Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪১. কলকাতায় এবার খুব বৃষ্টি হচ্ছে

    কলকাতায় এবার খুব বৃষ্টি হচ্ছে। ভীষণ বৃষ্টি। দুপুর বা বিকেলের দিকে প্রায়দিনই ঝমাঝম বৃষ্টি এসে পথঘাট ডোবাচ্ছে। ট্রাফিক জ্যাম। বৃষ্টির জ্বালাতেই ক’দিন প্রীতমের কাছে যাওয়া হয়নি দীপনাথের। অবশ্য অফিসের কাজও বেড়েছে। প্রায় দিনই কাজ শেষ করতে সন্ধে সাতটা-আটটা বেজে যায়। নতুন অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারদের মধ্যে একজন মাত্র কাজে যোগ দিয়েছে। বাকিরা আরও দিন পনেরো পরে আসছে। সুতরাং দীপনাথকে একাই তিনগুণ খাটতে হচ্ছে।

    সপ্তাহখানেকের মাথায় দুপুরে বিলুর টেলিফোন এল।

    সেজদা! আমি ভেবেছিলাম তুমি বুঝি টুরে বাইরে গেছ। বহুদিন খবর নিচ্ছ না।

    না রে। নতুন পোস্টে কাজের প্রেশার ভীষণ। রোজ বিকেলের দিকে বৃষ্টিও নামছে এখন। প্রীতম কেমন?

    খোঁজও তো নাওনি। আমার অফিস তোমার অফিস থেকে মোটে দু’কদম।

    বিলু ঠিক এভাবে অভিমানের গলায় কখনও কথা বলে না। বরাবরই ও একটু কাঠ কাঠ। তাই সামান্য অবাক হচ্ছে দীপনাথ। সে বলল, রোজই যাব-যাব করছি বলে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। তোরা সবাই ভাল আছিস তো? প্রীতম কেমন আছে আগে বল।

    মাঝখানে একটু ক্রাইসিস গেছে। একদিন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল।

    বলিস কী?

    সিরিয়াস কিছু নয়, তুমি তো খবর রাখো না, এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে।

    কী ঘটনা?–উদ্বেগের গলায় দীপনাথ বলে।

    এসো বলব। আজ আসবে?

    ঘড়ি দেখে দীপনাথ বলে, মোটে পাচটা বাজে। যেতে দেরি হবে।

    হোক, তবু এসো। আজ আমাদের ওখানেই রাতে থেকো। অনেক কথা আছে।

    থাকব?—বলে একটু দ্বিধা করে দীপনাথ। দ্বিধার কিছু নেই, বোনের বাড়িতে লোকে থাকতেই পারে। তবু ওই হল দীপনাথের স্বভাব।

    তুমি বোধহয় জানো না, শতম এসেছে।

    তাই বুঝি! কবে এল?

    দিন আট-দশ। প্রীতমকে শিলিগুড়ি নিয়ে যাচ্ছে।

    শিলিগুড়ি!—খুব অবাক হয়ে দীপনাথ বলে, সে কী রে! প্রীতম যে শিলিগুড়ি যাবে না বলেছিল আমাকে।

    মত পালটেছে।

    যাচ্ছে তা হলে?

    গলাটা হঠাৎ একটু ভেঙে গেল বিলুর! বলল, যাচ্ছে। তুমি আজ এসো কিন্তু। ভীষণ দরকার।

    তুই প্রীতমকে যেতে দিতে রাজি হয়েছিস?

    আনাব মতামতে কিছু যায় আসে না।

    কবে যাচ্ছে?

    পরশু। রিজার্ভেশন হয়ে গেছে। বাঁধাছাঁদা চলছে।

    তুই সঙ্গে যাবি না?

    আমাকে তো যেতে বলেনি। বললে হয়তো কিছুদিনের জন্য যেতাম।

    টেলিফোনে আর কিছু বলল না দীপনাথ। যদিও একটা রাগের হলকা তার মগজটাকে চেটে নিচ্ছিল। কিন্তু রাত্রে প্রীতমের বাড়ি গিয়ে বাইরের ঘরে বিলুকে ধরল দীপনাথ।

    বিলু, প্রীতমের চেয়ে কি চাকরিটা বেশি ইম্পর্ট্যান্ট? তুই ওর সঙ্গে যাচ্ছিস না কেন?

    বললাম তো, ওরা আমাকে যেতে বলেনি।

    এটা কি প্রোটোকলের সময় যে, না বললে যাবি না?

    ওরা যদি আমাকে না চায়, তবে কেন যাব?

    তবু যাবি। হয়তো তুই যেতে চাস না ভেবে ওরা বলছে না। ওদেরও প্রেস্টিজ আছে।

    বিলু মুখ নিচু করে শক্ত হয়ে রইল। ভীষণ গোঁ।

    ছুটি পাবি না?—দীপনাথ কোমল গলায় জিজ্ঞেস করে।

    হয়তো পাব, তবে বেশিদিন নয়।

    তবে চাকরিটা ছেড়ে দে না কেন?

    আজকাল একবার চাকরি ছাড়লে আর কি সহজে পাওয়া যায়?

    চাকরিটাকে অত ইম্পর্ট্যান্স দিচ্ছিস কেন?

    বিলু ধীরে ধীরে মুখ তুলল। বেশ কঠিন মুখ। ধীর শান্ত গলায় বলল, চাকরিটা এখন আমাদের কাছে খুব জরুরি।

    প্রীতমের চেয়েও?

    একটা শ্বাস ফেলে বিলু বলল, প্রীতম তো বাঁচবে না, সেজদা। তারপর আমার আর লাবুর কী হবে? কে দেখবে আমাদের? অনেক ভেবেচিন্তে তাই চাকরিটাকে ধরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে ঠিক করেছি।

    কথাটা নির্ভেজাল ভাবাবেগহীন সত্য। তবে বড্ড বেশি নির্লজ্জ অকপট। দীপনাথ এ ধরনের নগ্ন সত্যকে পছন্দ করে না। বিরক্ত হল, অস্থির বোধ করল, কিন্তু সঠিক কোনও জবাবও এল না মুখে।

     

    শতম বেরিয়েছে, প্রীতম অঘোরে ঘুমোচ্ছে। তাই দীপনাথ বাইরের ঘরেই বসে রইল অনেকক্ষণ। বিলু গিয়ে নিজে চা করে আনল, একটা ধোয়া পাজামা এনে রাখল পাশে। দীপনাথ আনমনে খানিকক্ষণ আকাশ-পাতাল ভাবল।

    হঠাৎ বলল, তুই তা হলে এই ফ্ল্যাটে একাই থাকবি?

    আমি আছি, লাবু আছে, অচলা আর বিন্দুও থাকছে। ঠিক একা তো নয়।

    তবু একে একাই বলে। পুরুষ অভিভাবক তো থাকছে না।

    খুব ভাল হত যদি তুমি এসে থাকতে। তিনটে ঘর আছে, তোমার কোনও অসুবিধা হত না।

    দীপনাথ মাথা নেড়ে বলল, সেটা সম্ভব নয়। এ বাড়িতে প্রীতম নেই, এটা আমার সহ্য করা মুশকিল।

    তুমি বড্ড সেন্টিমেন্টাল সেজদা। প্রীতমকে আমি কারও চেয়ে কম ভালবাসি না, কিন্তু রিয়্যালিটিকে তো মেনে নিতেই হবে। প্রীতম চলে গেলে এ বাসায় আমিও তত থাকব।

    দীপনাথ জবাব দিল না। বিলুও আর দ্বিতীয়বার তাকে এ বাসায় থাকার কথা বলল না।

    দীপনাথ জিজ্ঞেস করে, প্রীতম কেন অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল বললি না?

    ভ্রু কুঁচকে বিলু বলে, কী করে বলব? তবে সেদিন অফিস থেকে ফিরে এসে ওকে খুব ইমোশনাল দেখেছিলাম। এমন সব কথা বলছিল যার কোনও মানে হয় না।

    কীরকম কথা?

    বলছিল, ও শিগগিরই মরে যাবে। তারপর আমি যেন বিয়ে করি। এইসব কথা।

    এরকম কথা তো সহজে বলে না প্রীতম। সেদিন কেন বলল?

    তা তো জানি না।—বলে বিলু চোখ সরিয়ে নিল।

    ও কখনও মরার কথা ভাবে না। অসম্ভব বেঁচে থাকার ইচ্ছে ওর। তবে কেন ওরকম কথা বলব? তোকে আবার বিয়ে করতে বলবে এমন ছেলেমানুষও তো প্রীতম নয়।

    বলল তো।

    প্রীতমের ওপর একটু রাগ হয় দীপনাথের। বলে, তা পাত্রটাও প্রীতমই ঠিক করে দিয়ে যেত না হয়।

    বিলু খুবই অস্বস্তি বোধ করছে। আঁচলটা গায়ে টান টান করে জড়িয়ে শাড়ির খুটটা আঙুলে জড়াচ্ছে। মুখ তুলছে না, কিন্তু ওর ছটফটানি স্পষ্ট বোঝা যায়। দীপনাথ খর চোখে বোনকে। দেখছিল। একটা আবছা সন্দেহ খেলে যায় মনে।

    বিলু কিছু বলল না। খানিক অপেক্ষা করে দীপনাথ বলল, প্রীতমকে আজ একটু বকব। এসব কথা কেন বলবে ও?

    মৃদু দৃঢ়স্বরে বিলু বলে, না। কিছু বলার দরকার নেই। হয়তো ভুল বুঝবে। ভাববে, আমি তোমার কাছে নালিশ করেছি।

    নালিশ তো করাই উচিত।

    ওর এখন ন্যায়-অন্যায় বোধ নেই। অন্যরকম হয়ে গেছে। কিছু বললে হয়তো খেপে উঠবে।

    প্রীতম খেপে উঠবে! কথাটা বিশ্বাসই করা যায় না। প্রীতমের কোনওদিন রাগ দেখাই যায়নি। সেই ছেলেবেলায় শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার রাস্তায় দীপনাথের হাতে মার খেয়ে ছেলেমানুষের মতো অসহায় আক্রোশে চেঁচিয়েছিল প্রীতম। বড় হয়ে সে হয়ে উঠেছে শান্ত, নির্বিরোধী এবং প্রায় ব্যক্তিত্বহীন এক মানুষ। স্ত্রৈণ? না, ঠিক স্ত্রৈণও বলা যায় না প্রীতমকে। কোনওদিন ঝগড়া করেনি বিলুর সঙ্গে, মতে মত দিয়ে চলেছে, তবু আলাদা একটা সত্তাও বেঁচে ছিল তার মধ্যে। বিলু প্রীতমকে হয়তো কোনওদিনই ঠিকমতো বোঝেনি।

    অচলা এসে খবর দিল, প্রীতম জেগেছে।

    নিঃশব্দে দীপনাথ গিয়ে প্রীতমের পাশটিতে বসে। ওর রোগা দুর্বল হাতখানা নিজের হাতে তুলে নেয়।

    প্রীতমের মুখে আজ হাসি ফুটল অনেক দেরিতে। মৃদু স্বরে বলল, ক’বছর পরে এলে?

    বছর! দূর পাগলা। অফিসে দিন সাতেক খুব ভুতুড়ে খাটুনি চলছে।

    জানি তুমি কাজের লোক।

    অপদার্থ বলেই তো খাটতে হয় বেশি। তোর মতো কোয়ালিফিকেশন থাকলে খাটতে হত না।

    কোয়ালিফিকেশন কোন কাজে লাগল, সেজদা?

    লাগবে। সেরে ওঠ, দেখবি।

    তুমি কি ছেলেমানুষ হয়ে গেলে, সেজদা! সেরে ওঠ বললেই কি সেরে উঠব?

    তোর কী হয়েছে বল তো? আগে তো সবসময়ে বলতিস ভাল আছি।

    আজকাল আমি ভাল নেই।

    কেন ভাল থাকিস না? কেন মেজাজ খারাপ করিস?

    বেঁচে থেকে কী হবে? কিসের ওপর দাঁড়িয়ে বাঁচে মানুষ? কোন আশায় রোজগার করে কোন পিপাসায় সারাদিন ভূতের মতো খেটে বিকেলে বাড়ি ফিরে আসে?

    কী সব যা-তা বলছিস?

    পায়ের নীচে মাটি সরে গেলে মানুষ আর বেঁচে থাকবে কেন?

    অনেক রোগা, দুর্বল, নির্জীব দেখাচ্ছে প্রীতমকে। কণ্ঠস্বর তত স্পষ্ট নয়। তবু তার ভিতর থেকে একটা ঝাঝ আসছে।

    দীপনাথ মৃদু স্বরে বলল, চুপ কর। দুনিয়ার সবকিছু নিয়ে মাথা ঘামাতে নেই।

    তার মানে?

    তুই বা বলতে চাইছিস তা আমি জানি।

    সামান্য অবাক হয়ে প্রীতম বলে, জানো? কী জানো বলো তো?

    দীপনাথ মাথা নেড়ে বলে, এ ঠিক জানা নয়। আন্দাজ। তবে আন্দাজটা হয়তো মিথ্যে নয়। বলব? শুনে তোর কী লাভ, প্রীতম? বরং জেনে রাখ, তুই যেমন জানিস, আমিও তেমন জানি।

    দীপনাথের হাতটা কাকের পায়ের সরু দাঁড়ার মতো আঙুলে চেপে ধরার চেষ্টা করে প্রীতম এই প্রথম মন খুলে হাসল। গভীর একটা শ্বাস ফেলে বলল, জানো! তুমি জানো! কী করে জানলে? নিজের চোখে কিছু দেখেছ?

    দূর বোকা! আমি কি গোয়েন্দাগিরি করে বেড়াই? তুই যেভাবে জেনেছিস আমিও ঠিক সেইভাবে… আন্দাজ, অনুমান।

    প্রীতম গভীর দৃষ্টিতে দীপনাথের দিকে চেয়ে বলে, তোমার খুব সূক্ষ্ম অনুভব আছে, সেজদা।

    মোটেই নয়। কিন্তু আমি বলি, তুই ওসব নিয়ে কেন ভাবিস? মানুষ একটা বিশ্বাসের জায়গা চায়, নির্ভরতা চায়, আশ্রয় চায়—এসব তো পুরনো কথা। কিন্তু তোর তো তা নয়। বিলু তোর বউ বটে, কিন্তু তুই বেঁচে আছিস নিজের জোরে। বউ যদি বিশ্বাস না রাখে, তাতেও তোর কিছু এসে যায় না, প্রীতম। বেঁচে থাকাটাই যে তোর আসল পায়েব তলার মাটি। তুই কেন ছিচকাঁদুনের মতো অন্যের ওপর নির্ভর করবি?

    তুমি কেন এতদিন এলে না সেজদা? এসব কথা কেন আগে এসে বললে না আমায়? সমস্যাটা নিয়ে আমি রোজ শুয়ে শুয়ে ভাবছি আর জড়াচ্ছি।

    প্রীতমের চুলে আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দীপনাথ বলে, বিলু বা অরুণ তো তোর কোনও প্রবলেম নয়, প্রীতম। তবু যে ওটা নিয়ে ভেবেছিস তার কারণ, পুরুষের স্বাভাবিক অধিকারবোধ। বিয়ের পর একজন মেয়েকে পুরোপুরি পাব, সে আমার সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত হবে, তার ওপর পরিপূর্ণ নির্ভর করা যাবে, এসব হল পুরুষদের মজ্জাগত আকাঙক্ষা। কিন্তু ভেবে দেখলে দেখবি, বড় করে পাত পেতে লাভ নেই, যে দেয় সে তার আন্দাজ মতোই দেয়। বিলু বা সংসারের আর কারও কাছ থেকে কিছু চাসনি, প্রীতম। শুধু বেঁচে থাকাটাকই বড় করে দেখ।

    প্রীতম মাথা নেড়ে বলে, আমি আর মাথা ঘামাচ্ছি না সেজদা। ঘটনা যাই হোক, আমার তো সত্যিই তাতে কিছু যায় আসে না।

    এতক্ষণে বুঝেছিস বোকারাম।

    কিন্তু বেঁচে থাকারও তো আর আমার কোনও দরকার নেই।

    কেন? ওকথা কেন বলছিস? এতক্ষণ তা হলে কী বুঝলি?

    আমি যা বুঝেছি তা তুমি কোনওদিন বুঝবে না। তোমাকে কী করে ভালবাসার তত্ত্ব বোঝাব বলো তো?

    বোঝালে বুঝব। বল শুনি।

    আমি যে বিলুকে ভালবাসি সেটা বোঝো?

    দীপনাথ গম্ভীর হল। সে ভেবেছিল বিলুকে গুরুত্বহীন করে দিয়ে প্রীতমকে শান্ত করা যাবে। সেটা হয়নি। এর মধ্যে একটা ভালবাসার চোরকাটাও বিধে আছে তা হলে। সে বলল, ভালবাসবি না কেন?

    অত আলগাভাবে কথাটা ভেবো না। আমি জানি তুমি আজও সত্যি করে কাউকে ভালবাসোনি। বেসেছ?

    কে জানে বাবা!

    বাসোনি। সংসারে তোমার কোনও ইনভলভমেন্ট নেই বলেই অত সহজে সব ঘটনাকে উড়িয়ে দিতে পারলে। আমি তোমার মতো অত বেপরোয়া হব কী করে? ভালবাসলে তা হওয়া যায় না।

    তা হলে কী করবি?

    বিলু কোথায়? তাকে ডাকো, আমি আজ তোমার সামনে বিলুকে কয়েকটা কথা জিজ্ঞেস করব।

    দীপনাথ চমকে ওঠে, বলিস কী? তুই কি পাগল? ওসব কথা এভাবে বলতে নেই।

    প্রীতম শান্তভাবে অকপট চোখে চেয়ে বলল, কথাটা বিলুকে এতদিন জিজ্ঞেস করতে সাহস পাইনি। কী জানি যদি অপমান বোধ করে দোতলা থেকে ঝাপ দেয়। আজ তুমি আছ, তোমাকে মাঝখানে রেখে কথাগুলো বলব।

    দীপনাথ শক্ত করে প্রীতমের হাত চেপে ধরে কঠিন গলায় বলে, না প্রীতম, এ কাজ করিস না।

    সেজদা, আমি শিলিগুড়ি চলে যাচ্ছি। শেষবারের মতো। আর কখনও বিলুর সঙ্গে দেখা হবে না। কথা কা জেনে গেলে নিশ্চিন্তে যাওয়া হবে। নইলে বড় ছটফট করব যে।

    না, প্রীতম।

    কেন নয়?

    আমি বিলুর দাদা। খুব লজ্জার ব্যাপার হবে।

    আমি খারাপ কিছু বলব না, সেজদা। শুধু জিজ্ঞেস করব, ও অরুণকে সত্যিই ভালবাসে কি না। যদি বাসে তা হলে কী করে বাসে? কীভাবে সেটা সম্ভব হল? আর যদি সম্ভব হয়েই থাকে তবে আমি কোন বিশ্বাসে এতকাল বেঁচে ছিলাম? কার জন্য রোজগার করেছি, কাকে ভেবে দিনের শেষে বাড়ি ফিরে এসেছি?

    পৃথিবীটা কীরকম তা কি জানিস না, প্রীতম?

    না জানি না। আমি বিলুকে আজও ভালবাসি। তাই আমি ওকে জিজ্ঞেস করব, বাকি জীবন ও অরুণকে ঠকাবে কি না। যদি ঠায় তবে ঘরে ঘরে সেই ঠকানোর হাওয়া গিয়ে লাগবে কি না। আমি স্পষ্ট কথা জানতে চাই।

    তুই আজ বড় ছেলেমানুষি করছিস, প্রীতম। তোর বোঝা উচিত, দুনিয়ার সব সত্য জানতে নেই। এগুলো না জানলেও তোর চলবে।

    তুমি ভাবছ আমি মরে যাব বলেই এসব কথা না জানা ভাল। তাই না সেজদা?

    না প্রীতম, তা নয়।

    আমি জানি।

    তুই ভুল জানিস।

    বিলুকে ডাকো।

    না। তুই একটু শান্ত হ।

    নিজের বোনকে আড়াল করতে চাইছ না তো?

    ছিঃ প্রীতম। তুই কি জানিস না, বিলুর চেয়েও আমার কাছে তুই-ই বেশি ইম্পর্ট্যান্ট?

    প্রীতম ক্লান্তিতে চোখ বুজল। তারপর সামান্য দমফোট গলায় বলল, বিলুকে ডাকার দরকার নেই। ও সবই শুনেছে। ভিতরের ঘরের পরদার আড়ালে এতক্ষণ ছিল।

    দীপনাথ একটু তটস্থ হয়, তাই তো। বিলুর না শোনার কথা নয়। ফ্ল্যাটবাড়ির ঘরের মধ্যে ঘর। কান পাতলেই শোনা যায়। সে নিচু হয়ে ফিস ফিস করে বলল, কেন শোনালি, প্রীতম?

    প্রীতম চোখ বুজে রেখেই হাসল। বলল, শোনাতে চেয়েছিলাম। একটু শুনুক। তাতে ওর ভাল হবে।

    দীপনাথ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। ইদানীং তাকে বড় বেশি স্বামী-স্ত্রীর সমস্যায় জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। অভিজ্ঞতা বড় কম হল না। তবু প্রীতমের এই নিষ্ঠুরতার কোনও তুলনা হয় না। তার মেজদা প্রকাশ্যে বউয়ের নামে কুৎসা রটিয়েও এতটা তীক্ষ লড়াই তৈরি করেনি।

    ভিতরের ঘরের পরদা সরিয়ে হঠাৎ বিলু চৌকাঠে দেখা দেয়। মৃদু স্বরে বলে, সেজদা, শোনো।

    দীপনাথ জড়তা কাটিয়ে ওঠে।

    পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে বিলু মৃদু স্বরে বলে, ও কী বলছিল, সেজদা?

    কেন, তুই শুনিসনি?

    একটু-আধটু কানে এসেছে।

    না শুনলেই ভাল করতিস।

    আমি শুনতে চাই। তুমি বলো।

    কী বলব? বলার কিছু নেই।

    ও কি শিলিগুড়ি যাবেই?

    তাই তো মনে হচ্ছে। যাওয়াই ভাল।

    একটু আগের কাঠিন্য হঠাৎ ঝরে গেছে বিলুর। কেমন সাদা পাঁশুটে মুখে চেয়ে থাকে দীপনাথের দিকে। হলুদ আলোয় ঠোঁট দুটো বিবর্ণ দেখায়। অনেক রোগাও হয়ে গেছে বিলু। গলার স্বর আবার হঠাৎ ভেঙে গেল ওর। বলল, যাক না! যাক। কে আটকাচ্ছে?

    এসব কথা বলে সাধারণ মেয়েরা হঠাৎ কেঁদে ফেলে বা ভেঙে পড়ে। বিলু তা করল না। খাটের বাজুতে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যেমন ছিল। খাটে সবুজ নাইলনের মশারির মধ্যে লাবু নিশ্চিন্তে ডান কাতে ঘুমোচ্ছে। খুব আস্তে ঘুরছে সিলিং-এর পাখা।

    কিছুক্ষণ কেউ কোনও কথা বলল না। তারপর বিলুই হঠাৎ বলল, ও আমাকে সন্দেহ করে।

    সন্দেহ কেন করবে? সন্দেহ নয়।

    তোমাকে কিছু বলেনি?

    বলেছে। তবে সেটা সন্দেহ নয়, বিলু। আমিও জানি সেটা সত্য।

    বিলু মেঝেতে পা ঘষল। মুখ তুলল না। মৃদু স্বরে বলল, তুমিও আমাকে বিশ্বাস করো না সেজদা?

    দীপনাথ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, অরুণকে ছেড়ে দে না কেন বিলু! কেন অশান্তি বাড়াচ্ছিস?

    একটু তেজের গলায় বিলু বলে, ছাড়ার কিছু তো নেই। অরুণের মতো শুভাকাঙ্ক্ষী আমার কে আছে?

    এ সময়ে দীপনাথের আর-একটা দীর্ঘশ্বাস ঝরে গেল। বিলুর দেওয়া পাজামাটা সে এখনও পরেনি। মৃদু স্বরে বলল, আজ যাই রে বিলু। পরে একদিন এসে থাকব।

    বিলু অবাক হল না। পরিস্থিতি পালটে গেছে। বলল, খেয়ে যাও।

    না, খিদে নেই।

     

    জটা সময়ে এক্সটেনশনস্টাল ফ্যানের সাইরে।

    মেসে ফিরতে রাত হয়ে গেল। ঢাকা খাবার খুঁয়েও দেখল না দীপনাথ। বিছানায় শুয়ে জেগে রইল। ঘুম এল ভোরের দিকে, যখন দীর্ঘ বিরতির পর আবার বৃষ্টি নামল বাইরে।

    পরদিন আধভেজা হয়ে অফিসে পৌঁছে পেডেস্টাল ফ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে প্যান্ট শার্ট শুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল সে। এ সময়ে এক্সটেনশন লাইনে তার টেবিলের টেলিফোন বেজে ওঠে। হঠাৎ কেন যেন আওয়াজটা শুনেই মনে হল, মণিদীপা। বহুকাল তার ডাক আসেনি।

    রিসিভার কানে তুলতেই নির্ভুল গলাটি বলল, আমি ভীষণ আটকে পড়েছি এক জায়গায়। একটু হেলপ করবেন?

    দীপনাথ কাচের শার্শি দিয়ে বাইরে বৃষ্টির প্রচণ্ড তাণ্ডব দেখতে পাচ্ছিল। ভরদুপুরেও প্রায় ঘুটঘুট্টি অন্ধকার চারদিকে। রাস্তায় কোনও চলমানতা নেই। গাড়ি না, মানুষ না, গোরুটা পর্যন্ত না। সে মৃদু স্বরে বলল, এই ওয়েদারে ঈশ্বর আপনার সহায় হোন। কোথায় আটকে পড়েছেন?

    বাগবাজারের এক মিষ্টির দোকান থেকে ফোন করছি। রাস্তায় হাঁটুজল।

    দীপনাথ বলল, এখানে কোমর সমান। কিছু করার নেই। অপেক্ষা করুন। বোস সাহেবকে লাইনটা দেব?

    বিরক্ত মণিদীপা বলে, তা হলে আর আপনাকে ফোন করছি কেন?

    সত্যিই তো, কেন?

    প্রমোশন পাওয়ার পর খুব চোপা হয়েছে তো আপনার!

    প্রমোশন পেলেও আমি এখনও বোস সাহেবের আন্ডারে। আপনার মতোই।

    আমি কারও আন্ডারে নই। আই অ্যাম নট এ শ্লেভ লাইক ইউ।

    সেকথা থাক। আপনার জন্য কী করা যায় বলুন তো!

    সেটাই তো আপনাকে ভাবতে বলছি।

    বোস সাহেবকে বলি, তিনিও না হয় একটু ভাবুন।

    আপনাদের কাউকেই ভাবতে হবে না। আমিই ভাবব।

    রাগ করলেন? আপনার ভয়ের কিছু নেই। এখন বেলা বারোটা মাত্র বাজে। বৃষ্টি থামবে, গাড়িঘোড়াও চলবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে এই যা। বাগবাজারে কোথায় গিয়েছিলেন?

    যেখানে আমার খুশি। শুনুন, অফিসের একটা গাড়ি পাঠাতে পারেন না?

    গাড়ি? আমার চোখের সামনে অন্তত দশবারোখানা গাড়ি রাস্তায় জলবন্দি হয়ে পড়ে আছে। গাড়ির কথা ভুলে যান। গরিবের বন্ধুরা বিপদে পড়লেই কেন গাড়ির কথা ভাববে?

    আবার কটকটে কথা! আমার আধুলিটা তা হলে ফেরত চাইব কিন্তু।

    ওই যাঃ। আধুলিটা ফেরত দিইনি আপনাকে?

    কই আর দিলেন!

    তা হলে শিগগিরই একদিন যাচ্ছি ফেরত দিতে।

    মণিদীপার পরের কথাটা অস্পষ্ট এল। লাইন ডেড। সম্ভবত আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল-এ জল ঢুকেছে। তবু মনে হল মণিদীপা জিজ্ঞেস করছিল, উইথ লাভ?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }