Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প205 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুখ অসুখ – ৯

    নয়

    রজত অফিসের টেবিলে চুপ করে বসে আছেন, থুতনির নীচে দু’হাত রেখে। বাইরে তুমুল হট্টগোল। খাদ্য আন্দোলন উপলক্ষে বসিরহাট-কৃষ্ণনগরের হাঙ্গামা ক্রমশ সারা বাংলায় ছড়াচ্ছে, ডায়মন্ডহারবারেও তার ঢেউ এসে পৌঁছেছে। চেকপোস্টের পুলিশদের সঙ্গে বচসা থেকে শুরু হয়ে হঠাৎ আজ সকালে মারামারি বেধেছে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে চকিতে। বাস টার্মিনাস এবং রেলস্টেশনে পিকেটিং, পথে পথে অবরোধ। আজ শনিবার, কিছু লোক সকালের দিকে পিকনিক করতে এসেছিল ডায়মন্ডহারবারে, তারাও ভয় পেয়ে গেছে। নারী-পুরুষ ভর্তি দুখানি মোটর গাড়ি থেমে আছে রজতের অফিসের কম্পাউন্ডে। ওরা পুলিশের সাহায্য নিয়ে কলকাতায় পৌঁছোতে চায়।

    খাদ্য আন্দোলন ছাড়াও আজকের দিনটি শিক্ষক আন্দোলন দিবস হিসাবে নির্দিষ্ট ছিল। গত দশদিন ধরে সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ। শিক্ষকদের মিলিত আন্দোলন। আজ জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, আগামী সোমবার কলকাতায় শিক্ষকদের মিছিল বেরোবে। রজত এই অঞ্চলের মুখ্য সরকারি কর্মচারী বলে তাঁর অফিসের সামনে বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়েছে।

    ইন্সপেক্টর তারক দাসকে রজত ডেকে বলেন, বাইরে কত লোক হবে?

    হাজার দেড়েক হবে, স্যার! আর শিক্ষকরা হবে জনা চল্লিশ।

    বাইরে একডজন পুলিশ পোস্ট করে দিন। যতক্ষণ শুধু চ্যাঁচাবে, ততক্ষণ কিছু করার দরকার নেই। কিন্তু হাঙ্গামা করার চেষ্টা করলে প্রথমে মাইক্রোফোনে সাবধান করে দেবেন, তাতে না থামলে লাঠি চার্জ করবেন—কোনও রকম স্পেয়ার না করে! আর দেখবেন, শিক্ষকদের গায়ে যেন কিছু আঘাত না লাগে। তাদের আলাদা করডন করে রাখবেন। টিয়ার গ্যাস সেল কটা আছে?

    সাতাশটা। কিন্তু স্যার—

    এর মধ্যে কোনও কিন্তু নেই। খাদ্য সমস্যা মেটাবার ভার আমাদের হাতে নেই, কিন্তু শান্তি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। সে দায়িত্ব আমাদের পালন করতেই হবে।

    নিশ্চয়ই স্যার। আমি বলছিলুম, যে-রকম টেনশন তাতে খুব সহজে মিটবে না আজ। কিন্তু দুটো ইসু মিলে গেছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের যদি ডিসপার্স করে দেওয়া যায়—

    শিক্ষকদের দাবি কী? ওঁরা আমার কাছে কী চান? আমি কী করতে পারি?

    ওঁরা চান, আপনি বাইরে বেরিয়ে ওদের অভিযোগ শুনবেন।

    রজতের মুখ আজ কঠোর, চোখ দুটো তীব্র উজ্জ্বল। ঈষৎ বিরক্ত ভাবে তিনি বললেন, এ কথা শিক্ষকরা জানেন, সবাই জানে, তাঁদের দাবি আদায় করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘেরাও করা নিছক পলিটিক্স ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার ক্ষমতা আছে ওঁদের মাইনে বাড়াবার? আমাদের স্ট্রাটেজি শুনুন! আপনি ওঁদের গিয়ে বলুন, আমি ওঁদের সঙ্গে দেখা করব ঘণ্টাখানেক পরে, আমার হাতের কাজ সেরে। এতে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কোনও গণ্ডগোল হয়তো বাধবে না। ততক্ষণে আমি টেলিফোনে রি-ইনফোর্সমেন্টের ব্যবস্থা করিয়ে রাখছি। আধ ঘণ্টা পর আপনি শিক্ষকদের সবাইকে কম্পাউন্ডের মধ্যে ডেকে আনবেন, কিন্তু কাউকে অফিসের মধ্যে ঢুকতে দেবেন না, ওঁদের আবার ডিটেন করাবেন। কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে ওদের ক্লান্ত হতে দিন। ততক্ষণে ওয়াচ করবেন, ওঁদের মধ্যে বেশি ছটফটে, বেশি লিডার লিডার ভাব ক’জনের। তারপর তাদের বাদ দিয়ে, বাকি কয়েকজনকে বলবেন, আমি মাত্র চার-পাঁচজনের ডেলিগেশনের সঙ্গে দেখা করতে, ওঁদের অভিযোগ শুনতে কিংবা লিখিত দাবিপত্র নিতে রাজি আছি। এখন এই চার-পাঁচজন সিলেক্ট করার ব্যাপারে ওঁদের মধ্যে একটা মনোমালিন্য আর দলাদলি তৈরি হতে দিন। শিক্ষকদের মধ্যে কারা বেশি পলিটিক্যাল মাইন্ডেড, তাঁদের লিস্ট তৈরি করেছেন?

    হ্যাঁ স্যার। এই যে।

    লিস্টে গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী সতেরো জন শিক্ষকের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় লেখা আছে। সেটায় চোখ বুলোতো বুলোতে রজত হঠাৎ কৌতূহলী হয়ে উঠলেন। অস্ফুট ভাবে বললেন, অরুণ চ্যাটার্জি? ইনিও কি এ সবের মধ্যে……

    ইনস্পেক্টর তারক দাস বলল, হ্যাঁ স্যার। উনি নিয়মিত স্টাডি সার্কল বসান। উনি অঙ্কের শিক্ষক, কিন্তু ছাত্রদের সঙ্গে পলিটিকস নিয়ে আলোচনা করেন। কমুনিস্ট পার্টির মেম্বার না হলেও সিমপ্যাথাইজার বলা যায়। আমাদের রিপোর্ট অনুযায়ী উনি গত দু মাসে তিনবার মিছিলে যোগ দিয়েছেন, আগে আসামে থাকতেন, সেখানে অবশ্য কোনও রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

    ঠিক আছে। যা বললাম, সেই মতো কাজ করুন। খবরের কাগজের করেসপন্ডেন্টরা এসেছে নিশ্চয়ই? শিক্ষকদের ডাকবার সময় তাদেরও ডাকবেন। এ ঘরে ক’টা চেয়ার আছে। এক, দুই….নটা? খানতিনেক এখন বাইরে নিয়ে রাখুন, আমি চাইলে দেবেন।

    রজত কিছুক্ষণ টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে রইলেন। তারপর ফাইল ওলটাতে লাগলেন, এবং শেষপর্যন্ত নিজের একখানা ছুটির দরখাস্ত লিখতে লাগলেন। ওপরওলার কাছে আবেদন করলেন, তাঁকে অন্তত একমাসের ছুটি দেওয়া হোক, এবং ছুটির শেষে তাঁকে যেন অন্য কোথাও ট্রান্সফার করা হয়। এ শহরে তাঁর নিজের, বিশেষত তাঁর স্ত্রীর স্বাস্থ্য টিকছে না।

    ব্যবস্থা মতন পঞ্চাশ মিনিট বাদে ইনস্পেক্টর তারক দাস সাতজন শিক্ষকের একটি প্রতিনিধি দল এবং তিনজন কাগজের রিপোর্টারকে নিয়ে এ ঘরে ঢুকলেন। রজত অত্যন্ত ব্যস্তভাবে সসম্ভ্রমে দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, আসুন, আসুন! বসুন চেয়ারে। এই, চেয়ার দাও! জমাদার, কুর্সি…রজত নিজেই চেয়ার আনতে যাচ্ছিলেন, তার আগেই চেয়ার পৌঁছে গেল। রজতের হাতে প্রায় আস্ত একটা সিগারেট জ্বলছিল, শিক্ষকদের সম্মানে তিনি সেটা তক্ষুনি অ্যাসট্রেতে গুঁজে দিলেন। রজত জিজ্ঞেস করলেন, চা খাবেন নিশ্চয়ই? অথবা ঠান্ডা কিছু—

    রজত যত সরল আন্তরিকতার আড়ম্বর দেখিয়ে অবস্থা জয় করবেন ভেবেছিলেন, তত সহজে সব কিছু মিটল না। শিক্ষকদের দলে তিনজন প্রৌঢ়ের সঙ্গে চারজন যুবাও এসেছিলেন। তাঁরা পরিষ্কার পরিকল্পিত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তাঁদের অভিযোগ পেশ করতে লাগলেন। তাঁরা চা কিংবা শরবত প্রত্যাখ্যান করলেন। নির্ভুল যুক্তিতে সরকারি নীতির নিন্দা করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পথ বর্ণনা করলেন। আবহাওয়া একটু উত্তপ্ত হয়ে উঠল। একজন এমনকী হাতের কাগজ আন্দোলিত করে রজতকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করে বললেন, রজতের যা বিদ্যাবুদ্ধি তার দ্বিগুণ বিদ্যাবুদ্ধি নিয়েও একজন কলেজের অধ্যাপক রজতের তিন ভাগের এক ভাগ মাইনে পান, এজন্য রজতের লজ্জা করে না? রজত আগাগোড়া মাথা ঠান্ডা করে রইলেন, বার বার শুধু বললেন, তিনি ওঁদের অভিযোগ সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন শুধু, এছাড়া তাঁর আর কিছুই করার নেই।

    কথা বলতে বলতে রজত চেয়ার ছেড়ে উঠে বাইরের দিকের জানলার পাশে দাঁড়ালেন। অন্যমনস্ক ভাবে একবার চেয়ে দেখলেন। বাকি শিক্ষকরা কম্পাউন্ডে জমায়েত হয়ে আছেন, রজত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রত্যেকের মুখ লক্ষ করলেন। না, ওঁদের মধ্যে অরুণ চ্যাটার্জি নেই। রজত জানেন, অরুণ সেরে উঠেছে, হাঁটা-চলা করতেও শুরু করেছে। দু’দিন আগে রজতের সঙ্গে অরুণের দেখা হয়েছিল ডাক্তার সেনের বাড়িতে। এত কাণ্ডের মধ্যেও রজত মনে মনে একটা গোপন কৌতুক বোধ করলেন। এঁদের মধ্যে যদি অরুণও আসত? ওই যে অধ্যাপকটি হাতের কাগজ নেড়ে নেড়ে রজতকে ভর্ৎসনা করছেন, ঠিক ওই জায়গায় যদি অরুণ দাঁড়াত, তা হলে দৃশ্যটা কেমন হত! কিন্তু অরুণ এল নাই-বা কেন? এলেও তো পারত। রজত ব্যাপারটা উপভোগ করতেন।

    এ শহরে ডাক্তার সেনই রজতের এখনও একমাত্র বন্ধু। প্রতিদিন ডাক্তার সেনের সঙ্গে একবার আড্ডা না দিলে রজতের তৃপ্তি হয় না। সেদিন সমস্ত ব্যাপার চুকল রাত আটটার পর। হাঙ্গামা বেশি ছড়াতে পারেনি। শিক্ষকরা ফিরে যাবার পরই বাকি জনতা বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে। কিন্তু তাদের মধ্যে সাঁইত্রিশ জনকে গ্রেপ্তার করার পর মৃদু লাঠি চার্জ করতেই জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর এই সব শহরে কোনও কর্মকাণ্ডই জমে না, এমনকী হাঙ্গামা বা রাজনৈতিক আন্দোলনও না।

    বাড়ি ঘুরে রজত চলে এলেন ডাক্তার সেনের কাছে। ডাক্তার সেন একটা জরুরি কলে বেরিয়ে গেছেন, রজত একটু বসলেন। ডাক্তার সেনের বসবার ঘরে হাওয়ার ঝাপটায় গোলাপের সুগন্ধ ছড়ায় বারে বারে, এতক্ষণ বাদে রজত খানিকটা আরাম বোধ করলেন। জামার বোতাম খুলে দিলেন একটা, সুগন্ধ বাতাসের স্পর্শে শরীরটাকে বন্ধনহীন মনে হল। রজত মালতীকে সঙ্গে আনবেন ভেবেছিলেন, কিন্তু কয়েকজন উকিলের স্ত্রী এসেছে মালতীর সঙ্গে দেখা করতে। হঠাৎ তাদের যেতে বলা যায় না। রজতও ওদের মধ্যে বসতে অস্বস্তি বোধ করতেন।

    প্রতিমা দেবী নীচে নেমে এলেন রজতের সঙ্গে গল্প করতে। মুখখানা তাঁর ঈষৎ ম্লান। নানান কথাতেও তাঁর অন্যমনস্কতা কাটছে না। সূক্ষ্ম প্রসাধনে প্রতিমা দেবীর মুখে বয়সের রেখাগুলো এখনও লুকোনো। এককালে তিনি অতীব রূপসি ছিলেন, এখনও তার পর্যাপ্ত চিহ্ন রয়ে গেছে। শুধু চোখের কোণে একটু একটু ক্লান্তির ছাপ। সম্প্রতি একটা বাংলা ফিল্মে তিনি অনেকগুলি প্লেব্যাক গান গেয়েছেন। সেই কারণে সপ্তাহে কয়েকবার তাঁকে কলকাতায় যাওয়া-আসা করতে হয়েছে, হয়তো সেই ক্লান্তি। প্রতিমা দেবীর গান রজতেরও খুব ভালো লাগে। সূক্ষ্ম মীড় আর টপ্পার কাজে মন-উদাস-করা গান তিনি যখন গেয়ে শোনান, তখন মনেই হয় না এই প্রৌঢ়া, ঈষৎ প্রগলভা নারীর মধ্যে ওরকম একজন শিল্পী রয়েছে।

    রজত জিজ্ঞেস করলেন, মোমকে দেখছি না? কলকাতায় গেছে?

    প্রতিমা দেবী অকারণে একটু চমকে উঠলেন। হয়তো সেই মুহূর্তে তিনিও মোমের কথাই ভাবছিলেন। বললেন, না, মোম রাগ করে শুয়ে আছে ওপরে।

    রজত হেসে বললেন, রাগ করেছে? মোমকে তো আমি রাগ করতে দেখিনি!

    আমি বকেছি ওকে। এমন সব আবদার করে মাঝে মাঝে! সব আবদার তো রাখা যায় না!

    রজত কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে রইলেন প্রতিমা দেবীর দিকে। ভাবলেন, মোম কী আবদার তুলেছে সেটা প্রতিমা দেবী নিজে না বললে জিজ্ঞেস করা সমীচীন হবে কিনা। প্রতিমা দেবী কিছু বললেন না, রজতও জিজ্ঞেস করলেন না। একটুক্ষণ দু’জনেই চুপ করে রইলেন।

    প্রতিমা দেবী আবার বললেন, মোমকে ভাবছি দিল্লি পাঠিয়ে দেব। ওঁর এক দাদা থাকেন দিল্লিতে, সেইখানে থেকে পড়াশুনো করবে।

    দিল্লিতে? কিন্তু এখন পড়াশুনোর কোর্স বদলাতে অসুবিধে হবে না?

    হয়তো একটা বছর নষ্ট হবে। কিন্তু ওকে কলকাতায় পড়াতে ভরসা হয় না। জানেন তো যা খেয়ালি মেয়ে! এই তো গত সপ্তাহের গোড়ায় কলেজ থেকে একা-একা এখানে চলে এসেছে কাউকে না বলে। দেখুন তো কী কাণ্ড! আমি কলকাতায় ছিলাম, যদি আসবার ইচ্ছে হয়, আমাকে বলে একসঙ্গে আসতে পারত। তা না, একা-একা ট্রেনে চেপে, ওই বয়সের মেয়ে—

    তাতে কী হয়েছে? অনেকেই তো আসে।

    না, না, আপনি ওকে ভালো জানেন না! জানেন তো, একবার ওর মাথায় একটু গণ্ডগোল হয়েছিল—এখন সেরে গেছে অবশ্য, কিন্তু খেয়ালে এক-একসময় যা কাণ্ড করে! হঠাৎ মাঝপথে কোনও স্টেশনে নেমে পড়া ওর পক্ষে কিছুই আশ্চর্য নয়। সত্যিই হয়েছিল একবার। আমরা সেবার পুরী গিয়েছিলাম, উনি যাননি—মানে, আপনাদের ডাক্তার সেন যাননি। আমার এক দাদা আছেন, সন্তুদা—তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলাম আমি আর মোম—সোমনাথ সে-বছরই বিলেত গেছে—তা মোম করল কী, খুর্দারোড স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নেমে হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল! ভাবুন দেখি, সতেরো বছরের মেয়ে, কখনও এরকম করে? আমরাও সেখানে নেমে পড়ি। তারপর দু ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেল।

    কোথায় ছিল?

    প্রতিমা দেবী কী বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। কথাটা এড়িয়ে যাবার ভঙ্গিতে বললেন, পুলিশের সাহায্য নিতে হয়েছিল, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিল, উঃ, কীভাবে যে কেটেছিল আমার সেই দু’ঘণ্টা। ও মেয়ে কখন যে কী করবে কিছু ঠিক নেই। এখন আবার মেতেছে অরুণ চ্যাটার্জিকে নিয়ে।

    অরুণ?

    হ্যাঁ, ওই যে কলেজের প্রফেসর, রোগামতন লোকটা—

    হ্যাঁ, আমি তাকে চিনি।

    ওই একটা সাধারণ লোকের মধ্যে কী দেখেছে, দিনরাত শুধু তার কথা। সে নাকি মোমকে কী অপমান করেছে। কী অপমান, তা জিজ্ঞেসও করতে পারি না, ভয় হয়। ওইসব আজে-বাজে লোক—

    অরুণ চ্যাটার্জি তো খারাপ লোক নন। আমি জানি—

    তা নাইবা হল, কিন্তু ওই মেয়ের মাথায় যদি ঝোঁক চাপে—মানে, এক-এক সময় ভয় হয়, ওর সেই রোগটা আবার দেখা দিচ্ছে কিনা—এমন চিন্তায় পড়েছি! কাল অরুণ চ্যাটার্জি চলে গেছে, একটু নিশ্চিন্ত হয়েছিলাম, কিন্তু তবু ভরসা হচ্ছে না। মোম যদি কলকাতায় গিয়ে আবার লোকটার সঙ্গে দেখা করে!

    অরুণ চ্যাটার্জি চলে গেছেন?

    হ্যাঁ। ওই যে কাল তার বাড়িতে কী সব হই-হল্লা হল। চাকরি-টাকরি সব ছেড়ে পালিয়েছেন শুনলাম।

    কীসের হই-হল্লা।

    আমি সব জানি না। উনি জানেন। আমার আর এসব ভাবতে ভালো লাগে না! পরশুদিন আমার আর একটা রেকর্ডিং আছে, এইরকম অবস্থা থাকলে কেউ গান গাইতে পারে? মেয়েটাকে দিল্লি পাঠাতে পারলে ভাবছি নিশ্চিন্ত হব।

    কিন্তু আপনাদের ছেলে বিলেতে, মেয়েকে দিল্লি পাঠাবেন, আপনাদের ফাঁকা-ফাঁকা লাগবে না?

    বিয়ে দিলেও তো মেয়েকে দূরে পাঠাতেই হবে! তা ছাড়া, আমি ভাবছি কিছুদিন কলকাতায় গিয়ে একা থাকব। উনি প্রাকটিস ছেড়ে যেতে পারবেন না, কিন্তু আমার এ জায়গাটা এখন অসহ্য লাগছে। এই বার বার যাওয়া-আসা—কলকাতায় থাকলে আমি এর চেয়ে অনেক বেশি গানের কন্ট্রাক্ট পেতাম।

    এ জায়গাটা আমারও আর ভালো লাগছে না। আমি ছুটি নিচ্ছি। ছুটির পরে হয়তো অন্য জায়গায় ট্রান্সফার নেব।

    ভালো করেছেন। এখানে গঙ্গা থাক আর যাই থাক, মফঃস্বলে মন টেঁকে?

    তারপর হয়তো আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে না, সেইটেই দুঃখ।

    কেন দেখা হবে না? কলকাতায় তো আপনাকে আসতেই হবে।

    দেখা না হলেও আপনার গান তো ঠিকই শুনতে পাব অন্তত।

    ডাক্তার সেন এইসময় ফিরলেন। তাঁরও সতত প্রফুল্ল মুখখানি আজ একটু গম্ভীর। তবু রজতকে পেয়ে মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন, কী রায়চৌধুরী সাহেব, আজকের সংকট কীভাবে কাটল? অধ্যাপকদের কাছে কী রকম শিক্ষা পেলেন?

    চরম শিক্ষা। শুধু পিঠে বেতের বাড়ি পড়েনি, এই যা!

    এখনও পড়তে পারে, সময় যায়নি। ধর্মঘট তো আরও চলবে?

    হুঁ! আমি ভাবছি, আমিও এ চাকরি ছেড়ে এবার একটা অধ্যাপকের চাকরি নেব। বছরে আদ্ধেক ছুটি তো আছেই, বাকি আদ্ধেকটাও ধর্মঘট করে কাটিয়ে দেব। হয় নিজেরা ধর্মঘট করব, কিংবা ছাত্রদের ওসকাব। সারা বছরই ছুটি!

    এখনও বেশ রেগে আছেন দেখছি!

    রাগব না? আমাকে ওঁরা দেশের অবস্থা বোঝাচ্ছিলেন! যেন আমার জন্ম বিলেত কিংবা আমেরিকায়—আমি দেশের কিছুই জানি না! সরকারি চাকরি করি বলেই আমি পাষণ্ড হৃদয়হীন হয়ে গেছি!

    তবুও একথা তো অস্বীকার করতে পারবেন না, সরকারের অবিচার আর অন্যায়গুলো আপনাদের হাত দিয়ে পালিত হচ্ছে। লোকে আপনাদের সামনে পাচ্ছে, আপনাদের ওপরেই তো রাগ দেখাবে।

    রজত খানিকটা দুঃখিত স্বরে বললেন, সত্যিই হয়তো চাকরিটা আমি ছেড়ে দেব। যাক, আপনি নিশ্চয়ই ক্লান্ত, আমি তা হলে আজ উঠে পড়ি।

    না, না, ক্লান্ত নয়। বসুন, বসুন, একটু গল্প করা যাক।

    কতদূর গিয়েছিলেন?

    এই মাইল পাঁচেক। বাদুড়িয়া বলে একটা গ্রাম আছে, এক পরিবারের দু’জনকে সাপে কামড়েছে। না গিয়ে পারলাম না—

    দু’জনকে কামড়েছে? বাঁচল?

    নাঃ! এজাতকে বাঁচাবার সাধ্য ভগবানেরও নেই। এই সময়টা সাপের উপদ্রব বেশি হয়। এক ধরনের মারাত্মক সাপ আছে জানেন তো, এদিকে বলে শিয়রচাঁদ—কেউটেরই একটা জাত—এদের ধারণা, মহাদেবের মাথায় এই সাপ থাকে, কামড়ালে আর নিস্তার নেই। তা নয়, চিকিৎসা করলে বাঁচানো যায়, কিন্তু বাঁচাব কী! ভোরবেলা সাপে কেটেছে। তা সারাদিন ধরে ওঝার ঝাড়ফুঁক, মন্তর-টন্তরের কেরামতি শেষ করে ডাক্তারকে খবর দিয়েছে বিকেল পাঁচটায়। স্বয়ং ধন্বন্তরি গেলেও বাঁচাতে পারতেন না।

    দুজনেই পুরুষ মানুষ?

    না, এক চাষার বউ, আর জোয়ান ছেলে। বাড়িসুদ্ধু সবাইকে যে কামড়ায়নি, ওদের ভাগ্য ভালো। শিয়রচাঁদ খুব আদুরে সাপ। বিছানায় এসে বালিশের তলায় লুকিয়ে থাকতে ভালোবাসে। দুর্ঘটনার পর সারা বাড়ি খুঁজে একসঙ্গে ওরকম পাঁচটা সাপ বেরিয়েছে! বাড়ির পাশেই খাল। রাত্রে ঘুমোবার সময় মশারি গোঁজবার আগে বিছানাটা একটু ভালো করে ঝেড়েঝুড়ে নেবে, সে খেয়ালটুকু পর্যন্ত থাকে না! ও, আসল মজার কথাটাই এখনও বলিনি।

    প্রতিমা দেবী বললেন, এসব মজার কথা শুনতে আমার একটুও ভালো লাগে না। কাল আমাদের বাগানেও তো একটা সাপ বেরিয়েছিল।

    ওটা জলঢোঁড়া! ও কিছু না। শোনো ব্যাপারটা। চাষার বউ মারা গেছে, সেজন্য কারওর কোনও দুঃখ নেই। সিঁথির সিঁদুর মাথায় নিয়ে গেছে, সে তো তার ভাগ্য। সবাই কাঁদছে জোয়ান ছেলেটার জন্য। কিন্তু কী বলে কাঁদছে জান? কোন জ্যোতিষ নাকি চাষাকে বলেছিল, চাষার এক ছেলে সাপের কামড়ে মারা যাবে, সেই কথাই ফলল। কিন্তু চাষার দুঃখ, মা মনসা তার জোয়ান ছেলেটাকে না নিয়ে যদি ছোট ছেলেটাকে নিত! ভেবে দেখুন রজতবাবু, ছোট ছেলেটা পাশেই দাঁড়িয়ে—দশ এগারো বছরের ছেলে—ছলছলে চোখে তাকিয়ে আছে—উঠোনে শোওয়ানো তার মা আর দাদার শব—আর তার বাবা তাকে শুনিয়েই বলছে, সে মরে গেলে কোনও দুঃখ ছিল না। আমি মড়া দুটোর দিকে ভালো করে তাকাইনি, আমি ওই জ্যান্ত ছেলেটার দিকেই তাকিয়েছিলাম। ইচ্ছে হচ্ছিল চাষাটাকে গুলি করে মারি!

    প্রতিমা দেবী বললেন, থাক, তোমাকে আর গুলি করে মারতে হবে না। বেশি কিছু বলতে গেলে ওরাই তোমাকে মারবে। আজকাল তো ওদেরই রাজত্ব!

    ডাক্তার সেন দুঃখিত গলায় বললেন, ওদের রাজত্ব হোক, তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু নিজেদের ভালো-মন্দটুকু বোঝার জ্ঞানও তো ওদের হয়নি এখনও।

    ওদের ভালো-মন্দ আর আমাদের ভালো-মন্দের ধারণা আলাদা।

    রজতের একটা কথা হঠাৎ মনে পড়ে গেল। একটু হেসে বললেন, ওরা আর আমরা কি আলাদা? আমরা এমন ভাবে কথা বলছি, যেন দুটো আলাদা জাত। এই রকম ভাবনাটাই কিন্তু ভুল।

    প্রতিমা দেবী কোনও আলোচনার মধ্যে যেতে চাইলেন না। একটু ক্ষুণ্ণ গলায় উত্তর দিলেন, যাই বলুন, আজকাল আর খোলাখুলি সব কথা বলার দিন নেই। উনি যাকে-তাকে যা ইচ্ছে বলে ধমকান। আমার ভয় করে। হঠাৎ খেপে উঠে দলবল মিলে ঘিরে ধরলেই তো হল। তখন আপনার পুলিশও কিছু সামলাতে পারবে না। দেখলেন তো, ওই অরুণ ছেলেটাকে নিয়ে কী কাণ্ড হল!

    রজত সচকিত হয়ে প্রশ্ন করলেন, ডাঃ সেন, অরুণের কী হয়েছে?

    ডাক্তার সেন রজতের দিকে ফিরে নিঃশব্দে হাসলেন। তারপর বললেন, আহা, বেচারা! আপনার জন্যই ছেলেটাকে এত দুর্ভোগ সইতে হল।

    আমার জন্য? আমি কী করেছি?

    ডাক্তার সেন পুনশ্চ হেসে বললেন, ব্যাপারটা আমাদের আগেই বোঝা উচিত ছিল। আজকাল বিপ্লবীরাও কম ক্লাস-কনসাস নয়। বসুন, একটু হাত-মুখ ধুয়ে আসি, তারপর বলছি।

    ডাক্তার সেন উঠে দরজার দিকে এগোতে গিয়ে প্রতিমা দেবীকে মৃদু কণ্ঠে প্রশ্ন করলেন, মোম আজ কী রকম আছে?

    এখন চুপচাপ শুয়ে আছে। বিকেলে খুব চ্যাঁচাচ্ছিল। একটা কিছু ব্যবস্থা করো!

    এখন কিছু করার নেই। এমনিতেই কমে যাবে।

    তা বলে একেবারে চুপচাপ থাকা যায়!

    তা ছাড়া আর তো কিছু করার নেই। তুমি এখন কয়েকদিন ওর সামনে বেশি যেয়ো না, বেশি কথা-টথাও বোলো না।

    আমি ওর সামনে যাব না, কেন?

    একটা নিশ্বাস লুকিয়ে ডাক্তার সেন বললেন, তোমাকে দেখলেই ওর উত্তেজনা বেড়ে যায়। কয়েকদিন যাক না, আস্তে আস্তে আপনিই সব কমে যাবে।

    প্রতিমা দেবী স্বামীর চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিলেন।

    অরুণের খবর জানবার জন্য রজত ছটফট করছিলেন! ডাক্তার সেন ফিরে আসতেই প্রথম সেই কথা জিজ্ঞেস করলেন। ডাক্তার সেনের মুখে সেই চাপা হাসি। নানা ধরনের বিষাদ ভুলতে গেলেই মানুষ এরকম হাসি হাসে। বললেন, আপনার উচিত ছিল অরুণের সঙ্গে বেশি মেলামেশা না করা।

    কেন?

    কারণ, আপনি রজত রায়চৌধুরী, এখানকার এ.ডি. এম—বিশেষভাবে এই জায়গাটার শৃঙ্খলা স্থাপনের জন্য আপনাকে আনা হয়েছে। আপনার কি মানায় একজন অধ্যাপকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা।

    আমি আপনার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না। অধ্যাপক হলেই সামান্য কেন হবেন? তা ছাড়া, আমার স্ত্রীর সঙ্গে ওঁর আগে থেকেই পরিচয় ছিল।

    তাই নাকি? তা তো আমি জানতাম না। কিন্তু ওরা বোধহয় জানত।

    ওরা কারা?

    ওরা মানে জনগণ। তারা অরুণের বাড়ি কাল ঘেরাও করেছিল। এই শহরে হঠাৎ রটে যায়, অরুণ পুলিশের দাদাল, স্পাই!

    ছি ছি, কী অসম্ভব কথা! ওরকম একজন ভালো মানুষ সম্পর্কে এরকম একটা মিথ্যে গুজব উঠল কী করে?

    ঠিক মিথ্যে তো?

    রজত আহত ভাবে বললেন, সেকী, আপনিও এটা বিশ্বাস করেছেন? আপনিও আমাকে এরকম সন্দেহ করেছেন?

    ডাক্তার সেন বললেন, আমি কিছুই বিশ্বাস করিনি। বিশ্বাস-অবিশ্বাস করা আমার কাজ নয়। রোগের লক্ষণ দেখলে চিকিৎসা করাই আমার কাজ। কিন্তু অরুণ যে কিছুই বলতে চাইল না। তার শুধু এক জেদ। লোকগুলো যখন চিৎকার করছে, তখনও সে বলছে, আমি কিছু বলব না। আপনারা যা খুশি করতে পারেন! ট্যাকটলেস।

    কিন্তু এরকম একটা বিশ্রী গুজব রটল কী করে?

    গুজব কী করে রটে, কেউ জানে না। তবে, টুকরো টুকরো যা শুনলাম, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তাকে বাড়িতে নেমন্তন্ন করে খাওয়ান—তার সামান্য সর্দি-জ্বর হলে তিনি তাঁর বউকে নিয়ে পর্যন্ত দেখতে আসেন।

    সর্দি-জ্বর?

    লোকে তো তাই বলছে। ওর নাকি অসুখ-টসুখ কিছুই হয়নি, অসুখের ভান করে পড়েছিল—এই গণ্ডগোলের সময় যাতে রাস্তায় বেরোতে না হয়!

    হঠাৎ একদিনে লোকে এসব জেনে গেল? আগে তো কখনও অরুণের নামে এরকম কিছুই শুনিনি!

    কাল একদল অধ্যাপক গিয়েছিলেন অরুণের বাড়িতে! আজকের মিছিলে ও যাতে যোগ দেয় সেইজন্য। অরুণ রাজি হয়নি। সেই নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এমন বোকা ওই অরুণ, যদি জোর দিয়ে বলত যে, ওর শরীর খারাপ, ও যেতে পারবে না, তাহলেও মানে থাকত। তার বদলে বলেছে, আপনার অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাবার ব্যাপারে ও অংশগ্রহণ করতে পারবে না। তাতেই তো হল গণ্ডগোল। কে একজন আপনার নামে কী যেন একটা কুৎসিত কথা বলেছিল, অরুণ প্রতিবাদ করে বলে, রজতবাবুর সম্পর্কে কোনও খারাপ কথা সে শুনতে চায় না। তখন একজন মন্তব্য করে বসল, তা শুনবেন কেন! আপনি তো রজতবাবুর দালাল। ব্যাস! একজনের কথাটা উচ্চারণ করাই তো যথেষ্ট।

    শুনতে শুনতে রজতের মুখখানা কঠিন হয়ে এসেছিল। চোখ নিচু করে বললেন, আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযানে ও যোগ দিতে চায়নি, এর নিশ্চয়ই কোনও ব্যক্তিগত কারণ ছিল ওর। আমি কিন্তু এতে কিছুই মনে করতাম না।

    মুশকিল হচ্ছে কী, অরুণ এর আগে দু-একটা রাজনৈতিক ব্যাপারে মাথা গলিয়েছে। ছেলেদের কাছে বক্তৃতা-টক্তৃতা দিয়েছেও শুনেছি। কিন্তু আপনার সঙ্গে পরিচয় হবার পরই ও কেমন যেন গুটিয়ে যায়। তাতেই তো লোকে ভাবছে—

    রজত অন্যমনস্ক ভাবে একবার বাইরের জানলার দিকে তাকালেন। হঠাৎ অনেকদিন আগের একটা ছবি তাঁর মনে পড়ল। মালতীদের বাড়ি থেকে তিনি বেরিয়েছেন, একটু দূরেই অরুণের সঙ্গে দেখা। শুকনো, লাজুক মুখ, খানিকটা উদভ্রান্ত দৃষ্টি। রজতকে দেখে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছিল, রজত ডেকে বলেছিলেন, অরুণবাবু, আপনি কি মালতীদের বাড়িতে যাচ্ছেন? একটু আগেই ডাক্তার তাকে ইঞ্জেকশান দিয়েছে—এখন ঘুমোচ্ছে। বেশ ভালোই আছে মালতী, শিগগিরই সেরে উঠবে মনে হয়। অরুণ খুব ব্যস্ততার সঙ্গে বলে উঠেছিল—না, না, আমি ওদের বাড়ি যাচ্ছিলাম না। তারপর ভারী অদ্ভুতভাবে অরুণ তাকিয়েছিল রজতের দিকে। সেই চাউনিটা রজতের মনে পড়ল। তিনি ভাবলেন, আমি ওর প্রেমিকাকে ছিনিয়ে নিয়েছিলাম, সেজন্য অরুণ কি আমার ওপর রাগ করেনি! রাগ না করা অসম্ভব। রাগ ছিল বলেই হয়তো সে কোনও রাজনৈতিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কোনও কিছু করার চেষ্টা করেনি। সেটাকে হয়তো সে ভেবেছে কাপুরুষতা। কিন্তু অরুণের তো রাগের কোনও চিহ্ন কখনও দেখিনি! কিংবা আমি মালতীর স্বামী বলেই ও দয়া করে আমার বিরুদ্ধে যেতে চায়নি?

    রজত জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এসব কী করে জানলেন?

    অরুণ চলে যাচ্ছে শুনে ভাবছিলুম দেখা করতে যাব। তারপর ও নিজেই এসেছিল বিদায় নিতে। বেশ কিছু চড়-চাপড় খেয়েছে, কপাল কেটে গেছে, চোখ ফোলা—বেশ মধুর স্মৃতি নিয়েই ডায়মন্ডহারবার ছেড়ে গেল বলতে হবে।

    মার খেয়েছে? আমায় তো কেউ খবর দেয়নি!

    খবর দেবার কেউ ছিল না। দুপুরের দিকে অধ্যাপকদের সঙ্গে ওইসব তর্ক হয়। আর সন্ধ্যার দিকে একদল লোক ওর বাড়ি ঘিরে ফেলে চেঁচাতে থাকে, পুলিশের স্পাই। শাস্তি চাই! জানেন তো, স্পাই কথাটা শুনলে সকলেরই রাগ আর ঘেন্না হয়, আর কারওর সম্পর্কেই ও কথাটা মানুষ পুরোপুরি অবিশ্বাস করতে পারে না। স্পাইরা তো কত রকম ছদ্মবেশ ধরে! গোলমাল শুনে রতন গিয়েছিল। সে সব শুনেছে, কিন্তু ইচ্ছে করেই সে পুলিশে খবর দেয়নি। ভালোই করেছে। অরুণ দরজার সামনে মুখ বুজে দাঁড়িয়েছিল আর শ’দুয়েক লোকের জনতা তাকে উদ্দেশ্য করে যা-তা গালাগাল দিয়েছে। জুতো ছুঁড়েছে—

    তাও পুলিশে খবর দেয়নি রতন? একটা লোক মার খাবে—

    একটা লোককে পুলিশের স্পাই বলে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, আর সেই সময় যদি চটপট পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে, তা হলে লোকের সন্দেহ আরও দৃঢ় হবে। তা ছাড়া, এজন্য রতনের ওপরেও হয়তো হামলা হত। যাই হোক, বেশি কিছু হয়নি, কয়েকজন নেতা গিয়ে অরুণকে আগলে দাঁড়ায়। তারাই ঠিক করে দেয়, অরুণ সেই রাত্তিরেই ডায়মন্ডহারবার ছেড়ে চলে যাক, নইলে তার প্রাণ বিপন্ন হতে পারে! লাস্ট ট্রেনে চলে গেল ছেলেটা। একটুও মচকায়নি। ওরকম অপমান আর মারধোর সয়েছে, কিন্তু মুখখানা তখনও কঠিন। ওকে দেখে আমার মতন নীরস মানুষেরও বুকটা মুচড়ে উঠেছিল রজতবাবু!

    রজত মনোযোগের সঙ্গে নিজের হাতের রেখা দেখছেন। সেই দিকে তাকিয়েই প্রায় অস্ফুট গলায় বললেন, আমি একটা অত্যন্ত ব্যক্তিগত কারণেই অরুণকে বন্ধু হিসেবে পেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এজন্য তাকে এত ক্ষতি সইতে হবে, আমি সত্যই কল্পনা করতে পারিনি।

    কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ করে রইলেন। তারপর সিঁড়িতে কারওর দ্রুত পায়ের আওয়াজ শোনা গেল। দড়াম করে দরজা ঠেলে মোম এসে ঢুকল। তার শাড়িখানা এলোমেলো, উসকোখুসকো চুল। চোখ দুটি লালচে। সে সোজা এসে ডাক্তার সেনের কাঁধের ওপর ঝুঁকে পড়ে কান্না-কান্না গলায় বলল, বাবা, তুমিও আমাকে ভালোবাস না? আমায় কেউ ভালোবাসে না। তুমিও আমাকে—

    ডাক্তার সেন মোমের মাথায় চুলের মধ্যে হাত ডুবিয়ে বললেন, হ্যাঁ রে পাগলি। আমি এ পৃথিবীতে একমাত্র তোকেই ভালোবাসি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোরা – শৈবাল মিত্ৰ
    Next Article সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নিঃসঙ্গ-সম্রাট – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 27, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বর্ণলতা

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Our Picks

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }