Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প224 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমার বন্ধু পিনাকী – সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

    আমার বন্ধু পিনাকী

    পিনাকীর মৃত্যুর খবর এল বিকেল পাঁচটা নাগাদ। আর ঠিক আড়াই ঘণ্টা পরে ওর আমাকে ফোন করার কথা। মাত্র গতকালই কথা হয়েছিল, আজ সন্ধেবেলাটা আমরা লেক ক্লাবে বসব। ও যেন গেটে দাঁড়িয়ে থাকে। ঠিক আটটার সময়। যখন আমি যাব।

    ‘তা হলেও। ফোন করে নিস একবার।’ আমি বলেছিলাম ওকে।

    ‘ক-টায়?’

    ‘তুই তো জানিস সব। আমি ক-টায় হেঁটে ফিরব। কখন বাথরুমে যাব। কখন চা নিয়ে বসব।’

    ‘সাড়ে সাতটায়?’

    ‘এগজ্যাক্টলি।’ আমি বললাম, ‘ঠিক ওই সময়টা আমি চা নিয়ে বসি। যখন ষ্টার প্লাসে দ্য অ্যান্ড বোল্ড দি বিউটিফুল হয়। আমি ওটা দেখি।’

    আজ ঠিক সাড়ে সাতটায় ফোন করত পিনাকী। যেই সিরিয়াল শেষ।

    শেষ মুহূর্তে আজকের সবার ব্যাপারটা অনির্দিষ্টকালের জন্যে আমাকে পিছিয়ে দিতে হল কি না, জেনে নিত। কেননা, কত কিছুই তো হতে পারে। চা আর চুমুকের মধ্যে। সুমন্তদা হাজির হলেন হয়ত। আমার ইনকাম ট্যাক্সের উকিল। বা, রামপুরিয়া। আমার বর্ধমান রোডের জমিতে যে মাল্টি স্টোরিড তুলছে। তখন তো আর ওকে নিয়ে বসার প্রশ্ন ওঠে না। ওদের তদ্বির সবার আগে। বাস ছেলেমেয়ের কে বেরিয়ে গেল সিয়েলোটা নিয়ে। হাতে রইল পেন্সিল। মানে, ওই মারুতি জিপসিটা। কিন্তু, সন্ধ্যার পর ওটা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমি যেতে চাইলেও ড্রাইবার সিধধু একদম মুখের ওপর ‘না’ করে দেবে, ‘মায়জিকো বসনৎ রায়মে যানা হ্যায়।’ চোদ্দর-বি বসন্ত রায় রোডে ফি রবিবার ভজন হয়। সাঁইবাবা। গলায় ছোট আর বড় দুটো সোনার হার পরে সুদেষ্ণা সেখানে যায়।

    বাস! তা হলেই আমার টেংরি খোলা। আমার তো আর পিনাকীর মতো, দেদার ট্রাম-বাস নেই। সবেধন, ওই দুটি নীলমণি। ট্যাক্সি? আরে বাবা, টেরাসে গাড়িই যদি পার্ক করতে না পারলাম, তা হলে আর লেক, স্যাটারডে, ক্যালকাটা ক্লাবের মেম্বার হওয়া কেন। ক্যালকাটা ক্লাবের কথাই ধরা যাক। ক্লাব গেটে আমার গাড়ি উঁকি দিলেই রামাশিস এগিয়ে আসবে, নীল উর্দি, কাঁধে স্ট্রাইপ, বুকে তকমা, ‘আপনি নেমে আসুন সার, আমি পার্ক করে রাখছি’, তবে না! বেরিয়ে আসার সময় একবার শুধু ল্যান্ডিং-এ দেখা দেওয়া। গাড়ি এসে দাঁড়াবে বারান্দার নিচে। গেট খুলে দাঁড়াবে রামাশিস। দশ টাকা দামি সেলাম ঠুকে, পাবে পাঁচ। আসলে, ওয়ান্স ইন এ ব্লু মুন, আমি ওকে দশও দিই। কিন্তু সেটা যে ঠিক কবে, ও তো জানে না। তাই এ অনুপপত্তি। আর, আমি মরি হেসে। এ আমারই বুদ্ধি। যাই হোক, পিনাকী জানে সবই। ফোন করে, তবে ও ক্লাবে আসত। দাঁড়িয়ে থাকত গেটে।

    ক্রেড্লে রিসিভার নামিয়ে রাখতে রাখতে আমি জেনে গেলাম, আমার বেঁচে থাকা থেকে পিনাকীকেও আমি একইভাবে নামিয়ে রাখছি। এখন থেকে আমার জীবন হবে পিনাকী-বর্জিত। আমার দেশের বাড়ি মুড়াগাছায়। নদীয়ায়, একদম জলঙ্গি নদীর ওপর। গেটের দু-পাশে ঠাকুর্দার আমলের দুটো মস্ত পাম গাছ। আমার প্রথম জন্মদিনে চারাদুটি বসানো হয়। চুয়াল্লিশ বছর ধরে পাশাপাশি বড় হবার নির্মন প্রতিযোগিতা। সেবার কালবোশেখি। একটার মাথায় বাজ এসে পড়ল। যাকে বলে দু-ফাঁক হয়ে গেল ব্রহ্মতালু। তারপর শুকোতে লাগল। শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলা হল। কী হল তাতে? অন্যটির কী তাতে কিছু এল-গেল। পাম-বংশ কি নির্বংশ হয়ে গেল? দিব্যি বেঁচে আছে। এবং, একা-একাই।

    পিনাকীর ছেলে কাটু বলল, আজ দুপুর দুটো কুড়িতে মারা গেছে পিনাকী।

    ‘দুটোয়? আর তুমি পাঁচটায় খবর দিচ্ছ!’

    ‘দেখুন কাকু। আপনি তখন ঘুমোচ্ছিলেন।’

    এই মুহূর্তে আমার পায়ে অ্যাডিডাস, পরনে সাদা গ্যাবার্ডিন শর্টস। বাঁ-দিকে টার্কোয়েজ ব্লু স্ট্রাইপ। ড্রাইবার সিধ্ধু এখন আমাকে ভিক্টোরিয়ায় ছেড়ে দিয়ে আসবে। ক্লোরেসস্টরেল, সুগার, প্রেসার এ-গুলোকে ভ্রূণে-হত্যা করার জন্য আমি এখন ঝাড়া পঞ্চান্ন মিনিট ভিক্টোরিয়ায় হাঁটব। আড়াই পাক।

    একটু চুপ করে থেকে আমি বললাম, ‘কিন্তু, আমি তো এখুনি হাঁটতে বেরিয়ে যেতাম।’

    ‘আমি জানি কাকু। আর সেই জন্যেই তো এখনই ফোন করলাম।’

    আর ক-মিনিট পরে ফোনটা এলে আমার জীবন থেকে অন্তত আজকের হাঁটাটা বাদ যেত না। আমি জানি, এটা আমার পক্ষে কত জরুরি। আমার বাবা, ঠাকুর্দা, ছোট কাকা, তিনজনেই মারা গেছেন হার্ট অ্যাটাকে। মাদ্রাজের অ্যাপেলো থেকে ডাঃ রঘুবীর এসে ওপেন-হার্ট করলেন বাবার। বরদান করে গেলেন। আরও বারো বছর। বছর ঘুরল কি? আসলে, ওইসব ট্রেড-মিল, আলট্রা সোনোগ্রাফ, সব বাজে। সার্জনগুলো প্লাম্বারের অধম। অবশ্য, স্ট্যান্ড-বাই হিসাবে ওরাও আছে আমার। কিন্তু, আসল ব্যাপার হল এই হাঁটাটা। হেঁটে গলদঘর্ম হওয়াটা। এটাই প্রকৃত দেহরক্ষী। যার উপর আমি আস্থা রাখি। এবং রেখে ভুল করি না। পঁয়তাল্লিশ পার হচ্ছি, একটা অম্বলেরও ব্যাথা হয়নি কোনো দিন বুকে। নাগাড়ে ঝড়বৃষ্টি হলে আলাদা, নইলে এই ভিক্টোরিয়ায় হাঁটাটা আমার ধর্ম।

    ফোন রেখে দেবার পর আমার কাছে তাই সমস্যা হয়ে দাঁড়াল আজকের হাঁটাটা। আমি কী আজকে হাঁটতে যাব। না, যাব না?

    বছর খানেক আগে একদিন সন্ধেবেলা খুব অবাক করে দিয়েছিল। সবে একপাক দিয়েছি। দেখি, আমার হাঁটার রাস্তায় একটা বেঞ্চিতে পিনাকী। উঠে দাঁড়াল, তাই দেখতে পেলাম।

    জানুয়ারির সন্ধে। সাড়ে পাঁচটাতেই অন্ধকার। আমাকে হাঁটতে হয় খুব দ্রুত, বিশেষত শীতে। কারণ, শীত যতই পড়ুক, ঘাম আমাকে ছোটাতেই হবে। আর ওই আড়াই পাকের মধ্যে । আমি তাই, ওকে দেখেছি বলে, হাঁটা থামাতে পারি না। পিনাকীও হাঁটা শুরু করল। বেচারা পিনাকী! সেদিন মায়াই হয়েছিল। কারণ, ওর ঠ্যাংদুটো তো আমার মতন লম্বা-লম্বা নয়। আর হন্টন-শিল্পে অভিজ্ঞতা বলতেও ওর নেই কিছু। আমার পিছু-পিছু সেদিন প্রায় দৌড়তেই হয়েছিল ওকে।

    কেন এসেছিল, বলেনি। আর কখনও আসেনি ওভাবে। তাই এটা একটা রহস্যই থেকে গেছে। শুধু বলেছিল, ‘এমনি।’ আমি ওকে মাঝে মাঝে ডাকি আমার ক্লাবগুলোয়। আড্ডা দিই। মদ-টদ খাওয়াই। ড্রাইভার পাঠিয়েও ডাকিয়ে এনেছি। ডাকলেই আসবে আমার নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে, চেনা-জানার মধ্যে এমন লোক আর কোথায়। তা ছাড়া ডাকতেও হয় না। নিজেই যত্র-তত্র থেকে ফোন করে খোঁজ নেয়। যে, আজ আমার দরকার হবে কি না। ওকে। সুদেষ্ণা এটা বোঝে। এবং, এ পর্যন্ত তার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু, তার ভয় অন্যত্র। একদিন, সে অসুখ-বিসুখ হোক, মেয়ের বিয়ের সময় হোক—কিংবা, একটা ছোট-খাট ফ্ল্যাটই কিনতে গেল হয়ত—বেশ মোটা একটা টাকা আমার কাছে চেয়ে বসবে সে। আর, আমার পক্ষে তখন ‘না’ বলা সম্ভব হবে না। এই তার ভয়। আমি তাকে বলি, ‘খেপেছ তুমি! পিনু কিনবে ফ্ল্যাট? ওর ধারনা কি জান? ওর ধারণা, বাঁচার জন্যে যত তোড়জোড় নিরাপত্তা, বিষয় সম্পত্তি, টাকাকড়ি— এসব যদি শূন্যে রাখা যায়—তবে সেটাই স্বর্গীয়। এ দিক থেকে যে যতটা কমে আছে, সে তত কাছাকাছি—স্বর্গের।’ ঠোঁট উল্টে সুদেষ্ণা বলেছিল, ‘বুনো রামনাথ?’ তার ভয় যায়নি।

    বুনো রামনাথ কিনা জানি না। তবে, একদিন ডায়োজেনিসকে নিয়ে আমাদের বেশ কিছু কথাবর্তা হয়। ডায়োজেনিসের বাড়ি বলতে ছিল একটা বাথটব। বিশ্বজিৎ আলেকজান্দার ওখানেই এসে দাঁড়ায়। রোদটা দাও গায়ে লাগাতে।’ এ সব আমারও জানা। এবং ঘটনাটা এই ছোটবেলাতেই একটুও ইম্প্রেসিভ মনে হয়নি আমার। আমার বরং ভালো লাগে ক্যানিয়ুটের গল্পটা। দাস ফার। অ্যান্ড নো ফার্দার।

    কীভাবে মারা গেল, সংক্ষেপে বলল কাটু। রবিবার, খেয়ে উঠতে আড়াইটে হয়েছিল, একবার বাথরুমে গিয়েছিল। এসে সিগারেট ধরিয়ে ইজিচেয়ারে বসে। পাশের ঘরে মা আর বোন শ্রীতপা। কাটু পান কিনতে বেরিয়েছিল। হঠাৎ, পোড়া-পোড়া গন্ধ। মা গিয়ে দেখে, জ্বলন্ত সিগারেট পড়ে আছে কোলে। গায়ে ছিল তুষের চাদর। পুড়ে যাচ্ছে চচ্চড় করে। মাথা আর একটা হাত লটকে আছে চেয়ারের বাইরে। ডাক্তার সার্টিফিকেটে লিখেছেন, মাসিভ সেরিব্রাল অ্যাটাক। তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে মারা গেছে পিনাকী। একটুও কষ্ট পায়নি। জানতেই পারেনি। ডাক্তারবাবু সে-রকমই বলেছেন।

    শুনতে শুনতে, স্মরণকালের মধ্যে এই প্রথম আমার বুকে একটা যন্ত্রণা হল। এবং বাঁদিকে। ঘামও দেখা দিল। একদম ক্লাসিক্যাল সিম্পটম। বাকি শুধু দম আটকে বমি আর পায়খানা পাওয়া। খুব ভয় পেয়ে গেলাম আমি, আমার হাত থরথর করে কাঁপতে লাগল।

    ‘কিন্তু, তুমি তো জানো কাটু’, আমি খুব অসহায়ভাবে বলতে লাগলাম, ‘শুনে আমার হাপ-পা কাঁপছে। এখন যদি যাই, ওকে দেখলে—আমার হার্ট তো মোটেই ভালো নয়—’

    ‘না-না, কাকু।’ কাটু ওপাশ থেকে আমার কথা ভেবে উদ্বেগ জানায়, ‘আপনার আসার একদম দরকার নেই। আত্মীয়স্বজন সবাই এসে গেছেন। শুধু হলদিয়ার পিসিমা বাকি। চোখে দেখলে হয়ত স্ট্যান্ড করতে পারবেন না আপনি। হয়ত আপনার কিছু হয়ে যাবে।’

    ‘খুব কান্নাকাটি হচ্ছে?’

    ‘তা একটু—’

    ‘বাবার চাকরিটা পাবে তো তুমি?’

    ‘তা পাব কাকু।’ বাবার কথা ভেবে গলা বুজে এল তার, ছোট্ট ফোঁপানির শব্দও শুনতে পেলাম, ‘তবে গ্র্যাজুয়েশনের পরে হলে ইনস্পেক্টর পোস্টে নিত।’

    ‘না-না। যা পাচ্ছ, নিয়ে নেবে।’

    ‘হ্যাঁ। তাই করব কাকু। ছোটমামাও তাই বলছেন। আঃ—’ এইখানে কাকে যেন তাড়া দিয়ে আর বেশ ত্রুদ্ধকণ্ঠে সে ধমক দিল, ‘একটু অপেক্ষা করুন। কটা ডেড নিউজ দিচ্ছি আমি।’

    ‘তুমি কোথা থেকে করছ?’

    ‘বুথ থেকে কাকু।’

    ‘ঠিক আছে। ওঃ হো, আজ আসবে বলেছিল।’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তুমি কী করে জানলে?’

    ‘মাকে বলছিলেন বাবা, সকালে।’

    ‘কী বলছিলেন?’

    ‘সকালেই বোধহয় ইন্ডিকেশন পেয়েছিলেন কিছু। বাজারে। বলছিলেন, হঠাৎ মনে হল পায়ের তলায় মাটি নেই। তলিয়ে যাচ্ছি তো যাচ্ছিই। সব অন্ধকার। তারপর ঠিক হয়ে গেল। আজ বোধহয় ভোম্বলের কাছে যাওয়া হবে না।’

    পিনাকী আমার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলের বন্ধু। ডাকনামে ডাকে।

    ‘আপনি নিউজ দিচ্ছেন, না, নিউজ স্টোরি?’ এই সময় তীক্ষ্ণ এক তরুণী-কণ্ঠ শুনতে পেলাম আমি।

    ‘আমি ছেড়ে দিচ্ছি কাকু’, কাটু বলল, ‘কাল সকালে আপনি আসছেন তো?’

    আজ আমার সন্ধ্যার সঙ্গী বলতে কেউ নেই। আজ কোনো অ্যাপো নেই কারও সঙ্গে। বহুদিনের মধ্যে এই প্রথম আমি হাঁটতে গেলাম না। বাড়িতে ছেলেমেয়ে কেউ নেই। সুমন্তদার স্ত্রী এসে সুদেষ্ণাকে নিয়ে গেছেন বর্ধন মার্কেটে। চাট-ফাট খেয়ে কখন ফিরবে ঠিক নেই। আমি বাড়িতেই বসে গেলাম একটা জিন আর লাইম নিয়ে। সাতটা নাগাদ। আমার পক্ষে একটু তাড়াতাড়ি। দ্য বোল্ড অ্যান্ড দি বিউটিফুলের কথা মনে এলেও রিমোটে হাত দিলাম না। কী রকম যেন একটা অনুপস্থিত উপস্থিতি বোধ করতে লাগলাম পিনাকীর। আহা, এখনও হয়ত শ্মশানে যায়নি। বোন পারুল এসে পৌঁছায়নি। মনে হল, সত্যি চিরটাকাল আমি দাবিয়েই রেখেছি ওকে। আমার ইচ্ছা, আমার ধ্যান-ধারণা মেনে নিতে বাধ্য করেছি। আর, মুখ বুজে সে তা মেনেও গেছে দিনে দিনে, এটা একটা পাশবিক অত্যাচারের পর্যায়ে চলে যায়নি কি? পিনাকীর জন্যে একা বসে জিন খেতে খেতে, এই প্রথম, ঠিক অনুশোচনা নয়, নাম দিতে গেলে কষ্টই বলতে হয় তাকে—কষ্ট হতে লাগল অমার। মনে হল, যাইনি, ভালোই করেছি। বুকের ওপর দু-হাত, নাকে তুলো, চোখে ফাটা ফ্রেমের চমশা— ওকে দেখে হয়ত আজ কেঁদেই ফেলতাম আমি।

    আমার মারুতির কথা মনে পড়ল। আজ সুদেষ্ণা গাড়ি নেয়নি।

    আটটার সময় গেটে পিনাকীর থাকার কথা নয়। তবু আমি গেটের দিকে তাকাই। গেট ছেড়ে, গাড়ির রাস্তা ছেড়ে, বেশ কিছুটা দূরে, ওই ঝাউগাছটার নিচে দাঁড়াত পিনাকী। আজ এলে।

    আজ লোকজন কমই। লেক ক্লাবের প্রশস্ত, ঘাসজমির লনকে গোলাকারে ঘিরে ছোট ছোট আলোকস্তম্ভ। হলুদ ফুটবলের মতো। হিম তো পড়ছেই। তা ছাড়া কুয়াশা। অন্ধকার থেকে সুমন্তদা ডাকলেন। আমি কাছে গেলামও।

    ‘নমিতা তো তোমাদের বাড়ি গেল।’

    ‘হ্যাঁ। ওরা বেরিয়েছে।’

    ‘বোসো?’

    ‘না সুমন্তদা।’ জলের ধারে একটা টেবিল দেখিয়ে বললাম, ‘আমি ওদিকটা বসছি।’

    ‘তোমার বন্ধু আসবে?’

    বেশ কয়েকবারই আমি আলাপ করিয়ে দিয়েছি পিনাকীর সঙ্গে। কিন্তু, উনি কখনও রেফার করার সময় ওর নাম করেন না। পিনাকীকে জাতে তোলার জন্য ওর ইউ-ডি ক্লার্কের সামান্য চাকরির কথা চেপে গিয়ে আমি জোর দিয়ে বলে দেখেছি, ‘আমার বন্ধু। এ ভেরি ওল্ড ফ্রেন্ড অফ মাইন।’ বসেছিও আমরা একসঙ্গে। দেখেছি, সুমন্তদা কেন, কেউ কনভিন্সড হয় না। কেউ হয়ত জানতে চাইল, থাকেন কোথায়? পিনাকী বলল, ‘বাঁশদ্রোনি।’

    ‘বাঁশদ্রোনির কোথায়?’

    পিনাকী সংকোচে বলল, ‘গাছতলা স্টপ জানেন কি?’

    বাস হয়ে গেল। কেউ আর জানতে চায় না, সেটা কোথায়। কোথায় থাকেন? না, গাছতলায়। সত্যি, এর পর আর জানার কী থাকতে পারে। পিনাকী যেদিন আসে, আমি তাই ইদানীং আলাদা বসছিলাম ওকে নিয়ে। এটা ওরা জানে। ওই, জলের ধারের টেবিলটায়। আজ সেখানে একা বসতে বসতে আমি ঠিক করলাম, ওই লেক ক্লাবটা আপস্টার্ট লোকজনে ভরে গেছে। আমি এখানে আর আসব না। আমি ক্যালকাটা ক্ল্যাবে যাব।

    জিন-লাইমই চালিয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিল। আমি তাই বললাম। আজ পনের বছর ধরে দু-জনে হুইস্কি ছাড়া কিছু খাইনি বলতে গেলে। জিন তো নয়ই। তবে হুইস্কি হলে আমাকে রয়াল চ্যালেঞ্জ আর পিনাকীকে ডি এস পি দেয়। বেয়ারা বদ্রিনাথকে বলতে হয় না। সে এটা জানে। রয়ালেরও দাম প্রায় দ্বিগুণ। এই ব্যবস্থাটা আমারও খারাপ লাগছিল শেষের দিকে। আজ থেকেই, আমি ঠিক করেছিলাম, জিন বলব। ম্যানসন হাউস ছাড়া এখানে কোনো জিন পাওয়া যায় না।

    ভীষণ, ভীষণ ভুল করল বদ্রি। ওর থালায় দুটো গ্লাস, দুটো স্ন্যাক্স। দুটো সোডা।

    সেদিকে তাকিয়ে আমি বললাম, ‘কী ব্যাপার। দুটো কেন?’

    বদ্রি বলল, ‘বাবু আসবেন তো?’

    আমি ‘না’ বলতে যাচ্ছিলাম। ঠিক এই সময় দেখলাম, পিনাকী হেঁটে আসছে।

    মানুষ সারাজীবন ধরে যে সব ভয় পায়, ভয়ে মরে থাকে, তার একটাও ভয় নয়। জীবন জুড়ে ভয় পেতে পেতে শেষে। ভয় আসে সেটাই ভয়। কিন্তু, তখন আর ভয় পাবার ক্ষমতাটাই থাকে না। আসলে যতক্ষণ সাহস, ভয় তো ততক্ষণই। সাহস মরে গেলে আর ভয় কীসের। যেমন, মৃত্যুর ঠিক আগের মিনিটগুলো, মুহূর্তগুলো। যখন সবক-টি স্লুইস গেট খুলে গেছে এবং তোড় জলে ভেসে যাচ্ছে সব কিছু। এ প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তখন আর লড়াই কী। তখন সাহস কী। অব্যর্থভাবে অনুমান করা যেতে পারে যে, তখন আর ভয় নেই। পিনাকীকে দেখে আমার একটুও ভয় করল না। এমন মানুষ থাকতে পারে যারা, এমন অবস্থায়, হাউমাউ করে ওঠে। আমি দেখলাম, আমি তাদের একজন নই। আমি তো ভূতে বিশ্বাস করতে পারি না। নিশ্চয়ই কোথাও কিছু ভুল হয়েছে। বেঁচে আছে পিনাকী। আর যদি মরেই গিয়ে থাকে। পিনাকী তো। পিনাকীই এসেছে।

    ‘কীরে, কী বাপার?’

    ‘কী ব্যাপার মানে? আসার কথা ছিল না?’

    ‘তা ছিল। কিন্তু গেটে তো ছিলি না?’

    ‘একদিন একটু দেরি হতে পারে না?’

    আমি দেখলাম, এই প্রথম আমি অত্যন্ত সশ্রদ্ধভাবে কথা বলছি পিনাকীর সঙ্গে। যেন, সে আমাদের সকলের চেয়ে অনেক, অনেক বেশি সফল মানুষ। সম্ভ্রান্ত মানুষ। তবে এও ঠিক যে, আজ ওর আটকে পড়ার কারণটা কী, আমি তা সবিস্তারে জানতে চাই না। বলতেও দেব না ওকে, কোনো মতে।

    আমি খুব সহজভাবে বললাম, ‘নে, শুরু কর।’

    ওর জন্যে একটা গ্লাস আগে থেকে আনানো হয়েছে দেখে খুবই সন্তুষ্ট হল পিনাকী। গ্লাস তুলে বলল, ‘চিয়ার্স।’ বলেই বরাবরের মতো একটা ছোট চুমুক দেয় গ্লাসে।

    ‘থুঃ-থুঃ। এ কী!’ দেখলাম বাঁ হাতের উলটো পিঠ দিয়ে গ্লাস সরিয়ে দিচ্ছে সে।

    কেন রে, কী হয়েছে?’

    ‘এ তো হুইস্কি নয়!’

    ‘না, জিন। খা না। ম্যানসন হাউস।’ জিভে একটা টাক-শব্দ তুলে আমি বলি, ‘ব্রিলিয়ান্ট করেছে।’

    ‘কিন্তু আমি তো হুইস্কি খাই।’

    এই প্রথম পিনাকী আমাকে জানাল, সে যা চায়। পর্দা নিচের দিকে হলেও তার এমন তীক্ষ্ণ গলা আমি আগে কখনও শুনিনি।

    ‘হুইস্কি বল।’

    অতি কঠিন, ত্রুর গলায় সে আদেশ করল আমাকে। তবে খুব চাপা স্বরে। যেন কেউ শুনতে না পায়। কিন্তু, চিৎকার হয়ে তাই ছড়িয়ে পড়ল আমার শিরায় শিরায়। স্নায়ু থেকে স্নায়ুতে। ‘হুইস্কি বল’, ‘হুইস্কি বল’ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে হতে ছড়িয়ে পড়তে লাগল আমার অস্তিত্ব জুড়ে।

    বরং আমিই চিৎকার করে উঠলাম, এবং, সবাই তা শুনতে পেল।

    ‘বদ্রি!’

    দূর কাউন্টার থেকে মাঠের ওপর দিয়ে বদ্রি দৌড়ে আসে।

    ‘ক্যা হুয়া সাব?’

    ‘দো রয়াল চ্যালেঞ্জ লে আও।’

    আলোর আভাস পেয়ে এখন বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে পিনাকী। কে বলল, পিনাকী নয়? আমার মনে হল, এতদিন যে এসেছে, সেই বরং পিনাকীরই ভূত।

    আজ অবশেষে, পিনাকী এসেছে আমার কাছে। পিনাকীই এসেছে।

    ১৯৯৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম
    Next Article সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }