Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প979 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭৮. সানফ্লাওয়ারের শীততাপনিয়ন্ত্রিত বিশাল রিসেপশন

    আজকাল প্রায়ই সানফ্লাওয়ারের শীততাপনিয়ন্ত্রিত বিশাল রিসেপশন ঘরে বুলু অর্থাৎ সোমনাথ এসে বসে থাকে দীপনাথের জন্য। কেন আসে তা জানে বলেই দীপনাথ বিরক্ত হয়। বুলু টাকার গন্ধ পেয়েছে। প্রায়ই বাবার নাম করে টাকা চায়। বলে, বাবার পুরনো চশমাটায় চলছে না। আমার অবস্থা তো জানোই। বাবা তোমারও। নিত্যি নতুন অজুহাত।

    বুলুর বয়স বেশি নয়। ত্রিশের মধ্যেই। কিন্তু এর মধ্যেই জুলপি পেকেছে। চেহারায় সুস্পষ্ট মধ্যবয়সের ছাপ। দীপনাথের চেয়ে বয়সে চার-পাচ বছরের বড় বলে মনে হয়। কম বয়সে বিয়ে করলে কি মানুষ তাড়াতাড়ি বুড়োটে মেরে যায়?

    বম্বে থেকে একটা শট কোর্সের ট্রেনিং সেরে ফিরে এসে প্রথম দিন অফিসে পা দিয়েই রিসেপশনে বুলুকে দেখতে পায় দীপনাথ। বিরক্ত হতে গিয়েও হল না। থমকে দাঁড়িয়ে চেয়ে রইল। বুলুর পোশাক আজ অন্যরকম। পরনে ধড়া, চুল এলোমেলো, গালে অল্প একটু দাড়ি। দীপনাথকে দেখে উঠে কাছে এল।

    আবেগহীন গলায় দীপনাথ বলে, বাবা?

    বুল মাথা নাড়ে, আজ সাত দিন।

    দীপনাথ কোনও শোক বোধ করে না, বুকে কোনও কান্নার ঢেউ ভাঙল না, হাহাকারে ভরে গেল ভিতরটা। তবু একটা কিছু হল। হঠাৎ বড় খাঁ খাঁ লাগল চারদিক। শিলিগুড়ির কলেজপাড়ায় মস্ত একটা গাছের তলায় তারা আড্ডা মারত। সেই গাছটা কেটে ফেলার পর জায়গাটা অদ্ভুত ন্যাড়া আর করুণ দেখাত। চারদিকটা এখন অনেকটা ওইরকম। কী যেন ছিল, এখন নেই। তবে দীননাথ কোনওদিনই বটবৃক্ষের মতো তাঁর তার সন্তান-সন্ততিকে আড়াল করে ছিলেন না। গাছের কথাটা দীপনাথের মনে এল শুধু ওই থাকা না-থাকার তফাতটুকুর জন্য।

    বুলু কাপড়ের খুট তুলে চোখে চাপা দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠল। সানফ্লাওয়ারের দু’জন যুবতী রিসেপশনিস্ট দৃশ্যটা দেখছিল। বুলুর কান্না দেখে দীপনাথেরও ঠোঁট একটু কেঁপে উঠেছিল অজান্তে। সেটা প্রিটেনশনও হতে পারে। মা বাপ মরলে কাদা উচিত এই সংস্কার থেকে। কিন্তু রিসেপশনিস্ট দু’জনের দিকে চেয়ে সামলে গেল দীপনাথ। গলার স্বর নামিয়ে প্রশ্ন করল, সবাইকে খবর দেওয়া হয়েছে?

    বুলু পাজি হতে পারে, কিন্তু বাবার শোকে তার কান্নায় কোনও প্রিটেনশন নেই। ক’দিনে সে যে অনেক কেঁদেছে তার সুস্পষ্ট ছাপ তার ফোলা মুখে। এখনও চোখ দুটি জলে ভরা, লাল। কথা না বলে মাথা নাড়ল সে, খবর দিয়েছে।

    বিলুকে?

    হ্যাঁ।

    তুই একটু বোস। আসছি।

    সানফ্লাওয়ারে দীপনাথের কোনও চেম্বার নেই। বড় হলঘরের মধ্যে একটু উঁচু কাঠের পাটাতনের মতো আয়ল্যান্ড অফিসারদের জন্য। এ রকম আয়ল্যান্ডের একটা দীপনাথের। সে তার দ্বীপটিতে উঠে চারদিকে একবার তাকাল। ভারী নিস্তব্ধ পরিচ্ছন্ন আধুনিক অফিস। রোজই সে এই অফিসটার আভিজাত্য লক্ষ করে এবং খুশি হয়। আজ এই শশাকের দিনেও হল। নিজের চেয়ারে মিনিট দুয়েক নিস্তব্ধ হয়ে বসে রইল সে। তারপর ব্রিফকেস খুলে কিছু জরুরি কাগজপত্র ফাইলে রেখে ডসন নামে তার ওপরওয়ালা সাহেবকে একটা ফোন করল। না, লম্বা ছুটি চাইল না সে। শুধু আজকের দিনটা। শ্রাদ্ধ আর ঘাট কাজের জন্য আরও দুদিন নেবে সেটাও জানিয়ে। রাখল।

    ডসন তার অদ্ভুত গভীর কণ্ঠস্বরে মার্কিন উচ্চারণে বলল, ইটস ওকে। আই সিমপ্যাথাইজ।

    ফোন করার পরও কিছুক্ষণ বসে থাকে দীপনাথ। সে এত স্বাভাবিক কেন তা বুঝতে পারছিল। সে তো আলবেয়ার কামুর নিস্পৃহ নায়ক নয়। ভেতো ভাবপ্রবণ বাঙালি। সত্য বটে, সে মানুষ হয়েছে পিসির কাছে, বাবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল না, তবু বাবা তো! বুলুর মতো সে কেন কেঁদে উঠছে না?

    নিজের জন্য নিজের কাছেই লজ্জা করছিল তার। অ্যাসিস্ট্যান্টকে ডেকে কাজকর্মের কিছু পরামর্শও দিল সে। খুবই স্বাভাবিকভাবে। বাবার মৃত্যুসংবাদটা সে অবশ্য প্রচার করল না।

    বাইরে এসে দেখে, বুলু বসে সিগারেট ফুঁকছে। তাকে দেখেই তটস্থ হয়ে পেতলের স্ট্যান্ডওয়ালা ডাবরের মতো মস্ত অ্যাশট্রেতে সেটা ফেলে উঠে দাঁড়াল।

    দীপনাথ শোক টের পাচ্ছে না ঠিকই। কিন্তু চারদিকে খাঁ খাঁ ভাবটা রয়েছে এখনও। ট্যাক্সিতে বসেও সেটা টের পাচ্ছিল। ভীষণ বৃষ্টি গেছে ক’দিন। উজ্জ্বল রোদ। ভ্যাপসা গরম। বুলুর গা থেকে কোরা কাপড়ের গা-গোলানো গন্ধ আসছে। বাবা নেই। প্রীতমও আর একভাবে নেই। মণিদীপাকে সে নিজেই দূরের মানুষ করে দিয়েছে। এই তত ভাল দীপনাথ! আস্তে আস্তে ঝরে যাচ্ছে পাতা। রিক্ত হয়ে যাচ্ছে। এবার একদিন পাহাড়ের দিকে মুখ ঘোরাবে। তারপর চলতে থাকবে। পর্বতের তো মৃত্যু নেই। নিরুদ্দেশও হয় না।

    বুলুর দু’শরের বাসাটা খুবই ছোট। ভারী ঘিঞ্জি। বাইরের ঘরে একটা চৌকির ওপর শ্রীনাথ বসে আছে। চেহারাটা ভেঙেচুরে বিচ্ছিরি হয়েছে। ফর্সা গালে কাঁচা পাকা দাড়ি। চোখের কোলে জল ছিলই, দীপনাথকে দেখে বাবা নেই রে’ বলে ড়ুকরে কেঁদে উঠল।

    বুলু চাপা গলায় বলে, মেজদা খুব ভেঙে পড়েছে। গত তিনদিন ধরে এখানেই আছে। সমানে কঁদিছে।

    বউদি আসেনি?

    প্রথম দিন খবর পেয়ে এসেছিল।

    দীপনাথ জুতো ছাড়ল, তারপর গিয়ে শ্রীনাথের পাশে বসে গায়ে হাত রেখে বলে, কেঁদো না! কান্নার কী আছে! বুড়ো বয়সে বেঁচে থাকাও তত কষ্টের।

    এই বলতে বলতেই দীপনাথের চোখে জল এসে গেল। এইটুকুর ভারী দরকার ছিল, নইলে ‘ওরা ভাবত, দীপনাথ বাবার জন্য দুঃখ পায়নি। চোখের জলটা সে রুমালে মূছল না। সবাই দেখুক।

    কিন্তু কাঁদতে কাঁদতেও দীপনাথের যুক্তিবাদী মনে প্রশ্ন আসে। মেজদা শ্রীনাথ কি বাবাকে এতই ভালবাসত! কই, কখনও তো মনে হয়নি। বরং নিজের বাবা সম্পর্কে শ্রীনাথের ছিল নিষ্ঠুর উদাসীনতা। তবে এই কান্না আসছে কোথা থেকে? কেন এত শোক?

    আসলে দুর্বলচিত্তরা অন্যের দুর্দশা, ব্যথা বা মৃত্যু দেখে নিজের দুর্দশা, ব্যথা বা মৃত্যুর ভয়ে ভেঙে পড়ে, কেঁদে আকুল হয়। এর সঙ্গে শোক বা ভালবাসার সম্পর্কই নেই। সবটাই আত্মকেন্দ্রিক।

    কাঁদতে কাঁদতে হিক্কার মতো অদ্ভুত শব্দ করছিল শ্রীনাথ। মাঝে মাঝে বাবা, বাবা গো’ বলে আর্তনাদ। একবার মনে হল শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে বুঝি!

    শমিতাকে খুব ভাল করে কখনও লক্ষ করেনি দীপনাথ। দেখাও হয়েছে কম। বেশ টান টান শ্যামলা।

    এইরকম একটা সংকট সময়ে শমিতা একটা ছবি আঁকা টিনের ট্রে-তে চা নিয়ে এল। কিশোরী চেহারা। মুখটার মধ্যে শ্ৰী আছে বটে, তবে বড় রোখা-চোখা মনে হয়। বুদ্ধি রাখে কিন্তু হয়তো সবটাই সদ্ধি নয়। দীপনাথ শুনেছে এই মেয়েটাই নেপথ্যে থেকে সোমনাথকে পরিচালনা করে। মেয়েটির মুখচোখ দেখে কথাটা আবশ্বাস্য মনে হয় না। মেজোবউদির সঙ্গে এদের তুমুল আড়াআড়ি! কিন্তু দীপনাথ বুঝল, শমিতা যতই চালাক চতুর হোক, মেজোবউদির সঙ্গে পাল্লায় কিছুই নয়। বুদ্ধি ছাড়াও মেজোবউদিব আর যে জিনিসটা আছে তা হল প্রবল ব্যক্তিত্ব। তা শমিতা কোথায় পাবে?

    শমিতা ভারী যত্নে চা হাতে তুলে দিল। মাথায় ঘোমটাটি ঠিক মতোই টানা। ট্রে-টা একটা টেবিলে রেখে আচলে মুখ ঢেকে একটু কাঁদল। এই কান্নাটাকে খুব ফাকি বলে মনে হল না দীপ্যাথের। বাবা তো এরই হেফাজতে ছিল বহু দিন! বেড়াল পুষলেও মায়া হয়, দীননাথের মতো ঝামেলাহীন সাদামাটা মানুষের ওপর মায়া পড়তেই পারে।

    কিন্তু এই সব কান্নাকাটি আর সহ্য হচ্ছিল না দীপনাথের। সংসার থেকে দূরে সরে থাকায় এইসব শোকদুঃখের সঙ্গে তার বেশি পরিচয় নেই। ভারী অস্বস্তিকর! গরম চায়ে তাড়াতাড়ি চুমুক দিতে দিতে সে বলল, শমিতা, আমি স্নান করব। তোমাদের বাথরুমে জল আছে?

    আছে। সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

    আর কোরা কাপড় চাই। কাছাকাছি দোকান-টোকান থাকলে বুলু বরং গিয়ে কিনে আনুক। টাকা দিচ্ছি।

    বুলু বলল, ঘরের কাছেই দোকান।

    দীপনাথ একশো টাকার নোট বের করে দিয়ে বলল, কী কী লাগে জানি না! সব আনিস। আর বিলুকে খবর দেওয়া হয়েছে তো?

    হয়েছে। বিলু আসে প্রায় রোজই।

    শ্রাদ্ধ কোথায় হবে?

    বুলু কাঁচুমাচু মুখ করে বলল, আমার অবস্থা তো জানো। আমি কালীঘাটেই করব ভাবছিলাম।

    আলাদা করবি?

    বুলু একটু হতচকিত হয়ে অসহায় গলায় বলে, একসঙ্গে করার কথা কেউ তো বলেনি।

    দীপনাথ একটু বিরক্ত হয়ে বলে, এই তো আমিই বলছি।

    তুমি বলছ!–বলে চোখে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে থাকে বুলু।

    শ্রীনাথ কান্না সামলে ধরা ভাঙা গলায় বলে, রতনপুবে যদি সবাই মিলে করি? বুলুর কি আপত্তি হবে?

    বুলু ক্ষীণ একটু হাসির চেষ্টা করে বলে, তুমি বরং বউদির মতটা নাও। আমি গরিব মানুষ, তার ওপর তোমাদের ছোট, যা বলবে তাই করব।

    অত লক্ষ্মী ছেলে অবশ্য বুলু নয়। তবু সে মত দেওয়ায় খুশি হল দীপনাথ। কিন্তু বুলু একটু চুপ করে থেকে আর-একটি যে কথা বলল তাতে খুশিটা কেটে গেল।

    শমিতার দিকে একবার চেয়ে নরম গলাতেই বুলু বলল, রতনপুর তো আমাদের সকলেরই জায়গা। বাবারও খুব ইচ্ছে ছিল, সবাই মিলে সেখানে গিয়ে থাকি।

    দীপনাথ গম্ভীর মুখে স্নান করতে গেল। ফিরে এসে ধড়া পড়ল। আসন পেতে বিছানায় বসল শ্রীনাথের পাশে। কিছুই আর করার নেই।

    শমিতা এসে জিজ্ঞেস করে, সেজদা কি ভাত খেয়ে বেরিয়েছেন?

    না। শুধু ব্রেকফাস্ট। দুপুরে অফিসেই লাঞ্চ খাওয়ার কথা।

    তা হলে সকলের জন্যই হবিষ্যি চাপিয়ে দিই?

    দীপনাথ মাথা নেড়ে বলল, না। আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।

    তা হলে ফল কেটে দিই?

    পরে দিয়ো।

    স্নান করে এলেন, এখন তা হলে একটু কফি খান।

    দীপনাথের এত আপ্যায়ন ভাল লাগছিল না। উদাস গলায় বলল, দাও।

    কফি খাওয়ার সময় বুলু কথাটা তুলা, সেজদা, তুমি তো একসঙ্গে কাজ করার কথা বললে। কিন্তু কার কী রকম শেয়ার হবে, কাজই বা কেমন করা হবে সেসব তো জানা দরকার। আমার

    অবস্থা তো জানোই।

    দীপনাঙ্গ খুবই বিরক্ত বোধ করল। কিন্তু নিজের ওপর তার শক্ত নিয়ন্ত্রণ আছে বলেই রাগ দেখাল না। শান্ত স্বরে বলল, বাবার খবরটা এইমাত্র পেয়েছি, এখনই ওসব কথা ভাবতে ভাল। লাগছে না। পরে বলিস। খরচের জন্য ভাবনা নেই। বাবার জন্য তো আমি তেমন কিছু করিনি।

    এ কথায় বুলুর শোকাতুর মুখেও কিছু উজ্জ্বলতা ফুটল!

    শমিতা বলল, সেজদা তো মেসে থাকেন। সেখানে এসব নিয়ম পালনের অসুবিধা। আমি বলি, এই ক’টা দিন আপনি এখানেই থাকুন।

    দীপনাথ মাথা নেড়ে বলল, না। রতনপুরেই যদি বাবার কাজ করতে হয় তবে আমাদের সকলেরই রতনপুরে চলে যাওয়া দরকার আজই।

    বুলু বলে, কিন্তু বউদির মতামত?

    বউদি অমত করবে না। বরং খুশি হবে।

    এ কথায় শমিতা বা বুলু খুব সন্তুষ্ট হল না। নিজেদের মধ্যে একটা তাকাতাকি করে চুপ করে রইল।

    সংসারের এই সব পরম্পর-বিমুখ চোরাস্রোত থেকে সরে থাকবার জন্যই দীপনাথ সারাটা দুপুর পড়ে ঘুমুল। ঘুমটার খুবই দরকার ছিল তার।…

    তার শ্রাদ্ধ যে এত ঘটা করে হবে তা বোধ হয় দীননাথ স্বপ্নেও ভাবেনি। দীপনাথ আর তৃষা মিলে খুব কম করেও হাজার দশেক টাকা খরচ করেছে। বুলু শ’ দুই টাকা দিতে চেয়েছিল, নেয়নি। বাচ্চা যাড় থেকে শুরু করে খাট বিছানা ছাতা লাঠি কিছুই বাদ রইল না দানসামগ্রীতে। অন্তত সাতশোলোক নিমন্ত্রিত ছিল। দীননাথের ভাগ্য ভালই যে, আজ বৃষ্টিও হয়নি। সন্ধের কিছু পরে ফুটফুটে জ্যোৎস্নাও উঠেছে।

    অনেক রাতে ক্লান্ত তিন ভাই আর বিলু ভাবন-ঘরে বসেছে। বহুকাল বাদে চার ভাই-বোন এই এক হওয়া। বিলু স্বভাবতই গম্ভীর, অথবা গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু দীপনাথের মনে হয়, প্রীতম নিরুদ্দেশ হওয়ায় যতটা দুর্ভাবনা বা উদ্বেগ থাকার কথা ছিল বিলুর ততটা নেই। অফিস করছে, অরুণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলছে। শুধু লোকের সামনে একটা গাম্ভীর্যের মুখোশ এঁটে নেয় মাত্র।

    ছোট ভাই বুলু অনেক সুযোগ খোঁজার পর এই প্রায় রাত বারোটার কাছাকাছি সময়ে সুযোগ পেয়ে বলছিল, দাদার সম্পত্তি দাবি করে আমি হয়তো ঠিক কাজ করিনি। বউদির কাছে মাপ চাইতেও রাজি আছি। কিন্তু আমার অবস্থার কথা বিবেচনা করে যদি তোমরা সবাই মিলে একটা অংশ আমাকে দেওয়ার ব্যবস্থা করে তা হলে আমার খুব উপকার হবে।

    দীপনাথ এই ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী। সে মাথা নেড়ে বলে, তোর যখন যা দরকার আমাদের কাছে বলিস। সাধ্য মতো মেটানোর চেষ্টা করব। কিন্তু দাদার সম্পত্তির অংশ চাস কেন? দাদা যাকে ভাল বুঝেছে তাকে দিয়ে গেছে। এর ওপর আমাদের কোনও দাবি খাটে না।

    দাবি করছি না তো। আর সব সময়ে তোমাদের গিয়ে ডিস্টার্ব করাও কি ভাল? মানুষ বিরক্ত হয়, খুশিমনে দেয় না। সে মায়ের পেটের ভাই হলেই কী!

    এসব কথায় শ্রীনাথ বা বিলু যোগ দিচ্ছে না। চুপ করে বসে আছে।

    দীপনাথ জিজ্ঞেস করে, তুই কী চাস? তোরা তো অল্প বয়সের দুটি স্বামী-স্ত্রী, বাচ্চাকাচ্চাও নেই, এখনই তোর এত অভাব কেন?

    অভাব হলে কী করব বলো? বড়দা বেঁচে থাকতে আমাকে একবার বলেছিল, তুই রতনপুরে এসে থাক। তখন বিয়ে করিনি! ভাবলাম, গায়ে এসে থাকার মানেই হয় না। কিন্তু যদি থাকতাম তা হলে এই গোটা বিষয়সম্পত্তি আমারই হত।

    দীপনাথ জানে, মল্লিনাথ বোকা ছিল না। সে আর যাকেই হোক কিছুতেই বুলুকে এই সম্পত্তি লিখে দিয়ে যেত না। তবে কথাটা বলল না দীপনাথ। ঘুরিয়েই বলল, তা যখন দিয়ে যায়নি তখন নিজের ভাগ্যকে মেনে নেওয়াই তো পুরুষের কাজ।

    বুলু তবু ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকে, আমি বেশি কিছু চাই না। বিঘে দশেক ধানি জমি, একটু বাজমি আর কয়েক হাজার টাকা। তা হলেই আমার হয়ে যাবে।

    দীপনাথ একটু হেসে বলে, সেটাই কি এই বাজারে কিছু কম?

    দাদার সম্পত্তির তুলনায় কিছুই নয়। এটুকু বউদি অনায়াসে ছাড়তে পারে।

    দীপনাথ ধীরে ধীরে রেগে উঠছিল। সে হয়তো এ কথার একটা কড়া জবাব দিত। কিন্তু ঠিক এই সময়ে বাইরে একটা চেঁচামেচি শোনা গেল। সেই সঙ্গে খুব দৌড়োদৗড়ি।

    পুরনো স্কুলবাড়ির দিকে তৃষা যে তিনতলা বাড়িটা তুলছে সেই দিকেই টর্চ আর লক্ষের আলো দেখা যাচ্ছে অনেক। খুব ভিড়ও।

    পুরনো স্কুলবাড়ির কাছেই মল্লিনাথ একটা তিনতলা বাড়ির ভিত গেঁথে রেখেছিল। বাড়িটা করে যেতে পারেনি। প্ল্যান স্যাংশন করাই ছিল। ক্রমে সেটা আগাছায় ঢেকে যায় আর লোকে ভুলেও যায় সে কথা। ভোলেনি তৃষা। আচমকা সেই বন্যার পরই সে জঙ্গল সাফ করিয়ে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ির কাজ শুরু করে দেয়। তিনতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই হয়ে গেছে। এখন পলেস্তারা পড়বে, দরজা জানালা বসবে, মেঝেয় টালি পাতা হবে। অনেক কাজ বাকি। জ্যোৎস্নারাতে সেই অতিকায় অন্ধকার কাঠামোটা দাঁড়িয়ে থাকে পোডড়া বাড়ির মতো।

    পরশু এখানে আসার পর থেকেই এই অসমাপ্ত বাড়িটা সম্পর্কে অসীম কৌতূহল শমিতার। বহুবার সে এসে ঘুরঘুর করে বাড়িটা দেখে। প্রতি তলায় তিনখানা করে শোওয়ার ঘর, ডাইনিং, ড্রয়িং, দুটো করে বাথরুম। একদম কলকাতার বড়লোকদের ফ্ল্যাটবাড়ির মতো ব্যবস্থা। কত টাকা যে খরচ হচ্ছে!

    নিতাই খ্যাপা আবার তার মধ্যেই ইন্ধন জুগিয়ে এক ফাঁকে চুপি চুপি বলে গেল, ওই বাড়ির ভিতের নীচেই যে মল্লিবাবুর মেলা টাকা পোঁতা ছিল। বউদিমণি মাটি খুঁড়ে টাকা বের করেছে।

    খুব বিশ্বাস না হলেও শমিতা জিজ্ঞেস করল, কত টাকা?

    পাঁচ লাখ শুনেছি। মস্ত কাঠের বাক্স ভরা।

    হতেও পারে। জমির দাম না ধরলেও এত বড় একটা বাড়ি করতে যে অনেক টাকার দরকার তা শমিতা জানে। এত সুন্দর ডিজাইন, এত ভাল প্ল্যানিং-এর বাড়িও বড় একটা দেখা যায় না। কাজ শেষ হলে বাড়িটা দেখতে হবে স্বপ্নের মতো।

    এ বাড়ির তারা দু’টি মাত্র বউ। এই সম্পত্তি তাদের কারও স্বামীই অর্জন করেনি। মুফতে সম্পত্তিটা হাতিয়ে নিয়েছে মেজো জন। শমিতার সারা গা জ্বলে যায়। মাটির নীচে থেকে যদি সত্যিই এত টাকা পেয়ে থাকে তবে সেটা আরও একটা জ্বলুনির কারণ।

    কাজের বাড়ির ভিড় পাতলা হওয়ার পর আবার কৌতূহলবশে হাঁটতে হাঁটতে জ্যোৎস্নায় এই স্বপ্নের বাড়িটার কাছে চলে এসেছিল শমিতা। এই রকম একটা বাড়ি যদি তার হত।

    জ্যোৎস্নায় ধোয়া বাড়িটার চারদিকে বালি, পাথরের স্তৃপ, ইটের পাঁজা, বাঁশ, কাঠ। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে বাড়িটার দিকে মোহাচ্ছন্ন দৃষ্টিতে চেয়ে ছিল সে।

    এই সময় হঠাৎ সে দেখতে পেল, তিনতলার আলসের ওপর কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। কে? খুবই স্পষ্ট জ্যোৎস্না পড়েছে তার মুখে। তার চেয়েও বড় কথা, লোকটা মস্ত লম্বা, বিশাল চওড়া। পরনে সাদা পাজামা, বড় ঝুলের পাঞ্জাবি, বাবরি চুল।

    প্রথমে বোবা হয়ে গিয়েছিল শমিতা। তারপর এক বিকট বিকারের গলায় চেঁচিয়ে উঠল, ভূত! ভূত! ভূত!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article পারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }