Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প186 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ দেখা হয়নি – ৬

    ৬

    সন্ধে হয়ে এসেছে, আকাশ যেন দ্রুত শুষে নিচ্ছে পৃথিবীর আলো। সন্ধেবেলার এই রঙটা দেখতে আমার বরাবরই ভালো লাগে। কিন্তু আজ আমি রাত্রির আগমনটা কিছুতেই সহ্য করতে পারছি না। বারবার মনে হচ্ছে, অন্ধকার হয়ে গেলেই একটা ভয়ংকর কিছু ঘটবে। দিনের আলোয় কোনো ভয়ংকর সম্ভাবনাকেই ততটা ভয়াবহ মনে হয় না।

    আজকের রাতটা কাটবে তো?

    বাইরের গাছতলাটা এখন ফাঁকা। হঠাৎ সবাই অন্য কোথায় চলে গেল? ময়না সেই একই জায়গায় হাঁটুতে কপাল ঠেকিয়ে বসে আছে। এতক্ষণ বাইরের লোকজনের কথাবার্তা শুনে কোনোরকমে কেটে যাচ্ছিল সময়, এখন কোথাও কোনো শব্দ নেই। বাচ্ছারাও কাছাকাছি নেই মনে হচ্ছে।

    একসময় একটা গান শোনা গেল। মানুষটিকে দেখা যাচ্ছে না, মনে হচ্ছে কোনো বৃদ্ধের গলা। বোধহয় সুশীলাদির শ্বশুর। বুড়ো মানুষদের গান একটু দূর থেকে শুনলে কান্নার মতন মনে হয়। কিন্তু এটা গানই, দুটি লাইন মোটামুটি বোঝা গেল:

    গোঁসাই আইলেন শ্বশুরবাড়ি মাছ ধরিতে যাবে কে
    শ্বশুর গেছে গঞ্জের হাটে দৈ আনিতে যাবে কে….

    গানটা ঠিক ধর্মের গান, না কৌতুক–গীতি তা ঠিক বোঝা গেল না। কোনো কোনো পল্লীগীতিতে গোঁসাই মানে শেয়াল। বুড়োর গলা খুব বেসুরো নয়। অনেকদিন পরে পেটে ভাত পড়েছে বলেই বোধহয় গলা দিয়ে গান বেরিয়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষও কি গান গায়?

    সন্ধে হলো, এই গ্রামের কোথাও তো শাঁখ বাজল না। এই গ্রামের মেয়েরা উলু দেয় না? এ বাড়িটায় কোনো ঠাকুর দেবতার মূর্তি কিংবা ছবি দেখিনি। গ্রামটারও যতটুকু দেখেছি তার মধ্যে কোনো মন্দির চোখে পড়েনি। এ গ্রামটার এমনই দৈন্যদশা যে একটা মন্দিরও বানাতে পারেনি এরা? ডোবাটার ধারে তেঁতুল গাছতলায় সিঁদুর মাখানো পাথর পড়ে ছিল কয়েকটা।

    আরও একটা ব্যাপার মনে পড়ল। কলকাতার খবরের কাগজ পড়লে মনে হয়, রাজনীতি এখন প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে গেছে। গ্রামে মারামারি–খুনোখুনি হলেই সেটা সি পি এম–কংগ্রেসের লড়াই। কিন্তু এখানে এদের সারাদিন কথাবার্তার মধ্যে একটাও তো রাজনীতির কথা শুনতে পাইনি, কারুকেই রাজনৈতিক কর্মী বলে মনে হলো না। অবশ্য এদের গালাগালির যে–রকম স্টক, তাতে যে–কোনো দলের হয়েই এরা তো গলাবাজি করতে পারত।

    তাহলে এমন লক্ষ্মীছাড়া গ্রামও আছে, যেখানে এখনও রাজনীতি পৌঁছোয়নি, সরকারি প্রশাসনযন্ত্র কিছুই পৌঁছোয়নি, এমনকি ঠাকুর–দেবতারা পর্যন্ত আস্তানা গাড়তে আসেনি। এ গ্রামের লোকরা না খেয়ে থাকবে না তো কারা থাকবে? এ গ্রামে ছিটেফোঁটাও মধু নেই, তাই এদের কেউ গ্রাহ্য করে না।

    কে যেন বলল, শবরদের গ্রামের অবস্থা এদের চেয়েও খারাপ? এর থেকেও খারাপ অবস্থা আর কী হতে পারে?

    সারাদিন অসহ্য গরম, এখন গরম যেন আরও বেড়েছে। গ্রামের দিকে সন্ধে বেলা গরম বেশি লাগে। কাল রাতে আমি মশা টের পাইনি, আজ কানের কাছে পিনপিন করছে দু’একটা মশা। জুন মাস শুরু হয়ে গেছে, তবু বৃষ্টির দেখা নেই। এ বছর মেঘেরা কি পথ ভুলে গেল?

    ঘামে আমার সমস্ত শরীর চটচট করছে। এদের গ্রামের ডোবাটায় এখনও কিছুটা জল আছে, এখন যদি ওরা একবার আমাকে স্নান করতে দিত!

    ময়না এবার মুখ তুলে, হাত বাড়িয়ে নিল মগটা। ঢক ঢক করে খেতে লাগল জল। ঐ জলের মগটা আমার জন্য রাখা ছিল। আহা, বেচারার খুবই তেষ্টা পেয়েছিল। সেই যে ছেলেবেলা কার যেন গল্প পড়েছিলাম, ‘দাই নেসেসিটি ইজ গ্রেটার দ্যান মাইন!’ একটা বেশ আত্মত্যাগের আত্মপ্রসাদ ভোগ করা গেল।

    সবটা জল খেয়ে ফেলল নাকি? ওকে জল খেতে দেখছি আর আমার গলাটা আরও বেশি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে। আমি দেখতে চাই কতক্ষণ পারা যায়। কষ্ট সহ্য করার মধ্যেও একটা অহমিকা থাকে।

    ময়না মগটা নামিয়ে রেখে উঠে দাঁড়াল, তারপর দরজার গায়ে চাপড় মারতে মারতে বলতে লাগল, খুলে দাও, এই খুলে দাও!

    দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে গেছে নাকি? কখন দিল, আমি খেয়ালও করিনি। ওদের একটা আক্কেল নেই? এই মুহূর্তে রতন ফিরে এলে রাগের চোটে আমায় নিয়ে যে কী করবে তা ভাবতেই পারছি না। অথচ সম্পূৰ্ণ বিনা দোষে…ময়নার গায়ে হাত ছোঁওয়ানো তো দূরের কথা, আমি ওর দিকে ভালো করে তাকাইনি পর্যন্ত।

    বিনা দোষে…আমি এ পর্যন্ত যত রকম শাস্তি পাচ্ছি, সবই তো বিনা দোষে! শুধু একটিই ভুল হয়েছিল, গোবিন্দর নামটা উচ্চারণ করা। নইলে এই সময়ে আমি রাঁচিতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। অবশ্য তপনের বড়মামার উইলটা না নিয়ে রাঁচি পৌঁছেও কি কিছু লাভ হতো?

    ময়না দরজায় ধাক্কা দিয়েই চলেছে। কেউ শুনতে পাচ্ছে না নাকি? কাছাকাছি কেউ নেই, সেই বৃদ্ধেরও গান বন্ধ হয়ে গেছে।

    ময়না এবার আমার দিকে কয়েক পলক তাকিয়ে থেকে করুণভাবে বলল, দরজাটা খুলে দিতে বলো না!

    হায়রে আমার পোড়া কপাল! এ যে ভিক্ষুকের কাছে ভিক্ষে চাওয়া! আমার অবস্থা ময়নার চেয়েও অনেক খারাপ। ময়না এ গ্রামের বউ, তার ওপর ওদের সন্দেহ হলেও ওকে কেউ মেরে ফেলার কথা বলেনি। কিন্তু আমার যে এরমধ্যে অন্তত পাঁচবার মৃত্যুদণ্ড হয়ে গেছে!

    ময়না আবার বলল, দরজাটা খুলে দিতে বলো না! আমার কষ্ট হচ্ছে!

    আমার যে–টুকুও বা বেঁচে থাকার আশা আছে, ময়নার একটি মুখের কথায় তা শেষ হয়ে যেতে পারে। দরজা খোলার পর ময়না যদি একটিবার মিথ্যে করে বলে, এই লোকটা আমার কাপড় ধরে টেনেছে, তাহলেই আর দেখতে হবে না, এ গ্রামের সব পুরুষরা ঝাঁপিয়ে পড়বে আমার ওপর, টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলবে।

    কিন্তু আমার ভয়–টয়গুলো কী করে যেন কমে যাচ্ছে। আজ সকালবেলার তুলনায় আমি এখন অনেক সাহসী।

    গম্ভীর ভাবে ময়নাকে বললাম, তুমি দরজার কাছ থেকে সরে এসো, আমি দেখছি!

    ময়না আবার দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়াল, আমি দরজাটার ওপর দুম দুম করে কিল মারতে লাগলাম বেশ জোরে জোরে। সারাক্ষণ এই বাড়ির কাছাকাছি অনেককে জটলা করতে দেখেছি, এখন একজনও কি নেই?

    ময়নার দিকে ফিরে আমি বললুম, কেউ যে খুলছে না!

    ময়না বলল, আমার যে বড্ড কষ্ট হচ্ছে। পেট ব্যথা করছে! খুব পেট ব্যথা করছে।

    এবার আমি দড়াম দড়াম করে কয়েকটা লাথি মারলাম দরজায়। ওপরের দেয়াল থেকে খানিকটা মাটির চাপড়া খসে পড়ল। আর কয়েকবার এরকম লাথি কষালে দরজাটা যদিও বা না ভাঙে, দেয়ালটা ভেঙে পড়তে পারে।

    ঝনাৎ শব্দে বাইরে থেকে শেকলটা খুলে যাবার শব্দ হলো। আমি সরে দাঁড়ালাম। দরজার ওপাশে সেই রোগা বউটি।

    সে কিছু বলার আগেই আমি রুক্ষ কণ্ঠে বললুম, দরজা বন্ধ করে রেখেছ কেন? এই মেয়েটির যে পেট ব্যথা করছে!

    ময়না ছুটে বেরিয়ে গেল, একটু পরেই শুনতে পাওয়া গেল তার ওয়াক– ওয়াক বমির শব্দ। রোগা বউটি আর একবার এ ঘরে এসে নিয়ে গেল জলের মগটা।

    ময়নাকে আর ওরা এ ঘরে ফিরিয়ে আনল না। আমার সামনে পড়ে আছে দীর্ঘ একটা রাত্রি। আমার জীবনে কি এই রাতটা ভোর হবে? থেকে থেকেই মনে হচ্ছে, কালকের রাতটার চেয়ে আজকের রাত অনেক বেশি সঙ্কটজনক!

    ঝিম মেরে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। কোথাও আলো জ্বলেনি, তাই বাইরে কিছুই দেখা যায় না। দরজা খোলা, কাছাকাছি দু’একটি নারী ও বৃদ্ধ ছাড়া আর কেউ নেই, এখন একবার পালাবার চেষ্টা করা যায়। কিন্তু উৎসাহ পাচ্ছি না। যে–কোনো অবস্থাতেই, যে–কোনো মানুষের বেঁচে থাকার একটা ইন্‌সটিংক্‌ট থাকে, আমি আমার মস্তিষ্কে সেই ইন্‌সটিংকটের কোনো তাড়া অনুভব করছি না। তাহলে নিশ্চয়ই এভাবে পালিয়ে বাঁচা যাবে না। এই ঘরটার মধ্যে তবু সুশীলাদির প্রশ্রয়ে বেঁচে থাকা যাচ্ছে, একবার পালাবার চেষ্টা করে ধরা পড়লে আর আমাকে ফিরিয়ে আনবে না এ ঘরে।

    খানিকবাদে বাচ্ছাদের গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। তারা দল বেঁধে ফিরছে। বেশ হাসিখুশিতে আছে মনে হচ্ছে। খুব কাছাকাছি আসার পর শুনতে পেলুম, বাচ্ছাগুলো খিচুড়ি নিয়ে আলোচনা করছে। কে কতবার খিচুড়ি নিয়েছে, একজন কার শালপাতা ফুটো হয়ে গিয়েছিল, সে চেটে নিয়েছে মাটি থেকে, আজকের মতন এত ভালো খিচুড়ি ওরা জীবনে খায়নি….ইত্যাদি।

    এতক্ষণে বোঝা গেল রহস্যটা!

    দূপুরের রান্না হয়েছিল সুশীলাদির বাড়িতে, এবেলার রান্না হয়েছে আর একটা কোনো বাড়িতে। তাই সবাই আগে থেকে সেখানে ভিড় জমিয়েছিল। খাওয়ার আগে রান্নার গন্ধ উপভোগ করা একটা উপরি পাওনা।

    বাচ্ছাদের ব্যাচ আগে খাইয়ে দিয়ে এখন বসবে পুরুষরা। আমি যেন দৃশ্যটি পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। পুরুষরা শালপাতার থালা সামনে নিয়ে অধৈর্য হয়ে বসে আছে। ভাত আর ডাল আলাদা রান্না করার চাইতে খিচুড়িই তো ভালো, যদি তার মধ্যে কয়েকটা আলু আর গোটা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া যায়…গরম খিচুড়ির মতন সুস্বাদু আর কিছু হতে পারে না…

    ময়নাকে ওরা একটু খিচুড়ি খেতে দেবে বোধহয়। আহা ওর বমি হয়ে গেল, এর পরেও খাওয়ার রুচি থাকবে কী? ময়নার কোনো বাচ্চা–কাচ্চা নেই নিশ্চয়ই, থাকলে সে প্রসঙ্গ উঠতই। ছেলেপুলে এখনো হয়নি বলেই তার স্বাস্থ্যটি ভালো আছে। এখনই কি সে সদ্য সন্তানসম্ভবা?

    আমি দুপুরে ভাত–ডাল ফিরিয়ে দিয়েছি বলে রাত্তিরে গরম খিচুড়ি যদি দিতে আসে, তাও কি প্রত্যাখ্যান করব? ততটা মনের জোর থাকবে তখন? ধুৎ, আগেই এসব ভাবছি কেন, হয়তো আমাকে দেবেই না! গোবিন্দ, ভবেনরা টের পেয়ে গেলে কিছুতেই আমাকে দিতে দেবে না। তার চেয়ে খিচুড়ির চিন্তাটা মুছে ফেলাই ভালো।

    প্যান্টটা আলগা আলগা লাগছে কোমরে। দেড়দিন না খেয়ে থাকলেই কি কেউ রোগা হয়ে যায়? অসুখ–বিসুখের সময়েও এতক্ষণ একটানা কিছু না খেয়ে থাকার অভিজ্ঞতা আমার আগে হয়নি জীবনে। তবে, এখনও আমি খেতে না– পাওয়া দলের মানুষ নই, স্বেচ্ছায় অনশনকারীদের একজন। ইচ্ছে করলে দুপুরে তো আমি উপোস ভাঙতে পারতুম!

    খিচুড়ি সাধারণত বর্ষার দিনে খায়, এই গরমে…। দুর্দান্ত ভালো খিচুড়ি খেয়েছিলাম একবার হলদিয়ায় এক বন্ধুর কোয়ার্টারে। পাতলা খিচুড়ি, তার সঙ্গে একটু মাখন আর গলদা চিংড়ির মুড়ো ভাজা। গলদা চিংড়ির অনেক দাম, আমার বন্ধুটি বাজার থেকে শুধু মুড়ো কিনে এনেছিল। সাহেবরা চিংড়ি খায়, কিন্তু মুড়ো খায় না, সাহেবরা কী বোকার জাত, গলদা চিংড়ির মাথার ঘিলুর যে কী স্বাদ তা বুঝলই না! আর একবার মনে থাকার মতন খিচুড়ি খেয়েছিলুম কোনারক মন্দিরের কাছে একটা ছোট হোটেলে। ওড়িয়ারা চমৎকার খিচুড়ি রাঁধে। নড়বড়ে কাঠের টেবিলে খেতে দিয়েছিল, কিন্তু খিচুড়ি যে রেঁধেছিল সে একেবারে আর্টিস্ট! আমার মা–ও খুব ভালো খিচুড়ি রাঁধে, শীতকালের খিচুড়ি, তার মধ্যে বড় বড় ফুলকপির টুকরো, কড়াইশুটি, সেই সঙ্গে বেগুন ভাজা আর পার্শে মাছ –ভাজা…

    একী, আমার খিচুড়ির কথা ভুলে থাকার কথা ছিল না? মায়ের রান্না খিচুড়ির কথা মনে পড়তেই জিভে জল এসে যাচ্ছে। সারাদিন জল খাইনি তবু এখনো জিভে জল আসে কী করে!

    এক ঘণ্টা বাদে আমার ডাক পড়ল!

    ছেলেবেলায় মামাবাড়িতে একবার একটানা চার মাস ছিলুম। চার মামাদের একত্র সংসারে সবশুদ্ধু উনিশ কুড়িজন লোক, তার মধ্যে আট–নটি কিশোর– কিশোরী ও শিশু। বড়মামা ছিলেন পড়াশুনোর ব্যাপারে খুব কড়া। বিকেল শেষ হলেই আমাদের দোতলার একটা বড় ঘরে পড়তে বসিয়ে দিতেন। বাইরের মাস্টার আসার কোনো ব্যাপার ছিল না, একটু বড়রা তাদের ছোটদের পড়াবে। সেই অনুসারে শাস্তির অধিকারও ছিল। যেমন আমাকে পড়াতে পড়াতে গাঁট্টা মারত আমার থেকে দু’বছরের বড় মানুদি, আবার মানুদি নিজের পড়া না পারলে তাকে চাঁটি মারত ফুলদি, আর ফুলদির বেণী ধরে টানত কান্তিদা। এক সময় বড়মামা সেই ঘরে ঢুকে কান্তিদার কান মুলে দিতেন।

    খাওয়ার জন্য ডাক না পড়লে আমাদের ছুটি হতো না। আমরা অধীরভাবে সেই ডাকের প্রতীক্ষায় থাকতুম। রান্না হতো একতলার রান্নাঘরে। একসময় সে ঘরের বাইরে এসে বিনোদ ঠাকুর হাঁক দিয়ে বলত, ওগো খোকা–খুকুরা, খাবার দেওয়া হয়েছে, নীচে এসো গো! অমনি আমরা ডাক পড়েছে, ডাক পড়েছে, বলে চেঁচিয়ে উঠে বই–খাতা ছড়িয়ে, দুদ্দাড় করে ছুটে যেতুম সিঁড়ি দিয়ে।

    রোগা বউটি এসে বলল, তোমায় ডাকছে।

    তখুনি আমার মনে হলো, খিচুড়ি খাওয়ার আসরে আমাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। যদি ওরা আমাকে সসম্মানে পংক্তি ভোজনে ডাকে, তাতে আমার আপত্তি করার কী আছে?

    রোগা বউটির পেছন পেছন বেরিয়ে এলুম ঘর থেকে। মাঝখানের ঘরটায় কেউ নেই, তারপরের ঘরটায় কয়েকটি বাচ্ছা গড়াগড়ি দিচ্ছে মেঝেতে, আর কিছু একটা মজায় সবাই মিলে হাসছে খিলখিল করে। শুধু দু’বেলা দুটি ভাত আর খিচুড়ি খাওয়াতেই এত আনন্দ! আর, কলকাতায় কত বাড়ির বাচ্ছাদের দেখেছি, কিছু খেতেই চায় না। খেলনা দাও রে, গল্প বলো রে, গান শোনাও রে, তবু তারা দুধের বাটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, ঠেলে সরিয়ে দেবে আপেল– মর্তমান কলা, মায়েরা তাদের জোর করে মুরগির ডিমের হাফ বয়েল খাওয়াতে গেলে তারা বলবে, নাঁ ডিম খাঁবো নাঁ!

    বাইরে ছাই ছাই রঙের জ্যোৎস্না উঠেছে এতক্ষণে। রোগা বউটি আমাকে মিনিট পাঁচেক হাঁটিয়ে নিয়ে গেল। তারপর দেখি রাস্তার মাঝখানেই একটা জটলা। কাছাকাছি যেতেই সুশীলাদি, মেজ কাকা, গোবিন্দদের কয়েকজনকে চিনতে পারলুম।

    তারা উত্তেজিত ভাবে কিছু একটা আলোচনা করছিল, আমাকে দেখে একসঙ্গে চুপ করে গেল সবাই। কয়েকজন টান দিতে লাগল বিড়িতে।

    বড়কাকা একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, বাবু, এবারে তুমি চলে যাও। তোমারে আর ধরে রাখা হবে না। তুমি যেখানে খুশি চলে যেতে পারো।

    সুশীলাদি বলল, এরা তোমারে ছেড়ে দিচ্ছে। তুমি চলে যাও—ভয় নেই, কেউ পেছন দিক থেকে গিয়ে তোমাকে মারবে না!

    ঘটনার এমন আকস্মিক পরিবর্তনে আমি বিমূঢ় হয়ে গেলুম। মাঝখানে হঠাৎ এমন কী ঘটল যাতে এরা আমাকে এমন বেকসুর খালাস দিয়ে দিল? নাকি এটা একটা নতুন ফাঁদ?

    এদের মধ্যে একমাত্র সুশীলাদির সঙ্গেই আমার যেন একটা আত্মীয়তার বন্ধন তৈরি হয়ে গেছে। আমি তার দিকে চোখ ফেলে বললুম, কী হয়েছে, সুশীলাদি?

    সুশীলাদি কিছু উত্তর দেবার আগেই ভবেন দাঁত খিঁচিয়ে বলল, ফের আবার কথা বাড়াচ্ছিস কেন রে, শালা? তোর সাতপুরুষের ভাগ্যি যে তোকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন যা ভাগ!

    আমি তবু সুশীলাদির দিকে তাকিয়ে বললুম, ছেড়ে দিলেই বা আমি যাব কী করে, রাস্তা চিনি না, এই অন্ধকারের মধ্যে…

    আবার ভবেন বলল, বা…লবাব পুত্তুর! রাস্তা দেখাবার জন্য সঙ্গে লোক দিতে হবে? আমরা মরছি নিজেদের জ্বালায়।

    বড়কাকা বলল, তুমি বাবু এখন যাও…

    সুশীলাদি বলল, কাল যে ডোবার পাশ দিয়ে এসছিলে, তার ডান ধার দিয়ে ডাঙা জমি ধরে ধরে যাবে, তারপর নদীটা পেয়ে যাবে। সেই নদী ধরে ধরে পুব মুখে সোজা যাবে, একটুখানি জঙ্গল পার হলে পাকা রাস্তা দেখতে পাবে তবে শবরদের সামনে পড়ে যেওনি যেন। ওরা খুব ক্ষেপে আছে। ওরা ভদ্দরলোকের ছেলে দেখলে সন্দো করবে।

    ভবেন বলল, শবরদের হাতে পড়ে ওর যদি কিছু হয় তার জন্য আমরা দায়িক হবো না। সে ও নিজে বুঝুক। যা যা যা যা, দূর হয়ে যা!

    আর বাক্যব্যয় না করে আমি পেছন ফিরে হাঁটতে লাগলুম। আমার ইন্‌সটিংকট এখনো সাড়া দিচ্ছে না। এই কি মুক্তি, তাহলে আনন্দ হচ্ছে না কেন? পা দুটো ছুটতে চাইছে না কেন? গোবিন্দ ওখানে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ সে একটাও কথা বলেনি। গোবিন্দ এত সহজে আমাকে ছেড়ে লি?

    খানিকটা গিয়ে থমকে দাঁড়ালুম। আর একটা কথা মনে পড়ে গেল। এ অবস্থায় তো আমার যাওয়া চলে না। সঙ্গে সঙ্গে ফিরলুম আবার।

    কাছাকাছি গিয়ে শুনতে পেলুম, ভবেন বলছে, হাতিবাড়ি…ওদিককার জঙ্গলে যদি যাও, ঐ জায়গাটা বাংলার বাইরে, ওখানে বাংলার পুলিশ যাবে না। ঐ জঙ্গলটা —বাংলা–বিহার–উড়িষ্যা এই তিনটে রাজ্যের কোথায় একটা খোঁচ মতন, ওদিকে কোনো পুলিশ টুলিশই যায় না কক্ষনো। শবররাও ঝাড়গ্রামের জঙ্গল ছেড়ে বেরোয় না।

    গোবিন্দ বলল, হাতিবাড়ির জঙ্গল তো এখেন থেকে দশ–বারো ক্রোশ দূর! : বড়কাকা বলল, না, পাঁচ–ছ’ ক্রোশের বেশি হবে না। আর একটা কথা কী জানিস, ওদিকটায় গেলে মোটামুটি জঙ্গলে জঙ্গলে যাওয়া যাবে। ঐ নদীতে জল আছে। তেষ্টায় অন্তত মরতে হবে না।

    আমি চুপ করে শুনতে লাগলুম এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। হাতিবাড়ি জায়গাটা আমার চেনা। একবার ওখানকার বাংলোতে থেকেছি। সুবর্ণরেখা নদীর ধারে অপূর্ব জায়গা। ভবেন ঠিক বলেছে, ঐখানে খানিকটা জঙ্গলের মতন আছে। ঐ বাংলোয় যেতে গেলে পশ্চিমবাংলা পেরিয়ে বিহারে ঢুকে, একটু পরেই উড়িষ্যার মধ্যে পড়ে আবার পশ্চিমবাংলায় ফিরে আসতে হয়।

    কিন্তু এরা গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে চলে যেতে চাইছে কেন?

    ভবেন চোখ তুলে আমাকে দেখতে পেয়ে বলল, আরে, ঐ শুয়োরের বাচ্ছাটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে কেন? এই হারু, এই সুবল, ওটাকে প্যাদাতে প্যাঁদাতে হাটিয়ে দে তো! একদম মাঠ পার করে দে!

    আমি তবু এগিয়ে এসে বললুম, আমাকে কাগজটা ফেরৎ দাও। ছোট বাক্সের মধ্যে যে কাগজটা ছিল।

    গোবিন্দ গম্ভীর ভাবে বলল, সে কাগজ আমার কাছে নেই!

    ভবেন মুখ ভেঙচে বলে উঠল, ঠিক জানি, শালা ঐ উইল থেকে কমিশ পাবে।…ছেলে, তোর এখনও এত নোলা? তোর পেন্টুলুন খুলে নিইনি সে যথেষ্ট!

    একটি ঢ্যাঙা কিশোর ও একটি খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা লোক দু’পাশ থেকে এসে আমার হাত চেপে ধরল।

    আমি দৃঢ় ভাবে বললুম, ঐ কাগজটা না নিয়ে আমি যাব না। ওটা রেখে তোমাদের কোনো লাভ নেই।

    সুশীলাদি বলল, দে গোবিন্দ, দিয়ে দে না কাগজটা!

    বড়কাকা বলল, হ্যাঁ, দিয়ে দে। কাগজ চেপে কী হবে?

    গোবিন্দ বলল, সে কাগজ আমার কাছে নেই। কাল রাত্তিরে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছি। বাক্সটাও ফেলে দিয়েছি।

    আমি জানি, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। দুপুরে ভবেন যে–ভাবে উইলটা সম্পর্কে কথা বলছিল, তাতে বোঝা গিয়েছিল, সেটা সে একটু আগেই দেখেছে। গোবিন্দ নিছক অকারণেই সেটা ফেরৎ দেবে না। এটাও তার আমার ওপর একটা প্ৰতিশোধ!

    আমি আবার অনুরোধ করলুম, দাও! ওটা দিলেই আমি চলে যাব!

    গোবিন্দ এবার এগিয়ে এসে আমার বুকে এক ধাক্কা মেরে বলল, আর একটা কথা বললে পুঁতে ফেলব! বিদেয় হ এখেন থেকে! তোর যেখানে খুশি যা! ইচ্ছে করলে তোর পুলিশ বাবাদের কাছে যা মনে চায় বলতে পারিস। আমরা পরোয়া করি না!

    সুশীলাদিও এবার খানিকটা বিরক্তির সঙ্গে বলল, আর কেন ঝামেলা করছ? বলছে তো কাগজটা নেই। এবার তুমি চলে যাও।

    আমাকে যে–দু’জন ধরে আছে, তারা এবার পেছন দিকে ঠ্যালা মারতে লাগল। আর উইলটা ফেরৎ পাবার কোনো আশা নেই।

    সুশীলাদি আমার হাত–ধরা দু’জনকে বলল, এই, ছেড়ে দে। মারধোর করবিনি। তোরা ইদিকে আয়, ও নিজের মনে চলে যাক।

    আমি আস্তে আস্তে হাঁটতে শুরু করলুম। ওরা আমাকে ছেড়ে দেবার পরেও আমি জোর করে তো আর এখানে থেকে যেতে পারি না! অনেক ছিঁচকে চোর, পকেটমারকে জেল থেকে মুক্তি দেবার পরেও তারা আবার জেলখানায় ফিরে আসতে চায়। কারাগারেই তারা ভালো থাকে।

    আমি নিজে কোনোক্রমে পালাতে পারলেও একটা আনন্দ–গর্ব বোধ করতে পারতুম। কিন্তু এরকম বিনা ভূমিকায় মুক্তি দেওয়াটা যেন কী রকম অপমানজনক লাগছে। বন্দী হিসেবে আমার গুরুত্ব হঠাৎ এত কমে গেল ওদের কাছে?

    ডোবার ধারে তেঁতুলতলাটুকু পর্যন্ত আমার চেনা। ডোবাটার উল্টো দিকে উঁচু বাঁধে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চারটি ছায়ামূর্তি। এদিকে পেছন ফেরা। ওরা দূরে কোনো কিছুর ওপর নজর রাখছে। এদের গ্রামে চাল আছে খবর পেয়ে শবররা কি এই গ্রাম আক্রমণ করবে? পাশাপাশি গ্রামে হাওয়ায় কথা চালাচালি হয়ে যায়। এই আংড়া গ্রামের মানুষ আজ দু’বেলাই খাবার খেয়েছে, ভাত ও খিচুড়ি, এই খবর জেনে অন্য গ্রামের অভুক্ত মানুষেরা ক্ষেপে উঠবে না?

    শবরপল্লী কোনদিকে তা আমি জানি না। এইসব নিরীহ চাষীদের চেয়ে শবররা আরও হিংস্র হওয়া স্বাভাবিক। শবররা একসময় ছিল শিকারী, এখন শিকার করার মতন জন্তু জানোয়ার আর নেই। জঙ্গল থেকে এটা ওটা কুড়িয়ে এনে খায়। জঙ্গলও তো দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এখন শবরদের মধ্যে কেউ কেউ জনমজুরি খাটে, ঘাসের চাটাই, ঝুড়ি বোনে। জমি থেকে ফসল না উঠলে কে চাটাই ঝুড়ি কিনবে, কেউ–বা জনমজুর খাটাবে!

    আমি শার্টটা আনিনি, চটি জোড়াও আনিনি। রোগা বউটি যখন আমায় ডেকে নিয়ে এলো, তখন আমার বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গিয়েছিল যে আমি খিচুড়ি খাওয়ার নেমন্তন্ন পেয়েছি। ওরা এমন চশমখোর, আমাকে মুক্তি দেবার সিদ্ধান্ত নেবার পরেও একপাতা খিচুড়ি খেতে দিল না?

    শরীরটা এখন সত্যিকারের দুর্বল লাগছে। কতদূর হাঁটতে হবে? ছেড়েই যখন দিল, তখন আমার শার্ট আর চটি জোড়া ফেলে আসার কী মানে হয়? এখন চাইলে ওরা ফেরৎ দেবে না। আবার ফিরে যাব? ওরা ভাববে লোকটা কী হ্যাংলা, জীবনটা ফিরে পেল, তবু সামান্য জামা–জুতোর লোভ ছাড়তে পারল না! নাঃ, আমি এতটা নীচে নামতে পারি না।

    শুধু একটা প্যান্ট পরা, খালি গা, খালি পা, এই অবস্থায় আমায় কেউ দেখলে ভদ্দরলোক বা শহরের লোক বলে কি চিনতে পারবে! গ্রামের অনেক ছেলেই ইদানিং প্যান্ট পরে। বাসে আসতে আসতেই এক জায়গায় রাস্তার ধারে দেখেছিলুম, দুটি ছোকরা এক পাল ছাগল নিয়ে যাচ্ছে, দু’জনের পরনে প্যান্ট, হাঁটু অবধি গোটানো

    আমিও প্যান্ট গুটিয়ে নিলাম হাঁটু অবধি। এবার? মুখে কি একটা শহুরে ছাপ পড়ে গেছে? মুখে আর চুলে খানিকটা ধুলো মেখে নিলে কেমন হয়? এবার হয়তো লোকে আমাকে পাগল ভাববে। পাগলের সাত খুন মাপ!

    অন্ধকারে শুকনো পাথুরে জমির ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমার আর একটা চিন্তা মাথায় এলো। যদি কোনোক্রমে আমি বড় রাস্তাতে পৌঁছোতেই পারি, পকেটে একটাও পয়সা নেই, কলকাতায় বা রাঁচির দিকে যাব কী করে? উইলটা না নিয়ে রাঁচি যাবার কোনো মানে হয় না। উইলটা পাঠানো নিশ্চয়ই খুব জরুরি ছিল, তপনের বড়মামা হয়তো খুব অসুস্থ, দু’একদিনের মধ্যে যদি তিনি মারা যান, তাহলে তিনি আর সই করতে পারবেন না। তপনের বোধহয় কিছু ভাগ– টাগ পাবার কথা ছিল, তপন তাহলে আমাকে তুলোধোনা করবে!

    কিন্তু আমি ভিকটিম অফ সারকামস্টান্সেস। তপনের কাছে অবিশ্বাসের কাজ তো কিছু করিনি। তবু মুশকিল হচ্ছে এই, তপন হয়তো সবটাই আমার বানানো একটা রোমহর্ষক গল্প বলে ধরে নেবে। আগে কিছু কিছু গল্প বানিয়েছি বটে, এখন এই কঠোর সত্যটাই কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না।

    সে যাই হোক, এখন কলকাতায় ফেরা ছাড়া আমার গতি নেই। গাড়ি ভাড়া পাব কোথায়? বড় রাস্তায় কোনো গাড়ি থামিয়ে লিফ্‌ট চাইতে হবে। আমার এই চেহারা দেখে কেউ আমায় বিশ্বাস করবে? কিংবা যদি পুলিশের হাতে ধরা পড়ি…তখন বাঁচবার একটিই উপায়, গড়গড় করে ইংরিজি বলা। ইংরিজিকে সবাই সম্মান করতে বাধ্য।

    ইংরেজ চলে গেছে এদেশ থেকে, ফেলে গেছে তাদের এঁটো করা ইংরিজি। সেই এঁটো ইংরিজি ও ছিবড়ে ইংরিজিপনা নিয়েই চলছে গোটা দেশটা। এদেশের রাষ্ট্রপতি ভালো ইংরিজি না জানলে তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করা হয়!

    এই রাতে বড় রাস্তায় পৌঁছলেও আমাকে দেখে কোনো গাড়ি থামবে না। আমি একা মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত তুলে লরি বা প্রাইভেট কার থামাবার চেষ্টা করলে তারা বরং রাগের চোটে আমাকে চাপা দেবার চেষ্টা করবে। গাড়িওয়ালাদের কাছে রাত্তিরের দিকে কোনো রাস্তাই নিরাপদ নয়। এই তো কয়েকদিন আগেই পুরুলিয়ার রাস্তায় এক মন্ত্রীর গাড়ি ডাকাতরা আটকেছিল। মন্ত্রীর গাড়ি বলে তারা চিনতে পারেনি অবশ্য। মন্ত্রীর সঙ্গের আমর্ড গার্ড গুলি চালাতে শুরু করলেই তারা পোঁ পাঁ দৌড় দেয়।

    এদেশের অধিকাংশ ডাকাতও এখন এমনই গরিব যে তাদের বন্দুক কেনারও পয়সা নেই। কিংবা, যাদের বন্দুক নেই, তাদের কি সত্যিকারের ডাকাত বলা যায়?

    সুশীলাদির নির্দেশ মতন এগিয়ে আমি নদীর পথটা পেয়ে গেলাম। আকাশের যা ময়লা ময়লা চেহারা তাতে কোনটা পুব দিক আর কোনটা পশ্চিম দিক, তা বোঝা দুষ্কর। তবে কাল কোনদিক থেকে এসেছি তা অনেকটা আন্দাজ করতে পারছি।

    জিরোবার জন্য একটা পাথরের ওপর বসলাম। পাথরটাকে দেখতে অনেকটা প্রকাণ্ড কচ্ছপের মতন। দূরে দেখা যাচ্ছে আকাশের নীচে গাঢ় অন্ধকার বনরেখা ঐ জঙ্গলটা পার হতে হবে। আংড়া গ্রামের মানুষ সত্যিই আমাকে ছেড়ে দিল? আজ রাতটা নিয়ে আমি এত ভয় পাচ্ছিলুম, অথচ এত সহজেই পাওয়া গেল স্বাধীনতা!

    সভ্য জগতে পৌঁছোতে পারলে প্রথমেই আমার দরকার এক কাপ চা ও একটি সিগারেট। তারপর সাবান মেখে স্নান। একটা ধোপা বাড়ির কাচা পাজামা। নিজের গায়ের ঘামের গন্ধে আমার নিজেরই ঘেন্না লাগছে। শহুরে সমাজে জন্মেছি, সভ্যতার সব উপকরণে অভ্যস্ত হয়ে গেছি, তাতে দোষেরও তো কিছু নেই, মানুষ তো সভ্যতার দিক থেকে পিছিয়ে যেতে পারে না!

    মানুষ বললে অবশ্য গোটা মানব সমাজকেই বোঝায়। যদিও এই আংড়ার মতন অনেক গ্রামের মানুষের কাছে সভ্যতার ছিটেফোঁটাও প্রায় পৌঁছোয়নি। এমনই হতচ্ছাড়া এই গ্রাম যে কারুর একটা সাইকেল নেই, একটা ট্রানজিস্টার রেডিও পর্যন্ত নেই। সারা বছর ধরে প্রত্যেকদিন শুধু খাওয়ার চিন্তা। জন্তু– জানোয়াররাও তাই–ই করে।

    একটু হাওয়া নেই, গরমে সারা গা জ্বলছে। নদীতে যদি জল থাকত, আমি প্যান্ট খুলে গা ডুবিয়ে দিতাম।

    শীতকালে আমি এই আংড়া গ্রামে একবার বেড়াতে আসব। বাচ্চাদের জন্য আনতে হবে কয়েকটা খেলার বল, সুশীলাদির জন্য একখানা শাড়ি। আর গোটা কুড়ি টাকার চকলেট। এদের ভাত খাওয়াবার সাধ্য আমার নেই, তবু একটা অন্তত নতুন জিনিস তো খাওয়ানো যেতে পারে। সেটা ওদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে অনেকদিন। ভবেনকে যদি তখন দেখতে পাই, ওর গালে কষাবো একটা থাপ্পড় হ্যাঁ, মারবই। গোবিন্দর সঙ্গে সারা জীবনে আর আমি কথা বলব না ঠিক করে ফেলেছি। আমার ওপর ওর এত রাগ, প্রেমে ব্যর্থ হয়েছে বলে কি সে মাথা কিনে ফেলেছে নাকি? ওরকম অনেকেই প্রেমের জন্য দুর্ভোগ সহ্য করে, আমাকে এরকম সইতে হয়নি?

    দূরে কয়েকটা বিন্দু বিন্দু আলো দেখে আমার শরীরে আবার একটা ঝাঁকুনি লাগল। আলো না আগুন? বিন্দুগুলো নড়ছে। ওখানে মানুষ রয়েছে, মানুষের হাতে মশাল বা জ্বলন্ত কাঠ।

    ওরা কি শবর? কী খুঁজছে, নিশ্চয়ই আমাকে নয়!

    রাত্তিরের মাঠে দু’চারটে ইঁদুর বা সাপ বেরোয়। অনেক আদিবাসী ইঁদুর বা সাপও খায়। খিদের জ্বালায় ওরা সেইসব খুঁজতে বেরিয়েছে?

    আলোগুলো যেন এগিয়ে আসছে এদিকে। ওরা জাত–শিকারী, লুকোবার চেষ্টা করলেও দেখে ফেলবে আমাকে। ডান দিকে খাঁ খাঁ মাঠ পড়ে আছে, ঐ দিকে গেলে হয়তো আমি বড় রাস্তা থেকে আরও অনেক দূরে সরে যাব, তবু ঐ দিকে দৌড়োনো ছাড়া গতি নেই।

    আত্মরক্ষার প্রবৃত্তিতে আমার শরীর সজাগ হয়ে গেল। শবররা আমার শত্রু নয়, আমিও ওদের শত্রু নই, কিন্তু তা বোঝাবুঝির আগেই যদি ওরা আমার বুকে তীর মারে!

    পেছন দিকে আর একটা শব্দ শুনে চমকে উঠলুম। মানুষের ছুটে আসার শব্দ। একজন দু’জন নয়, অনেক মানুষ। গোটা আংড়া গ্রাম যেন ধেয়ে আসছে আমার দিকে। ওরা আবার মত পালটেছে? আবার ধরতে আসছে আমাকে? এবার ধরতে পারলে কি আর এক মিনিটও বাঁচিয়ে রাখবে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    Next Article ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }