Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৬. ওপরে আজকের তারিখ

    ওপরে আজকের তারিখ। নীচে সাদা পাতায় গোটা গোটা অক্ষরে শ্রীনাথ তার ডায়েরি লিখছিল। আগেও লিখত মাঝে মাঝে। তবে সেসব ছিল গাছপালার কথা, নানা অভিজ্ঞতা এবং ভাবনা-চিন্তার কথা। আজকাল সে লিখছে নিজের জীবনের সব নোংরামির কথা। জ্বালা-যন্ত্রণার কথা। কিছুই গোপন করছে না, বরং এত খোলাখুলি লিখছে যে লেখার পর সেটা পড়তে গেলে তার নিজেরই মাথা গরম হয়ে যায়। তবু তার মধ্যে আছে বিষাক্ত, জ্বালাধারা, তীব্র এক সুখও।

    সবচেয়ে উত্তেজনা হয় যখন তৃষার কথা লেখে, মল্লিনাথের কথা লেখে। ওদের অবৈধ প্রেম এবং সজলের জন্মকথা সবটাই সে লিখেছে কিছু তথ্য ও কিছু অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে। কিন্তু গল্পটা জমেও গেছে বেশ।

    শ্রীনাথ জানে, তার ঘরে কোথাও কিছু গোপন করার উপায় নেই। তৃষা ড়ুপ্লিকেট চাবি করিয়ে রেখেছে। তার অনুপস্থিতিতে এই ঘরে প্রায়ই নিখুঁত তল্লাশি চালানো হয়। তৃষা কী খোঁজে সেই জানে। তবে শ্রীনাথ তার ডায়েরিটা খুব সহজ জায়গায়, হাতের কাছে, টেবিলের ওপরেই রেখে যায়। তৃষা পড়ুক। শুধু তৃষাকে পড়ানোর জন্যই না তার এই নিরন্তর ডায়েরি লিখে যাওয়া! এর জন্যই সে বেশ মোটা একটা খাতা তার প্রেস থেকে বাঁধিয়ে এনেছে।

    আজ সে মদ খায়নি। মেয়েমানুষের ঘরে যায়নি। আজ দুপুরে প্রচণ্ড বৃষ্টির পর মনটা কেমন অন্য গান গাইল। প্রেসের বুড়ো মালিক মারা গেল সেদিন। গতকাল তার শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ খেতে গিয়েই জীবনের নশ্বরতার দিকটা হঠাৎ আবার চোখে পড়ল তার। রাস্তা দিয়ে মড়া নিতে দেখলে বা শ্মশানঘাটে গেলে যেমনটা হয় আর কী! ফুর্তি করলে মনের ভারী ভাবটা হয়তো কেটে যেত। কিন্তু কাটাতে চায়নি শ্রীনাথ। বহুকাল অনিত্য জীবনের কথা তো ভাবেনি। নতুন একটা ভাবনা। সেটা ভেবে দেখলে ক্ষতি কী?

    আজ সন্ধের মুখে ফিরে এসে পরিপাটি করে স্নান সেরে ডায়েরি নিয়ে বসেছে। আজ কোনও জ্বালা-যন্ত্রণার কথাও লিখছে না সে। আজ সে খুব শান্ত বিষণ্ণতায় লিখছে একটা যন্ত্র ও একজন মানুষের যৌথ সংগ্রামের কথা।

    একদিন সেই উনিশশো পনেরো সালে খলসেপুর গ্রাম থেকে একটি ছেলে জীবিকার সন্ধানে কলকাতায় এসে ড়ুবজলে পড়ে গেল। এই তরঙ্গসঙ্কুল উথাল-পাথাল দরিয়ায় সাঁতারের কায়দা। জানে না। কখনও এ রক-এ শুয়ে থাকে, কখনও ওই গাড়িবারান্দার তলায়। তখন করপোরেশনের জলের কল শুকনো থাকত না, লোকের সদাশয়তা ছিল কিছু, দানধ্যান ছিল, ইংরেজ ছিল, রাজা ছিল, জমিদার ছিল। সে এক অন্য জগৎ। কখনও কলের জল, কখনও লোকের দয়া সম্বল করে ছেলেটা টিকে রইল। দু’-একজন তার অবস্থা দেখে দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিল। ছেলেটা গেল না… কালক্রমে সেই ছেলে কীভাবে এক মস্ত প্রেসের মালিক হল সেই কাহিনি খুব মনপ্রাণ। দিয়ে লিখছিল শ্রীনাথ। বুড়ো মালিক শচীন্দ্রনাথকে সে সত্যিই শ্রদ্ধা করত। এই একজন লোক যিনি জীবনে কাউকে বড় একটা আপনি থেকে তুমি বলেননি।

    শচীনবাবু মারা গেলেন, বহুকাল বাদে খুব দুঃখ পাওয়ার মতো একটা ঘটনা ঘটল শ্রীনাথের জীবনে। আজকাল তার মন এতই ভোঁতা হয়ে গেছে যে, সহজে সে দুঃখ পায় না। মনে হয় কোনও নিকট আত্মীয়-বিয়োগ ঘটলেও তার চোখে জল আসবে না কিছুতেই।

    কিন্তু এল। শচীনবাবুর বয়স হয়েছিল আশির কাছাকাছি। এই বয়সেও বেশ ভালই ছিলেন। শরীরে মেদ ছিল না, কোনও ঘ্যানঘ্যানে অসুখ ছিল না, খাওয়ার লোভ ছিল না। প্রচুর দানধ্যান করে গেছেন। শ্রীনাথ একমাত্র এই লোকটার জন্যই একটানা এতকাল এক জায়গায় নিরুপদ্রবে কাজ করে গেছে। একেবারে হালে কিছু শ্রমিক অসন্তোষ, ধর্মঘট, বিক্ষোভ এবং লক আউটের সম্ভাবনা ইত্যাদি দেখা দিলেও কোনওদিনই খুব বিরক্তিকর কিছু ঘটেনি। সবই মিটে গেছে। সেই প্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ডটি ভেঙে গেল। তবে প্রেসের ভবিষ্যৎ ভেবে নয়, নিছক একজন মানুষের জন্যই সেইদিন খুব কেঁদেছিল শ্রীনাথ। খুব কেঁদেছিল।

    তার নিজের জীবনে আর-কোনও সদর্থক লড়াই নেই, গরিব থেকে বড়লোক হওয়া নেই, সাফল্য লাভ নেই। এখন একটানা এক জীবন, ঘাত-প্রতিঘাতহীন বয়ে যাবে মৃত্যুর দেউড়ি অবধি। তাই বুঝি ওই কান্না। যে জীবন তার নয়, যে জীবন তার কখনও হবে না, তাকে সিংহাসনে বসিয়ে মানুষ মাঝে মাঝে এরকম ধুলায় পড়ে কাঁদে।

    দরজার শেকল নড়ে উঠতেই সামান্য চমকে গিয়েছিল শ্রীনাথ।

    মেজদা!–বাইরে থেকে কে ডাকল।

    কে?

    আমি দীপু। দরজা খোলো।

    শ্রীনাথ উঠে দরজা খুলে দীপনাথকে দেখে একটু অবাক হয়। কারণ, দীপনাথের পরনে একটা লুঙ্গি করে পরা ধুতি, গায়ে একটা স্যান্ডো গেঞ্জি। এই বেশে কোত্থেকে এল?

    দীপু! কখন এসেছিস?

    অনেকক্ষণ। সেই বেলা থাকতে।

    টের পাইনি তো?

    পাবে কী করে? তুমি তো বারবাড়িতে থাকো।

    দরজা ছেড়ে ঘরে গিয়ে দীপনাথকে ঘরে আসার পথ দেয় শ্রীনাথ। টেবিলের পাশের চেয়ারটায় গিয়ে ফের বসে বলে, এই ঘরটাই বাড়ির মধ্যে আমার সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে।

    ঘরখানা তো ভালই।–বলে দীপনাথ বিছানায় বসতে যাচ্ছিল।

    শ্রীনাথ বলল, ওই আরামকেদারায় বোস। মুখোমুখি হবে। আজ কি এখানেই থাকবি নাকি?

    বউদি যেতে দিল না। একটু কাজ ছিল কলকাতায়।

    কাজ তো রোজই আছে। তোর চাকরির কী একটা গোলমাল চলছে না?

    মিটে গেছে। আমি কোম্পানির অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজাব হয়েছি।

    বাঃ খুব ভাল।

    বলে শ্রীনাথ একটা বিড়ি ধরাল। আজকাল বিড়ি খেতে দারুণ লাগে। বড়বাজার থেকে স্পেশাল বিড়ি কিনে আনে পাইকারি দরে। দীপনাথের সাফল্য তাকে বিন্দুমাত্রও স্পর্শ করে না। দুনিয়ার কোনও কিছুই করে না বড় একটা! কত মাইনো হল জিজ্ঞেস করবে করবে করেও করতে পারে না। কী হবে জেনে?

    খানিক বিড়ির ধোঁয়া বুকে আটকে রেখে ছেড়ে দিয়ে বলল, ভাল।

    খুব ভাল। দীপনাথ চারদিকে তাকিয়ে ঘরখানা দেখে। স্থাপত্যের দিক দিয়ে ঘরটাকে গোলই বলতে হয়। সব দিকটা না হলেও পিছনের দিকটা পুরোপুরি অর্ধ বৃত্তাকার। চারদিকেই মস্ত মস্ত জানালা। এই ঘরের নাম মল্লিনাথ দিয়েছিল ভাবন-ঘর।

    হঠাৎ দীপনাথ প্রশ্ন করে, বড়দা এই ঘরে বসে কী ভাবত বলো তো!

    কে জানে!

    বড়দাকে কখনও কিছু খুব ভাবতে তো দেখিনি। হইচই করত, ফুর্তি করত, ভাবত কখন?

    ভাবত, ভাবত। না ভাবলে, ব্রেন না খাটালে এত সম্পত্তি করল কী করে অত অল্প বয়সে?

    দীপনাথ মাথা নেড়ে বলে, ভাবলেও অলস চিন্তা করত না। এই ঘরটা আসলে ছিল কাজের ঘর। ড্রইং করত, প্ল্যান আঁকত।

    তা হবে। আমি তো কিছু করি না, বসে বসে ভাবি। ঘরটার নাম আমিই সার্থক করছি।

    কী ভাবো তুমি?–সকৌতুকে প্রশ্ন করে দীপনাথ। তার সন্দেহ মেজদারও ভাবনা-চিন্তা করার মস্তিষ্ক নেই।

    আমার সবই অলস চিন্তা। অলস মাথা শয়তানের বাসা।

    প্রীতমকে দেখতে গিয়েছিলে?

    শ্রীনাথ মাথা নেড়ে বলে, না। তোর বউদি গিয়েছিল।

    সে খবর শুনেছি। তোমারও একবার যাওয়া উচিত।

    এবার যাব একদিন। তুই কি প্রায়ই যাস নাকি?

    যাই। প্রীতমকে তো ছেলেবেলা থেকে চিনতাম।

    সে তো ঠিকই। প্রীতম ছেলেটাও ভাল। ওর যে কেন এমন হল!

    সে কথা আমিও ভাবি। প্রীতমের তো কোনও পাপটাপ নেই। তবে কেন ওরই এই রোগ!

    বাঁচবে না, না?

    ডাক্তাররা স্পষ্ট করে সে কথাটাও তো বলছে না। তবে প্রীতম খুব বেঁচে থাকতে চায়।

    এ কথায় যেন একটু অবাক হয় শ্রীনাথ! বেঁচে থাকাটা এমন কী ভাল ব্যাপার যে, লোকে বেঁচে থাকতে চাইবে! তবে মাথা নেড়ে গতানুগতিক কথাটাই বলল, তা তো চাইবেই! কে না চায়!

    সেই আকাঙ্ক্ষাই প্রীতমকে বাঁচিয়ে রেখেছে। হয়তো শেষ অবধি ওই জোরেই বেঁচেও যাবে।

    তাই যেন হয়। এই বয়সে বিলুটা না ভেসে যায়।

    তোমার এক-আধদিন গিয়ে ওদের সঙ্গে দেখা করা উচিত। কেন সময় পাও না বলা তো! প্রেসের চাকরিটুকু ছাড়া আর তো তোমার দায়দায়িত্ব নেই। সংসাব-টংসার সব তো বউদি দেখছে।

    শ্রীনাথ আর-একটা বিড়ি ধরিয়ে বলে, সময়ের অভাবটা বড় কথা নয়। আমার কেমন যেন অসুখ-বিসুখের কাছে যেতে ইচ্ছে হয় না।

    তা বলে কর্তব্য করব না? আমরা ছাড়া প্রীতম আর বিলুর কে আছে বলো?

    কেন, প্রীতমের তো মা বাপ ভাই বোন, সবাই আছে শুনেছি।

    আছে, তবে তারা এখানে থাকে না। সেটা কোনও কথা নয়। এখানে যখন অসহায়ভাবে আছে তখন আমাদের সকলেরই উচিত খোঁজ-খবর নেওয়া।

    শ্রীনাথ একটু বিপদে পড়ে যায়। সঠিক কিছু জবাব দিতে পারে না। অন্য দিকে চেয়ে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য বলে, সেই যে তোর সঙ্গে একটা মেয়ে এসেছিল তার খবর কী?

    মেয়ে নয়, বসের বউ।

    ও, আমি ভেবেছিলাম বুঝি—

    কথাটা হওয়ায় ছেড়ে দেয় শ্রীনাথ। দীপনাথ একটু লজ্জা পায়। শ্রীনাথ কী ভেবেছিল তা খুব দুর্বোধ্য নয়।

    দীপনাথ বলল, অন্যরকম ভাববার তো কিছু নেই। আমি তো পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময়েই বলেছিলাম যে, উনি আমার বসের বউ।

    তা হবে। মনে ছিল না। মেয়েটা অনেক খবর রাখে।

    একালের ছেলেমেয়েরা তোমাদের আমলের চেয়ে একটু বেশি ইনফরমেশন রাখে।

    তা বুঝি। সত্যই তো এমন সব কথা বলে যে আমি অবাক হয়ে যাই।

    দীপনাথ মদ হেসে বলে, ইনফরমেশনের ব্যাপারে তোমার আগ্রহ খুবই কম কিন্তু মেজদা। আজকাল তোমাকে সব ব্যাপারেই খুব কোল্ড বলে মনে হয়! কেন বলো তো!

    আমার কথা বাদ দে।

    বউদির সঙ্গে কি বনিবনা হচ্ছে না?

    কোনওদিনই হত না।

    আজকাল বেশির ভাগ সংসারেই স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা হচ্ছে না দেখছি।

    তাই হবে।

    কিন্তু তোমরা তো আজকালকার ছেলেমেয়ে নও। যথেষ্ট বয়স হয়েছে। এতদিনে আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা তৈরি হয়ে যাওয়া উচিত ছিল।

    শ্রীনাথ একটা শাস ছেড়ে বলে, অনেক ব্যাপার আছে। সবটা তোকে বলা যায় না।

    দীপনাথ গম্ভীব হয়ে বলে, আমি শুনতে চাইনি। ওসব শুনে কী হবে? সবসময়েই দু’পক্ষেরই সমান বলাব কথা থাকে। কিন্তু কথা এক জিনিস, আর কাজ অন্য।

    শ্রীনাথ খুব ঘন ঘন বিড়িতে টান দেয় খানিকক্ষণ। তারপর বলে, আমার দিক থেকে আর কিছু করার নেই।

    এটা ভাল নয়, মেজদা। এ বয়সেও যদি তোমরা স্বামী-স্ত্রী অচেনা লোকের মতো থাকো তবে ছেলেমেয়েরা কী ভাববে? ওরা বড় হচ্ছে, বুঝতে শিখছে। মা-বাবার মধ্যে সম্পর্ক ভাল না থাকলে ছেলেমেয়েরা মানুষ হয় না।

    তার আমি কী করব? আমার কিছু করার নেই।

    বউদির ব্যাপারে তুমি বরফের মতো ঠান্ডা থাকলে কী করে কী হবে! বরং একদিন তোমরা মুখোমুখি বসে ঠান্ডা মাথায় কথাবার্তা বলো না কেম! বউদি তো অবিবেচক নয়। বরং আমাদের

    অনেকের চেয়ে বউদির বুদ্ধি বেশি, বড়দার সম্পত্তি উনি খুব ভাল দেখাশোনা করছেন।

    হ্যাঁ, ওঁর অনেক গুণ।–বিষ-গলায় বলে শ্রীনাথ।

    ওই তো রাগের কথা হল। মানুষের গুণের পাশাপাশি দোষও তো কিছু থাকবেই। তোমারও কি দোষ নেই?

    আমারই তো সব দোষ বলে শুনি।–শ্রীনাথ খুবই নিরুত্তাপ গলায় বলে।

    এটাও রাগের কথা। শোনো মেজদা, এভাবে বারবাড়ির ঘরে তোমার বনবাস মোটেই ভাল দেখায় না। তার চেয়ে তোমরা একটা আপসরফা করে নাও।

    আমাকে আর কিছু করতে বলিস না। আমি পারব না।

    কেন পারবে না?

    আমার ও ব্যাপারে কোনও আগ্রহ নেই।

    দীপনাথ একটু চুপ করে ভাবে। ঠিক এই অবস্থায় শ্রীনাথকে আর চাপাচাপি করা উচিত হবে কি বুঝতে পারে না। তার মনে হয়, শ্রীনাথ এখন এমন একটা হতাশা ও মানসিক অবসাদে ভুগছে যে তাকে বেশি চাপ দিলে সে খেপে উঠবে।

    দীপনাথ মৃদু স্বরে বলে, ঠিক আছে। তুমি না চাইলে কোনও কথা নেই।

    শ্রীনাথ আর-একটা বিড়ি ধবাচ্ছে। ধরিয়ে বলল, তুই যেভাবে বলছিস ওভাবে এর সমাধান হয়। অনেকদিনের অনেক ব্যাপার জমে জমে পাহাড় হয়েছে। এ শুধু কি কথা কয়ে ঠিক করা যায়?

    তুমি অত বিড়ি খাচ্ছ কেন? আগে তো খেতে না।

    খাই। এমনিই।

    অত বিড়ি খেয়ো না।

    কী আর হবে।

    রেসের মাঠে তোমাকে সেদিন খারাপ লেগেছিল। প্রায়ই যাও নাকি?

    যাই। তবে নিয়মিত কিছু নয়। আমার নেশা নেই। তুই যাস কেন?

    সাধ করে যাই না। বোস সাহেবের সঙ্গে যেতে হয়েছিল। নইলে রেস-টেস আমি বুঝিই না।

    শ্রীনাথ একটা শ্বাস ফেলে, আমার কাছে সব সমান। ভাল বা মন্দ বলে কিছু নেই।

    তুমি আজকাল খুব অন্যরকম হয়ে গেছ।

    সেটা আমিও টের পাই। কিন্তু কিছু করার নেই।

    করার থাকলেও তো তুমি করবে না।

    এ কথায় শ্রীনাথ একটু হাসল।

    আমি সজলকে নিয়ে একটা কথা ভাবছি, মেজদা।

    কী?

    আমার চাকরি তো পাকা হল। ভাবছি কলকাতায় একটা ফ্ল্যাট নেব। সজলকে কলকাতার কোনও ভাল ইংলিশ স্কুলে ভরতি করে দেব। আমার কাছেই থাকবে।

    সজল কি যেতে চায়?

    খুব চায়। আজই তো আমাকে চুপিচুপি বহুবার বলেছে, আমাকে তোমার সঙ্গে নিয়ে চলো, বড়কাকা। আমি তোমার কাছে থাকব।

    সজল ওরকম একটা কথা আমার কাছেও বলে। ও বোধহয় এ বাড়িতে থাকতে চায় না।

    না, চায় না। তোমরা ওর মনের দিকে মোটেই তাকাও না। হি ইজ বিয়িং নেগলেকটেড। আগের বার যখন এসেছিলাম তখন ও আমাকে কিছু অদ্ভুত কথা বলেছিল। তখনই বুঝেছিলাম ও ভেতরে ভেতরে রিভোল্ট করছে।

    হতে পারে। আমি অত সব লক্ষ করিনি।

    করো না কেন? আমাদের বংশের এখনও পর্যন্ত ওই একটিই সলতে। সজলের দায়িত্ব তোমরা যদি ঠিকমতো নিতে না পারো তবে আমিই নেব। ও আমাকে খুব ভালও বাসে!

    নে না। কে বারণ করেছে? ছেলেমেয়েরা আমার কাছে মানুষ হয় না, হয় ওদের মায়ের কাছে। কাজেই ওদের ভালমন্দ তোর বউদির হাতে।

    তবু তোমার দায়িত্ব আছে। তুমি বাবা।

    শ্রীনাথের বিড়ি নিভে গেছে। সেটার পোড়া মুখটা টিপে ছাই ফেলতে ফেলতে খুব অবাক হয়ে প্রতিধ্বনি করল, আমি বাবা!

    দীপনাথ অত্যন্ত তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে ছিল শ্রীনাথের দিকে। এই লোকটার জন্য তার দুঃখ হয়, এর ওপর রাগও হয়। কোথায় যেন একটা স্বাভাবিকতার সুর কেটে গেছে শ্রীনাথের জীবনে। বড়দা মল্লিনাথের সঙ্গে মেজো বউদি তুষার যে অবৈধ সম্পর্কের কথা কানাঘুষায় দীপনাথের কানে গেছে তা যদি সত্যিও হয় তবু তার জন্য শ্রীনাথেরও কি দায়িত্ব নেই! বড়দার খামারবাড়িতে বউদিকে একা ফেলে রাখত কেন দিনের পর দিন? ঘি আর আগুন কাছাকাছি রাখতে নেই, সে কথা কে না জানে! তখন তো অনেকে এমন কথাও বলেছে যে, দাদার সম্পত্তি হাত করার জন্যই শ্রীনাথ বউকে কাজে লাগিয়েছে। এসব নোংরামি এতকাল গুরুত্ব দিয়ে ভাবেনি দীপনাথ। এখন অবস্থা দেখে ভাবতে হচ্ছে।

    সে বলল, সজলের ওপর আমাদের সকলেরই দায়িত্ব আছে।

    বলছি তো, তোব বউদির সঙ্গে বুঝে দেখ। আমি এ সংসারের কেউ নই।

    বউদির অমত নেই। তবু তোমাকে জিজ্ঞেস করতে বলল।

    তবে তো হয়েই গেছে। নিয়ে যাস সজলকে, আমার অমত নেই। তুই কি শিগগিরই বিয়ে-টিয়ে করবি?

    হঠাৎ ওকথা কেন?

    বিয়ে না করলে সজল থাকবে কার কাছে? তোর তো অফিস আছে, ট্যুর আছে।

    লোক রাখব।

    দূর পাগলা!–শ্রীনাথ হাসে, বাচ্চারা কি মাইনে-করা লোকের কাছে ভাল মানুষ হয়? যাকগে, সেটা পরে ভেবে দেখা যাবে। এ বছরই তো কিছু হচ্ছে না। নতুন সেসনে ওকে কলকাতার ভাল স্কুলে ভর্তি করব। তার দেরি আছে।

    বাবার সঙ্গে দেখা করেছিস?

    করেছি। বাবা বলছিল, তুমি নাকি এক বাড়িতে থেকেও তার খোঁজখবর নাও না।

    নিই না ঠিক নয়। মাঝে মাঝে নিই। তবে এক বাড়িতেই তো থাকা, ব্যস্ততার কিছু নেই।

    আর-একটা কথা, মেজদা।

    তুই আজ অনেক কথা বলছিস।

    প্রয়োজন হয়েছে বলেই বলছি।

    বল। শুনছি।

    ঘরের কথা বাইরে লোককে জানানো কি ভাল?

    শ্রীনাথ ঠান্ডা বিড়িটার দিকে চেয়ে থাকে। জবাব দেয় না।

    দীপনাথ অত্যন্ত ঠান্ডা দৃঢ় স্বরে বলে, এ কাজটা কিন্তু মোটেই ঠিক নয়। মনে রেখো, এই পবিবারের সঙ্গে আমাদের সকলেরই সম্মান জড়িয়ে আছে। বউদির নামে তুমি যদি বাইরে কিছু রটাও সেটা আমাদেরও ছোট করে দেয়, তোমাকেও করে। তুমি সেটা বুঝতে চাও না কেন?

    ওসব কথা থাক।–শ্রীনাথ অস্বস্তি বোধ করে বলে।

    আজ থাক। কিন্তু পরে যদি শুনি তবে আবার কথাটা তুলব, আর তুমি যদি মনে করো যে, মানসিক দিক দিয়ে তুমি নিজের ওপর কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছ তা হলে তা জানিয়ো, ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করব।

    সুস্পষ্ট এটা ওয়ার্নিং। দীপনাথকে শ্রীনাথ খুব ভাল করে চেনে না। তবে এটা জানে যে, দীপনাথের নৈতিক বোধ খুব প্রবল, সবাই তাকে দাদা মল্লিনাথের মতোই শক্ত-সমর্থ লোক বলে জানে। তবে মল্লিনাথের নীতিবোধে ঘাটতি ছিল, দীপনাথের তা নেই।

    শ্রীনাথ বুঝতে পারল না দীপুকে তার ভয় পাওয়া উচিত কি না। বোধহয় উচিত। কেননা গত পাঁচ মিনিট সে দীপনাথের চোখে চোখ রাখা দূরের কথা, তার দিকে চাইতেই পারল না।

    দীপনাথ উঠল, আমি একটু নিতাই খ্যাপার খোঁজ করতে যাচ্ছি। যাওয়ার সময় দেখা হবে তোমার সঙ্গে।

    আয়।

    দীপু চলে যেতে নিশ্চিন্তির শ্বাস ছাড়ল শ্রীনাথ। ভারী ভয়েব গুডগুড়ানি উঠেছিল বুকের মধ্যে। ঠিক এই রকম ভয় পেত সে দাদা মল্লিনাথকে।

    ডায়েরি বন্ধ করে রাখল শ্রীনাথ। আর লিখতে ইচ্ছে করছে না। উঠে বহুকাল বাদে সে বিনা প্রয়োজনে ভিতরবাড়ির রাস্তায় পা দিয়ে হাঁটতে থাকে।

    তৃষা নিজের ঘরের বারান্দায় একটা প্লাস পাওয়ারের চশমা চোখে দিয়ে মাদুরে বসে জাবদা খাতায় কী লিখছিল নিচু হয়ে। ফুরফুরে হাওয়া দিচ্ছে। চাঁদনি নেই, কিন্তু থোকা থোকা জোনাকি জ্বলছে চারদিকে। ঝিঝি ডাকছে।

    তার সাড়া পেয়ে মুখ তোলে তৃষা।

    আর ঠিক সেই মুহূর্তেই শ্রীনাথ টের পায়, তৃষা আর যুবতী নেই। তৃষা প্রৌঢ়ত্বে পা দিয়েছে। বসার ভঙ্গি, চশমা, মুখ তুলে চাওয়া—এসব কিছুর মধ্যে সুস্পষ্টই বয়সের প্রগাঢ়ত্ব এসে গেছে।

    তুমি!

    একটু এলাম।

    বোসো।

    শ্রীনাথ মাদুরে বসল। দূরত্ব রেখে।

    তৃষা নিজে থেকেই বলে, দীপুর সঙ্গে দেখা হয়েছে?

    হুঁ।

    ও বড় ভাল ছেলে।

    হ্যাঁ।

    আর কথা খুঁজে পাচ্ছিল না শ্রীনাথ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }