Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫০. কথা শুনে একটু গম্ভীর হতে গিয়ে

    কথা শুনে একটু গম্ভীর হতে গিয়েও অবশেষে একটু মুচকি হেসে ফেলে দীপনাথ। বলে, ওসব ছিচকাঁদুনে মেয়েলি সেন্টিমেন্টের কথা তোমার মুখে একদম মানায় না বউদি।

    তৃষা চোখ বড় বড় করে বলে, তাই বুঝি? কাল রাতেই তো মাত্র বোমা মেরে গেল। তবু বলছ মেয়েলি সেন্টিমেন্ট? কাল রাতে কপালজোরে বেঁচে গেছি বলেই যে সব ক’টা ফাড়া কাটাতে পারব অত পুণ্যি তো করিনি।

    প্রবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দীপনাথ বলে, তুমি মরবে না। তুমি মরলে আমাদের চলবে কী করে?

    চলবে কী করে তার আমি কী জানি! আমি অমর নই।

    বিরক্ত হয়ে দীপনাথ বলে, বার বার মরার কথা বলে আবহাওয়া ভারী করতে চাইছ কেন বলো তো! এ রকম তো ছিলে না! বুড়ো হচ্ছ নাকি!

    তোমার কাছে বুড়ো হব সাধ্য কী! এই না সেদিন রঙিন শাড়ি এনে পড়িয়ে ছাড়লে!

    তবে? বুড়ো হওনি, শিগগির মরছও না। এখন যাও তো ভদ্রমহিলাকে ডেকে দাও। পরস্ত্রী ফেরত দিয়ে আসি।

    কিন্তু পরস্ত্রীটি যে নড়তে চাইছে না!

    কেন বলো তো?

    আমার মেয়ে দুটোকে পলিটিকস শিখিয়ে মাথা খাচ্ছে।

    তা হলে এক্ষুনি মাল ট্রান্সফার করো, নইলে সর্বনাশ। পলিটিকস অতি বিষাক্ত জিনিস।

    নিজে থেকে না উঠলে তুলি কী করে?

    ওর ওঠার তেমন ইচ্ছেও বোধহয় নেই। হাওড়া স্টেশনে আমাকে বলছিল দু-একদিন এখানে থেকেও যেতে পারে।

    তা থাকুক না। ক্ষতি তো নেই। স্বপ্ন আর মঞ্জুর ঘরেই জায়গা হবে।

    একটু ইতস্তত করে দীপনাথ বলে, কাজটা ঠিক হবে না বউদি। ওর হাজব্যান্ডের কাছে থাকার পারমিশান নেওয়া হয়নি।

    হাজব্যান্ডকে কি ও মানে?

    ও না মানুক, আমি তো ওর হাজব্যান্ড হিসেবে বোস সাহেবকে মানি!

    হাজব্যান্ড তো এখানে নেইও শুনেছি।

    তাতে কী? ফ্ল্যাটটা তো আছে।

    সেখানে কি ও নিরাপদ, দীপু?

    তার মানে?

    মানে আবার কী? তোমার মরালিটির সেন্স দেখে হাসি পায়। একা ফ্ল্যাটে একটা ছুরি মেয়ে কতগুলো বয়-বাবুর্চির হেফাজতে থাকে, সেটাই বা কোন ভাল ব্যাপার? ওর হাজব্যান্ডের উচিত ছিল কোনও বয়স্কা আত্মীয়াকে ফ্ল্যাটে রেখে যাওয়া বা ওকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া।

    দীপনাথ ব্যাপারটা একটু ভেবে দেখে নেয়। তারপর চিন্তিত মুখে বলে, আমি তোমার মতো করে ভাবিনি। তুমি হয়তো ঠিকই বলছ। তবু আমার দায়িত্ব তো ওকে রক্ষা করা নয়। আমার দায়িত্ব শুধু জায়গা মতো পৌঁছে দেওয়া।

    তৃষা একটু হেসে বলে, অত আলগা কথা বোলো না, দীপু। ও তোমার ওপর আরও একটু নির্ভর করে।

    দীপনাথ এসব ঠাট্টায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে বলে লজ্জা পেল না। বলল, ইয়ারকি কোরো না। কারও ওপর নির্ভর করার মতো মেয়ে নয়।

    তৃষা একটু গম্ভীর হয়ে বলে, কেন মেয়েটাকে ঝোলাচ্ছ বলো তো তুমি! পরস্ত্রীকে ভাগিয়ে নেওয়ার লোক তো নও। তবে ওকে পাগল করছ কেন?

    পাগল করছি! হাসালে বউদি। আমাকে পাত্তাই দেয় না।

    বরং খুব বেশি পাত্তা দেয়। তোমাকে মৌমাছি কামড়েছে বলে মুখের ভাবখানা কী রকম হয়েছিল দেখোনি?

    আচমকাই এবার লাল হল দীপনাথ। একটা শ্বাস ফেলে বলল, ওর চেয়ে তুমিই বেশি পাগল করলে আমায়। এখন যাও তো, যা বলছি করো তো। ডেকে দাও।

    যাচ্ছি বাবা।

    বলে তৃষা যায়। দীপনাথ অধৈর্যের সঙ্গে পায়চারি করতে থাকে বাগানের রাস্তায়। মেয়েদের বিদায় নিতে অনেক সময় লাগে। শেষ কথার রেশ ছিঁড়তে পারে না সহজে। দীপনাথ বার কয়েক ঘড়ি দেখল। জুতো ঘষল রাস্তার মোরমে। আজকের মৌমাছির হুল বহুকাল মনে থাকবে। কী জ্বালা! কী সুখ! চোখের কোল এখনও বেলুনের মতো ফুলে আছে। ঘাড়ে মাথায় এখনও তিনটে ঢিবি। অল্প ব্যথা। কাল ফোলা মিলিয়ে যাবে, ব্যথা থাকবে না। শুধু স্মৃতি থাকবে।

    যখন শেষ অবধি উঠোনের সীমানা ডিঙিয়ে মণিদীপা বেরিয়ে এল তখন সন্ধে হয়-হয়। চারদিকে লঘু ছায়া পড়ে গেছে। হাওয়া দিচ্ছে খুব। দুরে মেঘ ডাকল।

    মঞ্জু বলল, আর-একটু দেখে যাওয়া ভাল মণিকাকিমা, বৃষ্টি আসবে বোধহয়।

    স্বপ্ন মণিদীপার একটা হাত ধরেই ছিল। বলল, থেকে যাও না কাকিমা!

    ওরা খুব জমিয়ে নিয়েছে, বুঝল দীপনাথ। অনায়াসে তুমি করে বলছে। মেয়েরা এসব পারে।

    মণিদীপা একবার জিজ্ঞাসু চোখে দীপনাথের দিকে তাকায়। দীপনাথ অস্বস্তির সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিয়ে মণিদীপার পিছনে দাঁড়ানো তৃষার দিকে তাকায়। তৃষা তার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে। দীপনাথ চোখ নামিয়ে নেয়।

    খুব সংকোচের সঙ্গে দীপনাথ মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে, আপনি কি থাকতে চান?

    ওরা ছাড়তে চাইছে না। আপনি কী বলেন?

    স্বপ্না হাঁ করে কথা গিলছে। দীপনাথ কী বলবে? সে একবার কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, ইচ্ছে হলে থাকুন।

    আপনি?

    আমি? আমাকে যেতেই হবে।

    কেন খুব কাজ?

    খুব কাজ। আপনি থাকতে পারেন। কাল সকালে বা যখন আপনার ইচ্ছে বউদি লোক দিয়ে পাঠিয়ে দেবে।

    লোকের দরকার নেই। একাই পারব।

    তা হলে থাকছেন?

    ভাবছি।

    ভাববার সময় নেই। আপনি থাকুন, আমি চলি।

    থাকবে। থাকবে!–বলে স্বপ্না আর মঞ্জু প্রায় আঁকড়ে ধরে মণিদীপাকে।

    দৃশ্যটা দেখতে ভালই লাগে দীপনাথের। তবু মনে একটা কাঁটা ফুটে আছে। বোস সাহেবের অনুমতি নেওয়া হয়নি। সে তৃষার দিকে সুপ্রশ্ন চোখে চেয়ে বলে, যাই বউদি?

    এসো। মণিদীপা আমাদের কাছে যত্নেই থাকবে।

    আসি তা হলো–বলে মণিদীপার দিকে একপলক চেয়ে দীপনাথ তার অভ্যস্ত বড় বড় পদক্ষেপে বেরিয়ে এল বাগানের ফটক খুলে।

    স্টেশন অনেকটা পথ। দূরে মেঘ ডাকছে। শরতের দমকা বৃষ্টি এসে কখন ভিজিয়ে দেয় কে জানে। ছাতা নিয়ে কদাচিৎ পথে বেরোয় সে। ছাতা জিনিসটাই তার পছন্দ নয়।

    চৌমাথা পেরিয়ে ডানদিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে অনেকটা এসে হঠাৎ এক জায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে গেল দীপনাথ। খুব নির্জন। একটা মস্ত অশ্বথের ঘন ছায়া জায়গাটাকে অন্ধকার কবে রেখেছে। চারদিকে অজস্র ঝোপঝাড়, বাড়িঘর নেই। এই জায়গাতেই সামনাথকে মেরেছিল না গুন্ডারা! কেউ চিনিয়ে দেয়নি দীপনাথকে, তবু তার মনে হল, এই সেই জায়গা। সোমনাথকে কারা মেরেছিল তা আজও সঠিক জানে না দীপনাথ। এর ওর তার কাছে নানা কথা শুনেছে। সোমনাথ বড় বেশি আদরে মানুষ। কখনও শাসন করা হত না বলেই কি একটু অন্যরকম হল সে? কে বলবে? আবার বউদির গুন্ডারাই যদি তাকে মেরে থাকে তবে তারা শমিতার ওপর অত্যাচার করবে কেন? বউদি নিশ্চয়ই ওরকম জঘন্য কাজ করার হুকুম ওদের দেয়নি। ঘটনাটা তাই আজও কিছুতেই বুঝতে পারে না দীপনাথ।

    খানিকক্ষণ ঝুঝকো ছায়ায় সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। ভাবে। বিশ্লেষণ করে। কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারে না।

    বৃষ্টি এল বলে। এখনও অনেকটা পথ। দীপনাথ খুব দ্রুত হাঁটতে থাকে। কখনও দৌড়পায়ে। স্টেশনের একেবারে কাছাকাছি তেমাথায় বৃষ্টি তার নাগাল পেয়ে গেল। দোকানে ঢোকা যেত, কিন্তু না ঢুকে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাকি পথটা দৌড়ে পার হল সে।

    স্টেশনের চত্বরে উঠে ছাদের নীচে দাঁড়িয়ে রুমালে মাথা ঘাড় মুছল। কলকাতার একখানা টিকিট কাটল। তারপর দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে লাগল। স্টেশনে যাত্রী বলতে প্রায় কেউ নেই। সে একা। খবর নিয়ে জেনেছে কলকাতার ট্রেন আরও মিনিট দশেকের আগে নয়।

    মণিদীপা রয়ে গেল। ঘটনায় স্বস্তি পাচ্ছে না দীপনাথ। আনমনে একবার চোখের কোলে ফোলা জায়গাটায় আঙুল রাখল। ফোলাটা অনেক কমে গেছে। ব্যথা নেই, জ্বালা নেই। তবু কী যেন একটু আছে। আঙুল ছোঁয়াতেই রোমাঞ্চ হল গায়ে।

    বৃষ্টির মধ্যেই একটা রিকশা ঝড়েব বেগে ছুটে আসছে স্টেশনের দিকে। মোড়ের মাথায় ঘন্টি মারছিল ঘন ঘন। ফিরে দৃশ্যটা দেখছিল দীপনাথ।

    কে আসে?

    বুকের মধ্যে হঠাৎ দামামা বেজে ওঠে। এত বেসামাল বহুকাল লাগেনি দীপনাথের। অথচ সেই নিত্যদিনের মণিদীপাই তো! মহত্তর কিছু তো নয়, চমকপ্রদও তো কিছু নয়। বিরহ তো মাত্র আধ ঘন্টার।

    রিকশাওলাই একটা ছাতা ধরে স্টেশনে তুলে দিয়ে গেল মণিদীপাকে। দীপনাথের দিকে চেয়ে বলল, আপনাকে না পেলে দিদিমণিকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

    দীপনাথ জবাব দিল না। নিঃশব্দে গিয়ে আর একখানা কলকাতার টিকিট কেটে আনল।

    মণিদীপাও সামান্য ভিজেছে। হাত বাড়িয়ে বলল, আপনার রুমালটা দিন তো। মাথাটা বড্ড ভিজে গেছে।

    দীপনাথ রুমাল দিল না। তার শুচিতায় বাধে। পরস্ত্রী কেন অন্য পুরুষের রুমাল ব্যবহার করবে? আর বুকের ভিতরকার সেই দামামা? হ্যাঁ, তাও সত্যি। আর এই দুইকে কখনও মেলাতে পারে না বলেই তো দীপনাথ আজ বড় একা বোধ করে।

    কই, রুমালটা দিলেন না!–মণিদীপা হাত বাড়িয়ে আছে।

    শাড়ির আঁচলে মুছে নিন। আমার রুমাল নোংরা।

    মণিদীপা কোনও কথা বলল না। আঁচলটা ঘুরিয়ে মাথাটা যথাসাধ্য মোছার চেষ্টা করল।

    আপনি জানতেন যে, আমি চলে আসব?

    না তো! কী করে জানব?–দীপনাথ অবাক হয়ে বলে।

    না জানলে এতক্ষণে চলে যাননি কেন?

    যেতাম, গাড়ি পেলে। এখনও গাড়ি আসেনি।

    চল্লিশ মিনিটেও ট্রেন পেলেন না!

    না। আপনার কেন মনে হল আমি আপনার জন্যই যাইনি?

    মণিদীপা কাঁধটা ঝাঁকিয়ে বলে, এমনিই। আপনি চলে আসার পরই জায়গাটা এত বোরিং মনে হল যে থাকতে ইচ্ছে করল না।

    দীপনাথের সুস্পষ্টই শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। বুকের মধ্যে তোলপাড়। এত অকপট কোনওদিন ছিল না মণিদীপা। আজ এসব হচ্ছেটা কী?

    দীপনাথ কথা বলল না। মণিদীপা খুব দীন ভঙ্গিতে গিয়ে একটা ফাঁকা বেঞ্চে বসল। মাথা নিচু, চোখ নত।

    ঘনঘোর বৃষ্টির শব্দের ভিতর দিয়ে নিঃশব্দে অতিকায় ট্রেন চলে এল।

    দীপনাথ বলল, ট্রেন।

    মণিদীপা উঠল। বৃষ্টির ভিতর দিয়ে দু’জনে দৌড়ে এসে প্রথম যে কামরাটা পেল, উঠে পড়ল।

    প্রায় ফাঁকা কামরা। আলো জ্বলছে। বাইরে ঘন অন্ধকারে অঝোর বৃষ্টি। কামরার মেঝেয় চিনেবাদামের খোসা, কাগজের ঠোঙা, বিড়ি-সিগারেটের টুকরো, দেশলাইয়ের কঁকা খোল। সব মিলিয়ে জনাপাঁচেক লোক এধারে সেধারে শুয়ে-বসে আছে। বেশির ভাগই চাষিবাসী শ্রেণির। মাঝপথেই কোথাও নেমে যাবে।

    মুখোমুখি বসেও কেউ কারওর দিকে তাকাতে পারছিল না। আজ পরস্পরের কাছে তারা বড় বেশি ধরা পড়ে গেছে। লুকোনোর কিছু আর রইল না বোধহয়। না কি এখনও কিছু পরদার আড়ালে আছে?

    বউদি কী বলল?— অনেকক্ষণ বাদে দীপনাথ আস্তে গলায় প্রশ্ন করে।

    কী বলবে?

    হঠাৎ চলে এলেন দেখে কিছুই বলল না?

    না তো? কিছু বলার কথা নাকি?

    কথাই তো। এভাবে চলে আসা ঠিক হয়নি। পাঁচজনে পাঁচ কথা ভেবে নেবে।

    মণিদীপা অবাক হয়ে বলে, কী ভাববে?

    আপনাকে নিয়ে আর পারি না।

    বলুন না কী ভাববে!

    দীপনাথ স্নান একটু হাসে। হাল ছেড়ে দিয়ে আপনমনে মাথা নাড়ে একটু। তারপর বলে, মানুষের মনে কতরকম যে প্যাঁচ আছে।

    বাট উই আর ফ্রেন্ডস।–বলে মণিদীপা উঠে এসে পাশে বসে।

    অফ কোর্স। কিন্তু সেটা কি সবাই বুঝবে?

    মণিদীপা অতিশয় ফিচেল হাসি হাসছিল। বলল, সবার আগে দেখা দরকার আপনি বা আমি পরস্পরকে বন্ধু মনে করি কি না।

    আমি আপনার অত্যন্ত শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু, বিশ্বাস করুন।

    অবিশ্বাস একবারও করিনি।–মণিদীপার সুগন্ধি একটা শ্বাস এই কথার সঙ্গে দীপনাথের ঘাড় ছুঁয়ে গেল।

    মণিদীপা এত কাছে ঘেঁষে বসে আছে যে, দীপনাথের অস্বস্তি হতে থাকে। সেই অস্বস্তির মধ্যে এক ধরনের তীব্র সুখ। তার শরীর শিউরে ওঠে।

    দীপনাথ কিছু ভেবে না পেয়ে বলল, আমাকে অবিশ্বাস করার কিছু নেই।

    আপনার কথাই ওঠে না। আপনি কখনও নিয়ম ভাঙতে ভালবাসেন না। সেই সাহস আপনার নেইও। কাওয়ার্ডদের থাকে না। তাই অধিকাংশ কাওয়ার্ডই হয় নীতিবাগীশ।

    তাই নাকি? আপনি খুব নিয়ম ভাঙতে ভালবাসেন, তাই না?

    ভীষণ। আর যারা নিয়ম ভাঙে তাদেরই আমার বেশি পছন্দ। নীতিবাগীশরা আমার দু চোখের বিষ।

    বুঝলাম মিসেস বোস।

    কিছুই বোঝেননি। নীতিবাগীশ আর আদর্শবাদীর মধ্যে অনেক তফাত। কিসের তফাত জানেন? নীতিবাগীশরা জীবনে কিছু করতে পারে না, আদর্শবাদীরা পারে।–মণিদীপার গলার স্বরে রাগের উত্তাপ বাড়ছে।

    বুঝলাম। এক্ষেত্রে আপনিই বোধহয় সেই আদর্শবাদী?

    নিশ্চয়ই। আর আদর্শবাদীদেরও কিছু শুচিতার বোধ থাকে। কিন্তু আপনি বা বোস সাহেব কোনওদিন আমাকে, সিরিয়াসলি নেননি। আপনারা শুধু জানেন আমি আপস্টার্ট, একস্ট্রাভ্যাগান্ট নটি। তার বেশি কিছু নয়। মণিদীপা ঘন ঘন শ্বাস ছাড়ছে। নাকের পাটা ফুলে ফুলে উঠছে।

    আমি ভাবি না।–গোমড়া মুখে দীপনাথ বলে।

    টু অফ ইউ আর ইন এ লিগ এগেইনস্ট মি।

    না মিসেস বোস।

    এ কথায় কী হল কে জানে, মণিদীপার মুখ-চোখ রাগে ফেটে পড়ল। ঘনশ্বাসের ঝোড়ো আওয়াজের সঙ্গে চাপা আক্রোশ ভরা গলায় ‘আমি জানি, আমি জানি’ বলতে বলতে আচমকা অপ্রত্যাশিত, দু’হাত বাড়িয়ে সে খামচে ধরে দীপনাথের জামা টেনে প্রায় ছিড়ে দিতে দিতে বলে, কেন আপনারা ভালবাসেন না আমাকে? কেন বাসেন না? কেন?

    শিলিগুড়ি গিয়ে অবধি দীপনাথকে চিঠি দেয়নি প্রীতম। তবে সে যে পৌঁছেছে সে খবর বিলুর কাছে শুনেছে দীপনাথ। আজ মেসে ফিরে প্রীতমের চিঠি পেল সে। বেশ দীর্ঘ চিঠি। হাতের লেখাটা অবশ্য প্রীতমের নয়। অন্য কাউকে দিয়ে লিখিয়েছে, আমি ভাল আছি। কিন্তু এ জায়গাটা কী বিচ্ছিরি হয়ে গেছে বলো তো! মদের দোকান, স্মাগলিং, মারপিট, হই-চই, আগে জানলে কিছুতেই আসতাম না। তুমি কখনও বলোনি তো আমাকে!… বলো তো, গোটা দেশে একটাও কি শান্ত, নিরিবিলি, সুন্দর জায়গা নেই? সব পচে গেছে? সব নষ্ট হয়ে গেছে? বেঁচে থেকে তবে আর কী হবে? কলকাতায় এতকাল বিছানায় শুয়ে শুয়ে কত ভেবেছি, আমার স্বপ্নের শিলিগুড়ি বুঝি গাছপালা পাহাড় নদী আর নির্জনতা সাজিয়ে নিয়ে বসে আছে আমার জন্য। কোথায় কী? নোংরা হাটুরে চেহারার এই বিকট শহর আগাপাশতলা কলকাতার নকল। আমাকে একটা জায়গার সন্ধান দাও মেজদা।…

    একটা শ্বাস ফেলে খামে আবার চিঠিটা ভাঁজ করে ভরে রাখে দীপনাথ।

    সুখেন বহুদিন পর বাড়ি গেছে. পড়ুয়া ছেলেটাও দিন-দুই হল দেশে। ঘরে আজ দীপনাথ একা। রাতে সে কিছুই খেলনা। বাতি নিভিয়ে অনেকক্ষণ বিছানায় শুয়ে রইল। সে আর খুব বেশিদিন এই মেসে থাকবে না। আর-একটু ভালভাবে থাকার জন্য সে এবার একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নেবে। রান্নার লোক রাখবে।

    ভাবতে ভাবতে টান টান হয়ে উঠে বসে সে। নিজেকেই প্রশ্ন করে, না হয় বাসা নিলাম, লোক রাখলাম, কিন্তু তারপর? তারপর কি জীবন আমুল পালটে যাবে? নতুন কিছু ঘটবে?

    বুকের একটা জায়গায় অসাবধানে মণিদীপার বাঁ হাতের কড়ে আঙুলের তীক্ষ্ণ নখে সামান্য আঁচড় লেগেছিল। ঘামে ভিজে এখন সেই জায়গাটা সামান্য জ্বালা করছে। মৌমাছির হুলের জায়গাগুলো এখনও সামান্য ফুলে আছে। কী করবে দীপনাথ? কী করবে?

    নিশিতে পাওয়ার মতো বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে সে। দরজা খুলে রাস্তায় নেমে আসে। নিশুত রাতে ফুরফুরে হাওয়া ছেড়েছে। কুকুররা ঝগড়া করছে মোড়ে। গলির মুখে দাঁড়িয়ে দেখে এত রাতে ঠেলাগাড়িতে কাদের মাল যাচ্ছে কোথায়। আকাশভরা তারা ফুটে আছে। মাঝরাতে এইভাবে জেগে উঠে দীপনাথের কাছে আজ হঠাৎ আবার বহু দূরের এক মহাপর্বতের সংকেতবার্তা এসে পৌঁছোয়। মানুষের জীবন নানা পঙ্কিলতায় ভরা, যুক্তিহীন, পরিণতিহীন, আনন্দহীন— ওই জীবন ছেড়ে চলে এসো দীপু। আমি বহুকাল তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।

    যাবে দীপনাথ। বড় উচাটন হয়ে ওঠে মন। কোথায় কোন দুর্গম প্রান্তর, পাথুরে জমি, চড়াই-উতরাই ভেঙে যেতে হবে তার তো কোনও ঠিক নেই। কোন দিক থেকে সংকেত ভেসে আসছে, তা সে জানেও না ভাল মতো। শুধু তার পালে সেই পাহাড়-ছোয়া বাতাস এসে লাগে। বলে, উজানে যাও, উজানে যাও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }