Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প731 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. ঘরটি সুন্দর

    ঘরটি সুন্দর। জুতো পরেই খাটে শুয়ে ছিল অর্জুন। নিউজিল্যান্ডের মানুষরা ইংরেজি বলেন। কিন্তু অমল সোম বলেছিলেন ওদের উচ্চারণ বুঝতে বেশ অসুবিধে হয়। জনসাহেবের সঙ্গে তেমন সমস্যা হলে মুশকিলে পড়বে সে। এখন ভরদুপুর। ভাগ্যিস মানিকলাল তাকে প্রচুর খাইয়েছিল, নইলে..। অর্জুন তার সুটকেসের দিকে তাকাল। এবং তখনই এস. কে. গুপ্তার কথা মনে এল। তার কাছে মানিকলালের টেলিফোন নম্বর নেই যে, ভদ্রপুরে জানিয়ে দেবে যে কেউ আসেনি বাক্সটা নিতে। কিন্তু গোপাল যা বলল…।

    অর্জুন ঘরের এক কোণে রাখা টিভিটা চালিয়ে দিল। রাজা এবং মন্ত্রীর খবরাখবর দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় কেন্দ্র থেকে। পোখরাতে আরও টুরিস্ট যাতে যান তার জন্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিরাটনগরের একটা কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তারপরেই পরদায় ভেসে উঠল সেই দুর্ঘটনায় পড়া গাড়িটির ছবি, যা অর্জুন এখানে আসার পথে দেখে এসেছে। সংবাদপাঠক বললেন, আজ সকাল সাড়ে এগারোটার সময় এক সড়ক দুর্ঘটনায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস. কে. গুপ্তী নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, তিনি এয়ারপোর্টে যাচ্ছিলেন। তারপরেই অন্য খবর এসে গেল। অর্জুন হতভম্ব হয়ে গেল। ভদ্রপুর থেকে তার প্লেন ছাড়ার আগেই মানিকলাল ফোনে এস, কে, গুপ্তাকে এয়ারপোর্ট যেতে বলেন। সময় যখন সাড়ে এগারোটা তখন বোঝা যাচ্ছে গুপ্তা একটুও সময় নষ্ট করেননি। গোপালের কথা যদি ঠিক হয় তা হলে আততায়ী গুপ্তাকে পথেই মেরে ফেলতে চেয়েছে। অর্থাৎ আততায়ী গুপ্তার ওপর নজর রাখছিল। এমন হতে পারে গুপ্তার ফোনে সে আড়ি পেতেছিল। এ থেকে প্রমাণিত হয় একটা পুরনো শত্রুতা এদের মধ্যে ছিল। কিন্তু তাই যদি হয় তা হলে আততায়ী গুপ্তাকে খুন করে এয়ারপোর্টে গিয়ে তাকে বলতে পারত যে সে-ই এস, কে, গুপ্তা। অর্জুনের পক্ষে সন্দেহ করা সম্ভব ছিল না। বাক্সটা তখনই সে দিয়ে দিত। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে বাক্সটার প্রতি আততায়ীর কোনও মোহ নেই। তা হলে খুন করল কেন?

    অর্জুন হেসে ফেলল। তার স্বভাব খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সে এখানে এসেছে। সম্পূর্ণ অন্য কারণে। কে কাকে খুন করল তা নিয়ে সে ভাবছে কেন? সে সুটকেস খুলে সাদা পিসবোর্ডের বাক্স বের করল। গোপাল যা বলল তাতে বোঝা যাচ্ছে এস, কে, গুপ্তা বড় ব্যবসায়ী। তিনি কত বড় ব্যবসা করেন তা নিয়ে প্রশ্ন করে কোনও লাভ নেই। কিন্তু মারা গেলে যার কথা টিভিতে বলা হয় তিনি একেবারে সাধারণ মানুষ নন। তা এইরকম লোক মানিকলের ফোন পেয়ে নিজে কেন এয়ারপোর্টে এই বাক্সটা আনতে যাচ্ছিলেন। যে-কোনও লোককে পাঠালেই তো পারতেন।

    অর্জুনের মনে হল কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কী এমন বিশেষ জিনিস মানিকলাল পাঠিয়েছেন যে, কর্মচারীদের ওপর বিশ্বাস করতে পারেননি এস, কে. গুপ্তা? এই সময় টেলিফোন বাজল। অর্জুন রিসিভার তুলে হ্যালো বলতেই ওপাশে কেউ গ্যাঁক গ্যাঁক করে কিছু বলে উঠল।

    অর্জুন বুঝতে না পেরে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করল, কে বলছেন?

    আঃ। দিস ইজ জন। জন বেইলি। তুমি নীচের রেস্টুরেন্টে চলে এসো। তোমার জন্যে অপেক্ষা করছি।

    সব কথা পরিষ্কার নয়। একটা আনুনাসিক ধ্বনি জড়িয়ে আছে প্রতিটি শব্দের সঙ্গে। কিন্তু অর্জুন অপেক্ষা করল না।

    নীচের রেস্টুরেন্টে যেতেই ওদের দেখতে পেল সে। পাঁচজন পুরুষ এবং দুজন মহিলা টেবিলে বসে আছেন। ও কাছে গিয়ে বলল, আমি অর্জুন।

    সঙ্গে সঙ্গে লম্বা, একমাথা টাক, রোগা এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়িয়ে ওর হাত জড়িয়ে ধরলেন, আমি জন। কখন এসেছ তুমি?

    এই তো একটু আগে।

    আমার বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিচ্ছি। একে-একে সবার নাম এবং কে কী কারণে এসেছেন জানিয়ে দিলেন জন বেইলি। অর্জুন শুনল দুজন মহিলার একজন ক্যামেরা চালাবেন। অন্যজন ডাক্তার।

    ওঁদের সঙ্গে বসার পর লাঞ্চ এল। কন্টিনেন্টাল খাবার। অর্জুন লক্ষ করল কেউ জল খেলেন না। খাওয়ার পর কোল্ড ড্রিঙ্কের টিন খুললেন। জন এবার বললেন, ভানু আমার বন্ধু। সার হিলারির টিমে আমরা ছিলাম। ওকে রেফার করেছিল ডেসমন্ড ডয়েগ। ডাক্তার অসুস্থ হওয়ার পর ভানু প্রয়োজন হলে ইঞ্জেকশন দিত। খুব ভাল হাত ছিল। পরে জানা গেল সে ওই অভিযানে যাওয়ার আগে কোনওদিন ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ ধরেনি। সার হিলারি তাঁর বইয়ে এই ব্যাপারটা লিখেছিলেন। তুমি আমাদের এই অভিযানে কীভাবে সাহায্য করতে পারো?

    কথাগুলো বুঝতে পারল অর্জুন। সে বলল, আপনারা একটা দারুণ ইন্টারেস্টিং ব্যাপারের ছবি তুলতে যাচ্ছেন। আপনাদের সঙ্গী হতে আমি আগ্রহী। আমি জানি না ঠিক কীভাবে সাহায্য করতে পারব।

    পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতা তোমার নেই?

    না।

    তুমি ডাক্তার নও?

    না।

    ওখানকার গ্রামের মানুষদের ভাষা তুমি কি জানো?

    নেপালি হলে জানি। তবে সম্ভবত ওরা নেপালি বলে না।

    তা হলে তোমাকে নিয়ে আমার কী উপকার হবে?

    আপনি ঠিকই বলেছেন। আসলে মিস্টার ভানু ব্যানার্জি…।

    ইয়েস। সেখানেই তুমি আসছ। আচ্ছা, বন্ধুরা, তোমরা এখন বিশ্রাম নিতে পারো। আমি আর অর্জুন একটু ঘুরে আসছি। জন উঠে দাঁড়ালেন।

    বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। জন এবং অর্জুন সেটায় উঠলে ড্রাইভারকে সরকারি হাসপাতালে যেতে বলা হল। কাঠমণ্ডু খুব সুন্দর সাজানো শহর নয়। অন্তত দার্জিলিং-এর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। রাস্তায় এত ভারতীয় মুখ যে, বিদেশ বলে ভাবতে অসুবিধে হয়। জন বললেন, এবার নিয়ে চারবার আমি এখানে এলাম। শহরটা তেমন বদলায়নি।

    হাসপাতালে যে আগেই খবর দেওয়া ছিল তা বুঝতে পারল অর্জুন। ততক্ষণে সে ভেবে নিয়েছে আগামীকালই তাকে ফেরত যেতে হবে। খামোখা পয়সা এবং সময় নষ্ট করে এখানে এল। বিশ্রী লাগছিল তার।

    হাসপাতালের সিঁড়িতে স্মার্ট চেহারার এক তরুণ ডাক্তার দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওদের দেখে এগিয়ে এসে হাত বাড়ালেন, মিস্টার জন বেইলি…

    ইয়েস। কেমন আছ ডাক্তার?

    আমি ঠিক আছি।

    মিট মাই ইয়ং ফ্রেন্ড, অর্জুন।

    ডাক্তার করমর্দন করলেন অর্জুনের সঙ্গে। তারপর সিঁড়ি ভেঙে নিজের চেম্বারে নিয়ে গেলেন। জন কললেন, অর্জুন, এই হ্যান্ডসাম ডাক্তারকে আমি জন্মাতে দেখেছি। ইয়েস! পাহাড় থেকে আমরা নামছিলাম। একটু পেছনে। ছিলেন ওঁর বাবা আর মা। হঠাৎ ওঁর মায়ের শরীর খারাপ হল। সঙ্গে-সঙ্গে তাঁকে মাটিতে শুইয়ে চারপাশে ঘিরে দেওয়া হল। একটু বাদেই আমরা কান্না শুনতে পেলাম। ওঁর বাবা জানালেন, ছেলে হয়েছে। তারপর কী করা হল জানো? ওই সদ্যোজাত সন্তানকে ওঁরা নিয়ে গেলেন পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি নদীর কাছে। অত ওপরে বরফগলা সেই জল তখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। আচমকা সেই জলে ওঁকে চুবিয়ে পরিষ্কার করে গরম কম্বলে মুড়ে দেওয়া হল। আমরা বাধা দিতে গিয়েছিলাম। হিলারিসাহেব চেঁচিয়ে উঠেছিলেন। মনে হয়েছিল সদ্যোজাত শিশুটিকে ওঁরা খুন করছেন। কিন্তু যে পাহাড়ি গ্রামে ওঁরা থাকেন তার আচার-অনুষ্ঠান হয়তো ওইরকমই। নইলে যে মহিলার সন্তান যে-কোনওদিন হবে তিনি স্বামীর সঙ্গে দশ হাজার ফুট উঁচু পাহাড় থেকে নেমে কাঠমণ্ডুতে আসতে চাইবেন কেন? এই আসাটা যে কীরকম কষ্টকর তা পাহাড়ে ওঠানামায় অভ্যেস যাঁদের আছে তাঁরাই জানেন। কিন্তু কাঠমণ্ডুতে পৌঁছবার আগেই শিশুটির মা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রায় দুমাস তাঁকে শুয়ে থাকতে হয়েছিল কাঠমপুর হাসপাতালে। শিশুটির কিছু হয়নি। অবাক হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। সেই শিশুটিই ইনি, আজকের তরুণ ডাক্তার।

    ডাক্তার হাসলেন, আপনাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

    ওঃ, নো, আমরা কিছুই করিনি। ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট তোমার দায়িত্ব নিয়েছিল।

    জনের কথায় অর্জুন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন?

    জন বললেন, সেবার সার হিলারি আমাদের নিয়ে ইয়েতির সন্ধানে আপার হিমালয় প্রায় চষে ফেলছিলেন। ক্রমশ আমরা যখন হতাশ হয়ে পড়ছি তখন খবর এল এক পাহাড়ি গ্রামে ইয়েতির মাথা আর চামড়া সযত্নে রাখা আছে। আমরা সেখানে গেলাম। মন্দিরে ওগুলো রাখা হয়েছে খুব যত্ন করে। ইয়েতির মাথা বলে যেটা ওরা দেখাল তা দেখে আমাদের সন্দেহ হচ্ছিল। অথচ অস্বীকারও করতে পারছিলাম না। মাথাটা শুকিয়ে কিছুটা ছোট হয়ে গেলেও তার পুঁচলো মুখ মানুষের মতো নয়। তবে গায়ের চামড়া ইয়েতির হতে পারে। ওই বরফের ওপর থাকতে হলে যতটা লোম থাকা উচিত তা ঠিক আছে। কেউ ইয়েতি দেখেছে কিনা জানতে চাইলে সবাই বলতে লাগল, সে দ্যাখেনি, কিন্তু যে দেখেছে তার কাছ থেকে শুনেছে। আর ওই বস্তুগুলো সংগ্রহ করেছে ওদের পূর্বপুরুষেরা। সার হিলারি ওগুলোকে পরীক্ষা করাতে লন্ডনে নিয়ে যেতে চাইলেন গ্রামপ্রধানরা আপত্তি জানালেন। ওগুলো দেবতার উদ্দেশে নিবেদিত স্থানচ্যুত করলে গ্রামের মানুষরা বিপদে পড়বে। হয়তো ইয়েতিরা আক্রমণ করবে। আমরা অনেক চেষ্টা করলাম। ভাষা খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। ওই গ্রামের মানুষরা কাঠমণ্ডর নাম শুনেছে কিন্তু সেই শহরটাকে দ্যাখেনি। কলকাতা-লন্ডন সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। শেষপর্যন্ত ওরা নিয়ে এল একজন মানুষকে, যিনি চার হাজার ফুট নীচের এক মিশনারির স্কুলে একবছর পড়েছিলেন। ভদ্রলোক ভাঙা-ভাঙা ইংরেজি বলতে পারেন। ইয়েস, নো, ভেরি গুড, ব্যাড। তাঁকে ধরে শেষপর্যন্ত গ্রামপ্রধানদের রাজি করালাম। শর্ত হল দুবছরের মধ্যে ওই দুটি বস্তু ফিরিয়ে দিতে হবে। আর সেই ভদ্রলোক আর-একজন গ্রামপ্রধান ওই পবিত্র বস্তু দুটো বয়ে নিয়ে যাবেন।

    লন্ডনে পৌঁছে ওঁরা অবাক হয়ে গেলেন। পৃথিবীতে কত জায়গা জনমানবহীন অবস্থায় পড়ে আছে। তবু সেখানে না গিয়ে এত লোক এক জায়গায় ঠাসাঠাসি হয়ে বাস করছে কী করে? ওঁদের ধাতস্থ করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করছেন ওগুলো। সেই অল্প ইংরেজি জানা ভদ্রলোক ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, তিনি যে দেশে এসেছেন তার প্রধানের জন্যে উপহার নিয়ে এসেছেন। সেটা নিজের হাতে তুলে দিতে চান। কুইন তখন বাকিংহাম প্যালেসে নেই। দেশের বাইরে শুভেচ্ছা-সফরে গিয়েছেন। কোনও দেশের প্রধান মহিলা এ-কথা বোঝাতে গলদঘর্ম হতে হল। তবু বিশেষ ব্যবস্থা করে তাঁকে বাকিংহাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে সব দেখে মুগ্ধ হয়ে উপহার রেখে ফিরে এলেন তিনি। পরীক্ষার ফল পাওয়া গেল। ওগুলো ভালুকজাতীয় কোনও প্রাণীর মাথা এবং চামড়া। তবে প্রায় দুশো বছরের পুরনো। অতএব জিনিসগুলো সমেত ওঁদের যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তার কিছুকাল বাদে কুইন ভারত এবং নেপাল ভ্রমণে এলেন। সেবার কুইন বিদেশ ভ্রমণ সেরে ফিরে গিয়ে উপহার এবং ঘটনাটা জানতে পেরেছিলেন। তাই কাঠমণ্ডতে যাওয়ার আগে তিনি ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা করার অভিলাষ জানালেন। খবরটা অত ওপরের দুর্গম গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হল। সেই সময় আমরা দ্বিতীয়বার গিয়েছিলাম ওই গ্রামে। আমাদের সঙ্গেই ওঁরা যাত্রা করলেন। যেহেতু কুইন তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে কাঠমণ্ডতে এসেছেন তাই তিনি তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিলেন। সে-সময় ভদ্রমহিলার সন্তান আসন্ন। অথচ পাহাড় ভেঙে নামতে তিনি পিছপা হননি। তার পরের ঘটনাটা আগেই বলেছি। স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করে ভদ্রলোক কুইনের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন। কুইন সব শুনে খুব অবাক হয়ে গিয়ে ঘোষণা করলেন, ওই শিশুর পাঁচ বছর বয়স হলেই তার সব দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকার নেবে। তাকে পড়াশুনো করিয়ে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে মেডিক্যাল কলেজে পড়ানো হবে। অতএব ডাক্তার, আপনি যদি কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তা হলে কুইনের কাছে জানাতে পারেন। এসব গল্প তোমাকে শোনালাম অর্জুন, কারণ এক্ষেত্রে তোমার সাহায্য দরকার। ভানু জানিয়েছে তুমি সাহায্য করতে পারবে।

    অর্জুন অবাক হয়ে তাকাল।

    ডাক্তার বললেন, আমাদের গ্রামের মন্দির থেকে ওই পবিত্র বস্তু দুটো চুরি গিয়েছে। তার পরেই গ্রামের মানুষের মধ্যে নানান অশান্তি আরম্ভ হয়েছে। কেউ-কেউ প্রচার করছে সাহেবরা ওগুলোকে বিদেশে নিয়ে গিয়েছিল বলে চুরি হল। এটা বলার সময় কেউ মনে রাখছে না এর মধ্যে তিন দশকের ওপর সময় চলে গিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে মিস্টার জন বেইলি তাঁর দল নিয়ে ওখানে গেলে আতিথ্য পাবেন না। বরং উলটোটা হওয়ারই সম্ভাবনা।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে?

    ডাক্তার হাসলেন, পুলিশ? মিস্টার অর্জুন, ওখান থেকে খুব কাছের পুলিশ স্টেশন অন্তত দেড়দিনের হাঁটা-পথ। গাড়ি যাওয়ার রাস্তা নেই। খবর দিলেও কোনও পুলিশ সেখানে যাবে না। কারণ গিয়ে কিছুই করতে পারবে না।

    কাউকে কি সন্দেহ করছেন?

    না। তিরিশ বছর আগে কেউ কাঠমণ্ডতে আসত না। এখন অবস্থা বদলেছে। কিছু কিছু ছেলে এখানে আসা-যাওয়া করে। তারা লোভের ফাঁদে পা দিতে পারে। আমার জন্ম হওয়ার আগে থেকেই সার হিলারির দৌলতে সবাই জেনে গিয়েছে ওখানে ইয়েতির মাথা এবং চামড়া আছে। বিজ্ঞানীরা যতই বলুন ওগুলো নীল রঙের ভালুকের, কেউ-কেউ এখনও সেটা বিশ্বাস করেন না।  ডাক্তার বললেন।

    কিন্তু এগুলো চুরি করে এনে বিক্রি করবে কোথায়?

    নেপালে যেমন পৃথিবীর সব দেশের জিনিস আসছে তেমনই বাইরেও যাচ্ছে। কিছু মনে করবেন না, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই বাজারটা কন্ট্রোল করছে। ডাক্তার বললেন, এসব আমার অনুমান। এমন হতে পারে যে চুরি করেছে সে এখন পর্যন্ত কাঠমণ্ডতে আনতে পারেনি জিনিসগুলো।

    জন বললেন, লুক অর্জুন। আমরা এসেছি ওই নীল ভালুকের ছবি তুলতে। কিন্তু পাহাড়ের মানুষরা যদি বাধা দেয় তা হলে সেটা সম্ভব নয়। ভানু তোমার কথা আমাকে বলেছে। তোমার ওপর ওর খুব বিশ্বাস। তুমি যদি ওই হারানো ভালুকের মাথা আর চামড়া খুঁজে দিতে পারো তা হলে আমরা গ্রামবাসীদের সেটা ফেরত দিয়ে আসব। এই কারণেই যে আমরা যাচ্ছি সেটা এদের বুঝিয়ে বলব। তুমি আমার দলের সদস্য হয়ে ওই কারণেই যাচ্ছ। বুঝতে পারলে?

    কিন্তু আমি যদি খুঁজে না পাই?

    তুমি নাকি এখনও ব্যর্থ হওনি?

    তার মানে এই নয় যে, কখনও হব না। জিনিসগুলো যদি দেশের বাইরে চলে গিয়ে থাকে তা হলে আমার কিছুই করার নেই।

    লেটস ট্রাই। চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী? অ্যান্ড ওয়েল, ওগুলো যদি খুঁজে বের করতে পারো তা হলে আমি তোমাকে পাঁচ হাজার ইউ. এস. ডলার পারিশ্রমিক হিসেবে দেব। ডান? হাত বাড়ালেন জন।

    হাত মেলাল অর্জুন। তারপর ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করল, চুরি কতদিন আগে হয়েছে? আপনি জানলেন কী করে?

    ঠিক দশদিন আগে। গ্রাম থেকে লোক এসেছিল খবর দিতে। ডাক্তার বললেন, দশদিন আগে এক সকালে চুরি ধরা পড়ে।

    তা হলে তো গ্রামের লোক এখানে আসার আগেই চোর পৌঁছে গেছে।

    না। লোকটি রওনা হয়েছিল সেই দুপুরেই। পথে চার রাত ওকে বিভিন্ন গ্রামে কাটাতে হয়। ও খোঁজ নিয়ে দেখেছে গত এক সাল ওপর থেকে কেউ নামেনি। এইসব বরফজমা পাহাড়ি পথে রাতের বেলায় কোনও গ্রামে আশ্রয়

    নিয়ে কেউ আসতে পারে না। তবে হ্যাঁ, পরে আসতে পারে। তার খোঁজ নেওয়া হয়নি।

    যে লোকটি খবর দিতে এসেছিল সে এখানে আছে?

    না। গ্রামে ফিরে গেছে।

    লোকটার নাম কী?

    উঘি।

    কাঠমণ্ডুতে যারা কিউরিওর ব্যবসা করে, বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ আছে, তাদের কাউকে চেনেন?

    না। তবে নাম জানি। যেমন, হরিকিষেন রুংতা, শেঠ বাবুলাল আর এস, কে. গুপ্ত। এঁদের অন্য ব্যবসার সঙ্গে কাঠমন্ডুতে কিউরিওর দোকানও আছে।

    এস. কে. গুপ্তা? নামটা উচ্চারণ করল অর্জুন।

    হ্যাঁ। এরা খুব প্রতাপশালী মানুষ। আমার জগতের নয়।

    আজ একজন এস, সে, গুপ্তা দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। ওঁর মৃতদেহ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল। তিনি যদি ইনি হন তা হলে তো আপনি খবর পেতেনই। তাই না?

    দাঁড়ান। আমি আজ লাঞ্চের পর ডিউটিতে এসেছি। এসেই আপনাদের জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। মিস্টার বেইলি নিউজিল্যান্ড থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁকে চুরির কথা ফ্যাক্স করে জানিয়ে দিই। তবু তিনি আসছেন বলে আমি একটু টেনশনে ছিলাম। ডাক্তার টেলিফোন তুললেন। স্পষ্ট ইংরেজিতে কাউকে জিজ্ঞেস করলেন, শুনলাম আজ অ্যাকসিডেন্টে কেউ মারা গিয়েছে। বডি আইডেন্টিফাই হয়েছে? উত্তরটা শুনে রিসিভার নামিয়ে রেখে বললেন, মাই গড! হ্যাঁ, একই লোক। যদি এটা সাধারণ অ্যাকসিডেন্ট হয় তা হলে অন্য কথা। নইলে আরও কিছু খুনের জন্যে আমাদের তৈরি থাকতে হবে।

    গাড়িতে উঠে অর্জুন জিজ্ঞেস করল, আমরা কবে রওনা হচ্ছি?

    কাল সকালে। আজ কারগো ফ্লাইটে মালপত্র আসার কথা। আটজন শেরপাকে বুক করেছি। একটা হেলিকপটার দুবারে সবাইকে পৌঁছে দেবে। আমরা তোমার ব্যবস্থা যাতে গ্রামেই করা যায় সেই চেষ্টা করব। পাহাড়ে ওঠানামা করতে হবে না তোমাকে। জন বললেন।

    অর্জুন চুপচাপ রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল। এস, কে, গুপ্তা যদি অপরাধ জগতের লোক হন তা হলে মানিকলালও একই গোত্রের। একথা নিশ্চয়ই ভানুদার জানা নেই। জানলে তিনি মানিকলালকে অনুরোধ করতেন না। এস, কে. গুপ্তা খুন হলেন কেন? ওই ইয়েতির মাথা নিয়ে গোলমাল?

    গেস্ট হাউসে ফিরে জন নিজের ঘরে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, সন্ধে সাতটার সময় সবাই আমার ওখানে আসছে। তুমিও এসো। জুতো, পোশাক দেখে নিয়ে যাবে। নিজস্ব জিনিসপত্র যতটা সম্ভব কম সঙ্গে নেবে। বাই।

    পাঁচ হাজার ডলার! তার মানে দুলক্ষ টাকা! পাওয়ার কোনও চান্স নেই। অথচ সামনে প্রলোভন রয়েছে। কী কাণ্ড!

    ঘরে ঢুকে বিছানায় শুয়ে অর্জুন বাক্সটার দিকে তাকাল। কী আছে ওর মধ্যে? গাঁজা, চরস, অথবা অন্য কোনও ড্রাগ? সঙ্গে-সঙ্গে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেল তার। এয়ারপোর্টে যদি কাস্টমস তাকে বাক্স খুলতে বলত এবং ওইসব নিষিদ্ধ জিনিস পেত তা হলে কত বছর কাঠমণ্ডুর জেলে কাটাতে হত তা ঈশ্বরই জানেন। ওটা যে তার বাক্স নয় একথা কাউকে বিশ্বাস করাতে পারত না সে। এই কারণেই বলা হয়, কখনও অজানা বা অচেনা লোকের দেওয়া জিনিস প্যাকেট খুলে না দেখে সঙ্গে নিয়ে যেয়ো না।

    বাক্সটা খুলে দেখার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল অর্জুনের। তার পরেই মনে হল মানিকলাল জানে সে ভানুদার লোক। জেনেশুনে সে বিপদে পড়ে এমন জিনিস কি সঙ্গে দেবে? এমন হতে পারে ভানুদার লোক বলেই সে এস, কে, গুপ্তাকে নির্দেশ দিয়েছিল অন্য কাউকে না পাঠিয়ে নিজে এয়ারপোর্টে গিয়ে যেন অর্জুনকে রিসিভ করে। হয়তো তাই। বাক্সটা খুলে যদি দেখা যায় কোনও নিরীহ জিনিস রয়েছে তা হলে লজ্জার শেষ থাকবে না। ওটা এমনভাবে প্যাক করা যে, খুললেই বোঝা যাবে।

    অর্জুন উঠল। টেলিফোন ডাইরেক্টরি খুলে একটু খোঁজাখুঁজি করতেই নামটা পেয়ে গেল, শেঠ বাবুলাল অ্যান্ড সন্স। একবার গৈলে হয় লোকটার কাছে। তার মন বলছে কথা পাড়লে কিছু কাজের কথা কানে আসবে।

    এখন প্রায় বিকেল। এই শহরে বোধহয় তাড়াতাড়ি অন্ধকার নামে। একটা জ্যাকেট চড়িয়ে অর্জুন বেরিয়ে এল। আসার আগে পিসবোর্ডের বাক্সটাকে তার সুটকেসে ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করৈ রাখল।

    লবি পেরিয়ে বাইরে বের হতেই সে শুনতে পেল, হ্যালো!

    সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল লাঞ্চ টেবিলের দুই মহিলার একজন তার দিকে এগিয়ে আসছে। মহিলার পরনে নীল জিন্স আর সাদা শার্ট। কাঁধে ব্যাগ। জন বলেছিলেন, ইনি ক্যামেরায় ছবি তুলবেন।

    মহিলা কাছে আসতেই অর্জুন বলল, হ্যালো। কেমন আছেন?

    ফাইন। যে-কোনও নতুন জায়গায় প্রথম দিন আমার ভাল লাগে। ঘরে বসে বোর হচ্ছিলাম। জুডি, ডাক্তার, ওষুধের লিস্ট মেলাচ্ছে। আমি ডানা।

    ডায়না?

    ও নো। ডানা। কোথায় যাচ্ছেন?

    এই একটু ঘুরে বেড়াতে। কাঠমণ্ডুতে আমি আজ প্রথম এসেছি।

    তাই? চলুন একসঙ্গে যাওয়া যাক। আপত্তি নেই তো?

    না না। চলুন।

    অর্জুনের মনে হল এটা ভাল হল। সঙ্গে বিদেশিনী থাকলে তাকেও টুরিস্ট ছাড়া কিছু ভাববে না এখানকার মানুষ। ওরা ফুটপাথ ধরে হাঁটছিল।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, আপনি কি প্রফেশনাল ক্যামেরাম্যান। বলেই তার খেয়াল হল, সরি! আমি ক্যামেরাম্যান বলে ফেললাম।

    দ্যাটস ওকে! এইসব ব্যাপার পুরুষদের একচেটিয়া ছিল বলে শব্দগুলোর দখল তারা নিয়ে নিয়েছে। হ্যাঁ। আমি তিনটে ফিল্মে স্বাধীনভাবে কাজ করেছি। আপনার মতোই আমি পাহাড়ে চড়ার ট্রেনিং নিইনি। কী হবে জানি না। তবে ব্যাপারটা বেশ রোমাঞ্চকর। আপনি তো প্রাইভেট ডিটেকটিভ?

    না। অর্জুন মাথা নাড়ল।

    না মানে? ডানা অবাক!

    আমি সত্যান্বেষী। সত্য অন্বেষণ করাই আমার কাজ।

    আই সি। কিন্তু পার্থক্যটা কী?

    পার্থক্য আছে। একজন স্টিল ক্যামেরাম্যানের সঙ্গে ভিডিও ক্যামেরাম্যানের পার্থক্য আছে। আবার ফিল্মের ক্যামেরাম্যানরাও আছেন। তাই না?

    ও আচ্ছা। ডানা বলল, জন যখন বলল একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর দলের সঙ্গে যাচ্ছে, তখন ভেবেছিলাম খুব ভারী চেহারার বয়স্ক মানুষের কথা। আপনাকে দেখে কিন্তু মনেই হয় না।

    অর্জুন এত জোরে হেসে উঠল যে, ডানা কথা শেষ না করে হাসিতে যোগ দিল। তারপর বলল, আমি কিন্তু একই বেটা ক্যামেরায় ছবি তুলব।

    সেটা কী?

    হাইসেন্সেটিভ ভিডিও ক্যামেরা।

    অর্জুন একটা ট্যাক্সি দাঁড় করাল, চলুন, ট্যাক্সিতে শহরটা চক্কর দিই। তা হলে তাড়াতাড়ি সব দেখা হয়ে যাবে।

    ট্যাক্সি চলতে আরম্ভ করলে ডানা বলল, ক্যামেরাটা সঙ্গে নিয়ে এলাম না বলে খুব আফসোস হচ্ছে। শহরটা সত্যি সুন্দর।

    অর্জুন হিন্দিতে ড্রাইভারকে রাস্তাটার নাম বলল।

    ডানা জিজ্ঞেস করল, আপনি এখানকার ভাষা জানেন?

    এখানে ভারতীয় ভাষাগুলো চলে। দুদেশের কিছু মানুষ একই ভাষায় কথা বলে।

    সাইনবোর্ডে রাস্তার নাম দেখল অর্জুন। তারপরই শেঠ বাবুলাল অ্যান্ড সন্স দোকানটা চোখে পড়ল।

    ট্যাক্সি থামাতে বলল সে। তারপর ডানাকে বলল, চলুন নামি। এই দোকানটার কথা আমি শুনেছি। কিউরিও শপ। বিখ্যাত দোকান!

    ইজ ইট? ডানা উৎসাহী হল।

    দোকানটার বাইরের সাজগোজ বলে দিচ্ছে বিদেশি খদ্দেরদের আকর্ষণ করার চেষ্টা আছে। ওরা ভেতরে ঢুকল। দরজায় দুজন দ্বাররক্ষী তাদের সম্ভাষণ করল। বিরাট হলঘর। তাতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বস্তু শিল্পসম্মতভাবে সাজানো রয়েছে। একজন সুন্দরী নেপালি এগিয়ে এল, গুড আফটারনুন। আমি কি

    আপনাদের সাহায্য করতে পারি?

    ডানা বলল, ধন্যবাদ। আমরা কি একটু ঘুরে দেখতে পারি?

    নিশ্চয়ই। কিন্তু কোন ব্যাপারে আপনাদের আগ্রহ যদি বলেন…।

    অর্জুন বলল, পাহাড়ের দেশে এসেছি। পাহাড়ের যে-কোনও জিনিস..!

    আসুন আমার সঙ্গে।

    ওরা সুন্দরীকে অনুসরণ করে যে ঘরটিতে পৌঁছল সেখানে কাচের বাক্সে সাজানো রয়েছে মুগ্ধ হওয়ার মতো সামগ্রী। সুন্দরী বলল, এই যে অ্যাশট্রে বলে যা মনে হচ্ছে এটা কিন্তু প্রকৃতি করেছে। আট হাজার ফুট ওপরে এক ঝরনার মধ্যে পড়ে ছিল সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে। পাথরটির বিশেষত্ব হল মাঝখানের গর্তটা কালো, কিন্তু এর চারপাশে চারটে রঙের সমন্বয়।

    ডানা জিজ্ঞেস করল, কত দাম?

    সুন্দরী একগাল হাসল, মাত্র দুহাজার পাঁচশো ডলার।

    ডানা চোখ বড় করল।

    সুন্দরী বলল, যে অভিযাত্রী এটিকে সংগ্রহ করে এনেছেন তার নাম শুনলে অবাক হয়ে যাবেন এবং এটিকে নিজের সংগ্রহে রাখতে ওই দামকে খুব অল্পই মনে হবে আপনাদের। অভিযাত্রীর নাম তেনজিং নোরগে।

    অর্জুন বলল, দেশে ফিরে গিয়ে পাঁচজনকে এ কথা বলে কতখানি বিশ্বাস করাতে পারব জানি না। আচ্ছা, এমন কোনও জিনিস নেই, এই ধরুন ইয়েতির কোনও অঙ্গ বা তাদের ব্যবহৃত কোনও জিনিস পেতে পারি কি?

    ইয়েতি? সুন্দরীর চোখ স্থির।

    হ্যাঁ।

    সরি। আমি এব্যাপারে আপনাদের কোনও সাহায্য করতে পারছি না।

    আচ্ছা, এ কথা তো বলতে পারবেন, তেমন কিছু কি খুব দামি হবে?

    অবশ্যই।

    অর্জুন ডানাকে বলল, দেখুন, তেমন কোনও জিনিস পেয়ে যান কিনা। পেলে বিক্রি করলে বড়লোক হয়ে যাবেন।

    ডানা হাসল, কিছু বলল না।

    সুন্দরী বলল, কাঠমণ্ডতে আপনারা পাবেন না।

    অর্জুন বলল, না, না। আমরা কাল এক অভিযানে রওনা হচ্ছি। ওই যেসব জায়গা ইয়েতিদের এলাকা বলে বলা হয়ে থাকে সেখানেই যাব।

    অর্জুন ডানাকে নিয়ে এগোচ্ছিল, সুন্দরী পাশে চলে এল, এক্সকিউজ মি। আপনারা কোথায় উঠেছেন?

    ইন্টারন্যাশনাল গেস্ট হাউস।

    আপনার নামটা জানতে পারি?

    অর্জুন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৬ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }