Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শক্তি – বার্ট্রান্ড রাসেল

    বার্ট্রান্ড রাসেল এক পাতা গল্প292 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. সংগঠনের ইতিবৃত্ত

    সংগঠনের ইতিবৃত্ত

    এ পর্যন্ত আমরা আলোচনা করেছি ক্ষমতার মনস্তত্ত্বগত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস সম্পর্কে : প্রথা, বিশেষত যাজক বা রাজার প্রতি সম্মানরূপে, ভয় এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা, যা নগ্ন ক্ষমতার উৎস, পুরনো বিশ্বাসের স্থলে নতুন বিশ্বাস যা বিপ্লবী ক্ষমতার উৎস এর ধর্ম বিশ্বাস ও অন্যান্য ক্ষমতার উৎসের ভেতর ঘাত-প্রতিঘাত। এখন আমরা আমাদের আলোচনার নতুন বিভাগে আসছি : ক্ষমতার চর্চার মাধ্যমে সংগঠনগুলোর আলোচনা। প্রথমত জীবনীশক্তিসম্পন্ন। প্রতিষ্ঠান হিসেবে, পরে বিভিন্ন প্রকার ব্যবস্থাপনা সাপেক্ষে এবং পরিশেষে এগুলোর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের জীবনের উপর এগুলোর প্রভাব সম্পর্কে। আমাদের আলোচনার এই পর্বে সংস্থাগুলোকে যতদূর সম্ভব তাদের উদ্দেশ্য ছাড়া বিবেচনা করতে হবে, যেভাবে মানুষ বিবেচিত হয়ে থাকে অস্থিবিদ্যা ও জীব রসায়নে।

    সংগঠনগুলোর ইতিবৃত্ত নামক এই পর্বে যা আলোচনা করা হবে তা নির্ভর করছে এই সত্যের উপর যে, সংগঠন হচ্ছে একটি কর্মশীল সংস্থা (Organism), যার জিন আছে এবং ক্ষয় ও বৃদ্ধির প্রবণতা রয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের ভেতর প্রতিযোগিতা বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের ভেতর প্রতিযোগিতার মতোই এবং তা মোটামুটিভাবে ডারউইনের পদ্ধতির অনুরূপ দেখা যেতে পারে। কিন্তু এ ধরনের সাদৃশ্যে অন্যান্য জিনিসের মতো অধিক গুরুত্ব দেয়া যাবে না। তা ধারণা দিতে পারে, কিন্তু প্রদর্শিত করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ আমরা ধরে নিতে পারি না যে, সামাজিক সংগঠনগুলোতে অনিবার্য ক্ষয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের।

    সামগ্রিকভাবে না হলেও ক্ষমতা প্রধানত নির্ভরশীল সংগঠনের উপর। তা টিকে থাকতে পারে প্লেটো ও গ্যালিলিওর খাঁটি মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতার অনুরূপ সামাজিক প্রতিষ্ঠান ছাড়াই। কিন্তু সাধারণভাবে এ ধরনের ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না চার্চ, রাজনৈতিক দল বা অনুরূপ কোনো সামাজিক সংস্থার দ্বারা প্রচার ও প্রসার না ঘটলে। এ মুহূর্তে আমি বিবেচনার বাইরে রাখব সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কহীন ক্ষমতা।

    একই লক্ষ্য অর্জনে নিবেদিত কর্মকাণ্ড সম্পাদনের জন্য সংঘবদ্ধ জনগোষ্ঠীই সংগঠন। তা স্বেচছামূলক হতে পারে একটি ক্লাবের মতো, পরিবার বা ক্লোনের মতো তা স্বাভাবিক জৈবিক গোষ্ঠীভুক্ত হতে পারে, হতে পারে তা রাষ্ট্রের মতো বাধ্যতামূলক। সংগঠনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট বা অস্পষ্ট, চেতনাসম্পন্ন বা অচেতন হতে পারে, তা হতে পারে সামরিক বা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয়, শিক্ষা বা ক্রীড়া সংক্রান্ত। বৈশিষ্ট্য বা উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন প্রত্যেক সংগঠনে রয়েছে ক্ষমতার বিভাজন। অবশ্যই এর একটি সরকার থাকবে এবং তা সিদ্ধান্ত নেবে সারা সংগঠনের নামে। যে উদ্দেশ্যে সংগঠন টিকে থাকে তার সঙ্গে সঙ্গতিশীল যে কোনোভাবে এর ক্ষমতা সংগঠনের একক সদস্যের চেয়ে হয়ে থাকে বেশি। ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে মানব সভ্যতার কৌশলের জটিলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সংঘবদ্ধ হওয়ার সুবিধাগুলো। কিন্তু সবসময়ই কিছুটা স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয় সংঘবদ্ধতার ফলে। আমরা অন্যদের উপর অর্জন করতে পারি বৈধ ক্ষমতা আবার অন্যরাও আমাদের উপর অর্জন করতে পারি বৈধ ক্ষমতা আবার অন্যরাও আমাদের উপর অর্জন করতে পারে ক্ষমতা। ক্রমাগত অধিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সংগঠনগুলোর-ব্যক্তি বিশেষের নয়। সদস্য সংখ্যা কম না হলেও সংগঠনের সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরি করতে হয় সরকার পদ্ধতির মাধ্যমে। শিল্প-পূর্ব সমাজের চেয়ে আধুনিক সভ্য সমাজের জীবনধারায় সরকার আবশ্যিকভাবে পালন করে থাকে অনেক ভূমিকা।

    বাস্তবে একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক সরকার সম্ভব হলেও তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ক্ষমতার বিভাজন। যৌথ সিদ্ধান্তে প্রত্যেকের সমান ভূমিকা থাকলে এবং সদস্য সংখ্যা এক লাখ (ধরা যাক) হলে, নিঃসঙ্গ বন্য জীবের মতো অন্যের উপর মোট ক্ষমতার লক্ষতম ভাগ ক্ষমতা থাকে। তা জন্ম দেয় অরাজকতাপূর্ণ জনগোষ্ঠী মনস্তত্ত্ব থেকে ভিন্ন রকম মনস্তত্ত্বের। যেখানে সরকার পুরোপুরিভাবে গণতান্ত্রিক নয় সেখানে বৃদ্ধি পায় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব। গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত হলেও সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণকারী সদস্যের চেয়ে বেশি। একই কথা প্রযোজ্য গণতান্ত্রিক সরকারের নিযুক্ত অফিসিয়ালদের বেলা। সংগঠন যত বড় হবে নির্বাহীদের ক্ষমতা হবে তত বেশি। সুতরাং সংগঠনের পরিবৃদ্ধির প্রত্যেক ধাপে ক্ষমতার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায় অসমতা। পাশাপাশি সদস্যদের স্বাধীনতা খর্ব হয় ও বৃদ্ধি পায় সরকারের স্বাধীনতা। সাধারণ মানুষ তা মেনে নেয়, কারণ, একক প্রচেষ্টার চেয়ে যৌথ প্রচেষ্টায় অর্জিত হয় বেশি কিছু, ব্যতিক্রমধর্মী ক্ষমতালোভী ব্যক্তিরা আনন্দ করে, কারণ, তা এনে দেয় সুযোগ। সরকার বংশগত অথবা ক্ষমতালোভী ব্যক্তিটি বিশেষ গোষ্ঠীভূক্ত হলেও দেখা দেয় ব্যতিক্রম।

    দুধরনের প্রতিযোগিতা ক্ষমতালাভের: একটি আন্তঃসাংগঠনিক প্রতিযোগিতা; অন্যটি একটি সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যকার প্রতিযোগিতা। আন্তঃসাংগঠনিক প্রতিযোগিতা শুধু তখনই দেখা যায়, যখন এগুলোর উদ্দেশ্য মোটামুটি একই অথচ বেমানান। তা হতে পারে অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রচারণা বা এর যে কোনো দুটো বা তিনটিরই সমন্বয়। তৃতীয় নেপোলিয়ান যখন সম্রাট হচ্ছিলেন তখন তার-ই স্বার্থে নিয়োজিত একটি সংগঠন সৃষ্টি ও পরে অর্জন করতে হয়েছিল এর শ্রেষ্ঠত্ব। এই উদ্দেশ্যে কিছু মানুষকে তিনি সিগার দেন-তা ছিল অর্থনৈতিক অন্যান্য মানুষের কাছে তিনি নিজেকে চাচার ভাজিতা বলে পরিচয় দেন তা ছিল প্রচারণা। পরিশেষে তিনি কিছু সংখ্যক বিরোধীকে গুলি করে হত্যা করেন–তা ছিল সামরিক। ইতিমধ্যে তার বিরোধীরা স্থির সিদ্ধান্ত নেয় গণতান্ত্রিক ধরনের সরকারের প্রশংসায় এবং নিন্দা করে সিগার ও বুলেটের। গ্রিকদের সময় থেকেই পরিচিত গণতন্ত্রের উপর একনায়কতন্ত্র অর্জনের কৌশল। সবসময়ই তাতে অন্তর্ভুক্ত ঘুষ, প্রতারণা ও হিংস্রতার একই মিশ্রণ। যাক আমাদের বর্তমান বিষয়বস্তু ঘুষ, প্রতারণা ও ও হিংস্রতার একই মিশ্রণ। যাক আমাদের বর্তমান বিষয়বস্তু এটা নয়। সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক ইতিবৃত্ত হলো আমাদের বর্তমান বিষয়বস্তু।

    সংগঠনগুলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভিন্ন হয়ে পড়ে : একটি হচ্ছে আকার; অন্যটি বলা যায় ক্ষমতার তীব্রতা, যার অর্থ আমি মনে করি সদস্যদের উপর এগুলোর নিয়ন্ত্রণে মাত্রা। সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের ক্ষমতাপ্রীতির জন্যেই প্রতিটি সংগঠনে বিরোধী শক্তির অবর্তমানে রয়েছে এর আকার ও ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রবণতা। সহজাত কারণে এ উভয় প্রকার বৃদ্ধি রদ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, একটি আন্তর্জাতিক দাবা ক্লাব যথেষ্ট কৃতিত্বের অধিকারী সফল দাবা খেলোয়াড়দের করতে পারে অন্তর্ভুক্ত। সম্ভবত ক্লাব সদস্যদের দাবা খেলার সঙ্গে সম্পর্কহীন কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না। একজন শক্তিমান সম্পাদকের অধীনে থেকে তা আরও অধিক সংখ্যক লোককে দাবা সচেতন করে তোলার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু তা অসম্ভব হয়ে পড়বে সম্পাদক দাবাড় না হলে। এতে দাবা ক্লাব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ভালো খেলোয়াড়দের দল ত্যাগের ফলে। কিন্তু এ ধরনের বিষয় ব্যতিক্রমধর্মী। সম্পদ বা রাজনৈতিক আধিপত্য সংগঠনের উদ্দেশ্য হলে শুধু অন্যান্য সংগঠনের চাপের মাধ্যমে অথবা সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে এর বৃদ্ধি ঠেকানো যেতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত স্বাধীনতা প্রীতি খুব প্রবল হলেই শুধু সম্ভব তীব্রতা ঠেকানো।

    রাষ্ট্র হচ্ছে এর সবচেয়ে স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। কোনো রাষ্ট্র রাজ্যজয়ের লক্ষ্য স্থির করে যথেষ্ট শক্তিশালী হলে। কিন্তু যদি অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারে যে এর প্রকৃত ক্ষমতা অনুভূত ক্ষমতা থেকে কম অথবা অনভিজ্ঞতাবশত অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাধর (এর প্রকৃত ক্ষমতার চেয়ে) বলে বিশ্বাস করে তাহলে সে বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখায়। সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, কোনো রাষ্ট্র পারলে জয় করে নেয় রাজ্য। কিন্তু যুদ্ধ ক্ষেত্রে শুধু সমান শক্তিশালী অন্য রাষ্ট্রের মোকাবেলায় থেমে যায়। গ্রেট ব্রিটেন আফগানিস্তান জয় করেনি কারণ রাশিয়া সেখানে ব্রিটিশের মতোই শক্তিশালী। নেপোলিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লুসিয়ানা বিক্রি করে দেন কারণ তার পক্ষে সম্ভব ছিল না লুসিয়ানার প্রতিরক্ষা। শুধু অভ্যন্তরীণ শক্তির বিবেচনায় প্রতিটি দেশই বিশ্বব্যাপী হতে চায়। কিন্তু একটি দেশের ক্ষমতা কমবেশি ভৌগোলিক : সাধারণত এ ক্ষমতা কেন্দ্র থেকে উত্থিত হয় এবং কেন্দ্র থেকে দূরত্বের সঙ্গে হ্রাস পায়। পরিণামে কেন্দ্র থেকে বিশেষ দূরত্বে এর ক্ষমতা ভারসাম্য সৃষ্টি করে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে এবং প্রথাগত শক্তির হস্তক্ষেপ না ঘটলে সেখানে গঠিত হয় সীমান্ত।

    এ পর্যন্ত কথিত সব কিছুই গুণগত পরিবর্তন ছাড়া সত্যে পরিণত হওয়ার জন্য অতিশয় বিমূর্ত। ছোট রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ক্ষমতা বলে নয় বরং বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক ঈর্ষামূলক মনোবৃত্তির জন্যেই টিকিয়ে রেখেছে অস্তিত্ব। বেলজিয়াম টিকে আছে কারণ এর অস্তিত্ব সুবিধাজনক ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের জন্য। পর্তুগালের অনেক উপনিবেশ রয়েছে কারণ বৃহৎ শক্তিগুলো একমত হতে পারেনি এগুলোর বিভক্তির ব্যাপারে। যুদ্ধ মারাত্মক বিধায় কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে রাজ্যাংশ বজায় রাখা কিছুকাল সম্ভব, কিন্তু তা সে হারাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রের নজরে পড়লে। এসব বিবেচনা আমাদের সাধারণ নীতির ক্ষতি করে না। এগুলো শুধু কার্যকরি শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটায়, যা বিলম্বিত করে অপরিণত শক্তিগুলোর ক্রিয়াকলাপ।

    বলা যেতে পারে যে, পারলে কোনো রাষ্ট্র দখল করে নেয়–এ নীতির ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র। এটা স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মারাত্মক অসুবিধা সৃষ্টি হতো না মেক্সিকো এবং প্রকৃতপক্ষে লাতিন আমেরিকার সব রাষ্ট্র দখল করে নেয়ার কার্যক্রম হাতে নিলে। যা হোক রাজনৈতিক বিজয়ের স্বাভাবিক উদ্দেশ্য বর্তমানে বিরোধী শক্তির দ্বারা এ ক্ষেত্রে হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। গৃহযুদ্ধের আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর ছিল সাম্রাজ্যবাদী প্রবণতা। মেক্সিকোর যুদ্ধে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং বিশাল এলাকা সন্নিবেশিত হয়। গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী বসতি স্থাপন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কার্যক্রম সবচেয়ে শক্তিমান নাগরিকের কর্মশক্তি আত্তীকরণের জন্য যথেষ্ট ছিল। এই কার্যক্রম এক প্রকার শেষ হয়ে আসতেই ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে স্পেন-আমেরিকার যুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদের সজীব তাড়না প্রকাশ পেতে দেয়। কিন্তু আমেরিকার সংবিধানে নতুন এলাকার সন্নিবেশ অসুবিধাজনক। এর অন্তর্ভুক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত নতুন ভোটারদের অনুপ্রবেশ। তাছাড়া এর ফলে অভ্যন্তরীণ মুক্ত বাণিজ্যিক এলাকা বিস্তার লাভ করে এবং তাই তা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থের পক্ষের ক্ষতিকারক। লাতিন আমেরিকার উপর-আপাতত অভিভাবকত্ব সংবলিত মনরো মতবাদ তাই প্রভাবশালী স্বার্থের ক্ষেত্রে সন্নিবেশের চেয়ে অধিকতর সন্তোষজনক। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে রাজনৈতিক বিজয় সুবিধাজনক হলে শিগগিরই তা ঘটত।

    সবসময়ই শাসকদের কাম্য ছিল রাজনৈতিক বলয়ে ক্ষমতার কেন্দ্ৰায়ন এবং সবসময় শাসিতরা এর বাধা প্রদান করেনি। আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় একনায়ক দেশের চেয়েও প্রাচীন বড় সাম্রাজ্যগুলোতে তা অধিকতর পূর্ণতা লাভ করে। কিন্তু কার্যত কৌশলগতভাবে সম্ভব ক্ষেত্রগুলোতে তা সীমাবদ্ধ ছিল। যাতায়তই সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল প্রাচীন রাজপুরুষদের জন্য। মিসর ও ব্যাবিলনে বড় বড় নদীও এ সমস্যা সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। কিন্তু পারস্য শাসন নির্ভরশীল ছিল সড়ক পথ যোগাযোগের উপর। হেরোডেটাস সার্দিন্স থেকে সোসা পর্যন্ত বৃহৎ রাজকীয় রাস্তার বর্ণনা দিয়েছে। ১৫০০ মাইল দীর্ঘ রাস্তার উপর দিয়ে শান্তির সময়ে রাজকীয় বার্তাবাহক এবং যুদ্ধকালীন সৈন্য চলাচল করত। তিনি বলেন-রাস্তার প্রকৃত বর্ণনা হচ্ছে নিম্নরূপ : পুরো রাস্তাব্যাপী রাজকীয় স্টেশন ও চমৎকার পান্থশালা বিরাজমান; রাস্তাটি আগাগোড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে এবং তাই তা বিপদমুক্ত-প্রাইজেরিয়া ত্যাগ করে হেলিস অতিক্রম করতে হয়; ফটক রয়েছে, এগুলোর মধ্য দিয়ে জনস্রোত অতিক্রমের আগে আপনাকে অবশ্যই নিতে হবে অনুমতি (ছাড়পত্র)। একটি শক্তিশালী বাহিনী এই স্থান পাহারা দিয়ে থাকে। … সিসিলিয়া ও আর্মেনিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্ত হচ্ছে ইউফ্রেটিস নদী। তাই পার হতে হয় নৌকাযোগে। আর্মেনিয়াতে পনেরোটি বিশ্রামের স্থান রয়েছে। এর দুরত্ব ৫৬.৫ প্যারাসংস (প্রায় ১৮০ মাইল)। এক জায়গায় পাহারারত আছে একজন দেহরক্ষী। চারটি বড় নদী এই জেলাকে ছেদ করেছে, এর প্রতিটি পার হতে হয় নৌকাযোগে…. পুরো স্টেশনের সংখ্যা উন্নীত হয়েছে ১১১টিতে, প্রকৃতপক্ষে এই বিশ্রামস্থল সার্দিস ও সোসার মধ্যবর্তী দেখতে পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১৫০ ফার্লং গতিতে চললে (প্রায় সৈনিকদের গতি সমান) ভ্রমণ সম্পন্ন করতে সঠিকভাবে লেগে যায় নব্বই দিন।

    এ ধরনের রাস্তা যদিও সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি সম্ভব করে তুলেছিল তারপরও তা রাজাকে সামর্থ্য যোগায়নি দূরবর্তী প্রদেশগুলো পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। একুজন ঘোড়সওয়ার বার্তাবাহক এক মাসে সার্দিস থেকে সোসাতে সংবাদ নিয়ে আসত, কিন্তু সার্দিস থেকে সোসাতে যেতে সৈন্যদের লেগে যেত তিন মাস। যখন আওনিয়া পারস্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল তখন এশিয়া মাইনরে ইতিমধ্যে কোনো সৈন্য না থাকায় বিদ্রোহের মোকাবেলা করতে তাদের লেগে যায় কয়েক মাস। সব সাম্রাজ্য প্রায়ই প্রাদেশিক গভর্নদের দ্বারা পরিচালিত বিদ্রোহ দেখেছে; এমনকি প্রত্যক্ষ বিদ্রোহ না হলে সবে মাত্র বিজয় ছাড়া স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রায় অনিবার্য ছিল এবং কালক্রমে তা সমর্থ ছিল স্বাধীনতার রূপলাভে। প্রাচীন কোনো বড় রাষ্ট্রই বর্তমান যুগের মতো একই মাত্রায় কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো না। এর প্রধান কারণই ছিল দ্রুত চলাচলের সুবিধার অভাব।

    মেসিডোনিয়াবাসীদের মাধ্যমে রোমানরা পারসিকদের কাছ থেকে শিখেছিলেন কিভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্বারা শক্তিশালী করা যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে। রাজকীয় বার্তাবাহক পুরো পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়াব্যাপী দিনরাত ঘন্টায় ভ্রমণ করতে পারত গড়ে দশ মাইল। কিন্তু প্রতিটি প্রদেশেই রাজকীয় পদ সামরিক কমান্ডারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যিনি তাদের সৈন্যদলের অগ্রগমন পথে কেউ নেই এমন কিছু না জেনেই পরিচালনা করতে পারতেন সৈন্য। সৈন্যদের ক্ষিপ্রগতি ও সংবাদ প্রেরণে ধীরগতি প্রায়ই রোম সম্রাটের বিরুদ্ধে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। ইতালি আক্রমণের জন্য গোলের উত্তর থেকে কনস্টেন্টাইনের অভিযান সম্পর্কিত গিবনের বর্নণা কনস্টেন্টাইনের আরামপ্রদ ও হেনিবলের কষ্টসাধ্য গমনের ভেতর প্রদর্শন করে স্পষ্ট পার্থক্য।

    গোল থেকে ইতালি অভিযানকালে হেনিবল পর্বতের উপর নিয়ে বর্বর জনপদের মধ্য দিয়ে প্রথমে একটি রাস্তা আবিষ্কার করেন ও পরে তা খুলে দিতে ব্যর্থ হন। বর্বররা এর আগে কখনও নিয়মিত সৈন্য চলাচলের জন্য এ ধরনের রাস্তা মেনে নেয়নি। আল্পস পর্বতমালা তখন প্রকৃতিগতভাবেই শক্তি প্রদত্ত। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যেসব জেনারেল পথের জন্য চেষ্টা করেছিলেন তারা হঠাত্র অসুবিধায় পড়েন বা বাধার সম্মুখীন হন। কনস্টেন্টাইনের যুগে সভ্য ও বাধ্য ছিল পাহাড়ি কৃষকরা। দেশে প্রচুর সম্পদ মজুদ ছিল এবং রোমানরা বহু জনপথ আল্পস পর্বতমালার উপর দিয়ে নিয়ে যায় যা যোগাযোগ স্থাপন করে গোল ও ইতালির ভেতর। কনস্টেন্টাইন কটিয়ান আল্পসের রাস্তাটি (যা বর্তমানে সেনিস পর্বতমালা) অধিক গুরুত্ব দিতে এবং এত সক্রিয় অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তার সেনাবাহিনী পরিচালনা করেন যে, রাইনের তীরবর্তী অঞ্চল থেকে তার প্রস্থান সম্পর্কে সেক্রেনসিয়াম কোর্টে (রোমে) কোনো কিছু বোধগম্য হওয়ার আগে তিনি প্রবেশ করেন পিডমন্টের সমতল ভূমিতে।

    ফলাফল দাঁড়াল এই যে, মেক্সেনসিয়াস পরাজিত হন এবং ধর্মের মর্যাদা লাভ করে ক্রিশ্চিয়ানিটি রাষ্ট্র। যদি রোমানদের রাস্তাঘাট অধিকতর শোচনীয় না হতো এবং সংবাদ প্রেরণের ত্বরিত ব্যবস্থা থাকত তবে ভিন্নরূপে আবির্ভূত হতো বিশ্ব ইতিহাস।

    দূরবর্তী স্থানগুলোতে সরকারি ক্ষমতার ব্যবহার সম্ভব করে তোলে বাষ্পচালিত জাহাজ, রেলপথ ও সর্বশেষে উড়োজাহাজ। সাহারা অথবা মেসোপটেমিয়ায় বিদ্রোহ হলে আজকাল কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তা দমন করা যায়। কিন্তু একশো বছর আগেও সৈন্য পাঠাতে কয়েক মাস সময় লেগে যেত এবং তা খুব কষ্টকর হতো বেলুচিস্তানে আলেকজান্ডারের সৈন্যদের মতো তৃষ্ণায় মৃত্যুবরণ থেকেও।

    সংবাদ প্রেরণও মানুষ ও দ্রব্যসামগ্রীর ত্বরিত চলাচল ব্যবস্থার মতো সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৮১২ সালের যুদ্ধের শান্তি স্থাপন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর নিউ ওলিন্স যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যদিও পরস্পরবিরোধী কোনো পক্ষই জানত না প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে। সপ্ত বর্ষের যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশ সৈন্যরা কিউবা বা ফিলিপাইন দখল করে নেয়, কিন্তু শান্তি চুক্তিতে সই করার আগ পর্যন্ত ইউরোপে তা জানা ছিল না। টেলিগ্রাফ আবিষ্কারের আগে শান্তি কালীন দূতদের ও যুদ্ধকালীন জেনারেলদের অনেক স্বাধীনতা ছিল, কারণ নির্দেশগুলো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রতিফলিত হতো না। দূরবর্তী সরকার তাদের প্রতিনিধিদের প্রায়ই নিজস্ব বিবেচনার উপর নির্ভর করে কাজ করার জন্য আহ্বান করত এবং এভাবেই কেন্দ্র নির্দেশিত মামুলি নীতিমালার প্রেরকের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ যে সংবাদ মানুষের চেয়েও দ্রুততর। একশো বছর আগেও সংবাদ দ্রুততর ছিল না ঘোড়ার চেয়ে। অপরাধের সংবাদ প্রকাশের আগেই পার্শ্ববর্তী শহরে পালাতে পারত একজন ডাকাত। আজকাল সংবাদ প্রথমেই পৌঁছে বলে পলায়ন অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধের সময় সরকারই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সব আদান-প্রদানের দ্রুত উপায়গুলো। ফলে বেড়ে যায় তাদের ক্ষমতা।

    আধুনিক কলাকৌশল শুধু সংবাদ আদান-প্রদানের দ্রুততার মাধ্যমেই নয় বরং রেল, টেলিগ্রাফ, মোটর ট্রাফিক এবং সরকারি প্রচারণার দ্বারাও বিশাল সাম্রাজ্যগুলোকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল করে তুলেছে। বিদ্রোহ সহজ করার জন্য প্রাচীন পারস্যের প্রাদেশিক শাসন এবং রোমান প্রকনসুলের যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল সাম্রাজ্য। এটিলা ও চেঙ্গিস খাঁর সাম্রাজ্যগুলো ক্ষণস্থায়ী ছিল এবং ইউরোপীয় জাতিগুলো নতুন জগতে তাদের দখল হারাল। কিন্তু বাহ্যিক আক্রমণ ছাড়া অধিকাংশ সাম্রাজ্যই আধুনিক সুবাদে মোটামুটি নিরাপদ। বিপ্লব দেখা দিতে পারে শুধু যুদ্ধে পরাজিত হলেই।

    সর্বতোভাবে এ কথা বলা যাবে না যে, দূরবর্তী এলাকাগুলোতে ক্ষমতার ব্যবহার সহজ হয়ে কলাকৌশলের উন্নতির ফলে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলো লাভ করেছে বিপরীত ফল। হেনিবলের সৈন্যরা যোগাযোগ ছাড়াই বহু বছর বেঁচে ছিল। অপরপক্ষ আজকাল বিশাল সৈন্যবাহিনী অনুরূপ পরিবেশে দুই অথবা তিন দিনের বেশি টিকে থাকতে পারে না। পালের জাহাজের উপর নির্ভরশীল নৌকাবাহিনী চলাচল ছিল বিশ্বব্যাপী, এখন তাদের ঘন ঘন জ্বালানি নিতে হয় বলে কোনো কেন্দ্র থেকে তারা বেশি দূর যেতে পারে না। নেলসনের সময় ব্রিটিশরা সমুদ্রে কোথাও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলে তা বলবৎ হতো সর্বত্রই। অধুনা নিজস্ব জলসীমায় তাদের আধিপত্য থাকলেও দুরপ্রাচ্যে তারা দুর্বল ও বাল্টিক সাগরে প্রবেশাধিকার নেই তাদের।

    সাধারণভাবে বলা যায় যে, আজকাল কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী স্থানগুলোতে ক্ষমতা প্রয়োগ করা অধিকতর সহজ। এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিযোগিতা বেড়ে যায় এবং বিজয় অধিকতর নিরঙ্কুশ হয়, কারণ দক্ষতার কোনোরূপ ক্ষতি হয় না আয়তন বৃদ্ধির ফলে। একটি বিশ্বরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে সম্ভব। প্রকৃতপক্ষে তা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে কোনো মারাত্মক যুদ্ধে বিজয়ী ব্যক্তি অথবা নিরপেক্ষ ক্ষমতাশালী ব্যক্তির দ্বারা।

    ক্ষমতার তীব্রতা ও সংগঠনের শক্তি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো জটিল ও অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি জনপদে গঠিত রাষ্ট্র আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি কর্মতৎপর। এর হাত রয়েছে রাশিয়া, জার্মানি ও ইতালিতে প্রায় সব মানবীয় বিষয়ে। মানুষের ক্ষমতাপ্রীতি রয়েছে, কিন্তু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা ক্ষমতার মোহে বেশি আচ্ছন্ন অন্যান্য মানুষের চেয়ে। ফলে আশা করা যায় যে, যিনি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হাতে পেয়েছেন তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় রাষ্ট্রের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে বৃদ্ধি করবেন তার অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ। জোরালো যুক্তি রয়েছে রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ জোরদার করার পেছনে। সুতরাং সাধারণ নাগরিকের নীরব সমর্থন থাকবে রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপে সরকারের ইচ্ছার প্রতি। যা হোক কিছু স্বাধীনতাপ্রীতিও থাকবে নাগরিকদের ভেতর। এক পর্যায়ে এই স্বাধীনতাপ্রীতি এত প্রবল হবে যে, তা অস্থায়ীভাবে হলেও আরও অধিক বৃদ্ধি হতে দেবে না সংগঠনের শক্তি। পরিণামে সংগঠনের শক্তি একটি বিশেষ পর্যায়ে পৌঁছলে জনসাধারণের স্বাধীনতা বৃদ্ধি পেলে স্বাধীনতা প্রীতি প্রবল হবে আবার সংগঠন হ্রাস পেলে প্রবল হবে অফিসিয়াল ক্ষমতাপ্রীতি।

    স্বাধীনতাপ্রীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহ্যিক হস্তক্ষেপের অবাস্তব বিরোধী নয় বরং নিষিদ্ধকরণ, বাধ্যতামূলক সৈন্যদলে নিযুক্তি, ধর্মীয় আনুগত্য ইত্যাদির মতো একপ্রকার সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরোধী। কখনও কখনও এ ধরনের অনুভূতি দমিত হতে পারে ক্রমাগত প্রচারণা ও শিক্ষার দ্বারা। এর ফলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়ে স্বাধীনতাপ্রীতি। অনেক শক্তিই আধুনিক সম্প্রদায়গুলোর ভেতর সমতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যেমন–স্কুল, সংবাদপত্র, ড্রিল ইত্যাদি। একই প্রভাব রয়েছে জনসংখ্যার ঘনত্বেরও। স্বাধীনতাপ্রীতি ও ক্ষমতাপ্রীতির মধ্যকার অস্থায়ী ভারসাম্য তাই আধুনিক অবস্থায় ক্রমাগতভাবে ক্ষমতার দিকে সরে পড়ে। এইভাবে সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রের উদ্ভব হয় ও প্রশস্ত হয় এর সফলতার পথ। শিক্ষার মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রীতি কতটুকু হ্রাস করা সম্ভব বর্তমানে তা জ্ঞাত নয়। বিদ্রোহের উদ্রেক না করে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা ক্রমাগতভাবে কতটুকু বাড়ানো যেতে পারে বলা অসম্ভব। কিন্তু এ রকম সন্দেহের কারণ নেই যে, বর্তমান যুগে তা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে স্বৈরশাসনের চেয়ে।

    এ পর্যন্ত আমাদের আলোচিত সংগঠনগুলোর মতো রাষ্ট্র ছাড়া সব সংগঠনই একই প্রকার আইনের অধীন, শুধু ব্যতিক্রম এই যে, এগুলো প্রয়োগ করতে পারে না শক্তি। আমি আলোচনার বাইরে রাখছি ক্ষমতা তাড়নার অবদানে অক্ষম ক্লাবের অনুরূপ সংগঠনগুলোকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজনৈতিক দল, চার্চ এবং ব্যবসায় কর্পোরেশনগুলো। লক্ষ্য অর্জনে যত কম সফল হোক না কেন বিশ্বব্যাপী বিস্তার লাভ করতে চায় অধিকাংশ চার্চই। অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে সদস্যদের কিছু গুরুত্ববহ অভ্যন্তরীণ বিষয়। যেমন-বিবাহ ও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা। সম্ভাব্যতা প্রমাণিত হলে চার্চগুলো রাষ্ট্রীয় কাজে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করে। তিব্বতে পিটারসের পিতৃত্বে এবং কিছু মাত্রায় সংস্কার আন্দোলন পর্যন্ত পুরো পশ্চিম ইউরোপে তা ঘটেছে। কিছু ব্যতিক্রম থাকা সত্ত্বেও চার্চের ক্ষমতা তাড়না সীমিত হয়ে পড়েছে শুধু সুযোগ-সুবিধার অভাবে এবং ভিন্নমত বা অনৈক্যরূপে বিদ্রোহের ভয়ে। যা হোক অনেক দেশেই জাতীয়তাবাদ তাদের ক্ষমতা খর্ব করে দিয়েছে এবং আগেকার ধর্মীয় তাড়নাগুলো রাষ্ট্রীয় তাড়নায় পরিণত হয়েছে। ধর্মীয় শক্তি হ্রাস পায় এবং জাতীয় রাষ্ট্রের শক্তি বৃদ্ধি পায় জাতীয়তাবাদের ফলে।

    রাজনৈতিক দলগুলো অতি সাম্প্রতিককালেও অতি ঠিলেঢালা সংগঠন ছিল এবং অতি অল্প চেষ্টাই করেছে সদস্যদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য। ঊনবিংশ শতাব্দীব্যাপী সংসদ সদস্যরা প্রায়ই দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করে তাদের ভোটাধিকার। ফলে দলীয় বিভক্তির পূর্বাভাস বর্তমানের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত ছিল। ওয়ালপল নর্থ এবং পিট একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত তাদের সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণ করতেন দুর্নীতির মাধ্যমে। দুর্নীতি হ্রাসের পরও রাজনীতি অভিজাত নিয়ন্ত্রিত ছিল। ফলে সরকার ও দলীয় নেতাদের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কোনো পথ ছিল না। আজকাল বিশেষত শ্রমিক দলের সদস্যরা ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং প্রতিজ্ঞা বিফল হলে সাধারণত তাদের রাজনৈতিক মৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। দাবি করা হয় দুধরনের আনুগত্য : কর্মসূচিতে মতামত ঘোষণায় এবং নেতাদের প্রতি দৈনন্দিন কার্যকলাপে। নামমাত্র গণতান্ত্রিক উপায়ে কর্মসূচি স্থির হলেও কিছু সংখ্যক তোষামোদকারীর দ্বারা তা খুব বেশি প্রভাবিত হয়। সংসদ বা সরকারি কার্যকলাপে কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে কি-না স্থির করার দায়িত্ব নেতাদের উপর পরিত্যক্ত। তারা এমন না করার সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্বাসভঙ্গের সমর্থনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা অনুসারীদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু বিবৃতিতে এ ধরনের কিছু অস্বীকার করা হয়। এই পদ্ধতির ফলেই ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ সমর্থন লাভ। এগুলোর বাস্তবায়ন ছাড়াই নেতারা ওকালতি করেছেন সরকারের পক্ষে।

    ওইদিকে সব রাজনৈতিক দলেল সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রভূত বৃদ্ধি পেয়েছে, তারপরও এখনও তা কমিউনিস্ট, ফ্যাসিস্ট ও নাজিদের তুলনায় অপরিমিতভাবে কম গণতান্ত্রিক দলগুলোতে। ঐতিহাসিক ও মনোগত দিক দিয়ে শেষোক্তগুলো গোপন সংস্থার বিকাশ-রাজনৈতিক দলের নয়। স্বেচ্ছাচারী সরকারের অধীন যেসব মানুষ মৌলিক পরিবর্তন চায় তারা গোপনীয়তার দিকে ধাবিত হয় এবং যখন তারা একত্রিত হয় তখন বিশ্বাসঘাতকতার ভয় তাদের কঠোর শৃঙ্খলার দিকে পরিচালিত করে। গুপ্তচর-মুক্ত বিশেষ নিরাপদ জীবন পদ্ধতিই স্বাভাবিক। ঝুঁকি, গোপনীয়তা, বর্তমান দুঃখভোগ এবং ভবিষ্যৎ বিজয়ের আশা এক প্রকার ধর্মীয় আনন্দানুভূতি এবং যাদের মধ্যে এই ভাব সহজেই উদিত হয় শুধু তারাই আকর্ষিত হয়ে থাকে। একটি বিপ্লবী গোপন সংস্থার লক্ষ্য অরাজকতা হলেও এর ভেতর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যকলাপের ঊর্ধ্বে বহু বিস্তৃত পরিদর্শন সংবলিত একটি কঠোর স্বৈরাচারী শাসনের সম্ভাবনা দেখা যায়। নেপোলিয়ানের মৃত্যুর পর ইতালি গোপন সংস্থার পরিপূর্ণ হয়ে পড়ে, যেগুলোর প্রতি কিছু মানুষ আকর্ষিত হয় বিপ্লবী তত্ত্বের দ্বারা ও অন্যান্য মানুষ অপরাধমূলক কাজের দ্বারা। রাশিয়ায় একই ব্যাপার ঘটে সন্ত্রাসবাদের সাথে সাথে। রাশিয়ায় কমিউনিস্টরা ও ইতালিতে ফ্যাসিস্টরা গোপন সংস্থার মানসিকতায় গভীরভাবে উচ্ছ্বসিত ছিল এবং এগুলোর উপর নির্ভর করে রচিত হয় নাজিদের কাঠামো। তাদের কিছু নেতা সরকার গঠন করলে তারা দল পরিচালনার একই যুক্তি সাহায্যে রাষ্ট্র শাসন করে। বিশ্বব্যাপী তাদের অনুসারীদের ভেতর অধীনতামূলক আপেক্ষিক স্পিরিট কাম্য।

    অর্থনৈতিক সংগঠন আকারে বৃদ্ধি পেলে জন্ম দেয় ক্ষমতার গতিবিজ্ঞান সম্বন্ধীয় মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গির। এ বিষয়ের উপর তিনি যা বলেছেন তার অনেকটাই পরিণত হয়েছে সত্যে। কিন্তু এগুলো ক্ষমতা তাড়নার অবদানে সক্ষম সব সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য-অর্থ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেই নয় শুধু। উৎপাদনের এই প্রবণতা ট্রাস্টের জন্ম দেয় যা বৃহৎ রাষ্ট্র এবং এর উপরাষ্ট্রের সঙ্গে সমভাবে বিস্তৃত; কিন্তু কদাচই অস্ত্র কারখানা ছাড়া বিশ্বব্যাপী ট্রাস্ট গঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। টারিফ ও কলোনিগুলো রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী করে তুলেছে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। অথনৈতিক পরিমন্ডলে বৈদেশিক বিজয় ট্রাস্টভুক্ত রাষ্ট্রের জাতীয় সামরিক শক্তির উপর নির্ভরশীল। সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র ছাড়া আজকাল তা আর পুরনো পদ্ধতির খাঁটি ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার দ্বারা পরিচালিত নয়। গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চেয়ে ইতালি ও জার্মানিতে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক আরও গভীর এবং স্পষ্ট। কিন্তু এ কথা মনে করা ভুল হবে যে, ফ্যাসিবাদের অধীন বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইংল্যান্ড, ফ্রান্স অথবা আমেরিকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে রাষ্ট্রকে অধিক নিয়ন্ত্রণ করে। অপরপক্ষে ইতালি ও জার্মানিতে বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্য সব কিছুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কমিউনিস্ট ভীতির ব্যবহার করছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায় যে, ইতালিতে বাধ্যতামূলক মূলধন সংগ্রহের সূচনা হচ্ছে, কিন্তু পক্ষান্তরে ব্রিটিশ শ্রমিক দল কর্তৃক একই জাতীয় অপেক্ষাকৃত মৃদু প্রস্তাব জন্ম দেয় পুঁজিপতিদের হৈচৈয়ের এবং সফল হয় পুরোপুরিভাবে।

    এর শক্তি আগের যে কোনো একটি অথবা একত্রে উভয়টি শক্তির চেয়ে বেশি হয়ে তাকে মানানসই ভিন্ন উদ্দেশ্যের দুটো সংগঠন একত্রীভূত হলে। যুদ্ধের আগে মহান উত্তরাঞ্চলীয় লন্ডন থেকে ইয়র্ক, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয়রা ইয়র্ক থেকে নিউকেসল এবং উত্তর অঞ্চলে ব্রিটিশরা নিউকেসল থেকে এডিনবার্গ গিয়েছেন। আজকাল LNER-রা সব দিকে যায় এবং স্পষ্টত তিনটি কোম্পানির চেয়ে শক্তিশালী। অনুরূপভাবে একটি ইস্পাত কারখানা খনিজ নিষ্কাশন থেকে শুরু করে জাহাজ নির্মাণ পর্যন্ত একই কর্পোরেশন কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ হওয়া সুবিধাজনক। এই কারণে একটি স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে একত্রীকরণের। শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই তা সত্য নয়। এ পদ্ধতির যৌক্তিক পরিণতি হিসেবে সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন রাষ্ট্র অন্য সব সংগঠনকে আত্তীকৃত করে ফেলে। সংগঠন বিভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সংগঠন হলে একই ধরনের প্রবণতা কালের প্রবাহে এক সময় বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পরিচালিত হবে। যদি বিভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সংগঠন হলে একই ধরনের প্রবণতা কালের প্রবাহে এক সময় বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পরিচালিত হবে। যদি বিভিন্ন রাষ্ট্রের সম্পদ, স্বাস্থ্য, বুদ্ধিমত্তা অথবা নাগরিকদের সুখ অর্জন হয় তবে তা অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু হবে না। তবে এগুলোকে জাতীয় ক্ষমতার চেয়ে মনে করা হয় কম গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বিভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের ভেতর সংঘাত দেখা দেয় এবং একত্রীকরণের পরিণাম ভালো হয় না। পরিণামে একটি বিশ্বরাষ্ট্র শুধু সম্ভব যদি একটি জাতীয় রাষ্ট্র পুরো পৃথিবী জয় করে অথবা জাতীয়তাবাদের গন্ডি অতিক্রম করে একটি ধর্মমত বিশ্বজনীন হয়ে ওঠে।

    জাতীয়তাবোধের জন্য রাষ্ট্রীয় পরিবৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা হচ্ছে দলীয় রাজনীতি বা ধর্মে দৃষ্ট সীমাবদ্ধতার মতোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আমি এই পরিচ্ছেদে উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত জীবনপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর আলোচনা করব। এটা উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি যে, তা সম্ভব বিশেষ সীমা পর্যন্ত। আলোচনা প্রয়োজন এই সীমানার বাইরে আবেগ-উচ্ছ্বাসে সংগঠনের যে আবদেন রয়েছে তার।

    বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায় ব্যক্তি বিশেষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে প্রতিটি শ্রেণিই হচ্ছে অনুভূতির এবং কিছু সংখ্যক মনোবিজ্ঞানী একে অভিহিত করেছেন অনুভূতি আশ্রিত অভিমত নামে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনুরাগের পর্যায়ে রয়েছে দেশপ্রেম, পরিবারপ্রেম, ক্ষমতাপ্রীতি, উপভোগপ্রীতি এবং আরও কিছু। আবার বিরাগ মনোভাবের পর্যায়ে রয়েছে বেদনাপ্রীতি, বিদেশিদের প্রতি ঘৃণা ইত্যাদি। কোনো এক বিশেষ সময়ের একটি মানুষের আবেগ মিশ্রিত অনুভূতি হচ্ছে তার স্বভাব, তার বিগত ইতিহাস এবং বর্তমান পরিবেশের জটিল সৃষ্টি। দৃষ্টান্তস্বরূপ ধরা যাক পারিবারিক অনুভূতি। তা গৃহায়ন, শিক্ষা বা জীবন বীমার মতো যেসব বিষয়ে বিভিন্ন পরিবারের সিল রয়েছে ওই সব বিষয়ের জন্য সংগঠন সৃষ্টি করেছে। বর্তমানের চেয়ে বেশি পরিমাণে অতীতে তা জন্ম দিয়েছে অনেকগুলো পরিবারের স্বার্থরক্ষার জন্য বিশেষ পরিবারের। দৃষ্টান্তস্বরূপ উল্লেখ করা যায় মন্টেগু ও ক্যাপুলেট স্বার্থরক্ষাকারী সংগঠনের। এমন একটি সংগঠন হলো রাজবংশোদ্ভূত রাষ্ট্র। অভিজাত সরকার হচ্ছে বিশেষ পরিবারগুলোর সমন্বয়ে গঠিত, যা সমাজের অবশিষ্টাংশের স্বার্থের বিনিময়ে সমন্বয়কারী পরিবারগুলোর সুবিধাদির উদ্দেশ্যে গঠিত। এ ধরনের সংগঠন সবসময়ই কমবেশি পরিবারগুলোর সুবিধাদির সংবলিত। বিরাগ অনুভূতিগুলো হচ্ছে ভয়, ঘৃণা, অবমাননা ইত্যাদি। এ ধরনের অনুভূতি তীব্রভাবে অনুভূত হলে তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় সংগঠনের পরিবৃদ্ধির সাথে।

    এই সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা প্রদান করে ধর্মতত্ত্ব। খ্রিস্টীয় যুগের প্রথম দিকে কয়েক শতাব্দী ছাড়া অন্য কোনো সময়েই ইহুদিদের উদ্দেশ্য ছিল না। জেন্টাইলদের ধর্মান্তরিত করার। তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতির দ্বারা সন্তুষ্ট ছিল। জাপান অবশিষ্ট দুনিয়ার আগে সৃষ্টি হয়েছিল–সিন্টের এই শিক্ষা জাপানি ছাড়া কারো অনুভূতিতে নাড়া দেবে এমন আশা করা যায় না। প্রত্যেকেই এই গল্প জানে যে, ওল্ড লিকট স্বর্গে উপস্থিত হয়ে অন্য মানুষের উপস্থিতি আবিষ্কারে বাধাপ্রাপ্ত হন, কারণ ভয় ছিল যে এতে নষ্ট হবে তাদের স্বর্গীয় সুখভোগ। একই ধরনের অনুভূতি নিতে পারে আরও অশুভ রূপ। অত্যাচারীদের কাছে অত্যাচার এত আনন্দের নয় যে, ভিন্ন মতাবলম্বী শূন্য পৃথিবী তার কাছে অসহনীয় হবে। অনুরূপভাবে হিটলার ও মুসোলিনি যেহেতু মনে করেন যে, যুদ্ধ মানবীয় কার্যাবলির ভেতর সবচেয়ে মহৎ কাজ সুতরাং পুরো পৃথিবী জয়ের পর যুদ্ধ করার মতো কোনো শত্রু অবশিষ্ট না থাকলে তারা সুখি হতে পারবে না। দলীয় রাজনীতিতে একটি দলের প্রশ্নাতীত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হলে তা দাঁড়ায় নিরানন্দের কারণ হয়ে।

    যে সংগঠন এভাবে ব্যক্তি বিশেষের প্রতি এর আবেদন, গর্ব, হিংসা, ঘৃণা, : অবমাননা অথবা প্রতিযোগিতায় আনন্দের মধ্য থেকে পেয়ে থাকে তা বিশ্বব্যাপী হয়ে পড়লে পূর্ণ করতে পারে না এর উদ্দেশ্য। যে বিশ্বে এ ধরনের ভাবাবেগ খুব বেশি শক্তিশালী সেখানে কোনো সংগঠন বিশ্বব্যাপী হয়ে পড়লে তা নিশ্চিতভাবে ভেঙে পড়বে চালিকাশক্তির অভাবে।

    এ পর্যন্ত আমরা যা আলোচনা করেছি তাতে দেখা যাবে যে নেতৃত্বের চেয়ে আমরা সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের অনুভূতি নিয়েই আলোচনা করেছি বেশি। যাই হোক না কেন সংগঠনের উদ্দেশ্য, এর নেতৃত্ব ক্ষমতা থেকে তৃপ্তি পেয়ে থাকে। তাই তাদের স্বার্থ হয় না সাধারণ সদস্যদের স্বার্থের মতো। তাই নেতৃত্বের ভেতর বিশ্বজয়ের আকাক্ষা যতটা প্রবল ততটা নয় সদস্যদের ভেতর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিক্ষা প্রসঙ্গ – বার্ট্রান্ড রাসেল
    Next Article মানুষের কি কোনো ভবিষ্যত আছে? – বার্ট্রান্ড রাসেল

    Related Articles

    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কেন আমি ধর্মবিশ্বাসী নই – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    সুখের সন্ধানে – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    অপেক্ষবাদের অ, আ, ক, খ – বারট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কর্তৃত্ব ও ব্যক্তিসত্তা – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    ধর্ম ও বিজ্ঞান – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    দর্শনের সমস্যাবলি – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }