Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেইশ নম্বর তৈলচিত্র – আলাউদ্দিন আল আজাদ

    লেখক এক পাতা গল্প125 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. শুরুটা ভালো ছিল

    শুরুটা ভালো ছিল, কিন্তু আমার কাছে শেষটাই বরং দামি। নৌকায় তুলতে ও খাড়ি পেরনোর পর নৌকা থেকে গাড়িতে উঠিয়ে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসতে বেশ কষ্ট হলো বটে; তবু পাওনার তুলনায় সেটুকুন কিছুই নয়।

    বন্ধুরা অভিসারী, আর আমি কামরার ভেতর বালিশে হেলান দিয়ে হাত-পা গুটিয়ে কাত হয়ে আছি। জানালা খোলা। দেখা যাচ্ছে নগরীর লাল নীল সবুজ আলোকমালা। হঠাৎ গুপ্তধন পেয়ে যাওয়ার পর কৃপণের মতো আমি শিহরিত, সতর্ক তাই বাইরের ঠিকরানো হাতছানি চোখে পড়লেও ভেতরে কোনো সাড়া তুলছে না। বরং আমি ক্রমে নিজের ভাবনার রেশমি জালের মধ্যে গুটিয়ে যাচ্ছি।

    জীবন বারবার নিজেকে আমার কাছে অনাবৃত করে ধরেছে এটাই আশ্চর্য। আচমকা একেকবার পর্দাটা সরিয়ে দিয়ে অঙুলি-সঙ্কেত করেছে ভেতরের দিকে, এই রঙ্গমঞ্চ। তার পাশেই সাজঘর। সেখানে আসলরূপে ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিনেতা অভিনেত্রী, কোনো প্রসাধন নেই আবরণ নেই। বাইরে যাদের চেনা যায় না সেখানে তারাই নিজ নিজ বেশে প্রতিষ্ঠিত। দেখতে ভয় লাগে কিন্তু একবার দেখতে শিখলে তার ভয়ঙ্কর নেশাই পেয়ে বসে।

    হয়তো কিছু চাওয়ার আছে আমার কাছে, জীবনের, নইলে ধরা দেবার জন্য কেন এত আগ্রহ?

    অনেকদিন রাত্রে একলা বিছানায় শুয়ে আমি ভেবেছি কেন এমন হলোর হঠাৎ কানে বেজেছে কার কণ্ঠস্বর। জানালার ধারে দাঁড়িয়ে জহু যেন বলছে জাহেদ আমার ছবিটা শেষ করবি না?

    চমকে উঠে একদৌড়ে ওখানে গিয়ে দেখি কেউ নেই, হাস্নাহেনার ঝাড়গুলো শুধু হাওয়ায় কাঁপছে।

    জহুর ছবি আর শেষ করতে পারিনি, মনের কোণায় স্কেচটুকু শুধু জমা আছে; যেদিন শেষ করতে পারব সেদিন বুঝব শিল্পী হয়েছি। আরও কত কাহিনি! কিছু স্বাভাবিক, কিন্তু বেশির ভাগই আকস্মিক।

    আজও তাই হলো। জোবেদা খালার স্বামী যে পাগল হয়ে গিয়েছিলেন এবং বহুকাল পর ফিরে এসে নিজের ভাঙা ভিটেটার ওপর পড়ে গত বছর মরেছেন তা আমি বলিনি, তবু সে কি প্রতিক্রিয়া! একদম অবিশ্বাস্য। প্রথম যৌবনের সেই একজন সত্যইকি ছিল তার প্রেমপাত্র? যদি ছিল তবে কেন বেছে নিলেন অন্যপথ?

    নিজের উর্ধ্বে উঠতে পারাটাই শিল্পী ব্যক্তিত্বের সর্বপ্রথম অঙ্গীকার এবং সে আমারও লক্ষ্য। এখন শেষ দুঃখ শেষ সুখের সামনে মূৰ্ছিত হয়ে পড়ি না এতেই আমি সন্তুষ্ট।

    বসুন্ধরা ছবিটা প্রথম প্রদর্শনেই সমালোচক ও সমঝদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এতে আমি সুখী। প্রতিষ্ঠা ও যশ শিল্পী মাত্রেরই কাম্য এবং আমিও সেটা চাই। কিন্তু তবু বলতে পারি, ছবিটা হলঘরের এক কোণায় অনাদরে পড়ে থাকলেও খুব দুঃখিত হতাম না। কারণ আমার যা আসল পাওনা, তা পেয়ে গেছি অনেক আগেই। সে হলো। আনন্দ, সৃষ্টির আনন্দ। সে আনন্দ, আনন্দের চেয়ে তীব্র বেদনার চেয়ে গভীর মৃত্যুর চেয়ে অনন্ত এবং তখন আমিই তো নায়ক ছিলাম না? হ্যাঁ তাই, আমি ছিলাম না তখন। আমি ছিলাম ইজেলে সাঁটানো ক্যানভাসের সামনে, রং সাজিয়ে তুলি হাতে, নিঘুম সারারাত; কিন্তু রচনা করেছিল সে আর একজন। বর্ষণ, বৃষ্টি বিদ্যুৎ, ঝটিকার মেঘে আকাশটা ঝিম ধরে ছিল, যখন ভেঙে পড়ল পরিচিত আমিকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে গেল। অন্যজন হলো সৃষ্টির সারথি। আমার দেহের অভ্যন্তরেই জেগেছিল সে বিধাতার মতো, অচেনা রহস্যময় আমার হাত দিয়ে ক্যানভাসের ওপর কাজ করে চলে গেছে। তাকে চিনি না, কিন্তু তবু মনে হয় সে-ই তো জেগেছিল রাফেল দা ভিঞ্চি মাইকেল এঞ্জেলার মাঝে, গগাঁ রেনোয়া পিকাসোর আত্মায়?

    এজন্যই বুঝি রাতটা অপরূপ হয়ে এসেছিল। আমাদের ছোট ঘরটার জানালার পাশে একটি নারকেল গাছ চিরল-চিরল পাতায় ছাওয়া, শেষ রাত্রে তার ফাঁকে এসে পড়ল হলুদ চাঁদের আলো। দূরে কোথায় যেন গান হচ্ছিল। এমপ্লিফায়ারের সেই সুর তরঙ্গ দমকা হাওয়ায় ভর করে ভেসে আসছিল। সে যেন এক সুরলোকের অশ্রুতপূর্ব মধুর রাগিণী।

    হঠাৎ কেন জানি তুলিটা হাতে নিয়েই একবার উঠলাম। মাঝের কপাটটা ঠেলে চুপি চুপি শোবার কামরায় ঢুকি। হা ছবি ঘুমোচ্ছে তার কোলের কাছে টুলটুল। হাওয়া আর চাঁদ যেন মিতালি পাতিয়েছে। একজন জানালার পর্দা উঠিয়ে ধরে অন্যজন বুলিয়ে যায় মায়াবী হাতের ছোঁয়া আশ্চর্য সুন্দর। মা ও শিশু এই তো বসুন্ধরা, দুঃখে দুর্ভিক্ষে দারিদ্রে ছিন্নভিন্ন কিন্তু তবু মরে না; তার স্নিগ্ধ শান্ত চোখের চাওয়ায় যুদ্ধের শিবির ভেঙে পড়ে। তার খুশির হাতছানিতে দোলে ধান গম ভুট্টার ক্ষেত-সোনালি খামার নদীর তরঙ্গধারা।

    আমি তন্ময় হয়ে দেখছি, এত পবিত্র এই দৃশ্য ওর কপালে একটু চুমু খেতেও সাহস হলো না।

    প্রশংসিত হয়েছে এবং বাজার অনুযায়ী দামও কম পায়নি, যদিও কাজের দাম বলতে আমি বুঝি অন্য কিছু। কিন্তু তবু কথা থাকে। সমালোচকরা দেখেছেন কমপোজিশন রং আয়তন মাত্রা বিভাগ, বক্তব্য চোখে ম্যাগনিফায়িং গ্লাস লাগিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এবং তারা ভুল করেন নি। কিন্তু একটি কথা তারা কখনো জানতে পারবেন না, সে হলো এই ছবির জন্মকাহিনি। নিজের উর্ধ্বে যখন উঠি তখন বরং বলি জীবনই নিজেকে প্রকাশ করেছে, আমি নিমিত্ত মাত্র।

    লুভ্যর ন্যাশনাল গ্যালারি, মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট কোনদিন যেখানেই এই ছবি যাক না কোনদিন এও কেউ জানতে পারবে না যে আমার ছবিই এই ছবির জন্মদাত্রী। কারণ চতুষ্কোণ কাম্বিসের স্থানটুকুর মধ্যে একজন মানবীর মূর্তি প্রকাশ পেয়েছে, মূর্তি হিসেবে সে বিশেষ কিছু নয় এবং অনাগতকালে আমিও থাকব না, ছবিও থাকবে না থাকবে না টুলটুলও। হয়তো থাকবে শুধু এই ছবি যার নাম মাদার আর্থ, বসুন্ধরা, ক্যাটালগে তালিকাবদ্ধ তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।

    অন্তত এই ছবিটির বেলায় সামান্য সময়ের জন্য হলেও জীবন আমাকে শিল্পী করেছিল। আর ছবিই সেই জীবন।

    অথচ যেদিন প্রথম দেখা হলো তখন বুঝতেও পারিনি এই হাবা মেয়েটিই আমাকে নিয়ে যাবে ঝরনার উৎসবের কাছে।

    দোকানে রঙের টিউবগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিলাম। একজন লোক প্রবেশ করলেন হঠাৎ। ছেঁড়া শার্ট ময়লা পায়জামা, পায়ে টায়ারের স্যাণ্ডেল। গাল আর চোখজোড়া গর্তে ঢুকে গেছে। আ-ছাঁটা চুল ও খোঁচা খোঁচা দাড়ি-গোঁফে বিপর্যস্ত চেহারা।

    একটা কাজ পেয়ে গেছি, দুটো রং দিতেই হবে হোসেন সাব, ব্লু আর রেড। বিকেলের মধ্যে কাজটা সেরে সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে রাত দশটার আগেই রঙের দামটা দিয়ে যাব। হঠাৎ আমার দিকে নজর পড়তেই অদ্ভুত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলেন, তুমিও ছবি আঁক নাকি হে?

    জানা নেই শোনা নেই একেবারে তুমি সম্বোধন! বয়সে না-হয় একটু ছোটই হবো কিন্তু ভদ্রতা বলে একটা জিনিশ তো আছে? তবু ঝগড়া করা বৃথা। বললাম, এই কিছু কিছু।

    খাসা জবাব। কিন্তু জানো হোড়াই হোক বেশিই হোক সেই একই ব্যাপার! বসে বসে ভেরেণ্ডা ভাজা! চুরিচামারিরও একটা দাম আছে, কিন্তু ছবি আঁকার নয়।

    নাম বলতেই শো-কেসের ওপর থেকে আমার হাতটা টেনে নিয়ে করমর্দন করলেন। লোকটা খ্যাপা নাকি?

    জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে চেনেন আপনি?

    কিছুটা! স্কুলের গত একজিবিশনে ছাত্রদের মধ্যে তোমার কাজই আমার সবচে ভালো লেগেছে, তোমার কম্পোজিশন আর ডাইমেনশন জ্ঞান চমৎকার, ড্রয়িং ভালো রং এখনো বোঝনি তবে আস্তে আস্তে হয়ে যাবে। একটানা কথাগুলো বলার পর দোকানির চোখের সামনেই দুটো টিউব তুলে নিয়ে বললেন, চল একটু তোমার সঙ্গে কথা আছে!

    ছবির দাদা জামিলের সঙ্গে এই ভাবেই পরিচয়। প্রথম দিনেই গলির ভিতরে তার ভাঙাচোরা বাসার অন্দরে নিয়ে গিয়েছিলেন। দুকামরার বাড়ি ইট সুরকি ভেঙে পড়েছে

    কেমন স্যাঁতসেঁতে, একটি ঘর কিছু বড় আরেকটি ছোট। সেটার মধ্যে তার স্টুডিও তার একধারে ছোট্ট একটা চৌকি! রাত্রে হয়তো থাকে কেউ।

    স্টুডিওটা মূর্তিমান জঙ্গল। ফ্রেম রং কালি তুলি কাগজ বিড়ির টুকরো বিজ্ঞাপনের ছবি গাদাগাদি ছড়াছড়ি। ঘরটা বছরেও একবার গুছানো হয় কিনা সন্দেহ। গুছিয়ে দেয়ার কেউ নেই এমন নয় তবে পরে জানতে পেরেছিলাম। জামিলই তা করতে দেন না। পরিপাটি দেখলেই নাকি প্রায় পাগল হয়ে যান এবং হাতের কাছে যা পান তাই নিয়ে মারতে আসেন।

    ছবি! ছবি! স্টুডিও ঘরে ঢুকেই জামিল ডাক দিলেন, একটা প্যালেট টেনে নিয়ে আমাকে বললেন, একটু ধরো।

    তখন হালকা সবুজ রঙের সস্তা শাড়ি পড়া আলুথালু বেশ একটি মেয়ে চৌকাঠে পা দিচ্ছিল কিন্তু আমাকে দেখতে পেয়েই আড়ালে গিয়ে দাঁড়াল।

    লজ্জা পাচ্ছিস কেন রে! এদিকে আয় পরিচয় করিয়ে দিই, জাহেদুল ইসলাম, আর্ট স্কুলের ফাইনাল ইয়ারের ফার্স্ট বয়, খুব ভালো ছেলে!

    কিন্তু ছবি আড়াল ছেড়ে এলো না। আমি ওর মনটা যেন বুঝতে পারলাম, বললাম, ঠিক আছে আস্তে আস্তে পরিচয় হবে।

    জামিল এটা সেটা নাড়াচাড়া নিয়ে ব্যস্ত, কোমল স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ছবি! চুলায় আগুন আছে রে?

    না! মিষ্টি গলার ছোট্ট একটা শব্দ।

    আগুন জ্বালাতে অসুবিধে হবে?

    না।

    তাহলে আমাদের দুকাপ চা দে না! জামিলের কথা বলার ভঙ্গিটা লক্ষ্য করার মতো, যেন দীন হীনের কাতর প্রার্থনা। ছবি দরজার কাছে থেকে চলে গেলে আমাকে বললেন, কিছু মনে করো না ভাই জাহেদ, আমাকে একটু সাহায্য করতে হবে। দুটো বিজ্ঞাপন একটি ডিজাইন তুমি করে দাও। ডিজাইন দুটো ঠিক সময়ে দিয়ে কিছু টাকা না নিতে পারলে সত্যিই বিপদ।

    উত্তম পরিচয়! এ না হলে কি আর শিল্পী! জীবনকে ইতিমধ্যেই কিছু দেখেছি কাজেই অবাক হলাম না। একটু ইতস্তত করে বললাম, কিন্তু আমি যে কমার্শিয়াল আর্ট করি না।

    করো না? খুব ভালো কথা। জামিল বললেন, হ্যাঁ কমার্শিয়াল ঢুকে গেলে আর্টকে ভুলে যেতে হয় অনেক সময়। কিন্তু এদেশে শুধু আর্ট নিয়ে থাকতে পারবে কি না সন্দেহ। পাস করে বেরোও সব দেখতে পাবে। তোমাকে আজ এ-কাজটা করতেই হবে। এরকম তো আর করতে যাচ্ছ না তুমি? একটা ড্রয়িং শুধু কপি করে দেওয়া।

    ঠিক আছে বলে দরজার দিকে চাইতেই দেখি ছবি, এবারে সে ওর মুখের অর্ধেকটা ও একটি চোখ আড়াল থেকে নিয়ে এসেছে এবং আমি চাইলেও তা সরিয়ে নিল না। তেল না দেওয়া অবিন্যস্ত চুল কেমন করুণ চেহারাটি যেন নীরব অশ্রুজলে মলিন হয়ে যাওয়া। আমার দিকে সে চাইল, একেবারে শূন্য, ভাবলেশহীন দৃষ্টি। পরে আস্তে করে ডাকল, দাদা!

    জামিল প্যালেটে রঙ তৈরি করছিলেন, আমি ধাক্কা দিয়ে বললাম, আপনাকে ডাকছে।

    কে? বলে মুখ তোলার সঙ্গেই বললেন, ছবি? কি ব্যাপার?

    জামিল উঠে যেতে ছবি তাকে ডেকে ভেতরে নিয়ে গেল।

    একটু পর ফিরে এসে চৌকাঠের কাছে থাকতেই সশব্দে হেসে উঠলেন। আমি বললাম, কি ব্যাপার! হাসছেন কেন?

    কারণ ঘটেছে তাই। আমাদের সম্বন্ধে কি ভাববে তুমি, তাই ভেবে আমার হাসি পেল। এই প্রথম দেখ, অথচ কি অদ্ভুত অভিজ্ঞতা!

    না, না, সে কিছু নয়! আমি বললাম, আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে বরং আমার লাভই হলো। অনেক কিছু শিখতে পারব। কলকাতা আর্ট স্কুলের ছাত্র আপনি, বড় বড় গুণীর সঙ্গে কাজ করেছেন।

    হ্যাঁ তা বটে। তা বলতে পারো! জামিলের কণ্ঠস্বর হঠাৎ ভারি হয়ে এলো, বললেন, টিচাররা আমাকে খুবই ভালোবাসতেন। আমি কাজও করতাম মন্দ নয়। যাগগে, ওসব কথা। বলছিলাম কি প্রথম পরিচয়, তোমাকে ডেকে এনে কাজে লাগালাম তারপর দ্যাখ চা খাওয়াতে বললাম, ছবি বলে চায়ের পাতা নেই- কেনার পয়সাও যে নেই। তাই হাসছিলাম, পরিচয় যখন হয়েছে দেখে যাও আমাদের অবস্থা।

    অজান্তেই আমার মুখটা লজ্জায় ছেয়ে গেল না। বললাম, যদি কিছু মনে না করেন, আমার কাছে পয়সা আছে। চা কিনে নিয়ে আসি।

    না তুমি যাবে কেন, আমার কাছে দাও।

    না-না আমিই যাই। কোনো অসুবিধে হবে না। আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

    দারিদ্রকে ঘৃণা করি কিন্তু অন্যের দারিদ্র মোচনের ক্ষমতাও নেই। এক পয়সা দু’পয়সা সাহায্য দিয়ে সে অসম্ভবও বটে। সমাজের কাঠামোটাকেই পাল্টে দিয়ে দারিদ্র্যের অবসান ঘটানোই আমার সংকল্প। সেজন্য ভিক্ষে কখনো দিইনে। ভিক্ষুককে কিছু দেয়ার মানে ভিক্ষাবৃত্তিরই পোষণ এবং ভিক্ষুকের জাতি দুনিয়ার বুকে টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু এখানে সে ব্যাপার নয়। অবস্থাটা এত স্পষ্ট ছলনার প্রয়াসটুকু পর্যন্ত অনুপস্থিত। কেউ হয়তো বলবেন এ অন্য ধরনের প্রতারণা। ভদ্রতার আবরণে না ঢেকে খোলাখুলি হয়ে যাওয়ার মধ্যে একই উদ্দেশ্য সিদ্ধির অধিকতর জোরালো ভঙ্গিটাই বর্তমান। কিন্তু আমি বলি ঘরে যে কিছু নেই এটা তো আর ছলনা নয়? জামিল যে ক্ষুধার্ত এটাও ছলনা নয়? ছবির মুখটা গভীর করুণ এখানে কোথায় ছলনার চিহ্ন?

    হ্যাঁ, ঘরে কিছু নেই, চা, চিনি কিনতে গিয়ে আমার মনে হলো ঘরে চাল-ডাল কিচ্ছুই হয়তো নেই।

    পকেটে পাঁচটি টাকার একটি নোট ছিল। রং কেনবার পয়সা। সবটা খরচ করে ফিরে এলাম।

    বড় কামরার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে চাপা গলায় ডাক দিলাম, ছবি! ছবি!

    ছবি প্রথম বুঝতে পারেনি, বারান্দায় পা দিয়েই হকচকিয়ে উঠল। কিন্তু আমাকে দেখতে পেয়ে সরে গেল না। আমি দ্রুতপদে কাছে গিয়ে চটের থলেটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, এই নাও। ছবি থলেটা হাতে নিয়ে বলল, এসব কেন। দাদা জানতে পারলে খুব রাগ করবেন।

    সে জন্যই তোমাকে দিচ্ছি। ওকে জানিও না, আর কিছু মনে করো না তুমি লক্ষ্মীটি!

    ছবির চোখের মণি আমার দিকে হঠাৎ দপ্ করে জ্বলে উঠল; কিন্তু সে এক মুহূর্তের জন্য। মাথাটি নিচু করে চলে এলাম। আমি তো সজ্ঞানে এই কথাটি উচ্চারণ করতে চাইনি? তবে কেন এমন হলো? ও নিশ্চয়ই তা বুঝতে পেরেছে, নইলে প্রতিবাদ করত।

    এরপর বিজ্ঞাপনের ডিজাইন আঁকতে আর বলতে হলো না-জামিল কাজ করছিলেন; আমিও তুমি টেনে নিয়ে বসে যাই। আশ্চর্য, এটি হয়ে গেল। আমি তো চাইনি এমন কিছু? আমি জানতে পারিনি অতি সাধারণ শাড়িপরা দুঃখের দুলালী এই নিরাভরণ মেয়েটি কখন আমার অন্তরে প্রবেশ করেছে। অল্পক্ষণের পরিচয়, তাতেই যে বেদনার সরোবর টলমল করে উঠল, আমার ছোট্ট সম্বোধনটি হয়তো তার থেকে জন্ম নেওয়া লাল পদ্ম!

    স্বপ্নচ্ছন্নের মতো একমনে কাজ করে চলেছি, সারাক্ষণ মনের মধ্যে অবিচ্ছিন্ন আলোড়ন!

    ছবি চা নিয়ে এলে আমি আর চোখ তুলে তাকাতে পারলাম না। একটা চুমুক দিয়ে জামিল বললেন, প্রথম দিনেই আমাকে ঋণী করে ফেললে জাহেদ। এ আমি সাধারণত স্বীকার করি না। কিন্তু তোমার প্রতি একটা দুর্বলতা জাগল, ভালোমতো বাধা দিতে পারিনি।

    আমি বললাম, আপনি বড় বেশি ভাবেন, নইলে বুঝতেন এ ব্যাপারটাকে ঋণ বলা যায় না কিছুতেই।

    এরপর নীরবতা। হিমানী কেশতৈলের লেবেল, চৌকোণা ঘরে স্বদেশী চিত্রতারকার ছবি থাকবে, অবশ্যি চেহারার একেবারে কপি নয়, অনেকটা মিল শুধু। ফটোগ্রাফ থেকে হুবহু মেরে দিলে আইনের আওতায় পড়তে পারে, অথচ ক্রেতাদের আকর্ষণ করবার জন্য দেওয়াও প্রয়োজন। তাই দুইয়ের মধ্যে একটা সমঝোতা। এটা আমিই করছি। আর উনি করছেন একটা সিনেমার বিজ্ঞাপন।

    ছবির ডাকে মাঝখানে একবার উঠে গেলেন জামিল, খানিকক্ষণ পরে হাসিমুখে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, তোমাকে আজকে এখানে খেতে হবে। অবশ্যি দাওয়াতটা। আমার নয় ছবির। কাজেই বুঝতে পারছ না বলার কোনো মানে নেই!

    আমি বললাম, ভোজন জিনিসটা সর্বদাই আমার কাছে লোভনীয়, কাজেই সে আশঙ্কা বৃথা!

    জামিল হেসে বললেন, আমার সঙ্গে তোমার বেশ মিল দেখছি! খাদ্যবস্তুর প্রতি আমারও ভয়ানক দুর্বলতা। একদিন ছিল

    হঠাৎ থেমে গেলেন। কেন জানি মুখে বিষণ্ণতার ছায়া নেমে এসেছে। আমি তাকে লক্ষ্য করে বললাম, থামলেন কেন, শেষ করুন।

    না ভাই! আজ নয়। সব জিনিস, আস্তে ধীরে জানাই ভালো। তাতে অন্তত কৌতূহলটা বজায় থাকে এবং তার দাম কম নয়।

    এভাবেই ভাইবোনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল খানিকটা অস্বাভাবিক কিন্তু অসাধারণ কিছু ছিল না। খেতে বসে জামিল বলেছিলেন, জানো জাহেদ, ছবি সত্যিই ভালো মেয়ে। ও না থাকলে আমি রাস্তায় পড়ে মরতাম। তোমার কাছে লুকিয়ে লাভ নেই, দুদিন বাজার করতে পারিনি কিন্তু তবু ঠিক সময়ে খাবার পেয়েছি। কোত্থেকে যে সে জোগাড় যন্ত্র করে আনে আমি বুঝি না।

    ছবি এতক্ষণ কপাটের কাছে দাঁড়িয়ে তদারক করছিল, নিজের সম্বন্ধে কথা শুনতে পেয়ে আড়ালে চলে গেল।

    ও কোথাও চলে গেলে আমার কি অবস্থা হবে মাঝে মাঝে তাই ভাবি।

    এতক্ষণ কথা বলতে পারছিলাম না, এবার সুযোগ পেয়ে বললাম– চলে যাবে কেন?

    জামিল সশব্দে হেসে উঠলেন। বললেন, তুমি দেখছি সত্যি ছেলেমানুষ। চলে যাবে কেন! আছে যে এটাই বিচিত্র। মেয়েদের বিশ্বাস নেই রে ভাই!

    উনি যখন কথা বলছিলেন সামনের দেয়ালে টাঙানো ফটোটার দিকে চেয়ে ছিলাম। নিঃসন্দেহে জামিল এবং তার বৌ। বিয়ের পোশাকে তোলা ছবি। মেয়েটার কপালে টিপ। বেনারসি শাড়ির ঘোমটা টানা সলজ্জ মধুর মুখোনি। কাটা সুন্দর চেহারা। জামিলের গায়ে পাঞ্জাবি, মাথার চুল বড়-বড় ঘাড় অবধি নেমেছে। প্রশস্ত কপালের নিচে চোখজোড়া উজ্জ্বল। গাল তোবড়াননা নয়। ছবিটা নষ্ট হয়নি। খুব জীবন্ত মনে হচ্ছে।

    কোনদিন প্রকাশ না করলেও আমার জানতে দেরি হয়নি। কলকাতা আর্ট স্কুলের ছাত্র জামিল চৌধুরী সহপাঠিনী মীরা দাশগুপ্তার প্রেমে পড়েছিলেন। অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে আউটডোর স্কেচ আর পিকনিকের আড়ালে চলত তাদের মন দেওয়া-নেওয়া। সুযোগ মতো লম্বা লম্বা-চিঠির আদান-প্রদান। আগুন কখনো ছাই চাপা থাকে না। এ ব্যাপার নিয়ে সে কি কানাঘুষা হৈ চৈ! জামিলের প্রাণই বিপন্ন হয়েছিল। কিন্তু একমাত্র মীরার গুণে শেষ পর্যন্ত আদালতে দুজনের বিয়ে হতে পারল। দিনটা ছিল সতেরোই আগস্ট উনিশ শ’ সাতচল্লিশ সন; লোকের প্রবাহের সঙ্গে সেদিন বিকেলের ট্রেনে ওরা চলে এসেছিলেন ঢাকায়।

    অথচ এখন দু বছর ধরে ছাড়াছাড়ি! ছবি হাতের নখ খুঁটতে খুঁটতে বলল, বৌদির একটা অদ্ভুত ধারণা জন্মে গেছে। তার ফলেই এই কাণ্ড। দুটি ছেলেমেয়ে আছে। দাদার সঙ্গে থাকলে নাকি ওরা মানুষ হতে পারবে না!

    তাই নাকি? আমি বিস্মিত স্বরে জিগগেস করলাম।

    ছবি বলল, হ্যাঁ তাই। সেজন্যই তো আলাদা থাকেন। বৌদি মেয়েদের স্কুলে ড্রয়িং টিচার।

    কোনদিন এখানে আসেন না উনি?

    দাদা না থাকলে মাঝে মাঝে আসেন। বিছানাপত্র গুছিয়ে দিয়ে যান।

    ছবি একটু থেমে বলল, কিন্তু সেটা আরো বিশ্রী। দাদা বুঝতে পারেন তো? একদম লঙ্কাকাণ্ড বাঁধিয়ে তোলেন।

    সেদিন দুর্বল মুহূর্তেই যেন ছবি কথা বলতে শুরু করেছিল, হঠাৎ সচেতন হয়ে একদম চুপ হয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদি আউটসাইডার – আলবেয়ার কাম্যু
    Next Article নবি মুহাম্মদের ২৩ বছর – আলি দস্তি

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }