Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৭. নিজের ঘরে দু’জনকে বসাল তৃষা

    নিজের ঘরে দু’জনকে বসাল তৃষা। দীপনাথ চেয়ারে, মণিদীপা তৃষার পাশে বিছানায়।

    মণিদীপা আগের দিন যে পোশাক পরে এসেছিল তা তৃষার তেমন পছন্দ হয়নি। আজ মণিদীপার পরনে শাড়ি। চুলে নতুন করে ঘঁট দেয়নি বলে বব চুলও অনেক লম্বা হয়ে কাঁধ ছাড়িয়েছে। শুধু কপালের দু’পাশে কয়েকগাছি চুল ছাঁটা। সেগুলো সবসময়ে দু’দিকে ঝাপটার মতো দোলে। সিঁথিতে সিদুর না থাকায় দীপনাথের সঙ্গে ওকে যে-কেউ প্রেমিক-প্রেমিকা বলে গুলিয়ে ফেলবে। বয়সটাও কম। তার ওপর চেহারায় খুকির ছাপ প্রবল।

    তৃষা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যা দেখার দেখে নেয়। বলল, আগের দিন কিন্তু বলে গিয়েছিলেন খুব তাড়াতাড়ি আবার আসবেন। আসতে কিন্তু বছর ঘুরে গেল।

    পথটা ঠিক চিনি না তো! ট্রেনে আগেরবার আসিনি। নইলে ঠিক চলে আসতাম। একা কেন? দীপুই তো আনতে পারত।

    ওঁর কত কাজ!—ছদ্মগাম্ভীর্যে মণিদীপা বলে, কতদিন ধরে সাধাসিধি করে আজ তবু সময় হল। আপনার এই খামারবাড়িটা এত ফ্যান্টাসটিক যে, আমার বারবার এ জায়গাটার কথা মনে পড়ে।

    তৃষা এই প্রশংসায় একটু আনমনা হয়ে গেল। বলল, জায়গাটা তো এমনিতে সুন্দর হয়নি। কত ভালবাসা এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার। লোকে কেবল বাইরে থেকে দেখে, এ বাড়ির মালিকদের কত টাকা।

    মণিদীপা তৃষার এই ভাবান্তর লক্ষ করল না। সে আলতো প্রশ্ন করল, আচ্ছা আপনি কি জোতদার?

    জোতদার! কই কখনও কথাটা ভেবে দেখিনি তো! না বোধ হয়, আমি জোতদার-টোতদার নই।

    তবে জোতদার কাদের বলে?

    মণিদীপাকে তৃষার হাতে ছেড়ে দিয়ে দীপনাথ বাইরে এসে দাঁড়ায়। খাঁ খাঁ করছে দুপুর। গ্রীষ্ম ও বর্ষার রেশ এখনও কেটে যায়নি। তবু এই বারান্দায় দাঁড়ালে আকাশের পেঁজা মেঘ, উঠোনের ধারে কিছু কাশফুল আর রোদের রং দেখলে শরৎকাল টের পাওয়া যায়। খানিকক্ষণ প্রকৃতির দিকে চেয়ে দীপনাথ মাথা নিচু করে বারান্দার পাশে জুতোর রবার সোল ঘষতে থাকে। বউদিকে আজ একটু অন্যরকম লাগছে না? একটু যেন বিব্রত! একটু অন্যরকম।

    দীপনাথ সিঁড়ি ভেঙে নেমে উঠোন পেলোল। বাবার ঘরের দরজা আবজানো। নিঃশব্দে ঢুকে দেখল, তিনি কাত হয়ে শুয়ে ঘুমোচ্ছেন।

    তাকে না জাগিয়ে বেরিয়ে এল দীপ। এ ঘর সে ঘর ঘুরে কাউকে না পেয়ে সে এল ভাবন-ঘরে। দরজা আবজানো দেখে ঠেলে ঢুকেই থমকে গেল সে। মেজদা! কী হয়েছে মেজদার?

    চোখের পাতা মেলে অনেকক্ষণ ঘোর-ঘোর আচ্ছন্ন ভাবটায় ড়ুবে থাকে শ্রীনাথ। তারপর চেতনায় ফেরে।

    মেজদা!

    দীপু!

    তোমার কী হয়েছে?

    আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবি, দীপু?

    কোথায় যাবে?

    পালিয়ে যাব। এরা কী ভীষণ ডেঞ্জারাস তা জানিস না। এরা মানুষ মারে, বোমা বানায়।

    এরা কারা?

    তৃষা, সরিৎ।

    কী যা-তা বলছ?

    কেউ বিশ্বাস করবে না, জানি। তবু বলছি, দে আর মার্ডারার্স। সজলকে জিজ্ঞেস করিস, বোমা বানায় কি না।

    বোমা বানানো অত সোজা নয়। আর বোমা দিয়ে কী হবে?

    কাল রাতে সরিৎ এ বাড়িতে বোমা ফাটিয়েছে।

    সরিৎ?

    তোর বউদি অবশ্য বলেছে, দুটো ছেলে রাতের বেলা তাকে খুন করতে এসেছিল। পুলিসকেও তাই বলেছে। পরে সজলের কাছ থেকে জেনেছি, আসলে বোমা বানায় সরিৎ নিজেই। তৃষা তার জন্য টাকা দেয়।

    একটু বিরক্তির গলায় দীপনাথ বলে, আচ্ছা, সেসব কথা পরে হবে। তোমার কী হয়েছে আগে বলো তো!

    ওসব শুনে আজ সকালে আমি কেমন নার্ভাস হয়ে কোলাপস্ করলাম।

    শোনো মেজদা, এখনও তোমার শ্বাসে অ্যালকোহলের গন্ধ আসছে। নার্ভাস তুমি এমনিতে হওনি, মদ খেয়ে কোলাপ করেছ।

    না, না। বিশ্বাস কর। সে শুধু খোয়াড়ি ভাঙতে একটু খেতে হয় বলে খাওয়া। আসল কারণ অন্য।

    অনেক আগেই তোমাকে ডাক্তার দেখাতে বলেছিলাম। আমার সন্দেহ ভিতরে ভিতরে তোমার ডায়াবেটিস পাকিয়ে উঠছে।

    দূর! মদ খেলে কোনও অসুখ হয় না।

    এ কথাটা মাতাল বন্ধুদের কাছে শিখেছ। কথাটা কিন্তু সত্যি নয়।

    মরলে মরব। রামে মারলেও মারবে, রাবণে মারলেও মারবে।

    রাবণটা কে?

    আমাকে এখান থেকে নিয়ে যা, দীপু। আই বেগ টু দী।

    শেষ কথাটা ছেলেবেলায় পড়া ইংলিশ সিলেকশনের কোনও পাঠ্যাংশ থেকে মুখস্থ বলল শ্রীনাথ। দীপনাথ অবশ্য হাসল না। গম্ভীর মুখে বলল, নিজের কী অবস্থা করেছ যদি নিজের চোখে একবার দেখতে!

    এরা আমাকে স্লো পয়জন করেনি তো, দীপু?

    তোমাকে কে স্লো পয়জন করেছে তা কি জানো না?—দীপনাথ সামান্য ঝঝ মিশিয়ে বলে। বলেই হেসে ফেলে। শ্রীনাথের দুর্বল ন্যাতানো একটা হাত মুঠোয় নিয়ে বলে, অন্যের ঘাড়ে কেন দোষ চাপাচ্ছ? আমি তো তোমাকে চিনি।

    তোরা সবসময়ে কেন আমারই দোষ দেখিস? আর কোনও দিকে তাকাস না কেন? একটা কালো মেয়েমানুষ এতগুলো লোককে কী করে হিপনোটাইজ করে রাখে বল তো?

    তোমাকে তো পারেনি!

    আমাকে পারা খুব সোজা নয়। আই হ্যাভ ড্রাংক লাইফ টু দি লিজ।

    এটাও কোটেশন। কিন্তু দীপনাথ এবারও হাসল না। বলল, তোমাকে পারেনি। বুলুকেও পারেনি।

    বুলুকে গুন্ডা দিয়ে মার খাইয়েছিল কে জানিস?

    আমি হলেও তাই করতাম।

    নিজের মায়ের পেটের ভাইকে গুন্ডা দিয়ে মার খাওয়াতিস?

    না। নিজের হাতেই মারতাম। বউদি মেয়েমানুষ নিজের হাতে মারতে পারেনি বলে অন্যকে দিয়ে মার দিয়েছে।

    হতাশ শ্রীনাথ চোখ বুজে বলে, তোরা অন্ধ। তোরা কোনওদিন টুথটাকে ধরতে পারবি না। ও তোদের জাদু করে রেখেছে।

    বউদি যদি জাদু চালিয়ে থাকে তবে তুমিও কিছু পালটা জাদু চালাও না! কে বারণ করছে?

    ও হচ্ছে লেডি ম্যাকবেথ। অ্যামবিশাস, ক্রুয়েল..

    সব বুঝলাম। তবু বউদি তার কর্তব্য করে যাচ্ছে। এ বাড়ির দরজা এখনও আমাদের মুখের ওপর বন্ধ করে দেয়নি। বাবাকে আমরা কোনও ভাই-ই দেখিনি। বউদি দেখছে। তোমার লজ্জা করা উচিত, মেজদা।

    শ্রীনাথ চুপ করে থাকে। দীপনাথ খানিকটা সময় ছাড় দিয়ে বলে, কাল রাতে বোমা কীভাবে ফাটল তা জানো?

    না। তৃষা মাঝরাতে এসে ঘুম থেকে তুলে আমার কাছেই জানতে চেয়েছিল বোমাটা কে বা কারা মেরেছে।

    তার মানে বউদি তোমাকে সন্দেহ করে!

    কে জানে! হয়তো করে।

    তুমি জানো কিছু?

    কী জানব? সকালে সজলের কাছে শুনে বুঝলাম, সরিৎ বোমা বানায়। হয়তো রাতে গোপনে বানাচ্ছিল, অ্যাকসিডেন্টালি ফেটে গেছে।

    তাই যদি হয় তবে বউদি পুলিসে খবর দেবে কেন? খবর দিলে তো নিজেদেরই ধরা পড়ার সম্ভাবনা। পুলিস বাড়িটা তন্ন তন্ন করে দেখবেই।

    শ্রীনাথ যুক্তিটা বোঝে। তবু মিনমিন করে বলে, কাল রাতে কী হয়েছিল তা জানি না। তবে সরিৎ যে বোমা বানায়…

    দীপনাথ একটু বিরক্ত হয়ে বলে, সজলের সব কথা বিশ্বাস কোরো না। ও বলে বেড়ায় আমি নাকি কুংফু জানি, পঞ্চাশটা লোককে একা ঘায়েল করতে পারি। আসলে সজল একটু রোমান্টিক, অনেক কিছু কল্পনা করতে ভালবাসে।

    সরিৎ এক নম্বরের গুন্ডা, তুই জানিস না। স্টেশনের কাছে দুটো ছেলেকে চেন দিয়ে এমন মেরেছিল!

    তুমি সব কিছুকে গুলিয়ে ফেলছ। সরিৎ গুন্ডা হলেই বা তোমার কী? আর বউদিকেই বা ওর সঙ্গে এক করছ কেন?

    তোদের কিছুই বোঝানো যাবে না। তারা বুঝতে চাস না।

    তোমারই বা বেশি বোঝার দরকার কী? দিব্যি খাচ্ছ, দাচ্ছ, চাকরি করছ, বউদিকে বেশি না ঘাটালেই হল।

    তোরা তো তা বলবিই।

    বোমাটা কোথায় পড়ল জানো?

    না। আমি ভিতরবাড়িতে যাইনি। শুনছি, তৃষার শোওয়ার ঘরের বারান্দায়।

    কী সর্বনাশ!

    বোমা পড়া নিশ্চয়ই বিপজ্জনক। কিন্তু তার চেয়েও ভয়ের কথা, তৃষা বলেছে বোমা যারা ফেলেছে তাদের জ্যান্ত ধরতে না পারলে মরা অবস্থায় ধরবে। তৃষা যা বলে তা করে।

    জানি, মেজদা।

    ও কেমনধারা মেয়েমানুষ?

    দীপনাথের একবার বলতে ইচ্ছে হয়েছিল তুমি যেমনধারা পুরুষ। কিন্তু তা বলল না দীপনাথ। সে লক্ষ করল, অসুস্থ শ্রীনাথের চোখে-মুখে আতঙ্কের গভীর একটা ছাপ পড়েছে। তাই একটু কষ্ট হল দীপনাথের। সে বলল, তুমি মনে মনে বউদির একটা ভয়ংকর চেহারা বানিয়ে নিয়েছ বলে কষ্ট পাচ্ছ। আসলে হয়তো মানুষটা অত ভয়ংকর নয়।

    তুই কিছু জানিস না।

    তা হবে। কাল রাতে বউদিকে কেউ বোমা মেরেছিল এ খবর বউদি নিজে কিন্তু আমাকে বলেনি। লোকে খামোখা বউদিকে কেনই বা বোমা মারবে তাও আমি বুঝি না।

    খামোখা নয়। ওকে এখানকার কেউই পছন্দ করে না।

    পছন্দ যদি না করে, তবে সেটা বউদির দোষ নয়।

    তোর মাথাটা তৃষা একেবারে চিবিয়ে খেয়েছে। তোরা তৃষার ভাল দেখ, আমার তাতে কী? শুধু আমার জন্য একটু আলাদা ব্যবস্থা করে দে। আমি ওর কাছ থেকে দূরে চলে যেতে চাই।

    বিরক্ত দীপনাথ বলল, এখন একটু ঘুমোও, মেজদা।

    শোন যাস না। রাতে আমার কাছে কে থাকবে?

    তার মানে?

    বাতে কারও আমার কাছে থাকা দরকার। আমি তৃষা আর সরিৎকে বিশ্বাস করি না।

    তোমার মাথাটা গেছে, মেজদা। কী আবোল-তাবোল বকছ?

    মোটেই আবোল-তাবোল নয়। যখন আমার ভালমন্দ একটা কিছু ঘটে যাবে তখন বুঝবি।

    বলতে বলতে শ্রীনাথ কয়েকবার উঠে বসার চেষ্টা করল। কিন্তু ক্লান্তিতে পারল না। বালিশে আবার মাথা রেখে বলল, আমার কোনও অসুখ ছিল না। আজ সকালের চা-টা একটু তেতো তেতো লেগেছিল। চা খাওয়ার পর থেকেই–

    দীপনাথ হাসল। বলল, তোমাকে মেরে বউদি বা সরিতের কী লাভ?

    শত্রুর শেষ রাখতে নেই।

    তুমি কি বউদির শত্রু?

    ও তত তাই মনে করে।

    কী করে বুঝলে?

    আমি বুঝব না তো কে বুঝবে? কাল রাতে যখন তৃষা আমার কাছে এসেছিল তখন মাথাটা গোলমেলে ছিল বলে ওর কথার অর্থ ধরতে পারিনি। এখন ভেবে দেখলাম, আসলে বোমা মারার ব্যাপারে ও আমাকেই সন্দেহ করছিল।

    দীপনাথ একটা মস্ত শ্বাস ছাড়ল। তারপর ঘড়ি দেখে বলল, তুমি আরও কয়েক ঘণ্টা ঘুমোও তো! ঘুমোলে উত্তেজনা, ভয় সবই কমে যাবে।

    কিন্তু আজ রাতে আমার কাছে কে থাকবে?

    খ্যাপা নিতাইকে ডেকে এনে মেঝেতে শুইয়ে রেখো, যদি একা নিতান্তই ভয় পাও।

    নিতাই? নিতাই তো তৃষার লোক! এ বাড়িতে আমার লোক কেউ নেই, সবাই তৃষার। আমাকে তুই নিয়ে যা। তোর মেসে জায়গা হবে না?

    দীপনাথ মেজদার মুখের ওপর কোনও কঠিন কথা বলতে পারল না। লোকটা ভয়ে সন্দেহে এত কাতর যে বেশি কিছু বললে আবার ভেঙে পড়বে।

    দীপনাথ তাই মন-ভোলানো গলায় বলল, এ অবস্থায় তো যেতে পারবে না। শরীরটা সুস্থ হোক, আমি এসে নিয়ে যাব।

    ঠিক বলছিস?

    ঠিকই বলছি।

    কিন্তু যদি স্লো পয়জন করে থাকে তবে সুস্থ হব কী করে? আর হয়তো বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারব না।

    পারবে। একটু রেস্ট নাও, তা হলেই পারবে।

    ওই কাঠের আলমারিতে একটা ব্র্যান্ডির বোতল আছে, এনে দে তো।

    এই শরীরে ব্র্যান্ডি খাবে?

    না খেলে যে ঘুম আসবে না। ডাক্তার একটা বোধহয় ঘুমের ওষুধ দিয়েছিল সকালে। তার এফেক্টটা কেটে গেছে। দুশ্চিন্তায় মাথাটাও গরম।

    দীপনাথ উঠল। ইচ্ছে ছিল ব্র্যান্ডির বোতলটা বের করে ইচ্ছে করেই হাত থেকে ফেলে দিয়ে ভাঙবে। কিন্তু কাঠের আলমারিটা খুলে বোতলটা খুঁজে পেল না সে। বলল, কই? নেই তো!

    ভাল করে খুঁজে দেখ। ওপরের তাকে, ডানদিকে জামাকাপড়ের ভাঁজে ঢোকানো আছে।

    দীপনাথ খুঁজল। পেল না। বলল, না নেই।

    তাহলে সরিয়ে নিয়েছে। ওরা সব খোঁজ রাখে।

    কেউ সরিয়ে নিলে তোমার ভালই করেছে। এ শরীরে খেলে তুমি বাঁচবে না।

    এমনিতেও মরব। কথাটা তা নয়। ওরা আমার কিছুই গোপন বা ব্যক্তিগত থাকতে দেবে না। কেন যে আমার পিছনে লেগেছে! তুই মেসে আমার জন্য আজই একটা সিট বুক করবি গিয়ে।

    করব। কিন্তু তোমার বাগান?

    বাগান! —শ্রীনাথ হতাশায় চোখ বুজে বলে, সেই গিরিশবাবুর মতো বলতে হয়—আমার সাজানো বাগান শুকিয়ে গেল।

    আবার কোটেশন শুনে দীপনাথ হাসল। বলল, বাগান শুকোবে কেন? তুমিই শুকিয়ে যাচ্ছ, মেজদা। এখন ঘুমোও।

    বৃন্দা কোথাও গিয়েছিল। এখন ঘরে এসে ঢুকেই বলল, এ কী! বাবু জাগলেন কখন?

    দীপনাথ একটু বিরক্তির সঙ্গে বলে, তুমি রুগির দেখাশুনো করছ নাকি?

    আজ্ঞে হ্যাঁ।

    কোথায় গিয়েছিলে? এরকম একা ঘরে ফেলে যাওয়া উচিত হয়নি।

    বড় গোরুটা খোঁটা উপড়েছে শুনে ধরতে গিয়েছিলাম। বড় তেজি গাই। অন্য কাউকে মানে না।

    আর যেয়ো না।

    আচ্ছা। বাবু, একটু দুধ-টুধ কিছু আনি?

    শ্রীনাথ আতঙ্কের সঙ্গে বলে, না, না। আমি কিছু খাব না। তুই কাজে যা, আমি ভাল আছি।

    মা’ঠানকে একটা খবর দিই গে?

    কোনও দরকার নেই। আমি এখন ঘুমোব।

    বলে শ্রীনাথ পাশ ফিরে কোলবালিশ আঁকড়ে চোখ বোজে। আত্মরক্ষার এর চেয়ে ভাল পদ্ধতি সে আর খুঁজে পায় না।

    দীপনাথ মাথা নেড়ে ইঙ্গিতে বৃন্দাকে ঘরের বাইরে যেতে বলে। বৃন্দা চলে গেলে শ্রীনাথের কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে বলে, কোনও ভয় নেই। ঘুমোও।

    ঘুম আসবে না। দেখ তো টেবিলে ঘুমের কোনও ওষুধ আছে কি না।

    দীপনাথ টেবিলে একটা ট্রাংকুইলাইজারের ছোট শিশি পেয়ে গেল। একটা বড়ি শ্রীনাথকে গিলিয়ে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করল সে। শ্রীনাথ খুবই অবসন্ন ছিল। সকালের ঘুমের ওষুধের ক্রিয়াও রয়েছে ভিতরে। ফলে দশ মিনিটের মধ্যে শান্তভাবে ঘুমিয়ে পড়ে।

    দীপ বেরিয়ে এসে দরজাটা টেনে দেয়। তার ভ্রু কোঁচকানো, মনটা ভার। মানুষের এরকম ভয়ংকর মানসিক যন্ত্রণার চেহারা সে খুব কমই দেখেছে, যতটা শ্রীনাথের মধ্যে দেখা গেল। শ্রীনাথের আর যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকু কুরে কুরে খেয়ে নেবে ওই অবিশ্বাস আর সন্দেহ।

    ভেতরবাড়িতে যাওয়ার রাস্তার ধারে একটা গাছতলায় ঠেস মেরে বসে রইল দীপনাথ। সাড়ে চারটের সময় ফটক খুলে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে সজল ঢুকল।

    সজল! —দীপনাথ কোমল স্বরে ডাকে।

    বড়কাকা!-সজলের ক্লান্ত মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, কখন এলে?

    বেশিক্ষণ নয়।

    সজল এসে তার হাত ধরে বলে, ভিতরে চলল! মা রোজ তোমার কথা বলে।

    তোমার মার সঙ্গে দেখা হয়েছে।

    বাবার খুব অবস্থা খারাপ, জানো? আজ সকালে বাবার স্ট্রোক হয়েছে। ডাক্তার বলেছে, অবস্থা এখন-তখন।

    তোমার বাবার সঙ্গে এইমাত্র কথা বলে এলাম।

    সজল অবশ্য এ কথায় অপ্রতিভ হয় না। হাসে। বলে, বাবা ভীষণ ভিতু।

    তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে, সজল। তোমার জন্যই আমি অপেক্ষা করছিলাম।

    কী কথা?

    তুমি কি তোমার বাবাকে বলেছ যে, সরিৎ বোমা বানায়?

    বোমা! কই, না তো!

    বলোনি?—দীপনাথ একটু অবাক হয়।

    সজল ঠিক বুঝতে পারছিল না, সত্য কথাটা বলা উচিত হবে কি না। কিন্তু বড়কাকা তার ভীষণ প্রিয়। এই কাকার কাছে তার সব সত্যি কথা বলে দিতে ইচ্ছে করে। সে চোখ নামিয়ে বলে, আমি

    আসলে বাবাকে একটু ভয় খাওয়ানোর জন্য বানিয়ে বলেছিলাম।

    কাজটা ভাল করোনি। তোমার বাবা খুবই ভয় পেয়েছেন। তা ছাড়া কথাটা পাঁচ কান হলে তোমার মা আর ছোটমামাও বিপদে পড়বেন। তুমি কি তা চাও?

    আমি আর কাউকে বলিনি।

    বোলো না। এখন যাও হাত-মুখ ধুয়ে বাবার কাছে গিয়ে একটু বোসো। বাবাকে বোলো, তুমি বোমা বানানোর কথাটা বানিয়ে বলেছ।

    বাবা যদি রাগ করে?

    করবে না। বরং খুব খুশি হবে। আমিও ও-ঘরেই থাকব’খন, ভয় নেই।

    আচ্ছা।-বলে মাথা নেড়ে চলে গেল সজল।

    দীপ উঠে বাগানের মধ্যে হেঁটে বেড়াতে লাগল খানিক এলোমেলো উদ্দেশ্যহীনভাবে। অভিশাপ বলে কিছু মানে না সে। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, বড়দা মল্লিনাথের এই গোটা বাড়ি এবং সম্পত্তির ওপর একটা অভিশাপ ছায়া বিস্তার করে আছে শকুনের মতো। এখানে আসার আগে অবধি শ্রীনাথ বা তৃষা সুখেই ছিল তো! যেই এ বাড়ির মৌরসি পাট্টা পেল তখন থেকে জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠল ওদের জীবন। দুর্বহ হল বেঁচে থাকা। এখন তার সন্দেহ হচ্ছে, শ্রীনাথ হয়তো খুব বেশিদিন বাঁচবেও না। বড়দা মল্লিনাথ গেছে, এখন শ্রীনাথও যদি যায় তবে সেটা বড় দুঃখের হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }