Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩১. হুইলচেয়ারে

    তুই হুইলচেয়ারে কেন রে?

    আমাকে সবাই যে রুগি বানিয়ে রাখতে চায়, কী করব বলো তো সেজদা!

    তুই তো একটু-আধটু হাঁটতে পারছিলি।

    এখনও কি পারি না? পারি। দেখবে?

    থাক গে। বসে আছিস বসেই থাক।

    সারাদিন বসে থাকি। তুমি কতকাল পরে এলে।

    সময় পাই না রে। মনটাও ভাল নেই।

    তোমার মনের আবার কী হল? চাকরি যায়নি তো!

    না, চাকরিটা আছে।

    পার্মানেন্ট হয়েছ?

    এবার হয়তো হয়ে যাব।

    প্রীতম খুব সুন্দর একরকম হেসে বলে, অবশ্য সেটা জেনেই বা আমার কী হবে? জাগতিক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে আজকাল ভাবি না।

    না ভাবাই ভাল। জগৎটা তো ভাল কিছু নয়। তোর মাথায় কোনওকালেই বিষয়বুদ্ধি ছিল না। তুই ছিলি আনমনা, ফিলজফার টাইপের।

    প্রীতম একমুখ হাসি নিয়ে বলল, তার মানে তো হাঁদা।

    একটু লজ্জা পায় দীপনাথ। ছেলেবেলায় অন্যমনস্ক প্রীতমকে সে নিজেই হাঁদা বলে ডাকত। তাই থেকে পাড়ায় তার নামই হয়ে গিয়েছিল হাঁদা। বলল, হাঁদা থাকাই ভাল।

    প্রীতম মাথা নেড়ে বলে, এ সমাজে হাঁদার জায়গা নেই সেজদা। চার চৌকো না হলে টেকা যায় ‘না।

    দীপ স্মিতমুখে বলে, তা যদি বলিস তবে আমিও তোর চেয়ে কম দা নই। তুই তবু একটা ভাল চাকরি করছিলি। আমার মতো ওপরওয়ালার ফাইফরমাশ খাটতে হয়নি তোক।

    প্রীতম একটু থমকে গিয়ে বলে, ওপরওয়ালা কি তোমাকে ফাইফরমাশ করে?

    বেফাঁস কথাটা বলে ফেলেছে দীপনাথ। প্রীতম তাকে এতটাই ভালবাসে যে, তার আর বোস সাহেবের আসল সম্পর্কটা জানলে দুঃখ পাবে। তাই সে তাড়াতাড়ি বলল, চাকরি করতে গেলে ওরকম একটু আধটু করতে হয় রে।

    প্রীতম মাথা নেড়ে বলে, ঠিক বুঝলাম না। বুঝিয়ে বলো।

    বোঝানোর কিছু নেই। ফাইফরমাশ মানে তো আর সেরকম কিছু নয়।

    আগেও তুমি এরকম কিছু কথা বলেছ। তখন গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু আজ তোমার মুখ দেখে অন্যরকম লাগছে।

    অন্যরকম লাগবার কী? আমি ঠিক আছি। চাকরি পাকা হলে সবই স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

    প্রীতম অনেকক্ষণ গুম হয়ে রিল। আস্তে হুইলচেয়ারটা ঘুরিয়ে মেঝের ওপর খানিকটা গড়িয়ে গিয়ে ফিরে এল। বলল, শুধু চাকরিই নয়, আরও কিছু ব্যাপার ঘটেছে সেজদা। তোমার চোখ অন্যরকম।

    মনে মনে প্রীতমের নজর থেকে রেহাই চাইছিল দীপনাথ। আগে ওর নজর এত তীক্ষ্ণ ছিল না। রোগে ভুগলে কি মানুষের অনুভূতি বাড়ে? বাড়ে হয়তো। দীপনাথ জানে, টি বি রোগীদের মধ্যে অনেকেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কবি বা শিল্পী হয়েছে। হয়তো শরীরের ক্ষয় অন্যদিকে স্নায়ুকে স্পর্শকাতর করে তোলে। সে একটু অস্বস্তিতে ভরা গলায় বলল, কিছুই পালটায়নি। তুই ভুল দেখছিস।

    তুমি নিজে কিছু টের পাও না?

    না তো! কী টের পাব?

    আশ্চর্য! যদি সত্যি টের না পেয়ে থাকো তবে এখন থেকে খুব সাবধান হোয়ো সেজদা।

    কিসের জন্য সাবধান করছিস?

    প্রীতম মৃদু স্বরে বলল, যে মানুষ নিজের বশে থাকে না সে নানা অবস্থার চাপে পড়ে নানারকম মানুষের একটা সমষ্টি হয়ে দাঁড়ায়।

    দূর! কথাটার মানেই বুঝলাম না।

    তোমাকে কি আমি বোঝাতে পারি? তুমি চিরকালই আমার চেয়ে সবকিছু বেশি বোঝে।

    চিরকালই তোর মাথায় অদ্ভুত সব কথা আসে। একবার যেন কোন মহাপুরুষের একটা কথা তুলে শুনিয়েছিলি, শয়তান আর কেউ নয়, শয়তান হল মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী ইচ্ছা। কথাটার মানে অনেক ভেবে ভেবে শেষকালে বের করেছি। অদ্ভুত কথা।

    প্রীতম ভ্রু কুঁচকে বলে, অন্য সব কথা ছেড়ে এ কথাটাই বা মনে রাখলে কেন তুমি?

    প্রতিদ্বন্দ্বী ইচ্ছা কাকে বলে তা বুঝতে পেরেছি বলে।

    তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী ইচ্ছা কিছু হয়?

    সকলেরই হয়।

    প্রীতম মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। তারপর আবার ভ্রু কুঁচকে কী যেন ভাবে। খানিক বাদে বলে, আমার মাথা পর্যন্ত এখনও রোগটা পৌঁছয়নি। যতদিন না পৌঁছয় ততদিন আমি সব বুঝতে পারব সেজদা। কিন্তু আমার আজকাল কিছু বুঝতে ইচ্ছে করে না। মনে হয় রোগটা তাড়াতাড়ি মাথায় পৌঁছে গেলে বুঝি ভাল হয়।

    দীপনাথ একটু অবাক হয়ে বলে, সে কী? তুই যে নেগেটিভ চিন্তা করতে ভালবাসতি না! তুই যে আমাকে রোগের কথাটাও উচ্চারণ করতে বারণ করেছিলি?

    এখন আর বারণ করছি না।

    হাল ছেড়ে দিচ্ছিস?

    তোমরা সংসারটাকে বেঁচে থাকার যোগ্য করে রাখোনি। এখানে কি কারও বাঁচতে ইচ্ছে করে? কদিন আগেও তো এই পৃথিবীটাই ছিল। হঠাৎ রাতারাতি তো পালটে যায়নি।

    বড় পৃথিবী না পালটাক, মানুষের নিজস্ব জগতের নিজস্ব সংসারের পৃথিবী তো পালটে যেতে পারে।

    তোর পৃথিবীর আবার কী অদলবদল হল?

    প্রীতম ভ্রু কুঁচকে রোগা হাতে নিজের নীচের ঠোঁটটা টেনে ধরে চুপ করে থাকে। জবাব দেয় না।

    খুব গাঢ় স্বরে এবং বুকে ভয় নিয়ে দীপনাথ জিজ্ঞেস করে, কিছু হয়েছে রে?

    প্রীতম হঠাৎ খুব স্পোর্টসম্যানের মতো হেসে ওঠে। সোজা হয়ে বসার চেষ্টা করতে করতে বলে, হলেই বা কী? আমার তো কিছুই যায় আসে না।

    দীপনাথের মনে পড়ে বিলুর সাজগোজ, অরুণ ওকে মাঝে মাঝে গাড়িতে লিফট দেয়। অক্ষম প্রীতম পড়ে থাকে ঘরে। বিলু টাটকা যুবতী।

    দীপনাথ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, কী জানি কী হল!

    দুনিয়া পালটে যাচ্ছে সেজদা।

    হুঁ। কিন্তু পালটানোর কারণটা তো বলবি!

    সব কি বলা যায়? তোমার কথাই কি তুমি আমাকে বলতে পারো? পারো না।

    আমার বলার মতো কিছু নেই।

    কে জানে! হয়তো আছে। হয়তো নেই।

    প্রীতম, তুই কেন খামোখা আমাকে নিয়ে ভাবিস?

    খামোখা নয় সেজদা। আমি একা একা সারাদিন সকলের কথা যদি না ভাবি তবে আমার সময় কাটবে কী করে?

    শুধু সময় কাটানোর জন্য হলে বই পড়িস না কেন?

    আমি তো নাটক নভেল ভালবাসি না। ঘরে তেমন বই নেইও কিছু। বিলু কখনওই বইটই পড়ে। আমারও ভাল লাগে না। তার চেয়ে বরং জ্যান্ত মানুষদের নিয়ে ভাবলে অনেক বেশি ভাল লাগে।

    ভাল আর লাগছে কই? আমরা তো কেউ তোর মনের মতো ভাল নই!

    প্রীতম হাসে না। গম্ভীর মুখেই বলে, কথাটা মিথ্যে নয় সেজদা, তোমরা কেউ আমার মনের মতো ভাল নও। কিংবা হয়তো আজকাল আমার ভালর সঙ্গে তোমাদের ভাল মিলছে না।

    তা নয় রে ঘরে বসে থেকে তুই তো বাইরের সঙ্গে সম্পর্ক বেশি রাখিস না। তাই হয়তো ঠিকঠাক সব জিনিস বুঝিস না।

    প্রীতম একটু হাসে। বলে, তুমি এখনও আমাকে সেই শিলিগুড়ির বাচ্চা প্রীতম বলে ভাবো বোধহয়।

    কেন, তাই বললাম বুঝি?

    শোনো সেজদা, আমি বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মিটিয়েছি। শিগগিরই আমার ঘর-সংসারের সঙ্গে যে সম্পর্কটুকু আছে তাও মিটে যাবে। তখন তোমাদের ভাল নিয়ে তোমরাই একটা বিচার করে দেখো।

    বহুবচনে বলছিস কেন রে? আমার সঙ্গে কাকে জড়াচ্ছিস?

    এই কথায় হঠাৎ প্রীতমের ঠোঁট দুটো কি কেঁপে উঠল? টপ করে মাথা নোয়াল কেন? চোখে জল এল নাকি? একটু দূরে চেয়ারে বসেছিল দীপনাথ। কাছে উঠে এসে প্রীতমের কাঁধে আলতো করে হাত রেখে বলল, আমাকে বিশ্বাস হয় না তোর?

    হয়।—খুব ক্ষীণ গলায় বলে প্রীতম, একমাত্র তোমাকেই হয়।

    তা হলে সব বল। শুনি। কী হয়েছে?

    প্রীতম আবার মুখ তোলে। একটা খাস ছেড়ে বলে, বাদ দাও। ওসব কিছু নয়। দুনিয়ায় সম্পর্কটার কোনও মানে নেই। এ দুনিয়ায় কে কার ভাই, কে কার বউ, তা দিয়ে কী হয় বলো তো? মারা গেলে কোন অসীম অন্ধকারে হারিয়ে যাব সবাই, কে কার থাকবে?

    এ কথাটার মানেও বুঝলাম না। সহজ করে বুঝিয়ে দে।

    কিছু বোঝানোর নেই।

    বিলু কি তোর দিকে নজর দিচ্ছে না?

    প্রীতম এ কথাটার জবাব চট করে দিল না। একটু অস্থির হল যেন। দুটো হাত বারবার কোল থেকে হাতলে, হাতল থেকে চাকায় স্থানান্তরিত করল। চোখের পলক ফেলল ঘন ঘন। তারপর বলল, বিল বিলুর মতোই।

    বুঝিয়ে বল।

    প্রীতম খুব আস্তে করে বলল, মাঝখানে ক’দিন বিলু খুব আপনজন হয়ে উঠেছিল। ঠান্ডা বিলুর ভিতর খানিকটা উত্তাপ টের পেতাম। তুমিও হয়তো লক্ষ করেছ। আমি ইচ্ছাশক্তির কথা বলতাম। ও সেটা বিশ্বাসও করত।

    চমৎকার। তারপর কী হল?

    ও আমাকে অন্য চোখে দেখতে লাগল হঠাৎ। খুব বেশি নজর রাখত, খুব বেশি ভাবত আমাকে নিয়ে। তারপরই চাকরিতে ঢুকে গেল। গোটা একটা ছবিই যেন ভেঙে পড়ে গেল আচমকা।

    চাকরিতে ঢুকলে মেয়েদের একটু বদল হয়। সারাদিন খাটে, ঘরে এসে আবার সংসারের ঝামেলা পোয়ায়।

    আমার সেই কনসিডারেশন নেই ভাবছ? থাকলে ভালই তো।

    মেয়েদের চাকরি করা আমি পছন্দ করি না ঠিকই। কিন্তু যখন বিলু চাকরিতে ঢুকল তখন থেকেই আমি মনকে প্রস্তুত করেছি। মন নিয়েই তো আমার সারাদিন কাটে। সারাদিন তো শরীরের লড়াইতে হেরে যাচ্ছি, তাই মনকে খুব শাসনে রাখি। যে-কোনও অবস্থার জন্য আমার মন তৈরি থাকে।

    তা হলে অসুবিধেটা কোথায়?

    বাইরে থেকে দেখলে বোঝা যাবে না, সেজদা। ছোটখাটো অনেক ব্যাপার ঘটে যায়।

    কীরকম? একটু খুলে বল।

    বিলু চাকরি করতে যাওয়ার পর প্রথম-প্রথম সবই ঠিক ছিল। কোনও কিছুই পালটায়নি! শুধু ও না থাকলে বাড়িটা ফাঁকা লাগে মাত্র। সারাদিন বিলুর জন্য অপেক্ষা করতাম। বিলুও ফিরত আমার জন্য আকুলি ব্যাকুলি হয়ে। তারপর ক্রমে ক্রমে বিলুর বোধহয় ক্লান্তি এল। অনেকদিন ধরে এক রুগি-স্বামীর ঘর করছে। ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। সঙ্গে অফিসের খাটুনিও যোগ হয়েছে। কিন্তু সে ক্লান্তি একরকম। অন্যদিকে আর-একটা ক্লান্তিও আছে। সেটা হল আশা বা ভরসার ক্লান্তি। ও আমাকে একদিন বলল, ইচ্ছাশক্তির জোরে মানুষ সবকিছুকে জয় করতে পারে না। আধুনিক বিজ্ঞানে ইচ্ছাশক্তির কোনও দাম নেই। তুমি ঠিকমতো ওষুধ খাও, চিকিৎসা করা হচ্ছে, ঠিক সেরে যাবে।

    কেন বলল ওকথা?

    ওর ধারণা সারাদিন ইচ্ছাশক্তির ব্যায়াম করলে আমার মন ক্লান্ত হয়ে পড়বে। মাথাও বিগড়ে যাবে।

    দীপনাথ একটু হেসে বলে, তাতেই বা কী? ও যদি বলেই থাকে তো বলুক না। তুই কান দিস কেন?

    প্রীতম মাথা নেড়ে বলে, কান দিই কারণ কথাটা ওর নিজের নয়। আর কেউ ওর মুখে কথাটা বসিয়েছে। বিলু আধুনিক বিজ্ঞানের খবর রাখে না, ইচ্ছাশক্তির কার্যকারণও ওর জানা নেই।

    হয়তো হঠাৎ ভেবে ফেলেছে, জেনে ফেলেছে!

    তা নয়। আমার অনুভূতি তোমাদের চেয়ে এখন অনেক বেশি প্রখর। আমি তো বাইরে যাই না। তাই চারদিকের সঙ্গে ঘষা খেয়ে খেয়ে আমার অনুভূতি ভোতা হয়ে যায়নি। আমি নিজেকে নিয়ে থাকি, মনে শান দিই, যুক্তি দিয়ে সবকিছুকে বিশ্লেষণ করার অবসর পাই।

    বুঝলাম। বল।

    আমি যে মরতে চাই না এটা বিলুর চেয়ে আর বেশি কে জানে বলল! আমার নিজস্ব পদ্ধতিতে আমার লড়াই চালাচ্ছি। আমার আশা ছিল, বিলু অদ্ভুত সে লড়াইতে আমাকে সাপোর্ট দেবে। কিন্তু সেই প্রথম দিককার বিলুকে যেমন ঠান্ডা আর পর মনে হত, আজকাল বিলু যেন তাই হয়ে গেছে। কোনওদিন আমার ভাবনা-চিন্তার সঙ্গে বিলু তো একমত ছিল না। মাঝখানে একটু হয়েছিল। আবার এখন সেই আগেকার বিলু।

    তোর কী ধারণা?

    প্রীতম মাথা নেড়ে বলে, অন্য কেউ বিলুর ভাবনা-চিন্তাকে প্রভাবিত করে এটা আমার পছন্দ নয় সেজদা।

    অন্য কেউটা কে? অরুণ?

    তার আমি কী জানি! আমি তো ওদের দুজনের মধ্যে কী কথা হয় তা জানি না।

    দীপনাথের বুকের ভিতরটা ফাঁকা লাগছিল। এরকম কিছু হবে তা তো সে জানতই। মুখে অবশ্য বলল, বিলুর কথা নিয়ে তুই মাথা ঘামাস না।

    একেবারে উদাসীনও থাকতে পাবি না। বললাম যে মৃত্যুর সঙ্গে আমার লড়াই একেবারেই আমার নিজস্ব। ওষুধ বলো, ডাক্তার বলো, কেউ তো আমাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে না। হয়তো আমার ইচ্ছাশক্তিরও তেমন ক্ষমতা নেই। কিন্তু তা বলে লড়াইটায় এত সহজে হেরে যাব? কেউ আমার লড়াইটাকে বুঝবে না?

    বিলু ভুল করেছে। আমি ওকে বুঝিয়ে বলব।

    প্রীতম মাথা নাড়ে, তার চেয়ে তুমি আমার বাড়িতে একটা চিঠি লিখে দাও। শতম এসে আমাকে নিয়ে যাক।

    শিলিগুড়িতে যাবি?–হঠাৎ উৎসাহে একটু চেঁচিয়ে ওঠে দীপনাথ।

    প্রীতম ম্লান মুখে ক্লিষ্ট একটু হাসি ফুটিয়ে দীপনাথের দিকে চেয়ে বলে, তুমি ভুলে গেছ সেজদা?

    কী ভুলেছি?

    তোমাকে বলিনি কখনও আমাকে আমার মায়ের কথা, ভাইদের কথা, শিলিগুড়ির কথা বোলো! ওসব মনে পড়লে আমি হাল ছেড়ে দিই, আমার লড়াই করার জোর থাকে না। বলিনি?

    দীপনাথ একটু অবাক হয়ে বলে, কিন্তু এখন যে তুই নিজেই বললি!

    কেন বললাম তা তো ভেবে দেখলে না সেজদা!

    কেন?

    প্রীতম ঠোঁটকে রবারের মতো টেনে হাসিটা বজায় রাখল। বলল, তার মানে তো দাঁড়ায়, আমি হাল ছেড়ে দিয়েছি, লড়াইয়ে হেরে গেছি। এখন আমার মন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত।

    দীপনাথের কপালে ভাজ পড়ে। বহুকাল বাদে সে আজ খুব সিরিয়াস হয়। গম্ভীর গলায় বলে, শোন প্রীতম, বিলুর সামান্য কথায় তোর এত কিছু হয়নি। তুই আমার কাছে কিছু লুকোচ্ছিস। বল তো কী হয়েছে।

    না, না…

    বলতে বলতে কোনওদিন যা হয় না তা আজ হল। আচমকা প্রীতমেব গলা ভেঙে বসে গেল। চোখ দুটো পলকে রাঙা হয়ে উঠল। সে দু’হাতে মুখ ঢাকল।

    প্রীতম! প্রীতম! এই পাগলা! ওরকম করছিস কেন?

    প্রীতম সাড়া দিল না। মুখ ঢেকে কয়েকটা হেঁচকি তুলল। তারপর গোঁজ হয়ে স্থির হয়ে রইল অনেকক্ষণ। যখন মুখ তুলল তখন সে মুখ পাথরের মতো হয়ে গেছে।

    দীপনাথ ওকে একটা ঝাকুনি দিয়ে বলল, বলবি না তো বলিস না। আমি কিছু শুনতেও চাই না। কিন্তু দোহাই আমার মুখ চেয়ে অন্তত ভেঙে পড়িস না। আর কেউ চাক বা না চাক, আমি চাই তুই বেঁচে থাক। আমি তোর ইচ্ছাশক্তির জয় দেখতে চাই। আমি নিজে ইচ্ছের লড়াইতে মার খেয়ে গেছি। আই হ্যাভ নো মর্যালিটি। কিন্তু আমার চোখের সামনে তুই তো আছিস!

    প্রীতমের মুখের পাথর নরম হল। একটু হাসলও সে। বলল, সেজদা, তুমি কোনওদিন সাবালক হবে না। ওসব কী বলছ? আমি তোমার আইডিয়াল?

    দীপনাথ একটু ধাতস্থ হয়। একটু লজ্জাও পায়। তারপর ক্ষোভের সঙ্গে বলে, একটু ইমোশন এসে গিয়েছিল। তুই এরকমভাবে কথা বলিস কেন?

    ঠিক আছে, বলব না। কিন্তু আমি তো বলতে চাইনি। তুমিই তখন থেকে বলতে বলছ।

    দীপনাথ গম্ভীর হয়ে বলে, কিছু কথা আছে না শোনাই ভাল। ওগুলো চাপা থাকলে শান্তিতে থাকব।

    আমিও তাই বলি।

    দীপনাথ ঘড়ি দেখে বলে, সাতটা বাজতে চলল, বিলু এখনও এল না? লাবুই বা কোথায়?

    লাবু পাশের ফ্ল্যাটে ওর সমবয়সি একটি মেয়ের সঙ্গে মাদ্রাজি টিচারের কাছে প্রাইভেটে পড়ে।

    অচলা? বিন্দু?

    বিন্দু রান্নাঘরে আছে। অচলার ছেলের অসুখ বলে ক’দিন আসছে না।

    তুই তা হলে একা?

    ঠিক একা নই। আমার সঙ্গে হাজারও ভূতের ভাবসাব। তারা আছে।

    দীপনাথ হেসে বলে, তোর সঙ্গী ভূত ছাড়া আর কে হবে? অত পাগলামি সইবে কে?

    তুমি কি এখনই যাবে?

    দীপনাথের একটু কাজ আছে। ঘড়ি দেখে বলল, রাত হল।

    যাবে তো যাও।

    একটু বসি। বিলুর সঙ্গেও দেখাটা হয়ে যাবে।

    প্রীতম মাথা নেড়ে বলে, না, যাও সেজদা! আমি এখন একটু একাই ভাল থাকব। আমার মনে মনে কিছু হিসেব কষতে হবে।

    কর তা হলে। কিন্তু হিসেবের অঙ্কে মাইনাস বসাস না। সব প্লাস।

    ঠিক আছে। চেষ্টা করব। অন্তত একজন তো আমাকে বেঁচে থাকতে দেখতে চায়।

    অনেকেই চায়। তুই জানিস না।

    দীপনাথ বেরিয়ে আসে। আজকাল মন ভাল থাকে কমই। তবু আজ বিকেলে যেন আরও ভরাড়ুবি হল। খুব আনমনে সে নিউ আলিপুরে যাওয়ার একটা ভিড়ঠাসা বাসে উঠে পড়ল। বহুদিন বোস সাহেবের বাড়িতে যায়নি।

    বাসে আচমকাই বেলফুলের ঝাঁঝালো গন্ধ এল নাকে। এই এক গন্ধই মনের বিষাদকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আজ বোধহয় বিয়ের তারিখ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }