Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দূরবীন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬৭. আজ শচীনের চেহারার মধ্যে

    ॥ ৬৭ ॥

    আজ শচীনের চেহারার মধ্যে একটা দুর্যোগের পূর্বাভাস ছিল। ফর্সা মুখ লাল টকটক করছে কোনো অভ্যন্তরীণ উত্তেজনায়। চুল অবিন্যস্ত। চোখের দৃষ্টিতে নীরব হুংকার। কৃষ্ণকান্ত আর বিশাখা পরস্পর মুখ তাকাতাকি করে বসে রইল। শচীন সাইকেলটা স্ট্যাণ্ডে তুলল একটা হিংস্র ঝটকায়। তারপর অতি দ্রুত পায়ে ভিতরবাড়ির দিকে চলে গেল।

    কৃষ্ণকান্ত দিদির দিকে তাকিয়ে ভ্রূ কুঁচকে বলল, কোথায় গেল বল তো!

    বিশাখা খুব স্তিমিত গলায় বলে, বোধহয় বউদির খোঁজ করতে।

    কৃষ্ণকান্ত খুবই বুদ্ধিমান। সে যতই ব্রহ্মচর্য করুক আর স্বেচ্ছা নির্বাসনে বাস করুক, ঘটনার আঁচ সে ঠিকই পায়। তাই, প্রসঙ্গটা ঘুরিয়ে বলল, তুই বরং যা ছোড়দি। গিয়ে শচীনদাকে জিজ্ঞেস কর কাকে খুঁজছে।

    দাসী-চাকররাই বলবে। আমার যাওয়ার কী?

    বিশাখা বিবশ হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইল। শচীন এই এস্টেটের উকিল হলেও বাইরের লোক। এ বাড়ির অন্দরমহলে হুটহাট ঢুকে যাওয়ার অধিকার তার নেই। তার ওপর শচীন কেন অসময়ে এসে হাজির হয়েছে তাও জানে বিশাখা। সব মিলিয়ে তার ভিতরেও একটা রাগের ঝাঁঝ উঠছিল। কিন্তু বেশী কিছু করার সাধ্য তার নেই। বাবা যদি একটু কঠিন ধাতের মানুষ হত তবে শচীনের এত বাড় হতে পারত না।

    কৃষ্ণকান্ত এবার একটু চাপা গলায় বলে, শচীনদা একটু রেগে আছে মনে হচ্ছে।

    কেন রেগে আছে তা বিশাখা অনুমান করতে পারে। ভিতরকার ঘটনা সে সবটা জানে না ঠিকই, কিন্তু বউদির এই যে হঠাৎ বরিশাল যাওয়া এটা যে এমনি নয়, ভিতরে যে আরো একটু কিছু আছে তা বুঝতে তার অসুবিধে হয় না। শচীনকে ফাঁকি দিয়েই গেছে বউদি। মুখের গ্রাস সরে যাওয়ার খবর পেয়ে এখন জখমী বাঘের মতো এসেছে শচীন। কি কেলেঙ্কারী হয় কে জানে! কৃষ্ণকান্তর কথার জবাবে শুধু বলে, হ্যাঁ, খুব তেজ হয়েছে। দারোয়ান দিয়ে গলাধাক্কা দেওয়ালে ঠিক হত।

    কৃষ্ণকান্ত বলে, যাঃ, কী যে বলিস!

    ঠিকই বলি। বাবা ওরকম মেনীমুখো বলেই এসব কেলেংকারী হচ্ছে। অন্য কোনো জমিদারবাড়ি হলে ওকে ঘাড়ধাক্কা তো দিতই, বাড়ির বউকেও চুলে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখত।

    কৃষ্ণকান্ত কোনো কথা বলল না। কৃষ্ণকান্ত যে চুপ করে রইল তার কারণ একটাই। ভিতরে ভিতরে সে নিজের বয়সকে ছাড়িয়ে একটু বেশী পরিণত হয়ে উঠেছে। সে তার ছোড়দির মতো সহজে উত্তেজিত হয় না। প্রতিক্রিয়ার বদলে তার ভিতরে শুরু হয় বিচার বিশ্লেষণ এবং সমাধানের চেষ্টা। বউদির সঙ্গে যে শচীনদার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তা শোনা আছে তার। অনেক ভেবে সে এই সমস্যার কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি। এ কথাও ঠিক যে, তার বাবা নিরীহ, বড়দা কনককান্তি ব্যক্তিত্বহীন এবং সে নিজে ছেলেমানুষ। সেই কারণেই এই প্রায় অভিভাবকহীন পরিবারের কোনো রক্ষাকবচ নেই।

    কৃষ্ণকান্ত ছোড়দির দিকে একদৃষ্টে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে বলল, তুই তো খুব ঝগড়ুটে। এখন গিয়ে ঝগড়া করতে পারিস না?

    ঝগড়া! বিশাখা অবাক হয়ে বলে, কার সঙ্গে?

    কেন, শচীনদার সঙ্গে!

    ঝগড়া করব কেন?

    তুই তো ঝগড়ার কথাই বলছিস এতক্ষণ। এখন যা না গিয়ে ঝগড়া করে আয়।

    আমার বয়ে গেছে। যে যার কর্মফল ঠিক ভুগবে। ভগবান তো আছেন। এই বলে বিশাখা উঠে গেল।

    শচীনের মুখোমুখি হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না বিশাখার। তবু একবার শচীনের রাগে গনগনে মুখটা দেখতে ইচ্ছে করছিল। বুকের জ্বালা খানিকটা জুড়োয় তাহলে।

    দোতলায় উঠবার সিঁড়ির গোড়ায় যখন বিশাখা প্রথম ধাপটায় পা তুলেছে তখন শচীন নেমে এল ঝড়ের বেগে। সামনে বিশাখাকে দেখেই একটু থমকে গেল।

    বিশাখা দেখল, শচীনকে একদম অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে। যেন বা উন্মাদেরই দৃষ্টি তার চোখে।

    শচীন তাকে ধমকের স্বরে জিজ্ঞেস করে, চপলা কোথায়?

    বিশাখার আপাদমস্তক এই প্রশ্নে জ্বলে যায়। এই পুরুষটির প্রতি তার কিছু দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল বটে, কিন্তু তার আর কিছুই এখন অবশিষ্ট নেই। উপরন্তু লোকটার বেহায়া নির্লজ্জপনা দেখে তার ভিতরটা আরো গরম হয়ে গেল।

    বিশাখা পাল্টা প্রশ্ন করে, আপনি কার হুকুমে ওপরে গিয়েছিলেন?

    তার মানে? হুকুমটা আবার কার কাছ থেকে নিতে হবে? তোমার কাছ থেকে নাকি? বাইরের লোক হয়ে আপনি যখন-তখন ভিতরবাড়িতে ঢুকবেন কেন?

    আমার দরকার ছিল।

    কী দরকার তা আমার জানার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আপনি পুরুষমানুষ, একটু লজ্জাবোধ থাকলে কখনোই আপনি মেয়েদের অন্দরমহলে ঢুকতেন না।

    ছোটো মুখে বড় কথা মানায় না বিশাখা। যাক, এ তর্ক হেমকান্তবাবু ফিরলেই হবে। আমি জানতে চাই চপলা বরিশাল গেল কেন। তুমি বলতে পারো?

    আমার বউদিকে নাম ধরে ডাকার সাহস কবে থেকে হল?

    যবে থেকেই হোক, জবাবটা তোমার জানা আছে?

    জানলেও বলব কেন? আপনি কে?

    কথা কাটাকাটি বেশ উচ্চগ্রামে উঠে যাওয়ায় সিঁড়ির মুখে দাসদাসীদের উঁকিঝুঁকি শুরু হয়ে গেল। বিশাখা যথেষ্ট তপ্ত বোধ করছে ভিতরে ভিতরে।

    শচীন বরং কিছু অপ্রস্তুত। এ বাড়ির মেরুদণ্ডহীন কর্তার আমলে সেই প্রকৃতপক্ষে এস্টেটের কর্ণধার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার দৌলতেই জমিদারীর ডুবুডুবু নৌকো এখনো কোনোক্রমে টিকে আছে। এ বাড়ির কেউ তার মুখের ওপর কথা বলবে এটা ভাবাই যায় না। কিন্তু বলছে। এবং খুব অন্যায্য কথাও বলছে না। কিন্তু শচীনের ন্যায্য অন্যায্য বিচারবোধ ক্রিয়াশীল নয়। তার মাথায় এখন ঝড়। চপলা ছাড়া তার পৃথিবী অন্ধকার। বিশাখার মুখে এরকম ন্যায্য কথাবার্তা শুনে সে দিশা হারিয়ে ফেলে বলে, আমি কে তা জানো না? আমি নইলে তোমাদের ভিটেয় ঘুঘু চরত তা জানো?

    জানি। আপনি উকিল। বাবা আপনাকে এস্টেটের কাজ দেখার জন্য মাইনে দিয়ে রেখেছেন। সোজা কথায় আপনি আমাদের কর্মচারী। আপনার কী অধিকার বাড়ির বউ কোথায় গেছে তা আমার কাছে জানতে চাওয়ার?

    শচীন এটা সহ্য করতে পারল না। একদম বেহেড হয়ে গিয়ে সে বলল, সরিয়েছো! তোমরাই চপলাকে সরিয়েছো! কিন্তু পারবে বাঁচাতে? চপলা আমার। আমি যেমন করে পারি তাকে দখল করবই। দেখি তোমরা কী করতে পারো।

    যে রাগ ও হতাশা বহুকাল ধরে বিশাখার ভিতরে মাথা কুটে কুটে একটা বেরোবার পথ খুঁজছিল আজ সে পথ পেয়ে গেছে। বিশাখা ফুঁসে উঠে বলল, খুব আসকারা পেয়ে গেছেন তাই না? কিন্তু এর ফল আপনাকে ভোগ করতে হবে। হেমকান্ত চৌধুরীকে আপনি যত নিরীহ ভাবেন তত নিরীহ যে তিনি নন সেটা আমিই বুঝিয়ে দেবো আপনাকে। বাবা বরিশাল থেকে ফিরুন, তারপর বুঝবেন।

    কী বুঝবো? কী করবে তোমরা আমার?

    লেঠেল দিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে দেবো। ভিটে-ছাড়া করব। আর কখনো এ বাড়িতে ঢুকবেন না। যান!

    এর জবাবে উকিল শচীনের মুখে কোনো কথা এল না। কিন্তু তার ডান হাতটা নিজের অজান্তেই ওপরে উঠে গেল…

    তারপর সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত আচমকা একটা চড় এসে ফেটে পড়ল বিশাখার বাঁ গালে।

    অবিশ্বাস, দুর্বোধ্যতা এবং মানসিক বিকলতার দরুন চড়টাকে আসতে দেখেও বিশাখা নড়েনি। চড়টা বাঁ গালে পড়তেই সে চোখে অন্ধকার দেখল। দুলে উঠল শরীর। বিশাখা উবু হয়ে বসে পড়ল মেঝের ওপর।

    মাগো!

    যে কোনো কাপুরুষের পক্ষে এ সময়ে পালিয়ে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু শচীন পালাল না। খুব অবিশ্বাসের সঙ্গে সে কিছুক্ষণ নিজের ডান হাতের চেটোটার দিকে চেয়ে রইল। তারপর তাকাল কুঁজো হয়ে থাকা বিশাখার দিকে।

    দাসদাসীরা ছুটে আসছিল বিশাখাকে ধরে তুলতে।

    তাদের অবাক করে দিয়ে শচীন নিজেই শেষ ধাপটায় নেমে নিচু হয়ে পাঁজাকোলায় তুলে নেয় বিশাখাকে। নিঃশব্দে সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠে আসে। ঘরে নিয়ে শুইয়ে দেয় বিছানায়।

    বিশাখার তেমন কিছু হয়নি। একটা চড় আর কতটাই বা মারাত্মক? তবে তার দুই চোখে বিশ্বের বিস্ময়। তার নিজের মা-বাবাই তাকে কখনো মারেনি। পিঠোপিঠি ভাই কৃষ্ণকান্ত কখনো-সখনো কিলটা চড়টা দিলেও সে নিতান্তই খুনসুটি সত্যিকারের মার জীবনে সে এই প্রথম খেল। তাও এক পরপুরুষের হাতে।

    দুজনেই ভীষণ অবাক হয়ে চেয়ে থাকে দুজনের দিকে। ঘরে লোকজনের ভীড় হয়ে যাচ্ছিল। শচীন একটু চমকাল কেন যেন।

    তারপর বিশাখার দিকে চেয়ে বলল, আমারই ভুল হয়েছিল।

    শুধু এইটুকু বলেই শচীন ঘর থেকে বেরিয়ে নীচে এসে সাইকেলে উঠে চলে গেল।

    তিন দিন শচীন আর এমুখো হল না।

    তিন দিন বিশাখারও কাটল এক অদ্ভূত ঘোরের মধ্যে। বাঁ গালটা ফুলে লাল হয়ে ছিল অনেকক্ষণ। কিন্তু সে জ্বালা জুড়োতে দেরী হয়নি। জ্বালা মনের মধ্যে। তিন দিন ভাল করে দিন-রাত ঠাহর করতে পারল না সে। অনুভব করতে পারল না তার চারদিককার বাস্তবতা। টের পেল না সে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে, না কি জেগে আছে। এত অপমান সয়ে মানুষ বেঁচে থাকে কী করে? এত অপমান একজনকে করতেই বা পারে কি করে আর একজন?

    রঙ্গময়ী সবই জানে। কিন্তু সে উচ্চবাচ্য করে না। শুধু লক্ষ্য রাখে আর বাড়ির অন্যান্যদের ইশারায় তফাৎ থাকার নির্দেশ দেয়। বিশাখা তিনটে দিন চলল পুতুলের মতো রঙ্গময়ীর নির্দেশে। খেতে বললে খেল, স্নান করতে বললে করল। যেন বা ঠিক বুঝতে পারছে না সে আসলে কী করছে। কথা প্রায় ছিলই না তার মুখে।

    তিন দিনের দিন ভোরবেলা উঠে রঙ্গময়ী লক্ষ করল, বিশাখার মুখচোখ একটু স্বাভাবিক। রাতে ঘুম হয়েছে। চোখের কোল ভরাট।

    রঙ্গময়ী একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলল।

    দুপুরবেলা খেতে বসে একটু ঠাট্টাতামাসাও করল বিশাখা রঙ্গময়ীর সঙ্গে। তারপর দুজনে ঘরে এসে মুখোমুখি বসল।

    বিশাখা হঠাৎ বলল, কী গো মনুপিসি, কী ভাবছো?

    কই, কিছু তো ভাবছি না!

    ভাবছো না কেন? একটু ভাবো।

    কী ভাববো?

    আমার কী করা উচিত একটু ভেবে বলো তো! গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ব, নাকি বিষ খাবো।

    বালাই ষাট। তুই ওসব করতে যাবি কেন?

    অপমানটা তো দেখলে।

    নিজের চোখে দেখিনি, তবে শুনেছি।

    এর পরেও বেঁচে থাকতে বলো!

    বেঁচে থাকবি না কেন? পাগল নাকি?

    পাঁচজনকে মুখ দেখাবো কী করে?

    সে যদি দেখায় তোর দেখাতে দোষ কী?

    সে তো ছেলে। ছেলেদের তো সবই মানায় মনুপিসি।

    তোকে বলেছে! পুরুষমানুষ হয়ে একটা মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে লোকে তাকে দুয়ো দেবে না? তার নিজেরও কি কম লজ্জা!

    ওর কি লজ্জা বলে কিছু আছে!

    রঙ্গময়ী কথাটার জবাব চটজলদি দেয় না। একটু চুপ করে থেকে বলে, শুনেছি, তিন দিন জলস্পর্শ করেনি।

    বিশাখা কথাটা শুনে চুপ করে থাকে। বুকের মধ্যে কেমন এক অচেনা ব্যথা চিনচিন করতে থাকে। কেমন অদ্ভুত লাগে একটা সিরসিরে ভাব।

    অনেকক্ষণ বাদে সে বলে, জলস্পর্শ করেনি কেন?

    তা কী করে বলব? তবে মনে হয় প্রায়শ্চিত্ত করছে।

    আর প্রায়শ্চিত্ত করে কী হবে? যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। শহরে ঢি ঢি পড়ে যায়নি এতক্ষণে?

    রঙ্গময়ী মাথা নেড়ে বলে, দূর বোকা! দাসদাসীরা কানাকানি করবে সে তো ঠেকানোর উপায় নেই। তবে লোক জানাজানি হয়নি। হবেও না। শহরে এখন অন্য সব সাঙ্ঘাতিক কাণ্ড হচ্ছে। কে কাকে চড় মারল তা নিয়ে কে মাথা ঘামাবে?

    কী কাণ্ড মনুপিসি?

    রেল লাইনের ধারে গুদাম থেকে বিদেশী কাপড় বের করে আগুন লাগানো হল সেদিন। গুলি-গোলা চলেছে। ধরপাকড় হল কত। আহা!

    কিন্তু স্বদেশী আন্দোলনের ঘটনা মোটেই স্পর্শ করল না বিশাখাকে। সে আনমনা হয়ে রইল। একটা হাই আসছিল, সেটা চেপে বন্ধ করে বলল, আমার বড় ঘেন্না হচ্ছে নিজের ওপর।

    কেন হবে? দোষ তো শচীনের। তুই তো অন্যায় কিছু বলিসনি।

    ঠিক বলেছি বলছো?

    নিশ্চয়ই। এই সত্যি কথাগুলো কারো মুখ থেকে বেরুনো দরকার ছিল।

    বিশাখা একথা শুনে একটু উজ্জ্বল হল। বলল, ঠিক বলছো?

    ঠিক বলছি না তো কী? আমি পরস্য পর, নইলে ক্যাট ক্যাট করে কিছু কথা ওর মুখের ওপর বলতে আমারও ইচ্ছে করেছে কতবার।

    বিশাখা বলে, আমি ভাবছিলাম কাজটা হয়তো ভীষণ অন্যায় হয়ে গেল। বাবা হয়তো ফিরে এসে সব শুনে আমার ওপর রাগ করবে।

    রাগ করলেই হল? সে নিজে তো কিছু পারেনি করতে। মুখচোরা মানুষ, চোখের ওপর এসব ঘটনা দেখেও চোখ বুজে থেকেছে। দোষ তো তারই।

    বিশাখা চুপ করে থেকে কিছুক্ষণ ভেবে বলল, শচীনবাবু বোধহয় আর আমাদের কাজ করবেন না, না?

    না করলেই মঙ্গল। এইভাবেই যদি ভালয় ভালয় ব্যাপারটা মিটে যায় তবে খুব ভাল।

    বিশাখা মাথা নেড়ে বলল, না মনুপিসি, তাতে ভাল হয় না।

    কেন হয় না?

    আমার একটা কলঙ্ক থেকে যায়। লোকে বলবে আমি ঝগড়া করে শচীনকে তাড়িয়েছি।

    লোকের আর খেয়ে বসে কাজ নেই। তুই রাখ তো।

    বিশাখা মাথা নেড়ে বলে, না মনুপিসি, আমার লজ্জা করছে।

    ওমা! লজ্জা কিসের?

    ঝগড়া করেছি যে! সেই লজ্জা। আমি চাই না উনি এভাবে কাজ ছাড়ুন।

    রঙ্গময়ী একটু চুপ করে থেকে বলে, কথাটা খুব মন্দ বলিসনি। শচীনের ইদানীংকার ব্যবহার দেখে রাগ হয় বটে, কিন্তু ছেলেটা খারাপ ছিল না। তোর বাবার জমিদারী যেতেই তো বসেছিল। ছেলেটা প্রাণপাত করে কিছু সামাল দিয়েছে। ওকে তাড়ানোটা ঠিক নয়। কিন্তু কী আর করবি?

    শচীনবাবু কি এখনো আমার ওপর রেগে আছেন?

    রঙ্গময়ী হেসে ফেলে। তারপর বলে, রেগে আছে বলে তো মনে হয় না। চড় মেরে সেই তো কোলে করে তোকে দোতলায় তুলে নিয়ে এসেছিল। রাগের লক্ষণ তো নয়।

    ধ্যাৎ! কী যে বলো না! যাও—

    রঙ্গময়ী হেসে বলে, কথাটা তো সত্যি। তুই যত নিজের ঘাড়ে অপমান নিচ্ছিস সে নিয়েছে তার দশগুণ। তাই তো বলছিলাম, তুই গলায় দড়ি দিবি কেন?

    সারাটা দুপুর বিশাখার কাটল ফের অন্যরকম এক ঘোরের মধ্যে। চড় খাওয়ার অপমান বুক থেকে নেমে গেছে। এখন সে ভাবছে শচীন তাকে কোলে করে দোতলায় তুলেছিল। শচীন তিন দিন জলস্পর্শ করেনি। যত ভাবছে তত বুকের চিনচিন ব্যথাটা নাড়া খাচ্ছে। অস্ফুট এক ব্যথা। বড় অদ্ভুত। বড় সুখদায়ক।

    চারদিনের দিন হেমকান্ত বরিশাল থেকে একা ফিরলেন।

    একা যে বাবা? বউদি কোথায়? বিশাখা বাবাকে প্রায় হাত ধরে গাড়ি থেকে নামাতে নামাতে প্রশ্ন করে।

    উমা কলকাতা চলে গেল।

    সে কী এখান থেকেই?

    হ্যাঁ। কিছুতেই ফিরতে চাইল না।

    কেন বলো তো!

    বলছিল ছেলেমেয়েদের ইস্কুল খুলে গেছে। কনকেরও অসুবিধে হচ্ছে।

    বিশাখা সহর্ষ বিস্ময়ে চেয়ে রইল বাবার মুখের দিকে। বুকটা দুরদুর করছে। বউদি যে অতিশয় বুদ্ধিমতী সে বিষয়ে তার সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সেই বুদ্ধি যে প্রলয় ঘটায়নি, সংসারে আনেনি ভাঙচুর এবং কলঙ্ক তাইতে ভারী হালকা বোধ করল বিশাখা। তার মনে হল, এবার সব ঠিক হয়ে যাবে।

    চতুর্থ দিন বিশীর্ণ শরীরে কাছারি ঘরে বিকেলে এসে বসল শচীন। তার উজ্জ্বল কান্তি কিছুটা ম্লান। মুখ অসম্ভব গম্ভীর।

    হেমকান্ত সন্ধের পর তাকে ডেকে পাঠালেন।

    এই যে শচীন, এদিককার সব খবর ভাল তো!

    ভালই। শশীর মামলায় উকিল দিতে পারলেন?

    শশীর মামলা তার বাবা লড়বে। কলকাতা থেকে এক ব্যারিস্টারও আসবেন শুনেছি। আমাদের ফের যা বক্তব্য তা পেশ করার জন্য একজন ভার নিয়েছেন। আমার বেহাইয়ের বন্ধু। সুতরাং চিন্তার কিছু নেই।

    আমিও যাবো একবার?

    যাবে?

    যাবো বলেই তো ভাবছি।

    ইচ্ছে হলে যেও।

    আমি একটা কথা ভাবছিলাম।

    কী কথা?

    মামলা মোকদ্দমা এখন অনেক বেড়েছে। এস্টেটের কাজ দেখার জন্য যদি একজন পাকা লোক দেখে নেন তো ভাল হয়।

    তোমার বদলে? হেমকান্ত কিছু বিস্মিত হয়ে উঠে বসেন।

    হ্যাঁ। আমার একটু অবকাশ দরকার।

    হেমকান্ত ফাঁপরে পড়ে বলেন, কথাটা কী জানো! লোক পাওয়া খুব সোজা নয়। এমনি যারা পাকা লোক তারা সৎ বড় একটা হয় না। আমার অবস্থা তো জানোই। নিজে কিছু দেখাশোনা করতে পারি না। তোমাকে পেয়ে ভেবেছিলাম আর সমস্যায় পড়তে হবে না।

    আমি গোড়া বেঁধে দিয়ে যাচ্ছি। আপনিও একটু চোখ রাখবেন। হয়ে যাবে।

    কেন শচীন, তোমার কী পোষাচ্ছে না?

    শচীন জিব কেটে বলে, ছিঃ ছিঃ, তা নয়। পয়সার জন্যে আপনার কাজ করছিলাম না। স্নেহ করেন, তাই।

    স্নেহ তো এখনো করি।

    করেন? বলে শচীন হঠাৎ হেমকান্তের চোখে চোখ রাখে।

    হেমকান্তু মৃদু হেসে বলেন, না করার কারণ কী?

    শচীন দাঁতে ঠোঁট চেপে বলে, স্নেহ না করার অনেক কারণ আছে। তবু যদি করেন তবে বুঝি যে আপনি সত্যিই অনেক উঁচুদরের মানুষ।

    হেমকান্ত লজ্জা পেয়ে বলেন, আরে কী যে বলো! ছেলেমানুষ।

    শচীন আবেগের সঙ্গে বলল, আমার অপরাধের সীমা নেই। কিন্তু সব তো বলা যাবে না। বুদ্ধিভ্রংশ তো মানুষেরই হয়।

    তা হয় বটে। কিন্তু ব্যাপারটা কী বলবে?

    আজ্ঞে বলব। তবে তার উপযুক্ত সময় আছে। এখন নয়।

    তাহলে আমার এস্টেটের কাজটা করবে তো!

    করব। তবে আমি কয়েক দিন ছুটি চাই।

    কেন?

    মা আর বাবাকে নিয়ে কাশী হরিদ্বার যাবো।

    বেশ তো, যাও।

    বেশীদিন নয়। ততদিন কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন?

    পারা যাবে। এখন বর্ষা সবে শেষ হয়েছে। ঢিমে সময়। পারব। যাও।

    শচীন হঠাৎ আজ হেমকান্তকে একটা প্রণাম করে বলল, আমার যেতে দু-তিন দিন দেরী আছে। রোজই আসব। আপনি কাছারিতে আমার সঙ্গে একটু যদি বসেন তো সব বুঝিয়ে দিয়ে যেতে পারি।

    সে হবেখন। তোমার শরীরটা তো ভাল দেখছি না।

    ও কিছু নয়।

    জ্বরজ্বারি হয়নি তো!

    না। বেশ আছি।

    হেমকান্ত খুশি হলেন। খুব খুশি। তাঁর বউমা কলকাতা গেছে। শচীন যাচ্ছে হরিদ্বার আর কাশী। বেশ। লক্ষণ তো খুবই ভাল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছোটদের ২৫টি মজার গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }