Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প622 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. সাহাবুদ্দিন গাড়ি চালাচ্ছিলেন

    সাহাবুদ্দিন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ভদ্র চেহারার মানুষটির মুখে হাসি লেগেই আছে। পরিচয় করার সময় বললেন, আমাকে মনুভাই বলবেন।

    অতএব মনুভাইয়ের পাশে অর্জুন বসল। পেছনের আসনে ইউসুফভাই। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ, যাঁরা স্বাধীনতার পর জন্মেছেন, তারা বাংলা নাম পছন্দ করেছেন। তার আগের মানুষরা ডাকনামটাকেই আসল নামের সঙ্গে ব্যবহার করা শুরু করেছেন। মনুভাই গাড়ি চালাতে-চালাতে বললেন, নামের ব্যাপারে এখন আমরা আপনাদের থেকে এগিয়ে আছি। আচ্ছা, আপনাদের একটি মেয়ের আধুনিক নাম বলুন তো!

    অর্জুন মনে করার চেষ্টা করে না পেরে বুদ্ধদেব গুহর শরণাপন্ন হয়ে বলল, যোজনগন্ধা।

    মনুভাই বললেন, ভাল। তবে আমাদের মেয়েদের নাম এখন একা রাখা হচ্ছে। একা, স্নেহা।

    অর্জুন অবাক হল। কোনও বাঙালি তাঁর মেয়ের নাম একা রেখেছেন, তা সে ভাবতে পারছিল না।

    সুন্দর চওড়া রাস্তা দিয়ে গাড়ি ছুটে যাচ্ছিল। এদিকটায় রিকশার ভিড় কমে আসছে। ডানদিকের পাঁচিলঘেরা বিশাল বাড়িটি যে ঢাকার টেলিভিশন কেন্দ্র, তা ইউসুফভাই জানালেন। ক্রমশ নির্জন এলাকার সুন্দর সুন্দর বাড়ি নজরে এল। এসব বাড়িতে বিদেশি মানুষেরা বিপুল ভাড়া দিয়ে বাস করেন। তারপরেই শিল্প এলাকা। পেট্রল পাম্পের নামগুলোও চমৎকার। কোনওটা পদ্ম, কোনওটা মেঘনা। যমুনাও নাকি আছে। চল্লিশ মিনিট পরে দুপাশে গ্রামবাংলা এসে গেল। এবার হাইওয়ে ছেড়ে ডানদিকের অপেক্ষাকৃত ছোট রাস্তায় বাঁক নিল গাড়ি। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন পার হতেই দুপাশে আম কাঁঠালের গ্রামগুলো। মনুভাই বললেন, এগুলো এখন আর আগের মতো গ্রাম নেই। লোকে এখান থেকে ঢাকা শহরে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করে। চাকরিটাই গ্রামের মানুষদের আসল জীবিকা।

    একসময় গাড়িটা থামতে বাধ্য হল। একটি ছোট নদী সামনে। পাশে ব্রিজ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। নৌকো করে গাড়িটা পার করা হবে। মনুভাই বললেন, এটি শীতলক্ষ্যার একটা শাখা।

    অর্জুন দেখল খানিকটা দূরে গোটাকুড়ি ছাউনি দেওয়া নৌকো বাঁধা আছে। নৌকোর ওপর যারা বসে, তাদের বেদে-বেদেনি বলে মনে হচ্ছিল। মনুভাই বললেন, , ওরা তাই। এই শাখা নদীটির একটি বিশেষত্ব আছে। এর বালি থেকে ঝিনুকের বুকে মুক্তো তৈরি হয়। কুড়ি-পঁচিশটা ঝিনুক তুলতে পারলে একটা মুক্তো আবিষ্কার করা অসম্ভব নয়। বেদেরা ওই মুক্তোর লোভে এই নদীতে আসে। অবশ্য এ. খন সরকার অনেক কড়াকড়ি করেছেন।

    গাড়িটা যতক্ষণে ওপারে না গেল, ততক্ষণ কাজে লাগাল অর্জুন। বেদেদের নৌকোর গায়ে চলে এল সে পাড় ধরে। বেদেদের চেহারা, পোশাক একই রকম হয়। তারা অর্জুন সম্পর্কে একটুও আগ্রহ দেখাল না। সে গায়ে পড়েই একজনকে জিজ্ঞেস করল, মুক্তো পেয়েছেন?

    লোকটা বিড়ি খাচ্ছিল নৌকোর গায়ে হেলান দিয়ে। বলল, কিনবেন নাকি কত?

    না, মুক্তো কেনার ক্ষমতা আমার নেই।

    ঢাকায় থাকেন নাকি?

    না। আমি জলপাইগুড়ি থেকে এসেছি।

    জলপাইগুড়ি? লোকটা সোজা হয়ে বসল। তারপর চিল্কার করে সঙ্গীদের যা বলল, তা উচ্চারণের জন্য অর্জুনের বোধগম্য হল না। কিন্তু কথাটা শুনে সবাই বেশ উত্তেজিত হয়ে উঠল। অর্জুন দেখল, সবাই তাকে নিয়ে উত্তেজিত আলোচনা শুরু করল। এবার প্রথম লোকটা বলল, দুধ-কলা খাওয়াইলেও সাপে ছোবল মারে। যে আসছিল সে কি আপনার পার্টনার?

    ইতিমধ্যে মনুভাই এবং ইউসুফভাই এসে পড়েছেন অর্জুনের কাছে। অনেক কষ্টে চিৎকার-চেঁচামেচি এবং হাতজোড় করে তাঁরা বেদেদের শান্ত করে উত্তেজনার কারণটা জানতে পারলেন। বেদেরা জানাল, কদিন আগে একটি ছেলে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে এখানে এসেছিল। বেদেরা তাকে আশ্রয় দেয়। দুদিন থাকে সে নৌকোয়। তখন বেদেরা জানতে পারে, সে এসেছে ইন্ডিয়ার জলপাইগুড়ি থেকে। হঠাই গতকাল ছেলেটি উধাও হয়ে গিয়েছে। যাওয়ার সময় একটি বেদের সংগ্রহ করা চারটে মুক্তোও নিয়ে গেছে। ওই মুক্তোগুলোর দাম যাই হোক না কেন, ওর বিশ্বাসঘাতকতা ভুলবে না এরা কখনও। অর্জুন। যেহেতু জলপাইগুড়ি থেকে এসেছে, তাই ওরা ধরে নিয়েছে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ আছে। মুক্তো ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত ওরা অর্জুনকে ছাড়বে না।

    শেষপর্যন্ত অনেক কথা খরচ করার পর ইউসুফভাইরা বেদেদের শান্ত করতে পারলেন। অর্জুন কথা দিল ছেলেটিকে দেখতে পেলে সে পুলিশের হাতে তুলে দেবে। কিন্তু এইসঙ্গে অর্জুনের একটা চিন্তা দূর হল। কাজল তা হলে এই পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে এবং অকুস্থলে পৌঁছলেও এত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে না পারার কথা। বেদেরা বলছে গতকাল সে এখান থেকে চলে গিয়েছে।

    নৌকো ওদের গাড়ি ওপারে পৌঁছে দিলে আবার চলা শুরু হল। মনুভাই বললেন, কী ব্যাপার বলুন তত? জলপাইগুড়ি থেকে হঠাৎ এই অঞ্চলে আপনার আগে আর-একজন তস্কর উপস্থিত হলেন কেন?

    আমার আগে আর-একজন তস্কর মানে? অর্জুন জিজ্ঞেস করল।

    সরি! আমার কথাটা ওইভাবে বলা ঠিক হয়নি। মনুভাই লজ্জিত হলেন।

    ইউসুফ বললেন, জলপাইগুড়ি থেকে কেউ যদি এসে বেদেদের প্রতারণা করে, তা হলে তার আসার কারণ অর্জুন জানবে কী করে মনুভাই?

    মনুভাই মাথা নাড়লেন, তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু অর্জুনভাই, যে-লোকটি এসেছে, সে সুবিধের নয়। আমার মনে হয় আপনার পরিচয় জলপাইগুড়ির লোক না বলাই ভাল। মানুষ খুব সহজে ভুল বোঝে।

    কথাগুলো ভাল না লাগলেও অর্জুন কিছু বলল না। হ্যাঁ, কাজল নিশ্চয়ই অন্যায় করেছে। ওই গরিব বেদের মুক্তো চুরি করেছে আশ্রয় পাওয়ার পরেও। এর কোনও ক্ষমা নেই। এই চরিত্র একদিনে তৈরি হয় না। অবনীবাবু ঠিক কাজ করেছেন ভিসার জন্য সুপারিশ না করে। কিন্তু টুকু কী করে এমন খারাপ ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করল!

    এখন রাস্তা ঘোট, কিন্তু পরিষ্কার। দুপাশের ছবি যেন বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে। যে-গ্রামবাংলার কাহিনী এবং কবিতা একসময় পাঠ্য বইয়ে পড়া যেত, তাই দুপাশে দৃশ্যমান। খুব ভাল লাগছিল অর্জুনের। মনুভাই বললেন, সামনেই খ্রিস্টানপাড়া। এখানকার সবাই খ্রিস্টান। অনেকেই ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে চাকরি করেন। ঢাকার বড় হোটেলগুলোর কর্মচারীরা এখান থেকেই যান। মিশনারিরা জায়গাটা চালান।

    পাঁচিলঘেরা একটি বিশাল এলাকায় সুন্দর ঘরবাড়ি, গিজা দেখা গেল। শান্ত, শব্দহীন। জানা গেল, অনেকেই সুযোগসুবিধে বেশি পাওয়ার আশায় এখানে এসে ধর্মান্তরিত হয়েছেন। কিন্তু এই নিয়ে এলাকায় কোনও ঝামেলা হয়নি। ভেতরের ব্যবস্থা নাকি অত্যন্ত আধুনিক।।

    খানিক বাদেই ক্ষুধিত পাষাণের বাড়িটির মতো একটি বিশাল বাড়িকে দেখা গেল। এটি নাকি জমিদারের পরিত্যক্ত বাসভবন। এখন সরকার এটাকে ভবঘুরেদের আশ্রম করেছেন। ঢাকা শহরের রাস্তা থেকে ভবঘুরেদের তুলে এনে এখানে রাখা হয়। তাদের অবশ্য এই নিরাপদে বেশিদিন থাকার বাসনা কখনওই হয় না।

    শেষপর্যন্ত কালীগঞ্জ এসে গেল। ঢোকার মুখেই বাজারের গায়ে একটি সুন্দর মসজিদ। এখানে একসময় বিশাল মাটির ঢিবি ছিল। জমিটা মনুভাইদের। তাঁর পূর্বপুরুষ ওই ঢিবি খুঁড়ে এই বাড়ি আবিষ্কার করে তাকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছেন।

    মনুভাই গাড়ি চালিয়ে চলে এলেন গ্রামের শেষপ্রান্তে। ওঁদের বাড়ির মধ্যেও একটি ছোট মসজিদ আছে। গাড়ি দেখে ছুটে এল অনেক মানুষ। এরা সবাই এই বাড়ির বিভিন্ন কাজে আছে। মনুভাই কাউকে চাচা, কাউকে খালা বলে ডেকে কাজের কথা বলতে লাগলেন। তারপর ইউসুফভাই এবং অর্জুনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বনি, আজ কী খাওয়াবেন?

    ওঁদের মধ্যে যিনি বৃদ্ধ তিনি বললেন, ছার, মেহমান আইছেন, তাঁদের সম্মান তো রাখতেই হইব। গ্রামের মানুষের যা ক্ষমতা তাই দিয়াই মেহমানদের সেবা করব।

    মনুভাই বললেন, অৰ্জুনবাবু, এ হচ্ছে ইদ্রিস, আমার ঠাকুদার আমলের মানুষ। ছেলেবেলায় ওর কোলে-পিঠে চড়েছি কত। আর এ হল দুর্গাদাস। বাবার সবসময়ের সঙ্গী ছিল।

    দুগার্দাস খুবই বৃদ্ধ, কিন্তু এখনও তার শরীর সোজা। নমস্কার করে বলল, পুরা নাম দুর্গাদাস কৈবর্ত। কতা আমারে ভালবাসতেন। যৌবনে ডাকাতি করতাম। এই বাড়ির পেছনে যে বিল, তার সব পানি আমার কথা শুনত। একদিন ধরা পড়লাম, জেল হল। কতা আমাকে এই বাড়িতে কাজ দিয়া বললেন, দুর্গা, এবারে আমারে বাঁচা। চারপাশে অনেক শত্রু। কে কাকে বাঁচায়। তিরিশ বছর তাঁর ছায়ার পাশে কোনও দুশমনরে আসতে দিই নাই, কিন্তু ভগবান যেদিন কর্তারে ডাক দিলেন সেদিন আমার মতো মানুষ.. দুর্গাদাস চোখের জল মুছল।

    এদের ভাল লাগছিল অর্জুনের। প্রচুর গাছগাছালি চারপাশে, বাড়ির ভেতর পুকুর। ওরা বাড়ির পেছনে যেতেই অর্জুন অবাক। আকাশের শেষ দেখা যাচ্ছে না, শুধু জল আর জল। মনুভাই বললেন, এই হচ্ছে কালীর বিল। এর কথাই দুর্গাদাস আপনাকে বলছিল। আগে এই বিল পেরিয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হত। ওই যে আকাশছোঁয়া বটগাছ দেখছেন, দূর থেকে ওটাকে দেখেই নৌকোর মাঝিরা দিক ঠিক করত।

    বিলের ধারে গাছের তলায় টেবিল, চেয়ার পেতে দেওয়া হল। অর্জুন, ইউসুফভাই সেখানে বসতেই মনুভাই কাজকর্মের কথা বলতে গেলেন। এখানে তাঁরা নতুন করে মাছচাষের প্রকল্প নিয়েছেন। ইদ্রিস এবং দুর্গাদাস ডাব নিয়ে এল প্রথমে। সেই ডাবের জল গাছের ছায়ায় বসে খোলা জলের দিকে তাকিয়ে খেতে-খেতে অর্জুনের মনে হল এর চেয়ে আরাম সে কখনও পায়নি। ইউসুফভাই জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা মিঞা, এখানে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভাব কীরমকম?

    ইদ্রিস বলল, জবাব দাও হে দুর্গাদাস।

    দুর্গাদাস বলল, ওই যে দেখতেছেন বাড়িঘর, ওখানে মোছলমানের বাস আর তার এদিকের বাড়িগুলান হিন্দুদের। বাপ-ঠাকুদার মুখেও ধর্ম নিয়ে কাউরে কাজিয়া করতে শুনি নাই। ওসব জিনিস শহরে হইলেও হইতে পারে, কালীগঞ্জে হয় নাই, হইব না।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, এখানে হিন্দু কত আছেন?

    অনেক। তবে বেশিরভাগই গরিব। থাকার মধ্যে আছেন ঘোমশাইরা। তবে তাঁদেরও অনেকে শহরে গিয়া আছে। এখন শেষদশা। ইদ্রিস জবাবটা দিল।

    ঘোষমশাইরা কি একসময় বড়লোক ছিলেন?

    হ্যাঁ ছার। বাপের মুখে শুনছি সেসব বৃত্তান্ত। এখন কিছু নাই।

    শহরে যাঁরা গিয়েছেন তাঁরা আর আসেন না?

    না বললেই হয়। আকাশবাবু মাঝে-মধ্যে আসেন।

    আকাশ।

    ইউসুফভাই মাথা নাড়লেন, সম্ভবত এ.বি.।

    অর্জুনের মুখে হাসি ফুটল। তা হলে এ.বি.র পুরো নাম আকাশবিহারী।

    গতকাল ইন্ডিয়ার এক মেহমান আসছেন ওই বাড়িতে।

    ইন্ডিয়া থেকে প্রায়ই লোক আসে বুঝি?

    না ছার। সেই বড় ঘোষবাবুর দেহ রাখার পর আসছিল, তারপর তো কাউরে দেখি নাই।

    ওঁদের বাড়িটা কত দুরে?

    কাছেই। দুর্গাদাস ঘুরে দাঁড়াল, ওই যে শিমুলগাছটা দেখতেছেন, ওইখানে।

    এই সময় মনুভাই ফিরে এলেন, কীরকম লাগছে আমাদের গ্রাম!

    দারুণ। বাংলাদেশে এসে যদি ঢাকা থেকেই ফিরে যেতাম, তা হলে কিছুই দেখা হত না। এত সুন্দর জায়গা, ইচ্ছে হচ্ছে কটা দিন থেকে যাই। অর্জুন বলল।

    থাকুন। কোনও সমস্যা নেই। এরা আপনার দেখাশোনা করবে। ঘরগুলো তো সব খালি পড়ে আছে। মনুভাই হাসলেন, কিন্তু আমাকে আজই ফিরে যেতে হবে। ইউসুফভাই, আপনিও থাকবেন নাকি?

    আমি তো বাড়িতে বলে আসিনি কিছু।

    সেটা আমি জানিয়ে দিতে পারি।

    তা হলে একটা দিন থাকা যায়।

    ভাত এবং মাছের ঝোল খেয়ে মনুভাই প্রায়-বিকেলে গাড়ি নিয়ে ফিরে গেলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন যখনই অর্জুনদের ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছে হবে, কালীগঞ্জের পোস্ট অফিস থেকে টেলিফোন করে দিলে দেড় ঘণ্টার মধ্যে ড্রাইভার এখানে গাড়ি নিয়ে আসবে।

    ধুলো উড়িয়ে ওঁর গাড়ি মিলিয়ে গেলে অর্জুন জিজ্ঞেস করল, ইউসুফভাই, আমার জন্য নিশ্চয়ই আপনার কাজকর্মের ক্ষতি হবে?

    সেটা সামলে নিতে পারব। কিন্তু ভাই, জীবনে কোনও রহস্য সন্ধানে শামিল হইনি। সুযোগ যখন পাওয়া গেল তখন হাতছাড়া করি কেন? একবার যাবেন নাকি ঘোষবাড়িতে? ইউসুফভাই জিজ্ঞেস করলেন।

    অর্জুন মাথা নাড়ল, এখনই নয়। আপনি নিশ্চয়ই দুর্গাদাসের কথাটা শুনেছেন। ওই বাড়িতে গতকাল একজন অতিথি এসেছেন ইন্ডিয়া থেকে।

    হ্যাঁ, শুনেছি।

    আমার ধারণা, এই অতিথিটিই বেদেদের মুক্তো চুরি করেছেন।

    কাজলবাবু? তা কী করে হবে? উনি তো ঘোষ নন।

    মুখার্জি। কিন্তু দূর দেশে এসে ঘোষ সাজতে অসুবিধে কোথায়? অবশ্য এসবই আমার অনুমান। হয়তো কাজল নয়। অন্য লোক এসেছেন। কিন্তু কাজল যদি হয়, তা হলে বলব সাহস আছে ওর। চলুন, গ্রামটা ঘুরে দেখি। বিকেলে হাঁটতে খারাপ লাগবে না। অর্জুন বলল।

    ইউসুফভাই হাত নেড়ে দূরে দাঁড়ানো ইদ্রিসকে ডাকলেন, আমরা একটু আপনাদের গ্রাম ঘুরে দেখতে যাচ্ছি।

    ইদ্রিস বলল, চলেন, আমিও আপনাদের সঙ্গে যাই।

    কালীগঞ্জের রাস্তায় এখনও পিচ পড়েনি। অবশ্য যে প্রধান পথে বাস চলাচল করে, সেটি পিচের। আজকাল এখানে ঢাকার বাস সরাসরি আসে। ইদ্রিস সঙ্গে থাকায় সুবিধে হচ্ছিল। বিভিন্ন বাড়ি, গাছ, মাঠ দেখিয়ে সে একটার পর একটা কাহিনী শুনিয়ে যাচ্ছিল। একটা বিরাট ঝাঁকড়া তেঁতুলগাছ দেখিয়ে ইদ্রিস বলল, এখানে ঘোষবাবুদের এক ছেলে গলায় রশি দিছিল।

    ইউসুফভাই জিজ্ঞেস করলেন, কত বছর আগে?

    তা ধরেন, যে বছর পাকিস্তান হইল সেই বছর।

    অর্জুন হেসে ফেলল। ছেচল্লিশ বছর ধরে কোনও ভূত তেঁতুলগাছে বসে থাকবে, এমন হতে পারে না। ভূতেদেরও কাজকর্ম থাকে। সেটা দেখে ইদ্রিস বলল, হাসবেন না ছার, অমাবস্যার রাইতে এখনও তিনি আসেন। ঘোষবাবুদের পুকুর থেকে মাছ ধরেন।

    আপনি দেখেছেন?

    বিমানবাবু দেখছেন।

    উনি কি নেশাভাঙ করেন?

    প্রশ্নটা ইদ্রিসের পছন্দ হল না। সে গম্ভীর হয়ে গিয়ে বলল, ইনশাআল্লা!

    দেখা গেল পুলিশের পোশাক পরা দুজন লোক সামনের পথ ধরে এগিয়ে আসছেন। ওঁদের একজন অবশ্যই অফিসার। ইদ্রিস বলল, সামনের দারোগাবাবু, খুব রাগী।

    ওরা যখন মুখখামুখি হল তখন দারোগাবাবু দাঁড়িয়ে গেলেন, নতুন মুখ দেখছি। মহাশয়দের পরিচয় জানতে পারি?

    ইদ্রিস বলল, ছার, ইনারা আমাদের বাবুর মেহমান।

    কোন বাবু?

    মনুভাই।

    ও। সাহাবুদ্দিন সাহেব এসেছেন নাকি?

    এবার ইউসুফভাই জবাব দিলেন, ওঁর সঙ্গেই আমরা এসেছিলাম। কিন্তু উনি কাজ থাকায় চলে গেছেন, আমরা থেকে গেলাম। আমি মোহম্মদ ইউসুফ। ঢাকায় থাকি, ব্যবসা করি। আর ইনি অর্জুন, ইন্ডিয়া থেকে বেড়াতে এসেছেন।

    ইন্ডিয়া থেকে? ওয়েস্ট বেঙ্গল? ওয়েস্ট বেঙ্গলের কোন পার্ট?

    জলপাইগুড়ি।

    সে কী! আপনি কবে এসেছেন এদিকে?

    আজই।

    অসম্ভব। আমার কাছে রিপোর্ট আছে আপনি কয়েকদিন আগে এদিকে এসেছেন অসুস্থ হয়ে। আপনাকে আমার সঙ্গে থানায় যেতে হবে।

    ইউসুফভাই কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, অর্জুন তাঁকে বাধা দিল, আমি আপনার সমস্যাটা বুঝতে পারছি। থানাটা কত দূরে?

    কাছেই। চলেন। মেঘ না চাইতেই পানি পেয়ে গেলাম।

    ওঁরা প্রায় পাহারা দিয়ে অর্জুনকে থানায় নিয়ে এলেন। ঘরে ঢুকে ইউসুফভাই বেশ রাগত গলায় বললেন, আপনি খুব ভুল করছেন। এখনই মনুভাইকে পাবেন না, ঘন্টা খানেক বাদে ঢাকায় ফোন করুন, উনি বলবেন অর্জুনবাবু আজই ওঁর সঙ্গে এসেছেন। আচ্ছা, আর-একটা কাজ করা যেতে পারে, আপনি আমার বাসায় ফোন করে জিজ্ঞেস করুন অর্জুন কবে এসেছে?

    আপনি কার হয়ে সওয়াল করছেন তা জানেন?

    জানি। উনি একজন সত্যসন্ধানী।

    কী সন্ধানী?

    সত্যসন্ধানী। খুব জোরে জবাব দিলেন ইউসুফভাই।

    ব্যাপারটা কী ভাই?।

    অর্জুন অস্বস্তিতে পড়ল। সে জবাব দিল, কিছু না। আপনার সমস্যা হল জলপাইগুড়ি শব্দটা। আমরাও আজ বেদেদের মুখে ঘটনাটা শুনেছি। আপনি যাকে খুঁজছেন তিনি আমি নই।

    অফিসার কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বসতে বললেন। ওরা বসার পর তিনি বললেন, আপনার কোনও আইডেন্টিটি কার্ড সঙ্গে আছে?

    পাশপোর্ট আছে।

    দেখি।

    অর্জুন পাশপোর্ট বের করে দিলে.ভদ্রলোক পাতা ওলটাতে লাগলেন, পরশু রাত্রে এসেছেন। অতএব সন্দেহ দূর হল। এটা বললেই হত। প্রফেশন টুথ ইনভেস্টিগেটার। মানে কী?

    সত্যসন্ধানী। জবাব দিলেন ইউসুফভাই।

    কী সত্য খোঁজেন আপনি?

    যে-সত্য আগে থেকে বোঝা যায় না।

    তার মানে আপনি ডিটেকটিভ?

    না। ডিটেকটিভরা অন্য ধরনের মানুষ। আমি সাধারণ।

    হুম! এখানে কোন সত্য খুঁজতে এসেছেন?

    এখানে এসেছি বাংলাদেশের গ্রাম দেখতে। সত্যিকারের গ্রাম।

    অফিসার চিৎকার করে চায়ের হুকুম দিয়ে বললেন, মশাই, সত্য খোঁজা আমাদের চাকরির মধ্যে পড়ে। সেটা খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাই আমরা। আর আপনারা মোটা টাকা দক্ষিণা নিয়ে সেই কাজটা করেন। গোয়েন্দা-উপন্যাসে পুলিশ যা পারে না, তাই গোয়েন্দারা পারে। আপনারা কি আমাদের চেয়ে বেশি বোঝেন?

    মোটেই নয়। আমি গোয়েন্দাও নই।

    শুনুন। জলপাইগুড়ি থেকে এক জোচ্চোর এখানে এসেছে। অবশ্য কালীগঞ্জেই যে আছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। এখানে আর-এক ভদ্রলোক এসেছেন ঘোষবাড়িতে, কিন্তু তাঁর দাড়ি নেই।

    দাড়ি নেই মানে?

    বেদেরা বলেছে, যাকে ওরা আশ্রয় দিয়েছিল তার দাড়ি ছিল।

    ও। দেখুন, দাড়ি তো কেটে ফেলা যায়।

    তা যায় কিন্তু…। চিন্তায় পড়লেন অফিসার। উনি কদিন থাকবেন এখানে?

    দু-চারদিন।

    নামটা কী?

    সাগরবিহারী ঘোষ।

    অর্জুন হেসে ফেলল। কাজল মুখার্জি নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমান। এই পরিবারের সঙ্গে মেলানো নাম খুঁজে পেয়েছে। খাওয়া হয়ে গেলে অর্জুনরা বিদায় চাইল। অফিসার পাশপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, যদি কোনও প্রয়োজন হয় নির্দ্বিধায় চলে আসবেন।

    অনেক ধন্যবাদ।

    ইদ্রিস তাদের বাইরে আসতে দেখে খুশি হল। তখন ধুপছায়া নেমে গেছে পৃথিবীতে। অর্জুন ইদ্রিসকে বলল, রাত হওয়ার আগে আমরা একবার ঘোষবাবুদের বাড়িটা দেখতে চাই।

    চলেন কর্তা। ইদ্রিস এগিয়ে চলল।

    ঘোষবাবুদের অবস্থা যে এককালে ভাল ছিল, তা দূর থেকে বাড়িটাকে দেখেই বোঝা যায়। এখন অযত্ন এবং অর্থাভাব একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় হতশ্রী হয়ে আছে। বাড়ির কাছাকাছি আসতেই অর্জুন ছাদে একজন যুবককে দেখতে পেল। কৌতূহলী চোখে তাদের দেখছে। তারপর ধীরে ধীরে সরে গেল। বাড়িটা দোতলা। ঘর অনেক।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করতে গিয়ে থমকে গেল। বাড়ির সামনেই একটি শিবমন্দির। মন্দিরের দশা খুবই করুণ। এখন নিয়মিত পুজো হয়তো হয়, কিন্তু অনেককাল সংস্কার হয়নি, শিবমন্দিরের ডান দিকে কোনও বটগাছ নজরে পড়ল না। বস্তুত কোনও বটগাছই ধারেকাছে নেই। সে বলল, বাড়িটার যা চেহারা, তাতে আশেপাশে একটা বটগাছ থাকলে ভাল হত।।

    ইদ্রিস সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়ল, ছিল ছার। একটা বটগাছ এখানে ছিল। যে বছর দেশ স্বাধীন হইল, সেই বছরের ঝড়ে গাছ ভাঙ্গে। এনারা তখন গাছ কেটে ফেলেন।

    বটগাছটা কোথায় ছিল? অর্জুন উত্তেজিত।

    হেইডা তো মনে নাই।

    এই সময় একটি কণ্ঠস্বর ভেসে এল, কী ব্যাপার ইদ্রিস মিঞা?

    ওরা দেখল প্রায়-অন্ধকার বাড়ি থেকে এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন। মানুষটি ফর্সা কিন্তু রুগণ চেহারা। পরনের ধুতি, গেঞ্জি পরিচ্ছন্ন।

    সালাম কতা। ওই বটগাছটার কথা বলতে ছিলাম।

    হঠাৎ বটগাছের কথা কেন?

    ছার নিজেই–।

    ইদ্রিসকে বাধা দিলেন ইউসুফ ভাই, আমরা আজই আপনাদের গ্রামে এসেছি। মনুভাই, মানে সাহাবুদ্দিন আমাদের বন্ধু। বেড়াতে-বেড়াতে এখানে এসে মনে হল আপনার বাড়ির সঙ্গে বটগাছ থাকলে ভাল হত।

    তা অবশ্য, আরও প্রাচীন দেখাত। আমার নাম বিমানবিহারী ঘোষ।

    আচ্ছা! আপনার কথা আমি আকাশবিহারীর কাছে শুনেছি।

    ও। সে আমার ভাইপো। লোক পাঠিয়ে খবর দিয়েছে দুদিন বাদে শুটিং করতে আসবে। ওসবের সঙ্গে সে কবে জড়িত হল আপনি জানেন?

    খুব সম্প্রতি বলে মনে হয়।

    হুম! আমাদের অবস্থা খুব ভাল নয়। চাষবাস থেকে কোনওমতে চলে। কদিন থাকবেন আপনারা? বিমানবিহারী জানতে চাইলেন।

    দু-একদিন। অর্জুন জবাব দিল, তা হলে এখানে বটগাছ ছিল?

    অবশ্যই ছিল। একাত্তর সালে বাজ পড়ে। সেইরাত্রে ঝড়ও হয়েছিল। ফলে কেটে ফেলতে হয়। গাছটা ছিল খুব পুরনো। এবাড়িব একজন হয়ে গিয়েছিল। বিমানবিহারী যখন কথা বলছিলেন তখন অর্জুন আশপাশে পুকুর খুঁজছিল। বটবৃক্ষ থেকে দশ পা পূর্ব দিকে গেলে এবাড়ির দোতলার শেষ জানলাটাকে দেখা যাবে। সেই জানলাটাকে নজরে রেখে একটু ডান দিকে হাঁটলেই পুকুরের ধাপ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু পুকুরের কোনও চিহ্ন আশপাশে নেই। বটগাছ যখন ছিল, তখন পুকুরটারও তো থাকার কথা।

    হঠাৎ বোধ হয় খেয়াল হয়েছে বিমানবিহারীর, বললেন, আপনারা বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন কেন? আসুন, ভেতরে আসুন।

    অর্জুন বলল, আজ নয়। আর-একদিন আসা যাবে। এখানে এসে দেখছি বিল থাকা সত্ত্বেও সবার বাড়িতে পুকুর আছে। আপনাদের নেই?

    আছে। আগে দু-দুটো ছিল, এখন একটা। সেটা পেছনে।

    আগেরটা?

    ওই জমিটা বিক্রি করে দিয়েছি খালেদকে। ওখানে একটা পুকুর ছিল। কেনার পরে খালেদ পুকুরটাকে বুজিয়ে দিয়েছে। আচ্ছা, অবস্থাপন্ন বাড়িতে বটগাছ এবং পুকুর থাকাটা কি খুব স্বাভাবিক? বিমানবিহারী হেসে জিজ্ঞেস করলেন।

    কেন বলুন তো? অর্জুন জানতে চাইল।

    আমার এক জ্ঞাতি এসেছেন ইন্ডিয়া থেকে, তিনিও বটগাছ এবং পুকুরের খোঁজ করছিলেন।

    তাই নাকি? বটগাছটা ছিল কোথায়?

    ওইখানে। আঙুল দিয়ে জায়গাটা দেখালেন বিমানবিহারী।

    অর্জুন ওপরে মুখ তুলল। তার মনে হল, অন্ধকার নেমে আসা বাড়ির ছাদে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা কাজল হতে পারে। ওকে তো সবসময় সতর্ক থাকতেই হবে। কিন্তু ওর কথা বিমানবিহারীকে কীভাবে বলা যায়? মানুষটাকে জটিল মনে হচ্ছে না, ওঁকে সতর্ক করে দেওয়া উচিত।

    আপনাদের নাম জানতে পারলাম না। বিমানবিহারী বললেন।

    আমি ইউসুফ, ঢাকায় থাকি, ব্যবসা করি। উনি অর্জুন।

    এখনও ছাত্র?

    না, না। আচ্ছা নমস্কার। অর্জুন আর কথা বাড়াতে চাইল না। বিদায় নিয়ে ওরা ফিরে যাচ্ছিল মনুভাইয়ের বাড়ির দিকে। ইদ্রিস পিছিয়ে পড়েছে দেখে ইউসুফভাই জিজ্ঞেস করলেন, ওই বাড়ির মাটির তলায় যে সোনা লুকনো আছে, তা পেলে বিমানবিহারী বাকি জীবনটা আরামে থাকতে পারবেন। কিন্তু ওঁকে সে-কথা বললেন না কেন?

    অর্জুন বলল, প্রথম আলাপেই ওসব বলা ঠিক নয়। তা ছাড়া খবরটা যদি মিথ্যে হয়?

    তা বটে। আমি একটু বুদ্ধি খরচ করব?

    অর্জুন হাসল, অবশ্যই।

    ওই বটগাছটার সঙ্গে কি সোনাদানার কোনও সম্পর্ক আছে?

    বাঃ। আরও বলুন।

    বিমানবিহারীর বাড়িতে জ্ঞাতি হিসেবে যে এসেছে সে হল কাজল। তাই তো?

    অনুমান সেইরকমের। তা হলে কথাটা আমি কাউকে জানাচ্ছি না কেন?

    অবশ্যই। বাজে লোককে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।

    আর-একটু দেখাই যাক না।

    মনুভাইয়ের বাড়িতে ইলেকট্রিক লাইট আছে। সন্ধের পর ঘরে বসে মুড়ি আর চা খাওয়া চলছিল। অর্জুন দুর্গাদাসকে খবর দিয়েছিল দেখা করার জন্য। ইদ্রিস মিঞা তখন গল্প শোনাচ্ছিল, বড়বাবুর ইন্তেকাল হওয়ার পর এই বাড়ির পতন হইছে ছার। তাঁকে সবাই এত ভালবাসত যে, আট হাজার মানুষকে খাওয়াইতে হইছিল। সেসব দিন আর নাই।

    ডাকছেন ছার? দুর্গাদাস দরজায় এসে দাঁড়াল।

    হ্যাঁ। তুমি তো এককালে নৌকো নিয়ে বিলে ঘুরে বেড়াতে। আজ রাত্রে আমাদের নিয়ে বের হবে?

    নিশ্চয়ই।

    নিশ্চয়ই, এর বুদ্ধি আছে কিন্তু মাথায় নাই। খেকিয়ে উঠল ইদ্রিস মিঞা, বুড়া হইছিস, কত্তদিন নৌকা চালাস না, রাতের বেলা মেহমানদের যদি বিপদ হয়, কী জবাব দিবি?

    আরে মিঞা, মরা হাতি লাখ টাকা। ভরসা রাখো। তাকে আশ্বাস দিল দুর্গাদাস।

    আজ কৃষ্ণপক্ষের রাত হলেও আকাশে মায়াময় আলো ছিল। রাতের খাওয়া সেরে ওরা দুগদাসের নৌকোয় উঠল। বৃদ্ধ বয়সেও দুগাদাসের শরীর ঈর্ষা করার মতো। খালি গা, মালকোঁচা মারা ধুতি, লগি নিয়ে বসেছে নৌকোর একপ্রান্তে। পাশে একটা সড়কি। ওই অস্ত্রটির কী প্রয়োজন, জিজ্ঞেস করাতে জানাল, কখন কী হয় তা কে বলতে পারে?

    দিগন্তবিস্তৃত বিলে মিনিট পনেরো এলোমলো ঘুরে বেড়াল অর্জুনরা। চমৎকার বাতাস বইছে। একটু শীত শীত করছে। ধীরে-ধীরে গ্রামের সব আলো নিভে গেল। অর্জুন জিজ্ঞেস করল, তুমি কি এখনও এই অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছ দুর্গাদাস?

    হুকুম করেন।

    শিমুলগাছটা কোথায়?

    মুখ ঘুরিয়ে দেখে নিয়ে দুর্গাদাস হাত তুলল, ওই যে।

    কালচে আকাশের সামনে ঝাপসা কিছু নজরে এল অর্জুনের। সে বলল, কাউকে জানান না দিয়ে আমরা ওখানে যেতে চাই দুর্গাদাস।

    নৌকো ঘুরল। সামান্য জলের শব্দ ছাড়া কোনও আওয়াজ নেই কোথাও। যদি কেউ এ আসা বাড়ির ছাদ থেকে তাদের লক্ষ করে, তা হলে চিনতে পারবে কি না সন্দেহ। গাছটার কাছে পৌঁছে যাওয়ামাত্র চাপা গলায় অর্জুন দুর্গাদাসকে থামতে বলল। মুহূর্তেই যেন অতীতের রক্তের ডাক শুনতে পেল দুর্গাদাস। লগি রেখে সড়কি তুলে নিয়ে যেরকম সতর্ক ভঙ্গিতে বসল, তাতে সেইরকম মনে হল অর্জুনের। ঘোষবাড়ির কারও কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এবার হাওয়ায় দুলছে নৌকো। অর্জুনের বিশ্বাস, আজ রাত্রে কাজল একটা চেষ্টা করবে। সে যদি বটগাছটা কোথায় ছিল জেনে গিয়ে থাকে, তা হলে দেরি করার ঝুঁকি নিশ্চয়ই নেবে না।

    রাত যখন বারোটা, মশার কামড়ে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠছে, সেই সময় দুর্গাদাস চাপা গলায় বলল, ছার। দ্যাখেন! একজনার মতলব ভাল নয়।

    ওরা দেখতে পেল। একটি মানুষ বারংবার বিশেষ একটা জায়গায় পায়চারি করছে। শিবমন্দির সামনে থাকায় তাকে মাঝে-মাঝেই দেখা যাচ্ছে না। অর্জুন বুঝতে পারল ওটা পায়চারি নয়, জমি মাপছে কাজল। বটগাছ থেকে দশ পা পুব দিকে গেলে বাড়িটির দোতলার শেষ জানলা দেখা যাবে। দশ পা মিলিয়ে নিচ্ছিল সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article তেরো পার্বণ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }