Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প89 Mins Read0
    ⤷

    ১. কিকিরা ফ্লুট বাজাচ্ছেন

    ০১.

    তারাপদ এসে দেখল, কিকিরা বসে বসে ফ্লুট বাজাচ্ছেন। দেখে অবাক হয়ে গেল। যাত্রাদলের বাজনদারদের মতন চোখ বুজে মাথা দুলিয়ে-দুলিয়ে ফ্লুট বাজানোর শখ যে কেন চাপল কিকিরার কে জানে। হাসিও পাচ্ছিল তারাপদর। কিকিরার ওই ছাতিতে কী ফ্লুট বাজে। প্যাঁ-পোঁ অদ্ভুত খাপছাড়া সং ছাড়া আর কিছুই আওয়াজ বেরোচ্ছিল না ফ্লুট থেকে। অথচ কিকিরার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন মেডেল-পাওয়া ফ্লুটমাস্টার।

    তারাপদ হেসে ফেলে ডাকল, “স্যার?”

    সাড়া দিলেন না কিকিরা, তারাপদকে দেখলেন মাত্র।

    তারাপদ খুব বিনীতভাবে বার-তিনেক ‘স্যার স্যার’ করল।

    কিকিরা মুখের সামনে থেকে বাদ্যযন্ত্রটি সরালেন শেষ পর্যন্ত। বললেন, “এসো।” বলে দম নিতে লাগলেন।

    তারাপদ বলল,”স্যার, এটা কী বাজাচ্ছিলেন?”

    “ক্ল্যারিনেট। তোমরা বলো, ক্ল্যারিওনেট।”

    “ফ্লুট নয়?”।

    “গোলাপও চেনো না, গাঁদাও চেনো না। যা তোমার মুখে আসে বলে যাচ্ছ।” বলে বাদ্যটি কোলের ওপর রাখলেন। “ফু-লু-ট। ঘা, ও ভদ্রলোকে বাজায়।”

    তারাপদ হাত জোড় করে হাসতে হাসতে বলল, “সত্যিই স্যার, কোনোটাই চিনি না। তা আপনি হঠাৎ প্যাঁ-পোঁ শুরু করলেন কেন? যাত্রাদল খুলবেন নাকি।”

    কিকিরা মুখ-চোখের অদ্ভুত এক ভঙ্গি করে বললেন, “আমি কিকিরা দি গ্রেট, আমি খুলব যাত্রার দল। বলছ কী?”

    তারাপদ হাসির তোড়েই বলল, “আপনি কিকিরা দি ওয়ান্ডার… : গ্রেট ম্যাজিশিয়ান। কখন কী মতি হয় আপনার কে জানে।”

    কিকিরা এবার খানিকটা খুশি-খুশি মুখ করে বললেন, “ব্যাপারটা কী জানো তারাপদ। এই জিনিসটি আমি নটবর কর্মকারের কাছ থেকে কালই কিনেছি। চোর-বাজারের নটবর। বেটা নিজেও পয়লা নম্বর থিফ। আমায় বলল, অ্যালফ্রেড থিয়েটারের শশী শীল এই ক্ল্যারিওনেটটি বাজাতেন। গায়ে নাম লেখা আছে এস এস।”

     

     

    “শশী শীল কে?”

    “তোমাদের নিয়ে জ্বালা। কিস্যু জানো না। শশীবাবু ছিলেন পয়লা নম্বর ক্ল্যারিওনেট হ্যান্ড। মাস্টার লোক। পিয়ানোয় দু’কড়ি, বেহালায় ছোটু বড়াল আর ক্ল্যারিওনেটে শশী শীল–এরা ছিলেন থ্রি মাস্টারস। লোকে বলত, থ্রি মাসকেটিয়ারস। সেকালের থিয়েটারপাড়া কাঁপিয়ে রাখতেন ওঁরা। তিনজনেই মারা যান ভিখিরির মতন। ছেলেপুলেগুলো যে যা পেরেছে বাপ-ঠাকুরদার জিনিস বেচে দিয়েছে।”

    তারাপদ বলল, “ও! ব্যাপারটা এতক্ষণে বুঝলাম। শশীর ছেলে কাশী বাপের জিনিস চোরা বাজারে ঝেড়ে দিয়েছিল কবে, সেই জিনিসটি আপনি কিনেছেন। এই তো?”

    কিকিরা বললেন, “শশীর ছেলে, কাশী না ঋষি–আমি জানি না বাপু। জিনিসটা নটবরের কাছে এসেছিল, কিনে নিলাম। কত মূল্যবান জিনিস বলো?”

    তারাপদ মাথা নাড়ল। কিকিরা যা কিনে এনে জড়ো করেন, সবই যে মহামূল্যবান–এটা স্বীকার করে নেওয়াই ভাল। পাথুরেঘাটার কোন যদু মল্লিক যে কলকেটিতে দম মেরে নিয়ে টপ্পা গাইতেন, সেই বাঁধানো কলকেটিও যে অতি মূল্যবান–কিকিরার কাছে তাও স্বীকার করে নিতে হবে। নয়ত বিপদ।

     

     

    কিকিরা এবার উঠলেন, “জল খেয়ে আসি বোসো। চায়ের কথা বলে দিই বগলাকে। কী খাবে চায়ের সঙ্গে। বার্মিজ ওমলেট খাও। চট করে হয়ে যাবে।”

    তারাপদ মুখ টিপে হাসল, বলল, “যা হোক হলেই হল। আপনার এখানে এত রকম খাবার খেয়েছি যে, চাঁদু বলে কুকিং-এর ব্যাপারেও আপনি অরিজিনাল…।“

    “কোথায় সেই স্যান্ডেল উড?”

    “পরে বলছি, আপনি জল খেয়ে আসুন।”

    কিকিরা আর দাঁড়ালেন না। ঘর ছেড়ে চলে গেলেন।

    কিকিরা চলে যাবার পর তারাপদ অন্যমনস্কভাবে ঘরের চারদিক দেখতে লাগল। মানুষটির সঙ্গে এই ঘরটির অদ্ভুত মিল। বিচিত্র ছাঁটের, আর বেয়াড়া রংচং-অলা এক আলখাল্লা-পরা কিকিরাকে বাড়িতে যেমনটি দেখায় এই ঘরটিও সেইরকম অদ্ভুত দর্শন। এ-ঘরে কী নেই? কিকিরার সিংহাসন-মাক চেয়ার ছাড়াও যত্রতত্র বিচিত্র সব জিনিস ছড়ানো। পুরনো দেওয়ালঘড়ি, চিনে মাটির জার, বড় বড় পুতুল, কালো ভুতুড়ে আলখাল্লা, চোঙাঅলা সেকেলে গ্রামোফোন, ম্যাজিকঅলার আই বল, ফিতে জড়ানো ধনুক, পাদরিসাহেবের টুপি, ম্যাজিক ছাতা আর তলোয়ার, পায়রা-ওড়ানো বাক্স, টিনের চোঙ-কোনটা নয়! তার সঙ্গে এক-দু’মাস অন্তর জমানো ম্যাজিক-মশাল, গাঁজার কলকে, বাহারি মোমদান-এ-সব তো জমেই যাচ্ছে দিনের পর দিন। চন্দন ঠাট্টা করে। বলে, “কিকিরা আপনার এই মিউজিয়ামটির নাম দিন “ছানাবড়া ঘর, সত্যিই এই দৃশ্য দেখলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।”

     

     

    কিকিরা ফিরে এলেন। আজ তাঁর পরনে হাফ-আলখাল্লা, মানে জামার হাত দুটো কনুই পর্যন্ত লম্বা, কোমরের ঝুল হাটুতক, জামার-রং নীল। মাথায় টুপি। নেই। রুক্ষ বড় বড় চুল ঘাড় পর্যন্ত ছড়ানো। লম্বা নাক, বসা গাল, সরু থুতনি আর বোগা হাড়জিরজিরে কিকিরার চেহারার মধ্যে কিন্তু কী-যেন একটা আকর্ষণ আছে। উনি মজাদার মানুষ এটা বোঝা যায়, আবার নজর করলে ওঁর ভালমানুষি স্বভাবটাও ধরা পড়ে। তারাপদরা অবশ্য জানে, কিকিরার বুদ্ধির ধারেকাছেও তারা পৌঁছতে পারবে না।

    কিকিরা নিজের জায়গায় বসতে বসতে বললেন, “স্যান্ডেল উডের খবর কী যেন বললে?”

    “চাঁদু হসপিটালে ডিউটি দিচ্ছে।”

    “ওর এমনি খবর ভাল?”

    “হ্যাঁ। তবে বলছিল, এবার না- ট্রান্সফার করে দেয়। কোনো গাঁ-গ্রামে পাঠিয়ে দেবে।“

     

     

    “আগে দিক। তোমার খবর কী?”

    “এমনিতে ভাল। তবে আপনার কাছে একটা খবর নিয়ে এসেছি।”

    “কী খবর?”

    তারাপদ পকেট থেকে কিছু-একটা বার করতে করতে বলল, “দেখাচ্ছি। আপনাকে। তার আগে গৌরচন্দ্রিকাটা সেরে নিই।”

    “বলো?”

    “আমাদের অফিসে জগন্নাথ দত্ত বলে একজন আছে। আমার চেয়ে বয়েসে খানিকটা বড়। আমরা বলি জগুদা। জগুদারা থাকে বিডন পার্কের দিকে। মানে সেকেলে পুরনো কলকাতা পাড়ার এক গলিতে। পৈতৃক বাড়ি। সাত শরিক। জগুদা মানুষটি খুব ভাল। মাটির মানুষ। কিন্তু জগুদার কতক রোগ আছে অদ্ভুত। কাছে গিয়ে আচমকা গায়ে হাত দিলে বা জোরে ডাকলে ভূত দেখার মতন চমকে ওঠে, সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে যায়, কেমন তোতলাতে শুরু করে, কথা বলতে পারে না অনেকক্ষণ। আমরা ঠাট্টা করে জগুদার নাম দিয়েছি নার্ভাস সিস্টেম, মানে ওর নার্ভাস সিস্টেমে গোলমাল আছে।”

     

     

    কথার মাঝখানে চা নিয়ে এল বগলা।

    বগলার সঙ্গে আগেই বাড়িতে পা দিতে-না-দিতেই তারাপদর কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। তারাপদ বলেছিল, “বগলাদা আমার পেটে আগুন জ্বলছে। আমাকে তুমি লুচি আর বেগুনভাজা খাওয়াবে। কিকিরার ওইসব মুলতানি আলুর দম, খানদানি কচুরি, কিসমিসের পকৌড়া আমায় খাওয়াবে না। আমার পেটের নাড়িভুড়ি আমারই বুঝলে তো, কিকিরার নয়। প্লিজ বগলাদা, সেরেফ লুচি আর বেগুনভাজা। কিকিরাকে কিছু বোলো না। উনি যখন জানবেন, তখন জানবেন। জানলেও তো গলা কাটতে পারবেন না।”

    তারাপদর কথা মতনই বগলা লুচি-বেগুনভাজা নিয়ে এসেছে। অবশ্য কিকিরা খানিকটা আগেই সেটা ধরতে পেরেছেন। বগলাকে বার্মিজ ওমলেট বানাবার পরামর্শ দিতে গিয়ে দেখেন, সে লুচির ময়দা মেখে নিয়েছে।

    বগলার সঙ্গে, তারাপদর চোখাচোখি হল। মুখ টিপে হাসল বগলা। তারাপদ একবার কিকিরার দিকে চোরের মতন তাকিয়ে অপরাধীর ভঙ্গিতে হাসল একটু।

     

     

    খাওয়া শুরু করার আগেই তারাপদ একটা ইনল্যান্ড লেটার কার্ড এগিয়ে দিল কিকিরাকে।

    কিকিরা বললেন, “কী আছে এতে?”

    “পড়ে দেখুন।”

    “পড়ছি। আগে মুখে শুনি।”

    তারাপদ লুচি মুখে দিল। চিবোতে চিবোতে বলল, “ক্লীং রিং হিং…”

    ইনল্যান্ড চিঠিটা দেখতে দেখতে কিকিরা বললেন, “মানে?” বলে চোখ তুলে তারাপদর দিকে তাকালেন, “হিং টিং ছট?”

    তারাপদ বলল, “আপনি চিঠিটা মন দিয়ে পড়ুন–আমি ততক্ষণে একটু ইট করে নিই, ভেরি হাংগরি, স্যার।”

     

     

    কিকিরা চিঠি পড়তে লাগলেন।

    তারাপদর সত্যিই খিদে পেয়েছিল খুব। খেতে-খেতে কিকিরার চোখ-মুখ দেখছিল। কিকিরা চিঠি পড়তে পড়তে এতই অবাক হচ্ছিলেন যে, তাঁর চোখের পলক পড়ছিল না, মুখ হাঁ হয়ে যাচ্ছিল।

    বার-দুই চিঠিটা পড়ে কিকিরা তারাপদর দিকে তাকালেন। “কী ব্যাপার হে! এই শুদ্ধানন্দ প্রেসিদ্ধ কল্পবৃক্ষঃ-টি কে?” কল্পবৃক্ষঃ-এর বিসর্গটি বেশ জোরের সঙ্গে মজার গলায় উচ্চারণ করলেন। তারপর ঠাট্টা করে বললেন, “এ যে তোমার স্যাংসক্রিট ট্রি।”

    খানিকটা খাওয়ার পর তারাপদর আর তাড়া ছিল না। জলও খেয়েছে আধগ্লাস মতন। কিকিরার কথায় হেসে ফেলল। তারপর ধীরেসুস্থে খেতে লাগল। বলল, “কে আমি কেমন করে জানব স্যার। উনি নিজেই বলেছেন প্রেতসিদ্ধ এবং কল্পবৃক্ষঃ।”

    কিকিরা বললেন, “তা তো দেখছি। উনি আবার বিশুদ্ধ প্রেসিদ্ধ। মানে দাগমারা খাঁটি প্রেত-সিদ্ধপুরুষ। ভেজাল নয়। এরকম মহাত্মা ব্যক্তি তো আগে আমি দেখিনি, তারাপদ।…ক্লীং রিং হিং…বাঃ, এ যেন ভূতের হাতে বেল রিংগিং…ছন্দ আছে হে, বাজছে ভাল…ক্লীং রিং হিং…।”

     

     

    তারাপদ বলল, “চিঠিটা স্যার আমি জগুদার কাছ থেকে কেড়েকুড়ে নিয়ে এলাম। বললাম, আমাকে দাও, আমি একজনকে জানি, যিনি ভূত-প্রেতের ব্যাপারে মাস্টার। এ টু জেড পর্যন্ত জানেন ভূতপ্রেতদের। ওঁর কাছে ভূতপ্রেতদের ডিরেক্টরি আছে–খুঁজে বার করে নেবেন নামধাম…” বলে তারাপদ হাসতে লাগল, “ঠিক বলিনি স্যার?”

    কিকিরা বললেন, “দাঁড়াও, আরও একবার পড়ি চিঠিটা। তুমিও শোনো।”

    কিকিরা চিঠি পড়তে শুরু করলেন

    “ক্লীং রিং হিং

    কাঁঠালতলা গলি
    টেগোর ক্যাসেল স্ট্রিট (উঃ)
    কলিকাতা
    ২৯ অগ্রহায়ণ ১৩৯৫

     

     

    মহাশয়,

    আমাদের পরমারাধ্য গুরু প্রেতসিদ্ধ কল্পবৃক্ষঃ শুদ্ধানন্দজির আশীর্বাদ জানিবেন। তাঁহার নির্দেশ অনুযায়ী এই পত্র লিখিতেছি।

    গত ২০ অগ্রহায়ণ রাত্রিকালে গুরু শ্ৰদ্ধানন্দজি যখন সূক্ষ্ম শরীরে আত্মালোকে বিচরণ করিতেছিলেন তখন আপনার পরমারাধ্যা পরলোকবাসী মাতৃদেবী সুরমা দেবীর সহিত তাঁহার সাক্ষাৎ ও কথোপকথন হয়। আপনার দুর্দশা বিষয়ে মাতৃদেবী সবিশেষ অবগত আছেন। তাঁহার ব্যাকুলতারও অবধি নাই। আপনি যে আর্থিক ও মানসিক কষ্ট ভোগ করিতেছেন তাহাতে তিনি অতীব কাতর। আপনার ভগ্নির বিবাহ অবশ্যই হইবে, অর্থ ও অলঙ্কারের জন্য আটকাইবে না। আপনার মাতৃদেবী তাঁহার ও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অলঙ্কারগুলি গোপনে এমন স্থানে গচ্ছিত রাখিয়াছেন, যাহা আপনারা কেহই জানেন না। আকস্মিক মৃত্যু হেতু তিনিও আপনাকে কিছু জানাইয়া যাইতে পারেন নাই। এক্ষণে জানাইতে চান। প্রত্যক্ষভাবে আপনাকে জানানো সম্ভব নয়, যেহেতু তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রূপে আত্মালোকে বিচরণ করিতেছেন, আর আপনি মর্ত্যলোকে। যাহাই হউক, প্রেতসিদ্ধ শুদ্ধানন্দজি মারফত নিজ পুত্রকন্যার সুখ শান্তির জন্য তিনি গোপন বিষয়টি জানাইতে ইচ্ছুক। তিনি যে কী পরিমাণ ধনরত্ন রাখিয়াছেন আপনি জানেন না। এ-বিষয়ে আপনি যত শীঘ্র সব শুদ্ধানন্দজির সহিত সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ করুন।

     

     

    আমাদের পরমারাধ্য গুরু শুদ্ধানন্দজি একাদশ তন্ত্রমন্ত্র সাধনায় সিদ্ধ। মাত্র চতুর্দশ বৎসর বয়েসে গৃহত্যাগ করিয়া ইষ্ট গুরু অন্বেষণ করিয়াছেন। পাহাড়-পর্বত, নদী-সমুদ্র, জনপদ-শ্মশান–এই দেশের কোথায় না ভ্রমণ করিয়াছেন, কত মহাসাধন্দ্রে সংস্পর্শেই না আসিয়াছেন। দুঃখীর দুঃখ মোচন, দুর্গতজনের দুর্গতি দূর করাই তাঁহার একমাত্র ব্রত।

    আপনি অবিলম্বে শুদ্ধানন্দজির সহিত সাক্ষাৎ করুন। উদ্বেগ দুশ্চিন্তা দূর হইবে। আসিবার পূর্বে পত্র দিবেন।

    গুরুজির আশীবাদ লইবেন। ইতি

    নিবেদক, কৃষ্ণমূর্তি।

    পুনশ্চ পত্রটি সঙ্গে আনিবেন। পত্ৰ-বিষয়ে গোপনতা অবলম্বন না করিলে আপনর শত্ৰুজন হইতে ক্ষতির আশঙ্কা।“

    চিঠি পড়া শেষ হল। কিকিরা যেন হাঁফ ছাড়লেন।

    তারাপদ চা খেতে শুরু করেছিল। লুচি খাওয়ার পর্ব শেষ।

     

     

    কিকিরাও চায়ের কাপ টেনে নিলেন। বললেন, “হাতের লেখাটি বেশ। ছাপার হরফ যেন।”

    “হ্যাঁ, মুক্তাক্ষর। কিন্তু কিকিরা চিঠি থেকে কী আন্দাজ হচ্ছে আপনার?”

    “কী আন্দাজ করতে বলছ?”

    “বাঃ, আপনি হলেন কিকিরা দি গ্রেট! ভুজঙ্গ কাপালিকের ভুতুড়ে খেলা আপনি ধরতে পেরেছিলেন, আর এ তো কোন শুদ্ধানন্দ। আপনার কাছে ছেলেমানুষ স্যার।”

    কিকিরা চা খেতে-খেতে বললেন, “তোমার অফিসের বন্ধুর নাম যেন কী বললে?”

    “জগন্নাথ দত্ত। আমরা জগুদা বলি।”

    “মা নেই?”

    “না, মা মারা গিয়েছেন বছরখানেকের ওপর। বাবা অনেক আগেই।”

    “বোন আছে?”

    “আজ্ঞে হ্যাঁ। একটি মাত্র বোন। জগুদার নিজের কোনো ভাই নেই। বোনই সব।”

    “বোনের বিয়ে?”

    “কথাবার্তা হয় মাঝে-মাঝে, এগোতে পারে না। বিয়ে দেবার ক্ষমতা জগুদার নেই। যা মাইনে পায় দুই ভাই-বোনের চলে যায় কোনোরকমে। আমারই মতন অবস্থা, কিকিরা। আমি তবু ঝাড়া হাত-পা। একা মানুষ।”

    কিকিরা হাত বাড়িয়ে চিঠিটা রেখে দিলেন, দিয়ে চুরুটের খাপ টেনে নিলেন।“কী তুমি বলছিলে তখন? সাত শরিকের বাড়ি…?”

    “আজ্ঞে হ্যাঁ। কলকাতার সেকেলে বনেদি পরিবার একটা বাড়ি আছে তিন-চার পুরুষের। সে বাড়ির চেহারা দেখলে মনে হবে, মাথার ওপর বাড়ি পড়ো-পড়ো।”

    কথাটা আর তারাপদকে শেষ করতে দিলেন না। কিকিরা বললেন, “বুঝেছি। ইট বার করা, ভাঙা, অশ্বত্থ গাছের ডালপালা গজিয়েছে ভাঙা, ফাটা দেওয়ালে। গঙ্গাজলের, ফাটাফুটো ট্যাংক, গিরগিটি, টিকটিকির আড়ত…এই তো।”

    “ইয়েস স্যার।”

    “কজন শরিক?”

    “মুখে বলি সাত শরিক। তা জগুদা বলে চার শরিক।”

    “শরিকরা তোমার জগুদারই আত্মীয় তো?”

    “হ্যাঁ, খুড়তুতোর খুড়তুতো, জেঠতুতোর জেঠতুতে। ভেরি কমপ্লিকেটেড স্যার।“

    “জগন্নাথের সঙ্গে সম্পর্ক নিশ্চয় ভাল নয়।”

    “কেমন করে হবে। যে যার নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। অভাবী সকলেই। তাদেরও ঘাড়ে বড় বড় সংসার। ওর মধ্যে দু-একজন ধড়িবাজও আছে।”

    “বুঝেছি।”

    কিছুক্ষণ চুপচাপ। কিাি একটা চুরুট ধরালেন। আঙুলের মতন সরু, লম্বায় ছোট।

    তারাপদ বলল, “ব্যাপারটা পুরো চিটিংবাজি। নয় কি?”

    “তা আর বলতে। তবে দেখতে হবে প্রেতসিদ্ধ কল্পবৃক্ষ শুদ্ধানন্দটি কে? কী তার মতলব? কে তাকে বলেছে জগন্নাথের মা মারা যাবার আগে বেশ কিছু গয়নাগাটি ধনরত্ন লুকিয়ে রেখে গিয়েছেন?”

    “আমিও তাই বলি। এমন কে আছে যে এই কাজ করবে? কেনই-বা করবে? কিসের স্বার্থ তার? নাকি জগুদার সঙ্গে কেউ তামাশা করছে?”

    কিকিরা চোখ বুজে কিছুক্ষণ চুরুট ফুকলেন। তারপর বললেন, “তোমার জগুদা কী বলছে? তামাশা?”

    তারাপদ মাথা নাড়ল। বলল, “জগুদা ভীষণ ভাল, নিরীহ। ভিতু। যে যা বলে জগুদা বিশ্বাসও করে নেয়। আমি কথা বলেছি জগুদার সঙ্গে। দেখলাম মায়ের কথাটা সে বিশ্বাস করে নিয়েছে।”

    কিকিরা বললেন, “কোন কথাটা? মায়ের সঙ্গে শুদ্ধানন্দর দেখা হওয়া, না গয়নাগাটি লুকিয়ে রাখা?”

    “দুটোই। বলে তারাপদ চায়ের কাপ সরিয়ে রাখল। ঢেকুর তুলল বড় করে। বলল, “জগুদা খুবই মাতৃভক্ত। বাবা মারা গিয়েছেন বছর আট-নয় আগে। তখন জগুদার বয়েস কম। মাথার ওপর মা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। বোনও ছোট। কত কষ্ট সহ্য করে মা তাদের মানুষ করেছেন। জগুদা বলে, মা না থাকলে ওরা ভেসে যেত। শক্ত হাতে মা হাল ধরেছিলেন বলে ওরা বেঁচে গিয়েছে।”

    কিকিরা অন্যমনস্কভাবে বললেন, “বেশ তা না হয় হল। কিন্তু মা যে যথেষ্ট সোনাদানা লুকিয়ে রেখে গিয়েছেন এ কথা কেমন করে বিশ্বাস করছে তোমার জগুদা?”

    তারাপদ বলল, “আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। জগুদা বলল, ব্যাপারটা অসম্ভব নয়। মা ছিলেন হিসেবি, বুদ্ধিমতী, বিচক্ষণ। ভবিষ্যতের কথা সব সময় ভাবতেন। বিশেষ করে বোনের কথা। তা ছাড়া সেকালের বনেদি বাড়ির বউ, জগুদার দাদামশাই-দিদিমাও একসময়ের পয়সাঅলা লোক। নিজের মায়ের কাছ থেকে জগুদার মা নিশ্চয় অনেক কিছু পেয়েছিলেন। জগুদারা ছেলেবেলায় মায়ের গয়নাগাটি দেখেছে।”

    “না হয় দেখল। কিন্তু তারাপদ, জগুদার মা সব সোনাদানা লুকিয়ে রাখবেন কেন?”

    তারাপদ বলল, “বাড়ির অন্যদের ভয়ে। জগুদার যেসব জ্ঞাতিরা ও বাড়িতে থাকে তাদের দু-একজন পয়লা নম্বরের শয়তান। চোর, গুণ্ডা, বদমাশ। ওদের ভয়েই মা সোনাদানা লুকোতে পারেন।”

    কিকিরাও চা শেষ করে চায়ের কাপ সরিয়ে রাখলেন। নিজের মনেই কিছু ভাবছিলেন। ঘর বেশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। শীত এখনও পড়েনি। তবে এই সন্ধের মুখে গা শিরশির ভাব হয়। উঠলেন কিকিরা। বাতি জ্বালিয়ে দিলেন ঘরের।

    “তা হলে?” কিকিরা বললেন হঠাৎ।

    তারাপদ বলল, “আপনি বলুন?”

    “তুমি বলছ, এই প্রেতসিদ্ধ শুদ্ধানন্দ মহারাজকে একবার দেখা দরকার। তাই না?”

    “রাইট স্যার।”

    “তোমার জগুদা কি মহারাজের কাছে গিয়েছে?”

    “না। তার যাবার ইচ্ছে। ভয়ে যেতে পারছে না।”

    “চিঠিটা কতদিন হল পেয়েছে ও?”

    “দিন পাঁচেক।”

    “কাকে কাকে দেখিয়েছে?”

    “আমাকে আর ঘোষালদাকে।“

    “ঘোষালদা লোকটি কে?”

    “আমাদের সিনিয়ার। জগুদার খুব বন্ধু।”

    “চিঠি দেখে কী বলল, ঘোষাল?”

    “বলল, বাজে ব্যাপার, ফালতু। জগুদার সঙ্গে কেউ মজা করেছে। ভিতু মানুষ জগুদা, ভয় দেখিয়ে তামাশা করেছে।”

    কিকিরা নিজের জায়গায় এসে বসলেন। মাথার চুল ঘাঁটলেন। বললেন, “তা তোমার জগুদাকে নিয়ে এলে না কেন?”

    “আনতাম। ভাবলাম আপনাকে না বলে আনা কি ভাল হবে। তা ছাড়া জগুদাকৈ বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আনতে হবে। বললেই যে জগুদা আসবে মনে হয় না। ধরে আনতে হবে।”

    কিকিরা বললেন, “তবে তাই নিয়ে এসো। কথা বলে দেখি। ভাল কথা, চন্দনকে কিছু বলেছ?”

    “না। সময় পেলাম না। কাল-পরশু বলব।”

    “ঠিক আছে।…আপাতত তুমি তোমার জগুদাকে ম্যানেজ করো। করে এখানে নিয়ে এসো। দেখি, কথা বলে দেখি। তারপর কিছু একটা করা যাবে।”

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর
    Next Article সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    একা একা – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }