Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প622 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. রাত্রে ডরোথিকে খাবার পৌঁছে দিয়ে

    রাত্রে ডরোথিকে খাবার পৌঁছে দিয়ে অর্জুন পোস্ট অফিসের মোড়ে এসে দাঁড়াল। জলপাইগুড়ি শহরে রাত আটটার পর রাস্তায় মানুষ কমে যায়। কিন্তু এই মোড়ে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করার অভ্যেস অনেকের আছে। অর্জুন পরিচিত মুখ খুঁজল, পেল না। ঠিক তখনই সে গাড়িটাকে দেখতে পেল। সাধারণ গতিতেই রেসকোর্সের দিকে যাচ্ছে। সামনের আসনে ড্রাইভারের পাশে একটা লোক বসে আছে। এই গাড়িটাকে সে গতকাল দেখেছে বেশ বেপরোয়া গতিতে চালাতে। গত রাতের অপরাধের জন্যে এখন গিয়ে কিছু বলা যায় না।

    মোড়ের দোকান থেকে সে এক গ্লাস চা নিল। ডরোথি আসার পর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে, কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্য জানা ছাড়া কোনও উত্তেজক ঘটনা ঘটেনি। বরং বলা যেতে পারে বেশ একঘেঁয়ে লাগছে। ডরোথি যাদের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছে তাদের আত্মীয়রা ওকে গালাগাল দিতে পারত, এই নিয়ে শহরে টেনশন বাড়তে পারত, কিন্তু কিছুই হয়নি। অনেকখানি সময় চলে গেলে মানুষ আর উত্তেজিত হয় না। মিরজাফর বিশ্বাসঘাতক ছিলেন কি না তা নিয়ে এখন মানুষ মাথা ঘামায় না। যারা ঘামাতে চায়, তাদের সংখ্যা খুব কম।

    কমলাকান্ত রায় অথবা দেবদাস মিত্রের পর্ব চুকে গেছে। শেষতম ব্যক্তি তারিণী সেনকে আজ পাওয়া গেল। আগামিকাল বিকেলে ওর সঙ্গে কথা বলে ডরোথি ফিরে যাবে। ফেরার টিকিট তাহলে কাল সকালে করে ফেলা উচিত। সে তারিণী সেনের ব্যাপারটা নিয়ে একটু ভাবল। তারিণী ছিল কুখ্যাত ডাকাত। টাটুতে চেপে ডাকাতি করত। ওর ভয়ে সবাই কাঁপত। শেষ পর্যন্ত তারিণী এক সময় ধরা পড়ল। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে বিচার হল না, ছাড়া পেয়ে গেল। শহর থেকে ফিরে গিয়ে তারিণী ডাকাতি ছেড়ে দিয়েছিল। এই সময় সে বিপ্লবীদের কথা ইংরেজদের কাছে পৌঁছে দিত। কোন ইংরেজের কাছে? ডায়েরি যদি সত্যি হয় তা হলে রিচার্ড অথবা ম্যাক সাহেবের সঙ্গেই তারিণীর যোগাযোগ ছিল। সেই জন্য লোকটার হাত বিপ্লবীরা কেটে নিতে পারে। প্রশ্ন হল, যারা হাত কেটেছিল তাদের নাম কি তারিনী ম্যাকসাহেবকে বলেছিল? বললে তিনি যদি কোনও অ্যাকশন নিতেন তা হলে সেটা বিমল হোড় মশাই অথবা সুধীরবাবু নিশ্চয়ই বলতেন। ম্যাক সাহেব নিশ্চয়ই কোন অ্যাকশন নেননি। দেশে ফিরে গিয়ে বৃদ্ধ বয়সে তাঁর এই কারণে অনুশোচনা হতেই পারে, যা ডায়েরিতে লিখে গেছেন তিনি। কিন্তু খটকা লাগছে অন্য জায়গায়। তারিণী সেন জলপাইগুড়িতে এসে ম্যাক সাহেবের সঙ্গে দেখা করত কি না তা জানা যায়নি। কিন্তু ম্যাকসাহেব প্রায়ই নদী পেরিয়ে ওদিকে যেতেন। কমলাকান্ত রায় অথবা দেবদাস মিত্রকে আহত অবস্থায় নদীর ওপারেই পাওয়া গিয়েছে। নিশ্চয়ই তখন তাঁর সঙ্গে তারিণীর দেখা হত। কী কথা হত? তারিণী যে ডাকাতি করত, তা রবিনহুডের মতো খরচ করে উড়িয়ে দেয়নি। সেই সব সম্পদ কোথায় গেল? অর্জুনের মনে হল তারিণী সেনের সঙ্গে কথা বললে অনেক গোপন তথ্য জানা যাবে। যেটা ঠিক স্বাভাবিক নয়। অবশ্য মনে হওয়ার পেছনে ছুটে কোনও লাভ নেই।

    চায়ের দাম মিটিয়ে বাইকে উঠতেই অর্জুন গাড়িটাকে দেখতে পেল। কালো রঙের অ্যাম্বাসাডারটা। গাড়িটা মোড় ঘুরে হাকিমপাড়ার দিকে চলল। গাড়িটা ফাঁকা রাস্তায় বেশ জোরেই যাচ্ছিল। অর্জুনের মনে হল ড্রাইভার ছাড়া আরও দুজন আরোহী রয়েছে গাড়িতে। অথচ একটু আগে একজন কম ছিল। তৃতীয়জন বসে আছে পেছনের আসনে। এই গাড়ির যাত্রীদের কেউ তিস্তা ভবনে থাকে। এত রাত্রে ওরা কোথায় যাচ্ছে? ওদের সম্পর্কে একটু খোঁজ নেওয়া দরকার। ডরোথি তিস্তা ভবনে একা রয়েছে। ওর কোনও বিপদ হলে সে দায়ী হবে। অমলদা তাকে চিঠি লিখেছেন ডরোথির দায়িত্ব দিয়ে। সে মিনিট দেড়েকের মধ্যে তিস্য ভবনে পৌঁছে গেল। গেট খোলা। ভেতরে ঢুকে বাইক বন্ধ করে নেমে দাঁড়াল সে। চৌকিদারটা কোথায়? সে ওপরে উঠল। দোতলায় আলো জ্বলছে। ডরোথির ঘরের সামনে পৌঁছে সে হকচকিয়ে গেল। দরজায় তালা দেওয়া।

    সে এপাশ-ওপাশে তাকাল। দরজায় তালা দিয়ে কাছাকাছি গেলে ওঠার সময় দেখা যেত। এত রাত্রে কোথায় গেল মেয়েটা! হঠাৎ কালো গাড়ির তৃতীয় আরোহীর ঝাপসা মূর্তি স্মরণে এল। ডরোথি কি? ওই কালো গাড়িতে সে কেন যাবে? এমন হতে পারে, বা এখানে আছে তাদের সঙ্গে ওর আলাপ হয়েছে এবং অনুরোধ ফেরাতে না পেরে এখন বেড়াতে বেরিয়েছে। অজানা জায়গায় ডরোথি নিজের ওপর যতই আস্থা রাখুক এভাবে যাওয়া যে ঠিক নয়, এটা তার বোঝা উচিত।

    অর্জুন নীচে নেমে চৌকিদারকে দেখতে পেল। লোকটা বালিশ বগলে নিয়ে আসছে। এই তিস্তা ভবনের একজন কেয়ারটেকার আছেন। কাল ওঁর সঙ্গে কথা বলতে হবে। যে-কোনও মানুষ যদি একটুও বাধা না পেয়ে ওপরে উঠে যায়, তা হলে তো মুশকিল!

    অর্জুন চৌকিদারকে বলল, মেমসাহেবকে দেখেছ?

    হ্যাঁ। একটু আগে গাড়িতে করে বেরিয়ে গেলেন। সঙ্গের বাঙালিবাবু বললেন যে ফিরতে একটু রাত হবে।

    সঙ্গে যারা গেল তারা কি এখানেই উঠেছে?

    না, বাবু। কাল বিকেলে ওঁরা এসেছিলেন। রাত্রেও একবার। আবার আজ আপনি খাবার দিয়ে চলে যাওয়ার পর গাড়ি নিয়ে আসেন।

    কোথায় গেল ওরা, কিছু শুনলে?

    ইংরেজিতে কথা বলছিল, তাই বুঝতে পারিনি।

    অর্জুনের চোয়াল শক্ত হল। এই লোক দুটো কে? সুধীর মৈত্রের বাড়িতে রাতদুপুরে যারা হামলা করেছিল তারাই মনে হচ্ছে। ডরোথির সঙ্গে এদের কী করে যোগাযোগ হল? ডরোথিকে সে সরাসরি এয়ারপোর্ট থেকে তুলে নিয়ে জলপাইগুড়িতে এসেছে। সেখানে কারও সঙ্গে ওকে কথা বলতে দেখেনি সে। তা হলে গতকাল থেকে লোক দুটো এখানে এসে যোগাযোগ করছে কী করে?

    অর্জুন বাইকে উঠল। ডরোথিকে সুধীর মৈত্রের নাম-ঠিকানা বলে আসার রই গত রাত্রে লোক দুটো পাহাড়ি পাড়ায় পৌঁছেছিল। অর্থাৎ ডরোথিই ওদের সন্ধান দিয়েছে। নিজেকে কী রকম প্রতারিত বলে মনে হচ্ছে এখানে। মনে হচ্ছে কলকাতা থেকেই ডরোথির সঙ্গে ওদের যোগাযোগ। ডরোথি যে তিনজনের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছে। সত্যি কি ক্ষমা চাইতে এসেছে? তা হলে পেছনে দুজন গোপন সঙ্গী নিয়ে আসবে কেন? তাকে দিয়ে মানুষজনের সন্ধান করিয়ে ও কোন কাজ হাসিল করতে চায়? মেয়েটার মুখ মনে পড়ল। একবারের জন্য মনে হয়নি ওর গোপন কোনও মতলব আছে। তা ছাড়া ওকে পাঠিয়েছেন অমলদা। ওর সম্পর্কে কিছু না জেনে অমলদা কি অর্জুনের কাছে পাঠাবেন? তার এখন কী করা উচিত?

    বাইকে চেপে শহরে চলে এল সে। দরজায় তালা দেওয়া রয়েছে। ঘরে ঢুকে যদি ডরোথির জিনিসপত্র, বিশেষ করে ওই নোটবুক দেখা যেত, তা হলে কিছুটা সুবিধে হত। হঠাৎ ওর মনে হল ওরা তারিণী সেনের কাছে যাচ্ছে না তো? এত রাত্রে গ্রামে গাড়ি ঢুকলে মানুষ অন্য রকম আচরণ করতে পারে। ডাক্তার বলেছেন আজ তারিণী সেনের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। ডরোথি কি কথাটাকে বিশ্বাস করেনি? ওরা কী এমন কথা আলাদা করে বলতে চায়, যা কাল অর্জুনের সঙ্গে গিয়ে ডরোথি বলতে পারত না? অর্জুনের মনে হল তারিণী সেনের বিপদও হতে পারে। শুধু ক্ষমা চাইতে এত রাত্রে এভাবে গোপনে কেউ অত দূরে যেতে পারে না। তারিণীকে বাঁচানো দরকার।

    অর্জুন ঘড়ি দেখল। ওরা এতক্ষণে দোমহনি ছাড়িয়ে গেছে। বাইক চালিয়ে ওদের ধরা যাবে না। সে দ্রুত জলপাইগুড়ি থানায় চলে এল। থানার ও সি অবনীবাবু নিজের টেবিলে বসে কাজ করছিলেন এত রাত্রেও। অর্জুনকে দেখে বললেন, আবার কিসে জড়ালেন?

    অর্জুন বলল, একটা উপকার করতে হবে। ময়নাগুড়ি থানায় ফোন করে বলুন একটা কালো অ্যাম্বাসাডার হুচলুডাঙা হয়ে পূর্বদহে যাচ্ছে। যে করেই হোক ওদের আটকাতে হবে। প্লিজ।

    অবনীবাবু অবাক হলেন, ওদের অপরাধ?

    আপনাকে সব বলব। শুনতে গেলে যে-সময় লাগবে, তা আমাদের হাতে নেই।

    কিন্তু আটকাতে গেলে তো কারণ দেখাতে হবে।

    অর্জুন অসহায় চোখে তাকাল। তারপর বলল, ধরুন, পূর্বদহের কোনও মন্দির থেকে প্রাচীন মূর্তি চুরি গেছে। তাই রাত্রে কাউকে ওদিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

    সত্যি চুরি গেছে নাকি?

    না। তবে তার চেয়ে ভয়ানক কিছু হতে পারে।

    অবনীবাবু টেলিফোনের রিসিভার তুললেন, দেখবেন মশাই, যেন বিপদে না পড়ি। তবে আপনার ওপর আমার আস্থা আছে।

    কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ময়নাগুড়ির লাইন পাওয়া গেল। অবনীবাবু অর্জুনের অনুরোধ জানালেন। ওপার থেকে পুলিশ অফিসার জানতে চাইলেন গাড়িটাকে আটক করা হবে কি না! অর্জুন মাথা নাড়তে অবনী সেইরকম জানিয়ে দিলেন।

    অবনীবাবু সোজা হয়ে বসে বললেন, খবর কী? কদিন থেকে একটি বিদেশিনী মহিলাকে নিয়ে ঘুরছেন বলে শুনতে পেলাম।

    ভুল শোনেননি। তাকে নিয়েই এই বিভ্রাট।

    অর্জুন ধীরে, ধীরে সব ঘটনা অবনীবাবুকে খুলে বলল। অবনীবাবু মন দিয়ে শুনে বললেন, না, মশাই। একটি ব্রিটিশ মেয়ে তার পূর্বপুরুষের করা অন্যায়ের জন্যে ক্ষমা চাইতে এতদূরে একা চলে আসবে, একথা বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই।

    ঠিকই। কিন্তু কিছু বিদেশিনী -হিলা তো একসময় আমাদেরই মানুষ হয়ে গিয়েছিলেন। এই যেমন এখন মাদার টেরেসা। তাঁকে তো আমরা মা ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারিনি।

    অবনীবাবু মাথা নাড়লেন, উনি মহামানবী। যেমন সিস্টার নিবেদিতা। কিন্তু সাধারণ বিদেশিনীদের সম্পর্কে অতটা ভাবার কোনও দরকার নেই, যতক্ষণ

    প্রমাণ পাচ্ছেন। যাকগে, আপনার কি মনে হয় উনি তারিণী সেনের জন্যেই এসেছেন?

    এখন তাই মনে হচ্ছে। কমলাকান্ত রায় অথবা দেবদাস মিত্র ওঁর লক্ষ্য নয়। ওঁদের নাম উনি হয়তো দাদুর ডায়েরিতে পেয়েছিলেন, ওই পর্যন্ত।

    তা হলে তারিণী সেনের ওপর সিনেমা করতে কেউ আসেনি?

    আমি বিশ্বাস করছি না।

    ওই লোক দুটোর সঙ্গে ডরোথির যোগাযোগ হল কী করে?

    তা জানি না।

    ডরোথির পাসপোর্ট আপনি দেখেছেন?

    না। দেখার কথাও নয়।

    তা হলে ওই দুজনের সঙ্গে এত রাত্রে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া এবং তা আপনাকে না বলে—শুধু একারণেই আপনার সন্দেহ হচ্ছে?

    না। ওরা গতকালও ডরোথির সঙ্গে দুবার যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু সে একথা আমাকে জানায়নি। ডরোথির কাছ থেকে খবর পেয়েই ওরা সুধীরবাবুর বাড়িতে গিয়েছিল। অত রাত্রে যারা সুধীরবাবুর বাড়িতে যেতে পারে, তারা তারিণী সেনকে তুলে নিয়ে আসতে দ্বিধা করবে না, যদি তেমন প্রয়োজন থাকে।

    এই সময় টেলিফোন বাজল। অবনীবাবু রিসিভার তুলে কথা শুনতে-শুনতে মাথা নাড়লেন। তারপর বললেন, ওদের কোনও অজুহাত দেখিয়ে আধ ঘণ্টা আটকে রেখে তবে ছাড়ুন। দেখবেন যেন কোনও মতে সন্দেহ না করে।

    রিসিভার নামিয়ে রেখে তিনি বললেন, ময়নাগুড়ি থানা থেকে একটা পেট্রোল ভ্যানকে ওয়ারলেসে খবর দিয়েছিল। ওরা গাড়িটাকে আটকেছে। হাইওয়েতে জিজ্ঞাসাবাদ করার অধিকার পুলিশের আছে। ওরা তিনজনেই ওখানে আধ ঘণ্টার মতো থাকবে। তারপর ফিরে আসতেও মিনিট কুড়ি। তার মানে আমাদের হাতে পঞ্চাশ মিনিট। চলুন, একবার ডরোথির ঘরটা দেখে আসি। চটপট। অবনীবাবু উঠে দাঁড়ালেন।

    কিন্তু ওর ঘরে তালা মারা। অর্জুন বলল, ল্যাংড়া পাঁচুকে পেলে হত।

    অবনীবাবু বললেন, একটা চান্স নেওয়া যেতে পারে। হাসপাতালের উলটো দিকের গলিতে ও নেশা করতে আসে। অবশ্য এখন যা রাত হয়েছে। তাতে না পাওয়ারই সম্ভাবনা। চলুন, পথেই তো পড়বে।

    ল্যাংড়া পাঁচু অর্জুনের কাছে কৃতজ্ঞ। তাকে জেল থেকে বাঁচিয়েছে সে। আগে তালা খোলার নৈপুণ্যের কারণে ডাকাতদের সঙ্গী ছিল। এখন লটারির টিকিট বিক্রি করে। অবনীবাবুর জিপে হাসপাতালের সামনের গলিতে যাওয়ামাত্র কিছু লোক এদিক-ওদিক পালাতে লাগল। আধো অন্ধকারেও পুলিশের জিপ ঠিক চিনে ফেলেছিল তারা। কিন্তু একটি গলা চিৎকার করে উঠল, পালাচ্ছিস কেন? এই হতভাগারা? আমি চোর-ডাকাত নই যে পালাব। হুম।

    অর্জুন দেখল ল্যাংড়া পাঁচু বাবু হয়ে বসে চেঁচিয়ে যাচ্ছে। তার সামনে দাঁড়িয়ে সে বলল, তোমার অবস্থা কীরকম?

    চোখ বড় করে দেখার চেষ্টা করল ল্যাংড়া পাঁচু। চিনতে একটু কষ্ট হল। তারপর চিনে ফেলতেই মাথা নাড়ল, এখনও দশটা বাজেনি।

    এখন এগারোটা বেজে গেছে।

    অসম্ভব। দশটার মধ্যে আমি ঘরে ফিরে যাই। আমি যখন যাইনি, তখন এগারোটা বাজবে কী করে?

    উঠতে পারবে? অর্জুন ধমক দিল।

    আপনি আদেশ করলে আমি উড়তেও পারব।

    ল্যাংড়া পাঁচুকে ধরে-ধরে নিয়ে এল অর্জুন জিপের কাছে। অবনীবাবুকে দেখে ল্যাংড়া পাঁচু বলল, আই বাপ, শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাবেন নাকি?

    তাকে গাড়িতে তুলে অর্জুন বলল, তোমার মাথা কেমন আছে এখন?

    আপনাদের চিনতে পারছি।

    তা হলেই হবে। একটা তালা খুলবে তুমি।

    না। অসম্ভব! আপনার নির্দেশে ওকাজ ছেড়ে দিয়েছি আমি।

    মানুষের উপকার হলে কেন করবে না?

    কেউ আমার উপকার করে না। আমি কেন করব?

    অর্জুন কিছু বলার আগে গাড়ি চালাতে-চালাতে অবনীবাবু বললেন, কেন, অর্জুনবাবু তোমার উপকার করেননি?

    একশোবার। সবাইকে বলি সেকথা। ল্যাংড়া পাঁচু মাথা নাড়ল, কিন্তু সঙ্গে যন্ত্রপাতি নেই। সব ফেলে দিয়েছি তিস্তার জলে।

    অর্জুন বলল, দ্যাখো পাঁচু, একটি মানুষের জীবন বিপন্ন। তাকে রক্ষা করতে চাই আমরা। এই তালা সেই কারণে খোলা দরকার।

    অ। এটা প্রথমে বললেই পারতেন। মোটা তার চাই।

    অবনীবাবু গাড়ির ড্রয়ার খুলে তার বের করে দিলেন। ল্যাংড়া পাঁচু সেটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে কিছু একটা বানাতে লাগল।

    পুলিশের গাড়ি দেখে চৌকিদার ছুটে এল। অবনীবাবু চাপা গলায় বললেন, আপনি ওকে নিয়ে এগিয়ে যান, আমি এর সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটাই। আপনার মেমসাহেব যদি ফিরে আসে, তা হলে হর্ন বাজাব। অর্জুন ঘাড় নেড়ে ল্যাংড়া পাঁচুকে ইশারা করল।

    অবনীবাবু কেয়ারটেকারের সঙ্গে সাবলীল ভঙ্গিতে কথা বলতে লাগলেন। অর্জুনরা যে গাড়ি থেকে নেমে ভেতরে ঢুকছে তা দেখেও দেখল না চৌকিদার। অবশ্য অর্জুনের জন্য ওর কোনও চিন্তা ছিল না। সিঁড়ি ভেঙে ল্যাংড়া পাঁচু দ্রুত ওপরে উঠে এল অর্জুনের পেছন-পেছন। নির্জন দোতলায় আলো জ্বলছে, দরজায় তালা, যেমনটি অর্জুন দেখে গিয়েছিল।

    ল্যাংড়া পাঁচু তালার গায়ে হাত বোলালো, এ যে দেখছি বিলিতি জিনিস।

    হতে পারে। চটপট খোল।

    এরকম তালা অনেকদিন আগে একবার খুলেছিলাম। বার্মিংহাম না কি যেন একটা জায়গায় তৈরি হয়। বেশ খানদানি তালা।

    আঃ। কথা বোলো না। অর্জুন বিরক্ত হল।

    আপনি বুঝতে পারছেন না। এমন জিনিস তো চট করে দেখতে পাওয়া যায় না। আহা। কী ফিনিশ! চাবি ছাড়া যে কেউ এটা খুলে দেখাক। তার পায়ের ধুলো মাথায় নেব আমি। একেবারে রানি তালা। চোখ বন্ধ করে বলে যাচ্ছিল ল্যাংড়া পাঁচু, তালার গায়ে হাত বোলাতে-বোলাতে। তারপরই সোজা হল, মনে হচ্ছে পেয়েছি। তা তালা খুলে আবার লাগাতে হবে, না এটাকে নিয়ে যাব?

    আবার লাগাতে হবে।

    অ। কথাটা মনঃপুত হল না লোকটার। অর্জুন দেখছিল যেভাবে ডাক্তাররা অপারেশন করে, সেইভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছে ল্যাংড়া পাঁচ, এরই মধ্যে। মিনিটদুয়েক চুপচাপ কেটে গেল। অর্জুন অস্থির হয়ে উঠছিল। ঠিক তখনই হাসির শব্দ কানে এল। তালা হাতে নিয়ে ল্যাংড়া পাঁচু হাসছে। আবার হার মানলি। আমার নাম পাঁচগোপাল রে!

    অর্জুন চট করে ঘরে ঢুকে আলো জ্বালল। ঘরের এক কোণে সুটকেসটা রয়েছে। টেবিলের ওপর হাতব্যাগ। চটপট সেটা খুলল। পাসপোর্ট রয়েছে ওপরে। সেটার পাতায় নজর বোলাতে লাগল। ডরোথি ভারতে এসেছে সাতদিন আগে। প্রথমে দিল্লিতেই নেমেছে সে। দিল্লি থেকে কলকাতায় নিশ্চয়ই ইণ্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে পৌঁছেছে, তাই পাসপোর্টে তার কোনও এন্ট্রি নেই। বাগডোগরায় পৌঁছবার আগে ও দিল্লি এবং কলকাতায় পাঁচদিন কী করছিল তা জানা যাচ্ছে না। পাসপোর্ট বলছে ডরোথি মাস ছয়েক আগে আর-একবার দিল্লিতে এসেছিল। দুদিন ছিল মাত্র। এ কথা ডরোথি একবারও বলেনি।

    ব্যাগে শ তিনেক পাউন্ড ছাড়া প্লেনের টিকিট দেখতে পেল। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের। এ ছাড়া একটা চাবি এবং প্রসাধনী সামগ্রী। নোট বইটাকে দেখতে পেল না সে। এবার সুটকেসটা। ব্যাগটাকে ভাল করে যথাস্থানে রেখে সে সুটকেসের সামনে গেল। তালাবন্ধ। নম্বর ঘুরিয়ে লক করে দেওয়া হয়েছে। হয়তো চেষ্টা করলে ল্যাংড়া পাঁচু এটাকে খুলতে পারবে, কিন্তু তার জন্য আর সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না। অর্জুন ওয়াড্রোব খুলে দেখল সেখানে কিছু ব্যবহৃত পোশাক ঝুলছে। পোশাকগুলো হাতড়ে দেখল পকেটে কিছু নেই। বিছানার দিকে তাকাল। একেবারে নিপাট বিছানা নয়। বালিশের পাশে একটা বই। থ্রিলার। অর্জুন থ্রিলারটা তুলে নিল। ওপরে রিভলভারের ছবি। পাতা উলটে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ল না। সেটাকে রেখে বালিশটা তুলতেই নোটবুকটা চোখে পড়ল। চটপট পাতা ওলটাল। প্রথম দিকে কিছু কোটেশন লিখে রাখা হয়েছে। মানুষের জীবন নিয়ে সাহিত্যিকদের রচনা থেকে নির্বাচিত লাইন। তারপরের পাতায় কিছু ইংরেজি নাম, নামের পাশে ওয়ান, টু লেখা। হঠাৎ এক পাতায় লেখা বিল মেট রে ইন ডেহি। পাতাগুলোর খানিকটা সাদা। হঠাৎ লেখা কমলাকান্ত রে, দেবদাস মিটার অ্যান্ড তারিণী সেন। তারিণী সেনের নামটার চারপাশে লাইন টেনে ঘর করা হয়েছে। কমলাকান্তর নামের পাশ থেকে একটা লাইন বেঁকিয়ে নিচে নামিয়ে সেই বক্সের গায়ে শেষ করেছে ডরোথি। নোটবুকে আর কোনও লেখা নেই। ওটাকে বালিশের নিচে নামিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল অর্জুন।

    ল্যাংড়া পাঁচু তখনও তালাটাকে ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে দেখে যাচ্ছে। অর্জুন তাকে বলল, এবার ওটা লাগিয়ে দাও!

    হাসল ল্যাংড়া পাঁচু, আমি বোধ হয় অভিমন্যু হয়ে গেলাম। ওর চুপসে যাওয়া মুখের হাসিটাকে ঠিক শকুনির হাসি মনে হল। কী আজেবাজে বকছ?

    সত্যি বাবু! এ খানদানি জিনিস। গুরুবলে খুলে ফেলেছি। কিন্তু বন্ধ করতে গিয়ে বুঝতে পারছি এ কী জিনিস।

    দ্যাখো, আমার হাতে সময় নেই। যেমন করে পায়রা বন্ধ করো। অর্জুনের গলায় এবার বেশ উত্তেজনা। ডরোথি যেন না বুঝতে পারে ঘরে কেউ ঢুকেছিল।

    দরজার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল ল্যাংড়া পাঁচু। তালাটাকে কড়ায় ঝুলিয়ে জিভে শব্দ করল, যেন কোনও পোষা প্রাণীকে আদর করছে। অর্জুন গাড়ির হর্ন শোনার জন্য কান খাড়া করল। যে-কোনও মুহূর্তে ডরোথিরা ফিরে আসতে পারে। ওদের মুখোমুখি এখনই হতে চায় না সে।

    ল্যাংড়া পাঁচু যতবারই তালা বন্ধ করে টেনে দেখছে, ততবারই ওটা খুলে যাচ্ছে। তার মুখ থেকে ছোটখাটো গালাগালি বেরিয়ে আসছিল। অন্য সময় হলে অর্জুন আপত্তি করত, কিন্তু এখন করল না। সে বলল, তোমার এত নাম, আর তুমি হার মানবে?

    হার মানলে আপনার জন্যে মানব।

    তার মানে?

    আপনি সেই যে আমাকে থানা থেকে বের করে এনে বললেন লাইন ছেড়ে দিতে, তারপর তো আর চচা নেই। খুলবে কেন? ল্যাংড়া পাঁচু তখনও তালা ঘোরাচ্ছে।

    অর্জুন ঢোঁক গিলল। হঠাৎ ল্যাংড়া পাঁচু তারটাকে পকেটে পুরে ওপর থেকে তালার মাথায় আঘাত করতে ওটা ভেতরে ঢুকে আটকে গেল। ওর মুখ থেকে অদ্ভুত একটা আওয়াজ ছিটকে উঠল, যাঃ বাবা। চাপ দিলেই তো বন্ধ হত। আমি এতক্ষণ ওর পেটের ভেতরে তার ঘোরাচ্ছিলাম। সহজ জিনিসটা কখনওই মাথায় আসে না।

    অর্জুন এগিয়ে গিয়ে তালাটাকে টেনে দেখল ওটা আটকে গেছে। সে চাপা গলায় ল্যাংড়া পাঁচুকে বলল, চটপট নেমে এসো।

    নেমে আসার পথে ল্যাংড়া পাঁচু বকরবকর করছিল, এর আগে সে কত রকমের জটিল তালা খুলেছে, অথচ কোনওটাই বন্ধ করার প্রয়োজন বোধ করেনি। আজ বুঝতে পারছে যে, কোনও জিনিস খোলা অথবা ভাঙা সহজ, কিন্তু বন্ধ করা অথবা গড়া খুব কঠিন।

    নিচে নেমে অর্জুন বলল, এবার সোজা বাড়ি ফিরে যাও।

    অ্যাও দূর থেকে হেঁটে বাড়ি যাব?

    রিকশায় যাও। পকেট থেকে দুটো টাকা বের করে সে লোকটাকে দিল।

    মাথা নাড়ল লোকটা, এত রাতে রিকশা পাব না।

    অগত্যা ওকে জিপের পেছনে বসাতে হল। অবনীবাবু তখনও চৌকিদারটার সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিলেন। এবার জিপ ঘুরিয়ে তিস্তা ভবনে পৌঁছবার বিপরীত দিকে খানিকটা গিয়ে একটা অন্ধকার জায়গায় ওটাকে মুখ ফিরিয়ে রাখলেন, কিছু পেলেন?

    তেমন কিছু নয়। তবে দুটো তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ডরোথি যে মিথ্যেবাদী, তা স্পষ্ট।

    যেমন?

    ওর পাসপোর্ট বলছে, এর আগে মাস ছয়েক আগেই ডরোথি দিল্লিতে এসেছিল। আর এবার এসেছে দিন সাতেক আগে। এসে ও পাঁচ দিন কোথাও ছিল। এসব কথা আমাকে বলেনি ডরোথি। অর্জুন জানাল।

    দিন সাতেক আগে ও যদি দিল্লিতে আসে তা হলে অমলবাবুর চিঠি এত দেরিতে পৌঁছল কেন আপনার কাছে? ও যদি সরাসরি দিল্লি থেকে বাগডোগরাতে চলে আসত, তা হলে আপনি জানতেও পারতেন না, কারণ তখনও চিঠি আপনার কাছে পৌঁছতো না। অমলবাবু এমন ভুল নিশ্চয়ই করবেন না। অবনীবাবুর কথায় যুক্তি ছিল।

    ঠিক। ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারছি না।

    আপনি চিঠিটা গতকাল পেয়েছেন?

    হ্যাঁ। কিন্তু কোথায় পোস্ট করা হয়েছে তা দেখিনি। ওটা দেখতে হবে।

    আপনার কাছে যে-মেয়েটা এত মিথ্যে কথা বলছে, তাকে অমলবাবু কেন যে রেকমেন্ড করলেন, বুঝতে পারছি না।

    জানি না, অমলদার সঙ্গে কীভাবে পরিচয়!

    অর্জুনের কথা শেষ না হওয়ার আগে হেডলাইটের আলো এগিয়ে এল। গাড়িটা বিপরীত প্রান্ত থেকে এলেও তিস্তা ভবনের গেটের সামনে থেমে যাওয়ায় ওদের জিপ পর্যন্ত হেডলাইটের আলো পৌঁছল না। পেছনের দরজা খুলে দুজন নেমে পড়ল। অথচ যাওয়ার সময় পেছনের আসনে একজনই ছিল এবং সে ডরোথি। ওরা গেট খুলে ভেতরে ঢুকে গেলে কালো অ্যাম্বাসাডার মুখ ঘুরিয়ে আবার গেটের সামনে পৌঁছল। অর্থাৎ ডরোথিকে কেউ একজন পৌঁছে দিতে গেল।

    অর্জুন বলল, চৌকিদার আবার বলে না দেয়!

    অবনীবাবু মাথা নাড়লেন, লোকটা মরে গেলেও মুখ খুলবে না। ব্যবস্থা করেছি।

    মিনিট দুয়েকের মধ্যে লোকটা ফিরে গেট বন্ধ করে ড্রাইভারের পাশে উঠে বসতেই গাড়ি ছেড়ে দিল। অবনীবাবু ইঞ্জিন চালু করলেন, ওদের অনুসরণ করা যাক।

    আমার মনে হচ্ছে ওরা শিলিগুড়িতে ফিরে যাবে।

    এক শহরে থাকছে না বলছেন?

    হ্যাঁ। বোধ হয় সেটা সন্দেহ এড়াতে।

    তা হলে তো বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে। যেতে-আসতে দেড় ঘণ্টা।

    কালো অ্যাম্বাসাডারটা এখন বেশ জোরে ছুটছে। অবনীবাবু অনেকটা দুরত্ব রেখে ওটাকে অনুসরণ করছিলেন। ক্রমশ কদমতলার মোড় ঘুরে শান্তিপাড়ার মোড় হয়ে গাড়িটা শিলিগুড়ির পথ ধরতে অবনীবাবু দাঁড়িয়ে গেলেন, আর যাওয়ার কোনও মানে হয় না। এখন ওদের আটকে কোনও লাভ নেই।

    রায়কতপাড়ার মোড়ে ল্যাংড়া পাঁচুকে বাইক থেকে নামিয়ে অর্জুন যখন বাড়ি ফিরে এল, তখন মধ্যরাত। মা জেগেই ছিলেন। খানিকটা বকুনি খেল সে। দেরির কারণ যে ডরোথি, এটা বলতে কোথায় বাধল। মা যদি বোঝেন কেউ অসৎ, তা হলে তার জন্য কোনও কাজ করবেন না। ডরোথির সঙ্গে আগামী কালও তাকে ভাল ব্যবহার করতে হবে, দুপুরে খাবার পৌঁছে দিতেও হবে। জানলে মা খাবারটা তৈরি করে দেবেন না। অতএব বকুনি হজম করতে হল অর্জুনকে।

    টেবিলে অমলদার চিঠিটা পড়ে ছিল। সেটাকে তুলে খামের গায়ে স্ট্যাম্প দেখতে গিয়ে মাথা নাড়ল অর্জুন। চিঠিটা পোস্ট করা হয়েছে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট অঞ্চল থেকে। টিকিটগুলো ভারতবর্ষের। অর্থাৎ ডরোথি অমলদার কাছ থেকে চিঠিটা নিয়ে এসে কলকাতা থেকে পোস্ট করেছে। চিঠিটা যখন সে পড়েছিল তখন আর খামটা খেয়াল করেনি। চিঠির ওপর লন্ডন এবং তারিখ আছে। তারিখটা ডরোথি রওনা হওয়ার দুদিন আগের। খামের ওপর অর্জুনের ঠিকানা টাইপ করে বসানো। আর খামটাও বিদেশি, এ-দেশের স্ট্যাম্প বসিয়ে দেওয়া হয়েছে ওপরে। এটা নিশ্চয়ই আগে থেকে পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে। কথা হল, অমলদা কেন নিজে পোস্ট না করে ডরোথির হাতে তুলে দিলেন?

     

    রাত্রে ভাল ঘুম এল না। বারংবার মনে হচ্ছিল ডরোথি তাকে যেমন প্রতারণা করেছে, অমলদাকেও তেমনই। কিন্তু কেন সেটা করতে গেল? বোঝা যাচ্ছে, তারিণী সেন এখন ওর লক্ষ্য। এখন, না আগে থেকেই? নোটবুকে ওই নামটার চার পাশে বাক্স আঁকা আছে। অর্থাৎ ডরোথি আগেই জানত যে, বাক্সটা মূল্যবান। আর ওই বাক্সের গায়ে কমলাকান্ত রায়ের নামের পাশ থেকে একটা লাইন নামানো হচ্ছে। তার মানে কি কমলাকান্ত রায়ের সঙ্গে তারিণী সেনের কোনও যোগাযোগ ছিল? মুশকিল হচ্ছে তারিণী সেনের আর্থিক এবং শারীরিক অবস্থা যা, তার জন্য লন্ডনের কোনও ইংরেজ মহিলার কোনও উদ্বেগ থাকা তো অস্বাভাবিক, ক্ষমাটমা চাওয়ার ব্যাপারটা এখন নেহাতই একটা আড়াল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    ঘুম থেকে উঠে চা খেয়ে অর্জুন সোজা রওনা হল তিস্তা ভবনের দিকে। খুব হালকা রোদ উঠেছে আজ। বাতাস বইছে চমৎকার। তিস্তা ভবনের বাগানে ডরোথিকে দেখতে পাওয়া গেল। একটা গাছের পাতা খুব মন দিয়ে লক্ষ করছে। বাইকের আওয়াজে বোধ হয় তার চমক ভাঙল। অর্জুন গুড মর্নিং বলতে সে হেসে সাড়া দিল।

    ঘুম হয়েছিল?

    নাঃ। নিজের বিছানার অভ্যেস বড় খারাপ। যাকগে, আমরা কখন যাব?

    বিকেলে। গতকাল ডাক্তার তো সে রকমই বলল।

    ওকে দেখে মনে হচ্ছে, এখনই কোনও হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত।

    ঠিক আছে, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করব। উনি যদি বলেন, তা হলে করা যাবে।

    দেখে আমার এত ভয় করছিল। যদি আজ পর্যন্ত বেঁচে না থাকেন তা হলে আমার এখানে আসাই বৃথা হবে। ডরোথি হাঁটতে লাগল।

    তা তো হবেই। অন্য দুজন মারা গিয়েছেন আগে, তারিণীবাবু এখনও বেঁচে আছেন, ওঁর সঙ্গে তোমার কথা হওয়া দরকার।

    কথা মানে দাদুর হয়ে ব্যাপারটা জানানো। ব্যস।

    ব্রেকফাস্ট করেছ?

    নাঃ। একটু পরে করব। তুমি?

    আমি খেয়ে বেরিয়েছি।

    তোমাকে আমার জন্যে কষ্ট করতে হচ্ছে।

    আরে না। অমলদার আদেশ আমার শিরোধার্য। তা ছাড়া তোমার সঙ্গে আলাপ হওয়ার পর আমার ভালই লাগছে।

    ধন্যবাদ। তুমি কখনও বিদেশে গিয়েছ?

    তা গিয়েছি। হিথরো এবং কেনেডি এয়ারপোর্ট দেখা হয়ে গেছে।

    তাই নাকি? অবাক হয়ে তাকাল ডরোথি। যেন এতটা আশা করেনি সে। জিজ্ঞেস করল, বেড়াতে গিয়েছিলে?

    ওই আর কি! অর্জুন হাসল, এখন কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে আছে?

    নাঃ। বইটা শেষ করব। খুব ইন্টারেস্টিং।

    ক্রাইম থ্রিলার?

    হ্যাঁ।

    জলপাইগুড়িতে একসময় খুব ক্রাইম হত। এখানকার পুলিশের খুব নাম আছে।

    তাই নাকি? ডরোথি তাকাল।

    হ্যাঁ। কদিন আগে হাইওয়ে থেকে ওরা কুখ্যাত ক্রিমিনালদের ধরেছে।

    ও। ডরোথি মুখ ঘুরিয়ে নিল।

    একটা কথা তোমাকে জিজ্ঞেসা করা হয়নি। মিস্টার অমল সোমের সঙ্গে তোমার কীভাবে আলাপ হল? উনি কি এখন লন্ডনেই থাকেন?

    আমি ওঁকে ঠিক জানি না। আমার এক আত্মীয় ওঁকে চেনেন। আমি ইন্ডিয়ার এদিকটায় আসতে চাই শুনে উনি মিস্টার সোমের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ওই একবারই দেখি ওঁকে। আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করেছিলেন এই পর্যন্ত।

    আরও কিছুক্ষণ অনাবশ্যক কথাবার্তা চালিয়ে অর্জুন বিদায় নিল। ঠিক হল, বিকেল হওয়ার আগেই ওরা রওনা হবে। দুপুরে লাঞ্চ নিয়ে অর্জুনকে আসতে নিষেধ করল ডরোথি। আজ ওর খাওয়ার ইচ্ছে নেই। দরকার হলে এখান থেকেই টোস্ট আর ওমলেট খেয়ে নেবে। মেয়েটাকে খুব অন্যমনস্ক দেখাচ্ছিল এখন।

    বাড়ি ফিরে মাকে খাবার তৈরি করতে নিষেধ করে ছটা লুচি, বেগুনভাজা আর মিষ্টি পেটে পুরল অর্জুন। ডরোথির মুখটা সে কিছুতেই ভুলতে পারছিল না। কী চমৎকার অভিনয় করে গেল মেয়েটা! গত রাতে বেরিয়ে আসার কথা বেমালুম চেপে গেল। অর্জুন এখানকার পুলিশের কৃতিত্বের বর্ণনা করায় অন্যমনস্ক হয়েছিল কয়েক সেকেন্ডের জন্য। ডরোথি কোনও একটা গোপন কাজে সঙ্গী নিয়ে এসেছে এটা স্পষ্ট, কিন্তু কাজটা কী, তা বুঝতে পারছে না সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article তেরো পার্বণ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }