Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প622 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. ঘটনাগুলো ঘটে গিয়েছিল দ্রুত

    ঘটনাগুলো ঘটে গিয়েছিল দ্রুত। জলপাইগুড়ি থেকে কলকাতায় এসে বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করা, টাকা দিয়ে বৈধভাবে ডলার কেনা, প্লেনের টিকিটের ব্যবস্থা করা-এইসব ঝামেলা খুব অল্পের ওপর দিয়ে গেল অবনীবাবুর জন্য। তাঁর এক বন্ধু কলকাতার লিন্ডসে স্ট্রিটে ট্রাভেল এজেন্সি চালান। সকালবেলায় ট্রেন থেকে নেমেই হোটেলে জিনিসপত্র রেখে পরিষ্কার হয়ে অফিস খোলার সময়েই অর্জুন চলে এসেছিল ভদ্রলোকের কাছে। পরিচয় দিয়ে সব বলতেই তিনি অভয় দিলেন, কোনও চিন্তা নেই। আজ রাতেই আপনি ঢাকা পৌঁছে যাবেন বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী হিসেবে।

    রাত্রে? অজানা জায়গায় রাত্রে পৌঁছতে পছন্দ করল না অর্জুন।

    তার আগের ফ্লাইট দুপুরে। তখন সব ফর্মালিটিস শেষ করা সম্ভব হয়ে উঠবে না। অবশ্য সন্ধেবেলায় ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের একটা ফ্লাইট আছে। আচ্ছা দেখছি, কী করা যায়!

    পাশপোর্ট, টাকা-পয়সা ভদ্রলোকের হাতে জমা করে দিয়ে অর্জুন বেরিয়ে এসেছিল। একটা গোটা দিন তার হাতে পড়ে আছে এবং কোনও কাজ নেই। কলকাতায় অর্জুন অনেকদিন পরে এল। পাতাল রেলে চড়ে মনে হল, এই শহরের মানুষের দুটো চরিত্র। মাটির ওপর যারা হেঁটে বেড়াচ্ছে, মাটির নীচে এসে তারা কীরকম পালটে যায়। কেউ পাতালে নেমে সিগারেট খাচ্ছে না, ময়লা ফেলছে না। সুশৃঙ্খলভাবে যাওয়া-আসা করছে। অথচ ওপরে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এমন কী করে হয়?

    দুপুরের খাওয়া শেষ করে সে আবার লিণ্ডসে স্ট্রিটের অফিসে ফিরে এল। অবনীবাবুর বন্ধু তখন কাজে বেরিয়েছেন। ভিজিটার্স রুমে আরও কয়েকজন অপেক্ষা করছেন। সোফায় বসে একটা পত্রিকা তুলে নিল অর্জুন। ঢাকা এখন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী। ভারতীয় হিসেবে সে সেখানে বিদেশি বলে গণ্য হবে। অথচ সেখানকার মানুষেরা বাংলাভাষায় কথা বলেন, রবীন্দ্রনাথের গান তাঁদের জাতীয় সঙ্গীত। একজন গুজরাতি অথবা পঞ্জাবির পক্ষে ব্যাপারটা বোঝা সম্ভব নয়।

    দেশলাই আছে?

    প্রশ্নটা কানে আসামাত্র অর্জুন তাকাল। মোটাসোটা এক ভদ্রলোক তাকেই প্রশ্ন করছেন। উনি বসে আছেন পাশের সোফায়। ভদ্রলোকের বয়স অন্তত পঞ্চাশ হবে। তার ডবল বয়সী একটি মানুষের হাতে দেশলাই তুলে দিতে সঙ্কোচ হল অর্জুনের। সে নীরবে মাথা নাড়ল, না।

    ও। স্মোক করেন না বুঝি! গুড। আমি তো লাস্ট থার্টি ইয়ার্স ধরে ভাবছি ধূমপান কবব না, কিন্তু পারছি না। আজকাল ইচ্ছে করেই পকেটে দেশলাই রাখি না, যাতে কম খাওয়া হয়।

    সিগারেটই বা রাখেন কেন?

    না রেখে পারি না। কীরকম খালি-খালি লাগে। এমনকী রোজার সময় হোল ডে যখন পানিও খাই না তখন সিগারেটের কথাও ভুলে যাই। কিন্তু সন্ধেবেলায় ইফতার করার পরই সিগারেট ধরাই। ভদ্রলোক ম্লান হাসলেন। অর্জুনের মনে হল লোকটা জটিল নয়। জটিল মানুষেরা সাধারণত এত কথা বলেন না। পত্রিকাটা নামিয়ে রেখে সে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি বিদেশে যাচ্ছেন?

    বিদেশ? হ্যাঁ ভাই, খাতায়-কলমে আপনার বিদেশ, কিন্তু আমার স্বদেশ। আমি আজ ঢাকায় যাচ্ছি।

    লোকটির সঙ্গে আলাপ করার আগ্রহ জন্মাল অর্জুনের। সে বাংলাদেশে এর আগে কখনও যায়নি। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে এবার সে যদিও টুরিস্ট হিসেবে যাচ্ছে, কিন্তু তার লক্ষ অন্য। ভদ্রলোকের নাম মোহম্মদ ইউসুফ। ব্যবসা করেন। সেইসব কাজেই মাঝে-মাঝে ওঁকে কলকাতায় আসতে হয়। এখানকার পার্ক সার্কাস অঞ্চলে ওঁর আত্মীয়স্বজন আছেন। ঢাকা এবং কলকাতা ওঁর কাছে প্রায় একই। আলাপ করতে-করতে ইউসুফ বললেন, কলকাতায় এলে একটা ব্যাপার দেখে খুব খারাপ লাগে ভাই। আপনারা তো বাঙালি, অথচ বাংলা ভাষার জন্য আপনাদের একটুও মায়া-মমতা নেই। আপনারা যেন ঠিক বাঙালি হিসেবে নিজেদের চরিত্র ঠিক রাখতে পারছেন না। আমরা বাংলাদেশের বাঙালিরা যত কষ্টেই থাকি না কেন, ভাষার ব্যাপারে সবাই এক, অভিন্ন।

    ইউসুফভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে চমৎকার সময় কেটে যাওয়া ছাড়াও অনেকরকম তথ্য জানতে পারল অর্জুন, ঢাকা সম্পর্কে। কলকাতা থেকে জলপাইগুড়ি শহরের যে দূরত্ব, ঢাকা তার অনেক কাছে। কিন্তু ঢাকা কলকাতার থেকেও আধুনিক এবং পূর্ণ বাঙালি শহর।

    ভিসা, টিকিট এবং ডলার পাওয়া গেল ঠিক সময়ে। ইউসুফ ভাই টিকিট কেটেছিলেন ঢাকা থেকেই, আসার সময়। এই অফিসে অন্য প্রয়োজনে এসেছিলেন। কথা হল, এয়ারপোর্টে তিনি অর্জুনের সঙ্গে দেখা করবেন।

    বিদেশে যাওয়ার সময় একটা আলাদা ধরনের উত্তেজনা থাকে। আন্তজাতিক বিমানের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক দু ঘণ্টা আগে যখন অর্জুন দমদম এয়ারপোর্টে পৌঁছাল তখন সন্ধে পেরিয়ে গেছে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের টিকিট পাওয়া যায়নি, অনেক চেষ্টায় বাংলাদেশ বিমানে একটা ব্যবস্থা হয়েছে।

    ইউসুফভাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। নির্দিষ্ট নিয়মগুলো পর-পর করে যেতে তিনিই সাহায্য করলেন। তারপর ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমসের বেড়া ডিঙিয়ে ওরা এসে বসল লাউঞ্জে। সেখানে তখন অনেক যাত্রীই এসে গিয়েছেন। বিদেশে যাওয়ার অন্যান্য ফ্লাইটের ঘোষণা চলছে। অর্জুনের মনে হল পৃথিবীটা খুবই ছোট। মানুষ ইচ্ছে করলেই এবং টিকিট কাটার সামর্থ্য থাকলে যে-কোনও দেশে মুহূর্তেই চলে যেতে পারে।

    এই সময় একজন ভদ্রমহিলা লাউঞ্জে এলেন। তিনি যে খুবই সুন্দরী, সেব্যাপারে তাঁর সচেতন মনোভাব অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল। সঙ্গে একজন বিশালদেহী পুরুষ, গায়ের রং বেশ কালো। ইউসুফভাই বললেন, ইনি বাংলাদেশের সিনেমার নায়িকা। খুব নাম করেছিলেন এককালে। এখন পড়তির দিকে। এঁর নাম মঞ্জশ্রী রায়।

    অর্জুন অবাক হল, আপনাদের ওখানে হিন্দুরা সিনেমায় নামে?

    আশ্চর্য? কেন নামবে না? বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার আছে।

    অর্জুন মঞ্জুশ্রী দেবীকে দেখছিল। খানিকটা দূরেই বসে আছেন তিনি। শালোয়ার কামিজ এবং বেগুনি রঙের ওড়নায় ওঁকে অন্যরকম দেখাচ্ছিল। বাংলাদেশি মানুষেরা এই লাউঞ্জে বসে তাঁর দিকে যে সাগ্রহে তাকিয়ে আছেন, সেটা বুঝে বেশ গম্ভীর হয়ে আছেন। অর্জুনের মনে হল প্রযোজক ভদ্রলোক বেশ চিন্তিত। ঘন-ঘন সিগারেট খাচ্ছেন। মানুষটির মুখ খুবই রুক্ষ, চোখ এবং ঠোঁটের কোণে একধরনের নিষ্ঠুর অভিব্যক্তি অজান্তেই ফুটে উঠেছে।

    এই সময় টাকমাথা ফরসা বেঁটে মাঝবয়সী এক ভদ্রলোককে ঢুকতে দেখেই প্রযোজক সোজা হয়ে বসলেন। বোধ হয় এর জন্যই তিনি গেটের দিকে মুখ করে এতক্ষণ বসে ছিলেন। টাকমাথা ভদ্রলোক চেয়ারের পাশে হাতব্যাগ নামিয়ে কোনওদিকে না তাকিয়ে এগিয়ে গেলেন কোনার দিকে, যেখানে দেওয়ালে পর-পর টেলিফোন ঝোলানো আছে। তাঁকে ডায়াল করতে দেখল অর্জুন। এবং তারপরেই সেই প্রযোজক উঠে গেলেন সেই দিকে। পাশের টেলিফোনটি তুলে নিয়ে তিনিও ডায়াল শুরু করলেন। ব্যাপারটায় খটকা লাগল। অর্জুন ইউসুফভাইকে বলল, আমি একটু আসছি। তারপর চলে এল তৃতীয় টেলিফোনটির সামনে। এসে বুঝল যাত্রীদের জন্যে বিনা পয়সায় কথা বলার ব্যবস্থা হয়েছে এই ফোনের মাধ্যমে। সে এলোমেলো নম্বর ঘোরাল, যদিও তার কান খাড়া ছিল। তার বাঁ দিকে প্রযোজক, যাঁর বাঁ দিকে টাকমাথা। প্রযোজক যেন টেলিফোনে কথা বলছেন এমন ভঙ্গি করে কানে রিসিভার লাগিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এত দেরি হল? ব্যাগেজ আইডেন্টিফাই করেছেন তো? অর্জুন শুনতে পেল টাকমাথা বলছেন, সব ঠিক আছে।

    এই তিনটে শব্দ শোনামাত্র প্রযোজক যেন টেলিফোনে কথা বলা হয়ে গিয়েছে এমন ভঙ্গিতে রিসিভার নামিয়ে আবার সিনেমার নায়িকার কাছে চলে গেলেন। ইতিমধ্যে টাকমাথা আবার ডায়াল করছিলেন। অর্জুন শুনতে পেল লোকটির চাপা হাসি, একদম ভেতর থেকে বলছি। এইমাত্র সে দেরি কেন হল তা জিজ্ঞেস করে গেল। কদিন পরেই বাছাধন টের পাবে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। রিসিভার নামিয়ে রেখে হেলতে-দুলতে নিজের ব্যাগের কাছে গিয়ে বসল টাকমাথা। প্র যাজকের সঙ্গে তার দূরত্ব এখন অনেকটা। অর্জুন আরও কয়েক সেকেন্ড টেলিফোনের পেছনে খরচ করল, যাতে কেউ তাকে সন্দেহ না করে। স্পষ্টতই একটা চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে সে। ওই টাকমাথা লোকটা একটি শয়তান। সে প্রযোজককে একরকম বোঝাচ্ছে আবার যাকে টেলিফোন করল তাকে আর-একরকম। কী ব্যাপারে এরা যুক্ত, সেটা অবশ্য বোঝা যাচ্ছে না। অর্জুন নিজেকে বোঝাল, পৃথিবীতে এরকম ঘটনা কতই না হচ্ছে, সব ব্যাপারে নাক গলানোর কী দরকার, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাহায্যের জন্য তার কাছে আসছে। ইউসুফভাইয়ের পাশে এসে বসতেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, পেলেন?

    পেলাম মানে? অর্জুন বুঝতে পারল না।

    টেলিফোনের লাইন তো বেশিরভাগ সময় পাওয়া যায় না।

    অর্জুন বাস্তবে ফিরে এল, ও হ্যাঁ, তা ঠিক।

    এই সময় সিঙ্গাপুরগামী একটি প্লেনের যাত্রীদের জন্য কিছু ঘোষণা করা হল। ইউসুফভাই বললেন, ভারী অদ্ভুত জায়গা এই সিঙ্গাপুর আর ব্যাঙ্কক। ওসব জায়গা থেকে যারা আসে তাদের সম্পর্কে খুব সচেতন থাকে বাংলাদেশ এবং ভারতের কাস্টমস অফিসাররা। স্মাগলাররা অবশ্য খুব স্মার্ট।

    স্মাগলিং হয় ওখান থেকে?

    অত্যন্ত। বেকার ভাল যুবকদের সামান্য টাকার লোভ দেখিয়ে ওরা পাপচক্রে লাগিয়ে দিয়েছে। যাকগে, আপনি তো প্রথম ঢাকায় যাচ্ছেন, ওঠার জায়গা কি ঠিক আছে?

    না। কোনও হোটেলে উঠব।

    হোটেল? ইউসুফভাই যেন আঁতকে উঠলেন, আমি থাকতে আপনি হোটেলে উঠবেন মানে? এ কীরকম কথা!

    অর্জুন হাসল, আপনি আমাকে চেনেন না, জানেন না।

    ছাড়েন। হঠাৎ নিজস্ব শব্দ বেরিয়ে এল ইউসুফভাইয়ের মুখ থেকে, আমি মানুষের মুখ দেখলেই বুঝতে পারি কে ভাল, কে মন্দ।

    অর্জুন কথা বাড়াল। অচেনা মানুষকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আতিথ্য দেওয়ার চল পশ্চিমবাংলায় নেই, বাংলাদেশে হয়তো আছে। কিন্তু সে পরে ভদ্রলোককে বুঝিয়ে কোনও হোটেলে চলে যাবে। খানিক বাদেই ঢাকাগামী যাত্রীদের বিমানের দিকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হল। সবাই হুড়মুড়িয়ে গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্জুন উঠে দাঁড়ালে ইউসুফভাই বললেন, ভিড় একটু হালকা হোক। আমাদের ফেলে রেখে তো বিমান যাবে না।

    অর্জুন দেখল টাকমাথা ভিড়ের মধ্যে ঢুকে গিয়েছেন। প্রযোজক এবং অভিনেত্রী সম্ভবত ইউসুফভাইয়ের মতোই অপেক্ষায় বিশ্বাসী। শেষপর্যন্ত প্রায় সব যাত্রী চলে গেলে অর্জুনরা এগোল। প্যাসেজ দিয়ে নেমে এসে প্লেনের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির দেখা পেল ওরা। সেখানে আগে আসা কিছু যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। ইউসুফভাইয়ের সঙ্গে গাড়িতে উঠতেই অর্জুন টাকমাথাকে দেখতে পেল। হঠাৎ ইউসুফভাই বলে উঠলেন, আরে মিস্টার ঘোষ, কবে এসেছিলেন কলকাতায়?

    টাকমাথা তাকালেন। তারপর হাসার চেষ্টা করলেন, এই তো, কদিন আগে।

    অনেকদিন পরে আপনাকে দেখলাম।

    হ্যাঁ, আমিও।

    এখনও কালীগঞ্জে আছেন?

    মাঝে-মাঝে যাই। টাকমাথা, যাঁর নাম মিস্টার ঘোষ, তাঁর যেন কথা বলতেই ইচ্ছে করছিল না। প্লেনের সামনে পৌঁছে যেতেই সবাই যে যার মতো নেমে প্লেনে উঠল। ছোট প্লেন। অর্জুন আর ইউসুফভাইয়ের আসন পাশাপাশি। মিস্টার ঘোষ অনেক পেছনে। একটু পরে প্রযোজক এবং অভিনেত্রীকে প্লেনে উঠে সামনে বসতে দেখা গেল।

    হঠাৎই অর্জুন জিজ্ঞেস করল, বাসে যার সঙ্গে কথা বললেন তিনি কী করেন?

    সঠিক জানি না। বোধ হয় বিজনেস। আমার সঙ্গে আলাপ বিমানে কলকাতায় যাতায়াতের পথে। আগে মাঝে-মাঝেই দেখা হত, এখন হয় না। কালীগঞ্জে বাড়ি। ইউসুফ বললেন।

    কালীগঞ্জটা কোথায়?

    ঢাকা থেকে এখন ঘণ্টা দেড়েক লাগে। আগে ট্রেনে গিয়ে নৌকো করে যেতে হত। এখন সুন্দর রাস্তা হয়ে গিয়েছে। প্রচুর হিন্দু পরিবার সেখানে এখনও বাস করেন।

    এই ভদ্রলোকের পুরো নাম কী?

    জানি না ভাই। আলাপ হওয়ার সময়, হাঁ মনে পড়েছে, এ. বি. ঘোষ বলেছিলেন। এর পরে বি বলেই মনে আছে।

    বিমান কলকাতা ছাড়ল। অর্জুন তাকিয়ে দেখল, নীচে হিরের মতো কলকাতার আলো জ্বলছে। তারপরেই আকাশের ওপরে আকাশ। এয়ার হোস্টেসদের আনাগোনা, খাবার দেওয়া ইত্যাদিতে মন ছিল না ওর। কালীগঞ্জের এ. বি. ঘোষ তাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। বি কি বিহারীর আদ্যক্ষর? এই লোকটির কথা জলপাইগুড়ির পবনবিহারী জানেন না। কালীগঞ্জের লোক যখন, তখন পবনবিহারীর দূর সম্পর্কের আত্মীয় হতে পারেন। কিন্তু মানুষটি যে সুবিধের নয়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    জিয়া আন্তজাতিক বিমানবন্দর ছোট, কিন্তু ছিমছাম। হাতব্যাগ নিয়ে অর্জুন দ্রুত এ. বি. ঘোষের পেছনে চলে এল প্লেন থেকে নামার সময়। ভদ্রলোক কোনওদিকে তাকাচ্ছেন না। বাঁ দিকে ডিউটি-ফ্রি শপের প্রলোভন তাঁকে টানল না। ইমিগ্রেশনের কাউন্টারে পৌঁছে সোজা নিজের পাশপোর্ট বের করলেন স্ট্যাম্প মারানোর জন্য। ওঁর পেছনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেল না অর্জুন। এখানে বিদেশিদের জন্য আলাদা কাউন্টার। এ. বি. ঘোষ বাংলাদেশের মানুষ বলে যে কাউন্টার থেকে পাশপোর্টে ছাপ মারালেন, সেখানে অর্জুনের দাঁড়ানো। নিষেধ।

    কিন্তু ভদ্রলোককে পাওয়া গেল লাগেজ নেওয়ার জায়গাটিতে। চুপচাপ একটা ট্রলি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। এরকম লোকের সঙ্গে গায়ে পড়ে কথা বলা ঠিক নয়। নিজের সুটকেসের জন্য অর্জুন অপেক্ষা করছিল এমন সময় ইউসুফভাই পাশে এসে দাঁড়ালেন, কী ভাই, ওইভাবে দৌড়লেন কেন?

    অর্জুন হাসল। এই প্রশ্নের জবাব দেওয়া যায় না।

    আমার মনে হচ্ছে ওই ভদ্রলোক সম্পর্কে আপনি উৎসুক।

    কিছুটা। অর্জুন স্বীকার করল।

    আসেন আমার সঙ্গে। ইউসুফভাই এগিয়ে গেলেন এ. বি. ঘোষের দিকে। অতএব অর্জুন নিরীহ মুখে অনুগামী হল। কাছে গিয়ে ইউসুফভাই বললেন, আজ রাত্রে নিশ্চয়ই ঢাকায় থাকবেন?

    আমি তো এখন ঢাকায় থাকি! ভদ্রলোক জবাব দিলেন।

    ঢাকায় কোথায়?

    বনানীতে।

    আমি গুলশনে। কার্ডটা রাখুন। পকেট থেকে নিজের কার্ড বের করে দিলেন ইউসুফভাই।

    থ্যাঙ্ক ইউ। কার্ড নিলেন এ. বি. ঘোষ, আপনি প্রায়ই ইন্ডিয়ায় যান?

    ব্যবসার কাজে যাইতেই হয়। এঁর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই। আমার ভাইয়ের মতন। অর্জুন। বাংলাদেশ দেখতে এসেছে। তা আমি বললাম ঢাকা শহর মানে বাংলাদেশ না। যেতে হবে গ্রামে। আমার মৈমনসিংহে বাড়ি। কিন্তু সেখানে কেউ নেই। ইউসুফভাই কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা-কলকাতার ভাষা মিশিয়ে।

    অর্জুন নমস্কার করল। এ. বি. ঘোষ অভ্যস্ত ভঙ্গিতে হাত বাড়ালেন, আমি এ. বি. ঘোষ। ঢাকায় আগে কখনও এসেছেন?

    না। এই প্রথমবার।

    হোটেলে উঠবেন?

    অর্জুন জবাব দেওয়ার আগে ইউসুফভাই বললেন, না, না আমার বাসায়।

    এ. বি. ঘোষ বললেন, আমাদের কালীগঞ্জ একসময় খুব বর্ধিষ্ণু গ্রাম ছিল। বরিশাল অথবা নোয়াখালির গ্রামের মতো নয়, তবু একটা চরিত্র আছে। ইউসুফভাইয়ের সঙ্গে চলে আসতে পারেন।

    এই সময় সুটকেসগুলো নিয়ে বেল্ট পাক খেতে লাগল। সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠল নিজের জিনিসপত্র তুলে নিতে। ভিড়টাও বেড়ে গিয়েছিল। ট্রলিতে সুটকেস চাপিয়ে ইউসুফভাইয়ের সঙ্গে কাস্টমসের বেড়া ডিঙিয়ে যখন অর্জুন বেরিয়ে, এল বাইরে তখন এ. বি. ঘোষ অদৃশ্য হয়েছেন। প্রযোজক এবং অভিনেত্রীকে রিসিভ করতে অনেক মানুষ এসেছেন এয়ারপোর্টে।

    বাইরে বেরিয়ে আসতেই একটা লোক সামনে দাঁড়াল, সালাম ছার। গাড়ি আনছি।

    ইউসুফভাই জিজ্ঞেস করলেন, সব খবর ভাল?

    জি।

    চল। আসুন অর্জুনবাবু।

    হাঁটতে-হাঁটতে অর্জুন বলল, আপনি যদি আমাকে একটা মাঝারি হোটেলে নামিয়ে দেন …।

    হোটেল? আমি থাকতে আপনি হোটেলে উঠবেন, একথা বললেন কী করে?

    ইউসুফভাই, আপনি আমাকে এখনও ভাল করে চেনেন না।

    আরে রাখেন ভাই! ব্যবসায়ী লোক, মুখ দেখেই মানুষ চিনতে পারি। চলেন।

    ঢাকার রাস্তায় যেসব গাড়ি চলে তার প্রায় সবগুলোই জাপানের গাড়ি। তাদের চেহারা সুন্দর, চলেও ভাল। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে অর্জুনের মনে হচ্ছিল সে বুঝি আমেরিকা অথবা ইউরোপের কোনও শহরে এসেছে। তারপরেই চোখ এবং মন জুড়িয়ে গেল। রাস্তার দুদিকে যত নির্দেশাবলী, তা বাংলায় লেখা। মাঝে-মাঝে কিছু স্লোগান লেখা রয়েছে, যেমন, সবার জন্য ডাল-ভাত। আরামদায়ক গাড়ির মধ্যে বসে অর্জুনের মনে হল, বাঙালি হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করার ব্যাপারে এরা খুবই সচেতন। তার ভাল লাগছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article তেরো পার্বণ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }