Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৭. বেজি জাতটা কিছুতেই পোষ মানে না

    বেজি জাতটা কিছুতেই পোষ মানে না। যতই পোষো, যতই আদরে রাখো, সুযোগ পেলেই শালারা জঙ্গলে পালিয়ে যাবে। যাবে তো যাবেই, আর আসবে না।

    নিতাই তা জানে। তবে বহুকাল ধরে একটা বেজির বড় শখ। মল্লিবাবুর একজোড়া বেজি ছিল। তখনকার এই রতনপুর ছিল কেউটে গোখরোর আড়া। উরু পর্যন্ত একটা চামড়ার স্নেক-বুট পরে বেজি নিয়ে মল্লিবাবু এই ভিটের জঙ্গলেই কত সাপ মেরে বেড়িয়েছেন। সেই কর্মফলেই অকালে মরণ। সাপ মারতে নেই, এই সরল সাদা কথাটা শহুরে বাবুরা কিছুতেই শুনবে না। নিতাই ধরে নিয়েছিল, একদিন সাপেই কাটবে বাবুকে। সেটা অবশ্য হয়নি। মল্লিবাবু সাপ মেরে মেরে এ জায়গাকে সাপের শ্মশান বানিয়ে ছেড়েছিলেন। তিনি মারতেন, তার বেজি দুটোও মারত। মদন ঠিকাদার বলত, সাপের চেয়ে মানুষ অনেক বেশি বিপজ্জনক। মেয়েমানুষ আরও সাপ না মেরে ববং বন্দুক দেগে এখানকার কয়েকটা বদমাশ শয়তানকে মারো হে মল্লিবাবু। বন্দুক লেগে দাও, জায়গাটা ঠান্ডা হবে। মল্লিবাবু জবাবে বলতেন, আমি সবকিছু মারতেই ভালবাসি।

    তখন গনিয়ার জঙ্গল নামে একটা জঙ্গল ছিল, এখন রিফিউজিরা সেখানে থানা গেড়েছে। সেই জঙ্গলে ঢুকে পাখি মারতেন মল্লিবাবু। কম করেও চার-পাঁচটা খ্যাপা কুকুর মেরেছেন। বধে খুব আনন্দ ছিল। মানুষও মেরেছেন কি না সে কথা বলা বারণ। নিতাইয়ের মুখ দিয়ে কখনও তা বেরোবে না। তা সেই গনিয়ার জঙ্গলেই একদিন বেজি দুটো পালিয়ে গেল। মল্লিবাবুর সে কী রাগ বাবা! পোষা জীব মায়া কাটিয়ে পালিয়ে গেলে রাগ হওয়ারই কথা।

    আর পোষা মানুষ, ভালবাসার মানুষ পালিয়ে গেলে? যে লক্ষ্মীছড়ি গুসকরায় গিয়ে রসবড়া ভাজছে তাকে কিছু কম পুষত নিতাই? বেজির নেমকহারামি তবু গায়ে সয়, মেয়েমানুষেরটা সয় না।

    খালধারে রামলাখনের ঘরে একটা বেজির বাচ্চা রেখে গেছে কোনও এক খদ্দের। কাণ্ডটা ভারী মজার। ব্যাটা নাকি বেজির বাচ্চাটা নিয়েই ফুর্তি করতে এসেছিল। পকেট গড়ের মাঠ। খাসির নাড়িভুড়ি দিয়ে প্যাঁজ লঙ্কার ঝাল-কটকটে করে রান্না ঘুগনি আর দিশি মাল মিলিয়ে পনেরো-বিশ টাকার খেয়ে উঠে বলল, পয়সা নেই। তখন রামলাখন বেজিটা রেখে দিল। বেজির প্রতি কোনও মায়া-দয়া নেই তার। লোকটাও আর ছাড়াতে আসেনি।

    সন্ধান পেয়ে বেজিটা বাগাতে রামলাখনকে গিয়ে অনেক তোতাই-পাতাই করেছে নিতাই। রামলাখন রাজি নয়। কেবল বলে, তোর পয়সা কোথায়? বেজি কি মাগনা?

    দেব। যত চাস দেব।

    বাকির কারবার হবে না। হঠ।

    জানিস আমার দশ বিঘে জমি আছে?

    সবাই জানে। যা না জমির এক গোছ ধানে হাত দিয়ে দেখ গেছো মাগি তোর কী হাল করে।

    চাটুজ্জে-গিন্নিকে গেছো মাগি বললি! দাঁড়া বলে দেব।

    বল গে। লাইনের এপারে কিছু করতে এলে—

    বলে জঘন্য একটা খিস্তি দেয় রামলাখন।

    শুনে কান ঢেকে ফেলে নিতাই। বলে, ছিঃ ছিঃ, মুখটা গঙ্গাজলে ধুয়ে ফেলিস রে। ওসব পাপকথা বলতে নেই।

    তবে জমির কথা তুলিস কেন? জমি কি তোর বাপের?

    আমার নামে তো।

    তাতে কী? নাম ধুয়ে জল খা গে যা।

    বেজির জন্য চাস কত বলবি তো!

    পঞ্চাশ। এক পয়সা কম হবে না।

    তাই দেব।

    নগদ ছাড়, দিয়ে দিচ্ছি।

    নগদ পাব কোথায়? কাউকে বাণ মারতে হয় তো বল, মেরে দেব।

    দেহাতিরা বাণ-টানকে একটু ভয়-টয় পায়। রামলাখনের বাপটা পুরোদস্তুর দেহাতি ছিল। কাঁচা চামড়ার মজবুত নাগরা পড়ত। মাথায় ফগে জড়াত, মোটা মার্কিনের কুর্তা পরত, আটহাতি ধুতি ব্যবহার করত। কিন্তু পাষণ্ড রামলাখনটা এ দেশের জল-হাওয়ায় শেয়ালের মতো চালাক হয়ে উঠেছে। বলল, তোর বাণের মুখে পেচ্ছাপ করি। বাণ মারবি তো গেছো মাগিকে মার গে। মুখে রক্ত উঠে যদি মরে তো বেজিটা দিয়ে দেব।

    রামলাখনের রাগের কারণ আছে। স্টেশনের গায়ে একটা গাছের গোড়া বাঁধিয়ে দিব্যি একটা জুয়ার আজ্ঞা করেছিল সে। সন্ধের দিকে কারবাইড জ্বালিয়ে আসর বসত। জমি কারও বাপের নয়, সরকারের। কারও বলার হক ছিল না। পুলিশ-টুলিশ বড় একটা আসেও না এদিকে। কেউ এসে পড়লে দু-চার টাকা দিলেই হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ একদিন পালে বাঘ পড়ল হড়াম করে। স্বয়ং সার্কেল অফিসার আর থানার ও সি এসে হাজির।

    রামলাখনকে মাস তিনেক জেলের ভাত খেতে হয়েছিল। পুলিশের একটা পোস্টও বসে গিয়েছিল স্টেশনের ধারে। সবাই বলে, কাণ্ডটা ঘটিয়েছিল তৃষা। পুলিশ তার হাতের লোক। তার পিছনে পলিটিকসওয়ালারাও আছে।

    নিতাই বলে, তা কিসে দিবি বলবি তো! বেজি জিনিসটা আমার বড় পছন্দ।

    রামলাখন উদাস গলায় বলে, আমার ভুট্টাখেতটা যদি সাতদিন কুপিয়ে চৌরস করিস তো দিয়ে দেব।

    বলে কী ব্যাটা! দিনে আট টাকার মজুর রাখলেও সাতদিনে ছাপ্পান্ন টাকা যে! ব্যাটার মাথাটাই খারাপ। নিতাইকে কাজ করতে বলছে। কাজ করা কাকে বলে তা নিতাই নিজেই ভুলে গেছে। ফাইফরমাশ করা ছাড়া তার আর ভারী কাজ আসেই না। কাজের নামে গায়ে জ্বর আসে। আর করাই বা কার জন্য? যার জন্য কাজ সেই তো কবে লম্বা দিয়েছে।

    নিতাই বলল, তোর দিন ঘনিয়েছে রে ব্যাটা! সাধুসন্নিসিকে কাজের কথা বলিস!

    তুই সাধু?

    আলবত সাধু।

    তবে চোর কে? বদমাশ কে?

    তোর কবে কী চুরি করেছি রে নির্বংশের ব্যাটা?

    অ্যাই বাপ তুলে কথা বলবি না বলে দিচ্ছি।

    ওই দেখ। বাপ তুললাম কখন? তুইই তো আমাকে চোর আর বদমাশ বললি।

    বললাম তোকী? মারবি নাকি?

    মেজাজ দেখাচ্ছিস কেন রে হারামজাদা? বেজিটা নিয়ে কথা হচ্ছে তো তাই নিয়ে কথা ক’।

    হারামজাদা বললি যে! মানে জানিস?

    মদ বেচে দু’পয়সা করেছিস বলে খুব তেল হয়েছে রে তোর। এই বলে রাখলাম, নিতাইকে খেপিয়ে কেউ সাতদিন পার করতে পারেনি। মরবি।

    ফের বুজরুকি করছিস? এটা লাইনের ওপার নয়, মনে রাখিস।

    হেঃ হেঃ করে হেসে নিতাই বলে, এই তো সেদিন জন্মালি রে লাখন। মায়ের পেটে যখন ছিলি তখন এই নিতাই এসব জায়গায় লাঠি ঘোরাত। দেহাত থেকে এসেছিস দেহাতির মতো চুপচাপ থাক।

    এই পর্যন্ত হয়েছিল। তিনদিনের দিন নিতাই মাঝরাতে গিয়ে রামলাখনের মাটির ঘরে সিঁধ দিল।

    পরদিন সকালের রোদে বেজিটা খ্যাপা নিতাইয়ের ঘরের সামনে তুরতুর করে চলে ফিরে বেড়াতে থাকে আর প্রাণ ভরে দেখতে থাকে নিতাই। ইস্পাতের একটা বন্ধু হল। বেজিটাকে এমন ট্রেনিং দেবে সে যে, ব্যাটা বাঘের গলার নলিও কেটে দিয়ে আসতে পারবে।

    নিতাই জানে বেজি খুঁজতে এ বাড়িতে আসার মুরোদ রামলাখনের নেই। মুখে যতই গেছো মাগি বলুক, সজল খোকার মাকে যমের মতো ডরায়। তাই নিতাই খানিকটা নিশ্চিন্ত।

    বেজির ঘোরাফেরা দেখতে দেখতে নিতাই অনেক তত্ত্বকথা ভাবছিল। মল্লিবাবুর ছিল দুটো বেজি, তার একটা। বড়লোকদের সব জিনিসই কিছু বেশি থাকে। কিন্তু ভগবান তা বলে বড়লোকদের তিনটে করে হাত-পা দেয়নি। তবে বড়লোক শালারা অত তড়পায় কেন?

    কথাটা ভেবে খুশিই হল সে। এখন কথাটা কাউকে বলা দরকার। ঘরে একটা পাখির খাঁচা খালি পড়ে আছে। তার বউ ময়না পুষত। বউ পালানোর পর কিছুদিন মন খারাপ থাকায় ময়নাটাকে আর দানাপানি দেওয়া হয়নি। পাখিটা মরেই যেত। যখন ধুকছে তখন তৃষা এসে নিয়ে গেল। খাঁচাটা পরে ফেরত দেয়। ময়নার জন্য নতুন মস্ত খাঁচা বানিয়ে নিয়েছে।

    বেজিটাকে ধরে খাঁচাবন্দি করে তত্ত্বকথাটা কাউকে বলতে বেরোল নিতাই।

    গ্রীষ্মকালে মাথার জটাটা খুব পাকিয়ে উঠেছে। উকুনের চিড়বিড়েনির চোটে মাথা খাবলে ঘা করে ফেলল। সেই ঘা এখন দগদগিয়ে উঠে পুঁজ রক্ত পড়ছে। চিমসে গন্ধ এমন ছাড়ে যে, নিতাই নিজেও টের পায়। বোষ্টমরা বেশ আছে। মাথা কামিয়ে ফেলে। তান্ত্রিকদেরই যত বিপদ।

    হরিশ ডাক্তার আগে জল দিলেও লোকের রোগ সারত। এখন আর পসার নেই, এই গঞ্জ জায়গায় এখন আরও দু’জন ডাক্তার হয়েছে। তবু হরিশ ডাক্তার এখনও বাজারের গায়ে ডিসপেনসারিতে হাতের থাবায় নাক ঢেকে চুপ করে বসে থাকে। কম্পাউন্ডার পর্যন্ত। নেই।

    নিতাই গিয়ে সুমুখের চেয়ারটা টেনে বসে বলল, মাথার ঘায়ের একটা ওষুধ দাও দিকিনি।

    হরিশ বেশি কথা বলে না। চেয়ে থেকে শুধু বলল, পয়সা কে দেবে?

    চিকিচ্ছের আগেই পয়সা! ডাক্তাররা কি চামারই হল দিনে দিনে!

    যা না, ওই যে সব ভাগাড়ের ডাক্তাররা এসেছে তাদের কাছে যা। কী বলে শুনে আয়।

    ওসব শুনে কী হবে? তুমি হলে এ গাঁয়ের পুরনো ডাক্তার। আমিও পুরনো লোক। তোমার আমার কি কেবল পয়সার সম্পর্ক?

    তবে কিসের সম্পর্ক? তুই আমার কোন ভাতিজা লাগিস?

    মাথার ঘায়ে আমার বলে পাগল-পাগল অবস্থা! পিছুতে লাগছ কেন বলো তো একটা মলম-টলম দাও না। ডাক্তাররা তো বিনিমাগনা কত ওষুধ পায়।

    সে তোর মতো গর্ভস্রাবের জন্য নয়।

    খুব যে বড় বড় কথা বলছ, তোমার অবস্থাও জানি।

    কী জানিস?

    তোমার রুগি জোটে না।

    হুঁ! দু’দিন সবুর কর, তারপর দেখিস জোটে কি না।

    দু’দিনে কী হবে?

    ভাগাড়ের ডাক্তাররা যখন রতনপুরে শকুন ফেলবে তখন ত্রাহি-ত্রাহি বলে এসে জুটবে সব। রুগি জোটে না! রুগি জোটে না তো তুই-ই বা কেন এসে জুটলি? বেরো!

    আচ্ছা না হয় মানছি। পুরনো চাল ভাতে বাড়ে, সবাই জানে। তোমার দাম এরা বুঝবে কি? আমরা পুরনোরা বুঝি।

    হরিশ ডাক্তার একটা শ্বাস ফেলে বলে, সুবিধে হবে না রে, অন্য জায়গায় দেখ।

    চটলে নাকি?

    চটাই তো স্বাভাবিক। সকালবেলায় তোর মুখটাই দেখতে হল!

    শাস্ত্রে কী আছে জানো?

    কী আছে?

    শাস্ত্রে আছে, বড়লোকদের তিনটে করে হাতও নেই, তিনটে করে পাও নেই। আছে?

    তবে বড়লোকদের কটা করে হাত-পা?

    দুটো করে। গরিবদের মতোই।

    এটা তো ভেবে দেখিনি।

    ভাবো। ভাবলেই টের পাবে।

    ভাবব’খন। এখন তুই বাপু গতর তোল।

    তুলছি, তুলছি। আমার হাতে মেলা সময় বলে ভালো নাকি? কাজ আমারও আছে। বলছিলাম, বড়লোকদের যদি ভগবান গরিবদের মতোই সব দিয়েছেন, তবে শালাদের অত তেল কেন?

    এটাও ভাববার কথা। জামাকাপড় ক’দিন কাচিস না বল দেখি! গন্ধে ভৃত পালায়।

    ভূত কখনও গন্ধে পালায় না গো ডাক্তার।

    তবে কীসে পালায়?

    মন্ত্রে।

    ওঃ, তুই তো আবার তান্ত্রিক!

    আলবত তান্ত্রিক। একটা মলম দাও, মাস পয়লা দাম দিয়ে দেব।

    তোর কি মাস পয়লায় বেতন হয় নাকি?

    আমার যজমান আছে, তাদের বেতন হয়।

    তোরও যজমান?

    আমাকে ভাবো কী বলো তো তোমরা, তন্ত্রটা তো ইয়ারকি নয়!

    সে জানি। কিন্তু তোর ওষুধের পয়সা না থাকলেও গাঁজার পয়সা জোটে কোত্থেকে বল দিকি?

    লোকে দেয়।

    চুরি-টুরি এখনও করিস নাকি?

    চোর কি আমার গায়ে লেখা আছে?

    চোরের গায়ে চোর লেখা থাকে নাকি?

    মলম তা হলে দেবে না?

    পয়সা দিলে দেব।

    ফুঃ! বিনা পয়সায় কত মলম চাও? ওই বেণু ডাক্তারের কাছে গেলে এখনই বাপের সুপুত্র হয়ে মলম দেবে।

    তাই যা না।

    যাচ্ছি। তুমি পুরনো লোক বলেই এসেছিলাম।

    যা যা ভাগ।

    গনগন করতে করতে নিতাইখ্যাপা বেরিয়ে এল। ওযুধ করাটা একটু শিখতে হবে। জড়িবুটি কিছু না জানলে আজকাল সাধুসন্নিসির তেমন কদর হয় না।

    বেণু ডাক্তার গঞ্জে নতুন লোক। তার ডাক্তারখানায় কিছু রুগি জোটে। আজও জুটেছে।

    দরজায় দাঁড়িয়ে নিতাই হুংকার দিল, জয় কালী! জয় কালী তারা মহাবিদ্যা সোড়শী ভুবনেশ্বরী।

    বেণু একটা ছেলের পিলে টিপে দেখছিল। বিরক্ত মুখ তুলে বলল, কী চাই?

    চাটুজ্জেবাড়ি থেকে আসছি।

    কোন চাটুজ্জে?

    চাটুজ্জে আবার এখানে ক’টা? শ্রীনাথ চাটুজ্জে, তৃষা চাটুজ্জের নাম শোনোনি?

    ও।

    বলে বেণু ডাক্তার আবার পিলে দেখতে লাগল। তারপর ওষুধের নাম লিখল, কম্পাউন্ডারকে ডেকে কাগজখানা দিল।

    ততক্ষণে নিতাই কাঠের বেঞ্চটায় জায়গা করে নিয়ে বসে ঠ্যাং নাচাচ্ছে। বসে বসে সে বেণু ডাক্তারকে দেখছিল আর ভাবছিল। কোত্থেকে এসে বেশ জুড়ে বসে গেছে। কথায় আছে বন থেকে বেরুল টিয়ে, সোনার টোপর মাথায় দিয়ে। এও হল সেই কাণ্ড।

    আপনমনে খুব একচোট হাসল নিতাই। বেণু ডাক্তার ভ্রু কুঁচকে চেয়ে তার হাসি দেখল, কিছু বলল না। নিতাই হেসে-টেসে নিয়ে বলল, হরিশ ডাক্তার কী বলে জানো? বলে, তোমরা নাকি সব ভাগাড়ের ডাক্তার।

    বেণু আবার ভ্রু কোঁচকায়। বলে, এটা গালগল্পের জায়গা নয়।

    তোমরা বাপু হুট করে বড় চটে যাও। আজকাল কারও সঙ্গে বসে দুটো কথা বলতে পারি না। সবাই ব্যস্ত, সবাই বদরাগী।

    হাতের রুগিকে ছেড়ে দিয়ে বেণু নিতাইয়ের দিকে চেয়ে বলল, কী চাই?

    মাথার ঘায়ের জন্য একটু মলম দাও তো।

    মাথাটা দেখি।

    গোরু-মোষ যেমন গুতোনোর সময় করে তেমনি মাথাটা এগিয়ে দিল নিতাই।

    বেণু ডাক্তার টাকার কথাটা আগে তুলাল না। তার মানে লোকটা খারাপ নয়। জপানো যাবে।

    অনেকক্ষণ দেখল বেণু। তারপর বলল, ওষুধ দিচ্ছি। দিন সাতেক লাগিয়ে দেখো। যদি তাতে কমে তবে একবার মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে দেখিয়ে।

    নিতাই একগাল হেসে বলে, তোমার ওষুধেই কমবে। লোকে বলে তুমি ধন্বন্তরী।

    কই, হরিশবাবু তো বলেন না!-বলে বেণু একটু হাসে।

    হরিশ আবার ডাক্তার! কলিকালে কতই হল, পুলিপিঠের ন্যাজ বেরুল।

    বেণু ডাক্তারের সত্যিই গালগল্পের সময় নেই। তবু বলল, পুলিপিঠের আবার লেজ হয় নাকি?

    ও সে এক মাতালের গল্প। মদ খেয়ে আলায়-বালায় পড়ে ছিল, তো এক ইঁদুর এসে তার মুখ শুঁকছে। খপ করে ইঁদুরটাকে চেপে ধরে ভাবল, বাঃ এ যে দিব্যি পুলিপিঠে। কিন্তু পুলিপিঠের একটা ন্যাজও’রয়েছে। তাই ভাবছে এসব কলিকালের কাণ্ডমাণ্ড আর কী!

    গল্পটা বেণু ডাক্তার জানত না। একটু হাসল। হাসি দেখে ভরসা পেল নিতাই। মানুষের মুখে হাসি সে বড় একটা দেখতে পায় না। ভারী দুর্লভ জিনিস। বলল, এরকম কত গপ্পো আছে আমার ঝোলায়। শুনতে চাও তো রোজ এসে শুনিয়ে যাব।

    কম্পাউন্ডার একটা অয়েল পেপারে মোড়া খানিকটা মলম এনে দিয়ে বলল, এক টাকা বারো আনা। দিনে তিনবার লাগাবে। সকাল, দুপুর, রাত্রি।

    কম্পাউন্ডার ছোকরা চেনা মানুষ। আর চেনা মানুষকেই নিতাইয়ের যত ভয়। তাই শুনি-না শুনিনা ভাব করে বলল, বুঝলে ডাক্তার, আমি ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়েছি। ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময় এমন টাইফয়েড হল, পরীক্ষাটাই বরবাদ।

    ও বাবা!—বেণু ডাক্তার চোখ বড় করে বলে, এইট থেকেই এক লাফে ম্যাট্রিক!

    কোথাও একটা কিছু গোলমাল হচ্ছে বুঝতে পেরে নিতাই মোলায়েম গলায় বলে, সে আমলে। হত। আজকের কথা তো নয়।

    তুমি কোন আমলের লোক, বয়স কত?

    তা তিন কুড়ি চার কুড়ি হবে।—নিতাই বোকা সাজল একটু।

    ডাক্তার হাসে। বলে, তা হলে তো মেলাই বয়স তোমার।

    আমি যখন ছোট ছিলাম তখন এ জায়গায় বাঘ ডাকত।

    কম্পাউন্ডার ছোকরা তাড়া দিয়ে বলে, পয়সাটা?

    নিতাই বিরক্ত হয়ে বলে, চুপ দে তো সতু। কাজের কথা হচ্ছে তার মধ্যে ঘ্যান ঘ্যান লাগালি। পয়সা হবে’খন। চাটুজ্জেবাড়ির পয়সা মার যায় দেখেছিস? আমার দশ বিঘে জমি আছে।

    কথার তোড়ে সতু ভড়কে পিছিয়ে গেল।

    বেণু ডাক্তার তোক খারাপ নয়। তাছাড়া পসার জমাতে হলে লোককে প্রথম প্রথম একটু খাতির করতেই হয়। তাই হাসিমুখেই বলল, ঠিক আছে, পরে দিয়ে যেয়ো। তৃষা বউদির কাছে বিলও পাঠিয়ে দিতে পারি।

    আঁতকে উঠে নিতাই বলে, না না, বউদিদিমণিকে আবার এর মধ্যে কেন? মোটে তো সাতসিকে পয়সা। গনিয়ার জঙ্গলের পূবধারে ভাঙা মন্দির খুঁড়লে সাত ঘড়া সোনার মোহর, জানো? বহুকাল আগে এক সাধু আমাকে সন্ধান দিয়ে গেছে। ভারী আলিস্যি তো আমার, তাই আজও তুলিনি। আমারটা খাবেই বা কে বলো! সন্নিসি ফকির মানুষ। তুলব-তুলব করেও তাই তুলিনি। এবার একদিন যেতেই হবে দেখছি।

    মলমটা নিয়ে বেরোতেই দেখতে পেল, সামনে বউদিমণির দোকান এয়ীর পাশের টিউবওয়েলটায় মাছির মতো ভিড় লেগেছে। আগে বাজারে পাতকো ছিল, পুকুর ছিল, একটা টিউবওয়েলও ছিল। পুকুর মজে ভরাট হয়েছে, পাতকো ভাঙা, টিউবওয়েলটার দশাও বুড়োর দাঁতের মতো নড়বড়ে। বউদিমণি এই টিউবওয়েল বসাল এই সেদিন, এখনও গায়ের সবুজ রংটা চটেনি পর্যন্ত। প্রথম-প্রথম লোকে এ টিপকলের জল নিত না। মাতব্বররা নাকি নিষেধ করেছিল। আজ ভিড় দেখে খুশি হল নিতাই। একটা হুংকার ছেড়ে বলল, জয় কালী। এই ব্যাটারা, লাইন লাগা! লাইন লাগা!

    বলে নিজেই এগিয়ে গিয়ে লোকজনকে ঠেলা ধাক্কা দিতে থাকে নিতাই, বাপের কল পেয়েছিস শালারা? ভেঙে ফেলবি যে। এই খোকা, ভর দিবি না, টিপল বেঁকে যাবে।

    লোকে হিহি করে হাসে, নিতাইয়ের কথার অবাধ্যও হয় না। যত যাই হোক, বউদিমণিরই তো কল। আর নিতাই হল বউদির ডান হাত। লোকে তাই লাইন লাগাতে থাকে। নিতাই একটু তফাত হয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে মাতব্বরি করতে থাকে, এই পদা, অমন ঝকাং ঝকাং হ্যান্ডেল মারছিস যে! বাপের জন্মে এসব সাহেবি জিনিস দেখেছিস? খাস বিলেত থেকে জাহাজে করে আনা। বলি ও রতনের মা, লাইন ভেঙে এগোলে যে বড়! কাদু, তুই হরিপদর পেছনে। এই শালা কেতল, তোর কি চান করার মতলব নাকি? কোমরে গামছা, মাথায় সপসপে তেল, হাত বালতি মগ? আঁা? চান করলে ঠ্যাং ভেঙে দেব। ইঃ, লাটসাহেব বউদির বিলিতি কলে চান মারাতে এসেছে! ভাগ, ভাগ! হুঁ হুঁ বাবা, এ কল এমন মন্তর দিয়ে বেঁধেছি কেউ বদ মতলব নিয়ে এলে কল সাপ হয়ে ছুবলে দেবে। এ হল পাতালগঙ্গার জল, যত পারিস খা, রোগ-ভোগ দূর হয়ে যাবে, গায়ে। হাতির বল হবে। ডায়াবেটিস জানিস, ডায়াবেটিস? এই জল খেলে ডায়াবেটিসও সারে।

    দুপুরের দিকে বাজারটা ফাঁকা-ফাঁকা। তারই ভিতর থেকে হঠাৎ একটা কালোপানা লোক ধা করে বেরিয়ে এল। নিতাই মাতব্বরিতে ব্যস্ত ছিল বলে দেখতে পায়নি। লোকটা এসে রক্তাম্বরখানা গলার কাছটায় চেপে ধরতেই নিতাই চেতন হয়ে দেখল, রামলাখন।

    এই শালা, কাল আমার ঘরে সিঁধ দিয়েছিল কে?

    তোর বাবা।—বলে চোখ বুজে রইল নিতাই। নিশ্চিন্তে। কারণ, সেই মুহূর্তে সে বাজারের ও প্রান্ত থেকে একটা ভটভটিয়া আসার শব্দ পেল। সময় মতোই আসছে।

    শালা, এইখানে আজই তোর লাশ নামিয়ে দিয়ে যাব।

    নিতাই চোখ বন্ধ কবে গম্ভীর গলাতেই বলল, পিপড়ের পাখা ওঠে কখন জানিস? মরার সময়। ঘোর কলি, ঘোর কলি। নইলে মাতাল বদমাশবা সাধুসন্নিসির গায়ে হাত তোলে?

    একটা খিস্তি দিয়ে রামলাখন বলে, পুলিশে সকালবেলায় খবর করেছি। কিন্তু তোক পুলিশে দেব না। নিজের হাতে বানাব।

    ভটভটিয়াটা ত্রয়ীর সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। কলের লাইন ভেঙে লোকে মারপিট দেখতে জুটে গেছে চারধারে।

    নিতাই চোখ খুলে চারদিকটা দেখে নিয়ে খুশি হল। লোকজন না জুটলে খেল কিসের? ঠান্ডা গলায় বলল, তিনদিনের মধ্যে গলায় রক্ত উঠে মরবি। যা, বাণ মেরে দিলাম। ঠিক আছে। বাণের মোকাবিলা করে নেব। এখন বল, বেজিটা কোথায়? তার আমি কী জানি?

    তুই জানিস না তো কে জানে? তোর বাপ জানে। বল।—বলে রামলাখন একটা ঠুসো দিল পেটে।

    ককিয়ে উঠে নিতাই বলে, বাপ জানে সে আমার বাপের কাছেই যা না। আমার বাপ কোথায় আছে জানিস? ভূত হয়ে মাদারপাড়ার বাঁশবনে দোল খায়। তোকেও সেখানে পাঠাব। আর তো মোটে তিনদিন।

    চড়াক করে একটা চড় পড়ল গালে। মাথাটা ঘুরে গেল একটু। গাঁজার নেশা থাকলে একটু দুধ দরকার হয়। নইলে শরীরে কিছু থাকে না। বুধিয়ার মায়ের কাছ থেকে একপো করে নিলে কেমন হয়? বদলে মন্তর দেবে ওদের। রাজি হবে না?

    নিতাই বিড়বিড় করে বলে, তুই মরবি। তোর বংশ ঝেডেপুছে সাফ হবে। ছেরাদ্দ হবে না, পিণ্ডি পড়বে না।

    মলমটা ঠেলা ধাক্কায় হাতের মধ্যেই ভচকে গেছে। হাতময় আঠা। এই অবস্থাতেও সাবধানে হাতটা তুলে মাথার ঘায়ে মলম ঘষতে ঘষতে সে হঠাৎ চেঁচায়, বোম কালী, গোলে বকাবলী। জয়

    মা! শেষ করে দে, ফিনিশ করে দে, রক্ত দিয়ে চান কর মা! মা গো!

    সরিৎবাবু বড় দেরি করছে। আবার চোখ বুজে ফেলে নিতাই। চোখের নজর লুকোনোটা ভাল অভ্যাস। তারাপীঠের এক সাধু তাকে কায়দাটা শিখিয়েছিল। বলেছিল, পাপ-তাপ করল লোককে চোখের দিকে তাকাতে দিয়ো না। চোখে সব ভেসে ওঠে। ধরা পড়ে যাবে। চোখ বুজে থেকো, মেজাজটা ঠান্ডা রেখো। বিপদ কেটে যাবে। সেই উপদেশটা আজ কাজে লাগিয়ে দিল।

    ভিড়ের ওপাশে রাস্তার ধারে সরিৎ তার মোপেড় থামিয়েছে, দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে। গোলমাল দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে মুখ কোঁচকাল।

    কী হচ্ছে রে ওখানে?

    দোকানের ছোকরা কর্মচারী শম্ভু বলে, খ্যাপা নিতাইকে রামলাখন ধরেছে। বেজি না কী চুরি করেছে বুঝি।

    রামলাখনটা কে?

    সে ওই লাইনের ওধারে ঝোপড়ায় থাকে। মহা বদমাশ।

    সরিৎ একবার ভাবল, ঝামেলায় জড়াবে না। সেজদি আবার কী না কী বলে।

    কিন্তু রামলাখন নামে লোকটা খুব গলা তুলছে। দু-চার ঘা ঝাড়লও। সরিতের রক্তটা একটু চনমনে হয়ে ওঠে। নিতাই চোর-ছ্যাঁচড় যা-ই হোক, সে চাটুজ্জেবাড়ির আশ্রিত। তার ওপর বাজারি মার পড়লে দিদিরও অপমান।

    সরিৎ মোপেড় থেকে নেমে রাস্তাটা চকিত পায়ে পার হল।

     

    বাবা আজকাল তাকে ঘরের চাবি দিয়ে যায়। আগের মতো বাবা আর রাগী নেই। না, কথাটা ভুল হল। বাবা এখন বরং আগের চেয়ে আরও বেশি রাগী হয়ে গেছে। কিন্তু সজলের ওপর বাবা আজকাল একদম রাগে না।

    বাবার ঘরে ঢুকে সজল আজকাল ইচ্ছেমতো জিনিসপত্র হাঁটকায়। বাবা কিছু বলে না। মাঝে মাঝে বলে, আমি যখন থাকব না তখন তুমি এ ঘরটায় থেকো।

    তুমি কোথায় যাবে?

    কোথাও চলে যাব।

    কেন?

    এখানে ভাল লাগে না।

    আমারও লাগে না। আমাকে রামকৃষ্ণ মিশনের হোস্টেলে পাঠাবে?

    সে তোমার মা জানে।

    মাকে তুমি বলো না!

    কেন হোস্টেলে যেতে চাও?

    হোস্টেলে অনেক বন্ধু পাব।

    কেন, এখানেও তো তোমার অনেক বন্ধু। পাঠশালার মাঠে বিকেলে ওই যাদের সঙ্গে ফুটবল খেল।

    হ্যাঁ, ওরা আবার বন্ধু নাকি? মা তো আমাকে বাইরের কারও সঙ্গে মিশতে দেয় না, যদি আমি খারাপ হয়ে যাই। তাই সব ভাল ভাল ছেলেদের সঙ্গে মা বন্দোবস্ত করেছে, তারা যদি বাড়িতে এসে আমার সঙ্গে খেলে তা হলে রোজ ভাল টিফিন খাওয়াবে।

    শ্রীনাথ অবাক হয়ে বলে, সে কী!

    সজল হি হি করে হাসে। বলে, একটা ছেলেও ভাল করে শট করতে জানে না। একটা ছেলের সঙ্গেও আমার তেমন ভাব নেই। শুধু খাওয়ার লোভে পেটুকগুলো রোজ খেলতে আসে।

    রাগে ক্ষোভে শ্রীনাথের মুখটা কেমনধারা হয়ে গেল। প্রায় কাপা গলায় বলল, শাসন তা হলে এত দুর গেছে।

    তুমি ভেবো না বাবা, আমি স্কুলে অন্যসব বন্ধু পাই।

    কিন্তু এ রকম ভাড়া করা বাছাই ছেলেদের সঙ্গে মিশলে যে মনের দিক থেকে তুমি পঙ্গু হয়ে যাবে।

    কথাটার মানে বুঝল না সজল; কিন্তু আন্দাজে বুঝল। বলল, সেইজন্যই তো হোস্টেলে যেতে চাই। যেতে দেবে, বাবা?

    শ্রীনাথ একটু ভেবে মাথা নেড়ে বলে, আমি তোমাকে যেতে দেওয়ার মালিক নই।

    তা হলে আমি তোমার সঙ্গে যাব।

    শ্রীনাথ হেসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। গাঢ় স্বরে বলে, সেও তোমার মা জানে। তোমার মায়ের হাত থেকে কেউ পালাতে পারে না। তুমিও পারবে না।

    আর তুমি?

    আমি পারব। একভাবে না পারি অন্যভাবে পারব।

    অন্যভাবে কীরকম বাবা?

    সে তুমি বুঝবে না। তবে আমি যখন থাকব না তখন এই খোলামেলা ঘরখানায় তুমি এসে থেকে। আমার বাগানটা দেখো। বাগান করা খুব ভাল। প্রকৃতির মতো এমন শিক্ষক আর নেই।

    বাবার কথাগুলো একটু অদ্ভুত লাগে বটে, কিন্তু বাবা বরাবরই একটু এ রকমই তো। সজল তাই বাবাকে নিয়ে বেশি ভাবে না। তবে ঘরখানা তার খুব ভাল লাগে। সুযোগ পেলেই এসে হানা দেয়। হাঁটকায়।

    সেদিন সকালের পড়া থেকে ছুটি পেয়েই চলে এল বাবার ঘরে। গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। অগাধ অফুরন্ত দুপুর সামনে। বাবার ঘর থেকে ক্ষুরটা গোপনে নিয়ে বেরিয়ে এল সজল। বিশাল বাগানের এদিক-সেদিক ঘুরতে ঘুরতে চলে এল নিতাইয়ের ঘরে।

    সামনে ঝিম মেরে ঘুমোচ্ছে ইস্পাত। ঝোপড়ার দরজাটা বন্ধ। ঠেলতেই ঝাঁপের দরজা খুলে যায়।

    নিতাইদা আছো?

    নেই। তবে একটা অদ্ভুত জিনিস রয়েছে। পাখির খাঁচায় ছোট্ট একটা বেজি।

    সজল খাঁচার গায়ে হাতের চাপড় দিতেই বেজিটা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। বেজি সাপ মারে শুনেছে সজল। কখনও দেখেনি। সে খাঁচাটা দোলাতে থাকে। এখন একটা সাপ এনে খাঁচাটার মধ্যে ছেড়ে দিলে দারুণ হত।

    ভাবতে ভাবতেই ফটকের দিকে একটা গোলমাল শুনতে পেল সজল।

    ছোটমামা কাকে যেন মারতে মারতে আর গালাগাল দিতে দিতে টেনে আনছে। বলছে, চল শালা, তোর বেজি যদি খুঁজে না পাস তবে পুঁতে ফেলব।

    দরজায় দাঁড়িয়ে সজল দেখল। লোকটা রামলাখন। মামা খুব মারছে রামলাখনকে। চেন দিয়ে গলাটা পেঁচিয়ে ধরে রেখেছে এক হাতে। মামার গায়ে দারুণ জোর। দেখে একটু খুশির হাসি হাসে সে। গায়ের রক্ত ছলাত-ছলাত করে।

    বেজির ব্যাপারটা বুঝতে তার এক পলকও লাগেনি। চকিতে ঘরে ঢুকে খাচাটা নিয়ে সে বেরিয়ে আসে। তারপর অজস্র ঝোপঝাড়ের মধ্যে ঢুকে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }