Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারুকি মুরাকামির শ্রেষ্ঠ গল্প – অনুবাদ : দিলওয়ার হাসান

    দিলওয়ার হাসান এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বেকারিতে দ্বিতীয়বার হামলা

    বেকারিতে দ্বিতীয়বার হামলা

    বেকারিতে হামলা করার ঘটনাটি স্ত্রীকে বলা ঠিক ছিল কিনা এখনও নিশ্চিত নই আমি। কিন্তু তখন হয়ত ঠিক-বেঠিকের প্রশ্নটিই ওঠেনি। এ বাবদে বলা যায়, ভুল পছন্দ যথার্থ ফল বয়ে আনতে পারে আবার এর ঠিক উল্টোটাও ঘটতে পারে। আমি অবশ্য নিজেই অবস্থান নির্ধারণ করি- আসলে আমরা কখনোই কিছু পছন্দ বা বাছাই করি না। ঘটনা ঘটে যায় অথবা ঘটে না।

    ব্যাপারটা যদি এভাবে দেখেন, তাহলে বলতে হয় বেকারিতে হামলার ঘটনাটি বলার বিষয়টি ওভাবেই ঘটে গিয়েছিল। ওই ঘটনা প্রকাশ করে দেয়ার ব্যাপারে আমার কোনো পরিকল্পনা ছিল না… ব্যাপারটা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম…কিন্তু তা এইমাত্র আপনি যা বললেন এমন বিষয় ছিল না।

    যে-কারণে বেকারিতে হামলার ঘটনাটি আমার মনে আছে তা হলো সহ্য করা কঠিন এমন প্রচণ্ড ক্ষুধা। ব্যাপারটা শুরু হয় রাত দুটো বাজার খানিকটা আগে। সন্ধ্যে ছ’টার দিকে রাতের খাবার খেয়েছিলাম। বিছানায় গিয়েছিলাম সাড়ে নটার সময়। তারপর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যে কোনো কারণেই হোক ঠিক সেই মুহূর্তেই আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। কয়েক মিনিট পর দ্য উইজার্ড অব দ্য ওজ- এর ঝড়ের মতো আকস্মিক তীব্র বেদনার আঘাত আসে। প্রচণ্ড খিদে আমাদের গ্রাস করে ফেলে।

    ফ্রিজে এমন কিছুই ছিল না যাকে সত্যিকারভাবে খাদ্য বলা যায়। থাকবার মধ্যে ছিল কয়েক বোতল ফরাসি তরল মশলা, ছয় ক্যান বিয়ার, গোটা দুয়েক পেঁয়াজ আর এক খণ্ড মাখন। মাত্র দু’ সপ্তাহ আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে। কী খাব-না-খাব এ বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তেমন সমঝোতাও গড়ে ওঠেনি এখনও।

    সে সময় আমি চাকরি করতাম একটা ল’ফার্মে আর সে সেক্রেটারির কাজ করত একটা ডিজাইন স্কুলে। আমার বয়স তখন আটাশ কিংবা উনত্রিশ… কেন আমি আমার বিয়ের সঠিক বছর মনে করতে পারছি না? আমার স্ত্রী আমার চেয়ে দু’ বছর আট মাসের ছোট। আমাদের মনের মধ্যে সর্বশেষ যে বস্তুটি ছিল তা হচ্ছে মুদিখানার জিনিস।

    আমরা দুজনেই এতো ক্ষুধার্ত ছিলাম যে, ঘুমুতে যেতে পারছিলাম না। শুয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছিল। ক্ষুধার তাড়নায় দরকারি কোনো কাজকর্ম করাও সম্ভব হচ্ছিল

    আমাদের পক্ষে। বিছানা থেকে নেমে আমরা রান্নাঘরের এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত পর্যন্ত হাঁটাহাঁটি করতে লাগলাম। এ রকম প্রচণ্ড খিদের জ্বালা কেন হচ্ছে?

    আমরা বার বার ফ্রিজ খুলতে লাগলাম। যতবারই খুলছিলাম ভেতরে ওই একই জিনিসের অস্তিত্ব টের পাচ্ছিলাম। বিয়ার, মাখন আর পেঁয়াজ। মাখন দিয়ে অবশ্য পেঁয়াজ ভাজা যায়, কিন্ত শুকিয়ে যাওয়া ওই দুটি পেঁয়াজ দিয়ে তো আর উদরপূর্তি সম্ভব নয়। পেঁয়াজ খেতে হয় অন্য খাবারের সঙ্গে। এ ধরনের খাবারে কারও ক্ষুন্নিবৃত্তি ঘটে না।

    আমি বললাম, “চলো গাড়িতে করে সারারাত খোলা এ রকম একটা রেস্তোরাঁ খুঁজে বের করি। হাইওয়ের পাশে পাওয়া যেতে পারে।” আমার ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে সে বলল, “না না খাওয়ার জন্য এই মাঝ রাতের পর বাইরে বেরুব নাকি।” এ সব বাবদে তাকে খুব প্রাচীনপন্থী বলে মনে হলো।

    একটুখানি শ্বাস গ্রহণ করে আমি বলি, “আমারও তাই মনে হয়।”

    আমার স্ত্রীকে যখন এ রকম একটা মত (কিংবা থিসিস) প্রকাশ করল আমার কানে তা কোনো গুপ্ত সংবাদ প্রকাশের অনুমোদন হিসেবে প্রতিধ্বনিত হলো। আমার তখন মনে হতে লাগল, এটা একটা বিশেষ ধরনের ক্ষুধা যা সারারাত খোলা থাকে এমন রেস্তোরাঁয় গিয়ে নিবৃত্ত করা সম্ভব নয়।

    এক বিশেষ ধরনের ক্ষুধা। কী হতে পারে এটা? চলচ্চিত্রের চিত্রকল্পের মাধ্যমে যা প্রকাশ করা যেতে পারে? এক- আমি একটা ছোট্ট নৌকায় বসে আছি, শান্ত নিথর সমুদ্রে ভাসছে নৌকাটি। দুই- আমি পানির দিকে তাকিয়ে দেখি, একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ সমুদ্রের তলদেশ থেকে ওপরে উঠে আসছে। তিন আগ্নেয়গিরির চূড়াটি পানির উপরিভাগের খুব কাছে, কত কাছে বলতে পারব না। চার- এটা ঘটছে কারণ, পানির অতিরিক্ত স্বচ্ছতা দূরত্বের ধারণাকে ব্যাহত করছে।

    এটা হচ্ছে চিত্রকল্পের যথাযথ বর্ণনা, সারারাত খোলা থাকে এমন রেস্তোরাঁয় যেতে আমার স্ত্রীর অস্বীকৃতির দুই কিংবা তিন সেকেন্ডের মধ্যে আমার মাথায় এসেছিল।

    আমরা শেষ পর্যন্ত একটা কাজই করেছিলাম তা হচ্ছে বিয়ারের ক্যান বের করেছিলাম। পেঁয়াজ ভক্ষণ করার চেয়ে ঢের ভাল এটা। আমার স্ত্রী বিয়ার তেমন একটা পছন্দ করে না বলে ওকে দুটি দিয়ে চারটি আমি নিলাম। আমি যখন বিয়ারে মগ্ন সে কাঠবিড়ালের মতো রান্নাঘরের শেভ তন্নতন্ন করে খুঁজে বাটারকুকির একটা প্যাকেট বের করল যার ভেতর চারটি কুকি পাওয়া গেল। ফেলে দেয়া জিনিসের মতো ছিল ওগুলো। নরম আর ভারী হয়ে গিয়েছিল অনেকদিন পড়ে থাকায়। তাতে কী, আমরা দুজনে দুটো করে দিব্যি গ্রাস করে ফেললাম।

    কোনো কাজই হলো না। আমাদের উদর সিনাই উপত্যকার মতো শুকিয়ে কাঠ হয়েছিল ফলে ওই দুটো বাটারকুকি কোথায় তলিয়ে গেল টেরই পাওয়া গেল না।

    “এতো খিদে আমার জীবনেও কোনো দিন লাগেনি,” আমার স্ত্রী বলল, “বিয়ে হওয়ার সাথে এর কোনো সম্পর্ক আছে নাকি তাই ভাবছি।”

    “থাকতে পারে।” আমি বললাম, “আবার না-ও থাকতে পারে।”

    সে যখন আরও কিছু খাবারের সন্ধান করছিল আমি তখন আমার নৌকার কিনারায় ঝুঁকে পানির নিচে আগ্নেয়গিরির দিকে তাকালাম। নৌকার চারদিকে সমুদ্রের পানির স্বচ্ছতা আমার ভেতর এক অনির্ণীত অনুভূতির জন্ম দিল, যেন আমার নাভিকুণ্ডের পেছনে কোনো এক স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে–অদ্ভুতভাবে বন্ধ করে দেয়া একটা গুহা যার না আছে প্রবেশ পথ কিংবা বেরুবার রাস্তা।

    তখন হঠাৎ করেই আমার মনের ভেতরে খেলে গেল, আগেও আমার এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তখনও আমার উদর একেবারে শূন্য ছিল… কিন্তু কবে, কখন? হা হয়েছিল এমনটা, নির্ঘাত…

    নিজেকে তখন আমি বলতে শুনলাম, “বেকারিতে হালমার সময়!”

    “বেকারিতে হামলা? বলছ কী এসব?”

    “হ্যাঁ ঠিকই বলছি। সে অনেকদিন আগের কথা। একদিন একটা বেকারিতে হামলা করেছিলাম। বেশি বড় ছিল না বেকারিটা। তেমন বিখ্যাত-ও নয়। ওদের রুটিগুলো বিশেষ ধরনের কিছু ছিল না। আবার একেবারে যে বাজে ছিল তা-ও না। দোকানগুলোর পাশের এলাকার একটা সাদামাটা বেকারি বলতে পার। সাধারণ একটা লোক বেকারিটা চালায়। নিজেই সবকিছু করে। সকালের দিকে রুটি বানায়, বেচাকেনা হয়ে গেলে দোকান বন্ধ করে দেয়।”

    “হামলাই যখন করবে তাহলে ওই বেকারিটাকে বেছে নিয়েছিলে কেন?”

    “ভালকথা। একটা বড় বেকারিতে হামলা করার কোনো মানেই হয় না। আমাদের দরকার ছিল কয়েকটা রুটির টাকা-পয়সা নয়। আমরা ছিলাম হামলাকারি, ডাকাত নয়।”

    “আমরা মানে? আমরা কারা?”

    “আমার তখনকার এক বেস্ট ফ্রেন্ড। দশ বছর আগের ব্যাপার। তখন আমাদের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে, টুথপেস্ট কেনার পয়সাও থাকত না হাতে। প্রয়োজনীয় খাবারও জোটাতে পারতাম না। খাবার জোগাড় করার জন্য যেসব জঘন্য কাজ আমাদেরকে করতে হয়েছে, বেকারিতে হামলা তার অন্যতম।”

    আমার দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে আমার স্ত্রী বলল, “কোনো কাজকর্ম জোগাড় করে নিলে না কেন? স্কুলের পরে তো কাজ করার সুযোগ থাকে। বেকারিতে হামলার চেয়ে সহজ ছিল তা।”

    “কাজ করার কোনো ইচ্ছে আদৌ আমাদের ছিল না।”

    “বেশ। এখন তো দিব্যি কাজ করছ, কি করছ না?”

    আমি মাথা নেড়ে আরও একটুখানি বিয়ার খেলাম। তারপর চোখ ঘষলাম। এক ধরণের বিয়ার-বিয়ার টাইপের কাদা আমার মস্তিষ্ক পিচ্ছিল ও কর্দমাক্ত করে তুলছিল আর তা ক্ষুধার ব্যথার সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছিল।

    “সময় বদলায়, বদলায় মানুষ,” বললাম আমি, “চল শুয়ে পড়ি, কাল আবার সকালে উঠতে হবে।”

    “ঘুম আসছে না আমার। তোমার বেকারি হামলার গল্পটা শুনতে চাই।”

    “বলবার মতো তেমন কিছু নেই। কোনো অ্যাকশন কিংবা উত্তেজনা কিছুই ছিল ওতে।”

    “সফল ছিল তো হামলাটা?”

    ঘুমানোর আশা ছেড়ে দিয়ে আরেকটা বিয়ারের ক্যান খুলোম। একবার কোনো গল্পে মজা পেলে তা না শুনে ছাড়েনা সে, এমনি স্বভাব তার।

    “হ্যাঁ এক ধরনের সাফল্য তো ছিলই। আবার অসাফল্যও ছিল। আমরা যা চেয়েছিলাম পেয়েছিলাম তা। তবে হুমকি দিয়ে কাজ হাসিলের বিষয়টি মাঠে মারা যায়। ছিনিয়ে নেয়ার আগেই বেকারির মালিক আমাদের রুটি দিয়ে দেয়।”

    “দাম না-নিয়ে দিয়েছিল?”

    “ব্যাপারটা ঠিক ওরকম ছিল না। ওটাই গল্পের কঠিন দিক বুঝলে কিনা?”

    বললাম আমি, “বেকারির মালিক ছিল ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতের একজন ভক্ত। আমরা যখন তার বেকারিতে ঢুকি সে তখন ভাগনারের একটি রেকর্ড শুনছিল। আমাদের সঙ্গে একটা চুক্তিতে এল সে তখন। আমরা যদি তার সঙ্গে ওই সঙ্গীত শ্রবণ করি তাহলে সে মুফতে আমাদের ইচ্ছেমতো রুটি নিতে দেবে। আমি আমার সঙ্গীর সঙ্গে শলা করে তার প্রস্তাবে সম্মতি জানাই। এতে কোনো পক্ষেরই কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। অতএব আমরা ছুরিটুরি লুকিয়ে ফেললাম। দু’জনে দুটো চেয়ার টেনে নিয়ে বসলাম আর টানহাউসার এবং ফ্লাইংডাচম্যান শীর্ষক দু’খানা যন্ত্র সঙ্গীত শ্রবণ করলাম।”

    “তারপরেই রুটিগুলো পেয়ে গেলে?”

    “ঠিক তাই। ব্যাগে যতগুলো ধরল নিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দিলাম। চার-পাঁচ দিন পেটপুরে খাওয়া হয়েছিল আমাদের।” আমি আর এক চুমুক বিয়ার পান করলাম। সমুদ্রের তলদেশ থেকে আসা ভূমিকম্পের নিঃশব্দ ঢেউয়ের মতো আমার নিদ্রালসা নৌকাটাকে দীর্ঘ ও মন্থর দোলা লাগাল।

    “অবশ্যই আমরা আমাদের মিশন সফল করেছিলাম। রুটি পেয়েছিলাম। তবে এ কথা বলা যাবে না, আমরা অপরাধ করেছিলাম। ওটা ছিল এক ধরনের বিনিময়। ভাগনারের সঙ্গীত শোনার কারণে রুটিগুলো পেয়েছিলাম। আইনসঙ্গতভাবে বলতে গেলে বাণিজ্যিক লেনদেনের চেয়েও বেশি কিছু ছিল ব্যাপারটা।”

    “কিন্তু সঙ্গীত শোনাটা তো কোনো কাজ নয়।”

    “না, সে তো ঠিকই। বেকারির মালিক যদি আমাদেরকে থালা-বাসন মাজতে বলত কিংবা ঘরদোর সাফ করতে বলত আমরা করতাম না। সে তা করেনি। সে শুধু ভাগনারের সঙ্গীতের রেকর্ডখানা প্রথম থেকে শেষ অবধি শুনতে বলেছিল আমাদের। কেউ আসলে ব্যাপারটা আন্দাজ-ই করতে পারেনি। ভাগনারের সঙ্গীতের। কথা বলছি আর কী। ওই অভিশাপটা আমাদের ওপর চাপিয়ে ছিল বেকারির মালিক। এখন আমার মনে হয়, তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল আমাদের। চাকু দেখিয়ে রুটি নিয়ে ভেগে পড়া উচিত ছিল, তাহলে কোনো সমস্যা হতো না।”

    “কোনো সমস্যা হয়েছিল নাকি তোমাদের?”

    আমি আবার চোখ রগড়াই।

    “সামান্যই। ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না তা। তবে এরপর থেকেই সবকিছু বদলাতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হই আবার। গ্রাজুয়েশন করি। ল’ ফার্মে কাজ নিয়ে আইন পরীক্ষাটা দেই। তোমার সঙ্গে দেখা হয় আর বিয়ে করি তোমাকে। ও রকম কাজ অবশ্য আর কখনো করিনি।”

    “তাই বল।”

    বিয়ারের গ্লাসে শেষ চুমুক দিয়ে বলি, “সব ঘটনাই তোমাকে বলা হয়ে গেল।”

    “তোমার সেই বন্ধুটি কী করছে এখন?”

    “জানি না। কিছু একটা ঘটেছিল, কিছুই না ধরনের ব্যাপার আর কী। আমরা অবশ্য একসাথে ঘোরাঘুরি করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপর থেকে ওর সঙ্গে দেখা হয় না। জানি না কী করছে সে এখন।”

    খানিকক্ষণের জন্য কোনো কথা বলল না সে। সম্ভবত সে বুঝতে পেরেছে পুরো কাহিনী আমি তাকে বলিনি। কিন্তু সে এসব নিয়ে আমার ওপর চাপ সৃষ্টিতে তৈরি ছিল না।

    “সেই কারণেই তোমাদের সম্পর্ক ভেঙে গেল? বেকারিতে হামলাই ছিল মূল কারণ।”

    “হতেও পারে। আমাদের উপলব্ধির চেয়েও ব্যাপারটা বেশি তীব্র ছিল বলে ধারণা করি। ওই ঘটনার পরে রুটির সঙ্গে ভাগনারের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছিলাম আমরা। পরস্পরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কাজটা কি আমরা ঠিক করেছিলাম। কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনি। ন্যায়সঙ্গতভাবে দেখলে আমরা সঠিক ছিলাম। কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি। প্রত্যাশা অনুযায়ী সবাই পেয়েছে।

    “তারপরও আমার ধারণা একটা মারাত্মক ভুল আমরা করেছিলাম। এ কারণেই আমি অভিশাপ শব্দটি প্রয়োগ করেছিলাম। সত্যিই এটি একটি অভিশাপ।”

    “তুমি কি মনে কর ওই অভিশাপ এখনও আছে?”

    “জানি না। বাজি ধরে বলা যায় এই পৃথিবী অভিশাপে ভরা। কোন অভিশাপের কারণে ভুলভ্রান্তি ঘটে বল শক্ত।”

    আমার দিকে তাকিয়ে সে বলল, “তা ঠিক নয়। বিষয়টা নিয়ে ভেবে থাকলে বলতে পার আমাকে। তুমি নিজে অভিশাপটি ভেঙে না দিলে দাঁতের ব্যথার মতো তা চেপে বসবে আর ক্রমাগত পীড়া দেবে তোমাকে। শুধু তোমাকে নয়, আমাকেও।”

    “তোমাকে?”

    “হ্যাঁ, কেননা আমিই এখন তোমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু, তাই না? কেন তোমার মনে হয় আমরা উভয়েই ক্ষুধার্ত? তোমার সঙ্গে বিয়ে হওয়ার আগে জীবনেও আমি এ রকম তীব্র খিদের মুখোমুখি হইনি। তোমার কি মনে হয় এটা অস্বাভাবিক? তোমার অভিশাপ আমার ওপরও কাজ করছে।”

    আমি মাথা নাড়াই। জানি না তার ধারণা ঠিক না বেঠিক; কিন্তু বুঝতে পারছি সে একটা কিছু ভেবে নিয়েছে।

    খিদের অনুভূতি আবার ফিরে আসে। এ বার আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র। ওই খিদে বয়ে এনেছে প্রচণ্ড মাথাব্যথা। পেটের তীব্র ব্যথা তারের মাধ্যমে আমার মস্তিষ্কের প্রধান অংশে প্রবাহিত হচ্ছে, যেন আমার পেটের ভেতরটা নানা জটিল মেশিনে সজ্জিত।

    “মাত্র দু সপ্তাহ আমরা এক সাথে আছি,” বলল আমার স্ত্রী, “এই সময়ের মধ্যেই আমি এক ধরনের রহস্যময় উপস্থিতি টের পাচ্ছি।” সে সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকাল, হাত দুটো টেবিলে ওপর রেখে আঙুল জড়াজড়ি করল। “অবশ্যই আমি জানি না অভিশাপ এখনও আছে কিনা। এটা সব কিছুরই ব্যাখ্যা দেয়। একটা অভিশাপের ভেতর আছ তুমি।”

    “কোন ধরনের অভিশাপের কথা বলছ?”

    “এই যেমন ধর ভারী ধুলোয় ভরা পর্দাটা ছাদ থেকে ঝুলে আছে, পরিষ্কার করা হচ্ছে না বছরের পর বছর ধরে।”

    “এটা আবার অভিশাপ হলো নাকি। হয়ত এটা আমি নিজেই।”

    সে হাসে না।

    বলে, “না ওটা তুমি নও।”

    “ঠিক আছে ধরে নাও তুমিই ঠিক। মনে কর এটা একটা অভিশাপ। আমি কী করতে পারি এখন?”

    “অন্য একটা বেকারিতে হামলা কর। এখনই। এটাই একমাত্র পথ!”

    “এখন?”

    “হ্যাঁ, এখনই। এখনও তুমি ক্ষুধার্ত। যা শেষ করতে পারনি তা তোমাকে শেষ করতে হবে।”

    “কিন্তু এখন তো মধ্যরাত, কোনো বেকারি কী খোলা পাওয়া যাবে?”

    “টোকিও শহরটা তো খুব বড়। আমরা খুঁজে বের করব। সারা রাত খোলা থাকে এমন একটা বেকারি নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে।”

    “ঠিক আছে, খুঁজে বের কর।”

    আমরা দুজনে আমাদের পুরনো করোলাটাতে চেপে বসি আর রাত আড়াইটার সময় টোকিওর রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে থাকি, যদি একটা বেকারির সন্ধান মেলে। আমি স্টিয়ারিং হুইল চেপে ধরে থাকি আর সে বসে নেভিগেটর সিটে। ক্ষুধার্ত ঈগলের মতো শিকারের আশায় আমরা রাস্তার দু’পাশে তাকাতে থাকি। পেছনের সিটে মরা মাছের মতো পড়ে আছে লম্বা, শক্ত একটা স্বয়ংক্রিয় রেমিংটন শটগান। এর গুলিগুলো আমার স্ত্রীর আঁটো জামার পকেটে ক্রমাগত ঝরঝর শব্দ তুলছে। আমাদের সঙ্গে দুটো স্কী-মুখোশও আছে। আমার স্ত্রী এ রকম একট শটগানের মালিক কেন হয়েছে জানা নেই। স্কী-মুখোশ দুটোই বা এল কোত্থেকে। দু’জনের একজনও তো কোনো দিন স্কী করিনি। সে এর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, আর আমিও চাইনি। মনে হয় বিবাহিত জীবন রহস্যময়।

    আমাদের আয়োজন ও সাজসজ্জা নিখুঁত হওয়া সত্ত্বেও সারা রাত খোলা থাকে এ রকম একটা বেকারি আমরা ভোলা পেলাম না। ইয়োয়োগি থেকে শিনজুকি, ইয়োসুইয়া থেকে আকাসাকা, আইওইয়ামা, হিরো, রুপোঙ্গি, দাইকান-ইয়ামা আর শিবুইয়ার ফাঁকা রাস্তা ধরে গাড়ি চালালাম আমি। শেষ রাতের টোকিও শহরে লোকজন, দোকানপাট সবই আছে; কিন্তু কোনো বেকারি নেই।

    দু’বার আমরা পেট্রল কারের মুখোমুখি হলাম। একটা গাড়ি রাস্তার পাশে ভিড়ের মধ্যে দাঁড় করান ছিল। অগোচরে আমাদের দেখার চেষ্টা করছিল। অন্যটা ধীর গতিতে আমাদের ওভারটেক করে দূরে চলে গেল। প্রতিবারই হতোদ্যম হয়ে পড়ছিলাম, কিন্তু আমার স্ত্রীর মনোযোগ ক্ষণিকের জন্যও ছিন্ন হয়নি; তার দু’চোখ বেকারির সন্ধান করে ফিরছে।

    “বাদ দাও তো” বললাম আমি, “রাতের এই সময়টাতে কোনো বেকারি খোলা পাওয়া যাবে না। এসবের জন্য একটা পরিকল্পনা থাকা চাই, নাহলে…”

    “গাড়ি থামাও!”

    ব্রেক কষলাম।

    “এখানেই আছে।” বলল সে।

    রাস্তার দু’পাশের দোকানগুলোর ঝাঁপ নামান। ফলে সেখানে অন্ধকার আর দু’পাশে নীরব দেয়াল। ঠাণ্ডা কাঁচের চোখের মতো একটা হেয়ার কাটিং সেলুনের নিয়নসাইন জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। ওখান থেকে দু’শ গজ দূরে ম্যাকডোনাল্ড হামবার্গারের একটা নিয়ন সাইন দেখা যাচ্ছে, এই তো।

    “কোনো বেকারি তো চোখে পড়ছে না।” বললাম আমি।

    সে নীরবে গাড়ির ড্যাশবোর্ডের খুপরি থেকে কাপড়ের ফিতা বের করল আর তা হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নামল। আমিও নামলাম। হাঁটু গেড়ে বসে সে কাপড়ের। ফিতা দিয়ে গাড়ির নম্বর প্লেট ঢেকে দিল। তার চলাফেরার মধ্যে বিস্তর অভিজ্ঞতার ছাপ। মনের ভাব গোপন করে আমি তার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

    “ওই ম্যাকডোনাল্ডটাতে চড়াও হবো আমরা।” সে বলল।

    “ম্যাকডোনাল্ড কোনো বেকারি নয়।” ধরিয়ে দিলাম আমি।

    “বেকারির মতোই এটা,” সে বলল, “কখনো কখনো আপস করতে হয়। চল যাওয়া যাক।”

    ম্যাকডোনাল্ডের সামনে গিয়ে পার্কিং লটে গাড়ি দাঁড় করালাম। কম্বলে মোড়ানো শটগানটা সে আমার হাতে দিল।

    আমি প্রতিবাদ করে বললাম, “জীবনেও বন্দুক দিয়ে গুলি করিনি।”

    “তোমার গুলি করার দরকার নেই তো, শুধু হাত দিয়ে ধরে রাখ, ঠিক আছে? আমি যা বলছি তাই কর। আমরা সোজা ভেতরে গিয়ে ঢুকব, যখন তারা বলবে ম্যাকডোনাল্ড এ স্বাগতম, তখন আমরা মুখোশ পরে ফেলব। বুঝতে পেরেছ?”

    “নিশ্চয়ই, কিন্তু …”

    “তখন তুমি কর্মচারী ও খদ্দেরদের একত্র করে তাদের দিকে বন্দুক তাক করে ধরবে। খুব দ্রুত করবে কাজটা। বাকি সব আমি করব।”

    “কিন্তু …”

    “কয়টা হামবার্গার আমাদের দরকার বলে তুমি মনে কর? তিরিশটা?”

    “আমারও তাই মনে হয়।” একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শটগানটা হতে নেই আর কম্বলটা একটুখানি নামিয়ে দেই। জিনিসটা বালির বস্তার মতো ভারী আর রাতের মতো কালো।

    “সত্যিই কী কাজটা করা দরকার আমাদের?” জিজ্ঞেস করি আমি- অর্ধেক নিজেকে, অর্ধেক তাকে।

    “নিশ্চয়ই আমাদের করা উচিত।”

    ম্যাকডোনাল্ড হ্যাট পরিহিত একটি মেয়ে কাউন্টারের পেছন থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসল। বলল, “ম্যাকডোনাল্ডে স্বাগতম।” ভাবিনি এই মেয়েটি শেষ রাতের পালায় কাজ করে, ফলে তাকে দেখামাত্র সেকেন্ডের জন্য বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। ত্বরিৎ মুখোশ পরে ফেলি। হঠাৎ মুখোশ পরা মানুষের সামনে পড়ে মেয়েটি হাঁ করে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।

    এ রকম অবস্থায় কী করতে হয় নির্ঘাত তা ম্যাকডোনাল্ড-এর অতিথি সেবা ম্যানুয়ালে লেখা নেই। সে রীতি মাফিক ম্যাকডোনাল্ডে স্বাগতম বলতে যাবে; কিন্তু তার মুখ থেকে কোনো কথা বেরুবে না।

    যত শীঘ্র সম্ভব আমি শটগানটা কম্বলের ভেতর থেকে বের করে আনলাম এবং টেবিলগুলোর দিকে তাক করলাম। ওখানে খদ্দের ছিল মাত্তর দু’জন। একটি ছেলে একটি মেয়ে। সম্ভবত তারা ছাত্র তাদের মাথা টেবিলের দিকে ঝুঁকে আছে। গভীর ন্দ্রিায় আচ্ছন্ন তারা। তাদের সামনে টেবিলে রাখা স্ট্রবেরি-মিল্কসেকের গ্লাস দু’টিকে আভা-গাদ স্থাপত্যের মতো লাগছে। মরার মতো ঘুমাচ্ছে তারা। আমাদের অপারেশনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। শটগান ঘুরিয়ে কাউন্টারের দিকে ধরলাম।

    সব মিলিয়ে ম্যাকডোনাল্ডের তিনজন কর্মচারী ওখানে। কাউন্টারে একটা মেয়ে, বিবর্ণ ডিম্বাকৃতি চেহারার ম্যানেজার যার বয়স বিশের কোঠায় আর কিচেনে ছাত্র কিসিমের এক হ্যাংলা পাতলা যুবক। এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে শটগানের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল তারা। ট্যুরিস্টরা যেমন ইনকা যুগের কূপের দিকে উঁকি দিয়ে দেখে ঠিক তেমনভাবে। কেউ চিৎকার কিংবা প্রতিবাদী কোনো ভঙ্গি করল না। বন্দুকটা এত ভারী ছিল যে, ব্যারেলটা ক্যাশ কাউন্টারে নামিয়ে ট্রিগারে হাত রাখতে হয়েছিল আমাকে।

    “আমরা টাকা দেব আপনাদের,” কর্কশ স্বরে ম্যানেজার বলল, “বেশি দেয়া যাবে না, কারণ এগারটায় ক্যাশ সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। তবে আশ্বাস দিচ্ছি, সম্ভাব্য সবকিছু করব আমরা।”

    “সামনে সাটার নামিয়ে নিওন সাইন বন্ধ করে দাও।” আমার স্ত্রী বলল।

    ম্যানেজার বলল, “একটুখানি দাঁড়ান। ওটা আমি করতে পারব না। বিনা অনুমতিতে বন্ধ করা হলে আমাকে দায়ী করা হবে।”

    আমার স্ত্রী তার হুকুমের পুনরাবৃত্তি করল ধীরে ধীরে।

    আমি তাকে সাবধান করে বললাম, “উনি যা বলছেন তা-ই করুন না।”

    সে প্রথমে বন্দুকের নলের দিকে তাকাল, তারপর আমার স্ত্রীর দিকে, তারপর আবার দৃষ্টি ফিরিয়ে আনল বন্দুকের নলের ওপর। অতঃপর সে নিজেকে নিয়তির হাতে ছেড়ে দিল। নিয়ন সাইন বন্ধ করল আর ইলেকট্রিক প্যানেলের সুইচে চাপ দিয়ে সামনের সাটার নামিয়ে দিল। আমি তার দিকে নজর রাখলাম। ভাবনা হচ্ছিল পাছে সে ডাকাতির বিপদ সংকেত না বাজিয়ে দেয়; তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হলো এখানে ওই ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সম্ভবত এদের এখানে কখনো এই ধরনের কেননা ঘটনা ঘটেনি।

    “নিয়ে যাওয়ার জন্য তিরিশটা বড় হামবার্গার চাই আমাদের।” আমার স্ত্রী হুকুম দিল।

    ম্যানেজার অনুনয় করে বলল, “তারচে টাকা নিন আপনারা। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দেব যাতে অন্যখান থেকে এগুলো কিনতে পারেন। নচেৎ আমাদের হিসাব-পত্তর একদম গড়বড় হয়ে যাবে…”

    “উনি যা বলছেন তাই করুন।” আমি আবার বললাম।

    তিরিশটা বার্গার বানানোর জন্য তিনজন কিচেনের দিকে রওয়ানা হলো। ছাত্রটি মাংস গ্রিল করল, ম্যানেজার তা বনের ভেতর ঢোকাল আর মেয়েটি সেগুলো কাগজে মুড়ালো। কেউ টু শব্দটি করল না।

    এক গাদা চমৎকার বার্গার তৈরি এখন প্রায় শেষ। মনে হলো এখনই একটা তুলে এনে খাই। কিন্তু এ কাজ আমাদের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে কিনা ভেবে ঠিক করতে পারলাম না। অপেক্ষা করতে হবে আমাকে। প্রচণ্ড গরম কিচেন সংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে দরদর করে ঘামতে লাগলাম।

    বার্গার বানানো শেষ হলে আমার স্ত্রী তা গুণে দেখল। দুটি ছোট শপিং ব্যাগ নিয়ে এক-একটিতে পনেরটি করে বার্গার ঢুকাল সে।

    “এত কষ্ট করতে গেলেন কেন আপনারা?” মেয়েটি বলল, “টাকা নিয়ে কিছু কিনলেই তো পারতেন। এত বড় বড় তিরিশটা বার্গার খেয়েই বা কী লাভ?”

    আমার স্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলল, “সত্যিই আমরা দুঃখিত, কিন্তু কী করব বল, কোনো বেকারি খোলা পেলাম না। পেলে ওগুলোর একটাতেই হামলা করতাম আমরা।”

    তার ওই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হলো তারা। আর কোনো প্রশ্ন করল না। অতঃপর আমার স্ত্রী দু’ বোতল বড় কোকের অর্ডার দিল এবং তা নিয়ে দাম পরিশোধ করে দিল।

    “আমরা শুধু বার্গার ছিনতাই করতে এসেছি, অন্যকিছু নয়।” বলল আমার স্ত্রী। এক ধরনের জটিল মাথা নাড়ানোর মাধ্যমে মেয়েটি তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল।

    আমার স্ত্রী পাকানো রশির একটা গোলা বের করে একটা থামের সঙ্গে তিনজনকে বেঁধে ফেলল। এত নৈপুণ্যের সঙ্গে সে কাজটি করল যে, আমার মনে হলো সে সূই দিয়ে বোম লাগাচ্ছে। সে তাদের জিজ্ঞেস করল বাধার কারণে তারা ব্যথা পাচ্ছে কিনা এবং কারও বাথরুম পেয়েছে কিনা। কিন্তু কেউ কোনো কথা বলল না। আমি শটগানটা আবার কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে ফেললাম। আমার স্ত্রী শপিং ব্যাগ দুটো তুলে নিতেই ওই স্থান ত্যাগ করলাম। খদ্দের দু’জন তখনও গভীর সমুদ্রের মৎস্য দম্পত্তির মতো গাঢ় নিদ্রায় মগ্ন।

    আধা ঘন্টা খানেক গাড়ি নিয়ে ঘুরলাম। একটা ভবনের ফাঁকা পার্কিংলট পেয়ে সেখানে ঢুকে পড়লাম। ছয়টি বার্গার গ্রাস করলাম আমি। আমার স্ত্রী খেল চারটি। বাকি রইল বিশটি। কোক পান করলাম প্রাণ ভরে। মনে হয়েছিল ওই সর্বগ্রাসী ক্ষুধা বোধকরি কোনো দিন যাবে না, কিন্তু ভোর হওয়ার সাথে সাথে তা দূর হয়ে গেল। সূর্যের প্রথম আলো ভবনটির নোংরা দেয়ালের রক্তবর্ণকে আলোয় রাঙাল। আর বড় একটা সনি বেটার বিজ্ঞাপন টাওয়ারকে বেদনাময় তীব্রতায় উজ্জ্বল করে তুলল। আমেরিকান আর্মসফোর্স রেডিও বাজাচ্ছিল কাউবয় সঙ্গীত। আমরা একটা সিগারেট দু’জনে ভাগ করে খেলাম। তারপর সে আমার কাঁধে মাথা রাখল।

    “সত্যিই কী এসব করার দরকার ছিল আমাদের?” জিজ্ঞেস করলাম আমি।

    “নিশ্চয়ই দরকার ছিল!” দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার স্ত্রী বলল, তারপর ঘুমিয়ে পড়ল। তাকে বিড়ালের মতো হালকা আর নরম মনে হলো।

    এখন একা আমি। নৌকার কিনারা থেকে সমুদ্রের তলদেশে তাকালাম। আগ্নেয়গিরিটি এখন আর নেই। শান্ত আর স্থির জল আকাশের নীল ছড়াল। আর কিছু ছিল না সেখানে….

    নৌকার তলদেশে সমুদ্রের নীল জলে সটান শুয়ে পড়লাম চোখ বুজে। তারপর অপেক্ষা করতে লাগলাম ফুঁসে ওঠা ঢেউয়ের জন্য যাতে আমাকে সেইখানে নিয়ে যাওয়া হয় যেখান থেকে আমি এসেছিলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছোটগল্প – দিব্যেন্দু পালিত
    Next Article অথর্ববেদ সংহিতা (সম্পাদনা : দিলীপ মুখোপাধ্যায়)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }