Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প224 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বড় দুঃসময় – সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

    বড় দুঃসময়

    অন্যান্য দিনের সঙ্গে আজকের দিনটারও কোনো তফাৎ ছিল না। বারান্দায় রোদ এখনও সোনার জলের মতো ছড়িয়ে, নীল নাইলন মশারির ভিতর থেকে আরও মিঠে লাগে। দেখে মহেন্দ্র বোঝে, আজ তত বেলা হয়নি। অন্য দিনের তুলনায় আজ বরং একটু আগেই উঠে পড়েছে, আটটা হবে, শরীরের কোথাও কোনো গ্লানি নেই, না একটু মাথা-ধরা, না গা-ব্যথা, কিছু না। পেটের অভ্যন্তরীণ অবস্থা টের পেয়ে ‘বেশ ভালো পায়খানা হবে আজ’, সে বোঝে।

    মহেন্দ্র বিছানা ছাড়ে না। বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই বুচুর দুই হবার সময়কাল থেকে, মহেন্দ্র এঘরে একা শোয়। পূরবী ও বুচু ও-ঘরে। বেডরুম ওটাই, ঘরটা বড়ো, খাট আছে বড়োসড়ো, জানালা দিয়ে অনেক আকাশ দেখা যায়। মহেন্দ্র করিডোরের দিকে দরজা বন্ধ করে রাখে। গত মাসখানেক থেকে তাদের পাড়ার অবস্থা যে-কোনো-মুহূর্তে-স্ট্রোক-হতে-পারে এমন প্রেসারের রুগী যেন। আর কার বাড়িতে কী করে মহেন্দ্র জানে না। কোনো বাড়িতেই লোকজন আর বিশেষ নেই, গত এক মাসে পাড়া খুবই পাতলা হয়ে এসেছে। বিশেষত, এখনও বিন্দুমাত্র বা কোনোরূপ যৌন আবেদন আছে এমন মেয়ে ও নারীরা অন্যত্র চলে গেছে। পুরুষরা বিকেল-বিকেল বাড়ি ঢুকে পড়ে। সন্ধের পর রাস্তা খাঁ-খাঁ করে, দোকান-পাটও বিশেষ খোলা থাকে না। অবশ্য দোকানগুলো নির্দেশ মতো বন্ধ দরজার সামনে একটি সমুজ্জ্বল ডুম সারারাত জ্বালিয়ে রাখে। সারি সারি ঘুমন্ত দোকানের সামনে সাইনবোর্ডগুলো জেগে থাকে সারারাত।

    পাড়ার একমাত্র বাসরুট বদলে গেছে। মাঝে মাঝে দ্রুত সাইকেল রিক্সা যায় ও পড়বি-তো-পড় মহেন্দ্রদের ফ্ল্যাটের সামনেই একটা গর্তে পড়ে ঝনঝন করে বেজে ওঠে।

    পূরবী থেকে গেছে। সে-ও তাই করে, তার ঘরেরও দরজা-বন্ধ, তবে তার ভয়ডর কমই। থাকবে কেন, কেউ এলে কৃত্য যা সে তো মহেন্দ্রকেই করতে হবে। পূরবীর ভূমিকা তো নিষ্ক্রিয় বা দর্শকের। মহেন্দ্রই তাই পূরবীকে ভালো করে দরজায় খিল এঁটে, অধিকন্তু, ছিটকিনি লাগিয়ে শুতে শিখিয়েছে। খিল শক্ত করার জন্যে মাঝখানে যে মাপসই খোঁটাটা গোঁজা হয়, মানে পূরবীর ঘরে পূরবী গোঁজে, সেও মহেন্দ্ররই সংগ্রহ। ধরা যাক, বাথরুম দিয়ে কোনো ক্রমে সে এল। নিঃশব্দে দরজাও ভাঙল। তারপর করিডোরে ঢুকে যথাক্রমে পূরবী ও মহেন্দ্রর দরজা দুটি তার পক্ষে দ্বিতীয় বাধা। এই দরজা দুটো না-ভেঙে খোলা প্রায় অসম্ভব বলা চলে। যত সন্তর্পণেই ভাঙা হোক না কেন, অন্তত সেটুকু শব্দ হবেই যাতে করে তাদের কারও না-কারও ঘুম ভাঙবেই।

    শক্ত গ্রিল দিয়ে পুরোপুরি মোড়া দক্ষিণের বারান্দায় যাবার জন্য দুটি ঘরের দরজাই অবশ্য ভেজানো থাকে। মাসে চার-পাঁচ দিন যা বাদ যায়, নইলে বারান্দার খোলা দরজা দুটো ঠিক একদিন অন্তর পেরিয়ে সপ্তাহে তিনবার পূরবী এঘরে আসেই, শাড়ি ছাড়ে ও ব্লাউজ খোলে; তারপর পেটিকোট ও ব্রেসিয়ার গায়ে মশারি ছোট্ট করে তুলে স্মার্টলি ঢুকে পড়ে। মহেন্দ্রকে ডিঙিয়ে বাঁ দিকে শোয়। ডান হাতে পাকড়ালে মহেন্দ্রর জোর বাড়ে।

    তো, সোজা বারান্দায় চলে গিয়ে চেঁচামেচি করার পথ সম্পূর্ণ মুক্ত ও বাধাহীন। একে অন্যকে চুপি চুপি ডাকো; সে জাগিয়ে তোলো অন্যকে, যার ঘুম আগে ভেঙেছে। তারপর ছুটে বারান্দায় গিয়ে দু-জনে চ্যাঁচাও। বুচুও যোগ দেবে। চেঁচালেই যে কেল্লা ফতে তা নয়, নিজের মাথা নিজেই দুদিকে নাড়িয়ে মহেন্দ্র ভাবে, আজকালকার দিনে চ্যাঁচালে আসবেটা কে? নিচের ফ্ল্যাটের ননীবাবু? ওঃ হো, তিনি তো হাওয়া। ওপরের ফ্ল্যাটের মৌলিক মশাই বা রাস্তার ওপারের বদ্যিনাথ গাঙ্গুলী সম্পর্কেও একই কথা। অর্থাৎ ছোঃ। ভুটে, নন্তু, অশোক, বাবু—পাড়ার মস্তানদের ওপরেও ভরসা কই, হয়তো তাদেরই কেউ স্বয়ং এসে পড়েছে! মহেন্দ্রর ঘরে অবশ্য যার-পর-নেই ব্যবহারযোগ্য একটি লাঠি আছে। ভারি পোক্ত আর হালকা এবং এটা দিয়ে একটা বিছে মারা কি কাক-টাক তাড়ানো সম্ভবও হয়েছে। কিন্তু মানুষ? ধরা যাক, রাতের সেই মানুষটি খুবই রোগা-পাতলা এবং হাতেও তার ছুরি-পিস্তল কিছুই নেই। কিন্তু মানুষ? মানুষকে মারবে কোথায়? ঘাড়ে, হাতে, না পায়ে? মাথায়! আ, ভাবা যায় না। মহেন্দ্র পারে না ভাবতে। মুখোমুখি সেই নিশিমানুষের সামনে উদ্যত লাঠি হাতে শতটুকরো হয়ে পড়ছে সে, মহেন্দ্র আগেভাগেই বুঝতে পারে। মানুষকে কোথায় মারতে হয় মহেন্দ্র জানে না। সে, মহেন্দ্র, এমন একজন মানুষ, যাকে আজ ৪০ বছরে কেউ একটা ঘুষি মারেনি। সেও পারে-নি মারতে। একটি মাত্রও ঘুষি না খেয়ে সে জীবনের তিন ভাগ কাটিয়ে দিল, মহেন্দ্র আয়ু ধরে রেখেছে ৬০ বছর। বাকি ২০ বছর একটি ঘুষি না মেরেই যদি কাটিয়ে দেওয়া যায়—মানে কোনো মানুষকে—তবে তাকে ‘চূড়ান্ত সফল’ বা ‘চরমতম ব্যর্থ’ একজন, যা হয় একটা কিছু বলা যাবে।

    বাকি রইল আশা। আশা শোয় করিডোর সংলগ্ন ছোট্ট ভাঁড়ার ঘরে। হাওয়ার জন্যে চাপা, দমবন্ধ ছোট্ট ঘরটার দরজা খুলেই তাকে শুতে হয়। এ-ঘর থেকে বাথরুম যাতায়াতের পথে আশাকে মহেন্দ্র কখনও চিৎ, কখনও পাশ ফিরে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে। এ বাড়িতে তেমন নিরাপত্তা নেই। বুঝে তার একটা অনির্দিষ্ট কষ্ট হয়। সে অনেকবার পূরবীকে বলেছে, ‘শুক না আশা তোমার ঘরের মেঝেয়, তুমি তো এঘরে রাত করে আসো, কতটুকু শব্দ পাবে যদি তখনও জেগেই থাকে। তাছাড়া’, মহেন্দ্র আরও বলে ‘বস্তিতে ওদের তো একটাই ঘর আর ওর বাপ-মা এখনো ইয়াং। ওর অভ্যেস আছে।’ পূরবীর এক কথা, না, ও বড়ো হয়েছে। কত বড়ো। কী-রকম বড়ো…পূরবীর সায়ার দড়ি টানতে গিয়ে, না-টেনে ক-মুহূর্ত চুপ করে না ভেবে পারে না মহেন্দ্র। কিছু ভেবে পায় না। তার মন নেই, তার হঠাৎ মনে হয়। সে দড়ি খোলে। তারপর বাস্তিল আক্রমণ করে।

    স্টোররুমে আলো জ্বালাতে গিয়ে সুইচে হাত রেখে মহেন্দ্র কতদিন চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকেছে। কখনও ও-দিকের জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছাট আসছে, কখনও মশারির ছেঁড়া-খোঁড়ার ভেতর দিয়ে আসল জ্যোৎস্না ঢুকে পড়েছে মশার সঙ্গে, গ্রীষ্ম-হাওয়ায় ফুলন্ত মশারির ভেতর আশা ঘুমে কাদা, শীতে কুঁকড়ে এতটুকু কখনও-বা। গা থেকে চাপা খসে গেছে। মহেন্দ্র কতদিন নিজে টেনে দিয়েছে ওর ছেঁড়া র‍্যাপার, ডেকে তুলেছে, ‘আশা, আশা! জানলাটা বন্ধ করে শো। এই আশা।’ ঠিক গায়ে হাত দিয়ে যে, তা না, মাথার বালিশ ধরে টানাটানি করে ঘুম ভাঙিয়েছে। ‘ও কী ভাবে শুয়ে আছিস, ধিঙ্গি মেয়ে। পাশ ফিরে শো!’ —বলেছে। সেই ছোটবেলা থেকে রয়েছে আশা, এতদিনে ঠিক কত বা কী-রকম বড়ো হয়েছে মহেন্দ্র তা জানে না। অনুমানও করতে পারে না। এ বছর পুজো থেকেই পূরবী ওকে শাড়ি, সায়া ও অন্তর্বাস পরাচ্ছে।

    যতদূর সম্ভব খোঁজ-খবর নিয়েই মহেন্দ্র এ-দিকে আসে। দক্ষিণ খোলা, গ্রিলে-মোড়া বারান্দাসহ ফ্ল্যাটটি তার খুবই পছন্দ হয়, তিন বছরের কামিনীলতা গ্রিলের ওপর তৈরি করেছে ঘন সবুজ জাফরি। বাড়িটিও ছোট্ট, একহারা, ওপরে ও নিচে একটি করে দুকামরা ফ্ল্যাট। পূব দিকে জুড়ে প্রকাণ্ড স্কুল-কম্পাউন্ড, দক্ষিণে মাঠের পরে রাস্তা, পিছনে পানায় ভরা বিল।

    ডাইনে পশ্চিম দিক থেকে পাড়ার শুরু। তারপর আধ-মাইলটাক দূরে গঙ্গা। ঠিক তিন বছর আগে, অনেক ভেবেচিন্তে, মহেন্দ্র এ-পাড়ায় উঠে আসে। সত্যি, যা চেয়েছিল, শুধু উত্তর শহরতলিতে কেন, সারা কলকাতায় এমন নিরিবিলি, শান্ত ও ভদ্রপাড়া আজ আর কটা আছে বলা শক্ত। খুব বেশি নেই।

    অফিসগুলো তো সব এক-একটা জ্যান্ত নিউজ-পেপার আজকাল। বিশেষত, তাদের রেভিনিউ-ডিপার্টমেন্টটি ‘শেষ সংস্করণ’ যেন। শহর ও শহরতলির চতুর্দিক থেকে তো বটেই, সোদপুর, ব্যারাকপুর, উলুবেড়ে, সোনারপুর মায় ক্যানিং লাইনের চম্পাহাটি থেকে পর্যন্ত তাদের অফিসের একজন বেয়ারা, দ্বারিকানাথ মণ্ডল, ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করে। সর্বত্র থেকে আবার তাদের ডিপার্টমেন্টেই জড়ো হয় যত রাজ্যের গুজব, যার মোটামুটি অংশের সমর্থনও পরদিন কাগজে মেলে।

    শুধু মহেন্দ্রদের পাড়াই এতদিন কাগজে ওঠেনি। অতি সম্প্রতি অবশ্য একটা ছোট্ট খবর তাদের পাড়া সম্পর্কে বেরিয়েছে। আর কেউ পাত্তা না দিলেও, মহেন্দ্র লক্ষ করেছে খবরটি। ভেবেছে; ভাবতে ভাবতে কিছুটা দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হয়ে পড়েছিল। দরজা-টরজা এত ভালো করে বন্ধ করে শোবার প্রয়োজন ওর আগে কখনও হয়নি। লাঠিটা যে সরে এসেছে নাগালের মধ্যে—মাথার কাছেই থাকে মহেন্দ্রর—সেও ঐ খবরটার পর থেকেই।

    মাস তিনেক আগের কথা। সেদিন শেষরাতে বান আসবার কথা ছিল। বান এসেছিল। ভোরের স্নানার্থীরা সেদিনই প্রথম সারবন্দি ও দূরবিস্তৃত খুরের ছাপ পলির ওপর দেখতে পায়। যদিও কুকুরের পদছাপ ঠিক অত গভীর হয় না এবং আকারেও বড়োসড়ো, তবু কেউ তা লক্ষ করেনি। কেবল যতীনবাবুর খটকা লেগেছিল। বাজারের ঠেলাঠেলির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শিঙমাছের ঝাপটানো থলি হাতে মহেন্দ্রকে উনিই প্রথম খবরটা দেন। সন্ধের মধ্যে আরো কিছু লোক খবরটা জেনেও ফ্যালে। খবরটি অবশ্য কাগজে বেরোবার মতন নয়, এবং বেরোয়ওনি। ‘মস্ত কাঁঠালিচাঁপার মতো মোশায় এক-একটা’ বলতে বলতে ঠিক অবিচলিত ছিল না যতীনবাবুর মুখ, আর তাঁর হাতের থলিতে জ্যান্ত শিঙ-মাছগুলোও দারুণ ছটফট করছিল, ‘গঙ্গার তীর থেকে উঠে এসে আবার গঙ্গার জল পর্যন্ত সমানে নেমে গেছে।’

    তারপর মাস না ঘুরতেই বেস্পতিবার সারারাত বৃষ্টি। বাজারের পিছনে হরিনারায়ণ ব্যানার্জি লেনের মুখেই দুধের বুথ, এ অঞ্চলের মধ্যে এক পশলা বৃষ্টি হলেই ওখানটা নাব্য হয়ে ওঠে। অন্তত ছেলেপিলেরা কাগজের নৌকো ছাড়েই। ভোরে, হাঁটুজলে ঠিক দুধের বুথের সামনে, নৌকোর বদলে সেদিনই প্রথম, একটি শব উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। শবটি যে পাড়ার হাবা পাগলির তা কেউ পুলিশ আসার আগে কল্পনাও করেনি। কুণ্ডুদের রকে ঋতু-রক্তে ভিজে শাড়ি পড়ে কতদিন তাকে হেসে খুন হতে দেখা গেছে। অর্ধ-নগ্ন ও ভিজে ঐ নারী-শরীর কুণ্ডুদের উঁচু রকে কতদিন শুয়ে। দারোগা মন্তব্য করেন, পাড়ার কোনো একটি ষাঁড়েরই এই কীর্তি। বস্তুত, হাবা পাগলির সারা গায়ে গর্ত, ফোলা কালসিটে ও রক্ত। গর্তগুলো প্রায় চার-পাঁচ ইঞ্চি গভীর। কারোনার বলেন, তীক্ষ্ণমুখ শাবল দিয়েই ঐ সব গহ্বর তৈরি। অথচ, অপরপক্ষে, পাড়ার যে তিনটি ষাঁড়কে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের মধ্যে ভোলা ও ধরমবীরের শিঙ-ভাঙা এবং অপরটি নেহাতই বাচ্ছা। এখনো নামকরণই হয়নি।

    যদিও ঐ কারণেই, ইদানীংকালের মধ্যে সেই প্রথম, তাদের পাড়ার নাম খবরের কাগজে ওঠে। কিন্তু খবরটাতে আজকালকার তুলনায় তেমন বৈশিষ্ট্য ছিল না বোধহয়, অন্তত সেদিন অফিসে কেউ এনিয়ে কোনো কথা বলেনি।

    অন্যান্য দিনের মতো সেদিনও সকলেই লাইন দিয়ে দুধ নেয়। মহেন্দ্ররা সরকারি দুধ নেয় না। নইলে আর সকলের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা প্রায় আধ-ঘণ্টাটাক ধরে, তাকেও শবটি দেখতে হত। এরপর অবশ্য মাস-খানেকের মধ্যে কিছুই ঘটেনি। ব্যাপারটার ঐখানেই ইতি হল বলে মনে হয়।

    মাত্র গতমাসের গোড়াতেই বলতে গেলে নতুন বিপদের প্রথম সংকেত দেখা দেয়। পরপর তিনটি ঘটনা ঘটে, যায় মধ্যে দ্বিতীয়টি গুজব বলে প্রমাণিতও হয় : বেশি রাতে রমানাথবাবুর দশ বছরের মেয়ে মনুর ঘুম ভেঙে যায়। একটু বড়ো হবার পর থেকে এ-রকম রাতে ঘুম ভাঙলে সে আজকাল মাঝে-মাঝেই মাকে বিছানায় পেত না। বাথরুম থেকে ফিরে এসে, সে তাই ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন ভোরেও রমাদার স্ত্রীর খোঁজ নেই! রমানাথবাবুর এক বেকার ভাগ্নে লিলুয়ায় থাকত। সেটা অবশ্য, ওঁর ভাগ্নের সঙ্গে স্ত্রীর গৃহত্যাগের ঘটনা বলে দিন-কয়েকের মধ্যেই প্রমাণিত হয়। কিন্তু প্রথম ঘটনাটি?

    জেলে-পাড়ার রানির-মা তার সদ্যবিধবা যুবতী মেয়েকে বুকে আঁকড়ে শেষরাতে ঘরের চাল আঁচড়ানো ও খোঁড়ার শব্দ ঠিকই শুনেছিল, পরদিন সকালে তার চাক্ষুষ প্রমাণও পাওয়া যায়। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে। বস্তুত, আগস্ট মাসের এই ঘটনাটি দিয়েই নতুন বিপদের অববাহিকা সূচিত হয় বলা চলে। এ-পাড়ার বিপদ যে অতি-অজ্ঞাত ও যার-পর-নেই অশ্রুতপূর্ব দিক থেকে ঘনিয়ে আসছে, তার কোনো সূত্র এর আগে গোয়েন্দা লাগিয়েও পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ নারীকেন্দ্রিকতার দিক থেকে। বলা বাহুল্য, এ-খবরটি আদৌ কাগজে বেরোয়নি।

    তবু সেপ্টেম্বর মাসের এই তৃতীয় ঘটনাটির আগে কেউ পাড়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে, এমনটা শোনা যায়নি : ঘুমন্ত মায়ের পাশ থেকে উঠোন পেরিয়ে মাঝরাতে রানি গিয়েছিল বাথরুমে। খুব ভোরে মা তার খোঁজ শুরু করে। শোনা গেল, গঙ্গার ধারে নদীঘাটের চাতালে রানির বিবস্ত্র দেহ চিৎ হয়ে পড়ে আছে। আজ তার একমাত্র অটুট স্তন দেখে অবশেষে বোঝা যায়, বিধবা মেয়েটি কতখানি যুবতী ছিল। অপর স্তনটি? নেই! নিতম্বের অংশ নেই। সারা শরীর অ-মানবিক বলশালী কেউ যেন উন্মত্ত গুঁড়িয়েছে। বিশেষত মুখ একেবারে বিধ্বস্ত। চাতাল সংলগ্ন ভাঙা পাঁচিলটাও নাড়া খেয়েছে বেশ, যার ফলে পাঁচিলের মস্ত ফাটল থেকে বেরনো কচি শিউলি গাছটি রক্তাক্ত শরীরের ওপর সব ফুল ঝরিয়ে সকালেই একদম ন্যাড়া। গঙ্গা থেকে উঠে আসা চতুষ্পদ খুরের দাগের সঙ্গে হত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণও সেই প্রথম পাওয়া গেল। রক্তে ভেজা চাতাল থেকে নেমে খুরের দাগ সিঁড়ি ভেঙে পলিমাটির ওপর দিয়ে নদীতীর পর্যন্ত হেঁটে গেছে। গিয়ে মিলিয়ে গেছে। সেই সারবন্দি রক্ত-চাঁপাগুলোর একটিতে মাত্র একবার নাক রেখেই পুলিশের কুকুর মুখ তুলে ঘাতক ও নিহতের উদ্দেশ্যে একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ক্রোধ ও বিলাপ জানায়। তারপর দৌড়ে নদীতীর পর্যন্ত গিয়ে, বারবার জলে নেমে ও লাফিয়ে তীরে উঠে বিরাট সোরগোল শুরু করে। উঁচু তীরে কয়েক শ’ লোক দাঁড়িয়ে।

    এবারে ঘটনাটি বিস্তৃত বিবরণ (অধিকপক্ষে ১০ লাইন) প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্রে ছাপা হয় এবং তারপরেই ক্রমে পাড়া ভাঙতে থাকে। মহেন্দ্রদের ফ্ল্যাটের নিচে একতলায় থাকতেন ননীবাবুরা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে সপরিবারে ওঁর স্ত্রী চলে গেলেন দুর্গাপুর। ননীবাবু সাহসী লোক। থেকে যাচ্ছেন বলে মনে হল। তারপর সেই যে একদিন সকালে বেরলেন, তারপর আর কোনো খবর নেই। দুর্গাপুর থেকে দুবার ভাড়া মানি অর্ডার করেছেন। খুব ফাঁকার ওপর একহারা ছোট্ট বাড়িতে মহেন্দ্ররা এভাবে থেকে গেল।

    দুমাস চুপচাপ। তারপর একদিন সে এল।

    সেটা ছিল ছুটির দিন, তখন সবে সন্ধে হয়েছে। চালতাবাগানে পূরবীর দিদির বাড়িতে দুপুরের খাওয়ার নিমন্ত্রণ ছিল, সেখানে থেকে উঠতে বিকেল হয়ে গেল। বুচু মাসির কাছেই থেকে গেল।

    বাড়ি থেকে আধ-মাইলটাক দূরে বি.টি রোড দিয়ে ‘এল’ বাসগুলো যায়। মহেন্দ্র সেখানে নেমে বাকি পথটুকু একটা সিগারেট ধরিয়ে আনমনে হেঁটে আসছিল। ভালো লাগছিল হেমন্তের বিকেলবেলায় হাঁটতে।

    একটু এগিয়েই তার প্রথম খটকা লাগে। কিছু লোক কেমন যেন দলবদ্ধভাবে পিছন দিকে চাইতে চাইতে তার পাশে দিয়ে, উল্টোদিকে, বি.টি রোডের দিকে হেঁটে চলে গেল। হাঁটছিল তারা ঠিকই, তবু কী অস্বাভাবিক তাদের হাঁটা! আসলে, সেই হাঁটায় ছিল ঊর্ধ্বশ্বাস ছোটার দ্রুততা।

    মহেন্দ্র তার সন্দেহের সত্যতা মিনিট খানেকের মধ্যেই বুঝতে পারল। হঠাৎ, দু-পাশে দোকানগুলোর শাটার হুড়হুড় করে নেমে পড়তে লাগল। তাদের পাড়ার দিকে থেকে অমনিভাবে, ছোটার-চেয়ে-দ্রুত, হেঁটে আসছে দলবদ্ধভাবে মানুষ, সঙ্গে নারী ও শিশুও হাঁটছে। হঠাৎ রাস্তার আলো গেল নিবে এবং সেই সঙ্গে ‘হা-আ’ করে দূরে-কাছে মাত্র একবার উঠল বা পড়ল মানুষের সমবেত আর্তস্বর, তারপরই সব স্তব্ধ। এখন শুধু অগণন মনুষ্যমূর্তি আসছে, দলে দলে মানুষ, তারা এখন অন্ধকার রাস্তা দিয়ে দৌড়ে আসছে। নির্জনতর তীরে, বাড়ি রেখে, মহেন্দ্র একবার রাত্রে পুরীর সমুদ্রে নেমে পড়েছিল। আকাশে চাঁদ ছিল, আর ফসফরাসে ভরা উজ্জ্বল ফেনাসহ এগিয়ে আসছিল ঢেউ-এর পর ঢেউ— ঢেউ-সংঘর্ষের অব্যর্থ মুহূর্তে হঠাৎ লাফিয়ে কাত হয়ে গিয়ে, মহেন্দ্র সে-রাতের সেই প্রচণ্ড ঢেউ-এর পর ঢেউ-এর মোকাবিলা করেছিল। আজও অমনই একের পর একদল করে মানুষ ছুটে আসছে আর মহেন্দ্র লাফিয়ে উঠে কাত হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যাতে করে ধাক্কা কম লাগে। এভাবে ঢেউ কেটে মহেন্দ্র বাড়ির দিকে এগোবার চেষ্টা করে। যত চেষ্টা করে, ততই পিছিয়ে পড়তে থাকে। একসময় দেখা যায়, মহেন্দ্রও ঢেউ-এর সঙ্গে ছুটে চলেছে বাড়ি থেকে ক্রমাগত দূরে।

    শেষ পর্যন্ত এটুকু রাস্তা পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছতে তার দেরি হয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক লাগে। মহেন্দ্রর বাড়ির ঠিক আগে ফায়ারিং স্কোয়াডের পাঁচিলের মতো লম্বা একটানা দেওয়াল— সেটা পেরোলেই তাদের দোতলা। অন্যান্য দিনের মতো পাঁচিল পেরিয়েই মহেন্দ্র মুখ তোলে ও আজ আলো জ্বলছে না দেখে একটা ছোট নিঃশ্বাস ফ্যালে। তারপর পশ্চিমে গঙ্গার দিকে তাকায়। দূরে একটা বাঁক। বাঁকের পরেই নদী। রাস্তা কী বিলকুল ফাঁকা! একটা কুকুর তো দূরের কথা, দেখে মনে হয় এই রাস্তায় এখন কীটপতঙ্গও নেই। সমস্ত বাড়ি অন্ধকার ও স্তব্ধ। শুধু হঠাৎ-ওঠা জোরালো হাওয়ায় একটা শালপাতার ঠোঙা গঙ্গার দিকে হু-হু উড়ে যাচ্ছে। ঐ বাদামি ঠোঙার সঙ্গে মহেন্দ্রর মধ্যে থেকে মহেন্দ্রর এক খণ্ডও উড়ে যাচ্ছে গঙ্গারই দিকে, মহেন্দ্র টের পায়। বাড়ি থেকে মাত্র বিশ গজ দূরে দাঁড়িয়ে, পূরবী নয়, বুচুও নয়, হঠাৎ আশার কথা ভেবে মহেন্দ্র আমর্ম কামনায় কেঁপে ওঠে। রহমানদা একদিন খুব মাতাল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে তাদের বাড়িতে রাতের আশ্রয় নেয়। পূরবী শোবার ঘর থেকে বেরোয়নি। আশাই সেদিন খেতে-টেতে দেয়। এক সময় মহেন্দ্র দ্যাখে, রহমানদার চোখ দুটো দুখণ্ড সাদা পাথর হয়ে গেছে। মণিহারা চোখে রহমানদা আশাকে দেখছে। আশাও অনড়। এই মেয়েটাকে তুমি নার্স করো মহেন্দ্র—একটা লাভ-এ্যাফেয়ার তৈরি করো এর সঙ্গে—তার বেশি-কিছু এখন নয়। দুচার বছর পরে এ তোমাকে তা দেবে যা তুমি মেয়েদের মধ্যে এতকাল খুঁজে বেড়িয়েছ।’ মহেন্দ্র তখন হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলে। আশার জন্য কামনায় সে আজ থরথর করে কাঁপছে, সে দেখে।

    আশা? দৌড়ে বাড়ির দরজায় এসে সে দ্যাখে, দরজা ভেঙে পড়ে আছে। আশা আছে তো? মহেন্দ্র আবার আমূল কেঁপে ওঠে। সে বেল টেপে।

    ‘আশা!’

    শব্দ নেই। ‘আশা!’ সিঁড়ির নিচে থেকে মহেন্দ্র ডাকে। সাড়া নেই।

    ‘আশা!’ মহেন্দ্র আবার ডাকে। শব্দ নয়, এবার তার গলা দিয়ে অস্ফুট ভয়ার্ত স্বর বের হয়।

    সিঁড়ির মুখে আশা এসে দাঁড়ায়।

    তার হাতে মোমবাতি। সে একটি লাল-পাড় শাদা শাড়ি পরে আছে।

    কাঁধ থেকে আঁচল খসে গেছে।

    মাত্র এক বছরও হয়নি শাড়ি পরছে—এরই মধ্যে স্বাস্থ্যে ফেটে পড়ছে তার ব্লাউজ। মহেন্দ্র আশার মুখের দিকে তাকায়। আশা তাকে ডাকে। ডেকে ছাদে নিয়ে যায়।

    ছাদ থেকে পূর্ণিমার গঙ্গা পর্যন্ত দেখা যায়।

    আশা শুরু করে :

    তখনও সন্ধে হয়নি। চাঁদ উঠছিল। প্রথমে, ছাদে দাঁড়িয়ে, পূবরী ও আশা গঙ্গার জল থেকে এক খণ্ড মেঘ ভেসে উঠতে দ্যাখে। তারপরই শুরু হয় সেই শব্দহীন চিত্রার্পিত ঢেউ-এর পর ঢেউ, যার ধাক্কা কাটিয়ে মহেন্দ্র এদিকে আসার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পারেনি।

    ফাঁকা রাস্তা দিয়ে সে হেঁটে আসে। তার ভারি খুরের শব্দ শোনা যায়। সে যখন তাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়, ওরা তখনো ছাদে। সে কি ওদের দেখতে পেয়েই বাড়িটি নির্বাচন করেছিল, নাকি, এ-রকমই ছিল পূর্ব-নির্দিষ্ট, যা সে আগেই জানত? ধীর ও নিশ্চিত পদক্ষেপে, যেন গুনতে জানে, পদক্ষেপ গুনে সে বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় ও ঘাড় থেকে মুণ্ডু তুলে ও চারদিকে ঘুরিয়ে মুখ ব্যাদান করে সে দুবার গর্জন করে। যেন সে প্রতিবেশী সমাজকে দ্বন্দ্বে আহ্বান করছে, যদি কেউ থাকে। কে আসবে? তেমন কেউ নেই বুঝে আরও নিশ্চিতভাবে সে এক পা তুলে দরজায় আঘাত করে। মাত্র একটি আঘাতেই হুমড়ি খেয়ে দরজা ভেঙে পড়ে।

    ওপরের দরজার ছিটকিনি খুলে পূরবী বেরোয়। তার পরনে ছিল মুর্শিদাবাদ সিল্কের লাল-পাড় শাড়ি। একটু আগেই গা ধুয়ে বৈকালী প্রসাধন সেরেছে, চুল আশা বেঁধে দিয়েছিল। পাড়া জুড়ে লোডশেডিং। পূরবীর হাতের মোমবাতির আলো সিঁড়ি ভেঙে পিছনে তার গায়ে গিয়ে পড়ে। অবর্ণনীয় দৃশ্য। বলার মতো ভাষা কই, যে আশা বলবে! কালো শাটিনের মত তার চামড়া, তরুণ ও নমনীয় তার পেশি, তার চোখ পূরবীকে দেখে নরম ও ছলছলে হয়ে আসে। সে গা থেকে জল ঝাড়া দেয়।

    তারপর উঠে আসে।

    চারটি সিঁড়ির ব্যবধান রেখে সে ঐখানে নতজানু বসে পড়ে। আশার হাতে মোমবাতি ধরিয়ে দিয়ে পূরবী দুটি সিঁড়ি নেমে যায়। আশা সেই থেকে মোম ধরে আছে। আঙুলের ডগা দিয়ে পূরবী তার পুরু ঠোঁট ছোঁয়। নাকের পাটা কাঁপিয়ে সে ফোঁস করে একটি নিঃশ্বাস ফ্যালে। তার নিঃশ্বাস থেকে নেবুফুল ও মধু মেশানো এক তীব্র কামনাময় সুগন্ধ ভেসে আসে। আশার মনে হয়, সে তার দিদিমণির হাত চুমায় চুমায় ভরিয়ে দিচ্ছে। প্রতিদানে পূরবী তার ককুদে হাত বুলিয়ে দেয়। তার গলা দিয়ে তৃপ্ত, সুখী, মৃদু ঘড়ঘড় শব্দ বেরুতে থাকে।

    ঈদের দুটি চাঁদের মতো রূপালি, বাঁকানো শিংদুটি বাঁকিয়ে সে পূরবীর উদ্দেশ্যে তার পিঠের দিকে ইঙ্গিত করে। তারপর তার প্রশ্নময় ছলোছলো চোখদুটি তুলে পূরবীর দিকে তাকায়। মোমের আলোয় দুই চাঁদের মাঝখানে একটি রূপালি তারা চিকচিক করতে থাকে।

    পূরবী একবার আশাকে ঘাড় ফিরিয়ে দ্যাখে। সেই শেষবার। আশার মাধ্যমে সে বিদায় নেয় তার ৩০ বছরের অবুঝ, তৃপ্তিহীন জীবন থেকে। তারপর ওর চওড়া পিঠে উঠে বসে। শায়ার লেসে ধুলো লাগতে পারে ভেবে ওঠার আগে সে শাড়ি ও শায়া একটু তুলেও নেয়। ওঠার সময় দিদিমণিকে লাগে একটি হালকা পালকের মতো।

    ট্রফি হাতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ীর মতো ষাঁড়টি এবার উঠে দাঁড়ায়। তারপর সাবধানে সিঁড়ি ভেঙে নামে। তারপর রাস্তায় নেমে প্রতিবেশী সমাজের উদ্দেশে আহ্বানে ভরা তৃতীয় হুঙ্কার ছাড়ে। যে, কোঈ হ্যায়? কেউ আসে না। তারপর ভালো করে কিছু বোঝার আগেই সামনে খুর গেঁথে, আঁচড়ে, কিছু ধুলো উড়িয়ে, অশ্বের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত গতিতে গঙ্গার দিকে দৌড়ে যায়। তার ককুদ আঁকড়ে ধরে, তার পর মাথা পেতে, পূরবীকে শুয়ে থাকতে দেখা যায় সেই শেষবার। আশা ছাদ থেকে দ্যাখে।

    সেই থেকে সে ছাদে দাঁড়িয়ে। একা।

    এখন, ঐ দেখা যাচ্ছে জলের ওপর ধোঁয়া। হাতের তালুর মতো এক টুকরো মেঘ এখনও দেখা যাচ্ছে। ঐখানে।

    মহেন্দ্র ডাকল, ‘আশা!’ চল, আমরা পূরবীকে খুঁজতে যাই।’

    আশা ও মহেন্দ্র পথে বেরুল। আশা হাত ধরল, মহেন্দ্র এগিয়ে চলল গঙ্গার দিকে। সে নিরস্ত্র, তার হাতে তাদের বাড়ির সেই একমাত্র হালকা ও পোক্ত লাঠিটাও নেই। সে কেবল আশার হাত ধরে এগিয়ে চলেছে নদীর দিকে। আশার অপরহাতে মোমবাতি। রাস্তা কীটপতঙ্গহীন। শালপাতার ঠোঙাটাও এখন নেই।

    এখন হাওয়া নেই।

    ১৯৭২

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম
    Next Article সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }