Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প186 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ দেখা হয়নি – ২

    ২

    এই অঞ্চলে মাঝে মাঝেই ছড়ানো ছেটানো রয়েছে জঙ্গল। খুব একটা বড় নয়, তেমন ঘনও নয়, তবু জঙ্গল তো বটে। বাগানের আয়তন দিয়ে যেমন ফুলের সৌন্দর্য বিচার করা যায় না, সেইরকমই অরণ্যের দৈর্ঘ্য–প্রস্থ দিয়ে আরণ্য পরিবেশের রূপ যাচাই হয় না।

    আমার মনে হচ্ছে যেন এই জ্যোৎস্নাহীন রাতে আমি এক দুর্গম, ভয়াল অরণ্যে বসে আছি। কাছেই একটা মশাল জ্বলছে। এ ছাড়া সব দিকে চাপ চাপ অন্ধকার। মেদিনীপুরের এই প্রান্তসীমায় শাল গাছের বাড় বেশ ভালো; সরল, উন্নত বৃক্ষগুলির বিশেষ একটা গাম্ভীর্য আছে।

    সব জঙ্গলের মধ্যেই কিছু কিছু ফাঁকা জায়গা থাকে। এখানে মশালটা মাঝখানে পোঁতা, এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে কুড়ি–পঁচিশজন নারী– পুরুষ, কেউ কেউ সটান হয়ে শুয়ে পড়েছে। এক জায়গায় কয়েকজন মুরুব্বি হিসেব করছে লুটের মালের।

    আমার হাত–পা ওরা বাঁধেনি। শুধু বসিয়ে রেখেছে একটা পাথরের ওপর। কিন্তু এখন পালাবার চেষ্টা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। স্থানীয় মানুষরা এই জঙ্গল নিশ্চিত খুব ভালো চেনে। আমি কোনো জায়গায় লুকোবার চেষ্টা করলেও আমাকে খুঁজে বার করতে ওদের পাঁচ–দশ মিনিটের বেশি লাগবে না। তারপর রামদা বা টাঙ্গির এক কোপে কুচুৎ করে আমার গলাটা কেটে দেবে। গোবিন্দ সেইরকমই শাসিয়ে রেখেছে।

    আমার না পালানোর আরও একটা বড় কারণ এই যে তপনের দেওয়া চৌকো বাক্সটি না নিয়ে আমি রাঁচিও যেতে পারব না, কলকাতাতেও ফিরতে পারব না। বাক্সটার মধ্যে ঠিক যে কী আছে, তা এখনো জানা হয়নি। বাক্সটা গোবিন্দ নিজের কাছে কব্জা করে রেখেছে।

    বাসটা লুট করে এরা শুধু টাকাপয়সা ও গয়নাগাঁটি পায়নি, বাসের মাথা থেকে পেয়েছে এক কাঁদি কলা, দু হাঁড়ি স্পঞ্জ রসগোল্লা ও কয়েক শিশি আচার। রাঁচির আত্মীয়স্বজনের জন্য কেউ নিয়ে যাচ্ছিল। একটু আগে ওরা সেই সব ভাগ করে খেয়েছে, এমনকি আচারও।

    এরা যে পেশাদার ডাকাত নয়, এই প্রথম ওদের এই কাজে হাতেখড়ি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মেয়েদের কাছ থেকে জোর করে গয়না কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে ওদের মধ্যে মতভেদ ও বচসা হয়েছে, তা একটু আগে শুনেছি। একটি মেয়ের কান থেকে দুল টেনে খোলার সময় তার কান ছিঁড়ে গেছে, রক্তপাত হয়েছে, এ ঘটনা অবশ্য আমাকে বাস থেকে ফেলে দেবার পরে। রমেনের সঙ্গিনীর নাকি?

    গোবিন্দ এদের দলে বেশ পাণ্ডাগোছের, উঁচু গলায় দাবড়ে বেড়াচ্ছে। গোবিন্দর এরকম ব্যক্তিত্বের পরিচয় আমি আগে কখনো পাইনি। হাজরা রোডে আমার ছোটমামার বাড়িতে রান্নার কাজ করত গোবিন্দ, তার রান্নার হাত মোটেই ভালো ছিল না, নুন–জ্ঞানটা ছিল খুবই খারাপ, টাটকা ইলিশ মাছ রাঁধলেও সেটা হয়ে যেত নোনা ইলিশ, কিন্তু সে ছিল বিনীত ও নম্রভাষী, আমার ছোট মামিমার হাজার বকুনিতেও সে রা কাড়ত না, রান্নার অযোগ্যতা সত্ত্বেও তাকে রাখা হয়েছিল, তার কারণ সে ছিল খুব বিশ্বাসী। কতবার গোবিন্দর হাতে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়ে ছোটমামারা পুরী–রাজগীর–শিলং বেড়াতে গেছেন।

    ,

    আমার সঙ্গে বেশ ভাব ছিল গোবিন্দর। ছোটমামার বাড়িতে গিয়ে আমি নিজে থেকে চাইবার আগেই গোবিন্দ জিজ্ঞেস করত, নীলুদা, চা খাবেন তো? একবার আমি ও বাড়িতে একটা সিগারেটের প্যাকেট ফেলে গেছি, তাতে মোট সাতটা সিগারেট ছিল, আমার ছোটমামা সিগারেট খান না কিন্তু গোবিন্দ বিড়ি–টিড়ি খেত, পাঁচদিন পরে ও বাড়িতে আবার গেলে গোবিন্দ আমাকে সিগারেটের প্যাকেটটা দিয়ে বলল, নীলুদা, এটা আপনার না? তার থেকে একটা সিগারেটও কমেনি।

    আমার ছোট মামিমা খুবই ভুলোমনা। কখন কোথায় চাবি রাখছেন, টাকাপয়সা রাখছেন, গয়না রাখছেন তার কিছু ঠিক নেই। সব সময় বাড়িতে একটা কোথায় গেল, কোথায় গেল রব। এই সব বাড়িতে অনেক সময় একটা অবিচারের ঘটনা ঘটে। একটা কোনো দামি গয়না হঠাৎ একদিন খুঁজে পাওয়া যায় না; বাড়িতে নানারকম আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব আসে, তাদের মধ্যে দু’একজন কি চোর হতে পারে না? কিন্তু তাদের কিছু বলা যায় না, প্রথমেই সন্দেহ পড়ে ঝি–চাকরের ওপর! সন্দেহের পর জেরা, তারপর শাসানি, তারপর হয় তারা কাজ ছেড়ে চলে যায় কিংবা তাদের পুলিশে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পর জানা যায় যে গয়নাটা আছে ব্যাঙ্কের লকারে, কিংবা অমুকের বিয়েতে গৃহিণীর ছোট বোন অতিরিক্ত সাজগোজের জন্য সেটা পরতে নিয়েছিল, কিংবা সেটা যেখানে থাকার কথা সেখানেই আছে।

    আমার ছোটমামার বাড়িতে অবশ্য সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি, গোবিন্দকে কোনোদিন চোর অপবাদ দেওয়া হয়নি, গোবিন্দ কাজ ছেড়ে দিয়েছিল সম্পূর্ণ অন্য কারণে। তবু আমার ওপরে তার এত রাগ কেন? সে আমায় কুৎসিত গালাগালি দিয়ে, চুলের মুঠি ধরে…

    হঠাৎ আমার সামনে এসে দাঁড়াল চারজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক। লাল পাড় শাড়ি পরা এই স্ত্রীলোকটি বাস থামবার পর প্রথম দফায় উঠেছিল, অন্যরা একে সুশীলা বলে ডাকে। বয়েস হবে চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে, গায়ের রং মাজা মাজা, মুখখানা ঝাঁঝালো ধরনের, তার দাঁড়াবার ভঙ্গিতে কোনোরকম নারীসুলভ নম্রতা নেই, পুরুষশাসিত সমাজেও এই ধরনের মেয়েরা নেত্রী হয়। গোবিন্দ ছাড়া আর তিনজন পুরুষের মধ্যে একজন বেশ বৃদ্ধ, মুখে খোঁচা খোঁচা পাকা দাড়ি, অন্য দু’জন বেশ জোয়ান।

    পাকা দাড়িই প্রথম অন্যদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, এই ছোকরা বাবুটাকে নিয়ে তাইলে এখন কী করতে চাস?

    গোবিন্দ বলল, এরে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এ আমারে চিনে ফেলেছে। আমার নামঠিকানা জানে।

    আমি প্রতিবাদ করে বললুম, না গোবিন্দ, আমি তোমার ঠিকানা তো জানি না!

    গোবিন্দ এক পা এগিয়ে এসে হাতের টাঙ্গিটা তুলে বলল, চোপ!

    অন্য একজন বলল, এ জাতরে বিশ্বাস করা যায় না। এরে ছেড়ে দিলেই এক দৌড়ে থানায় যাবে, সেখানে গিয়ে গোবিন্দর নাম, আমাদের গেরামের নাম বলে দেবে!

    বৃদ্ধটি মাথা নেড়ে বলল, সেটা ঠিক কথা বটে। আমরা এখন গেরামে ফিরে গিয়ে চুপচাপ দরোজা এঁটে ঘুমালে পুলিশ আমাদের সন্দো করবে কোন্ আক্কেলে,! কিন্তু এই বাবুটি যদি পুলিশের কাছে গেরামের নামটা বলে দেয়….

    আমি বললুম, আমি পুলিশে যাব না খবর দেব না, বিশ্বাস করুন। আমার চৌকো বাক্সটা ফেরৎ দিন। আমি চলে যাক সোজা…

    গোবিন্দ আমাকে আবার ধমক দিলেও বৃদ্ধটি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে খানিকটা করুণ গলায় বলল, তোমারে বিশ্বাস করা যায় না, এটা আমাদের মরণ– বাঁচনের ব্যাপার। আগে তোমাদের কাছে ভিক্ষা চেয়েছিলাম, তোমরা কিছু দ্যাও নাই, এখন জোর করে কেড়ে নিয়েছি, এবারে থানা পুলিশ হবেই।

    গোবিন্দর পাশের লোকটা বলল, বড়কাকা, দেরি হয়ে যাচ্ছে, এর গলাটি কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই!

    যেন বাড়ির সামনের কলাগাছটি কেটে ফেলা হবে কি হবে না, এমন একটা দ্বিধার সুরে বৃদ্ধটি বলল, রতন, একেবারে প্রাণে মেরে দিতে চাস?

    —তবে কি অর্ধেক বাঁচায়ে রাখব? তাতে লাভ কী? একটুখানি জ্ঞান থাকলেও তো পুলিশের কাছে জবানবন্দী দেবে! শত্তুরের কখনো শেষ রাখতে নাই।

    —কে মারবে? কোপটা কে বসাবে?

    —আমরা সকলে মিলে কোপ বসাবো। তোমরা যদি ভয় পাও তো আমি আর গোবিন্দ মিলেই ওরে শেষ করে দিতে পারি।

    –দ্যাখ, চুরি–ডাকাতির শাস্তি একরকম, আর খুনের শাস্তি হইল ফাঁসি!

    —এই জঙ্গলের মধ্যে মেরে রেখে গ্যালে কে টের পাবে? লাশটা নদীতে ফেলে দিলে তো আর কোনো ঝামেলাই নাই।

    –নদীতে কি জল আছে যে ভেসে যাবে? নদীতে যদি জল থাকত, আকাশ থেকে যদি বৃষ্টি নামত, তা হইলে তো এই সব পাপের কাজ করতেই হতো না।

    —ওসব কথা ছাড়ো তো বড়কাকা! যা হবার তা তো হইয়েই গিয়েছে। আমরা কি না খেয়ে মরব? যতই আকাল হউক আর জমি ফাটুক, এইসব বাবুদের গায়ে তো আঁচড়ও লাগে না। নদীতে জল নাই তো এর লাশ মাটিতে পুঁতে রেখে যাব!

    —মাটিতে পুঁতলেও শিয়ালে খুঁড়ে বার করবে।

    আমারই লাশ বিষয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তা আমার ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না এখনো। এখনো জলজ্যান্ত মানুষটা বসে আছি, নাক দিয়ে নিঃশ্বাস পড়ছে, পেট চুঁই ছুঁই করছে খিদেতে, আর এরা আমার মৃতদেহটি নিয়ে কী করবে, সেই সমস্যায় চিন্তিত!

    এরকম একটা সঙ্কটময় পরিস্থিতিতেও আমি ফস করে একটা সিগারেট ধরালুম। ওরা বুঝুক যে আমি ওদের গ্রাহ্য করছি না। যদি মরতেই হয়, বীরের মতন মরব! যদি জিজ্ঞেস করে, তোমার শেষ ইচ্ছে কী, আমি বলব, আমাকে একটা গান গাইতে দাও…

    আমাকে ছেড়ে দেওয়া যে ওদের পক্ষে বিপজ্জনক, তা আমিও স্বীকার করছি। আমি যতই শপথ করি যে পুলিশের কাছে যাব না, তা ওদের পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। কেনই বা আমাকে বিশ্বাস করবে? আমি যদি ওদের মতন গ্রাম্য ডাকাত হতুম, তা হলে কি ভদ্রলোকদের একজন প্রতিনিধিকে বিশ্বাস করে মুক্তি দিতুম?

    বৃদ্ধটি অন্য সকলের দিকে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করল, তা হলে তোমরা সবাই কী বলো? একে মেরে ফেলাই হবে?

    কেউ উত্তর দেবার আগেই এবার স্ত্রীলোকটি জোর গলায় বলল, না! আমরা কি খুনে, না ডাকাত? আমি আগেই বলেছিলাম, রক্তারক্তির মধ্যে যেও না। শুধু শুধু নিরীহ মানুষকে মারলে সে পাপ সইবে না।

    রতন বলল, নিরীহ! তুমি কি বলছ গো সুশীলাদি! গোবিন্দকে জিজ্ঞেস করে দ্যাখো, এ ছোড়াটা একটা কেউটে সাপ!

    গোবিন্দ বলল, ওরা সবাই এক!

    আমার সঙ্গে কেউটে সাপের তুলনাটা আমি খুবই অপছন্দ করলুম। কী হিসেবে বলল কথাটা? আমার গায়ের রং কি অতটাই কালো? কিম্বা আমি সাপের মতন রোগা–হিলহিলে? অথবা বিষ…বিষের সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক! নাঃ…এইসব গ্রামের লোকেরা একেবারে যা–তা উপমা দেয়!

    রতন বলল, রাত বেড়ে যাচ্ছে শুধুমুদু, কাজ শেষ করে এখন ছড়িয়ে পড়া দরকার। বড়কাকা, তাহলে দিই শেষ করে? আয় গোবিন্দ।

    সুশীলা দুপা এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে বলল, না, খুন–জখম চলবে না। এনারে আমাদের সাথে গেরামে নিয়ে চলো। আমাদের কাছে ধরে রাখলে তো আর থানায় গিয়ে খপর দিতে পারবে না!

    —কী পাগলের মতন কথা বলছ, সুশীলাদি! গ্রামে নিয়ে গিয়ে দুধ–কলা দিয়ে কালসাপ পুষব! পুলিস যদি দৈবাৎ সার্চ করতে আসে, তখন তো এই হারামজাদা চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় করবে!

    –আরে নাঃ! একে আমি এমন জায়গায় সেঁধিয়ে রাখব যে পুলিসের বাপ– চোদ্দপুরুষও টেরটি পাবে না।

    –কী বড়কাকা, তুমি কী বলো? মেয়েছেলের বুদ্ধি নিলে শেষ পর্যন্ত মরণ হবে আমাদের।

    বড়কাকা বাঁ হাত দিয়ে নিজের চিবুক ঘষতে ঘষতে বলল, তাইলে এক কাজ কর। রতন, তুই বরং এরে তোর সাথে জামসেদপুরে নিয়ে যা! সেখানে কোথাও ওকে ছেড়ে দিবি!

    রতন আঁতকে উঠে বলল, অ্যাঁ? তুমি বলো কী, ওকে আমি একা একা সাথে নিয়ে যাব?

    গোবিন্দ বলল, তা হলে আমাকেও রতনের সাথে যেতে হয়। সেই ভালো, ওকে এখান থেকে তো সরিয়ে নিয়ে যাই। তারপর আমরা দুজনে মিলে ওকে নিয়ে কী করি, সে তোমাদের জানার দরকার নেই। ওর হাত দুটো বাঁধ রতন।

    সুশীলা আবার জোর দিয়ে বলল, না, গোবিন্দ, তোর যাওয়া চলবে না। তোদের মতলোব আমি বুঝেছি। বড়কাকা, আমার কথাটা শোনো। আরও যে এতসব মানুষ আছে, তাদের জিজ্ঞেস করে দ্যাখো। খুন জখমের দায় কেউ নিতে চাইবে না। সবারই পেটের দায় আছে, তা বলে কি প্রাণের ভয় নাই?

    বড়কাকা বলল, তাইলে নলিনী, বিষ্ট, হারান এদেরও ডেকে জিজ্ঞেস করো না কেন, ওরা কী চায়?

    রতন বলল, পাঁচজনে পাঁচরকম মত দেবে, তাতে কিছু কাজের কাজ হবে না। বড়কাকা, তোমারে লীডার করেছি, তুমি যা বলবে, তাই হবে! আর সময় নষ্ট করা যাবে না, তুমি বিচার করে বলে দাও…

    বড়কাকার সঙ্গে আমার চোখাচোখি হতেই সে মুখটা ঘুরিয়ে নিল। বৃদ্ধটি মনঃস্থির করতে পারছে না। আমি সুশীলার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলাম। নারী জাতির ওপর আমার অনেক ভরসা। মেয়েরা এর আগেও আমাকে অনেকবার বাঁচিয়েছে।

    আমি বললুম, খুব তেষ্টা পেয়েছে, একটু জল দেবেন?

    রতন দাঁত কিড়মিড় করে বলল, তোর মুখে ইয়ে করে দেব, শালা!

    সুশীলা বেশ জোরে তার মুখের ওপর একটা থাপ্পড় কষাল। তারপর আমাকে বলল, এখানে জল নাই, আমাদেরও গলা শুকিয়ে গেছে।

    এই সময় একজন লোক ছুটতে ছুটতে এসে বলল, একখান গাড়ি আসছে, এদিকে একখান গাড়ি আসছে।

    বড়কাকা দারুণ ভয় পেয়ে বলে উঠল, অ্যাঁ? এসে গেছে? তাইলে কী হবে? অ্যাঁ?

    রতন বলল, তোমরা দৌড়াও! জঙ্গলের আরও ভিতরে সেঁধিয়ে যাও, সবাইকে নিয়ে যাও…

    রতন আর গোবিন্দর মাঝখানের যে লোকটি এতক্ষণ একটাও কথা বলেনি, সে এবার এগিয়ে এসে আমার ঘাড় ধরে বলল, চ্যাচালে এক কোপে শ্যাস করে দেব। টু শব্দটি করবে না।

    সুশীলা আমার একটি হাত চেপে ধরে বলল, দৌড়াও আমাদের সাথে, আমরা যদি ধরা পড়ি, তুমি বাঁচবে না।

    গোবিন্দ বলল, তোমরা পা চালাও, আমি আর রতন নজর রাখছি, মনে হয় উটকো গাড়ি…কেউ কোনো শব্দ করো না।

    সুশীলা আর রতন দু’দিক থেকে আমাকে ধরে রেখে ছোটা শুরু করল। যাক, তা হলে আয়ু পাওয়া গেল আরও কিছুক্ষণ। এতখানি সংকটের মধ্যেও আমার মনে একটা প্রশ্নই ঘুরছে বারবার, আমার ওপর গোবিন্দর কেন এত রাগ? আমি তো তার সঙ্গে সজ্ঞানে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। সে আমাকে মোটামুটি চেনে, আমি কি বিশ্বাসঘাতক টাইপের মানুষ!

    অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে খানিকটা ছুটেই আমি বেশ হাঁপিয়ে গেলুম। আমার জন্য সুশীলা ও অন্য লোকটিরও অসুবিধে হচ্ছে। তিন জোড়া পা একসঙ্গে মিলিয়ে দৌড়োন সহজ কথা নয়। অন্যরা এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের পেছনে ফেলে। আমার ঘাড়ের কাছে একটা অদ্ভুত অনুভূতি, ঐ রতন নামের লোকটা কেমন যেন রক্তপিপাসু ধরনের, আমাকে মারার খুবই ইচ্ছে ওর, এখন এই সুযোগে যদি সে পেছন দিক থেকে এসে আমার ঘাড়ে একটা কোপ মারে? এই বুঝি মারল, এই বুঝি মারল।

    দু’তিনবার পেছন ফিরে তাকালুম। পুলিসের গাড়ি বা অন্য কোনো গাড়ি আমাদের তেড়ে আসছে না। অন্ধকার একটুও ফুটো হয়নি।

    জঙ্গল ছেড়ে আমরা নেমে পড়লুম একটা শুকনো নদীর খাতে। এটা খুব ভালো লুকোবার জায়গা। নদীর দু’ পাড় উঁচু, মাঝখানে কোনো মানুষ থাকলেও দেখা যাবে না। এবারে সবারই গতি কমে এলো। সুশীলা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে হাঁপাচ্ছে। ভালো করে খেতে পায়নি অনেকদিন; এদের কারুর শরীরেই জোর নেই। যে–লোকটি আমাকে ধরে আছে, তার শরীরের খাঁচাখানা বড়, কিন্তু শরীরে হাড় ছাড়া আর কিছুই নেই। গায়ের জোরে এ লোকটা হয়তো আমার সঙ্গে পারবে না। একমাত্র রতনেরই ডাকাত–ডাকাত চেহারা।

    এক জায়গায় খানিকটা জল চকচক করছে। সুশীলা সেখানে থেমে পড়ে বলল, এই যে জল, খেয়ে নাও!

    স্রোতহীন বদ্ধ জল, শহুরে মানুষদের এ জল খেতে হলে অভক্তিতে বমি আসবে। আমার আসলে তেমন তেষ্টা পায়নি, তখন জল চেয়েছিলুম এক রমণীর মন ভেজাবার জন্য। হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে সেই জলই আঁচলা করে তুললুম খানিকটা, জলের মধ্যে কী যেন ছোট ছোট জ্যান্ত জিনিস নড়াচড়া করছে, মাছ হতে পারে না, খুব সম্ভবত ব্যাঙাচি। ঠোটের কাছে একটু ছোঁয়ালুম শুধু, সবটা জল ঢেলে দিলুম নিজের বুকে। ঘামে আমার জামা ভিজে গেছে এমনিতেই

    সুশীলা নিজেও সেখানে বসে পড়ে সেই জল বেমালুম খেয়ে নিল দু’ তিন ঢোক। খাদ্য হিসেবে ব্যাঙাচি খুব খারাপ নয় বোধহয়, সাহেবরা ব্যাঙ খায়, আমিও দু’ তিনবার ব্যাঙের ঠ্যাঙ ভাজা খেয়েছি।

    সুশীলা মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল, রতন আর গোবিন্দ কোথায় গেল, ওরা এলো না?

    আমার পাশের লোকটি বলল, আসবে, আসবে। ওদের জন্য ভেবোনি। এখন চলো, ঘুমে আমার চোখ টেনে আসছে।

    ক্লান্তিতে অনেকেই বসে পড়েছে বালির ওপর। অদ্ভুত এক ডাকাতের দল, যাদের বেশিদূর ছোটারও শক্তি নেই।

    বড়কাকা সবাইকে তাড়া দিতে লাগলেন, এই ওঠ ওঠ, আর তো মোটে একটুখানি, যে–যার বাড়িতে গিয়ে জিরোবি। চল রে…

    বম্বে রোড থেকে আমরা অনেকটা দূরে চলে এসেছি। সব মিলিয়ে দশ– বারো কিলোমিটার তো হবেই। যদি কেউ খবর না দিয়ে দেয় তা হলে পুলিসের পক্ষে এতদূরের একটা গ্রামে এসে হানা দেওয়া খুব একটা সম্ভাব্য ব্যাপার নয়। পুলিসজাতি এত ব্যস্তবাগীশ নয় মোটেই।

    নদীর খাত ছেড়ে আমরা উঠে পড়লুম একটা কাঁচা রাস্তায়, এদিকে ধূ ধূ করছে মাঠ। অন্ধকারের মধ্যেও এক জায়গায় বেশি অন্ধকার, খুব সম্ভবত ঐদিকেই গ্রাম।

    এত গরমের মধ্যেও আমার শরীরে যেন একটা শীতের কাঁপুনি লাগল। আমি কোথায় যাচ্ছি? আমার নিয়তি আমাকে কোথায় নিয়ে চলেছে? একটু আগে জঙ্গলের মধ্যে আমার মনে হচ্ছিল, ওরা যখন তখন আমায় মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু তখন আমার তেমন ভয় করেনি। একেবারে চোখের সামনে মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখলে বোধহয় এরকমই হয়। কিন্তু এরা এখন আমাকে খানিকটা সময় দিয়েছে, এখন ধক্কক্ করছে আমার বুক। আমার চোখ, নাক, কান সমস্ত ইন্দ্রিয়গুলিই গুটিয়ে আসছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি, তবু আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যারা আমাকে মারতে চায় তারাও খুনে–গুণ্ডা নয়, সাধারণ গ্রামের মানুষ।

    ঐ যে সেই গ্রাম, অন্ধকারে ঢাকা গ্রাম

    গোবিন্দ মেদিনীপুরের ছেলে, শুধু এইটুকুই আমার জানা ছিল। তার গ্রামের নাম আমি জানি না। আমি কি ইচ্ছে করলেও গোবিন্দকে ধরিয়ে দিতে পারতাম পুলিসের হাতে? ডাকাতদের একজনের নাম জানলে পুলিসের পক্ষে তাকে খুঁজে বার করা বোধহয় অসম্ভব নয়। যদি সেরকম উদ্যমী পুলিস হয়। প্রায় তো এখানে সেখানে ডাকাতির খবর কাগজে পড়ি, পুলিস ক’জনকে ধরে? ওদের অত গরজ নেই।

    পুলিস নিয়ে আগে অনেক ঠাট্টা ইয়ার্কি করেছি বটে, কিন্তু এখন মনে হলো, একমাত্র পুলিসই আমায় বাঁচাতে পারে। যদি ঐ বাসযাত্রীদের মধ্যে কোনো মন্ত্ৰী বা নেতা–টেতাদের আত্মীয়স্বজন কেউ থাকে, সে যদি জেলার এস পি–কে হুমকি দেয়, তাহলে পুলিস চটপট কিছু একটা করতে চাইবেই। পুলিস সত্যি সত্যি চেষ্টা করলে এই কয়েকটা অ্যামেচার ডাকাতকে ধরতে পারবে না? জঙ্গলের মধ্যে যেখানে বসে এরা কলাগুলো খেয়েছে, কলার খোসাগুলো তো সেখানেই ফেলে এসেছে, এক জায়গায় এক কাঁদি কলার খোসা, একেবারে জাজ্বল্যমান প্রমাণ…

    কিংবা এমনও হতে পারে, দূর থেকে পুলিসের দলকে আসতে দেখলেই এরা আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে! আমিই তো সবচেয়ে প্রকট একটি লুটের মাল। আমি কিছু বলি আর না বলি, আমাকে দেখলেই পুলিস বুঝবে যে এরাই ডাকাত। আমাকে জ্যান্ত অবস্থায় লুকিয়ে রাখার চেয়ে আমাকে মেরে আমার লাশ গায়েব করা অনেক সহজ। আমাকে মেরে তারপর এদের গ্রামের শ্মশানে যদি আমার দেহটা পুড়িয়ে দেয়, তাহলেই তো ঝামেলা চুকে যায়।

    হঠাৎ যেন দেখতে পেলুম, একটা জ্বলন্ত চিতায় কয়েকজন ধরাধরি করে আমাকে ছুঁড়ে দিচ্ছে, তখনও আমি ভালো করে মরিনি, হাত–পা ছুঁড়ছি…

    কয়েকটা কুকুর ডেকে উঠল বেশ হিংস্র ভাবে। পৌঁছে গেছি গ্রামে। একটা ডোবার পাশে, ঝাঁকড়া তেঁতুলগাছের নিচে অনেকে দাঁড়িয়ে পড়েছে। দুটো কুকুর লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠার চেষ্টা করল, সুশীলা তাদের তাড়া দিয়ে বলল, যাঃ যাঃ! বড়কাকা আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, এই ছোকরাটা একবারও পালাবার চেষ্টা করেছিল নাকি রে হাবু?

    হাবুর বদলে সুশীলা উত্তর দিল, না, কিছু করেনি!

    বড়কাকা ভুরু তুলে বিস্ময়ের সঙ্গে বলল, চুপচাপ ভালোমানুষের মতন তোদের সঙ্গে সঙ্গে এলো?

    সুশীলা বলল, হ্যাঁ গো, তাই তো এলো!

    আমি ভাবলুম, গুড কনডাক্‌টের জন্য আমার প্রতি কিছু একটা দয়া দেখানো হবে নিশ্চয়ই। কিছু খেতে–টেতে দেবে কি?

    বড়কাকা চিবুক ঘষতে ঘষতে বলল, তবেই বুঝে দ্যাখো, এর মতলোব কত খারাপ। মানে বুঝলে তো, আমাদের গেরামটা ভালো করে চিনে নিতে চায়। কোনোক্রমে ছাড়া পেয়ে গেলেই সোজা দৌড়ে থানায় গিয়ে পুলিস লেলিয়ে দেবে!

    হাবু বলল, এই ভদ্দরলোকদের জাতকে কোনো বিশ্বাস নাই!

    আমি আকাশ থেকে পড়লুম। ভালো থাকাটাও অপরাধ? আমি পালানোর চেষ্টা করলে আমাকে তক্ষুনি খুন করার একটা সহজ যুক্তি ওরা পেয়ে যেত। ওদের বিবেক পরিষ্কার থাকত। আমি যতক্ষণ বেঁচে থাকব, ততক্ষণই ওদের ঝামেলা! আমার জীবনটাই যে অন্য মানুষদের বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে, তা ভেবেই আমার দারুণ অপমান বোধ হলো!

    একটা পনেরো–ষোলো বছরের ধ্যাড়েঙ্গা চেহারার ছেলে তার হাঁটু দিয়ে আমার পেটে একটা গুঁতো মেরে বলল, মারো না, মেরে দাও না!

    এই বয়েসী ছেলেরা খুব নিষ্ঠুর হয়। এরা কারুকে মারতে বা নিজেরা মরতে দ্বিধা করে না। পৃথিবীর সব দেশের নেতারাই এই বয়েসের ছেলেদের ক্ষেপিয়ে নিজেদের কাজ উদ্ধার করতে চায়। এই ছেলেটার হাতেও একটা টাঙ্গি, এ প্ৰথমেই টাঙ্গির কোপ না মেরে হাঁটু দিয়ে মেরেছে!

    সুশীলা ছেলেটিকে ঠেলে দিয়ে চোখ পাকিয়ে বলল, অ্যাই সুবল, তোর বড় বাড় বেড়েছে না? আমরা থাকতে তুই গায়ে হাত দিচ্ছিস যে? যা ঘরে যা, শুয়ে পড়গে যা।

    গলা চড়িয়ে সুশীলা বলল, তোমরা সবাই যে–যার ঘরে চলে যাও, চ্যাচামেচি হৈ চৈ যেন না হয়।

    পেছন থেকে কেউ একজন বলল, আমাদের টাকাপয়সার হিসেব দিলে না? আমরা তো হাতে কিছু পেলুম না কেউ!

    বড়কাকা বলল, ওসব কথা কাল সকালে হবে! হাতে কেউ এখন নগদ কিছু পাবে না, চাল–ডাল পাবে। সে ব্যবস্থা কাল হবে। এখন সব বাড়ি যাও। তক্ষুনি কেউ গেল না, ভিড়ের মধ্যে একটা গুঞ্জন চলল। ডোবাটার ওপাশে দেখা গেল একা একজন মানুষকে। সুশীলা বলল, ঐ তো গোবিন্দ এয়েছে। আর রতন কোথা গেল?

    বড়কাকা বলল, রতন গেছে একটা কাজে। তুই এই মানুষটাকে তাইলে তোর বাড়িতেই রাখবি? কে ওকে রাতভোর পাহারা দেবে?

    সুশীলা বলল, সে ভাবনা তোমাদের ভাবতে হবে না। হাবু, তুই আমার সাথে আয়।

    হাবু আমার হাত ধরে টানতেই আমি একটা যন্ত্রচালিত পুতুলের মতন হাঁটতে শুরু করলুম। কারুর দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারছি না। ভিড়ের লোকেরা সবাই কি আমার দিকে ঘৃণার দৃষ্টি ছুঁড়ে দিচ্ছে? মানুষের ঘৃণা পাবার মতন কোনো কাজ কি আমি জীবনে করেছি!

    দুটো কুকুর আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আসছে। এ গ্রামের কোনো ঘরেই আলো জ্বলছে না, তবে আকাশ একেবারে অন্ধকার নয়। রাস্তা দেখা যায়।

    হাবু জিজ্ঞেস করল, পিসি, এডারে কি হাত–পা বেঁধে রাখবে?

    সুশীলা সংক্ষেপে বলল, না।

    –তবে রাখবে কোথায়? গোয়াল ঘরে?

    —না। সে ঘরে কি কোনো মানুষ শুতে পারে?

    —তবে তুমি কী করবে এডারে নিয়ে?

    –সে আমি বুঝব!

    —পিসি, তুমি এতখানি বোঝা নিজের ঘাড়ে নিও না। তোমারে এ গেরামের পাঁচজনে মানে, তোমার কথা শোনে, কিন্তু এই লোকটা যদি কোনো বিপদ ডেকে আনে, তাহলে তোমারে কেউ ছেড়ে কথা কইবে না। মানুষজন যেভাবে রেগে তিরিক্ষি হয়ে আছে…

    হঠাৎ থমকে গিয়ে সুশীলা আমার দিকে ঘুরে দাঁড়াল। সোজা আমার চোখে চোখ মেলে অভিমানভরা কণ্ঠে বলল, আমরা চাষীবাসী মানুষ, চুরি–ডাকাতি দূরে থাক, কোনোদিন অধর্মের কাজ করিনি। আমাদের কত লোক ভাতে মেরেছে, পেটে মেরেছে, তবু আমরা মানুষজনকে কখনো মারতে যাই না…কিন্তু ভগবানেরও দয়া নেই আমাদের ওপরে…পরপর দু’ বছর অজম্মা, এ গাঁয়ের কাউর হাতে একটা পয়সা নেই, কোনো ঘরে একদানা চাল নেই, মহাজনের কাছে জমি বন্ধক পড়েছে, কেউ আর ধার–বাকি দেয় না…এতগুলোন মানুষ কি না খেয়ে মরে যাবে? কোনোদিন যা করিনি, ভিক্ষের জন্য হাত পেতেছিলুম তোমাদের কাছে, তোমরা কেউ কিছু দিলে না…প্রাণের দায়ে লুটপাট করেছি। কাউকে মারধোর করার কথা ছিল না…আমার একটা নাতি পরশু দিনকে মরে গেছে, বউটা কেঁদে কেঁদে গড়াচ্ছে, হালের গোরুটাও বেচে দেবার আগেই মরে গেল…এখন তোমার যদি ধর্ম হয়, তুমি পুলিস ডাকবে, আমাদের ধরিয়ে দেবে, থানা পুলিসে গ্রামে এসে আগুন জ্বালাবে…তবে তুমি তাই দাও..কপালে যদি তাই থাকে তো হবে… এতগুলান মানুষের প্রাণ এখন তোমার হাতে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    Next Article ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }