Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৪. বেয়ারাকে কিছু বলতে হয়নি

    বেয়ারাকে কিছু বলতে হয়নি। বোস সাহেবের বউকে সে চেনে। নিঃশব্দে এসে এক পট কফি আর দুটো কাপ সমেত ট্রে টেবিলে রেখে কফি ঢেলে দিল। দুটো করে চিনির কিউব, গরম দুধ।

    কফিটা আনমনে চামচে নাড়তে নাড়তে মণিদীপা বলে, বাইরে বৃষ্টি নামল।

    হবে। বৃষ্টির সিজনই তো এটা।

    তা জানি। আপনি আমার সব কথাতেই জবাব দেন কেন বলুন তো!

    দিতে নেই বুঝি? বসের ওয়াইফ বলে?

    মণিদীপা ক্রুদ্ধ চোখে তাকায়। তারপর সামান্য চড়া গলায় বলে, আপনি আমাকে কখনও সিরিয়াসলি নেন না! না?

    আপনার ব্যাপারে আমি এবং আমরা সবাই খুব সিরিয়াস।

    আমরাটা আবার কে?

    আমি বা বোস সাহেব, অর্থাৎ জনগণ আর কী।

    আজ আমার ইয়ারকি ভাল লাগছে না। আই হ্যাভ লস্ট এ ফ্রেন্ড, ইউ নো!

    শুধু ফ্রেন্ড নয় মিসেস বোস। স্নিগ্ধদেব ছিলেন আপনার আইডিয়া, আপনার ড্রিম, আপনার নেতা। কিন্তু লসটা আপনার একার নয়। আমারও, অর্থাৎ জনগণেরও। আমি তো ভাবতাম, উনিশশো নব্বই সালে স্নিগ্ধদেবই হবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    একটু আগেই আপনি স্নিগ্ধদেব সম্পর্কে খুব সিরিয়াস ছিলেন। আবার এক্ষুনি লাইট হয়ে গেলেন! আপনার পার্সোনালিটি এত ফ্লাকচুয়েট করে কেন বলুন তো?

    করে?

    নিশ্চয়ই করে।

    দীপনাথ মুখখানা আঁশটে করে বলে, আমার পপুলারিটির পারদ নেমে যাচ্ছে দেখছি।

    মণিদীপা আর-একবার সিগারেটের প্যাকেটের ঢাকনা খুলেও থামল। ভ্রু কুঁচকে বলল, আপনি হয়তো জানেন না, যাদের পার্সোনালিটি থাকে না তারাও পপুলার হতে পারে। পার্সোনালিটি নেই বলেই তারা অন্যের যে-কোনও কথায় অনায়াসে সায় দিয়ে যায়, অন্যের হয়ে খামোখা খাটে, চাটুকারিতা করে, খোশামোদ করে। ওভাবেও পপুলারিটি গেন করা সম্ভব। আপনি যেমন ভাবে করেছেন।

    বহুকাল পর আবার কান-মাথা গরম হল দীপনাথের। মণিদীপার মার কোন দিক থেকে আসবে তা সে জানত না। খুব গভীরে আহত হয় দীপনাথ। আহত হয়, তার কারণ মণিদীপা খুব মিথ্যে বলেনি। কখনও কখনও তো সত্যিকারেরই চাটুকার, খোশামুদে। নিজের মতামত, ইচ্ছে-অনিচ্ছে প্রকাশে ভীরু।

    ক্লিষ্ট মুখ তুলে দীপনাথ বলে, জনগণের কি কোনও পার্সোনালিটি থাকে?

    মণিদীপা জয়ের গন্ধ পেয়ে একটু ঝুঁকে তীব্র স্বরে বলে, আপনি যে জনগণেরই একজন সেটা সৎভাবে একবারও বিশ্বাস করেন কি? জনগণের কেউই তা করে না। তারা ভাবে, আমি ছাড়া আর সবাই জনগণ, সাধারণ অ্যাভারেজ। যেদিন আপনি নিজেকে সত্যিই সাধারণ মানুষদের একজন ভাবতে পারবেন সেদিন লোকে আপনাকে অসাধারণ বলে স্বীকার করবে।

    দীপনাথ মনে মনে তারিফ করল। এটাও নিখুঁত মার। সে পুনর্বার আহত।

    তবে প্রত্যাঘাতের জন্য ব্যস্ত হল না দীপনাথ। নরম চোখে তাকিয়ে থেকে বলল, আপনি কি আমার বিবেক, কাউন্টার-ইগো? যাত্রাদলের বিবেকের মতো এসে মাঝে মাঝে জীবনের সত্যগুলিকে চিনিয়ে দিয়ে যান!

    মণিদীপার প্লেটে কাপ রাখার শব্দটা একটু জোরালো শোনাল। উঠে দাঁড়িয়ে বলল, টাকাটা দিন!

    দীপনাথ কথা বাড়াতে সাহস করল না। টাকাটা টেবিলের ওপর নিঃশব্দে রাখল।

    ভ্রু কুঁচকে মণিদীপা বলে, কোনও ভাউচারে সই করতে হবে না?

    দীপনাথ মাথা নাড়ল, না।

    অফিসের টাকা দিতে ভাউচার লাগে না?

    লাগে। কিন্তু অত কথায় কাজ কী?

    মণিদীপা ঠোঁট ওলটাল, কাঁধ ঝাঁকাল। তারপর চটপটে পায়ে বেরিয়ে গেল একটিও কথা না বলে।

    সারা অফিসটাই ফাঁকা, নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

    দীপনাথ কিছুক্ষণ সামনে চেয়ে রইল। এ কথা সত্য, তার ব্যক্তিত্বের তেমন জোর নেই, না আছে স্বাধীন মত প্রকাশের সাহস। প্রায় সকলেই তাকে পছন্দ করে বটে, কিন্তু কেউই তাকে খুব ইম্পর্ট্যান্ট মনে করে না। শুধু এই সেদিন, মেজোবউদি বলেছিল, দীপনাথকে তার প্রয়োজন। ঠিক ওরকমভাবে দীপনাথকে আর-একজনও গুরুত্ব দিয়েছিল। সে হল বোস সাহেব। বাংগালোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঝুলোঝুলি।

    কিন্তু এসব কথা ভেবে কী হবে? সে যা, সে ঠিক তাই। কেউ তো তাকে শেখায়নি কী করে ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে হয়। কেউ তো তাকে হাতে ধরে শেখায়নি জীবনযাপনের পদ্ধতি। আজ তার মনে হয়, যেভাবে ছেলেবেলায় তাকে এক দুই বা অ আ ক খ শেখানো হয়েছিল, ঠিক তেমনি করে আজ এই জীবনযাপনের পাঠ কেউ শিখিয়ে দিলে বড় ভাল হত।

     

    আস্তে আস্তে রাত বাড়ছে। বাইরে ঝুম হয়ে এল বৃষ্টি। দীপনাথ আবার কাগজপত্র টেনে বসে বকেয়া কাজ সেরে রাখতে লাগল। মাঝে মাঝে অন্যমনস্কতা এল, ক্লান্তি লাগল, হাই উঠল। তবু ঠায় রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত টেবিলে রইল সে।

    তারপর বোরাকে ডেকে অফিস বন্ধ করতে বলে ধীরে ধীরে নেমে এল নীচে। বৃষ্টির জোর কমে এসেছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। ইদানীং অফিসপাড়াটা রাতের দিকে খুব নিরাপদ নয়। নির্জন রাস্তায় একা মানুষকে পেলে একদল ছেলেছোকরা প্রায়ই চুরি ছিনতাই করে। তাই ঘড়িটা খুলে প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে রাখল দীপনাথ।

    চারদিকে দেখে রাস্তায় নেমে কয়েক পা হাঁটতেই পি করে একটা হর্নের শব্দ। দীপনাথ বেখেয়ালে ফিরে তাকাল। তাকিয়েই একটু চমকে উঠল।

    কালো ছোট গাড়িটার ড্রাইভিং সিটে মণিদীপা বসে আছে না! একটা সিগারেটের আগুন একটু ধিইয়ে উঠেই মিইয়ে গেল।

    দীপনাথ এগিয়ে জানালায় ঝুঁকে বলে, কাজটা ভাল করেননি। এ পাড়াটা এত রাতে খুব বিপজ্জনক। সঙ্গে অতগুলো টাকা রয়েছে।

    আই ক্যান লুক আফটার মিসেল।

    ওটা বৃথা অহংকারের কথা মিসেস বোস। এই দেশে কোনও সক্ষম পুরুষও নিজের সিকিউরিটির গ্যারান্টি দিতে পারে না, মেয়েরা তো কোন ছার!

    আপনি গাড়িতে উঠুন। পৌঁছে দিচ্ছি।

    ও বাবা! আমি থাকি শেয়ালদার কাছে। সেখানে রোজ খুব সাংঘাতিক রকমের জ্যাম হয়। অবলা মেয়েমানুষ আপনি, গিয়ে মুশকিলে পড়বেন।

    নাইনটিনথ সেঞ্চুরির ভাষায় কথা বলবেন না তো! আপনার সঙ্গে আমার একটা জরুরি দরকার আছে। উঠুন।

    অপেক্ষাই যদি করলেন তা হলে তো ওপরেই বসে থাকতে পারতেন।

    পারতাম। কিন্তু অত কথায় কাজ কী?

    দীপনাথ ঢোক গিলে সামনের সিটে মণিদীপার পাশে উঠে বসল।

    গাড়ি ছেড়ে মণিদীপা দাঁতে দাঁত পিষে বলে, আমি অবলা? না আপনি অবলা?

    আমিই বোধ হয়। যাক সে কথা। কী বলছিলেন?

    মণিদীপা মোটেই দীপনাথের আস্তানার দিকে গাড়ি ঘোরাল না। সোজা এসপ্ল্যানেডের দিকে যেতে যেতে বলল, আই ওয়ান্ট টু নো অ্যাবাউট দি মানি।

    দীপনাথ ভিতরে ভিতরে অস্বস্তিতে পড়ে যায়। মৃদু স্বরে বলে, কিছু গোলমাল নেই মিসেস বোস। পরিষ্কার হোয়াইট মানি।

    সে কথা নয়। টাকাটা কার?

    তার মানে?

    টাকাটা নিয়ে চলে আসতে আসতে আমি ভাবছিলাম মিস্টার বোসের অ্যাবসেন্সে তার অফিসের অ্যাকাউন্ট থেকে আর-কেউ টাকা তুলতে পারে কি না। ভেবে মনে হল, তা সম্ভব নয়। আমি অবশ্য আইনকানুন জানি না, তবু মনে হল। তাই ভাবলুম, এ টাকাটা কার? আপনার নয় তো!

    আরে না। বোস সাহেবেরই টাকা। অফিসের আইন যেমন আছে তেমনি ফাঁকও আছে।

    এ ক্ষেত্রে আমার অন্য রকম সন্দেহ হচ্ছে। ইউ আর জাস্ট হ্যাভিং পিটি অন মি।

    মোটেই নয় মিসেস বোস।

    আবার মিসেস বোস?

    জিবে এসে যায়, কী করব?

    ইউ আর এ স্লেভ।–মৃদু প্রশ্রয়ের হাসি হেসে মণিদীপা বলে।

    তা-ই তো। একটু আগেই জানতে পারলাম যে আমি ব্যক্তিত্বহীনও।

    আর আমিও জানতে পারলাম যে, আমি আপনার কাউন্টার-ইগো।

    তাতে রাগ করেছেন?

    না তো! বরং শুনে আমার পরম আহ্লাদ হয়েছে। আর বলব না।

    মণিদীপা একবার ঘুরে তাকাল। চোখ হাসছে, মুখ হাসছে। সত্যিকারের আনন্দ দেখলেই বোঝা যায়। বলল, টাকাটা আপনার! আই অ্যাম সিয়োর।

    সন্দেহ থাকলে কাল আমাদের অ্যাকাউন্ট্যান্টকে ফোনে জিজ্ঞেস করে দেখবেন।

    তাতে লাভ নেই। আমি ফোন করার আগে আপনি অ্যাকাউন্ট্যান্টকে শিখিয়ে পড়িয়ে রাখবেন।

    আপনি সন্দেহবাতিকগ্রস্ত।

    সন্দেহের পিছনে কারণ আছে।

    বোস সাহেবেরই টাকা। আমি তো জানি, আপনি স্বামীর অর্জিত টাকা ছাড়া অন্য টাকা ছোঁবেন। ইউ আর এ লয়াল ওয়াইফ।

    এটা আবার কোন দেশি ইয়ারকি?

    ইয়ারকি নয়।

    ওল্ড কোর্ট হাউস স্ট্রিট ধরে মণিদীপা গাড়িখানা আস্তে চালিয়ে ময়দানে এসে পড়ে। তারপর হুঁ হু করে চালাতে থাকে। কিছুক্ষণ কথা বলে না মণিদীপ। দীপনাথও চুপ করে থাকে। যদিও সে জানে, মণিদীপা তাকে কোথাও পোঁছে দিচ্ছে না। শুধু নিয়ে যাচ্ছে। কোথায়, তা হয়তো মণিদীপাও জানে না।

    খুব মৃদু স্বরে, প্রায় নিজেকে শুনিয়ে দীপনাথ বলে, আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে…।

    মৃদু হলেও মণিদীপা বোধহয় শোনে। মুখ না ঘুরিয়েই বলে, আমি কিন্তু সুন্দরী নই।

    আপনি দারুণ সুন্দরী। কে বলে সুন্দরী নন?

    হলেও আই ডোন্ট কেয়ার। সুন্দর ব্যাপারটাই স্কিন ডীপ!

    তা হবে। আমি শুধু সত্যি কথাটা জানিয়ে দিলাম।

    মণিদীপা আবার বহুক্ষণ জবাব দিল না। ময়দানের অন্ধকার চিরে ভেজা রাস্তায় চোখে ধাঁধা লাগিয়ে ছুটে আসছে গাড়ি। বৃষ্টির চিকন কাচে আলোর রেণু ছড়িয়ে পড়ছে। হেডলাইট ঘিরে অপ্রাকৃত আলোর বলয়। একরকম মন্দ লাগে না দীপনাথের। বিদেশি এক সেন্ট ছোট গাড়ির মধ্যে ভারী ঘন হয়ে এক মায়ার সৃষ্টি কবেছে। এত সুন্দর সব গন্ধ মাখে মণিদীপা!

    এক-একবার গাড়ির অন্ধকার অভ্যন্তরে চলমান গাড়ির আলো এসে পড়ে, আর উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে মণিদীপার মুখ। এখন মণিদীপার মূখে একটু আগেকার সেই ঝলমলে হাসির কোনও রেশ নেই।

    মণিদীপা একবারও আর ফিরে তাকায় না তার দিকে। শুধু একবার বলে, আপনার মাথার চুলে বৃষ্টির জল লেগে আছে। গ্লাভস কমপার্টমেন্টে একটা পরিষ্কার ঝাড়ন আছে। মুছে নিন।

    দরকার নেই। আপনা থেকেই শুকিয়ে যাবে।

    আর কোনও কথা হল না অনেকক্ষণ।

    দীপনাথ ভেবেছিল, মণিদীপা নিউ আলিপুরের ফ্ল্যাটেই নিয়ে যাচ্ছে তাকে। কিন্তু তা নয়। খিদিরপুরের ঘিঞ্জি ও নোংবা পাড়ায় একটা দু’নম্বরি চেহারার রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে মণিদীপা নামল। বলল, আসুন।

    এখানে কোথায়?— বলতে বলতে দীপনাথ সন্দিহান ভাবভঙ্গি করে নামে।

    গাড়ি লক করে মণিদীপা খুবই অভ্যস্ত পায়ে রেস্টুরেন্টে ঢোকে। পিছনে দীপনাথ।

    ম্যাড়ম্যাড়ে হলুদ রঙের এবড়ো-খেবড়ো দেয়ালের লম্বা সরু একখানা ঘর। ঢোকার মুখেই মস্ত উনে শিক কাবাব সেঁকা হচ্ছে। কাচা পেঁয়াজ এবং মশলাদার রান্নার খুব চড়া গন্ধ। তন্দুরে রুটি হচ্ছে। ভিড় বেশি নেই। যারা এনামেলের প্লেট থেকে রগরগে মাংসের কাই মেখে মাংসের টুকরোয় জড়িয়ে হালুম হালুম খাচ্ছে তারা নিঃসন্দেহেই খালাসি শ্রেণির লোক। এদের জাত-টাত নেই। সব একাকার, একরকম। দরিদ্র, লোভী, ক্ষুধার্ত, হিংস্র এবং ক্রুদ্ধ। সেই সঙ্গে ওপরতলার লোক সম্পর্কে সন্দিহান, দ্বিধাগ্রস্ত এবং ভিতু। চোর-চোখে একটা আধবুড়ো পাঠানি চেহারার কালোলোক দু’জনকে খুব দেখছিল।

    মণিদীপা অবশ্য খুবই সহজভাবে গিয়ে একটা টেবিলের দখল নেয়। কাঠের ময়লা আবরণহীন টেবিল। ভেজা স্যাতস্যাতে ভাব। মণিদীপা একটা রুমালে মুখ থেকে সামান্য বৃষ্টির ফেঁটা মুছে বলে, আমি মাঝে মাঝেই এখানে ডিনার সেরে যাই।

    কেন?

    এমনি। ভাল লাগে।

    পাবলিক রিলেশন?

    আই লাইক দিজ মেন। আই লাইক দিস এনভিরনমেন্ট।

    দীপনাথ একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।

    রেস্টুরেন্টটা খালাসি মার্কা হলেও খাবার খুব খারাপ নয়। রুটি আর চাপ মুখে দিয়ে সেটা টের পায় দীপনাথ। একটু সন্ত্রস্ত হয়ে বলে, মাংসটা কিসের?

    গোরু নয়। খাসি।

    গোরু কি না তা জিজ্ঞেস করিনি।

    মণিদীপা মৃদু শ্লেষের হাসি হেসে বলে, আমার প্রেজুডিস নেই, কিন্তু আপনার তো থাকতে পারে।

    দীপনাথের তেমন খিদে ছিল না। শ্লথভাবে গ্রাসটা মুখে নাড়াচাড়া করতে করতে বলে, আমার আছে। এ দেশের গোরুর মাংস খুব হাইজিনিক না হওয়ারই কথা।

    এ দেশের কিছুই হাইজিনিক নয়। কিন্তু তাতে কী? গরিবরা তো বেঁচে আছে।

    আপনি দেশের সব গরিবকে নিয়ে ভাবেন, শুধু একজন গরিব ছাড়া।

    সে কে? আপনি?

    মাথা নেড়ে দীপনাথ বলে, না। বোস সাহেব।

    বোস সাহেব গরিব নাকি?

    দীপনাথ আবার মাথা নেড়ে বলে, অ্যাপারেন্টলি নয়। কিন্তু আজ ওঁর ব্যাংকে ফোন করে যা জানলাম তাতে মনে হয় বোস সাহেব মানিটারিলি খুব ভাল অবস্থায় নেই।

    উদাসভাবে মণিদীপা বলে, তার আমি কী করব?

    কিছুই নয়। শুধু একজন গরিবের কথা আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।

    মণিদীপাও তার খাবার নাড়াচাড়া করছিল মাত্র। ওইভাবে আরও কিছুক্ষণ বসে থেকে হঠাৎ রুমালে হাত মুছে উঠে পড়ল।

    চলুন।

    আবার কোথায়?

    আঃ, অত প্রশ্ন করেন কেন?

    মণিদীপার ভিতরকার ছটফটানি খুব স্পষ্ট টের পাচ্ছিল দীপনাথ। কিসের কামড় তা বুঝতে পারছিল না অবশ্য।

    মণিদীপা আবার গাড়ি ছাড়ল। এবার নাক বরাবর সোজা এসে থামল নিজের ফ্ল্যাটবাড়ির সামনে। দীপনাথ নিশ্চিন্তির শ্বাস ছাড়ল।

    মণিদীপা ঘরে ঢুকে ব্যাগটা সোফায় ছুড়ে ফেলে ডাইনিং হলে গিয়ে ঢুকল। দীপনাথ বসে রইল বাইরের ঘরের সোফায়। শুনতে পেল মণিদীপা দিল্লিতে ট্রাংক কল বুক করছে পাশের ঘরে।

    তারপর খানিকক্ষণ নিস্তব্ধতা। তার মধ্যেই রাঁধুনি কফি দিয়ে গেছে, দীপনাথ একটা পুরনো ন্যাশনাল জিয়োগ্রাফিকের সিকি ভাগ ছবি মুগ্ধ চোখে দেখে ফেলেছে, ‘

    এ সময়ে ঘরোয়া ছাপা শাড়ি পরে মণিদীপা এসে সামনে বসল। বলল, আপনাকে একটু বসতে হবে। আমি দিল্লিতে বোস সাহেবকে কনট্যাক্ট করছি। অন্তত ততক্ষণ।

    হঠাৎ গরিবকে মনে পড়ল যে!

    আই ওয়ান্ট টু টিচ হিম এ লেসন।

    ও বাবা! টেলিফোনেও ঝগড়া করবেন নাকি?

    আমরা ঝগড়া-টগড়া করি না। নো শাউটিং বাট উই হ্যাভ আওয়ার ওয়ে অফ কমিউনিকেশন।

    দীপনাথ মৃদু হাসে। মণিদীপা ভারী ছেলেমানুষ।

    দিল্লির লাইন পেতে খুব একটা দেরি হয় না। টেলিফোন বেজে উঠতেই ছুটে যায় মণিদীপা। দীপনাথও নিঃশব্দে উঠে গিয়ে মণিদীপার পাশে দাঁড়াল।

    মণিদীপা বোস সাহেবকে ফোনে ধরতে পেরেছে। একতরফা মণিদীপারই কথা শুনতে পাচ্ছিল দীপনাথ; শোনো, আমি মণি বলছি। আই অ্যাম সরি, ব্যাংকে টাকাগুলো সব তুলতে হয়েছে। আমার হাতে আর একদম টাকা নেই। …না, হারায়নি। তুমি এলে সব বলব। …আঃ, শোনো না! দেয়ার ইজ। এ সিরিয়াস ম্যাটার। আমি তোমার অফিস থেকে টাকা অ্যাডভান্স চেয়েছিলাম।… কী বললে? … হ্যাঁ, মিস্টার চ্যাটার্জির কাছেই। …আঁ? টাকাটা চাইতেই উনি দিয়ে দিলেন। কিন্তু বুঝতে পারছি না হাউ ইজ ইট পসিবল। … বলল। …বলছি তো সিরিয়াস ট্রাবলে না পড়লে অফিসে জানাতাম না। তুমি এলে সব বলব। ফোনে কি বলা যায!… ইজ ইট অলরাইট দেন?… ওঁকে আমি বাসায় ধরে এনেছি।

    কিছু বলবে?… আচ্ছা, ছাড়ছি।

    দীপনাথ নিঃশব্দে সরে এসে সোফায় বসে।

    মণিদীপা যখন পরদা সরিয়ে বাইরের ঘরে এল তখন তার ভ্রু কোঁচকানো। মুখ গম্ভীর।

    দীপনাথ মৃদু স্বরে বলে, কথা বললেন?

    ইউ আর এ লায়ার।

    কেন?

    ও টাকা বোস সাহেবের নয়।

    তাতে কী? টাকার গায়ে তো নাম লেখা থাকে না।

    কিন্তু আপনিই না একটু আগে বলছিলেন, আমি অন্যের টাকা ছুঁতে ঘেন্না পাই!

    দীপনাথ আন্তরিক দুঃখের গলায় বলে, আপনাকে শান্ত করার জন্য বলেছি। ওটা নিয়ে ভাববেন। স্টিল নাউ আই ও ইউ ফিফটি পয়সা।

    বলতে বলতে দীপনাথ তার মানিব্যাগ বের করে একটা আধুলি সেন্টার টেবিলে রাখল। বলল, কুইটস।

    নো কুইটস। আপনি আমাদের কাছে হাজার টাকা পান।

    বলতে বলতে মণিদীপা তার এলো চুলগুলো একটা গার্ডারে আটকে সামনে বসল।

    দীপনাথ মৃদু স্বরে বলল, এ সব প্রসঙ্গ থাক।

    মণিদীপা মৃদু হেসে বলে, উড ইউ বিলিভ? আমি কিন্তু সত্যিই অন্যের টাকা ছুঁতে ঘেন্না পাই। আমি বোস সাহেব ছাড়া ম্যারেড লাইফে অন্য কারও টাকা নেওয়ার কথা ভাবতেই পারিনি। আপনার টাকাটা তাই ফেরত দিতাম। কিন্তু বোস সাহেব অ্যাপ্রুভ করেছে বলে নিচ্ছি।

    দীপনাথের বুকের মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ ঠেলাঠেলি করতে থাকে। এতদিনে! অবশেষে। “হুররে” বলে তার চেঁচিয়ে উঠতে ইচ্ছে করে। সেই সঙ্গে একটা বিরহের জ্বালাও খামচে ধরে বুক। হরষে বিষাদ কথাটা বহুবার পেয়েছে। আজই প্রথম হরষে বিষাদ কাকে বলে তা বুঝল।

    পরিপূর্ণ চোখে মণিদীপার দিকে চেয়ে দীপনাথ বলে, আজ তা হলে চলি মণিদীপা।

    মণিদীপা একটু অবাক হয়ে বলে, তা হলে বোল ফুটল?

    ফুটল। আজ জেনে গেলাম আপনি সুখী হবেন। আপনি মানে আপনারা।

    মণিদীপা উঠে পিছনে আসতে আসতে বলে, একজিটটা একটু ড্রামাটিক হয়ে যাচ্ছে না কি?

    হোক, হোক। জীবনে একটু নাটক থাকা ভাল।

    ইয়ারকি হচ্ছে? বসুন, এখানে ডিনার খেয়ে যাবেন।

    ডিনার খাওয়ালেন যে দোকানে! মনে নেই?

    সে কি খাওয়া বলে?

    তা হোক। আজ আর-একটা ভোজে দিল খুশ হয়ে আছে। অন্য ভোজের দরকার নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }