Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬৬. গীতা পড়তে পড়তে

    গীতা পড়তে পড়তে মাঝে মাঝে থামে প্রীতম, কোনও কোনও শ্লোক ব্যাখ্যা করে মাকে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু বেশিক্ষণ পারে না। হাঁফ ধরে আসে। অবসন্ন লাগে।

    আজ থাক, আবার কাল পড়িস। বলে মা হাত থেকে ছোট্ট গীতাটা খসিয়ে নিয়ে চলে যায়।

    প্রীতম চুপ করে বসে থাকে। বেলা বাড়ে। প্রীতমের ঘরে যেতে ইচ্ছে করে না। আনন্দের উৎস থেকে যে বান এসেছিল তা আস্তে আস্তে সরে যায়। কিন্তু তীরভূমিতে নতুন পলিমাটির স্তরও রেখে যায় সে। আনন্দের রেশ অনেকক্ষণ তার সঙ্গে থাকে পোষা বেড়ালের মতো।

    সামনে চেয়ে ছিল প্রীতম। দেখার তেমন কিছু নেই। রাস্তার ওধারে মাঠ বাড়িঘর, অনেক কঁঠাল গাছের ভিড়। কিন্তু এই তুচ্ছ দৃশ্যের মধ্যে এক আনন্দের আলো খেলা করে আজ। সদর স্ট্রিটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রবি ঠাকুরের যেমন একদা হয়েছিল, তেমনই কিছু কি এ? একটা ডিম ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে এক বিস্ফারিত বিস্ময়?

    গরম জল করে মা যখন তাকে ধরে ধরে স্নানঘরে নিয়ে গেল তখনও তার মাথা আচ্ছন্ন হয়ে আছে, চোখে ঘোর। একটা জলচৌকিতে বসিয়ে মা তার গায়ে যখন কুসুম-গরম জল ঢেলে দিচ্ছে তখন সে স্পষ্টই অনুভব করে তার গা বেয়ে নেমে যাচ্ছে অজস্র নিঝরিণী। ধুইয়ে নিয়ে যাচ্ছে তখন সমস্ত অসুখ। শরীরে আজ জীবাণুদের নিত্যকার কোলাহল নেই, মৃত্যুভয় নেই। পৃথিবীর দীন দরিদ্রতম ভিক্ষুক বা হতভাগ্যও মরার আগে কিছুক্ষণ সুখভোগ করে প্রকৃতির নিয়মে। তারও কি এই শেষ সুখ? হ্যাঁ, ভেবেচিন্তে তাই মনে হয়। হোক। এখনই যদি তার মৃত্যু হয় তবে তার কোনও দুঃখ নেই। অজানা পথ ধরে সে এক আনন্দধামে চলে যাবে। মৃত্যু যদি এ রকম হয় তবে কী সুন্দর!

    ছেলেবেলার কয়েকজন বন্ধু প্রায়ই দেখা করতে আসে। বহুকাল এই সব বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক চুকেবুকে গেছে। মানসিকতারও বিশাল ফারাক ঘটেছে। এখন এরা আর বন্ধু নয়, চেনা মানুষ মাত্র। প্রথম প্রথম ওরা দেখা করতে এলে বলার মতো কথা কিছুক্ষণের মধ্যেই ফুরিয়ে যেত। মফসলের মানুষের সঙ্গে কলকাতার লোকের তফাত তো থাকবেই। কিন্তু প্রথম দিককার সেই দূরত্ব কমে এসেছে এখন। বন্ধুদের সঙ্গে বলার মতো কথা সে অনেক খুঁজে পায়।

    আজ বিকেলে এল ধীরাজ। ধূপকাঠির একটা ব্যাবসা আছে তার। রবীন্দ্রনগরের শেষ প্রান্তে খুব দীনদরিদ্র একটা বাড়ি আছে তার। বউ, দুই মেয়ে আর মা নিয়ে সংসার। সবাই সারাদিন ধূপকাঠি তৈরি করে, ধীরাজ সাইকেলে করে তা বিক্রি করতে বেরোয়। খুবই কাহিল অবস্থা। দিন চলে না।

    এই দীনহীন ধীরাজকে বড় ভাল লাগে প্রীতমের। একটা দেশলাই কেনার আগেও ধীরাজকে দু’বার চিন্তা করতে হয়। এই যে কষ্টের বেঁচে থাকা, তা আস্তে আস্তে ধীরাজের সব অহংবোধ শুষে নিয়ে ভারী নরম এক মানুষ করে তুলেছে তাকে।

    আজ বিকেলে ধীরাজ আসতেই প্রীতম একেবারে বোকা গেঁয়ো মানুষের মতো সরলভাবে বলে উঠল, বুঝলি ধীরাজ, আমার আজ খুব আনন্দ হচ্ছে। ভীষণ আনন্দ।

    সাইকেলটা বারান্দার নিচে দাঁড় করিয়ে উঠে এল ধীরাজ। সাইকেলের হ্যান্ডেলের দু’ধারে দুটি প্রকাণ্ড থলে ভরতি ধূপকাঠি! ধীরাজ কাছে এসে বসলেই তার গা থেকে বিচিত্র নানা আতর বা মশলার সুবাস পাওয়া যায়।

    আনন্দের কথায় ধীরাজের মুখেও ভারী খুশির হাসি দেখা গেল। মুখোমুখি চেয়ারে বসে বলল, আনন্দ হচ্ছে? তার মানে তুমি সেরে উঠছ। এ খুব ভাল লক্ষণ।

    সেরে উঠছি কি না সেটা কোনও পয়েন্ট নয় রে ধীরাজ! আজই যদি প্রাণটা বেরিয়ে যায় তা হলেও ক্ষতি নেই।

    ধীরাজ সম্ভবত এ ধরনের আনন্দের খবর রাখে না। তবে শিক্ষিত ও সফল এই বন্ধুটির যাবতীয় কথাকেই সে মূল্য দেয়। শুধু এই মরার কথাটাকে সইতে পারে না। বলল, মরবে কেন? তুমি এত ভাল মানুষ, এত কিছু শিখেছ, জেনেছি, তুমি মরলে চলবে কেন? ভগবানের ওরকম অবিচার নেই।

    ভাল মানুষরা কি মরে না রে ধীরাজ?

    ধীরাজের সরলতা যেমন, তেমনি তার বিশ্বাসের জোর। বলে, মরবে না কেন? মরে। কষ্টও পায়। তবে আমরা বাইরে থেকে একটা লোককে দেখে কতটুকু বুঝি বল? এই জনাটা তো আর একটা মাত্র জন্ম নয়, অনেক জন্মের একটা যোগফল। কত জন্মে কত কী টেরাকো কাজ হয়েছে, এ জন্মে তার এফেক্ট পাচ্ছে মানুষ। আমরা যতটুকু দেখি তার এপারে ওধারে অনেক অজানা জিনিস রয়ে গেছে। জন্মের আগেও জীবন, মৃত্যুর পরেও জীবন। আমরা সংসারী মানুষ, স্বার্থপর ছোট মানুষ সব, আমাদের কাছে দুটো দরজাই বন্ধ। যারা জ্ঞানী-গুণী মহাপুরুষ ওই দুই দরজা তাদের কাছে ভোলা। তারা অবারিত দেখতে পায়, জন্ম-জন্মান্তর পেরিয়ে মানুষ চলেছে।

    ভীষণ সরল মন, পেঁয়ো চাষাভুষোর মতো এই সব কথা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় প্রীতমের। খানিকটা বিশ্বাস আজকাল করেও সে। তবু বলে, শরীর ছাড়া কি বাঁচা যায়? আমি যে ভাবতেই পারি না। শরীর ছাড়া কি আমি বা তুই জন্মের আগেও ছিলাম, মরার পরেও থাকব?

    ধীরাজ তেমনি অকপটে বলে, ছিলাম না? তা হলে আছি কী করে? আর আছি যখন, থাকতেও তো তখন হবেই।

    ধূপকাঠির ঝাঁঝালো আতরের গন্ধটা আজ ভারী মিঠে লাগে তার। চুপ করে বহুক্ষণ বসে থাকে প্রীতম। সরল হওয়ার চেষ্টা করে, বিশ্বাসী হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এক ধরনের সচ্ছল শহুরে জীবনের বুদ্ধি ও যুক্তিগ্রাহ্য গ্রহণ-বর্জনের রীতিতে অভ্যস্ত বলে পাশাপাশি মনের মধ্যে সন্দেহের কাঁটাও ফুটে থাকে। বিশ্বাস কি এত সোজা?

    প্রীতম বলে, আমার ঠিক তোর মতো হতে ইচ্ছে করে। একটু টানাটানির সংসার থাকবে। ঘরে তৈরি জিনিস সাইকেলে চাপিয়ে নিয়ে দোরে দোরে বেড়াব। আনন্দই আলাদা।

     

    দুর ব্যাটা, আমার জীবনটা কি সুখের? সকাল থেকে রাত অবধি বাড়ি বাড়ি, দোকানে দোকানে ঘুরে বেড়ানো, ওর মধ্যে কোনও আনন্দ নেই।

    আমার যে বড় বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে রে ধীরাজ।

    আমারও করে। কিন্তু আমার তো হবে না। জন্ম বয়সে কর্ম করেছিলাম একবার মাকে নিয়ে কামাখ্যা ঘুরে। এখন একেবারে কুয়োর ব্যাং। তোমার মতো লেখাপড়া শিখলাম না, চাকরি করলাম না।

    চাকরি কি বেশি সুখের ব্যাপার নাকি? আমিই বরং রেগেমেগে কতবার চাকরি ছাড়ার কথা ভেবেছি।

    তবুও আমাদের দিন আনি দিন খাই অবস্থার চেয়ে তো ভাল।

    প্রীতম একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।

    ধীরাজ বিস্ময়ের চোখে চেয়ে থাকে তার দিকে। বলে, তুমি মাঝে মাঝে এমন সব দুঃখের কথা বলো যা শুনলে আমার অবাক লাগে। নিঃসঙ্গতা, ন কমিউনিকেশন, মৃত্যুভয় এসব আমাদের কাছে কেতাবি ব্যাপার বুঝলে? তোমার হয়তো ছাইরঙা আকাশ দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়, আমার কিছুই হয় না। তুমি হলে খুব সূক্ষ্ম অনুভুতির মানুষ। আর আমাদের সব মোটা দাগের ব্যাপার।

    সূক্ষ্ম অনুভূতির নিকুচি করি। তোর মতো দায়ে পড়ে সংসারের ঘানিতে পেষাই হয়ে বেরোলে আমি বেশ একখানা ঝরঝরে মানুষ হতাম।

    যাঃ, কী যে বলো!

    তোর বাড়িতে একদিন নিয়ে যাবি?

    তার আর কথা কী? কালই চলে। রিকশায় দশ মিনিটও নয়। তবে মাঝখানে সুভাষপল্লির রাস্তাটা একটু খারাপ, কঁকুনি-টাকুনি লাগতে পারে।

    ঝাকুনিতে কিছু হবে না। যাব।

    ধীরাজ খুব খুশি হয়ে বলে, বাড়ির এম• অবস্থা যে কাউকে যেতে বলতে লজ্জা করে। তুমি নিজে থেকে যেতে চাওয়ায় এত ভাল লাগল!

    প্রীতম প্রসঙ্গ পালটানোর জন্য বলে, আজ ধূপকাঠি কীরকম বিক্রি হল?

    উদাস হয়ে ধীরাজ বলে, বাঁধা গাহেক কিছু আছে, তাদের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসি। বিক্রিবাটা ভাল নয়। প্রচণ্ড কম্পিটিশন। মালমশলার দামও চড়া।

    অন্য কিছু ব্যাবসা করিস না কেন?

    অনেক কিছু করার চেষ্টা কি আর করিনি? কয়লার দোকান দিলাম, চানাচুর বানালাম, আলুও বেচেছি, কিন্তু কোনওটাতেই মার্কেট পাওয়া গেল না। অল্প পুঁজির কারবার তো, চটপট রিটার্ন না পেলে পেটে গামছা বাঁধতে হয়। লগ্নীর টাকা পেট্টায় নমঃ হয়ে যায়। সবই তো বোঝে। তুমি কত বড় অ্যাকাউন্ট্যান্ট।

    প্রীতম ম্লান হাসল। ধীরাজের আয়-ব্যয়ের হিসেব কষতে বসলে সে নিশ্চয়ই খুব অবাক হয়ে দেখবে ডেবিট-ক্রেডিটে অনেক ভুতুড়ে এন্ট্রি, অনেক অলৌকিক যোগ-বিয়োগ। সে জানে, ধীরাজের আয় মাসে দুশো টাকাও নয়। দুই মেয়ে, এক ছেলে, বউ, মা নিয়ে সংসার। প্রীতম মাথা নাড়ে, না, কোনও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের পক্ষেই সম্ভব নয় ওর ব্যালান্স শিট তৈরি করা। তার জন্য দরকার ম্যাজিক জানা।

    ধীরাজ একটা শ্বাস ফেলে বলে, তবে সান্ত্বনা কী জানো, দুনিয়ায় আমার চেয়েও খারাপ অবস্থায় লাখ লাখ কোটি কোটি মানুষ বেঁচে আছে।

    প্রীতম আনমনে মাথা নাড়ল। পৃথিবীতে কে কেমনভাবে বেঁচে আছে তা নিয়ে বহুকাল সে সত্যিকারের মাথা ঘামায়নি। দুঃখ-দুর্দশায় নাভিশ্বাস ওঠা এই দেশে যে সে নিজে সপরিবারে না খেয়ে মরবে না এবং মোটামুটি সুখেই থাকতে পারবে এটা বুঝেই তৃপ্ত ছিল। মাঝে মাঝে ভিখিরিকে ভিক্ষে দেওয়া, সমবেদনা বোধ করা এবং মানুষের জন্য কিছু করা উচিত বলে ভাবা, এ ছাড়া আর কিছু করার ছিল না তার।

    ধীরাজ চলে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ ঝুম হয়ে বসে সে পৃথিবীর মানুষজন নিয়ে ভাবল। বুকের মধ্যে ভারী একটা চাপ কষ্ট। মরেই যদি যেতে হয় তবে দুনিয়ার আরও কিছু মানুষের সঙ্গে চেনা-জানা থোক। সারাজীবনে মাত্র গুটিকয় মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে, অথচ পৃথিবীতে কত কোটি কোটি মানুষ।

    রাত্রিবেলা শতম তার মাথায় জপ করতে এলে প্রীতম গম্ভীর মুখে বলে, তোর নামজপে কাজ হচ্ছে। আমি অন্যরকম ফিল করছি।

    শান্ত হাসিমুখে শতম বলে, জপাৎ সিদ্ধিৰ্জপাৎ সিদ্ধিৰ্জপাৎ সিদ্ধি ন সংশয়ঃ।

    মানছি।

    তবে এই নাম নিজেই নাও না কেন?

    এক জায়গায় মাথা মুড়োতেই হবে?

    শতম গম্ভীর হয়ে বলে, এই যে তুমি এত অ্যাকাউন্টেন্সি শিখেছ, এই তুমিও তো একদিন এক দুই লিখতে জানতে না, অ আ ক খ জানতে না। কেউ হাত ধরে দাগা বুলিয়ে বুলিয়ে শিখিয়েছিল। তাই না? তখন তো সংশয় ছিল না। এখন জীবনের হিজিবিজি অনেক হিসেবনিকেশ জট পাকিয়েছে, কেউ যদি জট খুলতে শেখায় তবে আপত্তি কী?

    প্রীতম চুপ করে চোখ বুজে থাকে। অনেকক্ষণ বাদে আপন মনে বলে, জপাৎ সিদ্ধিৰ্জপাৎ সিদ্ধিৰ্জপাৎ সিদ্ধি ন সংশয়ঃ। শতম, ন সংশয়ঃ।

    আনন্দের রেশটা রইল পরদিন সকালেও। ঘুম ভেঙে চারিদিকে আবছা ভোরের নরম আলোয় এক স্নিগ্ধ জগৎ দেখতে পায় সে। শরীরে জীবাণুদের কোলাহল নেই, একাকিত্বের বোধ নেই, মৃত্যুর বাঘ কোথাও ডাকেনি।

    মরম! মরম! ওঠ, ওঠ।

    ডাকছ দাদা?–বলে মরম উঠে পড়ে।

    চল বাইরে। দেখ, কী সুন্দর ভোর! দরজা খুলে দে শিগগির।

    খুলছি।–বলে মরম উঠে দরজা খোলে। প্রীতমের চেয়ারটা টেনে বের করে বারান্দায়।

    বোসা দাদা।

    প্রীতম বসে বলে, তুইও বোস। দেখ, চারদিকে চেয়ে দেখ।

    মরম বারান্দার সিঁড়িতে বসে হাই তোলে। কথা বলে না। কিন্তু ঝুম হয়ে বসে সেও চেয়ে থাকে আকাশের দিকে।

    প্রীতম মুগ্ধ সম্মোহিত চোখে চেয়ে থাকে। ভিতরে এক আনন্দের উৎস মুখ খুলে নিঝরের স্বপ্নভঙ্গ হতে থাকে। কোথা থেকে আসে এত আনন্দ?

    ভবানীপুরের বাসা, লাবু, বিলু, অরুণ, ভিতরের সেই বিছানা সব ছায়াছবির মতো চোখের ওপর দিয়ে ভেসে যায়। কিন্তু কিছুই স্পর্শ করে না তাকে।

    মরম, একটা রিকশা ডেকে আন! আমি একটু বেড়াতে যাব।

    বেড়াতে যাবে? পারবে?

    পারব। যা।

    আমি সঙ্গে যাব কিন্তু।

    যাবি।

    মা যদি বকে?

    বকবে না। দেরি করিস না, যা।

    মরম যায় এবং অল্পক্ষণের মধ্যেই রিকশা নিয়ে আসে।

    বারান্দা থেকে প্রীতমকে ধরে ধরে নিয়ে রিকশায় তুলবে বলে হাত বাড়িয়েছিল মরম। প্রীতম হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলে, পারব। আজ পারব।

    শুধু রিকশায় উঠবার সময় একটু ভর দিতে হল। কিন্তু স্বচ্ছন্দেই উঠে বসতে পারল প্রীতম।

    আমি বরং সাইকেলটা নিয়ে আসি দাদা। রিকশায় দু’জন উঠলে তোমার কষ্ট হবে। মরম বলে।

    যা, নিয়ে আয়।— অন্যমনে বলে প্রীতম। জাগতিক কথাবার্তা তার ভাল লাগছে না। তার চেয়ে অনেক জরুরি হল বেরিয়ে পড়া। কী যে একটা কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে জগৎ জুড়ে! তার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

    শিলিগুড়ির অতি পরিচিত হাকিমপাড়া ছাড়িয়ে তিলক ময়দান, রোড স্টেশন, সেবকের মোড় হয়ে মহানন্দার পাড়। পিছন থেকে মরম চেঁচিয়ে বলে, আরও যাবে বড়দা?

    হ্যাঁ। আরও একটু।

    হিলকার্ট রোড ধরে জনবিরল পিচ রাস্তা বেয়ে বহু দূর চলে আসে রিকশা। কুসুম-রঙা রোদ উঠল পুবে। প্রীতম শুধু দৃশ্যাবলী দেখছে না। এই পৃথিবীর গভীরতায় আজ পরতে পরতে ড়ুবে যাচ্ছে সে। মিশে যাচ্ছে এই রোদ, হাওয়া, গাছপালা ও শূন্যের মধ্যে।

    যখন প্রীতম ফিরে এল তখন বাইরের বাবান্দায় উদ্বেগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মা, বাবা আর ছবি। রূপম স্কুটারে বেরিয়েছে খবর করতে। বাইরের রাস্তায় খালি গায়ে দাড়িওয়ালা শতম বুকে হাত দিয়ে বিশাল চেহারা সটান সোজা দাঁড়িয়ে আছে।

    মরম সাইকেল থেকে নামতে নামতে সভয়ে বলে, আমার দোষ নেই, বড়দা নিজেই গেল। আমি শুধু সঙ্গে–

    মা ধমক দিয়ে বলে, তা আমাকে বলে যাবি তো! রোগা ছেলেটাকে নিয়ে বেরিয়েছিস। চিন্তায় আমার মধ্যে আর আমি নেই।

    শতম শুধু প্রীতমের দিকে চেয়ে শান্ত মুখে একটু হাসল।

     

    শরীর ভরে এমন দুর্বহ ক্লান্তি আগে ছিল না বিলুর। আজকাল সন্ধেবেলা যখন ফেরে তখন দম ফুরিয়ে যায় যেন। অনেকক্ষণ শুয়ে বসে বিশ্রাম না নিয়ে কোনও কাজে হাত দিতে পারে না।

    প্রীতম যাওয়ার পর ফ্ল্যাটটাকে নতুন করে সাজিয়ে নিয়েছে বিলু। প্রীতম যে ঘরে থাকত সেটা এখন লাবুর ঘর। বড় চৌকিতে লাবু আর অচলা শোয়। আলাদা ঘরে বিলু একা। রাত্রিবেলা তার একটানা নির্বিঘ্ন ঘুম দরকার বলেই এই ব্যবস্থা। লাবু বড় হাত-পা ছড়িয়ে শোয়, ছটফট করে ঘুমের মধ্যে, দাঁত কিড়মিড় তো আছেই, ওকে নিয়ে শুলে বিলুর ঘুমের অসুবিধে হয়।

    বিদেশ থেকে ঘুরে এসে অরুণ তাকে একদিন বলেছে, বিলু। ইউ নিড সেক্স।

    বোকা-বোকা কথা বোলো না।

    মুশকিল হল, তুমি নিজেই জানো না যে, ইউ নিড সেক্স।

    না অরুণ, ওসব নয়। আমি এমনিতেই টায়ার্ড। আমার দরকার অনেক ঘুম।

    তোমার ম্যালনিউট্রিশনও হচ্ছে। ডাক্তার দেখাবে?

    দূর! কথায় কথায় কেউ ডাক্তার দেখায়? আমার অসুখ কোথায়?

    তোমার অসুখ হয়েছে, জানতি পারতিছ না।

    ইয়ারকি কোরো না।

    তুমি রোজ কী খাও বলো তো?

    সবাই যা খায়।

    এনাফ অফ প্রোটিন ভিটামিন?

    অত জানি না। মাছ মাংস ডিম মাখন তো কম গিলছি না বাপু। প্রোটিন-ট্রোটিন কতটা কী যাচ্ছে ভিতরে কে জানে!

    হজম হয়?

    আমার কোনওকালে হজমের প্রবলেম নেই।

    তা হলে কেন টায়ার্ড ও ফিলিং লোনলি?

    কী করে বলব কেন টায়ার্ড। আর লোনলি ফিল করার মতো সময় পাই কোথায়?

    ডাক্তার দেখাও। তবে আমার মতে ইউ নিড সেক্স, ব্রুটাল সেক্স।

    তুমি এবার বাইরে গিয়ে অত্যন্ত অসভ্য হয়ে এসেছ।

    সত্যি কথা বলব বিলু? তোমাদের পেটে খিদে আর মুখে লাজ আমার একদম পছন্দ নয়। সেইজন্য আমার বিদেশ বেশি ভাল লাগে, সেখানে প্রিটেনশন নেই। দে নিড ইট, দে ড়ু ইট।

    বিলু ধমক দিয়ে বলে, আমার খিদে নেই, নিড নেই। আমি অন্য কোনও কারণে টায়ার্ড। আমার কাছে সবটাই ভীষণ মিনিংলেস হয়ে যাচ্ছে।

    কোনটা?

    সবকিছু। চাকরি, সংসার, ইভন বেঁচে থাকা।

    দেন ফল ইন লাভ উইথ মি।

    লাভ কী? তুমি তো কদিন বাদেই টোপর মাথায় দিয়ে ছাঁদনাতলায় গিয়ে বসবে।

    নাও হতে পারে সেটা। আমি অনেক ভেবে দেখলাম ইট বেটার বি ইউ।

    এ কথা শুনে অনেকক্ষণ চুপ করে থাকে বিলু। তারপর আচ্ছন্ন এক মুখ তুলে বলে, শুনে একটুও আনন্দ হল না, কেঁপে উঠলাম না, নতুন কিছু মনে হল না তো অরুণ!

    তুমি ভীষণ ফ্রিজিড হয়ে যাচ্ছ। রাউজ, রাউজ ইয়োরসেলফ।

    আমি ভীষণ টায়ার্ড। কিন্তু সেটা শরীরের ক্লান্তি নয়। মনটাই কেমন ব্ল্যাংক।

    চলো, আজ তোমাকে আমার অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যাব।

    তোমার বদমাইশির অ্যাপার্টমেন্টে আমি আর যেতে রাজি নই।

    মোটেই বদমাইশি নয়। বিয়ে করে ঘর বাঁধব বলে এক কাড়ি টাকায় কেনা ফ্ল্যাট। ইয়ারকি কোরো না! চলো।

    প্রতিরোধ্য অরুণকে ঠকাবে কী করে বিলু? তাছাড়া এই যে ক্লান্তি, এই যে ফাঁকা মন এর জন্যও একটা ঝকানি দরকার। হয়তো অরুণ ঠিকই বলছে। কে জানে!

    ইচ্ছে-অনিচ্ছের মাঝামাঝি দোল খায় বিলু। আর সেই দ্বিধার রন্ধ্রপথে অরুণ তার পথ করে নেয়। সেই সাজানো সুন্দর ঈর্ষণীয় তিন ঘরের ফাঁকা পড়ে থাকা ফ্ল্যাটে নিজেকে বিসর্জন দেয় বিলু।

    কিন্তু যখন একটু রাতে ভবানীপুরের বাসায় তাকে পৌঁছে দেয় অরুণ, তখন গলিপথটুকু একা হেঁটে আসতে আসতে সে টের পায়, ভূতের মতো তার ঘাড়ে বসে ঠ্যাং দোলাচ্ছে সেই ক্লান্তি, সেই অবসাদ।

    বহুদিন প্রীতমকে চিঠি লেখেনি সরাসরি। বাড়ির অন্য লোককে লিখেছে। আজ কী ভেবে রাতে বিলু একটা ইনল্যান্ডে প্রীতমকে লিখল, ভাবছি কিছুদিন ছুটি নিয়ে তোমার কাছে যাব। এখানে ভাল লাগছে না। তুমি কেমন আছ?…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }