Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্জুন সমগ্র ৩ – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প731 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০১. আজ সাতই আষাঢ়

    আজ সাতই আষাঢ়, বৃহস্পতিবার। কাল মাঝরাত থেকে ঝুপঝুপিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। একসময় বৃষ্টির দিনরাতগুলো আমার ভাল লাগত। তখন বয়স কম ছিল। এখন বৃষ্টি পড়লে বিরক্ত লাগে। এ সময় আমি কোনও কাজ করতে পারি না। মুক্ত আকাশ না হলে আমার মেশিনগুলো অচল। অতএব এই ভোরবেলায় আমার দোতলার বারান্দায় বেতের চেয়ারে চুপচাপ বসে আছি।

    ঠিক আমার পায়ের দুপাশে ওরা দুজন বসে আছে। একটার নাম সার, অন্যটার নাম মেয়। দুটো কুকুরের জন্মদিন এক, দেখতেও হুবহু একই রকম। এদের পূর্বপুরুষরা এদেশি। সেন্ট্রাল পার্কের কোণে জড়োসড়ো হয়ে পড়ে থাকা একদিনের বাচ্চাদুটোকে আমি নিয়ে এসেছিলাম। আজকাল নেড়িকুকুর কেউ বাড়িতে পোষে না, কিন্তু এদের দেখলে কে এখন নেড়ি বলবে? তিন বছর ধরে মুরগির মাংস আর ক্যাপসুল খেয়ে এখন বেশ তাগড়াই হয়ে গেছে। সার বসে আছে তার সামনের দুই থাবায় মুখ রেখে। চোখ দুটো সতর্ক ভঙ্গিতে খোলা। বারান্দায় রেলিংয়ে গড়িয়ে পড়া জলের ফোঁটাকেও ও বোধ হয় সন্দেহ করছে। এই কুকুরটার দেখেছি খুব সন্দেহ বাতিক। মেয় পাশ ফিরে শুয়ে দিব্যি ঘুমিয়ে আছে। এমন আরামপ্রিয় অলস কুকুর পৃথিবীতে আর আছে কিনা আমার জানা নেই। দুটোর স্বভাবে কোনও মিল নেই শুধু একটি ব্যাপার ছাড়া। আরশোলা দেখলে দুটিতেই ভয়ে ছুটে গিয়ে লুকোয় আমার ওয়ার্ডরোবের তলায়।

    এই কুকুর দুটো আমায় ইদানীং চিন্তায় ফেলেছে। একদিনের বাচ্চাকে মানুষ করা যে কী ঝামেলার, তা যে করেনি সে বুঝতে পারবে না। তার ওপর একসঙ্গে দু-দুটো। তা ওরা যখন একটু বড় হল, তখন আবিষ্কার করলাম দুজনের কেউ ডাকাডাকি করে না। বাড়িতে কুকুর আছে দুটো, অথচ ঘেউ-ঘেউ শব্দ নেই। রাগিয়ে দিয়ে দেখেছি রাঙা চোখে তাকায়, দাঁত বের করে ভয় দেখায়, কিন্তু গর্জন করে না। শেষপর্যন্ত আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এ দুটো বোবা। যমজদের ধরনধারণ একরকমের হয় বলে শুনেছি, কিন্তু দুটো কুকুর একসঙ্গে বোবা হবে, এমনটা শুনিনি। একসঙ্গে জন্মেছে, দেখতেও একই রকম বলে যমজ-যমজ ভাবা যেতে পারে।

    সার এবং মেয় হুঙ্কার দেয় না, ডাকাডাকি করে না জানার পরও ওদের ফেলতে পারিনি। আসলে মেয়র চাহনি দেখে আমার মায়া পড়ে গিয়েছিল। ওকে রেখে সারকে বিদায় করা যায় না। কিন্তু এক বছরের মাথায় সার তার বিক্রম দেখিয়ে আমাকে মুগ্ধ করল! মধ্যরাতে চোর ঢুকেছিল বাড়িতে। ব্যাটা একটা ছিচকে চোর। ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে আমি সবে বিছানায় শুয়েছি, এই সময় পরিত্রাহি চিঙ্কার কানে এল। আলো জ্বালাতেই হেলতেদুলতে মেয় এল আমার ঘরে। আমার পাজামার ঢোলা কাপড় ধরে টানতে লাগল। ওকে অনুসরণ করে দেখলাম ভেতরের বারান্দায় একটি লোক চিত হয়ে পড়ে আছে আর সার তার বুকের ওপর থাবা রেখে বীভৎস দাঁতগুলো দেখিয়ে যাচ্ছে। অনেক ডাকাডাকি করে সারকে ওখান থেকে সরাতে পারলাম। লোকটা হাউমাউ করে কেঁদে আমার পায়ে লুটিয়ে পড়ল। পেটের জ্বালা সইতে না পেরে চুরি করতে এসেছিল বলে জানাল। তখন মাঝরাত। পুলিশকে ফোন করে ডেকে এনে তাদের হাতে তুলে দিতে পারতাম। কিন্তু তাতে লোকটা চড়চাপড় একটু বেশি পরিমাণে খেত, মাসখানেকের জেলও হয়তো হত, কিন্তু আরও চুরির জন্যে মরিয়া হত। লোকটা যে পেশাদার চোর নয়, তার প্রমাণ ওর সঙ্গে কোনও অস্ত্র ছিল না। থাকলে সারকে মেরে ফেলে পালিয়ে যেতে পারত।

    লোকটার নাম গঙ্গাপদ। কিচেন খুলে ওকে খেতে দিলাম। জানলাম বাড়িতে বৃদ্ধা মা ছাড়া আর কেউ নেই। বাগানে মালীর কাজ করত। এখন বেশিরভাগ লোকই ফ্ল্যাটবাড়িতে থাকে। মালীর কাজটা গিয়েছে। কোনও বিকল্প না পেয়ে এই পেশায় নেমেছিল। খাওয়াদাওয়ার পর লোকটিকে বিদায় করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরদিন সকালেই সে ফিরে এল। বলল, সে বাঁচতে চায়। আমি যদি তাকে সাহায্য করি তা হলে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। একবার ভাবলাম। তারপর রাজি হয়ে গেলাম। সেই থেকে গঙ্গাপদ এবাড়ির কাজে লেগে গেছে। এর মধ্যে তার মা মারা যাওয়ার পর কোনও পেছনটান নেই। গঙ্গাপদর কাজকর্ম দেখে আমি মুগ্ধ। আমার কখন কী প্রয়োজন তা সে দুদিনেই বুঝে নিয়েছে। কিন্তু সার ওকে কিছুতেই স্বস্তিতে থাকতে দেয় না। মানুষের জীবনে যে পরিবর্তন আসতে পারে তা বোঝার মতো বুদ্ধি জন্ধুদের নেই। সারের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছুক্ষণ অন্তর-অস্তর গঙ্গাপদকে দেখে আসা। এই যেমন এখন বৃষ্টির ফোঁটা ছেড়ে সে ভেতরে চলে গেল। আমি জানি সে গঙ্গাপদকে দেখতে গেছে।

    দুপুরের দিকে বৃষ্টি কমল। কিন্তু আকাশের দখল রাগী মেঘেরা ছাড়েনি। মেঘমুক্ত আকাশ না হলে আমার কাজকর্ম বন্ধ। তবু আমি ছাদের ঘরে গেলাম। ওই ঘরেই আমার সব যন্ত্রপাতি রয়েছে। ভারী দরজার তালা খুলে ভেতরে পা দিতেই বিরক্তিটা বাড়ল। একটা দিন মিছিমিছি নষ্ট হল মেঘের জন্যে। এই ঘরের ছাদ সিমেন্ট-পাথরের নয়। বিশেষ কায়দায় পাতলা ইস্পাতের চওড়া পাত রবারে মোড়া, সুইচ টিপলে যা মাঝখান থেকে সরে যায়। সরে গিয়ে আকাশটাকে দেখিয়ে দেয়। রবারে মোড়া বলে তেমন গরম হয় না দিনের বেলায়। ঘরটি বড় এবং প্রচুর যন্ত্রে ঠাসাঠাসি। মাঝে-মাঝে মনে হয় যেগুলো নিত্য লাগে না সেগুলো সরিয়ে ফেলে চলাফেরার সুবিধে করি। কিন্তু কখন যে কার প্রয়োজন হবে কে বলতে পারে। ঘরের মাঝখানে যে যন্ত্রটা অনেকটা টেকির মতো উঁচিয়ে আছে, সেটি আমার দীর্ঘ জীবনের সাধনার ফল শব্দ আলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। আলো যে প্রচণ্ড শক্তিশালী তা নানাভাবে প্রমাণিত। এমনকী মানুষের শরীরের চিকিৎসার জন্যে নিয়ন্ত্রিত আলো ব্যবহৃত হচ্ছে। ছেলেবেলা থেকেই যা দুর্বল তার প্রতি আমার আকর্ষণ বেশি। হয়তো সেকারণেই শব্দ নিয়ে এককালে গবেষণা শুরু করেছিলাম। পৃথিবীতে যেসব শব্দ বাজে তার অনেকটা দূষণসীমার বাইরে হলেও, বলতে বাধ্য হচ্ছি, আকাশে বেজে যাওয়া শব্দমালার তুলনায় কিছুই নয়। সেইসব মহাশব্দের অতি সামান্যই পৃথিবী স্পর্শ করে। মেঘে-মেঘে ঘর্ষণ লেগে যে আওয়াজ, যা আমাদের কানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার উপক্রম করে, তার শক্তিও তো কম নয়!

    ওই মহাশব্দের সন্ধানে ছিলাম এতকাল! ওই শব্দ সংগ্রহ করে সুচের মতো সরু করে নিলে এই পৃথিবীতে যা ইচ্ছে তাই করে ফেলা যায়। আলো মানুষের শরীরে গজিয়ে ওঠা উৎপাদগুলো বিনা অস্ত্রোপচারে হেঁটে ফেলতে পেরেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই উন্নতি আমাদের উপকার করেছে। কিন্তু আলোর তীক্ষ্ণতা শুধু ছেদন করতে পারে, ধ্বংস করতে পারে কিন্তু বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে না। মানুষের শরীরের গতিপ্রকৃতির সম্পূর্ণ আন্দাজ চিকিৎসকরা এখনও আবিষ্কার করতে পারেননি। শরীরের ভেতর গজিয়ে ওঠা কোনও-কোনও উৎপাদ সামান্য আঘাতে দ্রুত বিস্তৃত হয়ে মৃত্যুকে ডেকে আনে। তা অস্ত্রের আঘাত হোক অথবা আলোর। এই ক্ষেত্রে আবার শব্দকণা কাজ করতে পারে বলে মনে করছি। এই বিপুল শক্তিশালী শব্দকণাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরের বাড়তি বিপজ্জনক উৎপাদের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলে যে বিস্ফোরণ ঘটবে তা কল্পনা করে আমি শিহরিত হচ্ছি। যেভাবে ডিনামাইট একটি টিলাকে উড়িয়ে দিয়ে জায়গাটিকে সমতল করে দেয় নিমেষে, ঠিক সেইভাবে শরীর তার পূর্বাবস্থা ফিরে পাবে। এই আবিষ্কার শেষ হলে মানবজাতির বড় কল্যাণ হবে। এই আবিষ্কারের কোনও নামকরণ আমি এখনও করিনি। ওটা নিয়ে ভাবতে হবে।

    মাসকয়েক আগে লন্ডনে যেতে হয়েছিল। আমার পরিচিত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী বব উইলসের সৌজন্যে ব্রিটিশ বিজ্ঞান কনফারেন্সে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। সে-সময় আমি আমার গবেষণা নিয়ে ধন্দে ছিলাম। এই মেশিনটা সম্পূর্ণ হয়নি তখন। আকাশের বিপুল শব্দমালার সন্ধান পাচ্ছি, কিন্তু তাদের সংগ্রহ করে পৃথিবীতে নিয়ে আসার পদ্ধতিটিতে গোলমাল হচ্ছে। বব আমার কাজকর্মের কথা জানত। সে-ই পরামর্শ দেয় লন্ডনে যাওয়ার। পৃথিবীতে কোনও-না-কোনও বিজ্ঞানী হয়তো একই বিষয় নিয়ে কাজ করছেন অথবা আমার বিষয়ের কথা জেনে কেউ নতুন আলোকপাত করতে পারেন, সম্মেলনে গেলে এরকম সম্ভাবনা থাকে। ববের পরামর্শ মেনে নিয়েছিলাম। তিনদিনের সম্মেলন। আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছিল প্রথম দিনেই। আমার বক্তব্য শুনে সবাই বেশ অবাক বলে মনে হল। পরদিন কয়েকটা কাগজ খবরটা ছেপে মন্তব্য করল, বিজ্ঞান যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে শব্দ নিয়ে এই গবেষণা একশো বছর পর পূর্ণতা পেলেও পেতে পারে। অর্থাৎ আমি এবং আমার পরের প্রজন্ম যখন থাকব না পৃথিবীতে, তখন কোনও গবেষক সফল হলেও হতে পারেন। এ যেন ভদ্রতা দেখিয়ে ঘুরিয়ে বোকা বলা।

    তৃতীয় দিনের সকালবেলায় ববের সঙ্গে বেড়াতে বেড়াতে ট্রাফালগার স্কোয়ারে গিয়েছিলাম। এই জায়গাটা আমার খুব ভাল লাগে। ব্রিটিশদের এককালে সিংহ বলা হত। পৃথিবীর অনেকটাই তারা জয় করেছিল ছলে বলে কৌশলে। ট্রাফালগার স্কোয়ারের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে দুদান্ত দেখতে পাথরের সিংহ। আর সেইসঙ্গে ছড়িয়ে থাকা পায়রার ঝাঁক।

    চারপাশ দিয়ে লন্ডনের গাড়িগুলো ছোটাছুটি করছে, মাঝখানের বিরাট বাঁধানো চত্বরটা চমৎকার শান্ত হয়ে রয়েছে। এই সময় বব বলল, আরে দ্যাখো কাণ্ড, কার্ল সিংহের সওয়ার হওয়ার চেষ্টা করছে। হেই কার্ল, ওটা করতে যাচ্ছ কেন? পড়ে গেলে দেখতে হবে না?

    আমি দেখলাম একজন প্রবীণ সাহেব অনেকটা উচুতে সিংজ্ঞে পায়ের কাছে পোঁছে ডাক শুনে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে হাসলেন। বব আরও কয়েকবার চেঁচামেচি করায় ভদ্রলোক হাত ছেড়ে দিয়ে কোনওমতে শরীর বাঁচিয়ে নীচে নেমে এলেন।

    বব বলল, যাক, আমার কথা শুনেছ বলে ধন্যবাদ।

    কার্ল বললেন, না হে! এই ভদ্রলোককে দেখে নেমে এলাম। আপনার গবেষণার বিষয় আমাকে উৎসাহিত করেছে। আমিও শব্দ নিয়ে সামান্য কাজকর্ম করছি। আমার নাম কার্ল বেকার।

    পরিচয় হল। ভদ্রলোক থাকেন হামবুর্গে। নিজের গবেষণার ব্যাপারে কিছুই না বলে আমার ব্যাপারটা জানতে চাইলেন। এটাকে বিনয় বলে মনে হয়েছে আমার। আমার যে যন্ত্রটা শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা করছে না, সেটার ব্যাপারে তিনি কৌতূহল দেখালেন। এই সময় বব আমাকে চোখ টিপে সতর্ক করল। আমি বুঝলাম নিজের সব গোপন তথ্য জানাতে সে নিষেধ করছে। আমি ভাসা-ভাসা বললাম। এভাবে বলতে আমার খারাপ লাগছিল।

    ফিরে আসার তিন সপ্তাহ পরে কালের চিঠি পেলাম। আমার সঙ্গে আলাপ করে, তিনি রীতিমতো উত্তেজিত। আমার যন্ত্রটার ব্যাপারে তাঁর মতামত জানিয়েছেন। এই ব্যাপারটা নিয়ে ভাবলেই আমার হাসি পায়। বব ইশারা করায় আমি আমার যন্ত্রটার বিপরীত চিত্র কার্লের কাছে তুলে ধরেছিলাম। কার্ল লিখেছেন সেই কল্পিত বিপরীত যন্ত্র নিয়ে তাঁর মন্তব্য। অনেক সময় ছেলেবেলায় অঙ্ক কষতে গিয়ে আটকে গেলে উলটো দিক থেকে করতে করতে সেটা বুঝে ফেলতাম। খুব কম ক্ষেত্রেই এমনটা হয়। এবার হল। কালের একটা উপদেশ কাজে লাগিয়ে আমার যন্ত্রটাকে দারুণ শক্তিশালী করলাম। লন্ডনের সম্মেলনে গিয়ে এই বিরাট উপকার হল। তারপর কার্ল দুটো চিঠি লিখেছেন। শেষ চিঠি এসেছে মাসতিনেক আগে। তাঁকে জানিয়েছিলাম আমি তেমন এগোতে পারিনি। একথাটা সত্যি নয়। কিন্তু বব আমাকে অনুরোধ করেছে যতক্ষণ না আমি সম্পূর্ণ কৃতকার্য হচ্ছি ততক্ষণ ব্যাপারটা গোপন রাখাই মঙ্গল।

    এই চিন্তাটা ববই আমার মাথায় ঢুকিয়েছে। বিজ্ঞান যেমন মানুষের উপকার করে, ঠিক তেমনই অপকার করতেও তার জুড়ি নেই। কোনও শক্তিমান দেশ যদি সংগৃহীত শব্দ যুদ্ধে ব্যবহার করে তা হলে ব্যাপারটা ভাবলেই শরীর হিম হয়ে যায়।

    আজকের দিনটাই বেকার চলে গেল। আমার বয়স হয়েছে। এই সময় একটা দিন যদি নষ্ট হয়, তা হলে খুব ক্ষতি। বাঙালিদের তুলনায় আমি খুব লম্বা। ছফুট এক ইঞ্চি লম্বা মানুষেরা দীর্ঘজীবী হয় না। তা ছাড়া আমি বেশ মোটা। খেতে খুব ভালবাসি। এখন তো গঙ্গাপদ চমৎকার রাঁধছে। যখন একা ছিলাম তখন রোজ ঘি দিয়ে ভাত মেখে আলু সেদ্ধ করে কাঁচালঙ্কা আর সরষের তেলে চটকে খেতাম। পৃথিবীর যে-কোনও উপাদেয় খাবারের চেয়ে এই মেনু আমার কাছে হাজার গুণ আকর্ষক। গঙ্গাপদকে বলে দেওয়ায় আর যা কিছু হোক এটা রাখছে। মোটা মানুষেরা বেশিদিন বাঁচে না। নীরদচন্দ্র চৌধুরী একশো বছরে পা রেখেছেন। ওঁর শরীর খাটো এবং রোগা। আমার পিতৃদেব গিয়েছিলেন পঞ্চান্নতে, আমি তবু পনেরো বছর বেশি টানছি। অবশ্য আমার কোনও রোগবালাই নেই, এই রক্ষে।

    সন্ধের মুখে অবনীমোহন এলেন। সময় পেলেই তিনি আসেন। জানবার কৌতূহল তাঁর খুব। ওঁর সঙ্গে কথা বলে বেশ আরাম পাই। অবনীমোহন লোক্যাল থানার ওসি। বাইশ বছর পুলিশে চাকরি করেও চমৎকার ভদ্রলোক হয়ে আছেন। ইদানীং পুলিশ সম্পর্কে আমাদের ধারণা বেশ বদলেছে। লালবাজারে অনেক আই পি এস অফিসার আছেন, যাঁরা ইচ্ছে করলে অধ্যাপনা করতে পারেন, রবীন্দ্রনাথের গান গীতবিতান না দেখে গাইতে পারেন, কথাবার্তায় শিক্ষার ছাপ আছে। অবনীমোহন অবশ্য আই পি এস নন তবু রীতিমতো ভদ্রলোক। সামনের চেয়ারে বসে অবনীমোহন জিজ্ঞেস করলেন, আপনার গঙ্গাপদ কীরকম কাজকর্ম করছে?

    বললাম, চমৎকার।

    বাঃ। ওকে আমাদের হাতে তুলে না দিয়ে আপনি একটি সামাজিক উপকার করেছেন। আমরা ওকে কয়েক মাসের জন্যে জেলে পুরতাম, ফিরে এসে আবার চুরিচামারি করত। লোকটা যদি চিরদিনের মতো শুধরে যায় তার চেয়ে ভাল আর কী আছে।

    বুঝলাম। তা তুমি এই বাদলার দিনে উদয় হলে কোত্থেকে?

    আর বাদলের দিন! এতকাল মানুষ-চোর ধরতাম, এখন জন্তু-চোর ধরতে হবে।

    কীরকম?

    প্রায়ই খবর আসছে, একটা বানর জাতীয় প্রাণী, সেটা হনুমান অথবা ওরাং ওটাংও হতে পারে, প্রায়ই কারও-কারও কিছু চুরি করছে। দোকান থেকে জিনিস তুলে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এ-পাড়ায় গাছগাছালি বেশি। এত দ্রুত সেটা লুকিয়ে পড়ে, কেউ তার হদিস পায় না।

    কোত্থেকে এল?

    কেউ বলতে পারছে না। আমি তাকে চোখে দেখিনি।

    কিন্তু বুনো জন্তুজানোয়ার তো চুরিবিদ্যায় এত দক্ষ হতে পারে না। অবনী।

    ঠিকই বলেছেন। কোনও মতলববাজ লোক ওকে ট্রেনিং দিয়েছে। আজ দোকান থেকে জিনিস তুলছে, কাল ব্যাঙ্কের টাকা ছিনতাই করবে না তা কে বলতে পারে। আমি বিকেল থেকে এই এলাকায় পাক খাচ্ছিলাম এই ভেবে যে, সন্ধের মধ্যে ব্যাটা নিশ্চয়ই তার মালিকের কাছে ফিরে যাবে। ফিরে যেতে হলে ওকে দেখা দিতেই হবে। গাছপালার আড়াল তখন সে পাবে না। কিন্তু রাত নামল, তবু সে বেপাত্তা!

    আমি হাসলাম। ব্যাপারটা ভাবতে মজা লাগছিল। বানর অথবা হনুমানের বুদ্ধি খুবই সীমায়িত। একমাত্র ওরাং ওটাংই মানুষের কাছাকাছি বুদ্ধি ধরতে পারে। অবনীমোহন চলে গেলে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিলাম। টিভি বলছে আগামীকাল মেঘমুক্ত আকাশ পাওয়া যাবে। তাই ভোর চারটের মধ্যেই ঘুম থেকে উঠতে হবে।

    খাওয়াদাওয়া শেষ করে গঙ্গাপদ বলল, বাবু, আপনি যদি অনুমতি দেন, তা হলে এখন থেকে এ বাড়িতেই আমি থেকে যেতে পারি। মা-বাবা নেই, বস্তিতে ঘরভাড়া করে থাকি, শুধু শুতেই তো যাই।

    কয়েক বছর আগে হলে বিরক্ত হতাম। আমি একা থাকাই পছন্দ করি। একটা লোক নাকের ডগায় ঘুরঘুর করছে, এটা আমার ভাল লাগত না। কিন্তু ওই লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর আমি যেন বেশ দুর্বল হয়ে গিয়েছি। গঙ্গাপদর কথা শুনে ভালই লাগল। বয়স হয়েছে, রাতবিরেতে প্রয়োজন হলে ও কাজে লাগবে। বললাম, বেশ। আমার আপত্তি নেই।

    তা হলে সামনের রবিবার থেকে থাকব। সেদিন মাসপয়লা।

    গঙ্গাপদ চলে গেলে দরজা বন্ধ করে শোয়ার ঘরে এলাম। আগে এসব প্রায়ই অগোছালো থাকত। গঙ্গাপদ আসার পর শ্রী ফিরেছে। বিছানায় শরীর এলিয়ে দিতেই ঘুম এসে গেল। ঈশ্বর এই আশীবাদটি আমাকে করেছেন, ঘুমের বড়ি খেতে হয়নি কোনওদিন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্জুন সমগ্র ৬ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article অর্জুন সমগ্র ২ – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }