Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প731 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. অবিশ্বাস্য দ্রুততায় কাজ

    অবিশ্বাস্য দ্রুততায় কাজ শুরু হয়ে গেল। পার্ক স্ট্রিটের একটা ফোটোর দোকান থেকে বিশেষ সাইজের ছবি তুলতে হল আমেরিকার ভিসার জন্যে। সুধামাসিকে নিয়ে সকাল নটার মধ্যে আমেরিকান কনসুলেটে হাজির হয়ে অর্জুন দেখল, অরূপ লাহিড়ী নিজে দাঁড়িয়ে আছেন। কথা ছিল ওঁদের কোনও কর্মচারী অর্জুনদের সাহায্য করতে আসবেন।

    সুধামাসির সঙ্গে পরিচিত হয়ে অরূপ লাহিড়ী বললেন, একটা কথা বলা হয়নি, আমেরিকানরা ওদের দেশে অবিবাহিতদের যেতে দিতে আদৌ ইচ্ছুক নয়। একলা কোনও মানুষ ওদেশে গেলে ওখানেই থেকে যাবে বলে এদের খুব ভয়।

    সে কী! খামোকা থাকতে যাবে কেন?

    পৃথিবীর গরিব দেশগুলোর প্রচুর মানুষ মনে করে ওদের দেশে যেতে পারলে একটানা-একটা কাজ ঠিক জোগাড় হয়ে যাবে। এই কারণে ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে এখন কড়াকড়ি আরম্ভ হয়েছে। ওরা নিজেদের দেশের জনসংখ্যা বাড়াতে চায় না।

    সুধামাসি বললেন, আমরা কেন থাকতে যাব? জামাইকে দেখতে কদিনের জন্যে যাচ্ছি। এখানে আমাদের সবকিছু ফেলে ওখানে থাকতে যাব কেন?

    অরূপ লাহিড়ী বললেন, সেটাই ওঁদের বোঝাতে হবে। অর্জুনবাবুর তো বিয়ে হয়নি, তাই তো? আপনি বলেছেন চাকরিবাকরি করেন না। আপনার প্রফেশন সার্টিফাই করবে এমন কোনও কাগজ কাছে আছে?

    অর্জুন মাথা নেড়ে না বলল।

    তা হলে কিন্তু আপনি ওদের চোখে অবিবাহিত বেকার। এমনিতে এক্ষেত্রে ভিসা ওরা দেবে না। তবে আপনার পাশপোর্টে আমেরিকান ইমিগ্রেশনের ছাপ আছে। ওটা প্রমাণ করছে আপনি ওদের দেশে গিয়েছিলেন এবং ফিরেও এসেছেন।

    ও তো আমাকে পৌঁছে দিতে যাচ্ছে! সুধামাসি বললেন।

    সেটাই ওদের বোঝাতে হবে।

    তা যদি বলো, আমিও তো কাজকর্ম করি না।

    হ্যাঁ। মেসোমশাই যখন জীবিত নন তখন কোনও পিছুটান নেই যে এদেশে ফিরে আসবেন। ওরা বলতেই পারে একথা। আপনার যেসব বিষয়সম্পত্তি আছে তার বিশদ বিবরণ দাখিল করলে ওরা ভাবতে পারে আপনি ফিরে আসবেন।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, তা হলে কী হবে? আমরা তো সত্যি ওদেশে থাকতে বা বেড়াতে যাচ্ছি না। প্রয়োজনটা যে জরুরি তাতে তো সন্দেহ নেই!

    না নেই। গতকাল বিকেলে আমি আপনার মেয়েকে ফোন করেছিলাম। ওঁকে বলেছিলাম দুর্ঘটনার কথা লিখে আপনাকে এবং অর্জুনবাবুকে অবিলম্বে ওখানে যাওয়ার জন্যে অনুরোধ জানিয়ে ফ্যাক্স করতে। আজ সকালে সেই ফ্যাক্স এসে গেছে। বলুন, এই ফ্যাক্স নিশ্চয়ই কাজে দেবে।

    অরূপবাবু নিজে উদ্যোগী হয়ে ফ্যাক্স না আনলে সত্যি ভিসা পেতে অসুবিধে হত। ভিসা অফিসার প্রথমে আপত্তি তুলেছিলেন। শেষপর্যন্ত ফ্যাক্সটি নিয়ে ভেতরে গিয়ে মিনিট দশেক ওদের অপেক্ষায় রেখে বলেছিলেন ভিসার টাকা জমা দিতে। বিকেলবেলায় পাশপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে ভিসার ছাপ মেরে।

    সেদিনই দমদম থেকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের প্লেনে উঠে বসল ওরা। এত দ্রুত সবকিছু হয়ে গেল যাঁর জন্য তাঁকে সুধামাসি প্রাণভরে আশীবাদ করলেন। বেল্ট বাঁধার পর সুধামাসি রললেন, আমার খুব ভয় করছে।

    কেন? কী হয়েছে?

    আমি এর আগে কখনও প্লেনে উঠিনি।

    দার্জিলিং মেলে বসে থাকলে যতটা বিপদ হতে পারে এখানে তার থেকে বেশি বিপদ হবে না সুধামাসি। আমি তো পাশে আছি।

    সুধামাসি হেসে ফেললেন।

    হাসলে যে?

    রবীন্দ্রনাথের বীরপুরুষ কবিতার কথা মনে পড়ল।

    অর্জুন হাসল। সত্যি, এখন আকাশে প্লেন বিপদে পড়লে তার কিছু করার নেই। অথচ কী সহজে সে সুধামাসিকে বলল, আমি তো পাশে আছি। অর্জুন চারপাশে তাকাল। এই প্লেন সরাসরি কলকাতা থেকে ছাড়ে বলে যাত্রীদের অনেকেই বাঙালি। মাসিমা বসেছেন জানলার ধারে, ও তাঁর পাশে। তারপরেই যাতায়াতের পথ, পথের পাশের সিটে থান পরা একজন মহিলা চোখ বন্ধ করে আছেন। অর্জুনের মনে হল, ইনিও ভয় পেয়েছেন। অর্জুন একটু ঝুঁকে বলল, কোনও অসুবিধে হচ্ছে?

    বিধবা মহিলা খিঁচিয়ে উঠলেন, দেখছে আহিক করছি, তবু ঝামেলা।

    অর্জুন সোজা হয়ে বসল।

    প্লেন যখন তিরিশ হাজার ফুট উঁচুতে তখন অর্জুন টয়লেটে গেল। সে লক্ষ করল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের হোস্টেসরা সবাই বেশ লম্বা, সুন্দরী এবং প্রত্যেকের মুখে হাসি লেগে রয়েছে। গতবার আমেরিকা থেকে ফেরার সময় কিছুদিন মেজরের সঙ্গে লন্ডনে এবং আশেপাশে চমৎকার কেটেছিল তার। মেজর এখন কি আমেরিকায় আছেন? বিষ্ণু সাহেব? অর্জুনের হঠাৎ মনে হল, বিদেশবিভুঁই নয়, সে পরিচিত মানুষদের কাছেই বেড়াতে যাচ্ছে। সিটে ফিরে এসে সে দেখল ইতিমধ্যেই এয়ারহোস্টেসরা ট্রলি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে খাবার পরিবেশন করতে। অরূপ লাহিড়ী টিকিট করার সময় বলে দিয়েছিলেন সুধামাসির জন্যে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা করতে। ওরা তাই দিল। পাশের বিধবা মহিলা কিন্তু খাবার নিলেন না। বাঁ হাত নেড়ে না বলে দিলেন নিঃশব্দে। খাওয়া শেষ করার পর অভিনব কাণ্ডটি দেখল অর্জুন। বিধবা মহিলা তাঁর ব্যাগ খুলে একটা বড় কৌটো বের করলেন। কৌটো খুলতেই দেখা গেল তাতে লুচি এবং আলুর হেঁচকি এবং সন্দেশ রয়েছে। তৃপ্তমুখে তিনি সেগুলো খেতে লাগলেন। ট্রেনে এই দৃশ্য খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু প্লেনে কেউ বাড়ির খাবার নিয়ে ওঠে কিনা অর্জুন জানে না। বিধবা মহিলার খাবার দেখে ওঁর ডানপাশে বসা বিদেশিনী ঝুঁকে কিছু বলতেই তিনি সিঁটিয়ে এপাশে সরে এলেন। অর্জুন মন্তব্য শুনল, শান্তিতে খেতেও দেবে না। ভিখিরির দেশ নাকি?

    হিথরো এয়ারপোর্টে নেমে সুধামাসি জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের জিনিসপত্র?

    অর্জুন বলল, চিন্তা কোরো না। ওগুলো নিউ ইয়র্কে সোজা চলে যাবে। আমরা ওখানে গেলে পেয়ে যাব। হাঁটতে-হাঁটতে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে ওরা যখন ট্রানজিট লাউঞ্জের দিকে এগোচ্ছে তখন বিধবা মহিলা অন্য রাস্তা ধরলেন। অর্জুন বুঝতে পারল উনি লন্ডনেই থেকে যাবেন এবং এই পথে আসা যাওয়ার অভ্যেস আছে। একটাও ইংরেজি শব্দ না জেনেও বাঙালি বিধবা মহিলারা কীরকম বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন আজকাল।

    ডিউটি ফ্রি দোকানগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে সুধামাসি জিজ্ঞেস করলেন,  রে, আমরা তা হলে বিলেতের মাটিতে এসে দাঁড়িয়েছি?

    অর্জুন হাসল, মাটি এখান থেকে অনেক নীচে। বিলেতের এয়ারপোর্টে বলো।

    তোর মেলোমশাই কলেজে পড়ার সময় এখানে এসেছিলেন। সে কতদিন আগের কথা। আমাকে তখনকার গল্প করতেন। টেক্স না কী একটা নদী আছে এখানে?

    টেম্‌স।

    বিশাল কাচের দেওয়ালের ওপাশে দেখা যাচ্ছে অনেক প্লেন দাঁড়িয়ে আছে। সেদিকে তাকিয়ে হঠাৎ সুধামাসি প্রশ্ন করলেন, সিরাজের সময় তো প্লেন ছিল না, সমুদ্র বেয়ে যেতে হত। কতদিন লাগত কলকাতায় যেতে?

    দু মাসের ওপর।

    তখনকার একটা জাহাজে কত লোক ধরত?

    ঠিক বলতে পারব না। তবে পাঁচ-সাতশো হবে।

    এখান থেকে ইংরেজরা অতদূরে গিয়ে আমাদের দেশ দখল করল কী করে রে? আমি ভাবতেই পারছি না। সমুদ্রে অতদিন থাকলে কত বিপদের সামনে পড়তে হয়। নিশ্চয়ই শয়েশয়ে জাহাজ গিয়েছিল।

    না সুধামার্সি। সরকারি সৈন্যরা তো যায়নি, গিয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লোকজন। তাদের জাহাজের সংখ্যাও খুব বেশি হওয়ার কথা নয়।

    তা হলে? সিরাজের তো অনেক সৈন্য ছিল, সমুদ্রযাত্রা করে ইংরেজরা নিশ্চয়ই কাহিল ছিল, তবু তারা জিতে গেল কী করে?

    মিরজাফরদের জন্যে। ভারতবর্ষে চিরকাল একদল মানুষ বিশ্বাসঘাতকতা করে এসেছে। কিন্তু এসব অতীতের কথা। এখনকার ইংরেজদের অতশত মনেও নেই। কিন্তু লন্ডন শহরে গেলে তোমার মনে হবে তুমি ভারতবর্ষের কোনও বড় শহরে আছ।

    কেন?

    সব চেনা-চেনা লাগবে। ডাবলডেকার বাস, রাস্তার নামগুলো। এমনকী শেক্সপিয়রের বাড়ি, ডিকেন্সের বাড়ির কথা বইয়ে এত পড়েছে সবাই যে, অচেনা বলে মনে হবে না। রাস্তায় চলার নিয়মগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের কোনও পার্থক্য নেই। আমেরিকায় আবার সব উলটো। ইংরেজরা যা-যা করে, ওরা তার উলটো করে। এমনকী সুইচ টিপে যে আলো জ্বালানো হয় তার পদ্ধতিও বিপরীত করে রেখেছে ওরা। কিন্তু আমাদের সবকিছু ব্রিটিশরা নিজেদের মতো তৈরি করেছে বলে লন্ডনে এলে ভারতীয়দের কোনও অসুবিধে হয় না।

    সুধামাসি বললেন, না বাবা। ছেলেবেলা থেকে জেনে আসছি ইংরেজরা আমাদের শত্রু। ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দিয়েছিল, সুভাষ বোসকে বন্দি করে রেখেছিল, কত বিপ্লবীকে মেরে ফেলেছে।

    অর্জুন হেসে ফেলল।

    অ্যাই, হাসছিস কেন?

    তোমার শ্বশুরমশাই ছিলেন ইংরেজ আমলের রায়বাহাদুর।

    তো কী হয়েছে?

    কে না জানে, ইংরেজরা কোনও শিক্ষিত ভারতীয়দের ওপর সন্তুষ্ট হলেই রায়বাহাদুর উপাধি দিত। তা সন্তুষ্ট কেন হত?

    সুধামাসির মুখ গম্ভীর হয়ে গেল, এইজন্যেই তো তোর মেলোমশাই-এর সঙ্গে তাঁর বাবার কোনও মিল ছিল না। নিজের বাবাকে তিনি একটুও পছন্দ করতেন না। মায়ের জন্যে তিনি বাড়ি ছেড়ে যেতে পারেননি। জলপাইগুড়ির কলেজে চাকরি নিয়ে নিজের মতো ছিলেন। বলতেন, রায়বাহাদুরের ছেলে বলে ভাবতেই লজ্জা লাগে। শুধু ভাবতেনই না, বিশ্বাসও করতেন।

    হিথরো এয়ারপোর্ট ঘণ্টা পাঁচেক কাটাতে হবে। সুধামাসিকে টয়লেটে পাঠিয়ে অর্জুন সিগারেট ধরাল। রোজই ভাবে এই সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে দেবে। যাকে বলে নিয়মিত খাওয়া তা সে খায় না। কিন্তু হঠাৎ কোনও অলস মুহুর্তে মনে হয় একটা রাই। ঠিক নয়। আমেরিকায় গিয়ে সে একটাও সিগারেট খাবে না বলে ঠিক করল। পৃথিবীর সব ডাক্তাররা যখন বলছেন স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর তখন তা অমান্য করা আর আগুনে আঙুল দেওয়া একই ব্যাপার।

    চেয়ারে বসে অর্জুনের মনে হল এ-যাত্রায় কোনও উত্তেজক কিছু ঘটবে না। শুধু যাওয়া-আসা, সুধামাসির কথা রাখা। মা বলেন, তোর কপালে সবসময় কোনও না কোনও গেরো লেগেই থাকে, না? তুই কোথাও বেড়াতে গেলেও ঠিক কেউ সেখানে বদমায়েশি করে বসে। এবার বাড়ি থেকে বেরোবার সময় সে ঠাট্টা করে বলেছিল, তোমার কোনও চিন্তা নেই। এবারের যাত্রা একেবারে নিরামিষ।

    মা বলেছিলেন, দ্যাখো, পেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান কোটে। দ্যাখো, কোথা থেকে কী হয়ে যায়। তবে দয়া করে জড়িয়ো না।

    হিথরো এয়ারপোর্টের চেয়ারে বসে অর্জুন মনে-মনে বলল, তেমন হলে তো ভালই হত। কিন্তু মনে হচ্ছে এবারের যাত্রা নেহাতই আলুনি হবে।

    সুধামাসি ফিরে এলে অর্জুন গেল পরিষ্কার হতে। পুরুষদের টয়লেটে লজ্জার বালাই বেশ কম। যারা কমোড়ে বসেছে তাদের জুতো পা বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। বেসিনগুলোর সামনে নানা দেশের মানুষ। পরিষ্কার হওয়ার পর চুল আঁচড়ে আয়নায় নিজেকে দেখতে গিয়ে অর্জুনের চোখে পড়ল পাশের বেসিনের কলে সন্তর্পণে দাঁত ধুচ্ছে একটা লোক। বাঁধানো দাঁতের পাটি এর আগেও দেখেছে সে। রাত্রে জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে পরিষ্কার করা হয়। এই লোকটির সেই সুযোগ না থাকায় কলের জলেই ধুয়ে নিচ্ছে। হঠাৎ অর্জুনের চোখে পড়ল ধোয়ার সময় দাঁতের ভেতরের দিকে টুক করে সাদা রঙের কিছু আটকে ফেলল লোকটা। লম্বা লেবুর কোয়ার মতো বেঁকানো জিনিসটা কি প্লাস্টিকের তৈরি? লাগিয়েই মুখে পুরে ফেলে হাঁ করে দাঁতটা ঠিক বসেছে কিনা আয়নায় দেখল। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়ে গরম বাতাস বেরনো মেশিনের নীচে হাত রেখে শুকিয়ে নিল। অর্জুন লোকটাকে দেখল। গায়ের চামড়া সাদা, রুমালে মুখ মুছে বেরিয়ে এল লোকটা।

    অর্জুনও ওর পেছনে চলে এল। লোকটা ঘাড় ঘুরিয়ে অর্জুনকে দেখল, দেখে হাসল, পাকিস্তানি?

    নো। ইন্ডিয়ান।

    আ, ইন্ডিয়ান। গুড়। হোয়ার আর ইউ গোয়িং?

    আমেরিকা।

    আ। মি ট্র। টুরিস্ট?

    ইয়েস।

    আই স্টে দেয়ার।

    লোকটার গলার স্বর জড়ানো। উচ্চারণে জড়তা আছে। এমনিতে বেশ হাসিখুশি কিন্তু ও যে দাঁতের ভেতর কিছু লুকিয়েছে তাতে অর্জুনের কোনও সন্দেহ নেই। লোকটা চলে যেতেই অর্জুন ফিরে এল সুধামাসির কাছে। সুধামাসি বললেন, কী চমৎকার বানিয়েছে রে। দোকানগুলোতে কতরকমের জিনিস, কিন্তু বড় বেশি দাম।

    কিছু খাবে?

    পাগল। প্লেনে যা খাইয়েছে তাতে গলা বন্ধ হয়ে গেছে।

    এখানে যারা আছে তাদের কেউ লন্ডনে যাবে না?

    না। এটাকে বলে ট্রানজিট লাউঞ্জ। যে যার গন্তব্যে যাওয়ার জন্যে প্লেন ধরবে এখান থেকে। তাই এখানে নামলে বিলিতি ভিসার দরকার হয় না। অর্জুন কথা শেষ করতেই রোগামতো এক মহিলা সামনে এসে দাঁড়ালেন। মহিলার বয়স বেশি নয়, দেখলেই রাগী মেমসাহেব বলে বোঝা যায়।

    এক্সকিউজ মি জেন্টলম্যান। ইওর পাশপোর্ট প্লিজ! হাত বাড়ালেন মহিলা। সেইসঙ্গে নিজের আইডেনটিটি কার্ড দেখালেন তিনি। ঝটপট কিছুই পড়তে পারল না অর্জুন। সে পাশপোর্ট বের করে মহিলার হাতে দিল। তিনি কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে দেখলেন। তারপর ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ওই

    লোকটিকে কী করে চিনলেন?

    অবাক হয়ে গেল অর্জুন, কোন লোকটি?

    যার সঙ্গে টয়লেট থেকে বেরিয়ে কথা বলছিলেন?

    ও। ওকে আগে আমি চিনতাম না। টয়লেটেই প্রথম দেখি।

    কী বলল লোকটা?

    এমনি, সাধারণ কথাবার্তা। কোত্থেকে আসছি, কোথায় যাচ্ছি, এইসব।

    আর ইউ শিওর, ওকে আগে কখনও দ্যাখেননি?

    না। কিন্তু কেন এসব জিজ্ঞেস করছেন জানতে পারি?

    ভদ্রমহিলা এবার হাসলেন, তেমন কিছু নয়। ইনি আপনার সঙ্গে আছেন?

    হ্যাঁ। ইনি আমার মাসিমা।

    ভদ্রমহিলা সুধামাসির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন ঈষৎ হেসে। তারপর বললেন, অজানা লোকের সঙ্গে বেশি কথা না বলাই ভাল, বিশেষ করে যারা গায়ে পড়ে ভাব জমাতে আসে। ওয়েল? মাথা নাড়লেন মহিলা, এইসব কথা আর কাউকে না বললেই ভাল করবেন। ভদ্রমহিলা চলে গেলেন।

    ইংরেজিতে কথা হলেও সুধামাসি কিছু কিছু বুঝতে পারছিলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কে রে? কার সঙ্গে কথা বলেছিস?

    একটা লোক আমাকে জিজ্ঞেস করছিল আমি পাকিস্তানি কি না!

    তাতে দোষ কী হল? এ কি মেয়ে-পুলিশ?

    ওইরকমই কেউ হবে।

    সময় কাটতে চায় না। সুধামাসিকে বসিয়ে রেখে অর্জুন সামনের দোকানে ঢুকল। কাচের দেওয়ালে আলো পড়ায়, ঝকঝক করছে। একদিকে চকোলেটের এগজিবিশন, অন্যদিকে নানান ধরনের সিগারেটের কার্টুন আর মদের বোতল।

    এ-দোকান থেকে ও-দোকানে ঘুরতে-ঘুরতে একটা কফিশপে চলে এল সে। কফিশপ হলেও কোল্ড ড্রিঙ্কস বিক্রি হচ্ছে সে জানল এক কাপ কফির দাম এখানে দেড় পাউন্ড। তার মানে ভারতীয় টাকায় প্রায় চুরাশি টাকা। দোকানে ঢুকে না কিনে বেরিয়ে যেতে সঙ্কোচ হচ্ছিল। কলকাতা থেকে আসার সময় সুধামাসির টাকায় কিছু ভুলার দুজনের নামে কিনে দিয়েছিলেন অরূপ লাহিড়ী। দাঁত মাজার পর চা বা কফি না খেলে খারাপ লাগে। অর্জুন এককাপ কফি নিয়ে চুমুক দিতেই শুনল, হাই!

    সে দেখল ওই লোকটি হাত নেড়ে কাছে এল, কফি?

    অর্জুন মাথা নাড়ল, ইয়েস। ড়ু ইউ লাইক ইট? ইচ্ছে করেই অর্জুন জিজ্ঞেস করল।

    ওঃ, নো নো। নো হট ড্রিঙ্ক! সরি! লোকটা হাসল।

    ওর বাঁধানো দাঁতের দিকে তাকিয়ে অর্জুনের মনে পড়ল প্লাস্টিকের থলের কথা। গরম জিনিস মুখে গেলে সেই থলে কেটে যেতে পারে বলেই কি ও খাচ্ছে না। এই সময় দুজন লোক হঠাৎ লোকটার দুপাশে চলে এসে তাদের কার্ড দেখিয়ে টানতে-টানতে দেওয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড় করিয়ে দিল। একজন ওর জ্যাকেট, শার্ট প্যান্ট থেকে শুরু করে সর্বাঙ্গ সার্চ করতে লাগল। ওর জুতো খুলেও দেখল ওরা। জ্যাকেটের ভাঁজও পরীক্ষা করা হল। শেষপর্যন্ত কিছুই না পেয়ে ছেড়ে দিয়ে চলে গেল। লোকটা কিন্তু একটুও রাগল না। ফিরে এসে অর্জুনের পাশে দাঁড়িয়ে বলল, এরা কী ভাবে বলো তো? সবাই ক্রিমিনাল?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৬ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }