Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দূরবীন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. কিশোরী রঙ্গময়ি

    ॥ ৩ ॥

    চোখের পলকে অবস্থাটা বুঝে নিয়েছিল কিশোরী রঙ্গময়ী। মেয়েদের বাস্তববুদ্ধি একটু বেশীই দেন বিধাতা। রঙ্গময়ী বুঝেছিল, ওই বন্ধ কপাট তার জীবনের সব সম্ভাবনার পথে খিল তুলে দিল। সে ঝাঁপিয়ে পড়ল বন্ধ দরজার ওপর। চেঁচানোর উপায় নেই, করাঘাত করা বিপজ্জনক। দরজায় মৃদু কিল দিতে দিতে সে চাপা গলায় বলতে লাগল, দরজা খোলো, পিসি, দরজা খোলো! ও পিসি…

    নলিনীকান্ত বজ্রাহতের মতো বসে অবাক চোখে দৃশ্যটা দেখছিল, কিছুক্ষণ সে বোধহয় মানুষ ছিল না, পাথর হয়ে গিয়েছিল। তারপর হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, কী হয়েছে বলে তো! কে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করল?

    রঙ্গময়ী তখনো থরথর করে কাঁপছে। নলিনীকে তার ভয় ছিল না। সে জানত নলিনী নারীমুখী নয়। মেয়েমানুষের প্রতি তার কোনো আগ্রহ নেই। রঙ্গময়ীর ঢের বেশী ভয় সমাজকে, কলঙ্ককে। কাঁপতে কাঁপতে জ্বরগ্রস্ত রুগীর গলায় সে বলল, পিসি, আমার পিসি। ওপাশে শেকল তুলে দিয়েছে।

    কেন? বাইরে থেকে শেকল তুলে দেওয়ার মানে কী?

    জানি না। আপনি দরজাটা খুলে দিন।

    নলিনী অনুচ্চ স্বরেই কথা বলছিল। কিন্তু সেই মৃদু স্বরও রাগে থমথম করে উঠল, এত রাতে তুমিই বা আমার ঘরে এলে কেন?

    রঙ্গময়ী সেই রাগের আভাস দেখেই অপরাধবোধে কেঁদে ফেলল। ভাঙা বিকৃত গলায় বলল, আমি তো আসিনি। পিসি বলল, আপনার কিছু দরকার আছে কিনা জিজ্ঞেস করতে। পিসি সঙ্গে এসেছিল।

    হঠাৎ নলিনীর মুখ রুদ্ধ রোষে টকটকে লাল হয়ে গেল। বলল, তোমার পিসি?

    হ্যাঁ, আমি কিছু জানি না।

    নলিনী রাগলেও সেই রাগ রঙ্গময়ীর ওপর প্রকাশ করল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে সম্ভবত পরিস্থিতিটা একটুক্ষণ ভেবে নিল। তারপর হঠাৎ হাসল। তার হাসি বরাবর সুন্দর। অমলিন, সরল। দাঁতের ঝিকিমিকির ভিতর দিয়ে তার হৃদয় দেখা যেত।

    মাথাটা একটু নেড়ে সে বলল, এভাবে কি হয়?

    রঙ্গময়ী ভীত গলায় বলল, কী হয়?

    নলিনী মাথাটা আগের মতোই নাড়তে নাড়তে বলল, এভাবে হয় না। তোমার পিসিকে সুযোগমতো বোলো, এভাবে হয় না। তুমি বড় ছোটো, ঠিক বুঝবে না। তোমার পিসি ভুল করেছেন।

    আপনি দরজাটা খুলে দিন।

    ভয় পেও না রঙ্গময়ী। চেয়ারটায় বোসো। দেখি আমি কী করতে পারি।

    রঙ্গময়ী আর্ত গলায় বলল, পিসি দরজা বন্ধ করে দিল কেন?

    সেটা তোমার পিসিকেই জিজ্ঞেস কোরো। তিনি যদি বলতে নাও চান তাহলেও ক্ষতি নেই রঙ্গময়ী। বয়স হলে তুমি নিজেই বুঝতে পারবে।

    রঙ্গময়ী হয়তো বুঝতে পারছিল, আবার পারছিলও না। কিশোরী বয়সের বয়ঃসন্ধি। আলো-আঁধারির সময়। পিসি একটা অঘটন ঘটাতে চাইছে, টের পাচ্ছিল সে। কিন্তু কেন, তা ভেবে তার মাথা কূল-কিনারা হারিয়ে ফেলছিল। এত রাতে একা পরপুরুষের ঘরে কী করে পিসি ঠেলে দিতে পারে তাকে?

    তবে নলিনীকে রঙ্গময়ী জানত। এ পুরুষ বটে, কিন্তু বিপজ্জনক নয়। না, কথাটা ঠিক হল না। নলিনী হয়তো বা বিপজ্জনকই ছিল। পরবর্তী কালে তার জীবনের একটা গোপন দিক প্রকাশ হওয়ার পর সেটা জানা গিয়েছিল। কিন্তু সেই বিপদ মেয়েদের জন্য নয়, ইংরাজদের জন্য। তাই রঙ্গময়ীর সেই রাতে ভয় করেনি। লজ্জা ও আত্মগ্লানিতে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সে গিয়ে নলিনীর টেবিলের সামনে কাঠের চেয়ারে বসল।

    বুদ্ধিমান নলিনী দরজা খুলবার চেষ্টা করল না। শান্তভাবে ফিরে এসে সেও বসল নিজের চেয়ারে। রঙ্গময়ী দুহাতে মুখ ঢেকে কাঁদছে। নলিনী ধীর স্বরে বলল, দরজার পাল্লাটা খুব ভারী। জোর করে খুলতে গেলে শব্দ হবে। কাউকে তো এ অবস্থায় ডাকাও যায় না।

    রঙ্গময়ী ভীত স্বরে বলল, তাহলে?

    তোমার পিসি খুব নিশ্চিন্তে বসে থাকবেন না নিশ্চয়ই। এক সময়ে এসে ঠিকই দরজা খুলে দেবেন। ততক্ষণ আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।

    সে কতক্ষণ? রঙ্গময়ী আকুল গলায় প্রশ্ন করে।

    নলিনী তেমনি ঝকঝকে হাসি হেসে বলে, তোমার পিসির তো মাথায় গোলমাল। বিকারগ্রস্ত লোক। তিনি কখন এসে দরজা খুলবেন তা কে জানে! হয়তো একা আসবেন না, সঙ্গে লোক জুটিয়ে আনবেন।

    লোক জোটাবেন কেন?

    তুমি বড় বোকা রঙ্গময়ী। আমার যতদূর ধারণা, উনি তোমাকে আর আমাকে ফাঁদে ফেলতে চাইছেন।

    সর্বনাশ!

    নলিনী মাথা নেড়ে বলল, কিছু সর্বনাশ নয়। চিন্তা কোরো না। বসে বসে বই পড়ো বরং। কী পড়বে? বঙ্কিম?

    রঙ্গময়ীর বই পড়ার মতো মনের অবস্থা নয়। সে মাথা নেড়ে জানাল, বই পড়বে না।

    তাহলে কী করবে?

    বসে থাকবো। ওই জানালাটার শিক ভাঙা যায় না?

    যায়। তবে তার জন্য একটা ছোটোখাটো হাতি লাগবে। দেখছো তো, কী মোটা শিক!

    রঙ্গময়ী ভারী হতাশ হয়ে আবার মুখ ঢাকল। ফোঁপাতে লাগল।

    নলিনী এবার আর তাকে বাধা দিল না। কাঁদতে দিল। নিজে যে বইখানা পড়ছিল সেটা ফের তুলে নিয়ে চঞ্চলভাবে পাতা ওল্টাতে লাগল। কিন্তু পড়ার মতো মনের অবস্থা নয়। একসময়ে বইটা টেবিলে রেখে শান্তভাবে রঙ্গময়ীর দিকে চেয়ে বলল, মানুষের মনের নোংরামি দেখলে আমার ভারী ঘৃণা হয়। পৃথিবীতে তোমার পিসির মতো মানুষের কোনো প্রয়োজন নেই, তবু এরা জন্মায় কেন বলো তো?

    রঙ্গময়ী কী জবাব দেবে? তার পিসি কনকপ্রভা খারাপ না ভাল তা সে কখনো বিচার করে দেখেনি। পিসি পিসিই। কোলেপিঠে করে তাদের মানুষ করেছে। আদরে সোহাগে শাসনে। শুদ্ধাচারী বিধবা। তার বিচার রঙ্গময়ী কি করতে পারে? তাই কথাটা তার কানে লাগল। কিন্তু পিসির পক্ষ হয়ে তো কিছু বলারও নেই। তাই চুপ করে নখ দিয়ে টেবিলক্লথের এমব্রয়ডারির একটা ফোঁড় খুঁটতে লাগল সে।

    নলিনী উঠে চঞ্চল পায়ে পায়চারী করতে করতে বলল, তোমার পিসি এর আগে আমার কাছে বিয়ের প্রস্তাবও এনেছেন। আমি তাঁকে অনেক বুঝিয়ে বলেছি, বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি কখনো নারীচিন্তা করি না, সংসারধর্ম পালনের বিন্দুমাত্র আগ্রহ আমার নেই। তোমার পিসি সেটা শুনেছেন, কিন্তু বিশ্বাস করেননি।

    এ কথা শুনে রঙ্গময়ীর মরে যেতে ইচ্ছে করছিল লজ্জায়। পিসি তার অজান্তে এত কাণ্ড করেছে, সে জানত না। টেবিলের দিকে আরো ঝুঁকে পড়ল সে।

    নলিনী বলল, তিনি ভাবলেন আমি বোধহয় গরীবের মেয়ে বলেই তোমাকে বিয়ে করতে রাজি নই। আশ্চর্য! গরীবিয়ানা তো একটা অবস্থার ভেদ মাত্র। নিত্য পরিবর্তনশীল সমাজে ধনী ও দরিদ্র কারো স্থায়ী পরিচয় তো নয়। তা ছাড়াও একটা কথা আছে রঙ্গময়ী।

    রঙ্গময়ী এক পলক তাকাল নলিনীর দিকে। তারপর আবার মুখ নামিয়ে নিল।

    নলিনী ধীর স্বরে বলল, তোমাকে বা আর কোনো মেয়েকে আমার কোনোদিনই বিয়ে করার সম্ভাবনা নেই। আমি ভিন্নতর এক কাজে ব্যস্ত। কিন্তু তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।

    রঙ্গময়ীর বুক কাঁপছিল। ভয় সব সময়ই অজানাকে ঘিরে। সে তো জানে না নলিনী কী জিজ্ঞেস করবে। সে শক্ত হয়ে রইল।

    নলিনী জিজ্ঞেস করল, তুমি কি কারো প্রতি আসক্ত রঙ্গময়ী?

    রঙ্গময়ী আকাশ থেকে পড়ল। আসক্ত? কই না তো! কিন্তু তবু তার মুখ রাঙা হয়ে উঠল লজ্জায়। কণ্ঠ রোধ হল। এ কী কথা! এ কেমন কথা!

    নলিনী তার মুখের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে ছিল।

    রঙ্গময়ী মাথা নেড়ে জানাল, না।

    নলিনী মৃদু স্বরে বলল, তুমি হয়তো জানো না। বয়স কম বলে হয়তো আসক্তিটা ঠিক বুঝতেও পারছ না। এমন কি হতে পারে?

    আপনি এসব কী বলছেন? রঙ্গময়ী আর্তনাদ করে ওঠে।

    তোমাকে যন্ত্রণা দেওয়ার জন্য বলছি না। আমি বলছি, কোনো মেয়ে যদি কোনো পুরুষের প্রতি আসক্ত হয় এবং বর্ণে, ধর্মে, শিক্ষায় দীক্ষায় যদি মিল থাকে তবে তাকেই তার বিয়ে করা উচিত। যদি বিবাহ সম্ভব নাও হয় তবে অন্য কোনো পুরুষকেও তার গ্রহণ করা উচিত নয়।

    রঙ্গময়ী স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। মাথা তুলতে পারল না। বুকের মধ্যে একটা ঝোড়ো বাতাসের দোলা। সেই বয়ঃসন্ধির সময়ে তার কোনো বোধবুদ্ধিই পরিণত ছিল না। মনে একটা আলো-আঁধারির আবহাওয়ায় কত চিন্তার ছবি ভেসে যেত। সত্য বটে, সেই বয়সে যখন তার বিয়ের কথা চলছে তখন সে মাঝে মাঝে তার সম্ভাব্য স্বামীর রূপ কল্পনা করেছে। কিন্তু সেই রূপ, সেই চেহারা—ছিঃ ছিঃ। রঙ্গময়ী দুহাতে মুখ ঢেকে ফেলল অপ্রতিরোধ্য লজ্জায়। কিন্তু সেই গভীর গোপন কথা তো আর কারো জানা সম্ভব নয়।

    নলিনী মৃদু স্বরে বলল, তোমাকে কিছু বলতে হবে না রঙ্গময়ী। কেউ কিছু জানবে না। আমি তোমাকে খুবই স্নেহ করি। মাঝে মাঝে আমার মনে ইচ্ছে হয় তোমাকে একজন আদর্শ নারী হিসেবে প্রস্তুত করে দিই। কিন্তু সেটা হয়তো আর সম্ভব নয়। এখন থেকে তোমার সংস্রবও আমাকে এড়িয়ে চলতে হবে। তবে একটা কথা বলি, বয়সকালে তোমার প্রখর ব্যক্তিত্বের স্ফূরণ ঘটবে। সেই তেজ তোমার মধ্যে আছে। কিন্তু যার প্রতি তোমার এক রহস্যময় আকর্ষণ জন্মেছে সেই পুরুষটি ব্যক্তিত্বহীন। যদি সম্ভব হয় তবে তাকে পাহারা দিয়ে রেখো।

    নলিনী সেই পুরুষটির কথা আর ভেঙে বলেনি। তবে রঙ্গময়ী অনেকক্ষণ বাদে চোখের ঢাকনা খুলে যখন টেবিলক্লথের নকশার দিকে অবোধ চোখে চেয়ে ছিল তখন তার মনে হয়েছিল, নলিনী বোধহয় অন্তর্যামী।

    নলিনী তার চেয়ারে ফিরে গিয়ে বসল, অনেক শান্ত সে। স্থির। বলল, কনকপ্রভাকে বোলো আমাকে বাঁধা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। নারীমাত্রই আমার কাছে মা।

    এ কথায় চমকে উঠেছিল রঙ্গময়ী। নলিনী যুবাপুরুষ। বংশের ধারা অনুযায়ী তার চেহারাও সুন্দর ও সুঠাম। সুপুরুষ এক যুবা পৃথিবীর সব নারীকেই মা ভাবে, এ কেমন অলুক্ষণে কথা? নলিনীর সবকিছুই একটু অন্যরকম বটে, কিন্তু এতটাই যে অন্যরকম তা রঙ্গময়ীর জানা ছিল না। কথাটা শুনে রঙ্গময়ী হঠাৎ নলিনীর মুখের দিকে চাইতে আর সংকোচ বোধ করল না।

    নলিনী মৃদু একটু হাসি মাখানো মুখে বলল, তুমিও আমার মা।

    অস্ফুট একটা শব্দ করল রঙ্গময়ী। তবে বোবা শব্দ, ভাষা ছিল না তাতে। একটা ঘোর ঘোর আচ্ছন্নভাবের ভিতর থেকে নলিনী বলল, মাতৃভাব হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত না হলে স্ত্রীলোককে ছুঁতে নেই। যত দূরে থাকা যায় ততই ভাল, এমন কি মুখদর্শন না করা আরও ভাল। কিন্তু এইভাবে ভাবিত হওয়া খুব সহজ নয়। বুকের জোর চাই। ফল পাকলেই যেমন পাখিতে ঠোকরাতে শুরু করে আমার এখন তেমন অবস্থা। কেন এত জ্বালায় বলো তো সবাই! আমাকে তিষ্ঠোতে দিচ্ছে না।

    রঙ্গময়ী তার রুদ্ধ কণ্ঠে অতি কষ্টে বলল, কারা জ্বালায় আপনাকে?

    নলিনী ঘোর ঘোর আচ্ছন্ন ভাব থেকে জেগে উঠে মৃদু হেসে বলল, যে সুযোগ পায় সে-ই। এই তো দেখ না, তোমার পিসি কী কাণ্ডটাই করে গেছে। কনকপ্রভার মাথার ঠিক নেই। কত কাণ্ডই যে সে করে।

    রঙ্গময়ী উদগ্রীব হয়ে বলল, কী কাণ্ড?

    নলিনী একথার জবাব দিল না, শুধু মৃদু মৃদু রহস্যময় হাসতে লাগল। অনেক পরে বলল, বালবিধবার বড় কষ্ট।

    রঙ্গময়ী বোকা নয়। নলিনীর কথার মধ্যে যে গভীরতার ইঙ্গিত ছিল তা বুঝল সে। কিন্তু আর প্রশ্ন করল না। তবে নিজের পিসি সম্পর্কে যে কৌতূহলহীন নির্বিকারত্ব ছিল সেটা কেটে গেল। কনকপ্রভাকে সুন্দরী বলা চলে না। তবে পূর্ণ যুবতী এই মহিলার মধ্যে যৌবনোচিত আকর্ষণ কিছু কম ছিল না। সে থান পরে, নিরামিষ সামান্য কিছু ব্যঞ্জন দিয়ে অবেলায় পাথরের থালায় দিনে একবার মাত্র ভাত খায়, আচার বিচার মেনে চলে। সে রূপটান মাখে না, সাজে না। কিন্তু তবু তার দুকূল ছাপানো যৌবনও তো ক্রিয়াশীল। তার খাজনা মেটাতে পিসি কোনো পন্থা নিয়েছে কি? রঙ্গময়ী উদগ্রীব হল জানতে। তবে সরাসরি প্রশ্ন করল না। মৃদু স্বরে বলল, পিসি আজ খুব খারাপ কাজ করেছে।

    নলিনী হেসে হেসেই বলল, হ্যাঁ, খুব খারাপ। যদি আমি ইচ্ছে করি তবে এর জন্য তোমাদের হয়তো এই বাড়ি থেকে তাড়িয়েও দিতে পারি। অন্তত কনকপ্রভাকে তো বটেই।

    রঙ্গময়ী এই দিকটা ভেবে দেখেনি। নলিনী পরোপকার করে বেড়ায়, দেশের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কখনো জমিদারের মতো ব্যবহার করে না কারো সঙ্গে। এ সবই ঠিক। কিন্তু তবু সে তো এই বংশেরই ছেলে। ইচ্ছে করলে সামান্য পুরোহিতকে উচ্ছেদ করা তার পক্ষে অতি তুচ্ছ ব্যাপার। রঙ্গময়ী তাই ভয়ে একটু জড়োসড়ো হয়ে গেল। মৃদু স্বরে বলল, আমাদের তো কোনো দোষ নেই। পিসি…

    নলিনী মাথা নেড়ে বলল, আমাকে কিছু বলতে হবে না রঙ্গময়ী। আমি তোমাদের তাড়াবো না। কনকপ্রভাও যেমন আছে থাকুক। তবে আমাকেই হয়তো দূরে সরে যেতে হবে।

    রঙ্গময়ী ব্যাকুল হয়ে বলল, আপনি যাবেন কেন? আপনি যাবেন না। এরকম আর হবে না। আমি পিসিকে বলব।

    বলে লাভ নেই। বললাম না, তোমার পিসির মাথার ঠিক নেই। হুট করে আবার হয়তো আর একটা বিপজ্জনক কাণ্ড করে বসবে।

    হঠাৎ অত্যন্ত দুঃসাহসভরে বুদ্ধিমতী রঙ্গময়ী প্রশ্ন করল, আপনি তো সবাইকেই মা বলে ভাবেন, পিসিকে ভাবতে পারেন না?

    কেন এই কথাটা সে বলল তা রঙ্গময়ী আজও সঠিক জানে না। মানুষের মন বড়ই রহস্যময়। কোন গন্ধে গন্ধে তার অনুভূতিশীল মনের মধ্যে এইরকম একটা সন্দেহের বীজ অংকুরিত হয়ে উঠেছিল হঠাৎ।

    নলিনী গম্ভীর হয়ে উঠতে পারত, রেগেও যেতে পারত। কিন্তু হল ঠিক উল্টো। সামান্য শব্দ করে হেসে ফেলল সে, চোখে হঠাৎ একটু বিস্ময়বোধও ফুটে উঠল তার। সে বলল, তুমি বড় পাজি মেয়ে। বুদ্ধিও রাখো।

    রঙ্গময়ী বায়না ধরার গলায় বলল, না। আগে বলুন, আপনি যাবেন না!

    নলিনী বলল, শুধু এই কারণই তো নয়। আমাকে যে অন্য কাজের জন্যও দূরে চলে যেতে হতে পারে।

    রঙ্গময়ী কথাটা বিশ্বাস করল না। বলল, না, আপনি আমাদের জন্যই চলে যেতে চাইছেন। আমি পিসির কথা বাবাকে বলে দেবো। বাবা বকে দেবে।

    নলিনী বলল, অত কিছু করতে হবে না।

    তাহলে বলুন, আপনি যাবেন না।

    আগে তুমি একটা কথার জবাব দাও। তোমার পিসিকে আমি মা বলে ভাবতে পারি না একথা তোমার মনে হল কেন?

    রঙ্গময়ী লজ্জায় অধোবদন হয়ে বলল, আমি সেভাবে বলিনি।

    তাহলে কীভাবে বলেছো?

    আমি কিছু ভেবে বলিনি। হঠাৎ কথাটা মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

    নলিনীর উজ্জ্বল চোখে কৌতুক খেলা করছে। সে লঘু গলায় বলল, না কি আমার কথাটা তোমার বিশ্বাস হয়নি! আমি পৃথিবীর সব মেয়েকেই মা বলে ভাবতে পারি এটা অবশ্য অনেকেরই কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

    রঙ্গময়ী তখন শীতের মধ্যেও ঘামতে শুরু করেছে।

    নলিনী অবশ্য আর ঘাঁটাল না। একটা হাই তুলে বলল, কনকপ্রভাও তাই ভাবে। মেয়েদের প্রতি মাতৃভাবটা একটা ভড়ং মাত্র। কনকপ্রভা মা ডাক শুনতে ভালবাসে না।

    রঙ্গময়ী চুপ।

    নলিনী বলল, এবার ঘরে গিয়ে শুয়ে থাকো গে যাও।

    রঙ্গময়ী বলল, যাবো? দরজা যে বন্ধ।

    নলিনী মৃদু হেসে বলল, বন্ধ ছিল। এখন আর নেই। তোমার পিসি বোধহয় দরজায় শিকল তুলে এতক্ষণ কান পেতে আমাদের কথা শুনছিল। তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি দেখে এইমাত্র শিকল খুলে চলে গেছে। তুমি শব্দ পাওনি, কিন্তু আমি পেয়েছি। খালি পায়ে সে যে বারান্দা পেরিয়ে চলে গেল তাও টের পেয়েছি।

    রঙ্গময়ী উঠে দাঁড়াল। দরজার কাছে গিয়ে পাল্লা টানতেই সেটা খুলে এল। রঙ্গময়ী একটু দ্বিধাজড়িতভাবে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বলল, যাই?

    যাও।

    আর আসবো না কখনো?

    আসবে না কেন? তবে রাতবিরেতে নয়।

    রঙ্গময়ী ধীর পায়ে বেরিয়ে আস্তে আস্তে চলে এল ঘরে। পিসির সঙ্গেই এক বিছানায় সে শোয়। বিছানায় পিসি ওপাশ ফিরে শুয়ে ছিল। রঙ্গময়ী লেপ দিয়ে মুখ ঢেকে চুপ করে জেগে পড়ে রইল বিছানায়। ঘুম আসার কথা নয় সহজে। শুয়ে শুয়ে টের পেল, পিসি কাঁদছে। ফুলে ফুলে।

    রঙ্গময়ী কোনো প্রশ্ন করল না। তার চোখও তখন ভেসে যাচ্ছে জলে।

    আজ ঘোড়ার গাড়িতে হেমকান্তর মুখোমুখি বসে রঙ্গময়ীর সেই রাতের কথা মনে পড়ে। শুধু আজ নয়, এতদিন ধরে প্রায় রোজই কখনো না কখনো সেই অদ্ভুত রাত্রিটির স্মৃতি এসে হানা দিয়েছে।

    নির্জন সন্ধ্যা। ব্রহ্মপুত্রের ওপর প্রগাঢ় কুয়াশা জমে আছে। নদীর ধার দিয়ে ইঁট-বাঁধানো এবড়ো-খেবড়ো রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ি চলেছে। কুয়াশায় মাঝে মাঝে রাস্তার পাশে বড় বড় গাছের ভূতুড়ে চেহারা দেখা দিয়েই মিলিয়ে যায়। জোনাকি পোকার ফুলঝুরির মতো থোকা থোকা আলো ছাড়া নদীর দিকটায় আর কোনো আলো নেই। কুয়াশা না থাকলে নদীর ওধারে শম্ভুগঞ্জের পতিত জলা জমিতে দপদপিয়ে উঠতে দেখা যেত আলেয়ার অদ্ভুত আলো। জলে পাট ও মুলি বাঁশ পচছে। তার কটু গন্ধে বাতাস মন্থর। এই ব্রহ্মপুত্রেরই কোনো বাঁকে নলিনীর প্রাণহীন দেহ পাওয়া গিয়েছিল। সেও কবেকার কথা। তবু মনে পড়ে।

    রঙ্গময়ী তার পাশের জানালাটা তুলে দিল। উত্তুরে ভয়ংকর বাতাস আসছে। হেমকান্ত জানালা তুলবেন না। বন্ধ কপাট, বন্ধ জানালা হেমকান্তর সহ্য হয় না। অস্থির বোধ করেন তিনি। আজ অস্থিরতা কিছু বেশী। যদিও তাঁর দেহখানি নিস্পন্দ এবং স্থির, চোখ বাইরের কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকার নিসর্গে মগ্ন, তবু তাঁর অস্থিরতা টের পায় রঙ্গময়ী। বড় বেশী স্বাবলম্বী এবং ততটাই অসহায় এই একটি মানুষ।

    কালীবাড়ির গায়ে কতগুলো দোকানের আলো ঝলমলিয়ে মিলিয়ে গেল। গাড়ি বাঁক ফিরছে। নদী চলে গেল চোখের আড়ালে।

    হেমকান্ত মুখ ফেরালেন। বললেন, না এলেই ভাল হত।

    রঙ্গময়ী মাথা নেড়ে বলে, ভাল হত না। তুমি শক্ত হও।

    হেমকান্ত শক্ত হলেন কিনা বলা শক্ত। তবে চুপ করে বসে রইলেন। নর্দমার গন্ধের সঙ্গে ঘোড়ার গায়ের গন্ধ মিশে বাতাসটা কিছু ঘোলা। ওডিকোলোনে ভেজানো রুমালটা পকেট থেকে বের করে নাকে চেপে ধরলেন হেমকান্ত।

    অন্ধকারে হেমকান্তকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। তবু রঙ্গময়ী মাঝে মাঝে অস্পষ্ট হেমকান্তর মুখের দিকে চাইছে। বড় দুর্বল এই মানুষটি। আবার খুবই আত্মনির্ভরশীল। রঙ্গময়ী আর কোনো পুরুষমানুষ দেখেনি হেমকান্তর মতো, যার চরিত্রে এমন বিপরীত সব গুণাবলী আছে।

    সে বলল, আমরা এসে গেছি। শোনো, আমি গাড়িতেই চুপ করে বসে থাকব। তুমি গিয়ে কোকাবাবুকে দেখে এসো।

    একা?

    একা কেন? ও বাড়িতে এখন গিজগিজ করছে লোক।

    তুমি তো যাবে না।

    আমি সঙ্গে না গেলেই কি তুমি একা?

    তা বটে।

    রঙ্গময়ী মৃদু শব্দে হেসে ফেলে। বলে, লোকে হয়তো কিছু বলবে। আমার না যাওয়াই ভাল।

    সহিস নেমে এসে দরজাটা খুলে ধরে আছে। হেমকান্ত ধীরে ধীরে নামলেন।

    কোকাবাবুদের বাড়িটা প্রকাণ্ড। সামনে মস্ত ফটক, নহবৎখানা। ভিতরে বাগান। তারপর পুরোনো আমলের দুই মহলা বাড়ি। ফটক আজ হাঁ হাঁ করছে খোলা। ভিতরে অনেক গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ভিতরে গাড়ি ঢোকাতে আগে থেকে সহিসকে বারণ করে রেখেছিলেন হেমকান্ত। কিন্তু এখন গাড়ি থেকে নেমে তাঁর দ্বিধা এবং জড়তা দেখা দিল।

    গাড়ির জানালা দিয়ে নির্নিমেষ চোখে দৃশ্যটা দেখতে থাকে রঙ্গময়ী। ফটক দিয়ে হেমকান্ত ভিতরে ঢুকছে। এক হাতে কোঁচাটি ধরা। ঢুকবার আগে বার দুই ফিরে তাকালেন। হাতে ছড়িটা অনির্দিষ্টভাবে কয়েকবার আস্ফালন করলেন। গলা খাঁকারি দিলেন। যদিও কারুকাজ করা শালে দিব্যকান্তি হেমকান্তকে খুবই অভিজাত দেখাচ্ছে, তবু তাঁর ভাবভঙ্গিতে আজ সহজ স্বাভাবিক ভাবটি নেই। বড় বড় গাছপালায় ভরা বাগানটার মধ্যে মিলিয়ে গেলেন হেমকান্ত।

    রঙ্গময়ী তবু যাত্রাপথের দিকে চেয়ে রইল। চোখে কোনো দৃষ্টি নেই। চোখ স্মৃতিভারাক্রান্ত। বহুদিন আগেকার একটা দৃশ্য দেখছে।—

    সুনয়নী বাপের বাড়ি যাবে বলে ঘাটে বজরা তৈরি। সাজ শেষ করে সুনয়নী এসেছে বিগ্রহ প্রণাম করতে। অনেকক্ষণ উপুড় হয়ে বিড়-বিড় করে কী যেন বলল। তারপর উঠে চরণামৃতের জন্য অভ্যাসবশে হাত বাড়াল। তামার পাত্রটি হাতে দাঁড়িয়ে ছিল রঙ্গময়ী। দিতে গিয়ে কী কারণে কে জানে এক ঝলক পড়ে গেল মেঝেয়।

    সুনয়নী উপুড় হয়ে আঁচলে মেঝেটা মুছে নিয়ে বলল, হাত কেঁপে গেল ঠাকুরঝি?

    রঙ্গময়ী তটস্থ হয়ে পড়ল। সে জানে তার হাত কাঁপেনি। যদি কেঁপে থাকে তবে তা সুনয়নীরই হাত। কিন্তু সে কিছু বলল না।

    সুনয়নী উঠে দাঁড়িয়ে রঙ্গময়ীর চোখে চোখে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রইল একটুক্ষণ। বলতে নেই, সুনয়নী ডাকের সুন্দরী। চোখ দুখানা বড় বড়। অনেকক্ষণ সেই দুখানা বড় বড় চোখে চেয়ে নিঃশেষ করে দেখল সে রঙ্গময়ীকে। তরপর একটা শ্বাস ফেলে বলল, তোমার সঙ্গে পারলাম না।

    কী পারলে না?

    তোমার সঙ্গে কি পারা যায়? রঙ্গময়ী কত রঙ্গই জানে।

    রঙ্গময়ী হতবাক্‌, বিব্রত, কুণ্ঠিত। বলল, কী বলছো তুমি?

    বেরোবার সময় কর্তাকে বললাম, ওগো যাচ্ছি, ভালমতো থেকো। উনি কী বললেন জানো? বললেন, ও নিয়ে ভেবো না। রঙ্গময়ী তো আছে।

    রঙ্গময়ী অপ্রতিভ হয়ে একটু হাসল, এই কথা!

    এই কথাটুকু বড় কম নয়। অন্য বউ হলে এই ব্যাঙের গর্ত থেকেই চ্যাং মাছ বের করত। যাই, দুজনে রইলে কিন্তু।

    এই রহস্যময় ইঙ্গিত সেই প্রথম নয়। আগেও শুনেছে রঙ্গময়ী। বহুবার, নানা প্রসঙ্গে। গায়ে মাখেনি।

    সেদিন মাখল। বড় লজ্জা হল, ঘেন্না এল নিজের ওপর।

    সেইদিনই বিকেলবেলা হেমকান্ত একা বসে ছিলেন তাঁর কুঞ্জবনে ভাঙা গাড়িটার পাদানিতে। রঙ্গময়ী হানা দিল সেখানে।

    শোনো, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।

    বলো রঙ্গময়ী, বলো। হৃদয়ের অবারিত দ্বার খুলে দাও।

    তখন হেমকান্ত ওরকমই ছিলেন। কখনো কখনো তরল আবেগ বেরিয়ে আসত, চটুল ইয়ার্কিও করতেন মাঝে মাঝে।

    রঙ্গময়ী ভ্রূ কুঁচকে বলল, হঠাৎ এত খুশি-খুশি ভাব কেন? বউ বাপের বাড়ি গেছে, এখন তো তোমার বিরহদশা চলার কথা।

    হেমকান্ত মৃদু হেসে বললেন, তা বটে। তবে কি জানো, মাঝে মাঝে একটু বিরহ ভাল। বউ সবসময়ে কাছে থাকলে কেমন একঘেয়ে লাগে।

    তা তো বুঝলাম। কিন্তু আমার জীবনটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করছো কেন তুমি?

    আমি! হেমকান্ত বিস্মিত, ব্যথিত।

    তুমি নও তো আর কে? বউঠান আজ বাপের বাড়ি যাওয়ার সময় সেইসব ইশারা ইঙ্গিত করে গেল।

    কোন সব?

    তোমাকে আমাকে নিয়ে মাঝে মাঝে যা রটে।

    সুনয়নী তো সেরকম নোংরা মনের মেয়ে নয়।

    আহা গো। তোমার বউকে নোংরা মনের মেয়ে বলেছি নাকি? সে কেমন তা আমি ভালই জানি। সেভাবে সে বলেওনি। একটু রসিকতা করেছে। কিন্তু কথাটা আমার আজ লাগল খুব।

    হেমকান্ত বিব্রত মুখ করে বলে, কিন্তু আমি তার কী করব বলো তো? সুনয়নী এলে বরং—

    কী বুদ্ধি! বউয়ের কাছে বলবে যে রঙ্গময়ী তার নামে নালিশ করেছে? বললে আমার সুখ খুব বাড়বে বুঝি?

    তাহলে কী করব?

    আমাকে দূর করে দাও। সেটাই ভাল হবে।

    তোমাকে দূর করার আমি কে? দূর করবোই বা কেন?

    লোকে মিথ্যে রটাবে আর আমি তাই মুখ বুজে সয়ে যাবো চিরকাল? আমার নামে কেন এত মিথ্যে রটনা হবে বলো তো!

    হেমকান্তর মুখ শুকিয়ে গেল ভয়ে। তিনি আমতা আমতা করে বললেন, রাগ কোরো না রঙ্গময়ী। লোকের কথা ধরতে নেই।

    রঙ্গময়ীর সেদিন বড় জ্বালা করছিল বুক। নলিনীর ঘরে পিসি কনকপ্রভা সেই যে ঠেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিল এক রাত্রে তার জের সহজে থামেনি। কিছু কান ও চোখ জেগে ছিল ঠিকই। নলিনী যে তাকে মা বলে ডেকেছিল তা কে বিশ্বাস করবে? কেবল যুবকের ঘরে নিশুতিরাতে এক কিশোরীর অভিসারটাই ধরে নিয়েছিল লোকে। পাঁচকান হয়ে সে কথা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে গেল। বিনোদচন্দ্র বহু চেষ্টা করেও মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ জোগাড় করতে পারলেন না আর। টাকার জোর থাকলে কলঙ্কের ওপর চুনকাম করা যেত। দুর্ভাগ্যবশে বিনোদচন্দ্রের তাও নেই। নলিনীর মৃত্যুর পর রঙ্গময়ীকে আজকাল জড়ানো হয় হেমকান্তর সঙ্গে।

    রঙ্গময়ী বলল, লোকের কথা না ধরলে তোমাদের চলে, আমি গরীবের মেয়ে, আমার চলে না। আমি কাল থেকে আর তোমাদের ঘরদোরে যাবো না।

    যাবে না?

    না। যতদিন বউঠান নেই ততদিন না।

    লোকে কী বলে রঙ্গময়ী? তোমার আর আমার মধ্যে ভালোবাসা আছে?

    তাই বলে, লোকে তো জানে না যে, কথাটা কত বড় মিথ্যে!

    ব্যথিত ও বিমর্ষ হেমকান্ত উঠে দাঁড়ালেন। শরবিদ্ধ হরিণের মতো কাতর একটা শব্দ করে বললেন, আমার বুকের বাঁ দিকটা বড় ব্যথা করছে রঙ্গময়ী। আমাকে একটু ধরে নিয়ে ঘরে পৌঁছে দাও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছোটদের ২৫টি মজার গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }