Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মুক্ত বাতাসের খোঁজে : লস্ট মডেস্টি

    লেখক এক পাতা গল্প602 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ত্রিশূলে রক্তের দাগ

    সম্প্রতি চিৎপুর এলাকায় আন্তর্জাতিক চোরাচালানীচক্রের কার্যকলাপ ফাঁস হাওয়ার ঘটনা সব কাগজে বেরিয়েছিল। দৈনিক সত্যসেবক পত্রিকার পক্ষ থেকে এর একটা ফলোআপ সংগ্রহের জন্যে বেরিয়ে ট্রাফিক জ্যামে আটকে গেলাম। ঘিঞ্জি রাস্তা। বেলাও পড়ে এসেছিল। তার ওপর ঠিক এই সময়টাতেই লোডশেডিং। বিরক্ত হয়ে গাড়িতে বসে সিগারেট টানতে টানতে এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখছিলাম, আর এই অব্যবস্থার জন্যে ট্রাফিক পুলিশদেরই দায়ী করছিলাম। লরি বা ট্রাকের প্রতি তাদের মাত্রাতিরিক্ত মনোযোগ যে অনেক সময় জ্যামবিভ্রাট বাধায়, তাতে কোনও ভুল নেই।

    বাঁ পাশে বসে থাকার ফলে পরপর কয়েকটা হার্ডওয়্যার স্টোর্স, যাত্রা, থিয়েটারের পোশাকের দোকান, এবং তার মাঝখানে একটা বইয়ের দোকান চোখে পড়ল। আনন্দময়ী পুস্তক ভাণ্ডার। নিশ্চয় সুখ্যাত বটতলা প্রকাশনের ঐতিহ্যসম্পন্ন দোকান। সামনের শোকেসে যাত্রানাটক, কৃত্তিবাসী রামায়ণ, কাশীদাসী মহাভারত, প্রভাস খণ্ড, বৃহৎ তন্ত্রসার ইত্যাদি টাইটেল সাজানো ছিল। আলো কম হলেও, আমার দৃষ্টিশক্তি মোটামুটি ভালই। তাছাড়া পঞ্জিকার পাতায় এমন বইয়ের বিজ্ঞাপন আমাকে আকৃষ্ট করে। এইসব দোকান যেন এক রহস্যময় পৃথিবীর তথ্যে ভরা। বশীকরণতন্ত্র ডাকিনীতন্ত্র, ভোজবিদ্যা কামাখ্যাতন্ত্র…এক আশ্চর্য অন্ধকার মায়ালোকের দিকে অঙ্গুলিসঙ্কেত করে যেন।

    হঠাৎ হকচকিয়ে গেলাম। এক সৌম্যকান্তি বৃদ্ধ আনন্দময়ী পুস্তক ভাণ্ডার থেকে বেরোলেন। তার হাতে লাল মলাটের একটা বই। তার মাথায় ধুসর টুপি, মুখের সাদা দাড়ি, এবং বাঁ হাতে একটা বিদঘুটে গড়নের যষ্ঠি। ফুটপাতে নেমেই তিনি কয়েক পা এগিয়ে অন্য একটা দোকানে ঢুকলেন। এ দোকানটার সাইন বোর্ডে লেখা আছে : আর দাশ অ্যাণ্ড কোং। যাত্রা-থিয়েটারের যাবতীয় পোশাক, স্টেজ, সিন সুলভে ভাড়া পাওয়া যায়। পরীক্ষা প্রার্থনীয়।

    হ্যাল্লো ওল্ড ডাভ বলে অভ্যাসমতো চেঁচিয়ে ডাকার কথা স্রেফ ভুলে গিয়েছিলাম, কারণ এই ধুরন্ধর বৃদ্ধকে এখানে দেখতে পাওয়ার কথা কল্পনাও করিনি। গতকাল উনি ফোনে জানিয়েছিলেন, এক জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানীর সঙ্গে নেপাল রওনা হচ্ছেন–আমার সঙ্গদান সম্ভব কি না। বলা নিষ্প্রয়োজন, এ আমন্ত্রণ একটা ছুতোনাতা করে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। নেপাল যত সুন্দর দেশ হোক দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির অর্কিডের তল্লাসে পাহাড়-জঙ্গলে টো টো করে ঘোরা আমার ধাতে সইবে না।

    তাহলে দেখা যাচ্ছে, যে কোনও কারণে হোক, ওঁর নেপাল যাওয়া হয় নি।

    হয়নি কিন্তু এই এবেলায় চিৎপুরে কী করছেন? বটতলার বই কেনারই বা উদ্দেশ্য কী? আর যাত্রা-থিয়েটারের পোশাকের দোকানেই বা কেন ঢুকলেন? রহস্যের গন্ধ পেলাম। ভাবলাম, নেমে গিয়ে ওঁর সঙ্গে দেখা করি। কিন্তু সেই মুহূর্তে ট্রাফিকজট কোনও যাদুবলে খুলে গেল। আমাদের গাড়ির বাঁ দিকে ইতিমধ্যে কয়েকটা রিকশো, ঠেলা, টেম্পো ঢুকে পড়েছিল। জট ছাড়লে স্বভাবত হল্লা আর যানবাহনের গর্জনও প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যায়। আমার ডাক উনি শুনতে পেতেন না।

    অফিসে গিয়ে ব্যাপরটা ভাবছিলাম। আর দাশ অ্যাণ্ড কোম্পানির দোকানে ঢুকে , কি ছদ্মবেশ ধরার জিনিসপত্র কিনছিলেন কর্নেল নীলাদ্রি সরকার? কিছু কি ঘটেছে, কোথাও? নাকি সম্প্রতি ফঁস-হয়ে-যাওয়া আন্তর্জাতিক চোরাচালানচক্রের সঙ্গে ওঁর এই কাজকর্মের কোনও সংস্রব আছে?

    রাত আটটায় অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা ইলিয়ট রোডে সানি লজ নামে বিশাল বাড়িটির তিনতলায় হানা দিলাম। দরজা খুলে ষষ্ঠীচরণ জনান্তিকে জানাল, বাবুমশাই আসনে বসে জপ করছেন। অবাক হয়ে ভেতরের ড্রইংরুমে ঢুকে দেখি, কতকটা তাই বটে। আমার বৃদ্ধ বন্ধু ডিভানে আসন করে বসে সেই বটতলার লাল মলাটের বইটি পড়ছেন। ঠোঁটদুটো কাঁপছে। তার মানে, উচ্চারণ করেই পড়ছেন। আমার সাড়া পেয়ে চোখ কটমটিয়ে হুংকৃত স্বরে বলে উঠলেন, ওঁং হ্রীং ক্রীং জয়ন্তং মারয়ঃ মারয়ঃ তাড়য়ঃ ফট ফট স্বাহা।

    একটু ভড়কে গিয়ে বললাম, সর্বনাশ! এ আবার কী?

    কর্নেল হো হো করে হেসে ডিভান থেকে নেমে আমার হাতে বইটা খুঁজে দিলেন। লাল মলাটের ওপর সোনালী হরফে লেখা আছে ডাকিনীতন্ত্র। শ্রী হরিশরণ শর্মা তন্ত্ৰার্ণব সিদ্ধাচার্য কতৃক সংগৃহীত। পাতা উল্টে দেখি, ভূমিকায় বলা হয়েছে, এই গুপ্ত তন্ত্র আসামের কামরূপ অঞ্চলের পর্বত-অরণ্যে বহু বৎসর ভ্রমণ করিয়া সিদ্ধাই ডাকিনীগণের নিকট হইতে সংগৃহীত। তন্ত্ৰাৰ্ণব শ্রীহরিশরণ শর্মা মহাশয় বহুবার একচুলের জন্য বাঁচিয়া গিয়াছে। সাধক পাঠকবর্গের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করি যে বাৎসরাধিক কাল তাহাকে ডাকিনীগণ মন্ত্রবলে মেষশাবকে রূপান্তরিত করিয়াছিল। দেবী কামাখ্যার করুণায় তিনি মনুষ্যদেহ পুনঃপ্রাপ্ত হন।…

    বললাম, এই গাঁজা কেনার জন্যে আজ বিকেলে চিৎপুরে আনন্দময়ী পুস্তক। ভাণ্ডারে ঢুকেছিলেন।

    হুঁ–তুমি তোমাদের প্রেসমার্কা কালো গাড়িতে বসে লোলুপ দৃষ্টে শো-কেসের বইগুলি দেখছিলে বটে!

    ঠিক ঠিক। তারপর আপনি আর দাশ অ্যাণ্ড কোংয়ের দোকানে ঢুকলেন ছদ্মবেশ কিনতে। কই, দেখি, কী কিনলেন?

    কর্নেল মাথা নেড়ে বললেন, আমি কি বুড়োবয়সে যাত্রাদলে নাম লেখাব ভাবছ?

    যাত্রাদলে ঢুকলে পোশাক নিজেকে কিনতে হয় না। নিশ্চয় ছদ্মবেশ ধরার দরকার হয়েছে আপনার। তা এক কাজ করলেই তো পারেন। গোঁফদাড়ি সাফ, করে ফেললেই হল। কেউ আর প্রখ্যাত কর্নেল নীলাদ্রি সরকারকে চিনতে পারবে না। অবশ্য মাথার টাকটি অতি প্রসিদ্ধ। কিন্তু তার জন্য টুপিই যথেষ্ট।

    ষষ্ঠীচরণ কফি রেখে গেল। কফি খেতে খেতে কর্নেল বললেন, তুমি তো এ যাবৎ দেখেছ ডার্লিং, আমি কদাচ ছদ্মবেশ ধরি না। ছদ্মবেশ ব্যাপারটা বড় বাজে। ওর ভেতর প্রচুর পোকা থাকে। আসলে মাথার ভেতরকার কোমল সারপদার্থকে ঠিক মত কাজে লাগাতে পারলেই হল। চাই শুধু কিছু তথ্য-সঠিক, অকপট তথ্য। সত্যকে আবিষ্কারের জন্য আমি তাই ডিডাকটিভ পদ্ধতির পক্ষপাতী। আগে সিদ্ধান্ত পরে তথ্য সংগ্রহ নয়, আগে তথ্য সংগ্রহ পরে সিদ্ধান্ত।

    বললাম, বেশ। আপনারই ডিডাকটিভ পদ্ধতি অনুসারে গতকাল থেকে এ পর্যন্ত আপনার ক্রিয়াকলাপের যে তথ্য পাচ্ছি, তা থেকে সিদ্ধান্ত করা যায় যে আপনার নেপালযাত্রা বরবাদ করার মতো একটি ঘটনা ঘটেছে এবং সেই ঘটনার সূত্রে আজ বিকেলে আপনাকে চিৎপুরে গিয়ে…।

    হাত তুলে বাধা দিয়ে সহাস্যে গোয়েন্দাপ্রবর বললেন, এনাফ জয়ন্ত, এনাফ। কিন্তু আমি অবাক হচ্ছিযে তুমি কাগজের লোক হয়েও কাগজ পড় না।

    ময়রার সন্দেশে রুচি থাকে না। কিন্তু কাগজে কী বেরিয়েছে? চিৎপুরের আন্তর্জাতিক চোরাচালানীচক্রের খবর তো? যতদূর জানি, লালবাজারের তরুণ গোয়েন্দাকর্তা আপনাকে এতে নাক গলাতে দেবেন না। কারণ, আপনি এসব ব্যাপারে যুক্ত হলে তার কৃতিত্ব প্রদর্শনের সুযোগ মিলবে না।

    কর্নেল কফির পেয়ালা রেখে চুরুট ধরালেন। তারপর মৃদু হেসে চোখ নাচিয়ে বললেন, চলো ডার্লিং, আগামীকাল একবার ভৈরবগড় ঘুরে আসি।

    ভৈরবগড়! নড়ে বসলাম। মাই গুডনেস! মনে পড়ে গেছে। আসলে এসব খবর চোখের কোণা দিয়ে ছুঁয়ে দেখার মত। তাছাড়া দেশজুড়ে প্রতিদিন অসংখ্য খুনোখুনি হচ্ছে। কিন্তু ভৈরবগড়..কর্নেল! ভৈরবগড়ে গোটা দুতিন খুন হয়েছে তার জন্য নেপাল-যাত্রা পণ্ড করে আপনার চিৎপুরে যাত্রার তাৎপর্য মাথায় ঢুকছে না? মফস্বলে দলাদলি আজকাল বেড়ে গেছে। দলে দলে সংঘর্ষ আকছার হচ্ছে। কাজেই এ খুনোখুনিতে রহস্য কিসের?

    কর্নেল বললেন, আছে। তুমি তৈরি থেক–আগামীকাল সকাল নটায় ট্রেন।

    .

    ০২.

    ভৈরবগড় বর্ধমানের সীমান্তে খনি অঞ্চলের একটি বনেদী জনপদ। গ্রাম-শহরের অদ্ভুত সংমিশ্রণ। চারদিকে অসমতল রুক্ষ মাটির বিস্তার। গাছপালা স্বভাবত কম। এদিকে ওদিকে কিছু পোড়ো এবং চালুখনি রয়েছে। বেশির ভাগই কয়লাখনি, কয়েকটা অভ্র খনিও আছে। তবে ভৈরবগড়ের উল্লেখযোগ্য পুরাকীর্তিও কম নয়। বিশেষ করে পাঁচশো বছরের বাবা ভৈরবের বিশাল মন্দিরটা।

    ট্রেনে যেতে যেতে গোয়েন্দাপ্রবর আমাকে ভৈরবগড়ের ভূপ্রকৃতির এই সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়ে বললেন, আজ ১১ মার্চ মঙ্গলবার। গত ৭ মার্চ শুক্রবার সকালে ভৈরবমন্দিরের চত্বরে মহেশ্বর ত্রিপাঠী নামে এক ব্যবসায়ীর লাশ পাওয়া যায়। মহেশ্বরবাবু নির্বিরোধ মানুষ ছিলেন। স্থানীয় অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে প্রচুর টাকাকড়ি সাহায্য করতেন। কাজেই তার জনপ্রিয়তাও ছিল। এমন মানুষকে কেউ খুন করবে, ভাবা যায় না। রাত্রিবেলা মন্দিরেই বা কেন তিনি গিয়েছিলেন, পুলিস তদন্ত করে প্রথমে জানতে পারেনি। পরে জেনেছে ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার এক তান্ত্রিক সাধুবাবা, নাকি তার বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু তন্নতন্ন খুঁজে সেই সাধুবাবার পাত্তা আর মেলেনি।

    জিজ্ঞেস করলাম, খুন করা হয়েছিল কীভাবে?

    মহেশবাবুর পিঠের দিকে হার্টের পেছনে সমান ব্যবধানে তিনটি গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল। সম্ভবত বসে থাকা অবস্থায় অতর্কিতে তাকে পেছন থেকে আঘাত করা হয়। কর্নেল ট্রেনের জানালার দিকে চোখ রেখে বললেন, পরবর্তী হত্যাকাণ্ড ঘটে ঠিক পরদিনই–শনিবার। একই জায়গায় একই অবস্থায় পাওয়া যায় নবারুণ ভদ্র নামে একজন রিটায়ার্ড খনি-ইঞ্জিনীয়ারের লাশ। এক্ষেত্রেও আগের দিন নবারুণবাবুর কোয়ার্টারে সেই সাধুবাবা এসেছিলেন। কিছুক্ষণ গোপনে দুজনের মধ্যে নাকি কী কথাবার্তা হয়নবারুণবাবুর স্ত্রীর কাছে পুলিশ এটুকু জানতে পেরেছে। সাধুবাবাকে যে মহেশ্বরবাবুর খুনের ব্যাপারে পুলিশ খুঁজছে, নবারুণবাবুর স্ত্রী বা নবারুণবাবুও তা জানতেন না। বাড়িতে ওই সময় আর কেউ ছিল না। এর পর যেটুকু জানা গেছে, তা হল : দুজনেই আসছি বলে বাড়ি থেকে আন্দাজ সন্ধ্যা সাতটায় বেরিয়ে যান। আর ফেরেন নি।

    কর্নেল চুপ করলে বললাম, তন্ত্রসাধনায় নরবলির কথা শুনেছি। এ তো দেখছি তাই।

    গতকাল বর্ধমানের পুলিসসুপারের ট্রাঙ্ককল পেলাম–তখন সবে নেপাল যাত্রার জন্য তৈরি হচ্ছি। ভৈরবমন্দিরের একই জায়গায় একই ভাবে পাওয়া গেছে। ভবেশ মজুমদার নামে আর একজন ব্যবসায়ীর লাশ। বসে থাকা অবস্থায় খুন। পিঠে তিনটি গভীর ক্ষতচিহ্ন। এবারও জানা গেছে, আগের দিন এক সাধুবাবা এসেছিলেন ভবেশবাবুর কাছে। তিনিও আসছি বলে সন্ধ্যা ছটায় বেরিয়ে যান। এবারও ভবেশবাবু বা কেউ জানতেন না, সাধুবাবাকে পুলিস খুঁজছে। তাই গতকাল সঙ্গে সঙ্গে পুলিস তেঁড়রা পিটিয়ে ঘোষণা করেছে, ঢ্যাঙা, রোগা গড়নের কোনও লাল কৌপিন ও জটাধারী সাধুবাবাকে দেখলেই যেন জনসাধারণ পুলিশে খবর দেন। বলার দরকার নেই, এলাকার সব সাধু গা-ঢাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ জনতার হাতে প্রচণ্ড মারধরও খেয়েছেন। কিন্তু পুলিশ যাকে খুঁজছে, তাঁরা কেউই তিনি নন। নিহতদের বাড়ির লোকের সাক্ষ্যে সেটা বোঝা গেছে। তবু ভুল হতেও তো পারে। জনাতিনেক সাধু ভৈরবগড় হাসপাতালে এখন আহত অবস্থায় রয়েছেন। আজ দুপুরে ফের এসপি ট্রাঙ্ককল করে এসব কথা জানিয়েছেন।

    কর্নেল চুরুট ধরিয়ে গম্ভীর মুখে টানতে থাকলেন। বললাম, পুলিস ঢেঁড়রা পিটিয়ে ভুল করেছে।

    তুমি ঠিকই বলেছ, জয়ন্ত। কর্নেল একটু হাসলেন। পুলিস অনেক সময় একটু বেশি উৎসাহ দেখিয়ে বসে। তবে এই তিনটি অদ্ভুত হত্যাকাণ্ডের আরও একটি অদ্ভুত ধরনের কমন ব্যাপার আছে। সেটা পরে লোকের চোখে পড়েছে। ভৈরবমন্দিরের, চূড়ায় অন্তত পঁচিশ-তিরিশ ফুট উঁচুতে একটা ত্রিশূল আছে। প্রতিবার হত্যাকাণ্ডের পর সেই ত্রিশুলের গায়ে রক্ত দেখা যাচ্ছে কয়েকপোঁচ। জ্বলজ্বলে টাটকা রক্ত। কাছের একটা খনি থেকে ফায়ারব্রিগেড আনিয়ে পুলিশ ত্রিশূলের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতায় বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়েছে। মানুষের রক্ত হলে সত্যি বড় রহস্যময় ঘটনা বলতে হয়। এত উঁচুতে কেউ উঠে রক্ত মাখিয়ে আসবে, এ তো অসম্ভব! মোচার আকৃতি মন্দিরচূড়া পাথরে তৈরি এবং ভীষণ পিছল। অত উঁচু মই কার আছে?

    কর্নেল! তাহলে বেশ বোঝা যাচ্ছে, হত্যার অস্ত্র ত্রিশূল ছাড়া কিছু নয়। তিনটে সমান ব্যবধানে ক্ষতচিহ্ন, একমাত্র ত্রিশূলই সৃষ্টি করতে পারে।

    ঠিক ঠিক। বলে কর্নেল ঘাড় নাড়লেন। তারপর গলায় ঝুলন্ত বাইনোকুলার চোখে রেখে টেলিগ্রাফের তারে পাখি দেখতে থাকলেন। পাখিটা দ্রুত পিছিয়ে পড়ল। তখন উনি জানালায় ঝুঁকে গেলেন। পাখি দেখলেই আমার এই বাতিকগ্রস্ত বন্ধুটির ঘিলু যেন গলে যায়। জ্ঞানগম্যি আর থাকে না।….

    সরকারী বাংলোটা ভৈরবগড়ের শেষপ্রান্তে! দক্ষিণে সামান্য দূরে জি.টিবোড়। পূর্বদিকে বেশ কিছুটা দূরে ভৈরবমন্দিরের চূড়া দেখা যাচ্ছিল। বিকেলে পৌঁছে খাওয়া-দাওয়ার পর লনে বসেছিলাম। আমার বৃদ্ধ বন্ধু হঠাৎ উঠে গেলেন। তারপর বরাবর যা দেখেছি, তাই দেখতে পেলাম। চোখে বাইনোকুলার রেখে উনি পূর্বের অনাবাদী মাঠে হনহন করে হেঁটে চলেছেন। ওঁর লক্ষ্যবস্তু পাখি যদি হয়, তাহলে সে-পাখি কোনও গাছের নয়। কারণ ওদিকে কোনও গাছই নেই। একটু পরে একটা ঢিবির আড়ালে ওঁর ধূসর রঙের টুপিটা অদৃশ্য হলে ঘরে ঢুকে সটান শুয়ে পড়লাম। ট্রেনজার্নির ক্লান্তি ছিল।

    সন্ধ্যার পর গোয়েন্দাপ্রবর ফিরে এসে আমাকে ঘুম ভাঙিয়ে অকালনিদ্রার জন্যে মৃদু ভৎর্সনা করলেন। তারপর বললেন, যাই হোক, অনেকখানি ঘোরাঘুরি করা গেল। ভৈরবমন্দির দর্শন করলাম। তারপর গেলাম রাজবাড়ি দর্শনে। রাজত্ব না থাকতে পারে, রাজা এখনও আছেন। গতবার এ তল্লাটে এসে ওঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। কাল সকালে আমাদের দুজনেরই ওখানে নেমন্তন্ন বড় অমায়িক মানুষ। আমার মতো নানারকম খেয়াল আছে ওঁর। বাড়িতে একটা চিড়িয়াখানা গড়ে তুলেছেন। কয়েক রকম জন্তুজানোয়ার আর পাখি আছে। গিয়ে দেখবেখন।

    চৌকিদার চা দিয়ে গেল। চা খেতে খেতে বললাম, বাইনোকুলারে কী দেখছিলেন মাঠে?

    ঘুঘু পাখির একটা ঝাঁক। এই লাল রঙের ঘুঘু পাখিরা ঝাঁক বেঁধে থাকে। এদের…

    কথায় বাধা পড়ল। বাইরে কেউ ভরাট গলায় বলল, আসতে পারি কর্নেল?

    কর্নেল ঘুরে সহাস্যে বললেন, আরে আসুন, আসুন মিস্টার সিনহা। আপনারই অপেক্ষায় ছিলাম।

    একজন প্রকাণ্ড আকৃতির পুলিস অফিসার ঘরে ঢুকলেন। আলাপ-পরিচয় হল। যদুপতি সিনহা। এখানকার থানার অফিসার-ইন-চার্জ। একথা ওকথার পর বললেন, আপনার কথা সত্য কর্নেল! মহেশ্বরবাবু, নবারুণবাবু আর ভবেশবাবু প্রত্যেকের বসার ঘরে এককপি করে ডাকিনীতন্ত্র পাওয়া গেছে। এই দেখুন। তিনটে বই-ই এনেছি।

    এই বইটাই কর্নেল চিৎপুর থেকে কিনেছেন। কর্নেল বইগুলোর পাতা উল্টে দেখার পর একটু হেসে বললেন, আনন্দময়ী পুস্তকভাণ্ডার থেকে গত ৫ মার্চ এক ভদ্রলোক একসঙ্গে ৭ কপি ডাকিনীতন্ত্র কিনেছিলেন। পাশের আর দাশ অ্যাণ্ড কোংয়ের দোকান তেকে তিনিই কেনেন একটা জটাচুল, একটা কমণ্ডলু, একটা ত্রিশূল আর কাপালিক সাধুর কাপড়চোপড়। চেহারার বর্ণনা থেকে বুঝতে পেরেছি একই লোক।

    যদুপতিবাবু বললেন, চেহারার বর্ণনাটা শোনা যাক একটু।

    লম্বাটে গড়ন। মোটা নাক। মাথায় আমার মত টাক।

    কিন্তু সাধুবাবার বর্ণনার সঙ্গে তো ঠিক মিলছে না। সাধুবাবাকে যারা দেখেছেন, তারা বলছেন ঢ্যাঙা রোগা গড়ন। লম্বা ধারালো নাক।

    নাক লম্বা আর ধারালো হওয়াটাই সুবিধেজনক। কর্নেল হাসলেন। তারপর চৌকিদারকে ডেকে যদুবাবুর জন্যে একটা খালি কাপ আনতে বললেন।

    চৌকিদার কাপ দিয়ে গেল! কর্নেল পট থেকে চা ঢেলে সযত্নে যদুপতিবাবুর জন্যে চা তৈরি করে বললেন, ত্রিশুলের রক্তের রিপোর্ট কি এসেছে মিস্টার সিনহা?

    যদুপতিবাবু বললেন এসেছে। ফোরেনসিক বিশেজ্ঞরা পরীক্ষা করে বলেছেন, মানুষেরই রক্ত।

    আমি চমকে উঠলাম। গায়ে কাঁটা দিল। কর্নেল যদুপতিবাবুর দিকে নিষ্পলক চোখে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকার পর বললেন, বিকেলে ভৈরবমন্দিরে গিয়েছিলাম। মন্দিরের চূড়ার গড়ন মোচার মত। একেবারে খাড়া উঠে গেছে অন্তত কুড়িবাইশ · ফুট উচ্চতা তো বটেই। তার ডগায় ত্রিশূল বসানো আছে। মন্দিরের মূল দেয়ালের উচ্চতাও প্রায় দশ-বারো ফুটের কম নয়। যদি না কেউ মূল দেয়ালের অংশটুকুতে উঠতে পারে মোচার মত চূড়ার অংশে উঠবে কিভাবে? ভীষণ পিচ্ছিল আর খাড়া।

    যদুপতিবাবু বললেন, কেন? বাঁশের মই দিয়েও ওঠা যায়।

    কর্নেল মাথা নাড়লেন। তাহলে মইয়ের গোড়া নিচের মাটিতে দুটো ছাপ রাখবে। মাটিটা পুত্থানুপুঙ্খ পরীক্ষা করেছি বিশেষ ধরনের আতশ কাচ দিয়ে। কোনও ছাপ নেই। দ্বিতীয়ত, মইয়ের ডগাও চূড়ার ওপর দুটো ছাপ ফেলবে। বাইনোকুলারের সাহায্যে তাও খুঁটিয়ে দেখেছি। দুটো ছাপ চূড়ায় শেষপ্রান্তে ত্রিশূলের ঠিক নিচেই আছে। কিন্তু ওটা নিশ্চয় ফায়ারব্রিগেডের মইয়ের ডগার ছাপ। ত্রিশূলের রক্তের নমুনা নেওয়ার সময় আপনারা ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি এনেছিলেন। ফায়ার ব্রিগেডের মই গাড়ির সঙ্গে ফিট করা থাকে। তাই নিচের মাটিতে মইয়ের দাগ পাইনি।

    যদুপতিবাবু হাসলেন। পুলিসোচিত ভঙ্গিতে চোখ নাচিয়ে বললেন, জাস্ট আপনার ওপিনিয়ন নিলাম। আমরাও ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখেছি, কর্নেল! মানুষের রক্ত ত্রিশুলে লেগে থাকার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। তবে ভৈরবমন্দিরের ট্রাডিশন কিন্তু সাংঘাতিক। শুনেছি, প্রাচীনকালে শিবচতুর্দশীর রাতে শিবলিঙ্গে জলের বদলে মানুষের রক্ত ঢালা হত। আর এই কাপালিক সাধুরাও আসলে হোমিসাইডাল ম্যানিয়াক। তা না হলে নরবলি দিতে পারে, বলুন?

    কর্নেল বললেন, এক্ষেত্রে কিন্তু নরবলি দেওয়া হয়নি। মন্দির প্রাঙ্গণে হাড়িকাঠ আছে। তা সত্ত্বেও ভিকটিমদের মুণ্ডু কাটা হয়নি। পিঠে ত্রিশূল বিঁধিয়ে মারা হয়েছে।

    তান্ত্রিক ব্যাপার। এ হয়তো কামাখ্যার ডাকিনীতন্ত্রের মতে আলাদা পদ্ধতিতে বলিদান।

    যদুপতিবাবু হো হো করে হাসতে লাগলেন। কর্নেল বইগুলোর পাতা ওল্টাচ্ছিলেন। বললেন, আশ্চর্য তো! প্রতিটা বইয়ের মারণতন্ত্র অংশটা আণ্ডার লাইন করা দেখছি।

    যদুপতিবাবু মন্তব্য করলেন, ধাঁধার পর ধাঁধা! ত্রিশূলে মানুষের রক্তও ব্যাপারটাকে অলৌকিক করে তুলেছে।

    কর্নেল বললেন, সাধুর কথায় মহেশ্বর ত্রিপাঠী না হয় মারণতন্ত্র জপতে রাত্রিবেলা মন্দিরে গেলেন। কিন্তু তার পরিণতি দেখে পরবর্তী ভিকটিম নবারুণবাবু কেন ভয় পেলেন না বা তার মনে সন্দেহ জাগল না এবং তিনিও মন্দিরে গেলেন? তারপর দেখুন তৃতীয় ভিকটিম ভবেশবাবুও ঠিক তাই করলেন। বড় অদ্ভুত!

    যদুপতিবাবু দুলতে দুলতে বললেন, মানুষ যত শিক্ষিত হোক, কুসংস্কার বড় কঠিন রোগ কর্নেল!

    এই সময় আরেকজন পুলিশ অফিসার এলেন। পরিচয়ে জানলাম, ইনি আই বি দারোগা খগেন্দ্র বিশ্বাস। গম্ভীর মুখে বললেন, জরুরি খবর আছে স্যার। বিকেল চারটে নাগাদ রঞ্জন আঢ্যির বাড়িতে সেই সাধু এসেছিলেন। সাধুকে বসতে বলে, রঞ্জনবাবু ভেতরের ঘরে গিয়ে থানায় ফোন করেন। আমরা ছুটে যাই–আপনি তখন বাইরে ছিলেন। রঞ্জনবাবুর বাড়ি গিয়ে সাধুকে পাইনি। রঞ্জনবাবু ফোন করে গিয়ে দেখেন, সাধু নেই। সম্ভবত ব্যাপারটা আঁচ করে কেটে পড়েছিল।

    কর্নেল বললেন, সাধুবাবা রঞ্জনবাবুকে কী বলছিলেন?

    খগেন্দ্রবাবু বললেন, এককপি ডাকিনীতন্ত্র কিনতে পীড়াপীড়ি করছিলেন।

    আর কিছু?

    না স্যার! রঞ্জনবাবু বললেন, এছাড়া আর কিছু বলেননি সাধু। কিন্তু ফোন করে এসে রঞ্জনবাবু দেখেন, এককপি ডাকিনীতন্ত্র বসার ঘরে পড়ে রয়েছে। পাতা উল্টে দেখেছি, মারণমন্ত্রের তলায় ডটপেন দিয়ে আণ্ডার লাইন করা।

    রঞ্জনবাবু এখন কোথায়?

    বাড়িতেই থাকার কথা। ওঁর বাড়িতে আর্মড গার্ড মোতায়েন করেছি। ওঁকে বেরোতেও নিষেধ করেছি।

    কর্নেল উঠে দাঁড়ালেন। এখনই রঞ্জনবাবুর কাছে যাওয়া দরকার। ওঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই। চলুন মিস্টার সিনহা। জয়ন্ত, তুমিও এস।

    বাইরে জীপ দাঁড় করানো ছিল। যদুপতিবাবু ড্রাইভ করছিলেন। আলো-আঁধারি আঁকাবাঁকা রাস্তায় এগিয়ে বাজার এলাকায় ঢোকার মুখে হঠাৎ লোডশেডিং হয়ে গেল। যদুপতিবাবু অস্ফুট স্বরে বিরক্তি প্রকাশ করলেন।

    অনেক গলিঘুজি ঘুরে একস্থানে জীপ দাঁড়াল। সামনে একটা দোতলা নতুন বাড়ির বারান্দায় হ্যাঁজাক জ্বলছিল। বেঞ্চে দুজন সশস্ত্র কনস্টেবল বসেছিল। তারা উঠে দাঁড়িয়ে স্যালুট ঠুকল। বাড়িটা নিঃঝুম কেন বুঝতে পারলাম না। যদুপতিবাবু জিজ্ঞেস করলেন, রঞ্জনবাবু বেরোননি তো?

    একজন কনস্টেবল মাথা নেড়ে বলল, না স্যার! কিছুক্ষণ আগেও ভেতরে ওঁর। গলা শুনেছি।

    দরজার কড়া নাড়লে হেরিকেন হাতে একটি লোক জানালা খুলে প্রথমে আমাদের দেখে নিল, তারপর দরজা খুলল। বুঝলাম, রঞ্জনবাবু খুব সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। যদুপতিবাবু বললেন, তোমার মনিবকে খবর দাও হে! বলল, আমরা এসেছি।

    লোকটি বলল আজ্ঞে হুজুর, বাবু তো নেই!

    আমরা চমকে উঠলাম। খগেন্দ্র বিশ্বাস চোখ কটমটিয়ে বললেন, নেই মানে?

    ভেতর দিকের দরজার পর্দা তুলে বিবর্ণ মুখে এক প্রৌঢ়া ভদ্রমহিলা বললেন, ঘণ্টাখানেক আগে ফোন বাজল। দাদা ফোন ধরল। কী কথাবার্তা হল। তারপর দাদা ব্যস্ত হয়ে খিড়কির দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। বলল, এক্ষুণি আসছি। জরুরি কাজ আছে। আমি নিষেধ করলাম, শুনল না। আর বৌদি তো শয্যাশায়ী।

    কর্নেল শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে বলে উঠলেন, মিস্টার সিনহা। এখনই ভৈরবমন্দিরে যাওয়া দরকার। শীগগির!

    আবার আমরা জীপে উঠলাম। অন্ধকার ঘোরালো সঙ্কীর্ণ রাস্তায় জীপ ছুটে চলল প্রচণ্ড গতিতে। মিনিট পনেরো পরে যখন থামল, জীপের হেডলাইটের আলোয় বিশাল এবং জরাজীর্ণ এক মন্দিরের ফটক দেখতে পেলাম। আবছা আলোয় ডাইনে-বাঁয়ে ধ্বংসস্তূপ আর আগাছার জঙ্গলও চোখে পড়ল।

    টর্চ জ্বেলে মন্দিরের ফটক পেরিয়ে আমরা প্রাঙ্গণে ঢুকলাম। তারপর সবাই থমকে দাঁড়ালাম। প্রাঙ্গণে ফুট তিনেক উঁচু একটা চত্বরের ওপর পা মুড়ে আসনে বসা অবস্থায় কেউ মুসলিমদের নমাজ পড়ার ভঙ্গিতে উবু হয়ে রয়েছে। মাথাটা ঝুঁকে মাটিতে ঠেকেছে। সবার আগে চত্বরে উঠলেন কর্নেল। বললেন, হুঁ–যা ভাবছিলাম।

    খগেনবাবু ক্ষুব্ধস্বরে বললেন, বোকা! বোকা! অত করে বললাম ভদ্রলোককে।

    যদুপতিবাবু চারধারে টর্চের আলো ফেলছিলেন। বললেন, বিশ্বাস? জীপ নিয়ে যাও। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এস সঙ্গে।

    কর্নেল ঝুঁকে টর্চের আলোয় হতভাগ্য লোকটিকে দেখছিলেন। পিঠে তিনটি ক্ষতচিহ্ন। রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। কর্নেল বললেন, মারা গেছেন সঙ্গে সঙ্গে। খুনী শরীরের ভাইটাল পয়েন্টগুলো ভালই জানে।

    এদিন আমার বৃদ্ধ বন্ধুকে অস্বাভাবিক গম্ভীর এবং অতিমাত্রায় ব্যস্ত থাকতে দেখছিলাম। আমার কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি। যেন আমার কথা ওঁর কানে ঢুকছিল না। গতিক দেখে মুখ বন্ধ করেছিলাম। চুপচাপ দেখে যাচ্ছিলাম ওঁর ক্রিয়াকলাপ।

    ওঁর সারাটা দিনের গতিবিধি ও ক্রিয়াকলাপ বর্ণনা করতে গেলে আরব্য উপন্যাস হয়ে যাবে। ডাইরীতে যেভাবে লিখে রেখেছিলাম, সেভাবেই সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরছি।

    …সাড়ে সাতটায় কর্নেলের ডাকে নিদ্রাভঙ্গ। রাতের সেই বীভৎস ঘটনার পর মন বিভ্রান্ত। গোয়েন্দাপ্রবর অভ্যাসবশে সম্ভবত প্রাতঃভ্রমণ সেরে এসেছেন। দাড়িতে সাদা কী লেগে আছে। পাখির পালক? বিষণ্ণ হেসে ফেলে দিলেন। ভীষণ গম্ভীর হাবভাব। রাজবাড়িতে ব্রেকফাস্টের অ্যাপয়েন্টমেন্ট। রেডি হতে তাড়া দিলেন। তারপর আপন মনেই বললেন, আশ্চর্য জয়ন্ত! আজও ভৈরবমন্দিরের ত্রিশূলে রক্তের নতুন দাগ ফুটে উঠেছে। চমকে উঠলাম শুনে। এ নিশ্চয় অলৌকিক কাণ্ড।

    আটটায় রাজবাড়ির গাড়ি এল। রাজবাড়ি ভৈরবমন্দিরের পেছনে। রাজবাহাদুর সুপ্রতাপ সিংহ অমায়িক মানুষ। খেতে ও খাওয়াতে ভালবাসেন। কর্নেলের মতোই প্রকৃতিবিদ্যার বাতিক আছে। কত রকম দুপ্রাপ্য অর্কিড, ক্যাকটাস, আরও বিচিত্র গাছগাছড়ার সংগ্রহ আছে। ছোট্ট একটি চিড়িয়াখানাও আছে। বেশি নেশা পায়রার। পৃথিবীর নানাদেশের পায়রা পুষেছেন। কথায় কথায় কর্নেল জানতে চাইলেন, মুসিলিটা ক্যালিটা (শব্দ দুটো এরকমই মনে হল) জাতের পায়রা আছে নাকি। রাজাবাহাদুর মুচকি হেসে চোখ নাচিয়ে বললেন, আসুন। দেখে যান। কাঠের খাঁচার সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। গম্ভীর গলায় মেঘে বলে সে কী রাজকীয় হাঁক। বাড়ি কেঁপে উঠল। উঁকি মেরে দেখি, একটা সাদা পায়রা ঝিম ধরে বসে আছে খাঁচায়। ঢ্যাঙা নোগা মত এক ভদ্রলোক এলেন। মাথায় নীল টুপি, গায়ে স্পোর্টিং গেঞ্জি, পরনে আঁটো প্যান্ট, হাতে একটা ছড়ি। এসেই গাল চুলকে বললেন, তোমাকে খবর দিতে যাচ্ছিলাম। কাল বিকেলে ওড়াবার সময় মাদীটা বেশি দুরে চলে গিয়েছিল। ভাবলাম, সন্ধ্যার মুখে ফিরে আসবে। বোমের মাথায় লাল আলোটা জ্বেলে নাড়াচাড়া করলাম। ফিরে এল না।

    রাজবাহাদুর খাপ্পা হয়ে বললেন, ব্যস! গেল। টাকাকে টাকা, পরিশ্রমকে পরিশ্রম!

    মেঘেন্দ্রবাবু বললেন, বাজপাখির পাল্লায় না পড়ে তো ফিরে আসবে। এতদিন ধরে ট্রেনিং দিচ্ছি। বেঁচে থাকলে ফিরতেই হবে। আর যদি নাই ফেরে, কথা দিচ্ছি–আমি এর একটা জোড়া এনে দেব।

    রাজাবাহাদুর পরিচয় করিয়ে দিলেন। মেঘেন্দ্রলাল ঘোষ। ওঁর শ্যালক। একসময় সার্কাসে ছিলেন। নানা ঘাটের জল খেয়েছে জীবনে। চিরকুমার মানুষ। চেহারায় জীবনসংগ্রামের পোড়-খাওয়ার ছাপ স্পষ্ট। রাজাবাহাদুর শ্যালকের হাতে পশু পাখির দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়েছেন। মনে হল, শ্যালককে খুব স্নেহ করেন।

    চিড়িয়াখানা থেকে ফের ড্রইংরুমে। কর্নেলের সঙ্গে রাজাবাহাদুরের পায়রা নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনা। তারপর এল খুনোখুনির প্রসঙ্গ। রঞ্জন আঢ্যির কথা উঠতেই রাজাবাহাদুর মুখ বিকৃত করে বললেন, ওই সুদখোরটার এমন পরিণতি স্বাভাবিক। বুঝলেন না? নকশালরা আবার অ্যাকশানে নেমেছে।

    কর্নেল বললেন রঞ্জন আঢ্যি সুদখোর নাকি?

    হ্যাঁ। তাছাড়া যে কটা লোক মারা পড়েছে, সব কটাই সুদখোর। মহাজনী কারবার ছিল।

    কিন্তু নবারুণবাবু? উনি তো রিটায়ার্ড মাইন ইঞ্জিনীয়ার!

    হাসলেন রাজাবাহাদুর। নবারুণও তো সুদখোরের বংশ মশাই! রক্তে ওটা আছে। শুনেছি, সেও টাকা ধার দিত খনিশ্রমিকদের। ইণ্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা, বুঝলেন না? খনিশ্রমিকরা নেশাভাঙ করে আর জুয়া খেলে ফতুর হয়। নো প্রপার এডুকেশান, নো হেলদি অ্যাটমসফিয়ার। ওদের দোষ কী?

    কিন্তু তাহলে কাপালিক সাধুর ব্যাপারটা কী মনে হয় আপনার?

    ছদ্মবেশী নকশাল-স্কোয়াড। রাজাবাহাদুর রায় দিলেন। আমার ডাইরীতে পরবর্তী অংশ ফের সংক্ষিপ্ত।..রাজাবাহাদুরের কাছে বিদায় নিয়ে পুলিস স্টেশন। সেখানে কর্নেল-যদুপতিবাবুর দুর্বোধ্য গোপন মন্ত্রণা। ডাকবাংলোতে প্রত্যাবর্তন। আমার পুনঃপুনঃ প্রশ্ন। কর্নেলের উৎকট নীরবতা। আমি খাপ্পা। কর্নেলের চোখ বুজে কিয়ৎক্ষণ ধ্যান। তারপর হঠাৎ নিষ্ক্রমণ। প্রশ্নের জবাব পেলাম না।

    বেলা একটায় কর্নেলের ফোন। লাঞ্চটা যেন আমি একা সাবাড় করি। এবং বিকেল চারটেয় যেন থানায় যাই রহস্যের পর্দা উন্মোচন দেখতে যদি আমার আগ্রহ থাকে।

    .

    ০৩.

    কাঁটায় কাঁটায় চারটেতে থানায় হাজির হলাম। ভেতরকার বড় ঘরে রীতিমত কনফারেন্সের আয়োজন হয়েছে। পুলিসসুপারও এসেছেন। বড়-ছোটো একঝাঁক গোমড়ামুখো পুলিস অফিসার বসে আছেন। মধ্যমণি হয়ে মিটিমিটি হাসছেন আমার বৃদ্ধ বন্ধু। তারপর চা এল।

    চা খেতে খেতে গোয়েন্দাপ্রবর বললেন, মিস্টার বিশ্বাস আসামীকে নিয়ে আসার আগেই এই হত্যারহস্যের পর্দা তোলা যাক। দুটি সূত্র থেকে আমি উপকৃত। প্রথমটি হল : রাজাবাহাদুরের সংগৃহীত একটি বিশেষ জাতের ট্রেণ্ড পায়রার অন্তর্ধান। দ্বিতীয়টি হল : রাজাবাহাদুরের উক্তি–ভিকটিমরা প্রত্যেকে চড়া সুদে টাকা ধার দেওয়ার মহাজনী কারবারে লিপ্ত ছিলেন। থানায় এসে মিস্টার সিনহাকে নিহত ব্যক্তিদের বাড়ি তল্লাস করে কারবারের খাতাপত্র তদন্ত করার নির্দেশ দিলাম। আশাতীত ফল পাওয়া গেল। মিস্টার সিনহা, আপনার তদন্ত রিপোর্টটি পড়ুন একবার।

    যদুপতি সিনহা একটা ফাইল খুললেন। মহেশ্বর ত্রিপাঠীর খাতায় আসামীর নামে কর্জখাতে খরচ লেখা আছে দুহাজার টাকা। সুদের হার মাসিক শতকরা তিরিশ টাকা। নবারুণবাবুর মহাজনী খাতা পাইনি। নোটবইয়ে আসামীর নামে লেখা আছে, আড়াই হাজার টাকা। সুদের হার মাসিক শতকরা কুড়ি টাকা। ভবেশবাবুর খাতায় একই লোকের নামে কর্জখাতে খরচ লেখা আছে পাঁচ হাজার পাঁচশো টাকা। সুদের হার মাসিক শতকরা চল্লিশ টাকা। রঞ্জন আঢ্যির খাতায় আসামীর নামে কজখাতে লেখা রয়েছে সাত হাজার টাকা। মাসিক সুদ শতকরা তিরিশ টাকা।

    পুলিশ সুপার বললেন, এত চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে কী করতেন ভদ্রলোক?

    যদুপতিবাবু বললেন, এই ইণ্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় একটা জুয়াচক্রের রিং লিডার হতে গেলে প্রচুর টাকা ইনভেস্ট করতে হয় স্যার। গুণ্ডাদল এবং মেয়েমানুষও পুষতে হয়। কিন্তু আমাদের চাপ সৃষ্টিতে এই চক্র বিশেষ সুবিধা করতে পারছিল না।

    কর্নেল বললেন, এবার হত্যাপদ্ধতির কথায় নামা যাক। ভিকটিমরা সন্ধ্যার দিকে ফোন পাবার পরই ব্যস্তভাবে ছুটে যেতেন। বোঝা যায়, ফোনের অপরপ্রান্তে লোক অর্থাৎ আমাদের আসামীটিকে ওঁরা খুবই গুরুত্ব দিতেন। রঞ্জনবাবুর কথাই ধরুন। কাপালিক সাধুর আগমন এবং এককপি ডাকিনীতন্ত্র রেখে যাওয়ার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক থাকছে জেনেও রঞ্জনবাবু ছুটে গিয়েছিলেন ফোন পেয়ে। কেন? এর ব্যাখ্যা করা যায় এভাবে : প্রথমত, কাপালিক সাধু ও ডাকিনীতন্ত্র ব্যাপারটার সঙ্গে ওই জরুরি ফোন পাবার কোনও সম্পর্ক থাকতে পারে, তিনি মোটেও জানতেন না। দ্বিতীয়ত, এমন ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ছুটে যাবার কারণ টাকাকড়ি ছাড়া আর কিছু হতেই পারে না। আশা করি, আপনারা সুদখোর মহাজনদের মানসিকতার সঙ্গে পরিচিত। যখন সুদ কেন, আসল টাকাও ফেরত পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তখন হঠাৎ যদি দেনাদার খাতক ফোনে ডেকে বলেন, এক্ষুণি চলে আসুন টাকা যোগাড় হয়েছে এবং সুদে আসলে সব মিটিয়ে দিচ্ছি, এবং সেই খাতক যদি হন এক গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি–তাহলে অর্থগৃধু মহাজন পাগল হয়ে দৌড়ে যাবেন বৈকি। টাকার সঙ্গে এঁদের রক্ত নেচে ওঠারই কথা।

    পুলিশসুপার বললেন, ঠিক, ঠিক। কিন্তু মহেশ্বরবাবুর খুন হওয়া দেখেও কেন নবারুণবাবু কিংবা নবারুণবাবুর খুন হওয়া দেখেও ভবেশবাবু, এবং ভবেশবাবুর খুন হওয়া দেখেও রঞ্জনবাবু একই ফাঁদে পা দিতে গেলেন?

    কর্নেল বললেন, নবারুণবাবু কেমন করে জানবেন, আমাদের আসামী ওরফে। ঘাতক লোকটি মহেশ্বরবাবুর কাছেও টাকা ধার করেছিলেন? তেমনি ভবেশবাবুও জানতেন না, তিনি ছাড়া আরও অনেকের কাছে এই লোকটি টাকা ধার করেছেন এবং ফেরত পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন। এই ভিকটিম মহাজনরা প্রত্যেকে স্বাভাবিক কারণেই ভাবলেন, একমাত্র তার কাছেই ওই লোকটি দেনাদার। বিশেষ করে লোকটি যদি বিশিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা সম্ভ্রান্ত পরিবারের কেউ হন, তিনি যে রাজ্যজুড়ে সকলের কাছে দেনা করে বেড়াবেন–কে ভাবতে পারে?

    যদুপতিবাবু মুচকি হেসে বললেন, অথচ ইনি তাই করেছে।

    কর্নেল বললেন, হ্যাঁ–অন্তত সাতজন মহাজনের কাছে তো বটেই। কারণ আমরা সাতকপি ডাকিনীতন্ত্র চিৎপুরে এক ক্রেতার কেনার খবর জানি। শিল্পাঞ্চলে মহাজনদের ছড়াছড়ি। আপাতত আমরা চারজনকে জেনেছি। কারণ তারা খুন হয়েছেন, বাকি তিনজনকে জানি না। তবে বলা যায়, এই তিনজন জোর বেঁচে গেলেন। বাই দা বাই, মিস্টার সিনহা, এই চারজন মহাজনের কাতোর বাড়িতে কোনও হ্যাণ্ডনোট পেয়েছে কি–আসামীর স্বাক্ষরিত কোনও হ্যাণ্ডনোট?

    না, কর্নেল।

    তাহলেই বুঝুন, ভিকটিমদের বলা হয়েছে হ্যাণ্ডনোটসহ যেতে। ওঁরা ছুটে। গেছেন। ঘরে বসিয়ে রেখে আসামী টাকা আনার ছলে ভেতরে গেছেন। তারপর অতর্কিতে পিঠে ত্রিশূল বিঁধিয়ে মেরেছে। বডি বয়ে নিয়ে গেছে ভৈরবমন্দিরে। আসামীর বাসস্থানের অতি সন্নিকটে মন্দির। বেশি কষ্ট করতে হয়নি।

    পুলিশসুপার বললেন, সন্নিকটে? মন্দিরের কাছে তো আর কোনও বাড়ি নেই!

    কর্নেল দ্রুত বললেন, মিস্টার সিনহা, এবার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের তদন্তরিপোর্ট, প্লিজ!

    যদুপতিবাবু ফাইলের দিকে ঝুঁকে বললেন, রঞ্জনবাবুর বাড়ির লাইন চাওয়া হয়েছিল রাজবাড়ি থেকে।

    মাইগুডনেস! নড়ে বসলেন পুলিসসুপার। অসম্ভব। রাজাবাহাদুর অত্যন্ত সৎ মানুষ!!

    যদুপতিবাবু বললেন, এক্সচেঞ্জের অপারেটার রাজাবাহাদুর বা রাজবাড়ির অনেকের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে পরিচিত। সে বলেছে, অচেনা কণ্ঠস্বরে লাইন চাওয়া হয়েছিল। ছয়ুই মার্চ সন্ধ্যা সাতটায় মহেশ্বরবাবুর, সাতুই মার্চ সন্ধ্যা ছটায় নবারুণবাবুর এবং নয়ুই। মার্চ সন্ধ্যা সাতটায় ভবেশবাবুর বাড়ির লাইন চাওয়া হয়েছিল রাজবাড়ি থেকেই। কণ্ঠস্বর অচেনা।

    কণ্ঠস্বর বদলানো খুব সহজ। কর্নেল বললেন, যাই হোক মিস্টার সিনহা, এবার আমাদের মূল সাক্ষীকে উপস্থিত করুন।

    হতবাক হয়ে দেখি, যদুপতিবাবু টেবিলের তলা থেকে একটা পাখির খাঁচা বের। করে টেবিলে রাখলেন। খাঁচার ভেতর একটা সাদা পায়রা। তার গলায় খয়েরি রঙের খানিকটা তুলো বাঁধা রয়েছে। বললাম, কর্নেল! আজ সকালে আপনার দাড়িতে কি এই পায়ারাটিরই পালক দেখছিলাম?

    কর্নেল হাসলেন। অত উঁচুতে ত্রিশূল। কিভাবে রক্ত মাখানো সম্ভব, ভাবতে গিয়ে হঠাৎ মনে হয়েছিল–ট্রেণ্ড পাখির সাহায্য নেওয়া হয়েছে কি? এ-ক্ষেত্রে পায়রার কথাই সবার আগে মনে আসে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এবং পরে নানা ক্ষেত্রে ট্রেণ্ড পায়রা দিয়ে চিঠি পাঠানো হত। অন্যান্য কাজও করা হয়েছে পায়রা দিয়ে। তাই রাজাবাহাদুরের পায়রাগুলোর কথা মনে পড়েছিল। মিস্টার সিনহাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম গতরাতে রঞ্জনবাবুর হত্যাকাণ্ডের পর। ফায়ার বিগ্রেডের সাহায্যে ত্রিশূলে ফাঁদ পেতে রাখতে বলেছিলাম।

    যদুপতিবাবু বললেন, রাত তিনটের মুকহরবস্তীতে গিয়ে পাখি ধরা একটা লোককে ওঠালাম। ফায়ার ব্রিগেডের একটা গাড়িও চুপচাপ আনা হল। মুকহর লোকটি কিছুতেই ফায়ার ব্রিগেডের মইয়ে উঠবে না। ভয়টয় দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত কাজ হল। ভোর পাঁচটায় দেখি, পক্ষিবরের আবির্ভাব এবং গলায় তুলোতে রক্ত। ত্রিশূলে এসে গলা ঘষতে গিয়েই বাছাধন ফাঁদে পড়ল। তারপর দেখি, কর্নেল হন্তদন্ত হয়ে মাঠ দিয়ে আসছেন।

    কর্নেল বললেন, তখনও বুঝিনি, কে এর পেছনে। সকাল আটটার পর রাজবাড়িতে ব্রেকফাস্টের নিমন্ত্রণে গিয়ে দেখলাম, রাজাবাহাদুরের পায়রার খাঁচায় জোড়াপায়রার একটা নিখোঁজ। অমনি সব জল হয়ে গেল। হা-ওই যে আসামী হাজির। ওঁর টুপিটা খুললেই দেখবেন, মাথায় আমার মত টাক আছে। চিৎপুরের দোকানে যে চেহারার বর্ণনা পেয়েছিলুম, আজ সকালে ওঁকে দেখামাত্র তা মিলে গিয়েছিল।

    সবাই দরজার দিকে ঘুরে দেখলাম, খগেন্দ্র বিশ্বাস এবং আরও সব অফিসারের সঙ্গে হাতকড়া ও কোমরে দড়ি পরে আসামী সত্যি হাজির। কিন্তু কী আশ্চর্য! এ যে দেখছি, রাজাবাহাদুরের শ্যালক সেই মেঘেন্দ্রবাবু?

    কর্নেল বললেন, মিস্টার বিশ্বাস, আশা করি, চিৎপুরের আর দাশ অ্যাণ্ড কোম্পানির জটাজুট গোঁফ-দাড়ি পোশাক-আশাক পাওয়া গেছে?

    হ্যাঁ স্যার। খাটের তলায় পিচবোর্ডের বাক্সে প্যাক করা ছিল।

    ত্রিশূলটা?

    পেয়েছি। এই দেখুন। এতে কিন্তু রক্তক্ত নেই। ধুয়ে ফেলা হয়েছে।

    ত্রিশূলটা দেখে আঁতকে উঠলাম। যাত্রাদলে ব্যবহারের জন্য নিছক টিনের তৈরি ত্রিশূল। সূচনো তিনটে ফলা। একটু বেঁকে আছে শুধু।

    কর্নেল বললেন, তিন কপি ডাকিনীতন্ত্র উদ্ধার করতে পেরেছেন তো?

    খগেন্দ্রবাবু সহাস্যে বললেন, আজ্ঞে হ্যাঁ। পিচবোর্ডের বাক্সেই ছিল।

    লালমলাটের তিনকপি বই টেবিলে রাখলেন খগেন্দ্র। বইগুলো হাতে হাতে ঘুরল কিছুক্ষণ। দেখলাম, প্রত্যেকটি বইয়ের ভেতর মারণতন্ত্রের তলায় আণ্ডারলাইন করা। শিউরে উঠলাম এই ভেবে যে আরও তিনটি মানুষের বরাতে কী নিষ্ঠুর মৃত্যু অপেক্ষা করছিল!

    মেঘেকে হাজতঘরে নিয়ে যাওয়ার সময় কর্নেল তার উদ্দেশ্যে বললেন, আপনার প্ল্যানিং অনবদ্য মেঘেন্দ্রবাবু। কাঁপালিকের আবির্ভাব, ডাকিনীতন্ত্র বই এবং মারণমন্ত্রে আণ্ডারলাইন করা, ত্রিশূলের আঘাতে হত্যা করে ভৈরবমন্দিরের চত্বরে আসনে জপরত অবস্থায় রেখে আসা-সবই চমৎকার পরিকল্পনা। বস্তুত একজন নন একজিস্টেন্ট কাপালিক সাধুর পেছনেই হন্যে হত পুলিশ। বিভ্রান্ত করার কী অপুর্ব কৌশল আপনার! খামোকা নিরীহ সাধুরা মার খেলেন–আরও। অনেকে মার খেতেন জনসাধারণের হাতে। শেষ পর্যন্ত কোনও বদ্ধ পাগল সাধুর ঘাড়ে দোষটা পড়ত এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যে তার সাজা হতো। কিন্তু একটা উইক পয়েন্ট আপনাকে ধরিয়ে দিল। বাড়তি একটু অলৌকিকতার টাচ দিতে গেলেন মন্দিরের দুর্গম ত্রিশূলে রক্তের দাগ মাখিয়ে। এর ফলে ঘটনার অলৌকিক রহস্য নিশ্চয় দানা বেঁধেছিল। কিন্তু এটাই আসলে আবার একটা ভীষণ দুর্বল পয়েন্ট। অতিচালাকি করতে গিয়ে আপনি ধরা পড়ে গেলেন।

    মেঘেন্দ্র পেছন ফিরে হাজতঘরে ঢুকলেন। তার মুখ দেখতে পেলাম না। কর্নেল ফের বললেন, আপনি সার্কাসে ছিলেন। নিশ্চয় ক্লাউন সাজার অভিজ্ঞতা আছে। কণ্ঠস্বর বদলাতেও পারেন, খাড়া ধারালো নাককে মোটা নাকে পরিণত করতেও পটু। কাপালিক সাজা কী এমন কঠিন কর্ম! শুধু ত্রিশূলে রক্ত মাখাতে গিয়েই বিপত্তি ঘটল। আপনাকে ধরিয়ে দিলে নিছক একটা পায়রা।

    সবাই খাঁচার ভেতর পায়রাটা দেখতে থাকলাম। বেচারা চুপচাপ বসে পিটির পিটির তাকাচ্ছে।…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleক্রুসেড-১ : গাজী সালাহউদ্দীনের দুঃসাহসিক অভিযান
    Next Article যদ্যপি আমার গুরু – আহমদ ছফা

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }