Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প224 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কালিম্পঙের স্মৃতি – সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

    কালিম্পঙের স্মৃতি

    কালিম্পঙের কথা এত শুনেছি, কিন্তু কেউ আমাকে কখনো কেন বলেনি যে এই একটা, একমাত্র শহর যেখানে যেতে গেলে ডান দিকে, শিলিগুড়ি থেকে ৩৫ মাইল জুড়ে, এবং ২০০, ৫০০ কখনও দুই কি চার হাজার ফিট নিচে, যখন যা, সারাটা পথ জুড়ে একটা গর্জনকারী নদী আমাদের বিপরীত দিকে একরোখা বয়ে যাবে, যার নাম তিস্তা? এবার ট্যুরিস্ট অফিস থেকে যে সব চটি বইপত্র বাবা এনেছিলেন, তাতে দূরবীন পাহাড়, অর্কিড হাউস, লাভা, লোলেগাঁও, বৌদ্ধ গুম্ভা—সবই ছিল, শুধু এই নদীটির কথা ছিল না।

    মা বেঁচে থাকতে আমরা তিনজনে যথেষ্ট ঘুরেছি। সত্যি কথা বলতে কি, আমি যখন মার পেটে, মাত্র মাস তিনেকের, সবে প্লাসেন্টা ফর্ম করেছে আর কি, ঘোরাঘুরির তখন থেকেই শুরু। তখনই আমরা নাকি তাকদায়। তাকদা? কেউ কেউ বলতে পারেন, তাকদায় কেন, দার্জিলিং ত কাছেই। কেন দার্জিলিং নয়? যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন। আসলে, ট্যুরিস্ট ব্যুরোর কাগুজে বিজ্ঞাপনে থাকে এমন জায়গায়, যেমন পুরীটুরি, বাবা আমাদের কখনও নিয়ে যাননি। বাবা ছোট ছোট কাগজের ওপর সাইক্লো-করা যত রাজ্যের ম্যাপট্যাপ জোগাড় করে আনতেন, অধিকাংশই ছেঁড়াফোঁড়া। রানিক্ষেতে না থেকে আমরা তাই থেকেছি ৩০-৫০ মাইল দূরে জনহীন বিনসরে, দেরাদুন থেকে যাবার কথা ছিল মুসৌরী, গেলাম চাকরাতায়। তখন সন্ধেবেলা। কেউ কোতথাও নেই। ভাগ্যিস স্টেশন মাস্টার ছিলেন বাঙালি, উমেশবাবু, কী দুর্দশাই হত তা না হলে!

    রানিক্ষেতে গিয়ে কচুপোড়া হোগা কেয়া? ফুটপাতে কেনা বই-এর ধুলো ঝেড়ে, হিন্দি ছেড়ে বীরভূমী ডায়ালেকট নকল করার চেষ্টা করে বাবা দেখাতেন, ‘দ্যাখো ক্যানে,’ এই শাহবটো কী বলছে। শাহেবটো বলছো কি, ‘বিনসর ইজ দ্য কোয়ায়েটেস্ট প্লেস ইন দা ওয়ার্ল্ড—আই হ্যাভ সিন।’

    ‘থাকব কোথায়?’ মা জানতে চাইছেন প্রশ্রয়ের হাসি হেসে।

    ‘থাক্যি ত ইখানে। থাইকব না বুলেই ত হুইখানডায় যাচ্ছি গ।’

    তাই পুরী নয়, আমরা থেকেছি কাঁকিনাড়া থেকে অদূরে, গোদাবরি মোহনায়, কুমারী সমুদ্রবীচে। নাম নরসিংপুরম।

    ডাক্তার হয়েও বাবা যে বারবার হুড-খোলা পুরু সোলের চপ্পল পরেন এর মধ্যেও তাঁর একটি চরিত্র-সূত্র পাওয়া যাবে। চেয়ারে বসে কোমর ভেঙে ওই সব ফিতে-টিতে বাঁধার মধ্যে আমার বাপি কোনোদিন নেই। বাবা বলতেন, ‘আধা মাঘে, কম্বল কাঁধে।’ বেড়াবার জন্যে ওঁর ফেভারিট ঋতু ছিল বসন্ত। চপ্পল গলাও আর বেরিয়ে পড়ো। তা সে ‘কল’-এই হোক বা ট্রেন ধরার জন্যেই হোক।

    ‘যখন কলেজে ঢুকি তখন ত চপ্পলও ছিল না রে। পায়ের চেটোয় পুরু করে লাগোনো থাকত সর্ষে, এই এমনি করে বেরিয়ে পড়তুম।’ বলে বাবা যখন মেঝেয় দুবার পা ঘষে দেখাতেন, তখন মনে হত ঢালু বরফ-উপত্যকার মাথায় বুঝি দাঁড়িয়ে একজন একা মানুষ, যার পায়ে স্কী। চুলে বরফ।

    স্কুলে আমি কখনও ভাল রেজাল্ট করতে পারিনি, সে ওই বাপির জন্যে। বাঁ হাতে আমাকে, আর ডান হাতে মাকে ঝুলিয়ে ওই ‘অমনি’ করে বারবার বেরিয়ে পড়ার জন্যে। মাত্র সপ্তাহখানেকও বাকি নেই এমন অসময়ে, বেড়িয়ে ফিরে, কতবারপরীক্ষার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে আমাকে বলেছেন—’যাঃ!’

    এদিক থেকে কালিম্পঙের মতো খোদ ট্যুরিস্ট শহরে বাবার সঙ্গে এই প্রথম। এই প্রথম মা সঙ্গে নেই। মা মারা যাবার পর একটানা আট বছর চুপচাপ। তারপর এই প্রথম এ রকম।

    গত আট বছরে অবশ্য বাবা অনেক পালটে গেছেন। আমার সেই বাপি আর নেই যাকে ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় বাথরুম থেকে ছুটে বেরিয়ে এসে হাসতে হাসতে আমি নাকি বলেছিলাম, ‘বাপ্পি, আমার হিসির সঙ্গে রক্ত বেরুচ্ছে’ অত তাড়াতাড়ি হবে মা হয়ত ভাবতেও পারেননি, তাই তখনও ও বিষয়ে কিছু বলেননি। আর আমি যে কিছুই জানতাম না, সে ত বোঝাই যাচ্ছে, ‘নিজের’ লিখে খুব ভাল লাগল। জীবনে ওই একটি জিনিস, যা ছিল আমার নিজের। আমার বাবা। বাপ্পি!

    শুনে বাবা নাকি হো হো করে হেসে উঠেছিলেন। আমার বয়কাট চুল একটু নাড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘ও কিছু না, যাও গিয়ে মাকে বলো।’

    মা নয়, মাসি নয়, এ সবই আমার বাবার কাছে শোনা। আমি পরে ভেবেছি, কিছুই যদি জানতাম না, তবে হাসতে হাসতে ও কথা বাবাকেই বলেছিলাম কেন। কত প্রিকসাস চাইল্ড ছিলাম, অত ছোটবেলাতেই, আজ বুঝতে পারি।

    মা মারা যাবার পর, পীরিয়ডের গড়িমসির ব্যাপারে যদিও বাবার সঙ্গে এখনো ডিসকাস করতে হয়নি, তবে ওই সময় অ্যানাসিন না থাকলে বাবার কাছেই আজও চেয়ে নিয়ে থাকি, বা চাইতে লজ্জা হয় না। ‘আজ পায়খানা কেমন হয়েছে’—এর উত্তর এই ধেড়ে বয়সেও বাবাকে দিতে হয়।

    এখানে ‘পায়খানা’ শব্দটি ব্যবহার করতে একটু লজ্জাই হল আমার। যদিও আমার বাবামায়ের প্রণয়পর্বের সূচনায় এই শব্দটির ছিল অত্যন্ত প্রধান ভূমিকা, প্রায় ম্যাচমেকার-এর। হয়েছিল কি, এম-ডি হয়ে বেরুবার পরে-পরেই, একদিন আউট-ডোরে বাবা মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। স্ট্রোকই, কিন্তু মাথায় আর অত অল্প বয়সে। জ্ঞান হল নিজেরই হাসপাতালে, লিউকিস ওয়ার্ডের কেবিনে। বাঁ হাত আর বাঁ পায়ে পার্শিয়াল প্যারালিসিস। একজন ট্রেনি নার্স গায়ত্রী চক্রবর্তী প্রথম দিন সকালে বাবার বেডের সামনে এসে দাঁড়ায় আর বেড থেকে টিকিটটা খুলে কলম হাতে রুটিন মাফিক জানতে চায়, ‘ডাঃ সোম, রাতে ঘুম হয়েছিল?’

    বাবা (মুখে থার্মোমিটার)—’আঁ।’

    তারপর অনেকগুলো রুটিন প্রশ্ন। এবং সবশেষে…

    ‘ডাঃ সোম?’

    ‘আঁ।’

    ‘পায়খানা হয়েছিল?’

    উত্তর নেই।

    ‘ডাঃ! সোম?’

    ‘আঁ।’

    ‘পায়খানা হয়েছিল?’

    তিন-তিনবার আমার বাবা এই প্রশ্নের উত্তর দেননি। তিনদিন দেননি। তারপর আর মা কোনোদিন ওই প্রশ্ন করেননি। বাবার মতে কোনো সুন্দরী যুবতীর মুখে এই প্রশ্ন মানায় না। কোনো নারীকে ও রকম প্রশ্নের উত্তর জানানো পুরুষোচিত নয়।

    বাবা-মায়ের বিয়ের গল্পটাও এখানেই বলে নিই। আমার বাবা-মার আসল বিয়ে হয়েছিল লিউকিস ওয়ার্ডে ওই ২১৬ নম্বর কেবিনে। হয়েছিল কী, সন্ধেবেলা মা আর একদিন এসেছেন বাবাকে ইনজেকশন দিতে, তখন মায়ের ট্রেনিং পিরিয়ড চলছে আগেই বলেছি, বয়স ২০, আর বাবার কতই বা ৩০-৩১ হবে। দু’জনেরই কম বয়স হলেও অবশ্য ব্যবধান অনেকটাই।

    ইন্ট্রাভেনাস ইনজেকশন, কিন্তু কী কাণ্ড! মা ঢুকিয়ে দিয়েছেন সিধে বাবার মাসল-এ। হেন অবিমৃশ্যকারিতা একজন এম-ডি’র পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হয়নি। নিডল-এ রক্ত দেখে মা তাড়াতাড়ি ‘ওমমা’ বলে সিরিঞ্জ তুলে নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে ‘ইউ বীচ, ইউ ডু নট নো হাউ টু পুশ এ নিডল ইনটু দা ভেইন?’ এই বলে বাবা নার্স গায়ত্রী চক্রবর্তীর গালে সপাটে একটি থাপ্পড় মারেন।

    এই গল্পটা কিন্তু মা-ই আমাকে বলেছিলেন। অত স্বামী-গরবিনী তাঁকে আর কখনও দেখিনি যখন মুসৌরির পথে, ট্রেনে, মা তাঁর এই ‘আসল’ বিয়ের গল্পটি আমাকে বলেন। না না, মুসৌরি ত নয়, চাকরাতা। মুসৌরি আমরা কখনও যাইনি।

    বেডের পাশে দাঁড়িয়ে মা কাঁপছেন থরথর করে, থাপ্পড়ে লাল গাল বেয়ে গড়িয়ে আসছে অশ্রু, কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে মুখময় ফুটে রয়েছে একরাশ বিস্ময়—এই দৃশ্য কল্পনা করতে আমার কখনও অসুবিধা হয় না। অবিশ্বাস্যকে স্বচক্ষে দেখে বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়ে ঠিক যেমনটা হবার কথা আর কি।

    অবাক কেন, হতবুদ্ধিকর ব্যাপারই ত। আসলে বাবা চড় মেরেছেন বাঁ হাত দিয়ে আর বাঁ-দিকটাতেই ত হয়েছিল প্যারালিসিস। বিজ্ঞানে যার ব্যাখ্যা নেই, সেই অবিশ্বাস্যকে চোখের সামনে ঘটতে দেখে মানুষ অবাক হবে না? তাই কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘ডাঃ সোম, এবার আপনি বাঁ পা তুলে আমাকে একটা লাথি মারুন।’

    বলা বাহুল্য, লাথি আর মারতে হয়নি। সাতদিন ধরে ওষুধ ইনজেকশনের গুণেই হোক বা মার ওপর ওই ফেটে-পড়া রাগের চোটেই হোক, বাবার বা পা-টিও তখন রোগমুক্ত।

    ২ মার্চে ১৯৬২। ১৮ ফাল্গুন। তখন সন্ধেবেলা। মাসল থেকে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে আসা বাবার রক্তে মা-র অ্যাপ্রন বেশ খানিকটা ভিজে গেছে। মেডিকেল কলেজের লিউকিস ওয়ার্ডের ২১৬নং কেবিনে সেদিন গোধূলি লগ্নে বাবার নগ্ন হাতে মায়ের নগ্ন হাত। যেন একটা নগ্ন হাতের ওপর আর একট নগ্ন হাত—তাই না? আর…সত্যিই যেন রবি ঠাকুরের পদ্যের সেই ‘রক্তসূত্রগাছি দিয়ে বাঁধা’ তাই না? একে বিয়ে বলব না ত কাকে বলব। অবশ্য পরে রেজিস্ট্রি হয়। নইলে আর আমি বৈধ হলাম কী করে।

    বাবার হেলথ ডিপার্টমেন্টের সূত্রে কালিম্পঙের বাংলোটি পাওয়া গেছে। রিংপিংটন রোড ধরে শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে আর উঁচুতে ছোট্ট বাংলোটি, দূরবীনদারা হিলের একাংশ। বাংলো না বলে রেস্ট শেড বলাই উচিত।

    ওপর দুটো এক-কামরা সুইট, নিচে ডিপার্টমেন্টের শাখা অফিস, সুইটে ড্রেসিং টেবিল, ওয়ার্ডরোব, বাথরুমে গীজার, দেওয়াল জোড়া কাচের জানলা, পেলমেটে ভারি পরদা। পরদা সরাতেই অনেকটা নিচে রেলি নদী। জুন মাসের প্রথম। সবে বৃষ্টি নেমেছে। দূরে কোথাও। দুধ সাদা জলে রেলি ভরে উঠছে। ২-১ দিনের মধ্যেই বর্ষা নেমে যেতে পারে। যদি যায়, কুক নরবাহাদুর ছেত্রী আমাকে বলল, নদীর আওয়াজে সারা কালিম্পঙে শুধু এই ছোট্ট উপত্যকাটুকু নাকি সারারাত গমগম করবে। এই বাংলোটা নাকি থরথর করে কাঁপবে। আর জানলা দরজার সব কাচ বাজবে ঝনঝন ঝনাৎ করে।

    ঘর জোড়া ডাবল বেড। খাটে ডানলোপিলো। ওয়ার্ডরোব থেকে বের করে বেড কভার পাততে পাততে হঠাৎ আবার আমি শুনতে পাই। নিচে কেয়ারটেকারের সঙ্গে ঝগড়ার সুরে বাবা কথা বলছেন। আজকাল এত সহজে বাবার ধৈর্যচ্যূতি হয়! কেন যে মা নেই? তা আমি কি মরে গেছি! ২৬ পেরিয়ে ২৭, এখনও কি তুমি ছাড়া আমি আর কারও দিকে তাকিয়েছি। কেউ কখনও আমাকে দেখেছে কারও সঙ্গে মেলামেশা করতে? সিনেমায় যেতে? রেস্তোরাঁ থেকে বেরুতে? মার কাছে যা পেতে, স-ব, সব কি তুমি আমার কাছে পাও না বাবা? পিলো কাভার পরাতে গিয়ে, না পরিয়ে, আমি বাবার তিক্ত, রূঢ়, বীতশ্রদ্ধ কণ্ঠস্বর শুনতে থাকি।

    কী? না, গীজারের পানি কিঁউ ঠাণ্ডি হ্যায়। আরে বাবা লোডশেডিং ত এখানেও হয়। হয়েছে। কেয়ারটেকার করবেটা কী।

    ধূসর পাপড়ি-ছড়ানো শার্টিনের শাদা চাদরে একটা ভাঁজ। আঙুল দিয়ে ঘষে সেটা মিলিয়ে দিতে গিয়ে অকারণে আমার চোখে জল এসে যায়। ওগো আমার নিজের বাবা, মা-র কাছে কী তুমি পেতে, যা আমার কাছে পাও না?

    দুপুরে টানা ঘুম। দরজা খোলাই ছিল, কিন্তু বাবা ঘরে নেই। টানা বারান্দা দিয়ে হেঁটে গিয়ে দেখি, অনেক নিচে নদীর ওপর কাচে-মোড়া ‘রেলি ভিউ রুমে’ বাবা একটা সোফায় তখনো ঘুমিয়ে। মুখের ওপর খবরের কাগজ। এত দূর থেকে স্কুল-পালানো ছেলের মতো দেখাচ্ছে, আহা, পার্কে ঘুমিয়ে পড়েছে।

    আমাদের বাংলোর মাথার ওপর দিয়ে রিংপিংটন রোড দূরবীন পাহাড়ের দিকে উঠে ও শহরের দিকে নেমে গেছে। বিকেলবেলা আমরা শহরে নেমে গেলাম।

    যতটুকু দেখলাম কালিম্পঙ খুব তৃপ্তি দিল। লোকজন কম, ছাড়া ছাড়া বাড়ি সব, রাস্তায় একটাও কুকুর নেই। এখানে কেউ মাইকে ‘শুন সাবা শুন’ বাজায় না। স্থানীয় লোক সকলেই নত মাথায় চলছে, কেউ উঠছে, নামছে কেউ, কেউ কারও সঙ্গে নিষ্প্রয়োজনে কথা বলে না। চক-এ নেমেই প্রথম মানুষের গুঞ্জন শোনা গেল।

    সবুজ সাইনবোর্ডের ওপর লাল রঙে লেখা ‘লী’। দূর থেকে দেখেই কাঠের দোতলা রোস্তোরাঁটি ভালো লেগেছিল। আমার পছন্দের রেস্তোরাঁয় বসে, আমার পছন্দমতো খাবার অর্ডার দেওয়া হল। বাবা অ্যাসপারাগাস স্যুপ খুব পছন্দ করেন। আমি করি না। কিছুতেই সেই অর্ডার করতে দিলেন না।

    বাবা হঠাৎ বললেন, ‘হ্যাঁরে বুবলি, বিছানা ত একটা। তোর ঘুম হবে ত।’ প্লেট থেকে মুখ না তুলে আমি বললাম, ‘কেন হবে না?’

    তালতলায় আমাদের আড়াই কামরার ফ্ল্যাটে বেডরুমের বিছানাটিও ছিল খুবই প্রশস্ত। জানলায় নেটের পরদা। ফ্রিজ, রেডিওগ্রাম, ড্রেসিং টেবিল—সবই সেখানে। জ্ঞান হবার পর থেকেই আমি আর মা ওই ঘরেই শুতাম। বাবা শুতেন পশ্চিমের আধখানা ঘরটিতে। মাঝেরটিকে লিভিং রুম বললে বলা যেতে পারে। দাম্পত্য প্রয়োজনে মা যে আমাকে একা রেখে মাঝের ঘর পেরিয়ে পশ্চিমের ঘরে যাতায়াত করতেন এটা আমি বহুকাল টের পাইনি। সেক্স ব্যাপারে তখন যা বিশ্বাস করতাম তা হল বাচ্চা হবার পরে ওই প্রয়োজনটি নারীর আর থাকে না। অর্থাৎ মা হবার পর।

    ক্লাশ সেভেন কি এইটেই তখন, একদিন প্রথম রাতেই খুব ভয়ের স্বপ্ন দেখে চিৎকার করে উঠি, তারপর মাকে পাশে না পেয়ে মাঝের ঘরে চলে যাই এবং ‘মা’ ‘মা’ ডাকতে থাকি। প্রথমে বাবার ঘরের ছিটকিনি ধরে ভেতর থেকে টানাটানি, তারপর দরজা দু’হাট করে খুলে মা চৌকাঠে এসে দাঁড়াল এবং বাবাও ঘাবড়ে গিয়ে, বেড সুইচ টিপে দিয়েছেন। একটিও বোতাম লাগাবার সময় হয় নি এমন ব্লাউজ বুকে লটকানো, পরনে শুধু কালো সিল্কের পেটিকোট—আই শ্যাডো, আই লাইনার, লিপস্টিক—সব সারা মুখে মাখামাখি— চুল খোলা-পিছনে বাবার ঘরের ফ্লুরোসেন্ট আলোর ব্যাকগ্রাউন্ডে মা-র সিলুয়েট মূর্তি, ওহো, সে যে কী বীভৎস দেখিয়েছিল! সেই ঘেন্না আমার মন থেকে কখনও যায় নি। মা-র মৃত্যুর পর আট বছর হয়ে গেল, মার প্রেতিনী মূর্তি আমি মুহূর্তের জন্যেও আজও মনে আনতে পারি না।

    ‘না মানে তোর ত আবার একা শোওয়া অভ্যেস।’ বাবা বললেন।

    তালতলায় থাকতে খুব ছোটবেলায় এক মেমের কাছে প্রতি রবিবার সকালে পিয়ানো শিখতে যেতাম। বাবা আগাগোড়া চেয়ারে বসে থাকতেন। প্রথমদিন পিয়ানোর রিড আমি ত কিছুতেই আঙুল ছোঁয়াব না। অনেক সাধ্য সাধনার পর নাকি তর্জনী দিয়ে একটু রিড ছুঁয়েছিলাম। প্রথম দিনে তাই কোনো লেসনই হয়নি।

    পিয়ানোর রিডে প্রথম আঙুল রাখার সেই অসম্ভব, কঠিন, অনতিক্রমণীয় বাধা যেন বাবার গলায় । কেন?

    মা-র মৃত্যুর পর কিছুদিন ঝাড়গ্রামে মামার বাড়িতে, তারপর দীর্ঘ আট বছর ধরে সত্যিই আমি মার ঘরে একা শুই। ছিটকিনি দিয়ে শুতে আমি ত কোনোদিন ভুলি নি কেন?

    রেস্তোরাঁয় জানলার পাশেই বিশাল গিরিখাদ। প্রায় ২০০০ ফিট নিচে উপতাকা দিয়ে ফেলে-আসা তিস্তা নদী বয়ে চলেছে। এত উঁচুতে তার গর্জন একটুও শোনা যায় না।

    ‘কেন, খুব ত চওড়া দেখলাম বিছানাটা’—সে দিকে তাকিয়ে আমি বলি। কয়েক হাজর ফিট নিচে তিস্তা বাজারের কাছে নদী পেরোবার জন্য পুরোনো ব্রিজটা ভেঙে পড়ে আছে। ১৯৬৮ সালে একমাস জুড়ে টানা বর্ষায় সেই একবারই তিস্তা শত শত ফিট ফেঁপে উঠে ব্রিজটি ভেঙে দেয়। আমার বয়স তখন চার-পাঁচ হবে।

    বিকেল থেকেই মেঘ করেছিল। বাংলোর কাছাকাছি আসতে ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি। বাংলোয় ফিরে একটা মোটা পুলোভার গায়ে জড়িয়ে, ছাতা মাথায় আমি একবারটি নিচে ডাঃ রায়ের কোয়ার্টার থেকে ঘুরে আসতে গেলাম। রায়গিন্নির আজ লক্ষ্মীনারায়ণ পুজো। অনেক করে যেতে বলেছিলেন। রাত ৯টা হবে। তবে এখন লোডশেডিং নেই। বাংলোয় বারান্দায়, রেলি-ভিউ রুমে, সর্বত্র আলো জ্বলছে।

    বৃষ্টি জোরে নামতে পারে বলে ওঁরা তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দিলেন। মাঝখানে মিনিট কুড়িও যায়নি। নিচে কোটইয়ার্ড থেকে দেখলাম আমাদের দোতলার ঘর অন্ধকার। বাবা কি শুয়ে পড়লেন? উঃ, কি কনকনে হাওয়া রে বাবা।

    আলো জ্বালতেই, ওমমা একি কাণ্ড! বাবা সত্যিই কম্বল গলা পর্যন্ত টেনে পাশে ফিরে শুয়ে। তবে সেই ডাবল বেড আর নেই। পাশাপাশি দুটি সিঙ্গল বেড। পরিপাটি বিছানা।

    ‘আরে-এ, এটা টুইন বেড ছিল নাকি?’

    ‘হ্যাঁ’; সত্যিই ঘুমে জড়িয়ে এসেছে বাবার গলা, ‘আমি ভেবেছিলাম ডাবল। নরবাহাদুর বলতে…তখন দুজনে টানাটানি করে…আ-হাআ’ বাবা হাই তুললেন।

    বাথরুম বাবার বিছানার ওপারে। বাথরুম সেরে সোজা আমার বিছানার দিকে যাচ্ছি, বাবা হাঁ হাঁ করে ধড়মড়িয়ে উঠে বসলেন, বিছানায়, ‘আর-এ নান না, মাঝখান দিয়ে না, ওদিকে দিয়ে ঘুরে যা। মাঝখানে আধ ইঞ্চিটাক পুরু ধুলো। অনেককাল জোড়া ছিল ত খাটদুটো।’ দেখলাম ভল্লুকের বিস্ফারিত অসহায় চোখে বাবা আমার দিকে তাকিয়ে।

    বেড সুইচ অফ করে আমরা শুয়ে পড়লাম।

    পাশাপাশি আলাদা খাটে, তবু বহু রাত পর্যন্ত আমার ঘুম এল না। মাঝ রাতে ভীষণ মেঘ ডাকাডাকি শুরু হল। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল। জানলা শার্শি ঝনঝন-ঝনাৎ করে বাজতে লাগল। রেলি নদীতে ঢল নেমেছে। সারা উপত্যকা গমগম করছে রেলির গাঁ-গাঁ ডাকে।

    বাবা অকাতরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। মাঝে মাঝে নাকও ডাকছে। কিন্তু আমার ঘুম আসছে না। পরদা সরিয়ে খুব ইচ্ছে হল রেলিকে, গর্জনকারিনীকে একবার দেখি। কিন্তু, না, বাবার বিস্ফারিত, অসহায় ভল্লুক চক্ষুটি অন্ধকারে আবার ভেসে উঠল। বাবা নামতে বারণ করেছেন। মাঝখানে যা ধুলো।

    ১৯৮৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম
    Next Article সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }