Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দূরবীন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প1108 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৮. ঘর-বার করতে করতে

    ॥ ৩৮ ॥

    ঘরবার করতে করতে কেমন পাগলের মতো হয়ে যাচ্ছিল রেমি। ধ্রুবর রাত করে বাড়ি ফেরা এমন কিছু নতুন ব্যাপার নয়। কিন্তু আজকাল, এবং বিশেষ করে পুরীর এই অদ্ভুত অ্যাডভেনচারে আসার পর থেকেই রেমির ধৈর্য কমে গেছে। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে ধ্রুব তার সঙ্গে ঘর করতে চায় না। ধ্রুবর কাছে তার কোনো মূল্য নেই। অথচ পালিয়ে আসার সময় ধ্রুব যখন তাকেও সঙ্গে এনেছিল তখন রেমি এক রোমহর্ষক আনন্দ বোধ করেছিল। মনে হল, ধ্রুবর বুঝি বরফ গলল।

    না। তা তো নয়।

    সমুদ্রের অচেনা ঢেউয়ের সঙ্গে যখন তার প্রথম চেনাজানা করিয়ে দিয়েছিল ধ্রুব তখনো রেমি এক অদ্ভুত নৈকট্যের স্বাদ পেয়েছিল। মাঝে মাঝে এত আপন, এত নিজের জন মনে হয় ধ্রুবকে, পরমুহূর্তেই ভাঙা পুতুলের মতো বেমিকে ছুঁড়ে ফেলে সে খেলা ভেঙে উঠে যায়। কিন্তু কোথায় যায়?

    এত কাছে থেকে, এত ঘনিষ্ঠ মেলামেশার পরও কি করে একজন এত দূরের মানুষ থেকে যায় তা রেমির অল্পবুদ্ধির মাথায় ঢোকে না।

    বারান্দায় দাঁড়িয়ে রেমি দেখল, হোটেলের সদর ফটক বন্ধ হয়ে গেল রাতের মতো। বন্ধ হয়ে গেল দরজা। ক্রমশ নিঃঝুম হয়ে এল চারধার। রেমি জানে হোটেলের ম্যানেজারকে খবরটা জানানোর কোনো মানেই হয় না। কেউ কিছু করতে পারবে না।

    অনেকক্ষণ অন্ধকার বালিয়াড়ির দিকে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে রইল রেমি। দুর্যোগের দিন বলে কেউ কোথাও নেই। ধ্রুবরও থাকার কথা নয় ওখানে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পাগল-পাগল মাথা নিয়ে ঘরে এসে দোর দিল রেমি। তারপর কাঁদতে বসল।

    একা হোটেলের ঘরে যুবতী বউকে ফেলে রেখে যে চলে যেতে পারে তাকে স্বামী হিসেবে স্বীকার করা উচিত নয় রেমির। তার উচিত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলা। ধ্রুব তাকে চায় না, তারও উচিত ধ্রুবকে না-চাওয়া।

    কাঁদতে কাঁদতেই রেমি উঠল। তার ব্যাগে কিছু টাকা আছে। ধ্রুবর স্যুটকেস খুলে একটু হাঁটকাতেই সে পেয়ে গেল বাহান্ন খানা একশ টাকার নোটের একটা নতুন তাড়া।

    চোখের জল মুছে রেমি নিঃশব্দে তার শাড়িটাড়ি গুছিয়ে নিল ব্যাগে। কাজ শেষ করে ঘড়িতে দেখল, রাত দুটো।

    ঘুম আসবে না। বাইরে ঝোড়ো বাতাসের আক্রোশ এখন অনেকটা কম। তবে অবিরল ঢেউ ভাঙার শব্দ আসছে। বাতি নেভাল না রেমি। ভয় করে। বাতি জ্বেলেই শুয়ে রইল বিছানায়।

    ঘুমহীন দুচোখ ভরে ফের জল এল। এখন আর রাগ নেই। বুক জুড়ে এক অভিমানের সমুদ্র।

    তোমাকে ছেড়ে আমি থাকতে পারি না। তবু তোমার জন্যই তোমাকে ছেড়ে থাকতে হবে। চললাম।

    অনুপস্থিত ধ্রুবর একটা অট্টহাসি শুনতে পায় রেমি। ধ্রুব যেন বলে, যাও। পৃথিবীতে কাউকেই আমার খুব একটা প্রয়োজন নেই।

    রাগে দুঃখে দুহাত মুঠো করে রেমি বলে, কেন প্রয়োজন নেই? কেন?

    মানুষে মানুষে কোনো স্থায়ী সম্পর্ক নেই, আত্মীয়তা একটা সংস্কার মাত্র। আমি এই জীবনে তা বহুবার প্রত্যক্ষ করেছি। এই যে আমার জন্মদাত্র, উনি ঠিক কে বলো তো! বাবা বলে ভাবলে বাবা, কিন্তু যদি না ভাবি।

    শুধু বাবার ওপর রাগ বলেই কি তোমার মনটা ওরকম হয়ে গেছে?

    রাগ হলে তো বাঁচতাম। শুধু রাগ তো নয়।

    তাহলে কী?

    কী করে বলি! তবে ব্যাপারটা বুঝবার চেষ্টা করছি। আমার মা যখন মারা যায় রেমি, সেটা আমার চোখের সামনেই ঘটেছিল। আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সবচেয়ে আপন, যার গায়ের গন্ধ, নাকের বাঁ পাশে আঁচিলটা সবই ছিল যেন আমার নিজস্ব ঐশ্বর্য, তাকে চোখের সামনে অঙ্গার হয়ে যেতে দেখে আমার সেই যে মোহভঙ্গ ঘটেছিল তা আর মন থেকে গেল না। হঠাৎ ঘরের ছাদ উড়ে গেলে মানুষের যেমন অসহায় লাগে, কিংবা কোনো অঙ্গ হঠাৎ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মানুষ যেরকম হতভম্ব হয়ে যায় ঠিক তেমনই একটা বিস্ময়বোধ আমাকে আজও আচ্ছন্ন করে আছে। বাবা দেশোদ্ধার করে বেড়াচ্ছেন, ভাল কথা, কিন্তু আমার মায়ের অপরাধ কী তা আজও আমি জানি না। কেন তাকে আত্মহতার দিকে ঠেলে দেওয়া হল? কেন তার নীরব ও নিরবচ্ছিন্ন ভারাক্রান্ত মনের দিকে কেউ তাকাল না?

    শোক কি এত দীর্ঘস্থায়ী হয়?

    না। প্রথমে শোক ছিল। কিন্তু বড় হতে হতে আমি বারবার ঘটনাটির বিচার ও বিশ্লেষণ করে দেখেছি । শোক থেকে উৎপন্ন হয়েছে এক ক্রোধ। কৃষ্ণকান্ত চৌধুরীর সঙ্গে আমার বোঝাপড়াটা যতদিন না শেষ হয় ততদিন পৃথিবীর অন্যান্য ঘটনাবলী এবং মানুষ আমার কাছে অর্থহীন।

    কিসের বোঝাপড়া? মানুষ তো ত্রুটিহীন নয়। সকলেরই কিছু না কিছু দো্‌ষ থাকেই। শ্বশুরমশাইকে তুমি কী করতে চাও?

    ভয় পেও না রেমি। আমি ওঁকে খুন করতে চাই না।

    তাহলে?

    আমি ওঁর দৃষ্টিভঙ্গীটা পাল্টে দিতে চাই।

    সেটা আবার কিরকম?

    লোকটা জীবনে সবই পেয়েছে। সামন্ততান্ত্রিক ব্যাকগ্রাউণ্ড, স্বদেশীয়ানার ছাপ, সততা ও নিষ্ঠার খ্যাতি। হি ইজ এ বিগ ম্যান। আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমি লোকটাকে বিগ্রহের আসন থেকে টেনে ধুলোমাটির মধ্যে নামাতে চাই। যে উচ্চাকাঙ্ক্ষার নেশায় লোকটা চিরকাল কাছের লোকজনকে অবহেলা করেছে, তাদের সুখ দুঃখ মনোবেদনার দিকে তাকায়নি, সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা আমি একেবারে শেষ করে দিতে চাই। কিন্তু মুশকিল কী জানো? লোকটার অস্তিত্বটাই জড়িয়ে আছে ওই ভুল পলিটিকস আর ভুল দেশপ্রেমের সঙ্গে। এগুলো কেড়ে নিলে লোকটা হয়তো বাঁচবেই না। সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে লোকটাকে শোধরানোর মানে আসলে দাঁড়াবে লোকটাকে খুন করা। কিন্তু আমি নাচার।

    তুমি শ্বশুরমশাইকে ভুলে যেতে পারো না?

    কী করে সেটা সম্ভব?

    ওঁর কথা ভেবো না। অন্য সব কিছু নিয়ে ব্যস্ত রাখো নিজেকে।

    ভোলা সহজ নয় রেমি।

    চলো আমরা অন্য কোথাও গিয়ে ঘর বাঁধি।

    লোকটার কাছ থেকে দূরে সরে গেলেই কি সব সমস্যার সমাধান হবে?

    তাহলে কী করবে? একটা কিছু তো করতে হবে।

    আমার ক্ষমতা কতটুকু রেমি? কৃষ্ণকান্ত চৌধুরি আমাদের তিন ভাইয়ের দিকে কখনো মনোযোগ দেয়নি। স্বার্থপর লোকটা চিরকাল নিজের ক্যারিয়ার তৈরিতে ব্যস্ত ছিল। আমাদের মানুষ করে তোলার জন্য যতটুকু করার ছিল তার কিছুই করেনি। দাদার মিলিটারিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। কেবলমাত্র একটি ডানপিটে দুষ্টু ছেলেকে দূরে রাখার জন্যই তাকে দেরাদুন মিলিটারি অ্যাকাদেমিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল তোমার শ্বশুর। ছেলে যে সেই পর হয়ে গেল আর তাকে কোনোদিন কাছে ডাকল না। আমার তো মনে হয় কৃষ্ণকান্তকে জব্দ করতেই দাদা একজন মারাঠী ডিভোর্সী মেয়েকে বিয়ে করে বসেছে। প্রচণ্ড মদ খায়, ব্যাশ লাইফ লিড করে। আমার ছোটো ভাইকে তো দেখেছো? কোনোদিন মনে হয়েছে যে, এ বাড়ির ওপর তার টান আছে? নেই। কারণ তাকে ছোটোবেলা থেকেই ঠিক ওরকম ভাবতে বাধ্য করা হয়েছে। দাদার মত সেও একদিন এ বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কের শেষ সুতোর বাঁধনটা ছিঁড়ে ফেলবে। শুধু আমি। আমার জন্যই কৃষ্ণকান্ত এখনো নিষ্কণ্টক নয়। সুতরাং ওই একটা কাঁটা তার জীবনে থাক রেমি।

    এসব কাল্পনিক সংলাপ অবশ্য পুরোটাই রেমির কল্পনা নয়। বিভিন্ন সময়ে ধ্রুবর সঙ্গে তার এসব কথাবার্তা হয়েছে।

    ভোর পর্যন্ত রেমি আধো-ঘুম ও আলো-জাগরণে বহুবার ধ্রুবর কথা, শুধু ধ্রুবর কথাই ভাবল। কোনো দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবু সেটাকে সম্ভব বলে মনে হল না তার। মদ খেয়ে কোথাও পড়ে আছে? অসম্ভব নয়। তবে মদ খেয়ে ঘরে ফিরতে ও যখন বাধা ছিল না তখন না ফেরারই বা কী অর্থ? রেমির যেটা সম্ভব বলে মনে হয়, ধ্রুব ইচ্ছে করেই ফেরেনি। দুপুরে ধ্রুব বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখেছে, রেমি দুরন্ত সমুদ্রের জলে নামছে একা। বোধহয় সে ভেবে, রেমি আত্মহত্যার চেষ্টা রেছে। এতে বোধহয় একটু আশান্বিত হয়েছে ধ্রুব। আত্মহত্যার দিকে রেমিকে আর একটু ঠেলেই দেওয়া যাক তাহলে! সেই কারণেই কি সারারাত নিজের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে, নিজের ভুতের সঙ্গে লড়াই করতে তাকে ফেলে গেল ধ্রুব। কটানা সারা রাত সে এই ঘরে একা। নানারকম দুশ্চিন্তা, অদ্ভুত সব বিকার, বিকট সব ভয় তাক ছেঁকে ধরছে। কিছু করার নেই। সে মেয়েমানুষ, যুবতী, চেচালে কেলেংকারি হবে।

    ভোরের আলো ভাল করে ফুটবার আগেই রেমি উঠে পড়ে। ধ্রুব আজ ফিরবে কিনা তা সে জানে না। ভাববার মানে ও হয় না কোনো। রেমি সকালের জলখাবার খেয়ে নিল আনিচ্ছা সত্তেও! সকাল ৯’টা নাগাদ একটা রিক্সা ডেকে ব্যাগ নিয়ে রওনা হয়ে পড়ল স্টেশনের দিকে। সিদ্ধান্তই খুবই দুঃসাহসী। কিন্তু আপাতত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

    কিন্তু বিকেলের আগে কলকাতার ভাল ট্রেন নেই। রেমি অনেকক্ষণ চেষ্টাচরিত্র এবং খানিকটা ছোটাছুটি করে ও অবশেষে এক দালালকে বেশী টাকা কবুল করে একটা স্লিপার বারথের ব্যবস্থা করে ফেলল। একা মেয়েমানুষের পক্ষে ফার্স্ট ক্লাস খুব ভাল নয়। সে সেকেণ্ড ক্লাসেই যাবে।

    সারাটা দিন রেমি ফার্স্টক্লাস ওয়েটিং রুমে বসে বসে স্টেশন থেকে কেনা পত্রপত্রিকা আর বই পড়ল। খিদে পেলে খেয়ে এল রেষ্টুরেন্ট থেকে। খুবই স্বাভাবিক আচরণ করে যাচ্ছিল সে। কিন্তু মনের মধ্যে সর্বদা এক উচাটন ভাব। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ধ্রুব সকালে হোটেলে ফিরবে এবং তাকে না পেয়ে ছুটে আসবে স্টেশনে। আসেনি।

    বিকেল চারটে পর্যন্ত শক্ত ছিল রেমি। তারপর আর পারল না। কে জানে, ধ্রুব আদৌ ফিরেছে কিনা! যদি কোনো বিপদ ঘটে থাকে তার?

    স্টেশন থেকেই ভিরেটারী দেখে হোটেলে ফোন করে রেমি।

    দোতলার চোদ্দ নমবর ঘরের মিস্টার চৌধুরি কি ফিরেছেন?

    হ্যাঁ। অনেকক্ষণ। আপনি কি মিসেস চৌধুরি?

    হ্যাঁ

    উনি কয়েকবার আপনার খোঁজ করেছিলেন। কোথায় গেছেন বলে যাননি তো।

    না। হঠাৎ একটু বেরিয়ে পড়লাম।

    কোথায় গিয়েছিলেন?

    রেমি একটু ভেবে বলল, বেড়াতে। ওঁকে বলবেন, আমি—আমার ফিরতে একটু দেৱী হবে। চিন্তার কিছু নেই।

    আচ্ছা।

    রেমি নিশ্চিন্ত মনে বসতে পারল এসে ওয়েটিং রুমে। একটু ঘুমিয়েও নিল। সবচেয়ে গাঢ় ঘুম হল তার গাড়িতে। এক ঘুমে কলকাতা। ট্যাকসিতে উঠে সোজা চলে এল বাপের বাড়িতে।

    সে এবং ধ্রুব যে কোথাও গিয়েছিল এবং কলকাতায় যে বেশ কয়েকদিন তারা ছিল না এখবরটা পর্যন্ত তার বাপের বাটিতে পৌঁছোয়নি। ব্যাপারটা বিস্ময়কর। তবে তার শ্বশুর কৃষ্ণকান্ত বোধহয় পুত্র আর পুত্রবধূব এই আকস্মিক গৃহত্যাগের ঘটনাটা চাউড় করতে চাননি। দ্বিতীয় যে ঘটনাটা আর ও চমকপ্রদ এবং দূরপ্রসারী সেটা বাপের বাড়িতে পা দিয়েই শুনল সে, কৃষ্ণকান্তর দফতর বদল হয়েছে। মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ এক দফতর থেকে তাঁকে সরিয়ে নিতান্তই একটা এলেবেলে দফতরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে খুব একটা হৈ-চৈ হয়নি অবশ্য। কিন্তু গুজব হল, কৃষ্ণকান্তর দলের নাধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ওঁকে হয়তো মন্ত্রিত্বই ছাড়তে হতে পারে।

    খবরটা ভাল না মন্দ তা বুঝতে পারল না রেমি। আসলে খবরটা তাকে তেমন স্পর্শই করল না। তার নিজের জীবনে অনেক গুরুতর আর একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে। ধ্রুবর সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতি ঘটছে। সে তুলনায় কৃষ্ণকান্ত মন্ত্রিত্ব নিয়ে গণ্ডগোল তেমন কোনো ঘটনাই নয়।

    বিকেলের দিকে সে কয়েকবার ফোন করার পর শ্বশুরমশাইকে ধরতে পারল তাঁর দফতরে।

    আমি রেমি বলছি।

    কৃষ্ণকান্তর গলাটা একটু দুর্বল শোনাল, কে বউমা! তোমাদের জন্য ভেবে ভেবে আমি—কোথায় গিয়েছিলে মা?

    পুরী। আপনার ছেলে এখনো ওখানেই আছে।

    তুমি কি একা কলকাতায় চলে এসেছো?

    হ্যাঁ

    একদম একা?

    একদম একা কেন হবে! আমি সেকেন্ড ক্লাসে এসেছি, গাড়িতে অনেক লোক ছিল।

    কৃষ্ণকান্ত একটু হাসলেন, তা তো থাকারই কথা। তবু মেয়েদের একা চলাফেরা করতে নেই। এ দেশটা এখনো ততদূর সত্য নয়, বুঝলে! এখনো জঙ্গলের শাসন কায়েম আছে। তা একা আসতে হল কেন? সেই দামড়াটার সঙ্গে বুঝি ফের ঝগড়া!

    না, ঠিক ঝগড়া নয়।

    ঠিক আছে। পরে শুনবো। আজ ফিরতে একটু রাত হবে হয়তো। জেগে থেকে। আমি আজই সব শুনবো।

    কিন্তু আমি তো কালীঘাটের বাড়িতে উঠিনি।

    তবে কোথায় আছো? বাপের বাড়িতে নাকি?

    হ্যাঁ।

    গণ্ডগোলটা তাহলে বেশ গুরুচরণ, কী বলো?

    আমি অন্য একটা অ্যারেনজমেন্টের কথা ভাবছি।

    কী অ্যারেনজমেন্ট মা?

    ভাবছি কিছুদিন দূরে সরে থাকাটা দরকার।

    তাতে কিছু লাভ হবে মনে করো?

    কাছে থেকেও তো হচ্ছে না।

    হচ্ছে না কে বলল? আমি তো দেখছি হচ্ছে। এই যে আমাকে অপদস্থ করতে বাড়ি থেকে দুম করে পালিয়ে গেল, কিন্তু তোমাকেও নিয়ে গেল সঙ্গে। এটা কি ওর উন্নতির লক্ষণ নয়?

    আমরা ওভাবে চলে যাওয়াতে আপনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন নিশ্চয়ই!

    তা হয়েছিলাম। তবে পরে হাসিই পেয়েছিল। পুলিশ ওকে নিয়ে গিয়ে কিছু ইনটেরোগেশনের পর ছেড়ে দিত। সেটাই নিয়ম। কেন যে খামোখা টুক করতে গেল! তবে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ায় দামড়াটা সম্পর্কে আমার একটু শ্রদ্ধাও হয়েছিল। এটা বুদ্ধির কাজ। কিন্তু তারপর কী হল মা?

    সব তো ফোনে বলা যায় না।

    সে তো ঠিকই। দামড়াটা কি এখনো পুরীতেই আছে।?

    হ্যাঁ।

    হোটেলের নামটা বলবে?

    সী ভিউ।

    ঠিক আছে। আমি দেখছি। তুমি তাহলে এমন বাপের বাড়িতেই থাকবে বলছ!

    আপনি যদি অনুমতি দেন এবং রাগ না করেন।

    ধ্রুবর জন্য তুমি যা করছ তা হয়ত ঠিকই করছ। কিন্তু মা শুধু ধ্রুবই তো নয়, তোমার তো আমরা আছি। দামড়াটাকে জব্দ করতে গিয়ে আমাদের ও জব্দ করা কি ঠিক?

    রেমি বার দুই ঢোক গিলল। একটা আবেগ তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কান্না আসছে। শ্বশুর কেমন মানুষ তা সে জানে না, কিন্তু এই লোকটার মধ্যে সে এক গভীর স্নেহ ও অগাধ প্রশ্রয় পেয়েছে। কিছুতেই এই মানুষটাকে সে নিজের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে না।

    রেমি ধরা-ধরা গলায় বলল, আমি কী করব তা বুঝতে পারছি না।

    কৃষ্ণকান্ত একটু গম্ভীর গলায় বললেন, শানো মা, ধ্রুবর বন্ধুরা তোমার বাপের বাড়িতে একটা অন্যায় হামলা চালিয়েছিল। তাতে বেয়াই বাড়িতে, আমার মানসম্মান নষ্ট হয়েছ, বেয়াইমশাইয়েরও চূড়ান্ত অপইমান হয়েছে। এটা তুমি নিশ্চয়ই বোঝো যে ধ্রুব একাজ করেছে আমাকে আর বেয়াইমশাইকে অপ্রস্তুত করার জন্যই। অন্য কেউ হলে আমি আরো কঠিন ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু সে আমার ছেলে বলেই বিচারের ভার নিজের হাত না নিয়ে পুলিশের হাতে ছেড়ে দিয়েছি। সেটা কি অন্যায় করেছি, বলো!

    না, অন্যায় কেন হবে! ঠিকই করেছেন।

    আমি জানি তুমি ওই দামড়াটাকে অসম্ভব ভালবাসো। এত ভালবাসা পাওয়ার যোগ্যতা ওর নেই। তাই ভাবছিলাম, বাপ হয়ে ছেলেকে পুলিশের হাতে দিচ্ছি বলে তুমি আমার ওপর আবার অসন্তুষ্ট না হও!

    অসন্তুষ্ট হইনি তো!

    হয়েছো মা, নইলে এতক্ষণ কথা বলছ অথচ একবারও আমাকে বাবা বলে ডাকোনি।

    রেমি স্তব্ধ হয়ে রইল কিছুক্ষণ। কৃষ্ণকান্তকে ইচ্ছে করেই আজ সে বাবা বলে ডাকছিল না। সম্পর্ক তো সে শেষ করতেই চলেছে। এখন কী বলবে। তার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় বেদনা বোধহয় প্রিয়জনকে অকারণ আঘাত করার বেদনা।

    রেমি স্তব্ধতা ভেঙে বলল, ঠিক তা নয় বাবা।

    কৃষ্ণকান্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, অত কঠিন হয়ো না মা। আমি নানা কারণে বড় জর্জরিত। কিছুটা বোধহয় শুনেও থাকবে। এর মধ্যে তুমিও যদি ওরকম কঠিন হও তাহলে আমি কোথায় দাঁড়াই বলো তো!

    রেমি জানে, কৃষ্ণকান্ত এত দুর্বল প্রকৃতির মানুষ নন। তবে তিনি মানুষকে পটাতে ওস্তাদ। তবু এই চিনি মাখান কথায় রেমি জেনেশুনেও ভিজল। একটু হেসে বলল, আমি তো এখনো পাকাপাকিভাবে কিছু ঠিক করিনি, আপনি এরকম ভাবছেন কেন?

    না বলে ধ্রুবর সঙ্গে পুরী গেলে মা, তাতে কিছু মনে করিনি। কিন্তু এখন যেসব কথা বলছ তাতে ভয় পাচ্ছি।

    আমি কি কালীঘাটের বাড়িতে চলে যাবো বাবা?

    কৃষ্ণকান্ত একটু ভাবলেন। তারপর বললেন, না, আজ থাক। কাল আমি গাড়ি পাঠিয়ে দেবো। যদি তোমার মা বাবা অমতি করেন তাহলে চলে এসো। আজ বরং বিশ্রাম নাও।

    আপনি যা বলবেন তাই করব বাবা।

    কোরো মা। আমি কাউকে খুব খারাপ পরামর্শ দিই না। তোমার স্বামী যদি আমার কথা ছিটেফোঁটাও শুনত তাহলে মানুষ হয়ে যেত।

    রেমি আচমকাই বলে বসে, আপনি কেন ওর মুখোমুখি হয়ে জবাবদিহি করতে বলেননা!

    আমি! কৃষ্ণকান্ত যেন চমকে ওঠেন। তারপর স্তিমিত কন্ঠে বলেন, আমি মাত্র একজনকেই দুনিয়ায় ভয় পাই মা। তোমার স্বামীকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article ছোটদের ২৫টি মজার গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }