Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প731 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. তিস্তা ব্রিজ ছাড়িয়ে সুমো ডুয়ার্সে ঢুকল

    তিস্তা ব্রিজ ছাড়িয়ে সুমো ডুয়ার্সে ঢুকল। দুপাশে ধানের মাঠ, চওড়া হাইওয়ে, তখনও রোদ কড়া না হওয়ায় বাতাসে ঠাণ্ডা আমেজ, পেছনের খাঁচায় বসে কাকটা কা কা করে উঠল। মেজর দুহাতে কান ঢাকলেন, ওঃ, হাঁড়িচাচাটার মুখ বাঁধা যায় না?

    গাড়ি দোমহনি পেরিয়ে বাইপাস ধরল, চারপাশের সবুজের দিকে তাকিয়ে গোরানসাহেব বললেন, বিউটিফুল। অর্জুনের মনে পড়ল, সে যখন আমেরিকায় গিয়ে হাইওয়ে ধরে কোথাও গিয়েছিল তখন দুপাশে একই দৃশ্য দেখেছে, কোথাও দৃশ্যান্তর হয়নি। ফলে একটু বাদেই একঘেয়েমি এসে গিয়েছিল।

    ধুপগুড়ি থেকে বাঁক নিয়ে ওরা রাস্তা সংক্ষেপ করল। ধুপগুড়িতে মেজর ব্রেকফাস্ট করতে চাইলেন। দুটো করে ডিম আর হাতে-গড়া রুটি। এর বেশি অন্য কিছু খেলে নাকি ওঁদের পেট খারাপ হতে পারে। সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জলের বোতল রয়েছে। এঁরা দুজনেই বাইরের জল খান না। অর্জুন গরম গরম পুরি এবং তরকারি খেল। সঙ্গে জিলিপি। গোরক্ষনাথও তাই। ওদের খাওয়া জুলজুল করে দেখছিলেন মেজর। তারপর বড় একটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, এসব আমিও ছেলেবেলায় খেতাম।

    এখন অসুবিধে হচ্ছে কেন?

    বড়লোকের বাড়ির কুকুরকে দেখেছ? বাছাই করা খাবার ছাড়া খায় না। মাছ বা মাংস কাঁটা বা হাড় বাদ দিয়ে তাদের মুখের সামনে তুলে ধরা হয়। ইনজেকশন, ওষুধ নিয়মিত খাইয়ে তাজা রাখা হয়। গরমের সময় ঠাণ্ডা ঘর, আবার ঠাণ্ডার সময়ে গায়ে কম্বল চাপিয়ে দেওয়া হয়। আর এইসব করে ওদের স্বাভাবিক প্রতিরোধ শক্তির বারোটা বেজে যায়। রাস্তার কুকুর বা বাড়ির নেড়ি কুকুর যা খেয়ে সহজে হজম করে ফেলে, ওরা তা খেলে মরে যাবে। আমিও তাই হয়ে গেছি বলতে পারো। তেলেভাজা কিছু দেখলেই সন্দেহ করি! মেজর বললেন।

    নিজের সঙ্গে একটি নেড়ি কুকুরের তুলনা ভাল লাগার কথা নয়, তবু অর্জুনের মনে হল মেজর তো তাকে আহত করার জন্যে উপমাটা দেননি। এই কথাগুলোর মধ্যে তিনি নিজেকে নিয়েও ঠাট্টা করেছেন। ইচ্ছে করলেই এখন সব কিছু খেতে পারেন না।

    ওরা যখন মাদারিহাটে পৌঁছল তখন প্রায় এগারোটা বাজে। ইতিমধ্যে গোরানসাহেব দুবার ম্যাপ দেখেছেন। ড়ুয়ার্সের এই অঞ্চলের বিশদ বিবরণ ছাপা ম্যাপ কী করে আমেরিকায় পাওয়া যায় তা কে জানে! নিজের দেশের বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে ওরা যত খোঁজখবর রাখে তার এক শতাংশও আমরা নিজেদের দেশ সম্পর্কে রাখি না।

    মোড়ের মাথায় এসে গাড়ি থামিয়ে গোরানসাহেব জিজ্ঞেস করলেন, ম্যাপে বলছে, ডান দিক ধরে কিছুটা গেলেই হলং নামের জঙ্গল পড়বে। রাইট?

    অর্জুন মাথা নাড়ল, জঙ্গলটার নাম হলং কিনা জানি না। তবে ওখানে হলং ফরেস্ট বাংলো আছে। আপনি কি ওখানে যেতে চান?

    ফরেস্ট বাংলোতে টুরিস্টরা থাকবে, হ্যাঁ, ইয়েস, নাম বলছে জলদাপাড়া।

    অর্জুন বলল, হ্যাঁ। খুব বিখ্যাত ফরেস্ট। গণ্ডার দেখা যায়। গোরানসাহেব বললেন, আমরা ওদিকে যাব না। এখানে কোনও হোটেল আছে?

    গাড়ি একটু এগোতেই বাজার এলাকা এসে গেল। সেখানে ওরা গাড়ি থেকে নেমে একটা চায়ের দোকানে ঢুকল। গোরক্ষনাথ নামল না। সে তার ব্যাগ থেকে খাবার বের করে পাখি দুটো আর বেড়ালটাকে খাওয়াতে লাগল।

    তিন গ্লাস চা নিয়ে বসে দোকানদারের কাছে জিজ্ঞেস করে জানা গেল এখানে কোনও হোটেল নেই। জলদাপাড়ার জঙ্গলের ভেতরে যেমন হলং বাংলো আছে তেমনি জঙ্গলের বাইরে মাদারিহাট টুরিস্ট লজটি এত বড় যে, এখানে আর হোটেল ব্যবসা করার কথা কেউ ভাবেনি। হোটেল আছে হাসিমারায়, ফুন্টশলিঙে।

    দুজন ভদ্রলোক চা খাচ্ছিলেন আর ওদের কথাবার্তা শুনছিলেন। তাঁদের একজন উঠে এলেন, আপনারা কোত্থেকে আসছেন?

    মেজর জবাব দিলেন, আপাতত জলপাইগুড়ি থেকে আসছি ভাই। ও ওখানে থাকে। ওর নাম অর্জুন। তুমি যেন নিজেকে কী বলো?

    অর্জুন বলল, থাক না?

    ভদ্রলোক বললেন, অর্জুন! কিছু মনে করবেন না, আপনি কি সেই সত্যসন্ধানী?

    মেজর লুফে নিলেন শব্দটা, ইয়েস, ইয়েস! সত্যসন্ধানী!

    ভদ্রলোক হাত বাড়িয়ে দিলেন, আরে ভাই, আপনার গল্প খুব শুনেছি। আপনি তো আমেরিকায় গিয়ে রহস্য উদঘাটন করেছেন। আপনার জন্যে আমরা গর্বিত। তা ছাড়া আপনার গুরু মিস্টার অমল সোমের সঙ্গে আমার একসময় পরিচয় ছিল। খুব ভাল লাগছে।

    আপনার পরিচয়টা—? অর্জুন জিজ্ঞেস করল।

    আমি সামান্য লোক। ব্যবসা করে খাই। আলিপুরদুয়ারে থাকি। তবে এখানে, মাইল কুড়ি দূরে একটি বাড়ি কিনেছি ঝোঁকের মাথায়। একজন ব্রিটিশ বাড়িটা বানিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর ভদ্রলোক এক চা বাগানের মালিককে সেটা বিক্রি করে দেন। ওঁরা কিছুদিন ব্যবহার করে প্রায় পোড়ো বাড়ির মতো ফেলে রেখেছিলেন। জলের দামে পেয়ে গেলাম বলে নিয়ে নিলাম। আমার নাম লোকনাথ দত্ত।

    এই নামের কোনও লোকের কথা অমল সোমের কাছে শুনেছে বলে মনে পড়ল না অর্জুনের। তবে ভদ্রলোক বেশ মিশুকে, এটা বোঝা গেল।

    চায়ের দাম দিতে যাচ্ছিল অর্জুন, লোকনাথ বাধা দিলেন। নিজে দাম মিটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা এদিকে কেন? বেড়াতে?

    একরকম তাই। ওঁরা এসেছেন আমেরিকা থেকে। জঙ্গলে থাকতে চান কিন্তু ফরেস্ট বাংলোতে নয়। অর্জুন জানাল।

    তাই নাকি? কিন্তু এদিকের জঙ্গল এখন নিরাপদ নয়।

    কেন? মেজর জানতে চাইলেন, ম্যান ইটার আছে নাকি?

    জন্তু-জানোয়ার নিশ্চয়ই আছে, তবে তারা মানুষখেকো নয়। প্রায়ই একটা না একটা মানুষের ডেডবডি পাওয়া যাচ্ছে, যার শরীরে রক্ত নেই।

    মেজর চট করে গোরানসাহেবের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে খবরটা ইংরেজিতে পরিবেশন করলেন। গোরান কৌতূহলী হয়ে লোকনাথকে জিজ্ঞেস করলেন, লোকগুলোর শরীরে কোনও দাগ আছে? বিশেষ করে গলার পাশে?

    আমি দেখিনি। লোকাল থানার অফিসার বলতে পারবে। যাক গে, আপনারা ইচ্ছে করলে আমার বাড়িতে থাকতে পারেন। জঙ্গলের গায়ে বাড়ি। মুশকিল হল ওখানে কোনও কাজের লোক থাকতে চায় না। অনেক চেষ্টা করেছি, সবাই থাকতে ভয় পায়।

    কেন? অর্জুন জিজ্ঞেস করল।

    পাণ্ডববর্জিত জায়গা তো! অন্তত দশ মাইলের মধ্যে লোকজন নেই। আমার স্ত্রী তো খুব বকাবকি করেছেন ওরকম জায়গায় বাড়ি কিনেছি বলে। তা জঙ্গলে থাকবেন কী করে? তাঁবু আছে? তাঁবুতে থাকলেও নিজের হাতে সব করতে হবে। আমার ওখানে বিছানাপত্র সব পাবেন। কিচেন আছে। গ্যাস রেখে দিয়েছি। দরকার হলে রান্না করে নিতে পারবেন। নইলে গাড়ি পাঠিয়ে খাবার আনিয়ে নেবেন। কদিনের প্রোগ্রাম আপনাদের? লোকনাথ জানতে চাইলেন।

    খুব বেশি হলে দিনসাতেক।

    তা হলে চলুন। দ্বিতীয় ভদ্রলোক এসে দাঁড়িয়েছিলেন পাশে। লোকনাথ তাঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, আমার বন্ধু। প্রদীপ পান্ডে।

    ভদ্রলোক নমস্কার করলেন। লোকনাথ বললেন, চলুন আপনারা। ড্রাইভারকে বলুন আমার গাড়িকে ফলো করতে।

    সুমোতে উঠে ড্রাইভারকে নির্দেশ দিয়ে মেজর বললেন, এই জিনিসটা আমার জীবনে অনেকবার হয়েছে। চিনি জোগান চিন্তামণি। একবার কালাহারি মরুভূমিতে আমাদের গাড়ি খারাপ হয়ে গেল। রাত তখন তিনটে। দিনে বিশ্রাম, রাত্রে চলতে হত। আর ঘণ্টাদেড়েক বাদে সূর্য উঠবে। তখন আর গাড়িতে বসে থাকা যাবে না। কী করা যায়? সঙ্গীরা মতলব বের করল। গাড়ির নীচে বালি সরিয়ে গর্ত করল। বলল, সারাদিন সেখানে শুয়ে থাকবে। মাথার ওপর গাড়ি থাকায় তার ছায়া পাওয়া যাবে। ব্যাপারটা আমার পছন্দ হল না। তখনও অন্ধকার রয়েছে। একটা টর্চ নিয়ে বাঁ দিক ধরে কিছুটা এগোলাম। যাতে পথ চিনে ফিরে আসতে পারি তার চিহ্ন রেখে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ শব্দ কানে এল। একটা ক্যারাভান আসছে। অনেক উট। তাদের সর্দার আমায় দেখে অবাক! ওদের ভাষায় বিপদের কথা জানালাম। ভাগ্য ভাল, ওদের দলে একজন মোটর মেকানিক ছিল। তাকে নিয়ে গাড়ির কাছে ফিরে এলাম প্রায় আধমাইল পথ হেঁটে। সে এসে দশ মিনিটের মধ্যে গাড়ি চালু করে দিল। এখন কথা হল, আমি যদি আধমাইল না হেঁটে যেতাম তা হলে ওই ক্যারাভান আমাদের চোখের আড়াল দিয়ে বেরিয়ে যেত। ওরাও আমাদের দেখতে পেত না। কাকতালীয় ব্যাপার, কিন্তু আমার জীবনে এটা প্রায়ই হয়।

    অর্জুনের মনে হল এই গল্প প্রায় বিশ্বাসযোগ্য। মেজরের অনেক গল্প যেমন মেনে নেওয়া যায় না তেমন এটা নয়। সুমো গাড়ি তখন আবার হাইওয়েতে উঠেছে। দুপাশে এখন জঙ্গল। ঝিঝি ডাকছে। সামনে একটা ব্রিজ পড়বে। তারপর বাঁ দিকে খানিকটা গেলে পার্বতী বরুয়ার বাড়ি, যেখানে তিনি হাতি নিয়ে থাকেন। এসব জায়গা দিয়ে সে অনেকবার গিয়েছে। সুভাষিণী চা বাগানে যখন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতেন, তখন বেশি যাওয়া হত। ভানুদা এখন আর সুভাষিণীতে নেই। তিনি চলে গিয়েছেন বানারহাটের কাছে রেডব্যাঙ্ক বাগানে। অনেকদিন দেখা হয়নি হাসিখুশি মানুষটার সঙ্গে।

    রাস্তার পাশে একটা ধাবা। লোকনাথের গাড়িটা দাঁড়িয়ে যেতে বঁটা সুমোকে তার পাশে নিয়ে গেল। লোকনাথ চিকার করে জিজ্ঞেস করলেন, লাঞ্চ করবেন?

    মেজর জবাব দিলেন, না। সঙ্গে আছে।

    গাড়ি আবার চলল। একটা মেঠো পথ ডান দিকের জঙ্গল ভেদ করে চলে গিয়েছে। কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ জঙ্গল শেষ হয়ে নদীর শুকনো বুক চোখের সামনে চলে এল। একফোঁটা জল নেই কোথাও। বালি আর নুড়ির ওপর দিয়ে নদীটা পেরিয়ে জঙ্গলে ঢুকল ওরা।

    গোরানসাহেব বললেন, অদ্ভুত পথ তো! যখন নদী জলে ভরে যায় তখন কী করে যায়?

    মেজর বললেন, নিশ্চয়ই অন্য কোনও ঘুরপথ আছে।

    এখানকার জঙ্গল বেশ ঘন এবং বুনো। ভেতরে সূর্যের আলো তেমন করে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে না। অদ্ভুত আওয়াজ ভেসে আসছে জঙ্গল থেকে। পথ শেষ হল জঙ্গলের ঠিক বাইরে, যেখান থেকে পাহাড় হাত বাড়াবেই। ড়ুয়ার্সের এই অঞ্চলের পাহাড় বেশি উঁচু নয়। আর তখনই ওরা বাড়িটাকে দেখতে পেল। তারের বাউন্ডারি দেওয়া একতলা বিশাল বাড়ি। লোহার গেট খুলে সোজা বাড়ির সামনে চলে এসে গাড়ি দুটো থামল।

    গাড়ি থেকে নামার পর লোকনাথ বললেন, এই বাড়ি এখন আমার। বুঝতেই পারছেন এতদূরে কোনও লোক একা থাকতে চাইবে না। ফলে তালা ঝুলিয়ে রাখতে হয়েছে। দূরত্বের জন্যেই বোধহয় দরজা-জানলা এখনও চুরি হয়নি। ভেতরটা পরিষ্কার করা আছে। এই নিন চাবি। ঠিক সাতদিনের মাথায় সকাল-সকাল আমি চলে আসব। যদি তার আগে চলে যেতে চান তা হলে মাদারিহাটের যে চায়ের দোকানে আমাদের আলাপ হল, তার মালিকের কাছে চাবিটা রেখে যাবেন। আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না। অনেকটা দূরে যেতে হবে।

    ভদ্রলোক তাঁর সঙ্গীকে নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে লোহার গেট বন্ধ করে গেলেন। গাড়ির শব্দ মিলিয়ে যাওয়ামাত্র চারপাশ অন্যরকম হয়ে গেল। বাউন্ডারির বাইরে জঙ্গলের শুরু। সেখান থেকে আওয়াজ ভেসে আসছে। সম্ভবত একদল বাঁদর বাঁদরামি করছে। এই দুপুরেও গাছের ছায়া ঢেকে রেখেছে বাড়িটাকে।

    অর্জুন তালা খুলল। বিরাট বসার ঘর। ফায়ার প্লেসও রয়েছে। পুরনো দিনের সব আসবাব। পর্দা নেই ভেতরের দরজায়, কিন্তু জানলায় রয়েছে। গোটা চারেক বড় বেডরুম। কিচেনটা বিশাল। দুটো বাথরুম এবং টয়লেট। জেনারেটার আছে। আছে পাম্পও। সেগুলো চালিয়ে ওপরের ট্যাঙ্কে জল তোলার ব্যবস্থা করল অর্জুন।

    মেজর বললেন, তোফা ব্যবস্থা।

    গোরানসাহেব বললেন, গুড।

    জিনিসপত্র নামাতে হবে। ওরা বাড়ির বাইরে এসে দেখল বটা আর গোরক্ষনাথ সেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। হঠাৎ গোরানাহেব এগিয়ে গেলেন। বারান্দার পাশে একটা থামের গায়ে শ্বেতপাথরের ফলকে কিছু লেখা আছে। অর্জুন আর মেজর গোরানসাহেবের পাশে গিয়ে দেখল, মিস্টার আর্নল্ড স্টিভেনসন। নাইনটিন থার্টি। অর্থাৎ এই বাড়ির বয়স সত্তর বছর। বাড়িটা বানিয়েছিলেন স্টিভেনসন সাহেব। তিনি কবে জন্মেছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন, তা জানা যাচ্ছে না।

    গোরানসাহেব দু-দুবার নামটা উচ্চারণ করলেন।

    জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার পর ঠিক হল ওরা তিনজন তিনটে বেডরুমে থাকবে। গোরক্ষনাথ আর বটা পেছনের দিকের বেডরুমটা ব্যবহার করবে। সেই ঘর দেখে বটা খুব খুশি। দু-দুটো খাটে বিছানা পাতা আছে। শুধু সে অর্জুনের কাছে এসে নিচু গলায় বলল, সব ভাল সার, শুধু ওই শকুন, কাকের সঙ্গে এক ঘরে থাকতে হবে, এটা ভাল লাগছে না।

    ওরা খাঁচায় থাকবে ওদের মতো, তোমার কী! অর্জুন উড়িয়ে দিল। মেজর তাঁর বিখ্যাত পাইপ বের করলেন। এ-যাত্রায় ওঁকে ধূমপান করতে দেখেছে বলে মনে পড়ল না অর্জুনের। তাঁকে জ্বালাতে দেখে গোরানসাহেব বিরক্ত হলেন। ওঁরা বসে ছিলেন ড্রইংরুমে। অর্জুন বলল, এখন খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

    মেজর বললেন, ব্যবস্থার তো কিছু নেই, করাই আছে।

    কীরকম?

    দারুন সার্ডিন মাছের কৌটো আছে আর সঙ্গে পাউরুটি।

    সে কী! আপনি বলেছিলেন রান্না করবেন? অর্জুন মনে করিয়ে দিল।

    সেটা অন্য সময়ে করা যাবে। এখন কৌটো খাও।

    অর্জুন রেগে গেল খুব। বলল, সহ্য হবে না জিভে।

    মানে? মেজর বললেন, আরে আগে খেয়ে দ্যাখো। ডাক্তাররা সেন্ট পার্সেন্ট হাইজেনিক বলে সার্টিফাই করেছেন।

    আপনি বলেছিলেন নেড়ি কুকুর যা খায় তা বড়লোকের কুকুর খেলে মরে যাবে। আবার ঠিক উলটোটাও হয়। বড়লোকের কুকুরকে যে নির্বিষ খাবার দেওয়া হয় তা নেড়ি কুকুরের সামনে ধরলে মুখ ঘুরিয়ে নেবে।

    ব্যাপারটা কীরকম হল?

    কেন?

    মনে হচ্ছে তুমি আমাকে কথাটা ফিরিয়ে দিলে?

    অর্জুন হেসে ফেলল, দেখুন, বিদেশে যখন গিয়েছিলাম তখন কেউ আমাকে কন্টিনেন্টাল ফুড খাওয়ালে বার্লির কথা মনে পড়ত। মনে হত আমার পেট খারাপ হয়েছে বলে খাচ্ছি। দেখি, অন্য চেষ্টা করি।

    চার নম্বর ঘরটায় গেল অর্জুন। বটা বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে বিড়ি টানছে। গোরক্ষনাথ ইতিমধ্যে লাল লুঙ্গি পরে বাবু হয়ে চোখ বন্ধ করে বসে পড়েছে। তার সামনে তিনটে খাঁচার প্রাণী, তিনটে চুপচাপ রয়েছে। এখন বোধহয় কোনও পুজো। করছে গোরক্ষনাথ। বটা তাকে দেখে লাফিয়ে উঠল।

    অর্জুন তাকে বলল, বটা, রাঁধতে পারো?

    সেদ্ধ যা খাবেন, করে দিতে পারি।

    তা হলে ভাত, আলু আর ডিমসেদ্ধ করে ফেললা চটপট।

    সঙ্গে একটু ডাল, আলুভাজা আর কাঁচা মরিচ।

    পারবে?

    খুউব। কিন্তু কজনের জন্যে?

    তিনজনের জন্যে। ওই সাহেবরা কৌটোর খাবার খাবে।

    অর্জুন নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিল। লম্বা দেওয়াল, বড় ছাদ। ছাদে একটু ফাটল ধরেছে। এই ঘরে কোনও আসবাব নেই, এই খাট ছাড়া। তার সুটকেসটাকেও মাটিতে রাখতে হয়েছে। জল পড়ার শব্দ হল। তারপরেই পাম্প বন্ধ হয়ে গেল। বোধহয় বটাই কাজটা করল। ওকে নিয়ে এসে ভাল হয়েছে।

    কিন্তু গোরানসাহেব ঠিক কী চাইছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। এখানে বসে থাকলে ড্রাকুলার দেখা উনি পাবেন কী করে? লোকনাথ বললেন এখানে রক্তহীন মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। ওটাকে ড্রাকুলার কাণ্ড বলে মনে করেন নাকি গোরানসাহেব? তবে স্টিভেনসন সাহেবের বাড়িতে ঢোকার পর মনে হচ্ছে এরকম জায়গায় ড্রাকুলাবাবু এলেও আসতে পারেন। সে জানলার দিকে তাকাল। তারের ওপাশে কাঠের পাল্লা। ঘর গরম হচ্ছে। অর্জুন জানলা খুলে দিতেই জঙ্গলটাকে দেখতে পেল। হাওয়া ঢুকছে এখন।

    বটা এসে জানাল, খাবার রেডি। অর্জুন উঠে ডাইনিংরুমে গিয়ে দেখল ভাত ডিমসেদ্ধ আলুভাজা আর ডাল তৈরি। সে ড্রইংরুমে ফিরে গিয়ে দেখল মেজর আর গোরানসাহেব কৌটো আর পাঁউরুটি নিয়ে এদিকে আসছিলেন। ওঁরা ডাইনিং টেবিলে সাজানো খাবার দেখে অবাক হলেন। মেজর গম্ভীর মুখে কৌটো খুলে ফেললেন।

    অর্জুন জিজ্ঞেস করল, ডিমসেদ্ধ ভাত দিয়ে মেখে খাবেন নাকি?

    মেজর জবাব দিলেন না। গোরানসাহেব একটা প্লেটে সামান্য ভাত তুলে নিয়ে কৌটোর সার্ডিন মাছ তাতে উপুড় করে দিলেন। তেল দেওয়া মাছটা দিয়ে ভাত মেখে চামচ দিয়ে খেতে লাগলেন।

    সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মেজর বললেন, রোমে যখন থাকব তখন রোমানদের মতো ব্যবহার করব। আমাকে দুটি ভাত আর ডিমসেদ্ধ দাও হে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৬ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }