Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী এক পাতা গল্প89 Mins Read0
    ⤷

    বসন্ত রজনী – ১

    এক

    বৌবাজারের দিকে বাসা করার পর থেকে বন্ধুবান্ধব কারো সঙ্গে দেখা বড় একটা হয়ে ওঠে না। ওকালতির ঝঞ্ঝাট তো কম নয়। সকালে সিনিয়ারের বাড়ী একবার হাজিরা দিতে যেতেই হয়। মাঝে মাঝে (কথাটা চেপে যাওয়াই উচিত ছিল) তাঁর ছেলেমেয়েদের হোয়াইটওয়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে জামা-কাপড়ও কিনে দিতে হয়। দুপুরে কোর্ট আছে এবং বিকালের দিকে প্রায়ই কোনো না-কোনো মক্কেলের বাড়ী যেতে হয়। সুতরাং বন্ধু- বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দেবার সময়ও নেই, উৎসাহও নেই।

    এমন সময় একদিন অজয়ের চিঠি পেলাম-সে মৃত্যুশয্যায়, আমাকে একবার দেখতে চায়। লেখা অজয়ের নিজের নয়, তার পিসতুতো বোন টুলুর। মেয়েলি হাতে লেখা। এক একটি মেয়ে দেখা যায়, বয়সের হিসাবে তাদের কৈশোর শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু যায় না। অকারণে ক্ষণে ক্ষণে উঁচু হাসি, লঘু চঞ্চল গতি এবং একটি অত্যন্ত সহজ, স্বাভাবিক নির্লজ্জতা তথাপি টিকে থাকে। তেমন একটি তন্বী সুন্দরী মেয়ে এই টুলু।

    অজয়ের সঙ্গে আমার অকৃত্রিম বন্ধুত্ব,—আজকের নয়, যখন আমাদের দু’জনেরই বয়স কুড়ির নীচে ছিল, যখন একজন আর একজনকে সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালোবাসতে পারতো, সেই সময়কার। ও যে বেশীদিন বাঁচবে না সে আমি জানতাম। কলেজে পড়বার সময়ই ওর কানের উপরটা এবং আঙুলের ডগার মাংস কুঁচকে যেতে আরম্ভ করে। রোগের সূত্রপাত সেই সময় থেকেই। কিন্তু তাতে ও এতটুকু দমেনি,—সমানে পড়ে গেছে এবং লিখে গেছে। বাংলাদেশের সাহিত্য-পত্রিকাগুলি আজও ওর প্রশংসায় মুখর বৃন্দাবন থেকে ফিরে এসেই ওর অসুখ বাড়তে আরম্ভ করে। তার আগে ভালো বোঝা যেত না।

    আমি যখন অজয়ের ওখানে গেলাম, ও তখন গলা পর্যন্ত একটা পুরু চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিল। তখন সন্ধ্যের বেশী বাকী ছিল না। ও সুমুখের খোলা জানালা দিয়ে পশ্চিম গগনের বিচিত্র বর্ণচ্ছটার পানে একদৃষ্টে চেয়ে ছিল। টুলু শিয়রের দিকে একটা টিপয়ের পাশে ঘাড় হেঁট করে দাঁড়িয়ে কি কতকগুলো ওষুধের শিশি সাজাচ্ছিল।

    আমি অতি সন্তর্পণেই ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলাম। কিন্তু যেভাবে টুলু আমাকে কলকণ্ঠে স্বাগত জানালে, তাতে মনে হল এত সন্তর্পণে আসবার কোনোই প্রয়োজন ছিল না। আশ্চর্য মেয়ে এই টুলু। মুমূর্ষু ভায়ের পাশে দাঁড়িয়েও তেমনি চঞ্চল, তেমনি উচ্ছল, তেমনি মুখর। টুলু বললে, এইমাত্র আপনার কথা হচ্ছিল মৃণালবাবু!

    অজয় যে আজ সন্ধ্যায় আমার প্রতীক্ষা করবে এ-তো জানা কথা। তবু বললাম, তাই নাকি?

    টুলু যেন দিগ্বিজয় করেছে এমনিভাবে বললে, দেখলে দাদা, আমি বললাম, উনি নিশ্চয়ই আসবেন। তুমি বিশ্বাস করতে চাওনি।

    অজয়ের চোখ একটা পুরু চশমায় ঢাকা ছিল, দেখা যাচ্ছিল না। ওর মুখ বীভৎস দেখাচ্ছিল। নাক এবং ঠোঁট অসম্ভব রকম ফুলে উঠেছিল। টুলুর কথায় ও একটু ক্ষীণ হাসলে।

    চেয়ারটা আরো সরিয়ে নিয়ে জিগ্যেস করলাম, এখন কেমন বোধ হচ্ছে?

    এ কথারও অজয় কোন জবাব দিলে না। বললে, তোমার খবর কি?

    দেবার মতো খবর আমার অনেকই ছিল। আমি জানি, কোর্টের খবর ওর কম প্রিয় নয়। একটা ছোট ঘটনাকে আইন ব্যবসায়ী সত্যি-মিথ্যায় কেমন জটিল করে তোলে, কি আশ্চর্য নিপুণতায় একটা মামলার গতি ফিরিয়ে দেয় সে কাহিনী শুনতে শুনতে ও উৎফুল্ল হয়ে ওঠে, অধীর হয়ে ওঠে। কিন্তু ওকে দেখে সেদিন আমার মনটা দমে গেল। বেশী কথা বলতে ইচ্ছেই হল না। আমি শুধু ঘাড় নেড়ে জানালাম, ভালো।

    —সবাই ভালো আছে? আর আর বন্ধুরা?

    আমি এবারও ঘাড় নেড়ে জানালাম, হ্যাঁ।

    ও যেন আশ্চর্য হয়ে গেল। আপন মনে অস্ফুটকণ্ঠে কি যেন বললে। যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না, একা ও-ই অসুস্থ, আর সবাই ভাল আছে। খানিক পরে বললে, আমি কি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টুলু?

    —একটুখানি।

    —তাই হবে। চমৎকার একটা স্বপ্ন দেখছিলাম।

    অসুস্থ শরীর। একটু তন্দ্রা এলে সকলেই অমন কত স্বপ্ন দেখে। কিন্তু অজয়ের সবটাতেই টুলুর আগ্রহ অপরিসীম; ও অজয়ের মুখের উপর ঝুঁকে পড়ে বললে, কি স্বপ্ন বলো না?

    অজয় একটু হেসে বললে, যাকগে। সে শুনে তুই হাসবি।

    —না, হাসবো না। তুমি বলো।

    অজয় আস্তে আস্তে বললে, স্বপ্ন দেখছিলাম, আমি যেন যুদ্ধে গেছি। মস্ত বড় একটা প্রান্তর। চারিদিক ধূ ধূ করছে। কোথাও একটা গাছ পর্যন্ত নজরে পড়লো না। যুদ্ধ করতে গেছি, কিন্তু একা আমি। আমার গায়ে চুমকি করা মখমলের পোশাক, কোমরে তলোয়ার। কার সঙ্গে যুদ্ধ করছি জানি না, কিন্তু আমি কেবল চ্যাঁচাচ্ছি, আর প্রাণপণে তলোয়ার ঘুরোচ্ছি,—এতো ঘুরোচ্ছি যে গা দিয়ে প্রচুর ঘাম ঝরতে লাগলো।

    অজয় চুপ করলে।

    টুলু যে ওর গল্প খুব মন দিয়ে শুনছিল তা বোধ হল না। কিন্তু অজয় চুপ করতেই বললো, তারপর?

    —তারপর আর নেই। আচ্ছা মৃণাল, মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন জানো?

    অন্যমনস্কভাবে বললাম, না।

    টুলু বললে, তুমি নিশ্চয়ই আজকে যুদ্ধের কথা ভেবেছ।

    অজয় সবিস্ময়ে বললে, আমি? যুদ্ধের কথা?

    টুলু আবার বললে,—আজ না হোক, এর মধ্যে কোনোদিন ভেবেছ নিশ্চয়।

    এবারে অজয়ের যেন কি কথা মনে পড়ে গেল। বললে, তা হতে পারে। যুদ্ধ নয়, কিন্তু এই শীর্ণ হাতখানা যখন দেখি তখন মনে মনে ভাবি, আমি যদি বলবান হতাম! বেশী না, এমনি সাধারণ মানুষের মতোও যদি হতাম!

    টুলু এমন অদ্ভুত কথা যেন কখনও শোনেনি, এমনভাবে হেসে লুটিয়ে পড়বার মতো হল।

    বললে, তাহলে কি করতে? আমরাই বা কি করি? চুরি করি, না ডাকাতি করি, না খুন করি?

    অজয় স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ টুলুর পানে চেয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বললে, আমি খুনও করতে পারি। মাঝে মাঝে ভয়ানক খুন করবার ইচ্ছা হয়। কিন্তু তাও নয় টুলু, আমি শুধু বেঁচে থাকতে চাই, শুধু সবারই মতো রাস্তা দিয়ে চলতে চাই, স্ত্রী-পুত্রের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করতে চাই। আর কিছু নয়।

    অজয়ের গলার স্বর ভারী হয়ে এলো। কিন্তু সে স্বরে ক্লান্ত বিষণ্ণতা নেই, আছে একটা অতি তিক্ত ক্ষোভ। আমি সইতে পারছিলাম না। ভাবছিলাম, কথার ধারা এবার বদলাতে হবে।

    কিন্তু টুলু বললে, তোমার তো রাস্তা দিয়ে চলার দরকার নেই দাদা, স্ত্রী-পুত্রের জন্যে রোজগার করারও না। তোমার তো টাকার অভাব নেই।

    উত্তেজনায় অজয় উঠে বসল। টান দিয়ে চশমাটা খুলে ফেলে বললে, সমস্ত দিয়ে দিতে পারি টুলু, আমার বাড়ী, আমার ব্যাঙ্কের টাকা, সব, যদি একটি দিনের জন্যেও কেউ আমাকে ভালো করে দিতে পারে। এ-জীবনে আমি অন্তত একদিনও সুস্থ দেহে বেঁচে থাকতে পেলে ধন্য মানবো।

    চোখ ফেটে যেন রক্ত ঝরছে এমনি লাল ওর চোখ। আর সওয়া গেল না। আমি তাড়াতাড়ি জিগ্যেস করলাম, তোমার বৃন্দাবন কেমন লাগলো?

    অজয় বিরক্তভাবে বললে, ছাই লাগলো।

    –সেই নাটকখানি শেষ হয়েছে?

    অজয় আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললে, ওসব আর ভালো লাগে না,—বুঝেছ মৃণাল, সাহিত্য চর্চাও আর ভালো লাগে না।

    হঠাৎ আমার একটা কথা মনে পড়ে গেল। কিন্তু সে টুলুর সামনে নয়।

    টুলুকে বললাম, আমি বরাবর কোর্টের ফেরত আসছি কি না, সে কথাটি একবারও জানতে চাইলে না?

    টুলু আমার কথার অর্থ ঠিক বুঝতে পারলে না। বললে, সে তো আমি জানিই।—জানো যদি, তবে চা খাওয়ানোর উৎসাহ দেখছি না কেন?

    টুলু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি বললে, ভারী ভুল হয়ে গেছে মৃণালবাবু, আমি এক্ষুনি আসছি।

    টুলু চলে গেল। আমি চেয়ারখানি অজয়ের বিছানার দিকে আরও সরিয়ে নিয়ে চুপি চুপি জিগ্যেস করলাম, আর তোমার সেই বৈষ্ণবী, তার খবর কি?

    এতক্ষণে অজয়ের মুখে হাসি ফুটলো। বললে, তার কথা কি তোমাকে লিখেছিলাম?

    —লেখোনি? তারই কথাই তো কেবল লিখতে। তোমার কথা আর ক’টা থাকতো?

    গভীর তৃপ্তির সঙ্গে হাসতে হাসতে অজয় বললে, তাই বটে। তারই তো কথা। আমার আর নতুন কথা কিই-বা ছিলো! কিন্তু তুমি কি টুলুকে তাড়ালে এই জন্যে?

    হেসে বললাম, এই জন্যে। আমি তোমার কাছ থেকে সকল কথা শুনতে চাই।

    —তা শোন। কিন্তু টুলুকে সরাবার দরকার ছিল না। ও জানে। বিস্মিত হচ্ছ? কিন্তু দোষটা কি শুনি? স্বামী স্ত্রীকে ভালবাসে একথা সবাই জানে। সে যদি না দোষের হয়…

    আমি তাড়াতাড়ি বললাম, না দোষ কিছুই নয়। তুমি বলো। অজয় বলতে লাগলো :

    —ওরা বলে কুঞ্জ! বৃন্দাবন পৌঁছবার আগে পর্যন্ত জানিনে কোথায় গিয়ে উঠবো, কি করে থাকবো। কিন্তু ট্রেন থেকে নেমে কিছুই আমাকে ভাবতে হল না। কোথা থেকে কে এসে যে বাক্স বিছানা সমেত আমাকে একটা কুঞ্জে নিয়ে গিয়ে ফেললে সে আজ আর মনে করতে পারি না। কেবল মনে আছে, কুঞ্জে গিয়ে যে দৃশ্যটি দেখলাম সেই কথা। সুমুখেই দাওয়ায় বসে একটা ঘোরতর কালো, বেঁটে স্থূলকায় ব্যক্তিকে পাঁচ-ছ’টি মেয়ে পরম যত্নে তেল মাখাচ্ছে। মনে মনে ভাবলাম, একেই বলে ভাগ্যবান। বাবাজি স্মিতহাস্যে আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন। অতি মিষ্টি ধার কণ্ঠে বললেন, আজ তেল মাখানো থাক রাধা, আগে বাবুর ঘরটি ঠিক করে দিয়ে এসো।

    রাধার বয়স চব্বিশ-পঁচিশের কম না। দীঘল তনুদেহ ছাড়া গর্ব করবার ওর কিছুই ছিল না।

    আমি কিছুই ভুলিনি। বললাম, আর ওর হাসি? শীর্ণ, উদাস।

    অজয় হেসে ফেললে। বললে, হ্যাঁ, ওর হাসিটি বেশ মিষ্টি। তুমি কিছুই ভোলনি দেখছি। প্রথম প্রথম আমি থাকলে আমার ঘরের মধ্যে আসতে সঙ্কোচ বোধ করত। কিন্তু ক’দিনেই বুঝলে, আমার মতো দুর্বল, ব্যাধিগ্রস্ত নিরীহ লোকের কাছ থেকে ভয় করবার কিছু নেই। ক্রমেই ওর সাহস বাড়তে লাগলো। অজয় একটুক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ জিগ্যেস করলে, আচ্ছা তুমি জীবন কাকে বলো?

    আমি হেসে বললাম, বেঁচে থেকে ওকালতি করাকে।

    কিন্তু উত্তরের প্রত্যাশা করে অজয় প্রশ্ন করেনি। আমার কথা ওর বোধ হয় কানেই গেল না। আপন মনেই বলতে লাগলো, সেই প্রথম দেখলাম জীবনের রূপ। স্বর্গের কল্পবনের বাইরে দাঁড়িয়ে রুদ্ধদ্বারের ছিদ্রপথ দিয়ে শুধু একবার একটুখানি দেখতে পেলাম—অফুরন্ত জীবনের স্রোত বিচিত্র বর্ণচ্ছটায় বয়ে চলেছে! তীরে পড়ে আছে কত মেঘলা, কত মণিমঞ্জীর, কত আমীলিত লীলাকমল। তাই ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে চলেছে অফুরন্ত জীবনের খরস্রোত। শুধু দেখলাম। ঝাঁপিয়ে পড়ার শক্তি তো নেই।

    অজয় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললে।

    —রোজ সন্ধ্যায় ওখানে কীর্তন হত। ঘরে শুয়ে শুয়ে আমি শুনতাম অভিসারিকার নিগূঢ় মর্মকথা, অবরুদ্ধ অশ্রুর অস্ফুট গুঞ্জন। জানালা দিয়ে দেখতে পেতাম দূরের বনশ্রেণী। পরিপূর্ণ চাঁদের আলোয় রহস্যলোকের মতো। মনে হতো, এখুনি দেখা যাবে সুনীল বসনে সর্বাঙ্গ ঢেকে চির-অভিসারিকা ওই পথে চলেছে। চরণে মঞ্জীর নাই। নিঃশব্দ সে চলা।

    বিন্দু বিন্দু করে অজ্ঞাতসারে মনে জমছে রস, অকস্মাৎ চমকে উঠলাম। কে যেন ফিস্ ফিস্ করে জিগ্যেস করলে, ঘুমুলে?

    আমার মাথার চুলে কার যেন মৃদু স্পর্শ পেলাম। যাদু যে কোথায় ছিল, চাঁদের আলোয়, না দূরের নিঝুম বনপ্রান্তে, না নারীর মৃদুকণ্ঠে জানিনে। আমিও ফিস ফিস করে জবাব দিলাম, না।

    আবার তেমনি ফিস ফিস করে সে বললে, আজকে ঘুমিও না, বুঝলে?

    —আচ্ছা।

    —দরজা খুলেই রাখ তো?

    —রাখি।

    আবার মাথার চুলে মৃদু স্পর্শ..শাড়ীর খস্ খস্ শব্দ…দ্বারের শিকলটি একবার নড়ে উঠলো…বুঝলাম, ও চলে গেল, সেই চিরঅভিসারিকা…চরণে মঞ্জীর নাই….

    জীবনে যে এত আনন্দও আছে এ আমি কোনদিন ভাবিনি মৃণাল। আমি শুধু আলোর শিখার মতো কাঁপতে লাগলাম।

    অজয় ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলে।

    আমি জিগ্যেস করলাম, সে কি রাত্রে এসেছিল?

    —এসেছিল। কিন্তু আমি যেমন করে চেয়েছিলাম, তেমন করে তো এলো না। আমি একবার অত্যন্ত ঝড়ের রাত্রে একটি মেয়েকে দেখেছিলাম। তার পরনে ছিল রক্তের মত টকটকে লাল একখানা শাড়ী। তাই আড়াল দিয়ে সে একটি প্রদীপ বুকের মধ্যে নিয়ে অতি সন্তর্পণে আসছিল। কিন্তু ও তো তেমন করে এলো না। ও এলো কখন? ওর প্রতীক্ষায় চেয়ে চেয়ে আমি যখন ঘুমিয়ে পড়েছি। তখন হঠাৎ জেগে উঠে দেখি, সাপের মতো ও যেন আমার সর্বাঙ্গ জড়িয়ে জড়িয়ে বেষ্টন করে আছে। কী উষ্ণ স্পর্শ! বললাম, জানালাটা ভালো করে খুলে দেবে? আমি তখন উঠে বসেছি। বিছানার উপর অনেকখানি চাঁদের আলো এসে পড়লো। সেই আলোতে আমি ওর বুভুক্ষু চোখের পানে চাইতেই চোখ নামিয়ে নিলে। ও যেন বিষ খেয়েছে এমনি করে আমার কোলের উপর ঢলে পড়লো।

    একটু দম নিয়ে অজয় বললে, আমার আজও সংশয় যায়নি মৃণাল, আমার মধ্যে ও কি পেয়েছিল যার জন্যে এমন করে আত্মসমর্পণ করেছিল? কথাটা একদিন ওকে জিগ্যেসও করেছিলাম। ও সোজা উত্তর দেয়নি, বলেছিল, আমিও তো সুন্দরী নই, তবু তুমি কি করে ভালোবাসতে পারলে? আমি বলেছিলাম, আমি তোমায় ভালোবাসিনি। সে কথায় ও হেসেছিল, বিশ্বাস করেনি।

    আমি অজয়কে জিগ্যেস করলাম, কিন্তু তুমি তো ওকে সত্যিই ভালোবেসেছিলে?

    অজয় চট করে উত্তর দিতে পারলে না। যেন মনে মনে কি একটা খুঁজতে লাগলো। তারপর বললে, দেখ মৃণাল, ও যে আমার জীবনে একটি বিশেষ মুহূর্ত এনেছিল, সে কথা কিছুতেই ভুলতে পারি না। কিন্তু তারপরে কি করলে জানো? কিছুতেই আমার সঙ্গ ছাড়ে না। বিকেলে হয়তো একা একাই বাগানে বেড়াচ্ছি, ও হঠাৎ এসে উপস্থিত। কথা দিয়ে, হাসি দিয়ে, চাউনি দিয়ে, আমাকে জয় করবার সে কী দুরন্ত চেষ্টা! শেষে এমন হল যে, ওকে দেখলে আমি অস্বস্তিতে হাঁপিয়ে উঠতে লাগলাম। ঘরে একা একটু বিশ্রাম করবার উপায় নেই, চিলের মতো শোঁ করে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাগানে বেড়ানোর উপায় নেই। এমন কি যমুনায় স্নান করতে গিয়ে দেখি, কলসী কাঁখে নিয়ে ও কখন এসে উপস্থিত হয়েছে। আমার উপেক্ষা ওর বুঝতে দেরী হয়নি। একদিন হঠাৎ এসে আমার পা জড়িয়ে ধরে বললে, তুমি আমাকে দেখে অমন করে পালিয়ে বেড়িও না। আমি মনে করি, তোমার কাছে আসব না। কিন্তু পারি না, কিছুতেই মনকে আটকাতে পারি না। তার সে কী কান্না!

    এমন সময় টুলু চা আর খাবার নিয়ে উপস্থিত হল। একটা টিপয়ের উপর সেগুলো রাখতে রাখতে বললে, কার দাদা?

    অজয় আবার চোখ বন্ধ করলে। তার গাল বেয়ে দু’ফোঁটা অশ্রু নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়লো। একটুখানি থেমে সে বললে, আমার ভয়ানক কষ্ট হল। ওর মাথার চুলে হাত বুলোতে বুলোতে বললাম, আমি যে পালিয়ে বেড়াই সে-কথা তোমায় কে বললে? ও বললে, আর মিথ্যে কৈফিয়ৎ দিও না। আমি সব বুঝতে পারি। আমার কোলের মধ্যে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগলো। আমার বলবার কিই-বা ছিল? চুপ করে বসে রইলাম। হঠাৎ আমার দিকে ফিরে অজয় ব্যগ্রকণ্ঠে বললে, একদিন একটি বিশেষ ক্ষণে যে আমাকে অসীম আনন্দ দিলে, কি করে সে ফুরিয়ে গেল বলতে পারো? ওকে আমি কেন সইতে পারতাম না, বলতো?

    এ-বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা খুবই সামান্য। সুতরাং চুপ করে রইলাম। টুলুর পানে চেয়ে দেখি, সে মুখ ফিরিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।

    বললে, আমি বলবো?

    —বল তো।

    —তোমার রাধা একটি সাধারণ মেয়ে। তোমার মন যাদের ঘিরে তরঙ্গ তোলে ও তাদের বাইরে। কিন্তু একটি বিশেষ ক্ষণে তোমার মনে জোয়ার এসেছিল। তোমার তরঙ্গের পরিধি গিয়েছিল বেড়ে। সেই ক্ষণটিতে তোমার চোখে ও যে অসাধারণ হয়ে ফুটে উঠেছিল, সে ওর গুণে নয়, তোমার গুণে।

    আমার দিকে চেয়ে অজয় জিগ্যেস করলে, তাই?

    এ বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই! সুতরাং চুপ করে রইলাম।

    অজয় বলতে লাগল, দেহ, দেহ, দেহ। কেবল একখানি দেহ এবং একটি পিপাসার্ত হৃদয়! তুই বোধ হয় ঠিকই বলেছিস টুলু, আমাকে ক্লান্ত করেছিল ওর অতি সাধারণ পিপাসা। কিন্তু—অজয় টুলুর দিকে চেয়ে অনুনয়ের সুরে বললে,—আচ্ছা ওকে আসতে লিখলে কি ও আসবে না? তুই কি মনে করিস?

    —ওকে আসতে লিখে দিয়েছি যে।

    —দিয়েছিস? বেশ করেছিস। কিন্তু অজয় খুব অস্ফুটস্বরে বললে,—কিছু টাকাও বোধ করি…।

    —তাও পাঠিয়ে দিয়েছি।

    টুলু মুখ ফিরিয়ে একটু হেসে নিল।

    অজয় বললে, দেখতে ইচ্ছা হয় বইকি! আর ক’টা দিনই বা আছে? জীবনের পথে যাদের পেয়েছি সবাইকে মৃত্যুশয্যার পাশে জড় করতে ইচ্ছা হয়।

    .

    রাধাকে দেখলাম। একখানি সাদা সরুপাড় ধুতি পরে প্রায় শেষ মুহূর্তে সে এসে পৌঁছুল। নিতান্ত সাধারণ মেয়েই বটে। চোখে মুখে বুদ্ধির এতটুকু দীপ্তি নেই। শহরের বিরুদ্ধ আবেষ্টনের মধ্যে এসে আরও যেন কুণ্ঠিত হয়ে পড়েছে। বড় বাড়ী এবং অপর্যাপ্ত বিলাসোপকরণের সঙ্গে তার যে কখনও পরিচয় ছিল এ কথা মনেই হয় না, এমন কুণ্ঠিত ব্যবহার। সত্যি বলতে কি, ভদ্রঘরের মেয়ে বলেই তাকে মনে হল না। টুলুর হাসির মানে বোঝা গেল।

    রাধা সঙ্কোচে দূরে দাঁড়িয়ে রইল। টুলু বললে, দাদা, রাধা এসেছে যে!

    রাধা কাছে সরে এল।

    অজয় একবার চোখ চাইলে। শুধু একবার। তারপর চোখ বন্ধ করলে।

    অজয়ের সে চাওয়া আমি আজও ভুলতে পারিনি,—যেন অস্তরবি চাঁদের দিকে একখানি হাত বাড়িয়ে দিলে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    Next Article একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    Related Articles

    সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026
    Our Picks

    একলব্য – হরিশংকর জলদাস

    July 29, 2026

    বসন্ত রজনী – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026

    মহাকাল – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    July 29, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }