Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প205 Mins Read0
    ⤷

    সুখ অসুখ – ১

    এক

    ঝপ করে বেতের চেয়ারটার ওপর বসে পা দুটো সামনে ছড়িয়ে একটা বড় নিশ্বাস ফেললেন রজত। অনেকক্ষণ টানা গাড়ি চালিয়ে এসেছেন, সেই ক্লান্তি। গলার টাইয়ের ফাঁস আলাগা করতে করতে বললেন, জানো, আজ হঠাৎ অরুণের সঙ্গে দেখা হল।

    পাশের ছোট্ট ঘরটার দরজার পাশে বসে মালতী লুচি ভাজছিল। স্টোভের হিস হিস শব্দ, সামান্য অন্ধকারে মালতীর মুখে লাল আভা। গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরেছে বলে সেই অন্ধকার, মালতীর ফরসা মুখ আর স্টোভের লালচে শিখা, সব মিলিয়ে খুব মানিয়েছে। মুখ না তুলেই মালতী বলল কে অরুণ? অরুণ দাশগুপ্ত? ছুটি শেষ হয়ে গেল এর মধ্যে?

    সে নয়, তোমার বন্ধু অরুণ।

    আমার আবার কে বন্ধু?

    বিয়ের আগে তুমি যাকে চিনতে!

    চাকি থেকে গোল লেচি তুলে আলুমিনিয়ামের কড়াইতে গরম ঘিয়ের মধ্যে ছাড়ার সময় ছ্যাঁক করে একটা শব্দ হল। সেই শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে সামান্য হেসে মালতী বলল, বিয়ের আগে তো আমি তিনজন অরুণকে চিনতুম! এ কোন জন?

    টাই খোলা হয়ে গেছে, রজত এখন জুতোর ফিতে খুলছেন, সেই অবস্থায় মুখ নিচু রেখেই বললেন, বাঃ, অরুণ চ্যাটার্জিকে তোমার মনে নেই?

    মালতী বলল, তুমি আগে জলখাবার খাবে, না আগে স্নান সেরে নেবে?

    আগেই খেয়ে নিই। বেশ খিদে পেয়েছে দেখছি, লুচির গন্ধটা নাকে আসার পর আরও খিদে বেড়ে গেল!

    তা হলে মুখ-হাত ধুয়ে নাও অন্তত। যা ধুলো রাস্তায়।

    জুতো খুলে ফেলে রজত একেবারে মালতীর কাছাকাছি এসে মাটিতে বসে পড়েছেন। দরজার এপারে। বললেন, আমি হাত দেব না, তুমি একটা লুচি আমার মুখে পুরে দাও তো!

    না, হাতটা ধুয়েই এসো না, কী কুঁড়েমি!

    ইচ্ছে করছে না। দাও না একটা খাইয়ে।

    এমন ছেলেমানুষ! দাঁড়াও, এই কড়াইটা নামিয়ে নিই।

    অরুণ চ্যাটার্জিকে তোমার মনে পড়ল না?

    মাংসের কিমা দিয়ে আলুর তরকারি আগেই রান্না করা ছিল। খানিকটা তরকারি লুচির মধ্যে রেখে পাকিয়ে এগিয়ে এনে মালতী বলল, নাও হাত দিয়ে ধরতে পারবে না, আমি খাইয়ে দিচ্ছি।

    বলাই বাহুল্য, রজত শুধু লুচিটাই মুখে পুরে ক্ষান্ত হলেন না, মালতীর দুটি আঙুলও আলতো করে কামড়ে ধরলেন। মালতী ‘উঃ’ বলে হাত ছাড়িয়ে নিতেই রজত দু-হাতে মালতীর দুই বাহু জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে এনেছেন। মালতী ত্রাসের সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল, এই, কী হচ্ছে? আগুন লেগে যাবে, স্টোভ।….ছাড়ো, ছাড়ো, কড়াইতে গরম ঘি।

    রজত তবু অবুঝের মতন মালতীর বুকের মধ্যে মুখ ডোবাতে চেয়ে ওকে আরও কাছে টেনে আনেন। মালতী তখন চেঁচিয়ে ওঠে, লক্ষ্মণ! লক্ষ্মণ!

    একতলা থেকে চাকর সাড়া দিতেই রজত দ্রুত মালতীকে ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে যান। চাকরের সামনে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব সম্মান হারাতে চান না। উঠে গিয়ে স্নানের তোয়ালেটা আলনা থেকে নিয়ে রজত কৃত্রিম রাগের সঙ্গে বললেন, এ তুমি এক অস্ত্র পেয়েছ। না?

    মালতী আলতো ভাবে হাসছে, দরজার সামনে দাঁড়ানো চাকরকে বলল, নদীর ধারে গিয়ে দেখে এসেছিলি, আজ ইলিশ মাছ উঠেছে কি না?

    লক্ষ্মণ জানায়, আজও ইলিশ মাছ ওঠেনি, কিছু বাটা মাছ উঠেছে।

    মালতী তাকে বলে দিল, ঠাকুরকে বলগে যেন মাছে বেশি ঝাল না দেয়। কাল মাছে এমন ঝাল হয়েছিল, বাবু খেতেই পারেননি।

    লক্ষ্মণ চলে যাবার পর মালতী রজতের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, তুমি সব সময় এমন ছেলেমানুষী কর কেন?

    রজত ঘর-সংলগ্ন বাথরুমে ঢুকতে যাচ্ছিলেন, বললেন, কী করব, যে বয়সটায় সবাই ছেলেমানুষি করে, সেই বয়সটায় যে আমার কিছুই করা হয়নি! আমার ছেলেবেলায় যে একদম ছেলেমানুষি করার সুযোগ পাইনি। ঘাড় গুঁজে শুধু লেখাপড়াই করতে হয়েছে!

    আহা, লেখাপড়া যেন আর কেউ করে না!

    করে, কিন্তু আমার মতো দুর্ভাগ্য কারওর নয়।

    কীসের দুর্ভাগ্য?

    তুমি জানো না, কী কষ্টে যে আমার ছেলেবেলাটা কেটেছে!

    মালতী এবার জোরে হেসে ওঠে। বলে, বুঝেছি, এই বলে এখন সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা! তাড়াতাড়ি স্নান করে নাও, সব ঠান্ডা হয়ে যাবে।

    স্নান সেরে রজত বেরিয়ে এলেন খালি গায়ে। প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি বয়স, কিন্তু এখনও যে-কোনও নবীন যুবকের ঈর্ষণীয় স্বাস্থ্য। চওড়া কাঁধ ও প্রশস্ত বুক, ফরসা রং, মাথার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে এসে পড়েছে কপালে। মালতী ততক্ষণে দুটি প্লেটে খাবার সাজিয়ে বেতের চেয়ার দুটোর সামনে ছোট্ট টিপয়ে রেখেছে। এখন সে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে। রজত কাছে এসে বললেন, এই, পিঠটা মুছে দাও তো! আমি পারছি না।

    মালতী তোয়ালেটা নিয়ে পিঠটা মুছিয়ে দিতে দিতে বলল, একেবারে ছেলেমানুষ! স্নান করে নিজে নিজে গা মুছতে পারো না, লোকে কী বলবে?

    রজত অবাক হবার ভান করে বলল, এখানে লোক আবার কোথায়? বলার মধ্যে এক তো তুমি। তুমি কি লোক নাকি?

    আমি তবে কী?

    তুমি আমার মালতীমালা, আমার সোনামণি।

    এবার আর নিষ্কৃতি নেই, রজত দু’হাতে মালতীকে সম্পূর্ণ জড়িয়ে ধরেছেন। প্রথমে প্রগাঢ় চুম্বন করলেন, তারপর মালতীর বুকের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে বড় বড় নিশ্বাস ফেলতে লাগলেন। এইটা ওঁর বিশেষ শখ, স্ত্রীর বুকের মধ্যে মুখটা চেপে অনেকক্ষণ নিশ্বাস ফেলা। যখন তখন এই ইচ্ছে জাগে।

    মালতী বলল, এদিকে সব ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!

    রজত সেই রকমই মুখ ডুবিয়ে রেখে বললেন, না, কোনও দিন ঠান্ডা হবে না। সারাজীবন এই রকম তাপ থাকবে।

    তারপর কী মনে পড়তেই, ধড়ফড় করে ছেড়ে দিয়ে মালতীর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি ওষুধ খেয়েছ আজ?

    ধরাপড়া মুখে লাজুক হেসে মালতী বলল, না, ভুলে গেছি।

    রজতের মুখ একটু কঠিন হয়ে এল। বলল, কেন ভুলে গেছ? রোজ-রোজ এ অন্যায়।

    খাচ্ছি, খাচ্ছি এখনই খাচ্ছি।

    কিন্তু চারটের সময় খাবার কথা। এখন প্রায় ছ’টা।

    আর পারি না! ভাল্লাগে না! ওষুধ খেতে খেতে মুখ পচে গেল।

    লক্ষ্মীটি, আর বেশিদিন না, আর দু’সপ্তাহ—ডাক্তার সেন বললেন।

    ডাক্তার সেনের সঙ্গে কোথায় দেখা হল?

    তিন নম্বর ক্যানেলের পাশে একটা ইন্সপেকশনে গিয়েছিলাম। ভাবলুম ফেরার পথে একবার ডাক্তার সেনের চেম্বারটাও ঘুরে আসি। ওখানেই তো অরুণ চ্যাটার্জির সঙ্গে দেখা।

    তুমি খেতে বসে যাও, আমি ততক্ষণে ওষুধটা খেয়ে নিচ্ছি।

    ক্যাপসুলগুলো ফুরিয়ে গেছে, না আছে এখন?

    আছে দুটো।

    মালতী পাশের ঘরে এসে ড্রেসিং টেবিলের দেরাজ থেকে কালো শিশিটা বার করল। ক্যাপসুল দুটো হাতে ঢেলে, একটুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর কাচের জার থেকে এক গ্লাস জল গড়িয়ে নিয়ে জানলার কাছে এসে দাঁড়াল। বাইরে অন্ধকার, কিছুই দেখা যায় না। কিছুই দেখা যায় না যে অন্ধকারে, সে দিকেও তাকিয়ে থাকতে কখনও কখনও ভালো লাগে। মুখের কাছে গেলাসটা এনে শুধু এক চুমুক জল খেল। এর মধ্যেই জল বেশ ঠান্ডা হয়ে এসেছে, তার মানে শীত প্রায় এসে গেল। অন্ধকারের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মালতীর আর ইচ্ছে হয় না ওষুধ খেতে। ইচ্ছে হয় ক্যাপসুল দুটো জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিতে, রজত তো দেখতে পাবে না। কিন্তু রজত ওর মুখের দিকে তাকালেই বোধহয় বুঝে ফেলবে। রজত মুখের দিকে তাকিয়েই অনেক কিছু বুঝতে পারে।

    নিজের খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে মালতী এসে বসল রজতের পাশে। মাটিতে খবরের কাগজখানা বেছানো, রজত সেইদিকে এখন মনোযোগী। মালতী বলল, তোমাকে আর দু’খানা দেব?

    কাগজ থেকে চোখ না তুলেই রজত বললেন, মেয়েরা বিষম নিষ্ঠুর!

    মালতী হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করল, কী করে বুঝলে?

    তাই তো দেখতে পাচ্ছি।

    সে-রকম কোনও খবর বেরিয়েছে বুঝি?

    না, তোমাকে দেখেই বুঝতে পারছি। অরুণ চ্যাটার্জির সঙ্গে দেখা হয়েছে বললুম, তোমার সে সম্পর্কে কোনও কৌতূহলই হল না? অথচ আগে—

    আগে কী?

    আগে তো তোমাদের খুবই বন্ধুত্ব ছিল।

    তা ছিল। সে কত দিন আগের কথা!

    খুব বেশিদিন নয়। অরুণ তো তোমায় নিয়ে দু-একটা কবিতা-টবিতাও লিখেছিল শুনেছিলাম। তোমায় ও খুব ভালোবাসত, না?

    কাগজ থেকে রজত মুখ তুলে তাকিয়েছেন। ঝকঝকে হাসিতে তাঁর চোখ-মুখ উজ্জ্বল। মালতীও মুচকি হেসে বলল, কী জানি ও ভালোবাসত কিনা। আমি কিন্তু ওকে ভালোবাসার জন্য একসময় পাগল হয়ে উঠেছিলাম।

    তাই নাকি? তোমাদের কী করে আলাপ হয়েছিল?

    দাদার বন্ধু ছিল তো, আমাদের বাড়িতে আসত, খুব বড় বড় বক্তৃতা-টক্তৃতা দিত, তাই শুনে আমিও ভালোবেসে ফেললুম।

    মালতীর কথার ভঙ্গিই এমন যে, দুজনকেই সমস্বরে হেসে উঠতে হয়। রজত একটু ঝুঁকে আলতো ভাবে মালতীর চুলে বিলি কাটতে লাগল। পট থেকে চা ঢালল মালতী, রজতের হাতে কাপ তুলে দিয়ে বলল, এখন ভাবলে সত্যিই হাসি পায়! চলো, বারান্দায় গিয়ে বসি।

    রজত বলল, তুমি তা হলে গায়ে শালটা জড়িয়ে নাও। শীত নেই যদিও, কিন্তু এই সময়টাতেই ঠান্ডা লাগে। আমাকেও একটা পাঞ্জাবি এনে দাও।

    গাড়িবারান্দা ধাঁচের ছোট ব্যালকনি, পাশাপাশি টবে রজনীগন্ধা আর গোলাপ ফুটে আছে। বেলফুলের গাছে এখনও কুঁড়ি আসেনি। নিচু টেবিল ঘিরে তিনটে বেতের চেয়ার। এখান থেকে গঙ্গা দেখতে পাওয়া যায় জ্যোৎস্না রাতে, কিন্তু আজ ঘন অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। তবে একটু চুপ করে কান পেতে থাকলে বোঝা যায়, কোথাও একটা প্রবল জলস্রোত বয়ে যাচ্ছে।

    বসেই রজত বললেন, যাঃ, সিগারেট আনতে ভুলে গেলুম!

    মালতী বলল, দাঁড়াও, এনে দিচ্ছি।

    তোমাকে যেতে হবে না। লক্ষ্মণকে ডাকো না।

    এইটুকুর জন্য আবার লক্ষ্মণকে ডাকা কেন? আমিই আনছি।

    নিজে সিগারেট ধরিয়ে রজত বললেন, তুমি একটা খাবে নাকি?

    মালতী ঘাড় নেড়ে উত্তর দিল, নাঃ, সিগারেট আমার বিচ্ছিরি লাগে।

    বিচ্ছিরি লাগে মানে? কত যেন খেয়ে দেখেছ!

    কলেজে পড়ার সময় সত্যিই খেয়েছি। আজকাল কলেজের অনেক মেয়েরাই লুকিয়ে সিগারেট খায়।

    যাঃ!

    তুমি মেয়েদের সম্বন্ধে কী জান? তবে, আমার সিগারেট কখনও ভালো লাগেনি। আমার ভালো লাগে চুরুটের গন্ধ। চুরুট থাকলে একটা খেতুম।

    ওরে বাবা, চুরুট? আচ্ছা ঠিক আছে, কাল চুরুট কিনে আনব, দেখি কী রকম খেতে পার!

    আমি যদি সত্যি খেতে শুরু করি, তুমি আপত্তি করবে না?

    কেন আপত্তি করব? তোমার কোনও কিছুর ইচ্ছে হলে, আমি আপত্তি করব কেন?

    কেউ যদি দেখে ফেলে? ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের বউ চুরুট খাচ্ছে—এই নিয়ে লোকে নিন্দে করলে, তোমার খারাপ লাগবে না?

    রজত একটু ভেবে দেখলেন। মুখে একটা দ্বিধার ভাব দেখা গেল। ঠিক যেন মনস্থির করতে পারলেন না, তারপর বললেন, থাক তোমার যা শরীর, এ নিয়ে আর সিগারেট খেতে হবে না!

    আবার শরীর? তুমিই না বললে, আমি ভালো হয়ে গেছি! খবরদার, আমার অসুখের কথা বলবে না।

    সত্যিই ভালো হয়ে গেছ? আচ্ছা, আর অসুখের কথা বলব না। তারপর কী হল বলো?

    কার পর কী হল?

    সেই অরুণকে যখন তুমি ভালোবাসলে, তার পর?

    আরে, তোমাকে যে দেখছি আজ অরুণের কথায় পেয়ে বসেছে! কোথাকার কে অরুণ তার ঠিক নেই। ওসব ছেলেবেলায় সবারই একটু আধটু হয়।

    রজত হঠাৎ আহত সরল মুখ তুলে তাকালেন। দু’চোখ মালতীর চোখে সম্পূর্ণভাবে ফেলে বললেন, তুমি আমাকে অন্য রকম ভাবছ? আমার কিন্তু সেসব কিচ্ছু মনে হয়নি। হঠাৎ আজ অরুণ ছেলেটাকে দেখে আমার মায়া হল।

    এখানে হঠাৎ কী করে দেখা হল?

    ক্যানালের ওপাশটায় ইন্সপেকশান করার পর হাতে খানিকটা সময় ছিল। ভাবলুম, ডাক্তার সেনের সঙ্গে দেখা করে আসি। ডাক্তার সেনের ঘরে গিয়ে দেখি অরুণ চ্যাটার্জি বসে আছে। এখানে নতুন এসেছে বোধহয়।

    ডাক্তার সেন আমার ওষুধ সম্বন্ধে কী বললেন?

    উনি বললেন, এবারের ওষুধগুলো ফুরোলে, আর মাস দুয়েক তোমাকে কোনও ওষুধ খেতে হবে না। এখন তোমার রেস্ট। পর পর তিনটে টেস্টে কিচ্ছু পাওয়া যায়নি। তুমি একেবারে সেরেই গেছ। বড়জোর স্বাস্থ্য ইমপ্রুভ করার জন্য দু’একটা টনিক।

    টনিক-ফনিক আর কিচ্ছু আমি খাব না। আমার স্বাস্থ্য আমার অসুখের আগে যা ছিল, তার চেয়েও ভালো হয়ে গেছে।

    অসুখের আগে তুমি কেমন দেখতে ছিলে তা তো আমি দেখিনি।

    এর চেয়েও অনেক খারাপ ছিলাম।

    এখন বুঝি খারাপ? তা হলে, পৃথিবীতে রূপসি কে? এসো—

    রজত দু’হাত বাড়িয়ে দিলেন। মালতী মৃদু হেসে বলল, না।

    রজত বিন্দুমাত্র সময় না দিয়ে ঝপ করে উঠে এধারে এসে জড়িয়ে ধরলেন মালতীকে। মালতীর বুকে মুখ রেখে শিশুর মতো নিশ্বাস ফেলতে ফেলতে বললেন, আঃ, আঃ, তুমি সেরে উঠেছ, এখন তুমি সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত মালতী। তোমাকে আমি পেয়েছি—

    মালতীর চোখ চলে গিয়েছিল অন্ধকার নদীর দিকে। অন্ধকারের দিকে তাকালে চোখ জ্বালা করে। চোখ ফিরিয়ে এনে রজতের মাথার ওপর একটা হাত রেখে খুব আস্তে আস্তে বলল, এ জীবন তো তোমারই। তুমিই তো আমার জীবন দিয়েছ।

    না, আমি দিইনি! তুমি তোমার নিজের জীবনশক্তিতেই বেঁচে উঠেছ।

    তুমি না এলে এতদিনে আমি মরে ভূত হয়ে যেতুম!

    ওসব বাজে কথা বলতে হবে না। অন্য কথা বলো। আচ্ছা, তোমার অসুখের সময় অরুণ রোজ আসত না?

    হ্যাঁ, আসতেন। রোজ নয়, মাঝে মাঝে। এসে নীচে বসে থাকতেন।

    কেন, নীচে কেন? ওপরে আসত না?

    না। দাদা তো তখন জেলে, শুধু আমার সঙ্গে দেখা করার জন্যই আসবেন কী করে? দু-একদিন এসেছিলেন তবু, কিন্তু মা খুব খিটখিট করতেন। রোজ রোজ আসবার মতন অনাত্মীয় পুরুষ বন্ধু মেয়েদের তো থাকতে নেই!

    তবে আমি যেতুম কী করে?

    তুমি এসেছিলে দরজা ভেঙে। তুমি জোর করে নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করেছিলে, তুমি এসেছিলে আমার নিয়তির মতন। যদি ভগবানে বিশ্বাস করতুম, তা হলে বলতুম, ভগবান তোমাকে পাঠিয়েছিলেন।

    থাক, থাক। যে দু-এক দিন এসেছিল অরুণ, কী বলত?

    তোমার এত কৌতূহল কেন? বিয়ের আগের সব কথা জানতে নেই।

    আহা, বলো না! এসব ছেলেবয়সি প্রেমের কথা শুনতে আমার বেশ ভালো লাগে।

    বিশেষ কিছুই বলতেন না। এমনিতেই লাজুক ছিলেন, তা ছাড়া মায়ের ওই রকম গম্ভীর মুখ দেখে উনি চুপ করে বসে থাকতেন, বেশি লোকজন এলে আস্তে আস্তে বেরিয়ে যেতেন। একদিন শুধু বলেছিলেন, আমার নাকি ঠিক মতন চিকিৎসা হচ্ছে না।

    ঠিকই বলেছিল।

    উনি বলেছিলেন, ওঁর হাতঘড়িটা বিক্রি করে একজন বড় ডাক্তার ডেকে আনবেন। শুনে আমার এমন হাসি পেয়েছিল, ওসব ছেলেমানুষি—

    আমিও ওকে দেখেছি কয়েকদিন তোমাদের বাড়ির সামনে। তোমার যখন বেশি সিরিয়াস অবস্থা, তখন দেখেছি ওকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে। তোমাদের তো পাগলের বাড়ি। কোনও খবর নেবার উপায় নেই, তাই বোধহয় আমার কাছেই জিজ্ঞেস করত। প্রথমে তোমার দাদার নাম করে জিজ্ঞেস করত, শশাঙ্ক জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে কিনা! তারপরেই জিজ্ঞেস করত, মালতী কেমন আছে? একদিন আমি জোর করে ওকে আমার সঙ্গে ওপরে তোমার ঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেদিন তোমার হাই ফিভার, তুমি মানুষ চিনতে পারছিলে না।

    মালতী রজতের আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে গেল ফুলের টবের দিকে। ফুল না ছিঁড়ে নিজের মুখ ফুলের কাছে ঝুঁকিয়ে এনে গন্ধ শোঁকার চেষ্টা করল। হালকা, মৃদু গন্ধ। বলল, আমার সে কথা মনে নেই।

    আচ্ছা, অরুণ নিজেই তোমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি কেন?

    বাঃ, উনি কেন আমার চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে যাবেন? উনি তো বাইরের লোক, এমনি বন্ধু। আমাদের বাড়িতেই তো কত লোক।

    তোমার বাড়ির লোকের কথা তো জানি—আর একটু হলে তোমাকে মেরেই ফেলছিল। সেক্ষেত্রে অরুণেরই উচিত ছিল ইনিসিয়েটিভ নেওয়া, ডাক্তার-টাক্তার ডাকা……

    ওর সে সামর্থ্য ছিল না। ওই যে বললুম, হাতঘড়ি বিক্রির কথা!

    মালতী ছোট্ট একটু হাসল কথার প্রসঙ্গে। অনেক সময় একটা কথা হচ্ছে, কিন্তু হঠাৎ অন্য কথা মনে পড়ে যে-রকম হাসি, এ হাসিটা সেই রকম। রজত ওর হাসি লক্ষ করেননি। আপন মনেই বললেন, আমার ওকে দেখে খুব মায়া হত। এক-একসময় সত্যি মনে হত, আমি বোধ হয় জোর করে ওর অধিকার কেড়ে নিচ্ছি। কিন্তু তারপরই ভাবতুম, ওর চেয়ে আমার ভালোবাসা অনেক বেশি। আমার ভালোবাসা দাবি জানাতে ভয় পায় না। ভালোবাসার জোরে আমি তোমাকে আর সকলের কাছ থেকে জয় করে নেব।

    মালতী খুব থেমে থেমে গাঢ় স্বরে বলল, তুমি শুধু আমাকে জয় করেই নাওনি তুমি আমাকে নতুন জীবন দিয়েছ।

    আজও অরুণকে দেখে বেশ মায়া হচ্ছিল। ওর মুখের মধ্যে কীরকম যেন একটা অসহায় অসহায় ভাব আছে। আমাকে বোধহয় প্রথমে চিনতে পারেনি। আমি কিন্তু ঠিক চিনতে পেরেছিলাম। কিংবা চিনতে পেরেও হয়তো না-চেনার ভান করছিল। প্রেমিকার স্বামীকে কে আবার পছন্দ করে বলো! সুতরাং আমিই ওর কাঁধে চাপড় মেরে বললুম, কী খবর? তবে ও যে খুবই অবাক হয়ে গিয়েছিল, তা ঠিক। আমরা যে এখানে আছি, তা ও একেবারেই জানত না। জানলে হয়তো এখানে আসতই না চাকরি নিয়ে।

    এখানে উনি কি করছেন? তোমার আন্ডারেই চাকরি-টাকরি করছেন না তো!

    রজত হা-হা করে উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন। ওঁর দরাজ গলার হাসি বহুদূর উঠে যায়। হাসতে হাসতেই বললেন, তা হলে বুঝি সেটা তোমার পছন্দ হত না? তা ঠিক, প্রাক্তন প্রেমিক এসে স্বামীর অফিসে চাকরি করছে—এটাও ঠিক মানায় না! বরং স্বামীর তুলনায় তার বড় চাকরি করাই উচিত।

    তুমি খুব জানো। গল্প-উপন্যাসও পড়ো না! ব্যর্থ প্রেমিকরা আবার চাকরি-টাকরিতে মন দিতে পারে নাকি! তা হলে তাদের ব্যর্থ প্রেমিক বলে চেনা যাবে কী করে? তারা দাড়ি রাখে, কিংবা বাউন্ডুলে হয়ে যায়, কিংবা মফঃস্বলে মাস্টারি করে!

    আশ্চর্য, ঠিক ধরেছ তো! দাড়ি রাখেনি বটে, তবে অরুণ এখানকার কলেজে লেকচারারের চাকরি নিয়েই এসেছে। তা, কলেজের মাস্টারি চাকরি হিসেবে ছোট হতে পারে, কিন্তু ও তো আবার গল্পকবিতাও লেখে শুনেছি। তাতেই হয়তো ও অনেক বড় হয়ে উঠবে। আমায় কেউ চেনে না, কিন্তু ওকে সারা দেশের লোক চিনবে। আমার ছেলেমেয়ে, অন্তত নাতি-নাতনিরা হয়তো ইস্কুল-কলেজে অরুণের লেখাই মুখস্থ করবে! তখন কি তারা জানবে যে—

    ইস, কী স্বপ্ন তোমার! এর মধ্যেই নাতি-নাতনি পর্যন্ত দেখতে পেয়ে গেলে? তোমার নাতনি বেণী দুলিয়ে ইস্কুলে যাচ্ছে, আর তুমি বারান্দায় বসে আলবোলায় তামাক টানছ? আর আমি পাকা চুল মাথায় ঠাকুর পুজো করছি? মাগো, ভাবলেই বিচ্ছিরি লাগে।

    কেন, আমাদের বুঝি ছেলেমেয়ে হবে না একটাও? আর ছেলেমেয়ে হলেই নাতি-নাতনিও হতে বাধ্য! কী?

    হবে না কেন? আমি মরে গেলেই তুমি আর একটা বিয়ে করবে। আর তখন প্রত্যেক বছর একটা করে ছেলে-মেয়ে—

    আবার ওইসব কথা? তুমি একেবারে সেরে গেছ, তা বুঝি তোমার বিশ্বাস হয় না? প্লুরিসি আবার একটা অসুখ নাকি? কত লোকের হয়—

    তা তো জানি। তবু কেন মরতে বসেছিলুম ওই সামান্য অসুখে?

    এখন তুমি বেঁচে উঠেছ। আচ্ছা মিলু, তোমার বেশ অনেকদিন বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয় না?

    কী জানি? বাঁচতে পারব কি না, তা তো এতদিন ঠিক ছিল না, তাই বাঁচতে চাই কি না ভেবে দেখতেও ভুলে গেছি।

    তুমি আমার চেয়েও বেশিদিন বাঁচবে। তোমার সিঁথির সিঁদুর থাকবে চিরকাল।

    না, না, যদি মরতেই হয়, দুজনে একসঙ্গে মরব।

    সেই ভালো। আচ্ছা, তোমার একটা কথা জানতে কৌতূহল হচ্ছে না?

    কী কথা?

    সে-কথা জানার জন্যে তোমার মন হয়তো ছটফট করছে, সে-কথার উত্তরও আমি জানি, কিন্তু বলব না। পুরনো প্রেমিকের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হলে একটা কথাই প্রথম জানতে ইচ্ছে করে; সেটা হচ্ছে, তারও বিয়ে হয়ে গেছে কি না। কী, ঠিক বলিনি?

    বয়েই গেছে আমার জানতে।

    রজত হাসতে হাসতে বললেন, তোমার চোখ দেখে কিন্তু মনে হচ্ছে কৌতূহলে একেবারে চকচক করছে। অরুণের বিয়ে হয়েছে কিনা, তার বউ সুন্দরী কিনা—

    মালতী কৃত্রিম কোপে বলল, ইস, মোটেই না। অরুণদা’র মুখখানাই আমার ভালো করে মনে পড়ে না, তার সম্বন্ধে আমার এত কৌতূহল থাকবে কেন? বিয়ে তো হবেই, সবারই বিয়ে হয়—

    মিলু, তুমি অরুণ সম্পর্কে বড্ড নিষ্ঠুরের মতন কথা বলছ। ওর জন্য তোমার এখন একটুও মন কেমন করে না? সত্যি বলো না, আমি কিছু মনে করব না। এ তো স্বাভাবিক! একজনকে ভালোবাসার পরও অন্য দু-একজনের জন্যে মনের মধ্যে একটু জায়গা রাখায় কোনও দোষ নেই। অত ভাব ছিল অরুণের সঙ্গে তোমার, সব ভুলে গেলে কী করে? তোমার যেদিন একশো পাঁচ ডিগ্রি জ্বর উঠেছিল, তুমি প্রলাপ বকছিলে, বার বার অরুণ, অরুণ বলে ডাকছিলে। আমি তোমার শিয়রের কাছে বসে কপালে ওডিকোলন লাগাচ্ছিলুম, তুমি একবার লাল চোখ মেলে বললে, রজত, তুমি অরুণদাকে ক্ষমা করবে তো? ও বড় অসহায়। তুমি আর একবার বলেছিলে, অরুণদা, তুমি চলে যাও! কেন বসে আছ?

    মালতী আবার সেই কথা মনে পড়ার হাসি হাসল। এবার একটু জোরে। অন্যমনস্ক গলায় বলল, সত্যি, বলেছিলাম নাকি? কী ছেলেমানুষ ছিলাম তখন! কিছুটা উচ্ছ্বাস, কয়েকখানা চিঠিপত্র লেখা—এই এক ধরনের প্রেম, ছেলেবেলায় সবারই হয়। হয় না?

    খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। মাত্র চার বছর আগে—

    এই চার বছরে আমার জীবন একেবারে বদলে গেছে। আগেকার কিছুই আর মনে নেই। সত্যি, আগেকার কিচ্ছুই আর স্পষ্ট মনে পড়ে না। মনে হয় গত জন্মের কথা।

    ছেলেবেলার ওই প্রেম কিন্তু ভারী মধুর। কারও ভোলা উচিত নয়। আমি এমন যা-তা, আমার ছেলেবেলায় ওসব কিছুই হল না।

    সত্যি, তোমার কিছু হয়নি? আগে কোনও মেয়ের সঙ্গেই তোমার কিছু হয়নি?

    উঁহুঃ! আমি ছেলেবেলায় এমন গোবেচারা ছিলুম যে, ওসব কিছু করার সুযোগই পাইনি। খালি পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করে সময় নষ্ট করেছি! তা ছাড়া, কাকার বাড়িতে মানুষ, কাকা খুব কড়া শাসনে রাখতেন।

    বিয়ের আগে একটা মেয়ের সঙ্গেও তোমার ভাব হয়নি? কাউকে একবার চুমুও খাওনি?

    সত্যি কথা বলব? রাগ করবে না? একবার একজনকে মাত্র খেয়েছিলুম। আমার এক বন্ধুর দিদিকে। কিন্তু তোমার কাছে এ-লজ্জার কথাও স্বীকার করছি, আসলে তিনিই আমাকে একদিন হঠাৎ জড়িয়ে ধরে জোর করে চুমু খেয়েছিলেন। আমার সাহস হয়নি, উলটে আমি ভয়ে মরছিলুম!

    এবার স্পষ্টভাবে হাসতে হাসতে মালতী বলল, কাউকে প্রেমপত্রও লেখনি?

    রজত তখন মুখ গম্ভীর করে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, তাও একজনকে লিখেছিলাম, তিনি অবশ্য উত্তর দেননি।

    তোমার মতো পুরুষের কাছ থেকে চিঠি পেয়েও উত্তর দেয়নি, কে সেই মেয়ে? নাম জানতে পারি?

    তুমি তাকে চেনো।

    আমি চিনি? কে সে?

    নাম বলব?

    কী মুশকিল, তুমি কি ভাবছ আমি কিছু মনে করব? আমি এত ছেলেমানুষ নাকি? তোমার বলতে আপত্তি থাকলে অবশ্য বোলো না।

    না আপত্তি কীসের! কানন দেবী! তখন অবশ্য ওর নাম ছিল কাননবালা। ‘মুক্তি’ বইটা তিনবার দেখার পর এত ভালো লেগেছিল—

    রজতও মালতীর সঙ্গে গলা মিলিয়ে হেসে উঠলেন। হাসির দমকে মালতীর সারা শরীর দুলছে। বলল, যাঃ! খালি ঠাট্টা! ‘মুক্তি’ কি আজকের কথা নাকি? তখন তুমি কতটুকু ছিলে?

    খুব ছোট নয়। ভুলে যাচ্ছ কেন, তোমার চেয়ে আমি অন্তত দশ-বারো বছরের বড়! সে কি আজকের কথা?

    থাক, আর বুড়ো বুড়ো ভাব দেখাতে হবে না।

    সত্যি মিলু, ছেলেবেলাটা আমার একেবারে বাজে নষ্ট হয়েছে। একটা মধুর স্মৃতি নেই। তাই তো ভালোবাসার জন্য এমন উন্মুখ হয়েছিলাম। চাকরি পাবার পর ঠিক করে রেখেছিলাম, যদি কোনওদিন কাউকে ভালোবাসতে না পারি, তবে বিয়েই করব না। ওসব বিজ্ঞাপন দিয়ে পাত্রী দেখে বিয়ে করা আমার দু’চোখের বিষ! তারপর একদিন তোমার সঙ্গে দেখা হল। আমার খুকুমণিকে আমি বুকে তুলে নিলাম।

    মালতী বলল, চলো, হিম পড়ছে, এবার ঘরে যাই।

    আর একটু বসি। এখানেই বেশি ভালো লাগছে। শোনো না—

    শুনছি তো!

    রজত মালতীর এ স্বভাব জানেন। ডাকলে কখনও কাছে আসবে না। ব্যাপারটা রজত গোপনে উপভোগই করেন। মালতীর শরীর নিয়ে আদর করতে গেলে একটা অর্জন করার সুখও পাওয়া যায়। রজত চেয়ার ছেড়ে উঠে পাঁচিলের কাছে চলে এলেন, আলতো ভারে দু’হাত রাখলেন মালতীর কাঁধে। কিন্তু হাত দুটো কাঁধেই স্থির থাকতে চায় না, শরীরের অন্য অঞ্চলেও ঘোরাঘুরি করতে চায়। এক হাতে মালতীর মুখটা নিজের ঠোঁটের দিকে ফেরাতেই মালতী বলল, দাঁড়াও, রান্নার কতদূর হল একটু দেখে আসি।

    তোমাকে কিছু দেখতে হবে না। ঠাকুর যা-করছে করুক না!

    একটু না দেখলে কী মাথামুন্ডু যে করে রাখবে, তার ঠিক আছে?

    করুক। তোমাকে আগুনের আঁচের কাছে যেতে হবে না! তুমি যে বিকেলের জলখাবারটা নিজের হাতে বানাও, তাতেই আমার খুব ভালো লাগে। আর কোনও রান্না নিয়ে তোমার মাথা ঘামাবার দরকার নেই।

    বাঃ, সারাদিন কিছু একটা করতে হবে তো! ঠাকুর রান্না করবে, চাকর ঘর গুছোবে, আর আমি কী করব?

    তুমি শুয়ে শুয়ে বই পড়বে। আরও একডজন বই পাঠাতে লিখেছি কলকাতায়।

    সারাদিন বুঝি বই পড়তে কারওর ভালো লাগে?

    কলকাতা ছেড়ে থাকতে তোমার খারাপ লাগছে, না?

    মোটেই না। কলকাতার চেয়ে এ-জায়গা অনেক ভালো। কিন্তু একটা কিছু কাজ তো করা উচিত। আচ্ছা, আমার তো একটা বি.এ. ডিগ্রি আছে, এখানকার মেয়ে ইস্কুলে মাস্টারি করলে কেমন হয়?

    কেন, তোমার বুঝি টাকা রোজগার করার শখ হয়েছে?

    যাঃ, তুমি বুঝতে পারলে না। টাকার জন্য নয়, যা-হোক একটা কিছু কাজ নিয়ে থাকা।

    না, তা হয় না। ম্যাজিস্ট্রেটের স্ত্রীর পক্ষে মাস্টারনি হওয়া বোধহয় মানাবে না। তা ছাড়া শরীরের ওপর আবার ধকল—

    মালতী একটু থতমত খেয়ে বলল, ও, আচ্ছা থাক। বলেই চুপ করে গেল।

    রজত একটু চিন্তিতভাবে আবার বেতের চেয়ারে ফিরে এসে বসলেন। বললেন, তার চেয়ে বাড়িতে একটা ক্লাব-টাব করলে মন্দ হয় না। তোমার সময় কাটবে। তুমি যদি একটা নাচ-গানের ফাংসান অর্গানাইজ কর….তুমি তো কলেজে পড়ার সময় ওসব করতে।

    হুঁ, তা হলে মন্দ হয় না।

    অরুণ চ্যাটার্জিকে একদিন আমাদের বাড়িতে আসতে বলেছি।

    মালতী একথা শুনে কিছুই বলল না। বেশ কিছু সময় চুপ করে থেকে আবার অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল। রজতও চুপ করে রইলেন। একটা সিগারেট ধরিয়ে অন্যমনস্কভাবে টানতে লাগলেন। মাঝে মাঝে শুধু বিরাট বিরাট ট্রাকের দ্রুত ছুটে যাবার শব্দ, এ ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই। বাতাসে একটা ভারী মোলায়েম স্বাদ! বছরের এই সময়টায় জীবনকে ভারী সুন্দর মনে হয়। দু’হাত ছড়িয়ে আলস্য ভেঙে রজতও ভাবলেন, জীবনটা সত্যিই সুন্দর। আবার ডাকলেন, মিলু, শোনো—

    মালতী এবার দেয়ালের কাছ থেকে সরে এসে একেবারে রজতের কাছে চলে এল। একেবারে মাটিতে হাঁটু ভেঙে বসে রজতের কোলের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে বলল, কী বলবে, বলো?

    রজত আচ্ছন্ন গলায় জিজ্ঞেস করলেন, মিলু, তুমি সত্যি সুখী হয়েছ?

    এর চেয়ে বেশি সুখ আর কোনও মেয়ে চাইতে পারে?

    রজত কোমল ভাবে মালতীর মুখখানা দু’হাতে ধরে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোরা – শৈবাল মিত্ৰ
    Next Article সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    নিঃসঙ্গ-সম্রাট – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 27, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বর্ণলতা

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Our Picks

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }