Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দূরবীন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬৯. শচীন কাশী রওনা হওয়ার আগের দিন

    ॥ ৬৯ ॥

    শচীন কাশী রওনা হওয়ার আগের দিন চৌধুরি-বাড়িতে এসেছিল বিদায় নিতে। শরৎকাল শুরু হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের ওপড়টা কাশফুলে সাদা। আকাশ গভীর নীল। মাঝে মাঝে সাদা মেঘ এসে ক্ষণস্থায়ী বর্ষা দিয়ে যায়। ভারী মোলায়েম একটা হাওয়া বয়। নদীতে পালতোলা নৌকার গতিতে লেগেছে এক খুশিয়াল চঞ্চলতা। শচীনের মন প্রকৃতির এই স্নিন্ধতায় কিছু প্রসন্ন। ভিতরকার ক্ষত ও রক্তপাত সে ভুলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কামনার বস্তু চোখের সামনে না থাকলে কাম ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। ইংরিজি একটা প্রবাদবাক্যও আছে না আউট অফ সাইট আউট অফ মাইণ্ড! চপলাকে যথার্থ ভোলেনি অবশ্য শচীন। কিন্তু কোথায় যেন একটা স্বপ্নভঙ্গও ঘটেছে তার।

    ওই যে সেদিন চড় মেরেছিল বিশাখাকে, সেই থেকে তীব্র আত্মগ্লানি দিনরাত তাকে দগ্ধ করেছে। কয়েকটা দিন সে প্রায় পাগলের মতো বিড়বিড় করত। নিজের গলা টিপে ধরত। ডান হাতে জাঁতি চেপে ধরেছে, পিন ফুটিয়েছে বহুবার। সে যে এত নীচ হতে পারে তা সে নিজেও জানত না।

    আজ বড় সংকোচের সঙ্গে সে বারবাড়িতে সাইকেল থেকে নামল। তারপর সাইকেলটা দাঁড় করিয়ে রেখে সে বারান্দায় উঠে সোজা গিয়ে কৃষ্ণকান্তর দরজায় ধাক্কা নিল। দরজা ভেজানো ছিল, খুলে গেলো।

    কৃষ্ণকান্তকে প্রায় রোজই দেখে শচীন। কিন্তু এতদিন এক অবৈধ প্রেমের জ্বলন্ত আবেগ তাকে এমন অন্ধ করে রেখেছিল যে, দেখলেও কিছুই লক্ষ করেনি সে। আজ কৃষ্ণকান্তের চেহারার মধ্যে ঋষিবালকসুলভ উজ্জ্বলতা দেখে সে একটু অবাক হয়।

    শচীন একটু হেসে বলল, ব্রহ্মচর্য করছো শুনলাম। সত্যি নাকি?

    কৃষ্ণকান্ত স্মিত হেসে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ঠিক ব্রহ্মচর্য নয়।

    তবে কী? স্বদেশী?

    কৃষ্ণকান্ত একথার জবাব দিতে পারল না। মৃদু হাসল মাত্র।

    শচীন একটু গম্ভীর হয়ে বলে, আমাদের দিয়ে তো কিছু হবে না। আমরা স্বার্থপর সংসারী হয়ে গেছি। তোমাদের মতো ছেলেরা যদি পারে।

    কৃষ্ণকান্ত একথা শুনে একটি উজ্জ্বল হয়। তারপর বলে, বিপিনদার সঙ্গে আমার একটু যোগাযোগ করিয়ে দেবেন শচীনদা?

    বিপিন এই অঞ্চলের চিহ্নিত স্বদেশী। কংগ্রেসের মস্ত পাণ্ডা। তবে আজকাল তাকে বড় একটা কেউ দেখতে পায় না। শোনা যায়, গ্রেফতারের ভয়ে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

    শচীন কথাটা শুনে কৃষ্ণকান্তকে খুব স্থির চোখে অনেকক্ষণ লক্ষ করে বলে, তোমার বয়স এখনো খুব কম। এখনই কেন এসব করতে চাইছো?

    আমার যে ভীষণ ইচ্ছে।

    তা আমি খানিকটা জানি। এই বুদ্ধিটা তোমাকে কে দিয়েছিল বলো তো!

    তেমন কেউ নয়।

    আরে আমি তো আর সরকারের স্পাই নই, আমাকে বলতে ভয়টা কী?

    শশীদাকে দেখার পর থেকে—

    শচীন হাসল। বলল, বুঝেছি। কিন্তু দেখলে তো পরাধীন দেশে বাস করলে দেশপ্রেমের কীরকম দন্ড নিতে হয়! জেল, দ্বীপান্তর, ফাঁসি, গুলি।

    জানি।

    ভয় করে না?

    কৃষ্ণকান্ত উজ্জ্বল মুখে বলল, একটুও না।

    শচীন চিন্তিত মুখে বলে, তোমার ভিতরে একটা ব্রাইটনেস আছে। স্বদেশী করতে গিয়ে সেটা নষ্ট করবে কেন? বরং আরো তৈরি হও। লেখাপড়া শেখো, জ্ঞানার্জন করো। স্বদেশী করা মানে তো সবসময়ে সাহেব মারা নয়।

    আর কীরকম স্বদেশী আছে?

    দেশের সুসন্তান হয়ে উঠলে তাতেও দেশের কাজ হয়। যারা প্রতিভাবান তাদের উচিত প্রতিভার সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। তাতে আমাদের আখেরে দেশের ভালই হয়।

    বাবাও এরকম কী একটা বলেন।

    ঠিকই বলেন। উনি জ্ঞানী মানুষ।

    আমার খুব শশীদার মতো হতে ইচ্ছে করে।

    কার মতো হবে সেটা কি এখনই স্থির করা উচিত? সেইজন্যই একটু বয়স হওয়া দরকার।

    কত বয়স?

    সময় হলে আমিই তোমাকে বলে দেবো।

    খুব বাধ্য ছেলের মতো কৃষ্ণকান্ত ঘাড় নেড়ে বলে, আচ্ছা।

    শচীন একটু সঙ্কোচ বোধ করছিল। ইতস্তত করে বলল, বিশাখা কেমন আছে?

    ছোড়দি! ছোড়দি তো ভালই আছে।

    শচীন খুব লজ্জা-লজ্জা ভাব করে পকেট থেকে একটা মুখ-আঁটা খাম বের করে বলল, বিশাখাকে এই চিঠিটা দিয়ে দেবে?

    হ্যাঁ। বলে হাত বাড়িয়ে চিঠিটা নেয় কৃষ্ণকান্ত।

    শচীন মৃদুস্বরে বলে, রাগ জিনিসটা মানুষের মস্ত শত্রু। কত বড় শত্রু তা সেদিন বুঝেছি। কেলেঙ্কারীর আর কিছু বাকি রাখিনি। ছিঃ ছিঃ।

    কৃষ্ণকান্ত খুব লাজুক একটু হাসল। তারপর বলল, ভগবান যা করেন মঙ্গলের জনাই করেন।

    শচীন একটু থমকে চেয়ে থাকে। তারপর আচমকাই তার মুখটা লাল হয়ে ওঠে। বিশাখাকে চড় মারার চেয়েও ঢের বেশি কেলেঙ্কারি সে ঘটাতে যাচ্ছিল। ফাঁড়াটা কেটেছে এমন নয়। চপলার কথা মনে পড়লেই তার বুক ব্যথিয়ে ওঠে, শাস দ্রুত হয়, আবার একটা তিক্ত হতাশায় খাঁ খাঁ করতে থাকে চারধার। তবে সেই সঙ্গে স্বাভাবিক বুদ্ধি, বিবেচন ও বোধ ফিরে এসেছে শচীনেব। দুই ছেলের মা, পরস্ত্রী একজনকে গ্রহণ করার যেসব অন্ধকারময় দিক আছে সেগুলোও তার মনে আসে।

    শচীন মাথা নেড়ে বলে, ঠিকই বলেছো। তুমি খুব ঈশ্বর-বিশ্বাসী, তাই না?

    কৃষ্ণকান্ত লজ্জায় মাথা নুইয়ে বলে, আমি ঈশ্বব-বিশ্বাসী হতে চাই।

    শচীন একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, আমারও অনেক সাধ ছিল জীবনে। এক এক বয়সে এক এক রকম। সবশেষে দেখ উকিল হয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে।

    ওকালতি তো খুব ভাল। খুব বুদ্ধি লাগে।

    তা লাগে। তবে বড় মিথ্যে কথা বলতে হয়।

    কৃষ্ণকান্ত একটু হেসে বলে, তা হোক। আমিও কিন্তু আইন পড়ব।

    পড়। আইন জানা থাকা ভাল।

    শশীদার কী হবে শচীনদা? ফাঁসি?

    কী করে বলি! অপরাধ তো বেশ গুরুতর। প্রমাণ হলে—

    আপনি শশীদার হয়ে মামলা লড়বেন না?

    লড়ে লাভ নেই। শশা সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানি না। তোমার বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল অন্য ব্যাপারে। উনি আমাকে ওঁর ডিফেনসে নামতে বলেছিলেন।

    আমাদের বিরুদ্ধেও কি কেস হবে?

    কে জানে! পুলিশ মুচলেকা চেয়েছিল, তোমার বাবা দেননি। সেই রাগে কেস করতেও পারে পুলিশ। রামকান্ত রায় লোক ভাল নন। স্বদেশীদের ওপর খুব রাগ।

    ওকে কেউ মারতে পারে না?

    শচীন একটু চমকে ওঠে। তারপর বলে, ওসব কথা মনেও স্থান দিও না।

    কিন্তু মারা তো উচিত। বাঙালি হয়ে উনি কেন স্বদেশীদের ধরিয়ে দেবেন?

    সব বাঙালি যদি তোমার মতো ভাবতে পারত তাহলে ইংরেজ নিজে থেকেই পালাত। কিন্তু সে কথা থাক। রামকান্ত রায় কিন্তু ভয়ঙ্কর লোক।

    কৃষ্ণকান্ত চুপ করে থাকে।

    শচীন খানিকক্ষণ বসে থাকে, তারপর উঠতে উঠতে বলে, কাল আমি কিছুদিনের জন্য কাশী যাচ্ছি। ফিরে এলে দেখা হবে। তোমার ছোড়দিকে চিঠিটা মনে করে দিও কিন্তু।

    দেবো।

    ইচ্ছে ছিল বিশাখার সঙ্গে দেখা করে মাপ চেয়ে নেবো। কিন্তু ভেবে দেখলাম সেটা না করাই ভাল। রাগী মেয়ে, হয়তো চটে যাবে। তীর্থযাত্রার সময় মনটা খামোখা ভার হবে। তাই ওই চিঠি।

    ছোড়দি কিন্তু রাগত না।

    রাগত না? শচীন অবাক হয়ে বলে, তুমি কী করে জানলে?

    আমি জানি।

    শচীন ক্ষীণ একটু হাসে, কিন্তু রাগের তো কারণ ছিল।

    কৃষ্ণকান্ত মাথা নেড়ে বলে, তাও না। ছোড়দিটা বড্ড বোকা। ভীষণ আদুরে তো। একটু শাসনে ওর ভালই হয়।

    শচীন খুব হাসল, তুমি তো খুব পাকা মাথার মানুষ। বাঃ। তোমার উন্নতি হোক। আজ আসি হ্যাঁ?

    শচীন চলে গেলে কৃষ্ণকান্ত চিঠিটা নিয়ে ভিতরবাড়িতে আসে।

    দোতলার ঘরে চুপ করে বসে আছে বিশাখা। কিছু শীর্ণ হয়েছে ইদানীং। তবু সেই শীর্ণতায় তার সৌন্দর্য হয়েছে আরো ক্ষুরধার। আজকাল সে ঘর থেকে বড় একটা বেরোয় না। চুপচাপ বসে বসে ভাবে।

    ছোড়দি, কী করছিস?

    আচমকা কৃষ্ণকান্তর ডাকে বিশাখা চমকে ওঠে। সে কিছু করছে না। ভিতরে, খুব গভীরে সে একটা গোপন ও গোলাপী স্বপ্ন দেখে। কিন্তু তার মনে হয়, স্বপ্নটা যে কোনোদিন যে কারো কাছে ধরা পড়ে যাবে।

    কী রে! আয়। বলে ভাইকে হাত বাড়িয়ে কাছে টেনে বসায় বিশাখা। আজকাল একটু তফাৎ হয়ে থাকে বলেই কৃষ্ণর ওপর তার প্রগাঢ় মায়া।

    কৃষ্ণকান্ত দুষ্টুমির হাসি হেসে বলে, তোর বাঁ গালে এখনো চড়ের দাগটা ফুটে আছে।

    যাঃ। বলে বিশাখা নিজের গালে হাত বোলায়, ফাজিল!

    তোকে চড় মেরে শচীননার যা অনুশোচনা হয়েছে বলার নয়।

    বিশাখা লজ্জায় লাল হয়ে বলে, এসব কথা তোকে কে বলতে বলেছে!

    বলবে কেন। জানি।

    কী জানিস?

    শচীনদা কাশী চলে যাচ্ছে।

    কাশী! বলে ভ্রূ কোঁচকায় বিশাখা, কাশী কেন?

    কাশীবাসী হয় না লোক বুড়ো বয়সে!

    সে কি বুড়ো হয়েছে?

    না, তবে বৈরাগ্য এসেছে।

    কবে এল?

    সেই চড় মারার পর থেকে। কাশী গিয়ে শচীনদা সন্ন্যাস নেবে।

    কৃষ্ণকান্ত এত গম্ভীর মুখে কথাগুলো বলে যে বিশাখা ধন্ধে পড়ে যায়। চারদিকে টালুমালু করে তাকিয়ে বলে, সত্যি কথা বলবি।

    সব সত্যিই তো বলছি।

    কী হয়েছে ওর?

    বললাম তো, অনুশোচনা।

    সুফলাটা অনেকদিন আসে না। এলে জিজ্ঞেস করতাম। চিন্তিত মুখে বিশাখা বলে।

    কী জিজ্ঞেস করতি?শচীনদার কথা?

    হ্যাঁ।

    কেন? শচীনদার খোঁজে তোর কী দরকার?

    বিশাখা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, আমার জন্য কেউ কষ্ট পাক তা আমি চাই না। শুনেছি, সেই ঘটনার পর ও তিনদিন নাকি উপোস ছিল। জল অবধি খায়নি।

    তোকে চড় মেরেছে বলে?

    তাই তো শুনেছি। তবে রাগলে মানুষ অনেক কাণ্ড করে। সেগুলো ধরতে নেই।

    তোর কিন্তু একটু ওরকম কিছু হওয়ার দরকার ছিল।

    কেন রে দুষ্টু? ও আবার কী কথা?

    খুব বাড় বেড়েছিল যে তোর।

    কবে বাড় দেখেছিস! এমন থাপ্পড় মারব না!

    যখন বিয়ের কথা হয়েছিল তখন কী বলতিস মনে নেই?

    বিশাখা লাল হয়ে হাসতে লাগল। তারপর বাঁ গালে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, বেশ করতাম বলতাম।

    আর এখন?

    এখন কী?

    এখন বিয়ের কথা উঠলে কী বলবি?

    তা জেনে তোর কী হবে?

    শুনিই না।

    ভাগ পাজী কোথাকার!

    কৃষ্ণকান্ত ছোড়দির মুখের ভাব খুব মন নিয়ে লক্ষ করল। যা দেখল তাতে খুশিই হল সে। জামার পকেট থেকে চিঠিটা বের করে বলল, এই নে। শচীনদা দিয়ে গেছে।

    বিশাখা প্রথমটায় যেন বিশ্বাস হচ্ছে না এভাবে চেয়ে বইল। তারপর কুন্ঠিত হাত বাড়িয়ে চিঠিটা নিয়ে বলে, কখন এসেছিল?

    এইমাত্র। ঘন্টাখানেক আগে।

    এত সকালে আসে না তো!

    চিঠিটা বিশাখা খুলল না। হাতে নিয়ে বসে রইল। চোখটা অল্প বোজা। কিছুক্ষণ যেন স্পর্শের একটা আনন্দ অনুভব করল। তার ভাইয়ের দিকে চেয়ে বলল, কাশী যাওয়ার কথা কী বলছিল? সত্যি নাকি?

    সত্যি। শচীনদা কাল কাশী যাচ্ছে। তবে ফিরবে।

    বিশাখা একটা শ্বাস ছাড়ল। বালিশের তলায় খামটা রেখে দিয়ে বলল, একবার সুফলাকে ডেকে আনতে পারবি?

    সুফালাদি! কেন?

    দরকার আছে।

    একটু ভাবল কৃষ্ণকান্ত। তারপর বলল, বিকেলে।

    তাহলেই হবে।

    কৃষ্ণকান্ত চলে যাওয়ার পর বিশাখা খুব সাবধানে খামের মুখ ছিঁড়ল। নীল রঙের বিলিতি মসৃণ কাগজে লেখা:

    সুচরিতাসু, তোমাকে কোন মুখে এই চিঠি লিখিতেছি তাহা জানি না। কিন্তু না লিখিয়া শান্তি পাইতেছি না। আমাকে তোমার নিশ্চয়ই রাক্ষস বলিয়া বোধ হইতেছে। অতি হীনচরিত্রের, অতি কাপুরুষ বলিয়া বোধ হইতেছে। এইরূপ হওয়াই স্বাভাবিক।

    সেদিন আমার মাথার মধ্যে কী যে হইয়া গেল! ক্রোধ মানুষের কত বড় রিপু তাহা সেদিন বুঝিলাম। আমার অপরাধের ক্ষমা নাই। তোমার নিকট ক্ষমা চাহিব না। কারণ, আমি নিজেও যে নিজেকে ক্ষমা করিতে পারিতেছি না। তবে তোমাকে একটা কথা বলি। পুরুয় মানুষের অভিমানে বড় আঘাত দিয়াছিলে। অন্য কেহ হইলে আমার ওইরূপ উত্তেজনা হইত না। তোমার মুখ হইতে ওইসব কথা শুনিয়া যেন আমার ভিতরে এক বিস্ফোরণ ঘটিয়া গেল।

    কেন এইরূপ হইল তাহা লইয়া অনেক ভাবিয়াছি। নিজেকে ইচ্ছামতো শাস্তি দিয়াছি। কিন্তু ভিতরের গ্লানি আজও মরে নাই। যখন তোমাকে ধরিয়া দোতলায় তুলিতেছিলাম তখন তোমার দেহ স্পর্শ করিয়া আমার মনে হইতেছিল, এই পবিত্রা দেবীদেহ স্পর্শ করিবার অধিকার আমার মতো কাপুরুষের নাই। এই কলঙ্কিত হাতে তোমাকে স্পর্শ করা যে পাপ।

    এ সকল আবেগের কথা ভাবিয়া উড়াইয়া দিও না। একদা আমাকে এবং আমার পরিবারকে তুমি ঘৃণা করিতে। তাহা আমি ভুলি নাই। তোমার উপর আমার কিছু আক্রোশ থাকিবারই কথা। কিন্তু সেদিন সব আক্রোশ দূর হইয়া গেল। আক্রোশ আসিল নিজের উপর।

    কিছুদিন যাবৎ আমি কেবল তোমার কথাই ভাবিতেছি। ভাবিতেছি, তুমি এখন আমাকে আরো কত ঘৃণা করিতেছ, আরো কত হীন চক্ষুতে দেখিতেছ। এই জন্মে আর তোমার কাছে নিজেকে পুরুষ বলিয়া পরিচয় দেওয়ার কোনো উপায় রহিল না।

    কিছুদিনের জন্য আমি তীর্থভ্রমণে বাহির হইতেছি। সঙ্গে আমার মা-বাবাও যাইবেন। ফিরিয়া আসিয়া হেমকান্তবাবুর কাছে আমার সকল অপরাধ স্বীকার করিব। তোমাদের এস্টেটের কাজটিও ছাড়িয়া দিব। আর কোনো কারণেই তোমাকে এই কলঙ্কিত মুখশ্রী দেখাইতে পারি না।

    আমার গ্লানির আরো কারণ আছে। একটি অতি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভাগ্যের দোষে এবং নিজের দুর্বলতাবশে জড়াইয়া পড়িয়াছিলাম। সেই নাগপাশ আজও কাটে নাই। তবে আমি তোমাকে এইটুকু বলিতে পারি দায় সবটুকু আমারই ছিল না। অপরপক্ষেরও ছিল। সাফাই গাইতেছি না। আজ মনে হইতেছে আমার আর বাঁচিয়া থাকা বৃথা। এই জীবন লইয়া কী করিব? যখন মানুষ নিজের উপর শ্ৰদ্ধা হারায়, যখন আত্মবিশ্বাস চলিয়া যায় তখন আয়ু বড় দুর্বল বলিয়া বোধ হয়।

    স্থানান্তরে গমন বা ভ্রমণ আমার এই অস্থিরতার কতক উপশম করিতে পারে বলিয়া বাহির হইতেছি। যদি হয় ভাল, নচেৎ অন্য উপায় চিন্তা করিব।

    তোমার নিকট এই পত্র দেওয়ার আর একটি কারণ আছে। আমি তোমার কাছ হইতে একটি জবাব চাই। আমি জানি আমাকে তুমি ক্ষমা করিতে পারিবে না। ক্ষমা প্রার্থনা করিবার অধিকারও আমার নাই। আমি শুধু তোমার অকপট মনোভাবটুকু জানিতে চাই। যদি পত্রে আমাকে যথেচ্ছ র্ভৎসনা কর তবে বোধহয় কিছু জ্বালা জুড়াইবে। কারণ আমি তোমাকে সেদিন যে চূড়ান্ত অপমান করিয়াছি তাহার প্রতিশোধ লইবার সুযোগ তুমি পাও নাই।

    এই পত্রে তোমাকে সেই সুযোগ লইতে অনুরোধ করিতেছি।

    একদা তুমি আমার নিকট দেবীদুর্লভ ছিলে। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটায় আমি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করি। জীবন কী বিচিত্র! ঘটনারও কী আকস্মিক পরিবর্তন! আজ আবার তুমি যেন স্পর্শাতীত এক দুর্লভ আসনে সমাসীনা মহামহিম দেবীমূর্তি! আমি আর তোমার নিকটবর্তী হইতে পারিব না।

    যে প্রলাপ বকিলাম তাহাতে বিরক্ত হইও না। আজ আমি বড় ভগ্নহৃদয়, বড় হতাশা, বড় যন্ত্রণাবিদ্ধ। তোমার র্ভৎসনা আমার ভিতরে গ্লানির অবসান ঘটাইৰে। আমাকে সঞ্জীবনী মন্ত্র দিবে। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।

    ভগ্নহৃদয়

    শচীন

    চিঠি পড়ে বিশাখা হাউহাউ করে কাঁদতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছোটদের ২৫টি মজার গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }