তাও তো পিসিমণির চোখ অপারেশনের পর আসা অনেকটাই কমে গেছে। দাদাভাইও সদ্য চাকরি পেয়েছে, তাই বাড়ি ছেড়ে এসে থাকাই হয় না পিসিমণির। দাদাভাইয়ের ফ্যান ছিল সাবর্ণ সেই ছোট থেকে। পিসিমণি ওকে ডাকে টিনটিন বলে। সেই সূত্রেই দাদাভাই মজা করে বলত, ‘তাহলে আমি তোর ক্যাপ্টেন হ্যাডাক।’ দাদাভাই পড়াশোনায় তো ভাল ছিলই বরাবর, সঙ্গে দুর্দান্ত গিটার বাজাতো। রকস স্টাইলে গান গাইত। বেশ একটা ভবঘুরে লুক ছিল দাদাভাইয়ের। ছোট থেকেই ওর সব অপকর্মের সঙ্গী হত সাবর্ণ। বছরখানেক আগে যেবার শেষ দাদাভাই এসেছিল এ বাড়িতে সেবার ওর হাতের আংটি আর গলার মাদুলি দেখে বলেছিল, ‘আর সময় নষ্ট করছিস কেন টিনটিন, সোজা গিয়ে বটতলায় পশরা সাজিয়ে বসে পড়। গায়ে একটা উত্তরীয়, হালকা দাড়ি, লালচে চোখ, বাবা টিনটিন লাগবে।’ দুঃখ পেয়ে সাবর্ণ বলেছিল, ‘দাদাভাই তুমিও মজা করলে?’

    দাদাভাই বলেছিল, ‘ওরে আমেরিকায় ষোলো বছরে ছেলেপিলে সাবালক হয়ে যায়, অন্য ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করে। আর তুই এখনও মা যা পরাচ্ছে তাই পরে ছাগলছানার মত ম্যা ম্যা করছিস?

    এসব খুলে দিয়ে পড়াশোনায় মন দে। মামীকে দেখিয়ে দে এসব বুজরুকি ছাড়াই তুই ভাল রেজাল্ট করতে পারবি। আরে পাগলা বিদ্রোহ করতে হয় মাঝে মাঝে।’

    আজকেও দক্ষিণের দাদুর ঘরটা পরিষ্কার হচ্ছে দেখে মনটা আনন্দে নেচে উঠল। নিশ্চয়ই পিসিমণিরা আসছে। কদিন মা ব্যস্ত থাকবে। ওর দিকে একটু কম খেয়াল দিতে পারবে। আনন্দেই জিজ্ঞাসা করল সাবর্ণ, ‘মা পিসিমণিরা আসবে বুঝি? আর দাদাভাই?’

    মা নিজের কপালে হাত ঠেকিয়ে বলল, ‘ওরে সুবু আমাদের অনেক ভাগ্য রে। যাঁর পায়ের ধুলো এ বাড়িতে পড়ছে সেটা আমি কখনও কল্পনা করতে পারিনি। আমার গুরুদেব আসবেন। দিন চার-পাঁচ থাকবেন।’ সাবর্ণর মনটা তিক্ততায় ভরে গেল। মায়ের দিকে তাকিয়ে ভাবতে অবাক লাগে মা ফিলোজাফিতে অনার্স, মাস্টার্স করেছে। গুরুদেবের কথা বলার সময় মনে হয় না একজন উচ্চশিক্ষিত মহিলা এমন বলছে।

    মা আগে এমন ছিল না। কেন যে এভাবে পরিবর্তন হল মায়ের কে জানে!

    আজকে ঋতমদের বাড়িতে খেলা দেখবে শুনে তেমন কোন চেঁচামেঁচি করল না মা। কারণ আজ বড় ব্যস্ত। গুরুদেবের জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নিখুঁত চাই।

    টিউশন সেরে ঋতমদের বাড়িতে যখন পৌঁছাল তখন পেটে কয়েকশো ইঁদুর ক্রিকেট খেলছে।

    ওদের বাড়ির রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে ফিসফ্রাইয়ের পাগল করা গন্ধ। ঋতমের মায়ের ইউটিউবে কুকিংয়ের একটা চ্যানেল আছে। কাকীমার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার প্রায় ওয়ান মিলিয়ন। কাকীমা প্রায়ই শেখানে বিভিন্ন রেসিপি নিয়ে হাজির হয়। জি বাংলা রান্নাঘরেও কাকীমা গিয়েছিল কয়েকবার। চন্দননগরে কাকীমা একটা ফার্স্টফুডের কর্ণার ওপেন করবার প্ল্যানও করেছে। কাকীমার সঙ্গে গল্প করতে সাবর্ণর খুব ভালো লাগে। কোনো কুসংস্কার নেই, বেশ স্মার্ট মহিলা। কাকীমা বলে, ‘তোমাদের এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আমার খুব ভালো লাগে। তোমরা সব পরিস্থিতিকে বেশ স্পোর্টিংলি নাও। স্পষ্ট কথা বলতে দ্বিধা বোধ কর না।’

    গরম গরম ফিসফ্রাই মুখে দিতেই ওদের পাশে সোফায় এসে বসল সঞ্জীবনদা। ইঞ্জিনিয়ারিং থার্ড ইয়ারে পড়ে। নিজেকে বিশাল কিছু মনে করে। ফুটবল খেলে দারুণ তাই নিজেকে মেসি বলে পরিচয় দেয়। ছেলেটার মধ্যে একটা সবজান্তা ভাব আছে। যেটা একেবারেই সহ্য করতে পারে না সাবর্ণ। এর সঙ্গে আবার ঋতমের বেশ বন্ধুত্ব আছে। ঋতম আসলে ছেলেটার ফ্যান। ফুটবল খেলতে যায় একসঙ্গে।

    সাবর্ণ আর ঋতম নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে গল্প করছিল। সাবর্ণ বলল, ‘কালকে আমাদের বাড়িতে মায়ের গুরুদেব আসছেন। এবার তো বেঁচে থাকা দুর্বিষহ হয়ে যাবে। মাকে দেখলাম, দাদুর ঘরটা পরিষ্কার করাচ্ছে।’ ঋতম বলল, ‘কিন্তু তোর দাদুর ঘরে তো নাকি তোর দাদুর ভূত রয়েছে। তুইই তো বলেছিলি তোর মা নাকি নিজে দেখেছে। হ্যাঁ রে তোর পিসিও কি দেখেছিল?’ সাবর্ণ ঘাড় নেড়ে বলল, ‘সেটা জানি না। তবে একবার পিসিমণি বলেছিল, বাবা এই ঘরেই আছে।’ ঋতম বলল, ‘একটা কাজ করবি এই গুরুদেবের দুর্লতম জায়গা খুজে বের করতে হবে তোকে। তারপর সেই জায়গায় খোঁচাতে হবে বুঝলি?’ ঘাড় নেড়ে সাবর্ণ হ্যাঁ বলার আগেই ওর প্লেট থেকে একটা ফিসফ্রাই তুলে নিয়ে ওদের গা ঘেঁষে বসে সঞ্জীবনদা বলল, ‘বল সাবর্ণ সিএসকে কেমন খেলছে? এই তোরা কি নিয়ে আলোচনা করছিলিস রে ভূত? ভূতে আমার হেভি ইন্টারেস্ট। মানে ছোট থেকেই ভূত দেখার জন্য আমি প্রচুর পরিশ্রম করেছি। তোরা বিশ্বাস করবি না হয়ত, আমি চার্চ থেকে বয়েজ হোস্টেল যেখানে যেখানে লোকজন ভূত আছে বলেছে সেখানে সেখানে দৌড়ে গেছি। এই সাবর্ণ তোর দাদুর ঘরে একরাত থাকার ব্যবস্থা করে দিবি রে?’

    ঋতম ইশারায় বারণ করছে সঞ্জীবনদাকে। কারণ ঋতম জানে সাবর্ণর নিজেরই কোন মতামতের গুরত্ব নেই ওদের বাড়িতে। তাই এমন হুট করে কাউকে নিয়ে যেতে পারে না ওদের বাড়িতে। একমাত্র ঋতমকেই যা একটু বিশ্বাস করে কাকীমা, তাই ও আজও সাবর্ণর বাড়িতে অবাধে যাতায়াত করতে পারে। সঞ্জীবনের প্রশ্নে একটু ঘাবড়ে গিয়ে সাবর্ণ বলল, ‘না মানে ভূত আদৌ আছে কিনা কেউ জানে না।’

    সঞ্জীবন কথা ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, ‘কেন মনে হচ্ছে বলত এবারে মুম্বাই জিতবে?’

    কিছুক্ষণ মেশার পরে সাবর্ণ বুঝল সঞ্জীবন ছেলেটা এমনিতে মন্দ নয়, তবে নিজেকে নিয়ে ভীষণ অহঙ্কার করতে ভালোবাসে। আমিত্বে টইটম্বুর যাকে বলে।

    ঋতমের একটু ভয় করছিল, সঞ্জীবনদার যা জেদ কোনোদিন রাতের অন্ধকারে না সাবর্ণর দাদুর ঘরে ঢুকে বসে থাকে।

    সাবর্ণ বাড়িতে ঢুকতেই বাবা খাবার টেবিলে বলল, ‘আমি দিন পাঁচেকের জন্য অফিস ট্যুরে চেন্নাই যাচ্ছি। কাল ভোরে ফ্লাইট।’ সাবর্ণর খুব কষ্ট হচ্ছিল আজ। বাবাও কেমন এই সময়টা বাড়ির বাইরে কাটিয়ে দেবে। ওই গুরুদেবের যাবতীয় জ্ঞান মানতে হবে শুধু ওকেই। হাজার গরম করলেও ও স্যান্ডোগেঞ্জি পরে থাকতে পারে না। কারণ ওর গলায় ঝুলছে বিভিন্ন আকৃতির তাবিজ, মাদুলি। রাস্তায় বেরোলেই ও গলার বোতামটা অবধি আটকে বের হয়। যাতে এগুলো দেখা না যায়। সঞ্জীবনদা আজকে কী সুন্দর একটা ভি-নেক টিশার্ট পরেছিল, ঋতমও বলল এরকম টিশার্ট একটা কিনবে। এসব তো স্বপ্ন সাবর্ণর কাছে। মা গম্ভীর মুখে বলল, ‘সত্যিই অফিস ট্যুর নাকি গুরুদেবের মুখোমুখি হতে চাও না তাই?’

    বাবা রুটির টুকরো মুখে পুরে বলল, ‘উনি গুরুদেব শুধু নন কিন্তু, উনি একজন জ্যোতিষীও। সঙ্গে আবার রত্নবিক্রেতা। তাই শুধু গুরুদেব বলে ওনার যোগ্যতাকে তুমি ছোট কর না প্লিজ।’ মা বলল, ‘কেন উনি তোমাদের কোন ক্ষতিটা করেছেন? ওনার পাথর আর মাদুলি পরেই সুবু এত বড় বড় ফাঁড়ার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে।’ বাবা খাওয়া থামিয়ে বলল, ‘সুবুর যে ফাঁড়া ছিল সেটাও ওনারই বক্তব্য। সুতরাং এসব বিস্তারিত আলোচনা না করাই শ্রেয়। আমি কাল বেরোচ্ছি, এটুকু জানালাম।’

    বাবা উঠে গেল হাত ধুতে। মা কিছুক্ষণ সাবর্ণকে লক্ষ করে বলে গেল, ‘অবিশ্বাসীদের গুরুদেব কোনোদিনই ক্ষমা করেন না। বিশ্বাসটাই আসল।’

    সাবর্ণ সকালে উঠে টিউশন যাওয়ার আগেই দেখল বাবা ব্যাগ নিয়ে রেডি। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ‘সাবধানে থাকিস।’ বাবার ওপরে একটু অভিমানই হচ্ছে, ওই বাবাজি আসছে শুনে বাবা ওকে একা রেখে কী সুন্দর পালিয়ে যাচ্ছে! আবার আদিখ্যেতা করে বলার কী দরকার-‘সাবধানে থাকিস?’ বাবা খুব ভালো করে জানে ও কেমন থাকবে এই পাঁচদিন।

    বাবা বেরিয়ে গেল। মা চুপচাপ। সাবর্ণ কোনোমতে দুপিস ব্রেড খেয়ে চলে গেল পড়তে।

    টিউশন থেকে ফিরেই দেখল, বাড়ির সামনে একটা অডি গাড়ি রাখা আছে। বুঝতে অসুবিধা হল না মায়ের সর্বস্বত্যাগী বাবাজি এসেছেন। বাড়ি ঢুকে বুঝল, উনি একা আসেননি, সঙ্গে আরও তিনজন সঙ্গী এসেছে। যাদের কাজ চব্বিশঘণ্টা গুরুদেবের সেবা করা। স্নানের জল বাথরুমে দিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, মাথা মুছিয়ে দেওয়া অবধি এরাই করে।

    সাবর্ণ বাড়িতে ঢুকে স্কুলে যাবে বলে রেডি হচ্ছিল, মা বলল, ‘আজ আর স্কুলে গিয়ে কাজ নেই। গুরুদেবের কাছে কাছে থাকবি। উনি আশীর্বাদ করবেন।’ গুরুদেবকে প্রণাম করে এসেছে সাবর্ণ স্নান করে। ওনার পাশে পাশে থাকার কী প্রয়োজন না বুঝেই ও বলল, ‘মা আজ স্কুলে ম্যাথ টেস্ট নেবেন স্যার। তাই যেতেই হবে।’ মায়ের মুখে বিরক্তি। গজগজ করে বলল, ‘বাবা তো আজকেই অফিসের কাজ দেখিয়ে চলে গেছে, তুইও ক্লাস টেস্টের নাম করে চলে যা।’ সাবর্ণ জানে কথায় কথা বাড়বে তাই চুপচাপ খেয়ে স্কুলে বেরিয়ে গেল।

    সাবর্ণ আজ খুবই কম কথা বলছিল স্কুলে। মন দিয়ে ক্লাস টেস্ট দিল। ঋতমের কথার উত্তর দিচ্ছিল দায়সারা। ঋতম ওর মুখ দেখেই বুঝে গিয়েছিল ওর আজ কেন মুড অফ আছে। তাই আর সঞ্জীবনদার প্ল্যানটার কথা বলা হল না ওকে। তবে সাবর্ণকে এর হাত থেকে বাঁচাতেই হবে ঋতমকে। এভাবে প্রাণচঞ্চল ছেলেটাকে নিশ্চুপ হতে দিতে পারে না ও। তাহলে আর বেস্টফ্রেন্ড কীসের? যা করার আজ রাতেই করতে হবে। সেরকমই একটা প্ল্যান বানিয়েছে ও আর সঞ্জীবনদা।

    সাবর্ণকে বললে ভাল হত হয়ত, কিন্তু যদি সাকসেসফুল না হয় ওদের প্ল্যান তাহলে ছেলেটার আরও মনখারাপ হয়ে যাবে। তাই আগে কাজ করে পরে নাহয় বলবে।

    সাবর্ণ সন্ধের থেকেই গুরুদেবের ঘরে বসে ওনার বিশ্বজয়ের গল্প শুনছে। ঘরের দেওয়ালে দাদুর একটা বিশাল ছবি টাঙানো। লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন শ্রী সুবর্ণ নারায়ণ চ্যাটার্জী। সাবর্ণর ইচ্ছে হচ্ছিল দাদু লাঠি হাতে এসে এই গুরুদেবের সামনে একবার দাঁড়িয়ে বলুক, ‘বুজরুকির জায়গা পাওনি হে?’ কথার শেষে দাদু ‘হে’ যোগ করত বলে সাবর্ণর খুব মজা লাগত।

    গুরুদেব বলে চলেছেন ওনার বিচিত্র সব অভিযানের কথা। কীভাবে উনি একদিনে এভারেস্টের মাথায় চড়েছিলেন তার বর্ণনা দিচ্ছিলেন। সাবর্ণর খুব ইচ্ছে করছিল জিজ্ঞাসা করতে, আচ্ছা বাবাজি আপনার ছবি বা নাম কাগজে আসেনি কেন?

    কিন্তু মায়ের গদগদ ভাব দেখে আর সাহস পেল না। উনি পর্বত থেকে এবারে নেমে এলেন সমুদ্রে। সমুদ্রের নীচে বিনা অক্সিজেনে তিনদিন অতিবাহিত করার গল্প ফাঁদলেন। সাবর্ণ মনে মনে ভাবছিল, অনন্তস্যার ঠিকই বলেছেন, সাবর্ণর সায়েন্স নিয়ে পড়ার যোগ্যতা নেই। এসব আজগুবি গল্প শোনাই ওর যোগ্যতা।

    গুরুদেব আহারে বসবেন। মা আর মালাপিসি দুজনে ব্যস্ত হয়ে গেল খাবার সাজাতে। সে এক এলাহী কাণ্ড! কী নেই সেখানে? মাছের তিনরকম পদ থেকে মাংস, পোলাও, রাধাবল্লভী, রাবড়ি, মিষ্টি।

    খাওয়া-দাওয়ার পরে সাবর্ণ নিজের ঘরে বসে পড়ছিল। সামনে মাধ্যমিক। সারাটা সন্ধে গেল ওই গাঁজাখুরি গল্প শুনে। তাই আজ রাত পর্যন্ত একটু পড়তে হবে। টেবিলল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়ছিল সাবর্ণ, রাত তখন কটা খেয়াল ছিল না। হঠাৎই ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, দুটো কাঁটাই কম্পিটিশন করে ছুটছে একটার দিকে। বই বন্ধ করে বাথরুমে যাবে বলেই বারান্দায় এসে দাঁড়াল। স্পষ্ট শুনল কারা যেন কথা বলছে খোলা ব্যালকনিতে। এদিকে দাদুর ঘর থেকে লাঠির ঠকঠক আওয়াজ আসছে। ঠিক যেভাবে দাদু ঘুম না এলে রাতে পায়চারি করত ওরকম আওয়াজ। এতদিন ভেবেছে, মায়ের কুসংস্কারাচ্ছন্ন মন নিশ্চয়ই কল্পনা করে নিয়েছে দাদুর আত্মা ঘুরে বেড়ায় এ বাড়িতে। কিন্তু আজ নিজের কানে শুনল আওয়াজটা। একটু ভয় ভয় করছে সাবর্ণর। চুপচাপ বাথরুম করে এসে নিজের ঘরে লক করে শুয়ে পড়ল ও। কতক্ষণ ঘুমিয়েছে ও জানে না। হঠাৎই দরজায় দুম দুম আওয়াজ শুনে দরজাটা খুলে দেখল- মা দাঁড়িয়ে আছে। সাবর্ণর তখনও ঘুম ভাঙেনি ঠিক করে। মা বলল, ‘শিগগির চল গুরুদেব তোকে ডাকছেন।’ একি অদ্ভুত অত্যাচার রে বাবা! রাত তিনটের সময় ওকে টেনে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গুরুদেবের আদেশে।

    ঘরে ঢুকতেই দেখল, গুরুদেবের বিধ্বস্ত চেহারা। সেই প্রশান্তির চিহ্ন নেই চোখে মুখে। কেমন যেন ভয়ে তটস্থ হয়ে আছেন। সাবর্ণ যেতেই উদভ্রান্তের মত ওর হাতের আংটি, গলার মাদুলি সব খুলে নিলেন। মা বলল, ‘একি করছেন গুরুদেব? ওর যে আঠারো বছরে ফাঁড়া আছে বলেছিলেন? ওর যে সবে ষোলো!’ গুরুদেব সব জিনিসগুলো মেঝেতে রেখে বললেন, ‘আমি স্বপ্নাদেশ পেয়েছি মা, তোমার ছেলের সব ফাঁড়া-বাধা কেটে গেছে। স্বয়ং ঈশ্বর আমায় নির্দেশ দিলেন, ওর অঙ্গে যেন আর কোনো অলংকার না থাকে। ও আজ থেকে মুক্ত। ওকে আর কোনোদিন এসব পরাতে হবে না সায়ন্তনী। তুমি নিশ্চিন্তে থাকো।’ মা গুরুদেবের পা ছুঁয়ে প্রণাম করল।

    কিন্তু গুরুদেব আপনি যে বলেছিলেন তিন-চারদিন আমার বাড়িতে অধিষ্ঠান করবেন, তাহলে আজ ভোরেই কেন চলে যাচ্ছেন? আমার কি যত্নে কোন ত্রুটি হলো?’ গুরুদেব মায়ের মাথায় হাত রেখে বললেন, ‘না মা কোন ত্রুটি হয়নি। কিন্তু আমায় ফিরতে হবে। আশ্রমে হঠাৎই একটা কাজের ডাক এসেছে। মনে রেখ মা ওর সব বাধা কেটে গেছে। ওকে আর কোনো কিছু পালন করতে হবে না।’

    গুরুদেব পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গেলেন সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে। সাঙ্গপাঙ্গরাও আধোঘুমে ছিল পাশের ঘরেই। তারাও বাবাজির কাণ্ড দেখে হতভম্ব।

    সাবর্ণর ওজন যেন কয়েক কেজি কমে গেছে। উফ কী শান্তি। কিন্তু এ রহস্য উদ্ধার করতে হবে ওকে। কীভাবে ঘটল এ ম্যাজিক?

    স্কুলে যাওয়ার রাস্তায় দেখল সঞ্জীবনদা আর ঋতম দাঁড়িয়ে আছে। ঋতম ওকে দেখেই বলল, ‘সাবর্ণ তোর দাদুর আত্মা আছে তোদের বাড়িতে। শোন আমরা ভেবেছিলাম, তোকে ওই গুরুদেবের ভণ্ডামির হাত থেকে উদ্ধার করব। তাই আমরা দুজনে মাঝরাতে তোদের খোলা ব্যালকনিতে উঠেছিলাম মই বেয়ে। তোর দাদুর ঘরের দরজার সামনে গিয়ে থমকে গেছি ভাই। নাইট ল্যাম্পের আলোয় স্পষ্ট দেখলাম, তোর দাদু লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। গম্ভীর গলায় বলছেন, আমার নাতির হাত থেকে ওই সব আজকেই খুলে ফেলবি। আর এ বাড়িতে এক মুহূর্ত থাকলে গলা টিপে মেরে দেব। গুরুদেব তখন ভয়ে হেঁচকি তুলছিল। আমি আর সঞ্জীবনদা ভয়ে তাড়াতাড়ি করে পালিয়ে এসেছি।’ সঞ্জীবনদা বলল, ‘ভাই সাবর্ণ ক্ষমা করিস ভাই। তোর দাদুর আত্মাকে নিয়ে মনে মনে ঠাট্টা করেছিলাম। ভেবেছিলাম ভূত বলে কিছু হয় না। কিন্তু তোর দাদুকে গতকাল রাতে স্পষ্ট দেখে বুঝলাম, আত্মার অস্তিত্ব সত্যি আছে।’ ঋতম বলল, ‘শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা রক্তের স্রোত বয়ে গিয়েছিল কালকে। যাকগে আল্টিমেটলি তোর দাদুই হলেন হিরো। মৃত্যুর পরেও নাতিকে বাঁচাতে মাঠে নামলেন।’ সঞ্জীবনদা বলল, ‘সত্যি রে ভদ্রলোকের ওপরে আমার সম্মান বেড়ে গেল। একদিন দিনের বেলায় তোদের বাড়ি গিয়ে তোর দাদুর ছবিতে মালা পরিয়ে দিয়ে আসবো।’

    কেন কে জানে ঋতমের মতো সঞ্জীবনদাকেও আজকে খুব আপন মনে হচ্ছে। এরা দুজনে ওকে বাঁচাবে বলে এত রিস্ক নিয়ে ওদের ব্যালকনিতে উঠেছিল মাঝরাতে! এদের ফিসফিস আওয়াজই গতকাল শুনেছিল ও। ঋতম সাবর্ণর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আজ থেকে দুর্নিবাররা বেকার হয়ে গেল রে।’

    বেশ কাটছিল দিনগুলো। স্কুলে লেগপুল নেই, নিজের শরীরেও অযথা ভার নেই, ভাগ্য নামক অলীক কিছুর হাতে নিজেকে সমর্পণ না করে পরিশ্রম করার ইচ্ছে বেড়েছে সাবর্ণর। টেস্টের রেজাল্ট খুব ভালো করেছে ও। মা আবার আগের মত স্বাভাবিক। ‘এদিকে বসিস না’, ‘ওদিকে হাঁটিস না’-এর চাপ নেই। বাবা-মায়ের মধ্যেও আর সেই উত্তপ্ত কথোপকথন নেই। সব মিলিয়ে এখন বাড়িতে সাবর্ণর বেশ ভালই লাগে। পিসিমণি আসবে দুদিন পরেই, সঙ্গে দাদাভাইও। সেইজন্য পড়ার মাঝেও মনে একটা আনন্দ হচ্ছে সাবর্ণর। দুপুর বারোটা নাগাদ বাবা অফিস থেকে ফোন করে বলল, ‘আমার আলমারিতে একটা ব্লু কালারের ফাইল আছে একটু খুঁজে রাখতো। আমি গাড়ি পাঠাচ্ছি, ড্রাইভারের হাতে দিয়ে দিবি। সেকেন্ড হাফে মিটিং আছে, ওই ফাইলটা লাগবে।’ সাবর্ণ বাবার বলা কথা মত চাবি দিয়ে আলমারি খুলে ফাইল খুঁজতে খুঁজতে কয়েকটা জিনিস দেখতে পেল। দাদুর সেই লাঠিটা, দাদুর পাঞ্জাবি-পায়জামা, আরেকটা নকল মোটা শেপের গোঁফ সঙ্গে একটা কাঁচা-পাকা চুলের পরচুলা। এরকমই মোটা গোঁফ আর চুল ছিল সুবর্ণ নারায়ণ চ্যাটার্জীর। পেশায় জাঁদরেল উকিলের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যেত দাদুকে ওই মোটা গোঁফে।

    ফিক করে হেসে ফেলল সাবর্ণ।

    বাবার ফাইলটা মায়ের হাতে দিয়ে বলে গেল, ড্রাইভারকে দিয়ে বাবার অফিসে পাঠিয়ে দিতে।

    নিজে স্কুলব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল ও। ময়ূরপঙ্খী ঘাটে দাঁড়িয়ে একটা একটা করে জিনিস ভাসিয়ে দিল গঙ্গার জলে। সুশোভন চ্যাটার্জীর সেদিন মধ্যরাতে সুবর্ণ নারায়ণ চ্যাটার্জী সাজার গল্পটা নাহয় আজীবন লুকানোই থাক।

    সাবর্ণ ফিসফিস করে বলল, ‘থ্যাংক ইউ বাবা। লাভ ইউ।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাতগাঁর হাওয়াতাঁতিরা – পরিমল ভট্টাচার্য
    Next Article জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026
    Our Picks

    বিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত

    July 4, 2026

    কেউ কেউ কথা রাখে – মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

    July 4, 2026

    জোনাকির রঙ – সায়ক আমান

    July 4, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }