Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প622 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. অদ্ভুত শব্দটা কানে আসতেই

    অদ্ভুত শব্দটা কানে আসতেই মেজর দাঁড়িয়ে গেলেন। শব্দটা অনেকটা শিএর মতো। একটানা কিছুক্ষণ বেজে থেমে যাচ্ছে। পৃথিবীর অনেক জঙ্গলে মেজর ঘুরেছেন। সে-তুলনায় ড়ুয়ার্সের এই জঙ্গল কিছুই নয়। গাছগুলো তেমন ঘন নয়, হিংস্র প্রাণী নেই বললেই চলে। নেহাত কপালে লেখা না থাকলে বুড়ো বাঘ বা গণ্ডাবে দর্শন পাওয়া যায় না। অর্জুনের সঙ্গে দৌড়তে দৌড়তে আছাড় খেয়ে পড়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন হাত পা ভেঙেছে। কিছুই হয়নি টের পেয়ে মনে হল জঙ্গলটা একবার দেখে নেওয়া যাক। এই জঙ্গলের কোনও এক বিশেষ জায়গায় সেই বিষফুল ফোটে। অর্জুন বা অমল সোমের আগে যদি তিনি সেটা আবিষ্কার করতে পারেন, তা হলে তাঁর খ্যাতি বাড়বে। জঙ্গলের ভেতর গাড়ি চলার পথ ধরে দুবৃত্তরা এখন যতই ছোটাছুটি করুক, তার নাগাল পাবে না।

    শিসের আওয়াজ লক্ষ করে মেজর এগোলেন। শব্দটা বাড়ছে স্পষ্ট হচ্ছে, অর্থাৎ কাছাকাছি শব্দের উৎস আছে। মেজর সতর্ক হলেন। পায়ের তলায় বুনো ঘাস আর শুকনো পাতার ছড়াছড়ি। হঠাৎ শব্দটা থেমে গেল। যেন তাকে দেখতে পেয়েই থামল। মেজর স্থির হয়ে দাঁড়ালেন। হঠাৎ ঝটপট শব্দ হল। একটা ছোট হরিণ ছুটতে ছুটতে গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। মেজরের মাত্র হাত-আটেক দূরে দাঁড়িয়ে সে অবাক চোখে তাকাল। বড় মায়া হল ওকে দেখে। একটা কালো গাছের গুড়ির পাশে হরিণটা দাঁড়িয়ে তাঁকে দেখছে। মেজর জিভে শব্দ করতেই হরিণটা গাছের দিকে সরে গেল। এবং তখনই ঘটনাটা ঘটে গেল। গাছের শরীর আচমকা চওড়া হয়ে হরিণটাকে ঢেকে ফেলল। ছোট্ট প্রাণীটির শরীর মুহূর্তেই কালো হয়ে গেল। একটু ঝটপটানির সময় বিচ্ছিন্ন হল গাছ কিন্তু সেটা কয়েক মুহূর্তের জন্য, আবার তা জোড়া লেগে গেল গাছের গায়ে। শুধু গুঁড়ির কাছটা ফুলে রইল হরিণের শরীরের জন্য। এরকম বিস্ময়কর ব্যাপার এই জঙ্গলে ঘটতে পারে, মেজর কল্পনাও করেননি। শুধু এই জঙ্গল কেন, পৃথিবীর কোথাও কোনও গাছ শরীর বাড়িয়ে হরিণের বাচ্চাকে খেয়ে নিতে পারে তা কেউ কি কখনও বিশ্বাস করবে? ঝটপটানির সময় গাছ যখন বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, তখন অংশটিকে কয়েক মুহূর্তের জন্যে নড়তে দেখেছিলেন তিনি। এখনও মনে হচ্ছে জায়গাটা নড়ছে। পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে দূরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে তাঁর চোখ চড়ক গাছ হয়ে গেল। গাছ নয়। গুড়িটার অনেকটা জুড়ে রয়েছে বিশাল বিশাল কালো পিপড়ে। গায়ে গায়ে এমন চাপ বেঁধে রয়েছে, সামান্য দুর থেকেও তাদের আলাদা করে চেনা যাচ্ছে না। মাংসখেকো পিপড়ে। এদেরই এক স্বজাতি আফ্রিকার জঙ্গলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটা হাতির বাচ্চাকে সাবাড় করে দিতে পারে। কিন্তু তারা থাকে ঢিবির মধ্যে লুকিয়ে। এভাবে গাছের শরীরে লেপ্টে ঝুলে থেকে শিকারের জন্য অপেক্ষা করার বুদ্ধি তাদের নেই। যত ছোটই হোক হরিণটা পিপড়েগুলোকে নিয়ে ছুটে দূরে চলে যেতে পারল না। অর্থাৎ চটজলদি মেরে ফেলার কায়দা পিপড়েগুলো জানে। এখন দল বেঁধে হরিণটাকে খেয়ে নিচ্ছে ওরা। হয়তো আগামী কাল কিছু হাড় খুঁজে পাওয়া যাবে ওখানে। মেজর গাছটার আশপাশে কোনও পুরনো হাড় দেখতে পেলেন না। তিনি রুমালে মুখ মুছলেন। হরিণটার বদলে তিনি যদি গাছটার পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিতেন? পিপড়ের বিষ যদি তাঁকে অসাড় করে দিত, তা হলে তিনি কিছুই করতে পারতেন না। অর্জুনরা হাড়গোড় দেখে কি তাকে চিনতে পারত।

    সন্তর্পণে জায়গাটা এড়ালেন তিনি। এমন তো হতেই পারে, পিপড়েগুলো এক জায়গায় রোজ থাকে না। খানিকটা যাওয়ার পর একটা পরিষ্কার গাছের গোড়ায় কিছু হাড় পড়ে থাকতে দেখে তাঁর ধারণা সত্যি বলে প্রমাণ পেলেন। তিনি ঠিক করলেন, কাল সকালে ক্যামেরা নিয়ে এসে ছবি তুলবেন এবং একটা শিশিতে কয়েকটা জ্যান্ত পিঁপড়ে ধরে নিয়ে যাবেন প্রমাণ হিসেবে।

    বিকেল ফুরিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গলে অন্ধকার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মেজর বুঝলেন এবার তাঁকে ফিরতে হবে। যত হালকা জঙ্গলই তোক না কেন, রাত নামলে তার চেহারা বদলে যায়। কিন্তু কিছুটা পথ হাঁটার পর তাঁর মনে হল, বাংলোর দিকে তিনি যাচ্ছেন না। তখন কোন পথে এদিকে চলে এসেছেন তা যেন ঠাওর করতে পারছেন না। এবং তখনই তিনি ডালপালা ভাঙার শব্দ পেলেন। দিনের আলো তখন নিভুনিভু। অভিজ্ঞতা থেকে মেজর বুঝলেন, ওই শব্দ হাতি কিংবা বাইসন ছাড়া কেউ করতে পারে না। এই জঙ্গলে গণ্ডার আছে কি না জানা নেই, তবে তাদের চরিত্র তাঁর জানা নেই। তিনি দৌড়াতে লাগলেন।

    ভারী শরীর নিয়ে কিছুক্ষণ ছোটার পর দম নেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন মেজর। এই জঙ্গলে দ্রুত ছোটাও সম্ভব নয়। কিন্তু এতেই তাকে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে হচ্ছিল। সেটা স্বাভাবিক হতে-না-হতেই অদ্ভুত একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে এল। সঙ্গে সঙ্গে মেজরের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। শরীরে সেই ভাবটা ছড়িয়ে যাচ্ছিল। মেজর দ্রুত পিছু হটতে লাগলেন। যখন গন্ধটা আর নাকে নেই, তখন উবু হয়ে বসে পড়লেন তিনি।

    এখন চারপাশে পাখির চিৎকার ছাড়া কোনও শব্দ নেই। ধাতস্থ হতে বেশ কিছুটা সময় লাগল। উঠে দাঁড়িয়ে মেজর উত্তেজিত হলেন। তাঁর মনে হল তিনি পেয়ে গেছেন। যে-খবর বিদেশি কাগজে ছাপা হয়েছিল, তা মিথ্যে নয়। ওই গন্ধের বৃত্ত থেকে তিনি যদি সরে না আসতেন, তা হলে তাঁর মৃতদেহ আজ রাত্রেই জানোয়ারের খাবার হয়ে যেত। ওই বিষফুল অবশ্যই ওখানে আছে। তিনি জায়গাটা চেনার চেষ্টা করলেন। অন্ধকার এখন বেশ জমাট। তবু একটা পত্রহীন গাছকে তিনি চিহ্ন হিসেবে ঠিক করলেন। কাল দিনের আলো ফুটলেই এদিকে চলে আসতে হবে। মেজর পা বাড়ালেন।

     

    রেঞ্জার ততক্ষণে লোকজন জোগাড় করে ফেলেছেন। আহত লোকটিকে ইতিমধ্যে ফরেস্ট অফিসে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। রেঞ্জার স্বীকার করলেন মাঝে-মাঝেই দুবৃত্তরা জঙ্গলে হানা দেয়। তাদের তে এত আধুনিক অস্ত্র থাকে যে বাধা দেওয়ার সাহস তাঁরা পান না। আর এই লোকগুলোর পেছনে এদিকের কিছু ক্ষমতাবান মানুষ আছেন বলেই পুলিশও তেমন সক্রিয় নয়।

    কিন্তু মেজরের সন্ধানে তখনই একটা অভিযান সংগঠিত করতে তৎপর হয়েছেন রেঞ্জার। জঙ্গলে ভয়াবহ ঘটনা যে ঘটবে না, তা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারে না। অর্জুন খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিল সন্ধে নামতেই। রাত্রে মেজরের পক্ষে পথ চিনে আসা আরও দুরূহ হবে। অমল সোম গম্ভীর হয়ে। বেতের চেয়ারে বসেছিলেন, আহত লোকটিকে অনেক জেরা করেও তিনি জানতে পারেননি মোটর সাইকেল আরোহীর পরিচয় কী! কেন এসেছিল। লোকটা ঠোট টিপে যন্ত্রণার ভান করে গিয়েছে। অমল সোম বুঝেছেন ওটা ভানই, কারণ লোকটা খুব বেশি আহত হয়নি। এখানে এসেই নীল চ্যাটার্জির সঙ্গে বিরোধে যেতে হবে তিনি ভাবেননি। এই সব ফালতু ঝামেলা তাঁকে আসল কাজ করতে দেবে না।

    তিনি রেঞ্জারকে জিজ্ঞেস করলেন, নিম টি এস্টেট এখান থেকে কতদূর?

    মাইল দশেক।

    আগামীকাল সকালে সেখানে যাওয়া যাবে?

    নিশ্চয়ই। কাউকে খবর পাঠাতে হবে?

    পাঠানো ভদ্রতা। মিসেস ব্যানার্জি নামে এক ভদ্রমহিলা বোধ হয় ওই চা বাগানের মালিক। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাই।–অমল সোম বললেন।

    ঠিক এইসময় জঙ্গলের ভেতর গাড়ির আওয়াজ পাওয়া গেল। সন্ধে নেমে গেলে শুধু সরকারি অফিসার ছাড়া গাড়ি নিয়ে জঙ্গলে কেউ আসেন না। ঢোকার ব্যাপারে বিধিনিষেধ রয়েছে। রেঞ্জার উৎসুক হয়ে তাকালেন। ডি এফ ও সাহেব আসতে পারেন।

    কিন্তু বাঁক ঘুরে যে গাড়িদুটোকে আসতে দেখা গেল, তার প্রথমটা নীল জিপসি। গাড়ি দুটো দাঁড়িয়ে গেল বাংলোর সামনে। দরজা খুলে ড্রাইভার চিৎকার করে উঠল, অ্যাই, কে আছিস? সামনে আয়।

    অর্জুন উঠে দাঁড়াচ্ছিল, তাকে ইশারায় বসতে বলে রেঞ্জার এগিয়ে গেলেন, বলুন।

    ও তুমি এখানে। তা চাঁদু, হঠাৎ ডানা গজাল কেন?

    আমি আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না।

    বোঝাব। যে লোকগুলো আজ এসেছে, তারা কোথায়?

    ওঁরা আমাদের বড় সাহেবের গেস্ট।

    ঘোস্ট করে ছেড়ে দেব। নীল চ্যাটার্জি চিৎকার করল, অ্যাই! বেরিয়ে আয়।

    অমল সোম উঠে রেলিংয়ের পাশে দাঁড়ালেন।

    শোন! এই এলাকা আমার। এখানে থাকতে হলে আমার কথা শুনে চলতে হবে। নতুন লোকদের প্রথমবার আমি একটা সুযোগ দিই। এর পর কেউ যদি আমার কোন লোককে অপমান করে, তা হলে তাকে এমন শাস্তি দেব যে, বাছাধন উঠে দাঁড়াতে পারবে না। কান খাড়া করে শুনে নে তোরা। অ্যাই রেঞ্জার, আমার নোকটা কোথায়?

    তাকে ফরেস্ট অফিসে রাখা হয়েছে।

    নীল চ্যাটার্জি ইশারা করতে পেছনের গাড়িটা বেরিয়ে গেল। ওই গাড়ি যে। জলপাইগুড়ির বরেন ঘোষালের ছোট ভাই চালাচ্ছে, তা বুঝতে অসুবিধে হল না। এবার নীল জিজ্ঞেস করল, এখানে কেন আসা হয়েছে?

    সম্বোধন তুই থেকে তুমিতে উঠল। অমল সোম কোনও জবাব দিলেন। রেঞ্জার বললেন, বেড়াতে। বললাম তো বড়সাহেবের গেস্ট ওঁরা।

    বেড়ানোর আর জায়গা পেল না। আমার সঙ্গে যারা লাগে, তাদের প্রথমবার সতর্ক করি। দ্বিতীয়বারে ঠাকুদার নাম ভুলিয়ে দিই। তৃতীয়বারে বাবার নাম আর চতুর্থবার নিজের। প্রথমবার হয়ে গেল আজ। গাড়িতে উঠে বসল নীল চ্যাটার্জি। তারপর গাড়ি ঘুরিয়ে যেমন এসেছিল তেমন বেরিয়ে গেল।

    রেঞ্জার উঠে এল ওপরে, সরি স্যর। বুঝতেই পারছেন কী অবস্থায় আছি।

    অমল সোম বললেন, ছেলেটা আপনার সঙ্গে ওইরকম ব্যবহার করল, আপনি কিছু বলতে সাহস পেলেন না। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে আপনি কি কিছুই করতে পারেন না?

    আমি বড়সাহেবকে বলেছি। থানায় জানানো হয়েছে। কিন্তু থানা যদি অ্যাকশন না নেয়, তা হলে তো আমরা অসহায়। শুধু-শুধু আপনাকেও অপমান করে গেল, বড়সাহেব জানলে আমার মুখ দেখানোর উপায় থাকবে না। রেঞ্জারকে দুঃখিত দেখাচ্ছিল।

    এবার অর্জুন কথা বলল, অমলদা, আপনি কেন চুপ করে রইলেন?

    কথা বলার সময় তখন ছিল না, অর্জুন। উন্মাদের হাতে অস্ত্র থাকলে তাকে এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যাক, ওরা যে-জন্যে এসেছিল তা সফল হল। অমলদার দৃষ্টি লক্ষ করে ওরা দেখল দ্বিতীয় গাড়িটা বাংলোর সামনে দিয়ে দ্রুত চলে গেল। অর্জুন বলল, লোকটাকে নিয়ে গেল?

    সেটাই তো স্বাভাবিক। অমল সোম বললেন।

    সার, আপনি নিম টি-এস্টেটে যেতে চাইছিলেন, ওখানেই নীলবাবু থাকেন।

    ঠিকই। সেজন্যেই যাচ্ছি। অমল সোম বললেন, আর দেরি করবেন, বেরিয়ে পড়ুন।

    বাংলোর বাইরে এখন ঘন অন্ধকার। গোটাদুয়েক টর্চ, চারজন বনকর্মী, যাদের হাতে অস্ত্র বলতে লাঠি, জঙ্গলে ঢুকল। অর্জুন রেঞ্জারের সঙ্গে হাঁটছিল।

    অর্জুন বলল, লোকটা ওই রকম অসভ্য ব্যবহার সবার সঙ্গে করে?

    হ্যাঁ। তবে যেখানে স্বার্থ থাকে, সেখানে যথেষ্ট ভদ্রলোক। আসলে কী করে জানি না ও কয়েক বছরের মধ্যে প্রচণ্ড প্রভাবশালী হয়ে পড়েছে। কেউ ঘাঁটাতে সাহস পায় না। চাকরির জন্যে আমি এই বনবাদাড়ে পড়ে আছি। ও ইচ্ছে করলে আমার বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে।

    নীল চ্যাটার্জি কি শুধু চায়ের ব্যবসাই করে?

    ওর যে কীসের ব্যবসা নেই, সেটাই বোঝা মুশকিল।

    রেঞ্জারের নির্দেশে কর্মীরা চিৎকার করতে লাগল। টর্চের আলো গাছেদের গায়ে-গায়ে ধাক্কা খাচ্ছিল। অর্জুন চিৎকার করল, মেজর। মেজর! শুনছেন?

    কিন্তু কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না।

    হঠাৎই গাছের আড়াল থেকে একটা লোক বেরিয়ে এল। টর্চের আলো তার ওপর পড়তেই লোকটা চট করে আড়ালে চলে গেল। রেঞ্জার চিৎকার করলেন, কে ওখানে?

    গলা ভেসে এল, আপনারা যাকে খুঁজছেন, তিনি বোধ হয় ওপাশের গর্তে পড়ে আছেন।

    তুমি কে? রেঞ্জার ধমকে উঠলেন।

    কোনও উত্তর এল না। বেঞ্জার কর্মীদের হুকুম দিলেন, ধরো তো লোকটাকে।

    কিন্তু টর্চের আলোয় লোকটাকে খুঁজে পাওয়া গেল না। রাতের অন্ধকারে কাছাকাছি গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও হদিস পাওয়া সম্ভব নয়। লোকটা জঙ্গলে আনাড়ি নয়।

    রেঞ্জার বলল, অদ্ভুত ব্যাপার! অন্ধকারে চিনতে পারলাম না, কিন্তু রাত-বিরেতে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর মতো লোক তো এই অঞ্চলে নেই।

    অর্জুনের মাথায় তখন মেজরের চিন্তা। সে রেঞ্জারকে বলতেই মেজরকে খুঁজে বের করতে আর সময় লাগল না। শুকনো পাতায় ভর্তি একটা গর্তে মেজর পাশ ফিরে শুয়ে আছেন, টর্চের আলোয় মনে হচ্ছিল আরামে ঘুমোচ্ছেন। কিন্তু তিনি যে অজ্ঞান হয়ে আছেন, সেটা টের পেতে দেরি হল না। বনকর্মীরা ধরাধরি করে ওঁকে বের করে নিয়ে এলেন। অর্জুন মুখের কাছে হাত নিয়ে গিয়ে বুঝল নিঃশ্বাস পড়ছে।

    বিস্তর ডাকাডাকির পর মেজর চোখ খুললেন। কিন্তু তাঁর কথা বলার সামর্থ্য ছিল না। বনকর্মীদের সাহায্যে ওঁকে জঙ্গল থেকে বের করে নিয়ে আসা হল। বাংলোর বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার পর অর্জুন জিজ্ঞেস করল, এখানে ডাক্তার পাওয়া যাবে না?

    রেঞ্জার বললেন, আশেপাশের প্রতিটি চা বাগানে একজন করে ডাক্তার আছেন, কিন্তু এই রাত্রে তাঁরা কেউই আসবেন না। আপনি যদি চান, তা হলে গাড়ি বের করে ওঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি। শরীরে কোনও ক্ষতচিহ্ন নেই, কিছু হলে হার্টের ব্যাপার হতে পারে।

    অমল সোম বিছানার পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বললেন, একটু দেখি।

    তিনি ওঁর নাড়ি পরীক্ষা করলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, খুব দুর্বল লাগছে?

    মেজর কোনওমতে শব্দ উচ্চারণ করতে পারলেন, হু।

    অমল সোম অর্জুনকে বললেন, একটু গরম দুধ খাইয়ে দিলে কাজ হতে পারে।

    গরম দুধ পেতে অসুবিধা হল না। বাবুর্চি সেটা এনে দিতে অর্জুন একটু একটু করে মেজরকে খাইয়ে দিল। অমল সোম বললেন, ওকে এবার ঘুমোতে দাও।

    একজনকে অপেক্ষা করতে বলে রেঞ্জার বাকি বনকর্মীদের ছেড়ে দিলেন। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে রেঞ্জার বললেন, অদ্ভুত ব্যাপার ঘটছে আজ। ভদ্রলোক অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইলেন আর সেই খবরটা দিয়ে গেল ভূতের মতো একজন। না হয় বুঝলাম চুরিটুরির ধান্দায় লোকটা জঙ্গলে ঢুকেছিল। কিন্তু আমাদের খবর দেওয়ার গরজ তো হওয়া উচিত নয়।

    অমল সোম বললেন, হ্যাঁ। এই ব্যাপারটা অদ্ভুত। তবে অপরাধীদের মনেও মাঝে মাঝে বিবেক জেগে ওঠে। জেল পালানো অথবা গ্রেপ্তার এড়ানো অপরাধীদের কাছে এই জঙ্গল তো লুকিয়ে থাকার পক্ষে দারুণ।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, কিন্তু মেজর তো অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ভীরু নন।

    সেটা উনি জেগে না উঠলে বোঝা যাবে না। যাক, আজ অনেক হয়েছে। এবার খেয়ে নাও। রেঞ্জারসাহেব, আপনিও এখানে খেয়ে নেবেন নাকি?

    রেঞ্জার আপত্তি জানালেন, না, না,। আমি এবার চলি। বাবুর্চি, সাহেবদের খানা লাগাও। বাবুর্চি বারান্দার এককোণে দাঁড়িয়ে ছিল, আদেশ পাওয়া মাত্র নীচে নেমে গেল।

    রেঞ্জার বললেন, কাল সকাল আটটায় গাড়ি পাঠাব?

    বেশ। অমল সোম মাথা নাড়লেন।

    ঠিক তখনই চিৎকার শোনা গেল। বাবুর্চি চেঁচাচ্ছে। রেঞ্জারের পেছন পেছন ছুটে গেল অর্জুন। কিচেনেল দরজা খোলা। বাবুর্চি তাদের দেখে হাউমাউ করে বলল, কোই আদমি খানা চুরি কিয়া সাব। সবজি আউর রোটি লে লিয়া।

    কিচেনের পেছন দিকের জানলা খোলা। রেঞ্জার জানালা দিয়ে টর্চের আলো ফেলতে কাউকে দেখা গেল না। একচিলতে মাঠ, মাঠের পর জঙ্গল।

    বাবুর্চি যে পাত্রে রুটি রেখেছিল, তার ঢাকনা একপাশে পড়ে আছে। অর্ধেক রুটি নেই, সঙ্গে নেই সবজির বড় বাটি। অথচ চিকেনে হাত দেয়নি চোর।

    রেঞ্জার বললেন, কেউ যদি খাবার চুরি করতে আসে, তা হলে আগে চিকেন নেবে। এ কী ধরনের চোর? তুমি দরজা বন্ধ করে যাওনি?

    হ্যাঁ সাব। তালা নেহি দিয়া।

    ঠিক আছে। যা আছে তাই সাহেবদের দিও। রেঞ্জার বেরিয়ে এলেন।

    অর্জুন বলল, এই চোর দেখছি নিরামিষ খেতে অভ্যস্ত।

    খাওয়াদাওয়ার শেষে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে অর্জুনের মনে পড়ে গেল। সুন্দর এখন জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পার্বতী বড়ুয়া বলেছিলেন যে, এদিকের জঙ্গলে ফল নেই, মাটি খুঁড়ে কিছু অবশ্য পাওয়া যায়। সুন্দরকে খাদ্য সমস্যায় পড়তে হবে। এই চোর সুন্দর নয় তো? সে কণ্ঠস্বর মনে করার চেষ্টা করল। একদিন সুন্দর তার সঙ্গে কথা বলেছে, স্বর মনে রাখা তাই সম্ভব নয়। কিন্তু সুন্দর কি অত দূর থেকে এখানে চলে এসেছে পায়ে হেঁটে? আর এই এলাকাটা তো নীল চ্যাটার্জির বাগানের কাছে। সুন্দরের পক্ষে তো দূরত্ব বাড়ানোই স্বাভাবিক, নীলের কাছাকাছি জঙ্গলে থাকবে কেন?

    এই সময় মেজর পাশের খাটে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কিছু বললেন।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, কিছু বলবেন?

    মাথা! মাথায় মেরেছে। আঃ। মেজর আবার নাক ডাকা শুরু করলেন।

    মেজরের মাথায় কে মারল? সুন্দর? কেন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article তেরো পার্বণ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }