Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৮. আড়াল থেকে দেখতে পাচ্ছিল সজল

    আড়াল থেকে দেখতে পাচ্ছিল সজল, রামলাখনকে ছোটমামা ঘাড় ধরে এনে ধাক্কা দিয়ে নিতাই খ্যাপার ঝোপড়ায় ঢুকিয়ে দিয়ে বলল, বার কর তোর বেজি। বার কর!

    রামলাখনের অবস্থা খুবই সঙ্গিন। মুখটা ভাবাচ্যাকা খেয়ে আছে। কাঁদো-কাদো ভাব। আবার রাগও থমথম করছে। কিন্তু শক্ত পাল্লায় পড়ায় কিছু করতে পারছে না।

    ছোটমামার সঙ্গে যদি কোনওদিন সেজোকাকার ফাইট হয় তবে কে জিতবে তা এখন ভেবে ঠিক করতে পারছে না সজল। তার মন চায় সেজোকাকাই জিতুক। কিন্তু তা কি হবে? ছোটমামার গায়ের জোর ভীষণ, সাহসও সাংঘাতিক। এই তো মাত্র কয়েক মাস হল এ জায়গায় এসেছে, এর মধ্যেই তাকে সবাই ভয় খায়। তবু যদি কোনওদিন ফাইট লাগে, আর সজলকে যদি রেফারি করা হয় তবে সজল সেজোকাকুকেই জিতিয়ে দেবে।

    রামলাখন ঝোপড়া থেকে ম্লান মুখে বেরিয়ে এল। সজল জানে, ঘরে বেজিটা পেয়ে গেলেও রামলাখনের লাভ হত না। ছোটমামা অত কাঁচা ছেলে নয়। সঙ্গে সঙ্গে বলত, ওটা তো আমাদের বেজি। পরশুদিনই গণি মিয়ার কাছ থেকে কিনেছি। তোর বেজি কই?

    এসব সজলের জানা। বেশ কিছুদিন আগে শীতলাবাবুদের ময়না পাখিটা খাঁচা খোলা পেয়ে উড়ে পালায়। কিন্তু খাচায় থেকে থেকে ডানার জোর ছিল না বলে খানিক উড়ে এসে তাদের বড় ঘরের বারান্দায় চুপ করে বসে ছিল। বৃন্দা সেটাকে ধামাচাপা দিয়ে ধরে। পরে খবর পেয়ে শীতলাবাবুর মেয়ে টুটু যখন খোঁজ করতে এল তখন পাখিটা নতুন বড় একটা খাচায় নিতাইখ্যাপার পাখিটার পাশে দোল খাচ্ছে।

    টুটু বলল, ও মা! এই তো আমাদের ময়না।

    বৃন্দা অবাক হয়ে বলে, তাই নাকি? তা সে তোমরা গণি মিয়ার সঙ্গে বোঝো গে যাও। নগদ পচিশ টাকায় কালই তো বড়দিমণি কিনলেন।

    ডাহা মিথ্যে। পরে শীতলাবাবুর বাড়িসন্ধু মেয়ে-মদ্দায় এলে সে কী কাউ কাউ করে ঝগড়া! জবাবে মা কিছুই বলল না। বৃন্দাকে এগিয়ে দিল। বৃন্দা একাই গলার জোরে সবাইকে হঠিয়ে দিয়েছিল।

    গণি মিঞা মাঝে মাঝে পাখি বেচতে আসে। মা’র সঙ্গে তার একটা বন্দোবস্ত আছে। মা যা বলাবে সে তাই বলবে। কাজেই বৃন্দার ভয় ছিল না। তবু শীতলাবাবুদের পাখিটাকে ধরে রাখার একটা অন্য কারণও ছিল। কোন কালে যেন জেঠুর সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের মামলা হয়। সেই রাগে জেঠুর তিনটে গোরুর একটাকে শীলাবাবু তার চাকরকে দিয়ে বিষ খাইয়ে মারে। গাভিন গাইটা সন্ধের মুখে বাড়ির উঠোনে দাপিয়ে মরল। গোরুর ডাক্তার এসে বলল, এ তো ক্লিয়ার পয়জনিং কেস। মা তবু ময়নাটাকে মারেনি। কেউ কেউ অবশ্য বলে যে, শীতলাবাবুদের ময়নাটা আসলে নিজে উড়ে আসেনি, নিতাই পাগলই সেটাকে চুরি করে আনে।

    সত্যি মিথ্যে কে জানে!

    তবে রামলাখন ব্যাটা এখন হাতজোড় করে ছোটমামার কাছে বোধহয় ক্ষমাই চাইছে। পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড়ে গা ঢাকা দিয়ে বসে সজল সব দেখতে পাচ্ছিল। তার হাতের খাঁচায় বেজি।

    হেলেদুলে নিতাই খ্যাপা এসে দাঁড়িয়ে হাত তুলে বলল, জয় কালী কলকাত্তাওয়ালি। নখদর্পণ জানিস ব্যাটা?

    রামলাখন কী একটা তেজি জবাব দিল তার কথার।

    নিতাই নেচে উঠে বলল, শাস্তর মন্তর জানলে তো মর্ম বুঝবি! পাঁচটা টাকা নিয়ে অমাবস্যায় আসিস, গুনে বলে দেব তোর বেজি কোথায় আছে।বলে খুব হাসতে থাকে বাহাদুরির হাসি।

    ছোটমামা অবশ্য আর বাড়াবাড়ি করল না। বাগানের কাজ করার জন্য যেসব ফুরনের লোক হামেশা কাজ করে তাদের একজনকে ডেকে বলল, এটাকে লাইন পার করে দিয়ে আয় গে। এসে আমাকে খবর দিস।

    রামলাখন বিদেয় হতেই সাবধানে চারপাশটা দেখে নিয়ে সজল এক দৌড়ে বেজির খাঁচা নিয়ে ভাবন-ঘরে পৌঁছে গেল। তালা খুলে ভিতরে ঢুকে সে দরজায় খিল তুলে দেয়।

    ভাবন-ঘরের পিছন দিকে একটা দরদালানের মতো ঢাকা বারান্দা আছে। খুব বড় নয়, বরং খুবই ছোট। চারদিকে ঘষা কাচ বসানো জানালা। এ ঘরে কেউ কখনও আসে না। একটা অদ্ভুত ঢালু টেবিল আছে। এটাতে নাকি ড্রইং-বোর্ড রেখে জেঠু নানা আঁকজোঁক করত। ইঞ্জিনিয়ারদের ওরকম করতে হয়। এ ঘরে পুরু ধুলোর আস্তরণ পড়েছে, মাকড়সা জাল বুনেছে, ঘুলঘুলিতে চড়াই পাখি বাসা করেছে।

    টেবিলের তলায় খাঁচাটা রেখে সজল ভাবতে লাগল, বেজিরা কী খায়?

    ভেবে পেল না। তবে বাড়ি থেকে একটু বাদে গিয়ে কয়েকটা ছোলা, এক বাটি জল, কিছু চাল এনে খাঁচার মধ্যে ছড়িয়ে রেখে গেল। যেটা মন চায় খাবে। বিকেলে চিনেবাদাম কিনে এনে দেবে। মংলুকে বললে কাঁচা মাংসেরও ব্যবস্থা হবে। বাবা এলে জেনে নেবে বেজিরা কী খায়।

    ভাবন-ঘরে ফের তালা দিয়ে বেরোচ্ছে, শুনতে পেল ঝোপড়ার দিক থেকে নিতাইখ্যাপা চেঁচাচ্ছে, জয় কালী, কালীশ্বরী, মহাবিদ্যা, প্রলয়ংকরী। মা। মা গো।

    তাকে দেখেই নিতাই হাতছানি দিয়ে ডাকল।

    মুখখানা নিপাট ভালমানুষের মতো করে এগোয় সজল।

    কোথায় ছিলে সজলখোকা? কত কাণ্ড হয়ে গেল, দেখলে না?

    কী কাণ্ড?

    হি হি করে খুব হাসে নিতাই। তারপর গলা নামিয়ে চোখ ছোট করে খুব ষড়যন্ত্রের গলায় বলে, বাজারে পেয়ে ব্যাটা খুব ধরেছিল আমাকে। মা প্রলয়ংকরী এসে বাঁচায়।

    কে ধরেছিল?

    রামলাখন। ব্যাটা সাতদিনের মধ্যে মুখে রক্ত উঠে মরবে। বাণ মেরে দিয়েছি, কাজও শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু মায়ের কী লীলা বলো তো? আমাকে বাঁচাতে মা বেজিটা হাপিস করে দিল বটে, কিন্তু সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও শালাটাকে আর দেখতে পাচ্ছি না।

    বেজি? কত বড় বেজি?

    নিতাই চোখ কুঁচকে সজলের দিকে অনেকক্ষণ দেখে নিয়ে বলে, তোমার কাণ্ড নয় তো?

    মাইরি না। চোখের দিব্যি।

    আহা, বেজিটা তো তোমার জন্যই আনা। ব্যাটা দেহাতি কী মর্ম বুঝবে অবোলা জীবের?

    পেলে আমাকে দিয়ে। আমার খুব বেজি পোষার শখ।

    মুখটা একটু ম্লান হয় নিতাইখ্যাপার। আনমনে দূরের দিকে চেয়ে বলে, মা কত মায়াই না জানে। বেজিটা যে হাওয়া হয়ে গেল আর রূপ ধরল না। মেহনতটাই বৃথা।

    তুমি বেজিটা চুরি করেছিলে নিতাইদা?

    চুরি আবার কী? অবোলা জীবটাকে উদ্ধার করেছিলাম। তা মায়ের জীব মা নিজেই নিয়েছে। ভারী আশ্চর্য কাণ্ড। জলজ্যান্ত ঘরে রেখে গেলাম।

    দুপুর পেরিয়ে গেল নিতাইদা, খাবে না?

    আনমনে একটু হুঁ দিয়ে নিতাই মাটিতে একটা কাঠি দিয়ে আঁকিবুকি কাটতে থাকে।

    সজল সরে আসে। বেজিটা কিছুদিন এখন লুকোনো থাক।

    উঠোনের পুবধারে মস্ত নিমগাছের ঝিরঝিরে ছায়ায় ইজিচেয়ার পেতে বসে দীননাথ হোমিয়োপ্যাথ হরিপদ রায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে একসময় বলেই ফেললেন, তোমার ওষুধ সত্যিই কথা কয় হে।

    পড়ন্ত বিকেলের আলোয় হরিপদর মুখ একটু উজ্জ্বল হয়। মুখখানা এমনিতে শুকনো আর ভাঙা, রসকষ নেই, সর্বদাই চিন্তায় ভারাক্রান্ত। বলল, আগে তো বিশ্বাস করতেন না! রস

    তোমার ওষুধের গুণও আছে, এ বাড়ির ভাল খাওয়াদাওয়া, সেবা যত্ন আছে। বউমার ব্যবস্থা সব খুব ভাল।

    সে তো আছেই। কিন্তু খেলেই তো হবে না, হজম করবে কে?

    সেও ঠিক। ছোট ছেলের কাছে যখন ছিলাম তখন মনে হত, বয়স বুঝি আশি-নব্বই কি শতেক পার হয়েছে। একটু ভীমরতিও যেন ধরেছিল। হাঁটতে চলতে পারতাম না নিজের জোরে।

    আর এখন?

    দেখছই তো, ওই ঘর থেকে একা এতদূর চলে এসেছি।

    আস্তে আস্তে আরও পারবেন। আমি আপনাকে একদম ছোকরা বানিয়ে দেব।

    দীননাথ হাসলেন। বেঁচে থাকতে একটা আলাদা স্বাদ পাচ্ছেন। বললেন, ওষুধ তো ভালই দাও, তবে আমার দাদুভাইয়ের কৃমি সারে না কেন?

    সজলের কৃমি জন্মেও সারবে না। শুধু ওষুধ দিলে কী হবে? পথ্য কন্ট্রোল করবে কে? সারাদিন কুপথ্য করছে।

    দীননাথ গম্ভীর মুখে খানিক ভেবে বললেন, আমার চার ছেলের মধ্যে বড় জন নেই, সেজো বিয়ে করবে কি না জানি না। ঘোটরও ছেলেপুলে হবে শুনছি, কিন্তু মেয়ে হলেই বা ঠেকায় কে? এখন পর্যন্ত বংশে বাতি দিতে ওই একমাত্র নাতি। তুমি খুব মন দিয়ে ওর চিকিৎসা করোত?

    ওষুধ তো দিই। প্রায়ই খায় না, ভুলে যায়।

    এখন থেকে আমি খেয়াল রাখব। আজকাল আর ততটা ভুলে যাই না।—বলে দীননাথ লাজুক মুখে হাসেন।

    সজলের জন্য ভাববেন না। আমার চিকিৎসাতেই বড় হল। তবে মাঝে মাঝে অ্যালোপ্যাথিরও বিষ ঢুকেছে কিনা।

    হরিপদ চলে যেতে দীননাথ গ্রীষ্মের বিকেলে এই নরম ছায়ায় বসে বসে সোমনাথের কথা ভাবতে লাগলেন। মেজো বউমা যত্ন করে বটে, এ বাড়ির পরিবেশও ভাল। তবু কেন যেন ছোট বউমার জন্য, ছোট ছেলের জন্য আর কলকাতার অন্ধকার সেই একতলা বাসাবাড়ির জন্য বড় মন কেমন করে। এখানে এসে অবধি শ্রীনাথের সঙ্গে ভাল করে দেখাই হয়নি। খুব পর মানুষের মতো। থাকে। ব্যাপারটা নিয়ে ভাবছেন। কিন্তু চিন্তাশক্তি এখন আর তেমন জোরালো নয় বলে ভেবেও কিছু ঠিক করতে পারছেন না।

    আজকাল ঘরে, বারান্দায়, উঠোনে টুকুস টুকুস করে হাঁটতে পারেন। আগে পারতেন না। মেজো বউমা অবশ্য বলে, হাঁটতে ঠিকই পারতেন, কেবল মনে জোর ছিল না। ভাবতেন, হাঁটতে গেলেই পড়ে যাব বুঝি। মেজো বউমার বুদ্ধি খুব সাফ। ঠিকই বুঝেছিল। একা বসে মাথায় দুশ্চিন্তা আসছিল বলে দীননাথ উঠে পড়লেন। বাচ্চা ছেলের যেমন নতুন হাটতে শিখে হাঁটার নেশায় পায়, তারও হয়েছে তেমনি।

    বিকেলের দিকে বাড়িটা হাঁ-হাঁ করছে ফাঁকা। উঠোনটা জনমনিষ্যিহীন পড়ে আছে। ঘুরে ঘুরে হিসেবি চোখে দেখেন দীননাথ। ছোঢ় শয়তান বুলুটা মিছে কথা বলে না। মল্লি বেশ বড় সম্পত্তিই করেছিল। অনেকখানি জায়গা নিয়ে বাড়ি। কোনও কিছুরই অভাব নেই। উপচে পড়ছে। দেখে বুকের মধ্যে একটু ধাক্কা লাগে। তার আর-ছেলেরা কেউই তেমন কৃতী নয়। সকলেরই টানাটানি। ওরা যদি সবাই মিলে এই জায়গাটায় থাকতে পারত। ভেবে দীর্ঘশ্বাস পড়ে। হবে না। ওদের কারও সঙ্গে কারও মিল নেই।

    উঠোনের পশ্চিমধারে এসে একটা ছাগলের ‘ম্যা’ শুনে দাঁড়ালেন দীননাথ। বাগানে ছাগল ঢোকেনি তো! পশ্চিমধারে একটা বাঁশের আগড়। সেটা ঠেলে উঁকি মারতেই দেখেন, একটা পুরুষ্ট ছাগল ঠ্যাং ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর মংলু পেতলের মালসায় চড়াং চড়াং করে তার দুধ দুইছে।

    ছাগলের দুধ কে খায় রে?

    শুনে মংলু হাসে, আপনিই তো খান, আর কে খাবে?

    ও বাবা, আমাকে বউমা রোজ ছাগলের দুধ দেয় বুঝি?

    হ্যাঁ তো। ডাক্তার আপনাকে ছাগলের দুধ খেতে বলে গেছে না! মা ঠাকােন তাই ছাগলটা কিনে আনালেন।

    দীননাথ হাঁ করে থাকেন। তাঁকে দুধ খাওয়ানোর জন্য বউমা ছাগল কিনেছে? এ যে ভাবা যায়। বলতে কী, এই বুড়ো বয়সে বেঁচে আছেন বলেই মাঝে মাঝে তার লজ্জা করে। যত্ন-আত্তি খাতিরের কথা মনেও আসে না। এ যে আজকাল নিজের মেয়েও করে না।

    ছাগল দোয়ানো দেখতে দেখতে চোখে প্রায় জল এসে গেল। দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ দৃশ্যটা দেখলেন। মালসা ভরে উঠল দুধে, দীননাথের মনটাও ভরে গেল। দুনিয়াতে একটু আদর ছাড়া আর তাঁর কিছু চাওয়ার নেই।

    ফিরে এসে বউমার ঘরের দাওয়ার সিঁড়িতে উঠে ডাকলেন, বউমা! ও মেজো বউমা!

    ঘরে কেউ নেই। শ্রীনাথের তিন মেয়ের নাম ওদের ঠাকুমাই রেখে গেছেন রমলা, বিমলা আর কমলা। সে নাম অবশ্য আজ আর টিকে নেই। শুধু দীননাথই আজও ওদের এই নামে ডাকেন। রমলা এখানে থাকে না। তার এক মাসি তাকে দত্তক নিয়েছে। বিমলা আর কমলাকে বড় একটা দেখতে পান না দীননাথ। এখন দেখলে, মেজো বিমলা লাল একটা শাড়ি পরে খুব পাকা মেয়ের মতো সেজে এলোচুল খোপায় বাঁধতে বাঁধতে উঠোন পেরিয়ে কোথায় যাচ্ছে।

    দীননাথ ডাকলেন, বিমলি।

    কী দাদু?

    কোথায় যাস?

    কোথায় যাব? বাড়ির মধ্যেই।

    তোর মা কোথায়?

    মা বেরিয়েছে। কিছু লাগবে?

    না, কী আর লাগবে।

    তবে? কথা বলার লোক পাচ্ছি না বুঝি?

    দীননাথ হেসে বলেন, তো তুই-ই আয় না, দুটো প্রাণের কথা বলি বসে বসে।

    পাঠশালার মাঠে আমার বন্ধুরা বসে আছে যে।

    তবে যা।

    তুমি গিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলো না! বাবা ফিরেছে।

    ফিরেছে? যাক।

    বলে উঠলেন দীননাথ। লাঠিতে ভর দিয়ে বেশ ভালই হাঁটতে পারছেন। কাউকে না ধরে, কারও সাহায্য না নিয়ে পৌঁছে গেলেন ভাবন-ঘরে।

    শ্রীনাথ একটু দূরের ছেলে। দীননাথ এমনিতেই ছেলেদের সমীহ করেন, শ্রীনাথকে আরও একটু। ছোট ছেলে ছাড়া আর কাউকে তুই-তোকারি করেন না। বাইরে দাঁড়িয়ে একটু গলা খাঁকারি দিয়ে সাবধানে ডাকলেন, শ্রীনাথ, আছে নাকি?

    ভিতর থেকে গম্ভীর গলা এল, কে?

    আমি দীননাথ।

    শ্রীনাথ দরজায় এসে দাঁড়াল। খালি গা, পরনে একটা সবুজ লুঙ্গি। টকটক করছে ফর্সা রং। চুলগুলো এলোমেলো। চোখের নীচে একটু বসা ভাব, একটু কালচেও। ঠোঁট দুটো কেমন যেন ঢিলে হয়ে ফাঁক হয়ে আছে। শরীরের বাঁধুনি নেই। এক সময়ে খুবই সুপুরুষ ছিল শ্রীনাথ। এখনও আছে। বোধহয় এখন একটু বয়সের ছাপই পড়েছে চেহারায়।

    শ্রীনাথ একটু অবাক এবং বিরক্ত হয়েছে। বলল, আপনি একা একা এতদূর এলেন কেন?

    দীননাথ অপ্রতিভ হয়ে হাসলেন। বললেন, আজকাল একটু হাঁটতে-টাটতে পারি। বউমার কাছে এসে বেশ ভাল আছি। কত সেবা-যত্ন।

    বলে বড় বড় চোখ করে ছেলের দিকে চাইলেন দীননাথ। কিন্তু শ্রীনাথ খুশি হয়েছে বলে মনে হল না, বরং বিরক্তিটা স্পষ্ট প্রকাশ পেল। বলল, তবু একা একা এতদূরে এসে ভাল করেননি।

    দীননাথ ম্লান হয়ে বললেন, ভাবলাম অনেকদিন তোমার সঙ্গে দেখা হয় না। তুমি তো রাত করে ফেরো, আমি তখন ঘুমিয়ে পড়ি।

    বিরক্ত শ্রীনাথ বলল, দেখা করার কী আছে?

    তোমার শরীরটা কি ভাল নেই? আজ তাড়াতাড়ি ফিরলে যে।

    না, শরীর ভালই আছে।

    দীননাথ ঘরে ঢুকতে সাহস পেলেন না। অনেকটা হেঁটে এসে একটু কাহিল হয়ে পড়েছেন। লাঠিটা পাশে রেখে বড় একটা শ্বাস ছেড়ে ছেলের মন রাখার জন্য বললেন, অফিসে নাকি তোমার খুব নামডাক। খাটুনিও তাই বোধ হয় বেশি। নামডাক হলেই খাটুনি বাড়ে।

    শ্রীনাথ ঠোঁট ফাঁক করে অসহায় বিরক্তি নিয়ে বাবার দিকে চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর বলে, চলুন আপনাকে রেখে আসি।

    তোমাকে যেতে হবে না। আমি একাই পারব। একটু টা নিয়ে নিই।

    অনিচ্ছের গলায় তখন শ্রীনাথ বলে, শানে বসছেন কেন? দাঁড়ান চেয়ার এনে দিই।

    হাত তুলে দীননাথ বলেন, তার দরকার নেই। এই ভাল। বলছিলাম কি বউমার ব্যবস্থা তো খুবই সুন্দর, চারদিকে লক্ষ্মী শ্ৰী। একটু আগে বসে বসে ভাবছিলাম, এই জায়গায় তোমরা তিন ভাই যদি একসঙ্গে থাকতে পারতো।

    শ্রীনাথ কথাটার জবাব দিল না। তবে অনেকটা দূরত্ব রেখে সেও বারান্দার শানে বসল উবু হয়ে।

    দীননাথ আপন মনেই বললেন, এখানে হাঁস, মুরগি, গোরু, ছাগল, সবজি কত কী! অপর্যাপ্ত। বুটার কথা ভাবি। বড় কষ্টে আছে। সবাই মিলেমিশে থাকলে কারও তেমন কষ্ট থাকবে না।

    শ্রীনাথ গম্ভীর হয়ে জিজ্ঞেস করে, বুলুর কষ্ট কিসের?

    সংসারে বড় অভাব। আমি তো ওদের সংসারে কম দিন থেকে আসিনি।

    অভাব হওয়ার তো কথা নয়। বুলু যা মাইনে পায় ওদের দু’জনের ভালভাবে চলবার কথা।

    তবে চলে না কেন?

    কঞ্জুসদের ওরকমই হয়। ওটা অভাব নয়, স্বভাব।

    বুলু যে একটু কৃপণ তা দীননাথ জানেন। তবু কথাটা স্বীকার না করে মাথা নেড়ে বললেন, মিতব্যয়ী আর কী। তবে প্রয়োজন বুঝে খরচ করতে পিছছায় না।

    শ্রীনাথ অন্যমনস্ক হয়ে দূরের দিকে চেয়ে ছিল। বলল, কষ্ট তো আমারও কিছু কম যায়নি একসময়ে। তখন বুলু ক’দিন খোঁজ করেছে?

    দীননাথ আবার অপ্রতিভ হয়ে বললেন, ও খোঁজ করে কী করবে? ওর নিজেরই চলে না।

    এ কথায় শ্রীনাথের মুখ বিকৃত হয়ে যায়। তীব্র বিরক্তির গলায় বলে, বুলুকে আপনি খুবই স্নেহ করেন, সেটা ভাল কথা। কিন্তু আপনার যে আরও দুটি ছেলে আছে সে কথাটা ভুলে যান কেন? এত একচোখোমি মোটেই ভাল নয়।

    দীননাথ এ কথায় একেবারে বেহাল হয়ে গেলেন। খানিকক্ষণ চুপ করে বসে নিজের ঠোঁটে জিভ বুলিয়ে নিলেন। তারপর বললেন, কথাটা ঠিক তা নয়। বুলুর কাছেই ছিলাম তো, তোমরা কেউ খোঁজ নিতে না।

    বাজে কথা। শ্রীনাথ ধমক দিয়ে বলে, আমরা সবসময়েই আপনার খোঁজ নিতাম, টাকাও পাঠানো হত।

    সে সবই শুনেছি।

    তবে বলছেন কেন?

    বলে কিছুক্ষণ আক্রোশভরে দীননাথের দিকে চেয়ে রইল শ্রীনাথ। তারপর হঠাৎ তার চোখ উদাস হয়ে গেল। মুখটা লাল হয়ে উঠেছিল, আস্তে আস্তে বিবর্ণ হয়ে গেল। খুবই উদাস গলায় বলল, বুলু বা দীপু যদি এখানে এসে থাকতে চায় অনায়াসেই থাকতে পারে। আমি বলার কে? এ সম্পত্তি কার তা কি আপনি জানেন না?

    কেন, মল্লিনাথের।

    শ্রীনাথ মৃদু ম্লান হাসি হাসল। বলল, আপনার ভীমরতি ধরেছে। এ সম্পত্তি আপনার বউমার।

    দীননাথ তাতে হটে গেলেন না। দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে বললেন, বউমার মানেই তো তোমার। স্ত্রীধনে স্বামীর পুরো অধিকার। তাছাড়া স্ত্রীলোকের আবার আলাদা সম্পত্তি হয় নাকি? আমি যদি একটা বাড়ি করতাম তবে তোমার মায়ের নামেই করতাম। সবাই আজকাল তাই করে।

    শ্রীনাথ মাথা নেড়ে বলে, অন্যে কী করে তা দিয়ে আমার কী? আপনার বউমার সম্পত্তি আমি নিজের সম্পত্তি বলে মনে করি না।

    দীননাথ একটু অবাক হয়ে বলেন, বউমা তো চমৎকার মেয়ে। আমার জন্য ছাগল পর্যন্ত কিনেছে। তোমার সঙ্গে তার বনিবনা হয় না কেন?

    শ্রীনাথ বাবার দিকে অবাক হয়ে তাকাল। বলল, ছাগল কিনেছে?

    শুধু তাই? দু’বেলা ডাক্তার আসছে। চমৎকার সব খাওয়াদাওয়া। আমার তো দশ বছর বয়স কমে গেছে।

    শ্রীনাথ চুপ করে রইল।

    দীননাথ বললেন, তুমি বরং বউমাকে একটু বলে দেখো। তুমি বললে বউমা দীপু আর বুলুকে এখানে আনতে অরাজি হবে না।

    আপনার বউমা আমার কথায় চলেন না। আপনিই বলুন, তবে এটা জেনে রাখবেন, এ সম্পত্তিতে আমার অধিকার নেই। আমি অধিকার ফলাতেও চাই না।

    বড় ভাইয়ের সম্পত্তিতে সকলের অধিকার আছে। মেয়েমানুষ যত ভালই হোক তাকে মাথায় উঠতে দিতে নেই।

    বিরক্ত হয়ে শ্রীনাথ বলে, যা বোঝেন না তা নিয়ে কথা বলেন কেন? বউমা আপনার সেবা-যত্ন করছে, সে খুব ভাল কথা। আরামে থাকুন। খামোখা সংসারের পলিটিকসে মাথা দিতে যাবেন না। তা হলে আর বেশি দিন আরামে থাকতে হবে না। আপনার ভালর জন্যই বলছি। এখন আপনি যান, আমার কাজ আছে।

    দীননাথ ম্লানমুখে উঠে পড়েন। তিন ছেলে এক জায়গায় থাকবে, তার এই স্বপ্নটা হয়তো কোনওদিন সত্য হবে না। ছেলেদের মধ্যে মিল নেই। তবু বউমাকে একবার বলে দেখবেন। বউমা বিবেচক।

     

    গাছপালার ফাঁক-ফোকর দিয়ে ধীরে ধীরে দীননাথ চলে যাচ্ছেন, এই দৃশ্যটা খানিকক্ষণ দাওয়ায় বসে দেখল শ্রীনাথ। তারপর ঘরে এসে হেলানো চেয়ারটায় বসল। জীবনে কোথাও কোনও শান্তি নেই। মদ মেয়েমানুষ রেস খেলা কিছুতেই সে কোনও আনন্দ পায় না আজকাল। মনটা বিষাক্ত, বিরক্ত, ক্ষিপ্ত। মাথার মধ্যে পাগল-পাগল ভাব।

    বহুক্ষণ চোখ বুজে ভিতরকার যন্ত্রণাটা অনুভব করে শ্রীনাথ। ভিতরে যেন একটা অর্থহীন পাগল কারখানা চলছে। বিপুল রোলার, পিনিয়ন শ্যাফট চলছে ঘুরছে শব্দ করছে, কিন্তু কিছুই তৈরি হচ্ছে না। একা হলেই নিজের ভিতরে এই পাগলা কারখানার কান্ড টের পায় সে। বহুকাল হল সে কোনও সৎ চিন্তা করে না, সৌন্দর্য উপভোগ করে না।

    খুব তলিয়ে ভাবলে অবশ্য একটা কথা স্বীকার করতে হয়। এই যন্ত্রণাটাকে সে উপভোগ করে। এই বিষ থেকেই একটা নেশার আমেজ উঠে এসে তার মন আর মগজকে আচ্ছন্ন করে রাখে। একরকমের মৌতাত। তখন সে বাইরের পৃথিবীর কিছুই লক্ষ করে না, আপনমনে বিড় বিড় করে নানা কথা বলতে থাকে। কান পেতে শুনলে শোনে, বিড় বিড় করে সে যা বলে সেগুলো কুৎসিত অশ্লীল সব গালাগাল এবং আক্রোশের কথা। আর তার সমস্ত আক্রোশ ক্রমে ক্রমে জড়ো হয়েছে। এক জায়গায়। সেই জায়গাটার নাম তৃষা। তাই চোখ বুজলেই সে তৃষাকেই দেখতে পায়।

    বাবা!–আচমকা ডাকে খুব চমকে উঠল সে।

    কে রে?

    আমি। আমি স্বপ্ন।–বলে স্বপ্নলেখা ঘরে আসে।

    কত লম্বা হয়েছে স্বপ্ন। বহুকাল বাদে দেখল নাকি নিজের ছোট মেয়েটাকে! মুখের আদলটাও একটু বদলে গেছে। নিজের মুখের সুস্পষ্ট ছাপ মেয়ের মুখে দেখতে পায় শ্রীনাথ। এ মেয়ে দিনেকালে চিত্রার মতোই সুন্দর হবে।

    মেয়েকে দেখে মনটা সামান্য নরম হল। গলার তেতো ভাব যতদূর সম্ভব কমিয়ে রেখে আস্তে করে জিজ্ঞেস করল, কী চাস?

    স্বপ্না একটু ত্রস্ত। খুব ব্যস্ত জরুরি গলায় বলে, ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে। তোমার ওষুধের বাক্সটা নিয়ে একবার আসবে?

    মাথা ফেটে গেছে? কীভাবে?–বলে হিম হয়ে থাকে শ্রীনাথ। রক্ত সে একদম সইতে পারে।

    বেজি নিয়ে খেলা দেখাচ্ছিল পাঠশালার মাঠে। বেজিটা পালিয়ে যাচ্ছিল, ভাই তাড়া করতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে। ইটে মাথা লেগে কেটে গেছে।

    তোর মা কোথায়?

    মা বাড়ি নেই। ছোটমামাকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় গেছে সেই দুপুরবেলায়। ফিরতে রাত হবে। পিসেমশাইকে দেখতে যাবে বলে গেছে।

    তৃষাকে ঘৃণা করলেও শ্রীনাথ জানে এসব অবস্থায় তৃষাই সবচেয়ে উপযুক্ত লোক। তার রক্ত সাপের মতো ঠান্ডা, কোনও বিপদে কখনও ঘাবড়ায় না।

    আঁকুপাকু করে শ্রীনাথ উঠল বলল, খুব রক্ত পড়ছে নাকি?

    খুব। ভেসে যাচ্ছে।

    জ্ঞান ফিরেছে?

    জ্ঞান ফিরবে কী? অজ্ঞান তো হয়নি। বরং হাসছে হি হি করে।

    হাসছে?

    ভাইকে তো চেনো না। গেছে বাঁদর একটা।

    হাসছে শুনে খানিকটা ধাতস্থ হল শ্রীনাথ। একটা ফার্স্ট এইড বক্স বহুকাল ধরে এই ঘরে রাখা আছে। দাদা মল্লিনাথই কিনে রেখেছিল। ডেসকের লকার থেকে সেটা বের করে খুলে দেখল, ব্যান্ডেজ, কাঁচি থেকে ওষুধপত্র সব সাজিয়ে রাখা। দেখলেই কেমন লাগে। কেবল রক্ত, ক্ষত, যন্ত্রণার কাতর শব্দ মনে পড়ে। এইজন্যই না সে প্রীতমকে এতকাল দেখতে যায়নি!

    বাক্সটা নিয়ে উঠল শ্রীনাথ, চল দেখি।

    মায়াবশে স্বপ্না বলে, তোমাকে যেতে হবে না। বাক্সটা দাও।

    পারবি?

    ওমা, আমি তো ফাস্ট এইড জানি। মা’র ঘর তালাবন্ধ, নইলে ওঘরেও ফার্স্ট এইড বক্স ছিল।–বলে স্বপ্না বাক্স নিয়ে চলে গেল।

    শ্রীনাথ বসে পড়ে। কিন্তু নিজের ভিতর এক অস্থিরতা বোধ করতে থাকে। একবার যাওয়া দরকার। তবে একটু পরে। আগে ওরা রক্ত-টক্ত মুছে ব্যান্ডেজটা বেঁধে ফেলুক।

    ভিতরের কারখানাটা আবার ভীমবেগে চলতে শুরু করে। শ্রীনাথ বিড় বিড় করতে থাকে, মাগি। হারামজাদি! শুয়োরের বাচ্চা!

    সন্ধে হয়ে আসতে শ্রীনাথ উঠে পড়ল। জামাকাপড় পরে ভিতরবাড়িতে এসে সজলকে দেখল। ব্যান্ডেজ বাঁধা মাথা নিয়ে শুয়ে শুয়েই মেকানো নিয়ে খেলছে। দেখেই বলল, বাবা দেখো, ঠিক হাওড়ার ব্রিজ হয়নি?

    শ্রীনাথ আড়চোখে লোহার ছোট ছোট পাতে নাটবল্ট দিয়ে এঁটে তৈরি করা ব্রিজটা দেখে বলল, অনেকটা।

    এই সেটটা দিয়ে ক্যান্টিলিভার ব্রিজ হয় না। তুমি আমাকে একটা বড় মেকানো কিনে দেবে?

    দেওয়া যাবে।

    আজই।

    আজ কী করে হবে? ওসব তো কলকাতা ছাড়া পাওয়া যায় না।

    তুমি কলকাতায় যাচ্ছো তো?

    না। এখানেই একটু ঘুরে আসতে যাচ্ছি।

    আমি যাব?

    আজ নয়। সদ্য একটা ব্যথা পেয়েছ।

    ব্যথা লাগেনি।

    তোমার এ টি এস নেওয়া আছে?

    হ্যাঁ।

    তবু আজ আর না বেরোলেই ভাল।

    তা হলে কী আনবে?

    কী চাও?

    কিছুমিছু এনো।–বলে সজল হি হি করে হাসে।

    হাসছ কেন?

    কিছুমিছু গল্পটা জানো না বাবা?

    না।

    নিতাইদা জানে। সওদাগর বাণিজ্যে যাচ্ছিল, সবাই সবকিছু আনতে বলল, শুধু ছোটবউ বলল, কিছুমিছু এনো।

    সজল গল্প শুরু করছে দেখে শ্রীনাথ তাড়াতাড়ি বলে, গল্প পরে শুনব বাবা। তুমি এখন ঘুমোও।

    সন্ধেবেলা কি ঘুম আসে? এখুনি মাস্টারমশাই আসবে যে।

    আজ পড়বে?

    পড়ব। আমার কিছু হয়নি।

    চিন্তান্বিত মুখে শ্রীনাথ ছেলের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে। তারপর বলে, তা হলে পড়ো। উঠে পড়ি বাবা?

    উঠবে?–বলে আবার ভাবে শ্রীনাথ।

    তুমি দিদিদের ডেকে বলে দাও যে, আমাকে ওঠার পারমিশন দিয়েছ। নইলে ওরা আমাকে জোর করে শুইয়ে রাখবে।

    শ্রীনাথ ষড়যন্ত্রটা বুঝতে পারল। তবু ঘাড় নেড়ে বলল, ঠিক আছে।

    তা হলে উঠি?

    শরীর ভাল লাগলে ওঠো।

    সজল উঠেই পড়েছিল। এখন এক লাফে বিছানা থেকে নেমে পড়ল। হো হো হো’ বলে দু’হাত ওপরে তুলে চেঁচাতে চেঁচাতে ঘর থেকে বের হয়ে গেল এক ছুটে।

    শ্রীনাথ বেরিয়ে এসে দেখে স্বপ্না কোথা থেকে এসে সজলকে পাকড়াও করে ধমকাচ্ছে, শিগগির গিয়ে শুয়ে থাক। নইলে মা এলে বলে দেব।

    শ্রীনাথ গম্ভীর গলায় বলল, ওর তেমন কিছু হয়নি। ছেড়ে দে। বসে বইটই পড়ুক, মন ভাল থাকবে।

    শ্রীনাথ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। হাতে টর্চ। রামলাখনের ঘরে ফুর্তির আসরটা কী রকম তা একবার দেখে আসবে আজ। খুবই নোংরা অস্বাস্থ্যকর নিশ্চয়ই। তবে শ্রীনাথের আজকাল বাছাবাছির মন নেই। তা ছাড়া এখানকার বদমাশ শয়তানগুলোর সঙ্গে একটু মেলেমেশা করা বড় দরকার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }