Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প80 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সমুদ্র কন্যা – ৫

    পাঁচ

    সিংহসাহেব এই বিহ্বল দৃষ্টির প্রতি একটি করুণার কটাক্ষ নিক্ষেপ করে বলেন, ‘না, সে প্রশ্ন থাকছে না। দ্বিতীয় পর্যায়টা অবশ্য পাত্রীর চেহারা, তা সে নিয়েও আমি এখন ব্যস্ত হচ্ছি না। মনে হচ্ছে, আপনার ছেলের বিয়ের প্রীতিভোজের দিন মেয়েটিকে আমি দেখেছিলাম।

    শরদিন্দু সহসা যেন সংবিৎ ফিরে পান।

    ব্যস্ত হয়ে বলেন, ‘কী, সেকী, বিলক্ষণ, মানে পাশের বাড়িতেই আছে বোধহয়, ডেকে পাঠাচ্ছি—’

    বলেন অবশ্য কাঁপা-কাপা বুকেই, কারণ অফিস থেকেই ফেরেনি এখনো সোমা, আর ফেরার সময় হয়ে এসেছে। যাকগে—এসে পড়ে, ম্যানেজ করে নেওয়া যাবে, তাড়াতাড়ি দুটো কথার মারপ্যাচেই হয়ে যাবে, নচেৎ ডাকতে পাঠানোর একটা ‘শো’ করে কিছুটা সময় নেওয়া যাবে।

    কিন্তু সিংহসাহেব তার বুকে বল দিলেন।

    বললেন, ‘থাক থাক, হবে’খন। মেয়ে তো রইল আপনার। আগে মতটা নিন। বিয়ে ব্যাপারটা তো একটা চাপিয়ে দেওয়ার ব্যাপার নয়।

    চারটি সন্দেশের থেকে আধখানা, ও এক পেয়ালা চায়ের দু-চুমুক খেয়ে সিংহসাহেব বিদায় নিলেন, এবং ঠিক বাবার মুখে, বিয়ে কি টাকা এসব কোনো কথা না তুলে খুব আন্তরিক গলায় বলে গেলেন, তাড়াতাড়ি সেরে উঠুন শরদিন্দুবাবু! এ কী! কী বয়েস আপনার যে, এখুনি এমন বুড়িয়ে যাচ্ছেন? আমায় দেখুন।

    গাড়িতে গর্জন তুলে চলে যান।

    তত্রাচ দেখতেই থাকেন শরদিন্দু-দম্পতি।…গাড়ির ধুলো নিশ্চিহ্ন হওয়ার অনেক পর পর্যন্ত দেখতে থাকেন।

    বিহ্বলতা কাটলে শরদিন্দু-গৃহিণী সুপ্রভা বলে ওঠেন, ‘হ্যাঁ গো, এ যে দেবতুল্য লোক! কী অমায়িক, কী ভদ্র! তবে যে তুমি বলতে, অহঙ্কারী উন্নাসিক, মানুষকে মানুষ জ্ঞান করে না—’

    শরদিন্দুও অবশ্য বিস্ময়াভিভূত, তবু সামলে নিয়ে একটু উচ্চাঙ্গের হাসি হেসে বলেন, ‘যে করত না, সে হচ্ছে ‘চেয়ার’, বুঝলে? “চেয়ারে”র অহঙ্কার বড় সর্বনেশে জিনিস, মানুষকে মানুষ রাখে না, কিম্ভূত করে তোলে।

    আরো কিছুক্ষণ চলল আলোচনা, আর তারপর হঠাৎই দুজনে দুজনের মুখের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালেন—কিন্তু টাকার কথাটা শেষ পর্যন্ত কী হল?

    তাই তো!

    শেষ পর্যন্ত এই কথাই তো হল মনে হচ্ছে, টাকা সিংহসাহেব দেবেনই, একদার অধস্তনের এই বিপদ-বার্তায় বিগলিত হয়েই দেবেন। এবং সেটা কোনো শর্তের অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু কীভাবে দেবেন? কবে দেবেন?

    সেটার তেমন ফয়সালা হল কই?

    ‘তোমাকেই একবার দেখা করতে হবে,’ সুপ্রভা বলেন, ‘উনি কি আর যেচে যেচে রোজ আসবেন? এই তো কার মুখে না কার মুখে তোমার অসুখের খবর পেয়ে— তোমাদের নন্দবাবুর কাছে শুনেছেন বললেন না?’

    ‘হ্যাঁ, তাই তো বলল—।’ শরদিন্দু আর যেন কথা খুঁজে পান না। এবার শরদিন্দুকে একটা ভয় গ্রাস করছে। এতক্ষণে যেন সহসা অনুভব করছেন শরদিন্দু, লোকটা কেবলমাত্র সৌজন্যে বিগলিত হয়েই তাঁকে দেখতে আসেনি, মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই বিয়েটাই। যতই অবহেলাভরে উচ্চারণ করুক কথাটা, সোমাকে ও দেখেছে, এবং দেখে মুগ্ধ হয়েছে। তাই পুঁটিমাছের ঘরে রুই রাজার আগমন

    কিন্তু সত্যিই যদি ওই বিয়েটা করতে চায় ও?

    সোমার মুখ মনে পড়ে এখন, আর এ-ও মনে পড়ে, এলোমেলো অসংলগ্ন কতকগুলো কথার মধ্যে তিনি যেন একটা প্রতিশ্রুতিই দিয়ে বসেছেন।

    ওরে বাবা, এ তিনি কী করলেন!

    ওই প্রায় তাঁর নিজের বয়সী লোকটার সঙ্গে সোমার বিয়ে? ছি ছি!

    আর লোকটার প্রবৃত্তিকেও বলিহারী, এই তিন কাল কাটিয়ে এসে এখন কি না বিয়ের শখ! তা শখ করলি করলি, আমার মেয়ের দিকে নজর কেন?

    বিহ্বলতা কেটে গিয়ে আস্তে আস্তে আবার সেই পুরোনো কালের বিরূপতা এসে মনকে আচ্ছন্ন করে তোলে, লোকটাকে মহাপাজি মনে হয়, এবং শেষ পর্যন্ত এই স্থির হয়—ঠিক আছে, টাকা তো আর নিয়ে ফেলিনি যে, বাধ্য-বাধকতায় পড়ে যাব? করব না দেখা, দেব না বিয়ে, চাই না টাকা, ব্যস্।

    মেয়ে-বেচা টাকায় আমি বাড়ি রক্ষা করব?

    ফুটপাথে গিয়ে দাঁড়াব বরং।

    হ্যাঁ, সেদিন সেই কথাই ভাবলেন শরদিন্দু। ভেবেছিলেন।

    কারণ তখনো ‘সম্ভ্রম’ শব্দটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল শরদিন্দুকে। মনে হয়েছিল, লোকটা যেন শরদিন্দুর দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে, শরদিন্দুকে অপমান করতে চাইছে।

    যেন পুরোনোকালের কোনো আক্রোশ পুষে এনেছে, প্রতিশোধ নেবে বলে। তাই ভাবলেন, কক্ষনো দেব না বিয়ে! ওই বুড়োর হাতে আমি সোমাকে তুলে দেব? ছি ছি!

    সুপ্রভাকে ডেকে বললেন, ‘সোমাকে এসব কিছু বলার দরকার নেই।’

    ‘দরকার নেই?’ সুপ্রভা যেন ঝাপসা গলায় বলেন, ‘তাহলে?’

    ‘তাহলে আর কী? স্পষ্ট বলে দেব, টাকায় আমার দরকার নেই। বরং গাছতলায় থাকবো, তবু তোমার মতো ঘুষখোর পাজি অহঙ্কারী আর কুটিল বুড়োর হাতে মেয়ে তুলে দিতে পারবো না।’

    শরদিন্দু নিজের রোগের দুর্বলতা ভুলে বীরদর্পে পায়চারি করতে থাকেন।

    সুপ্রভা বিচলিত দৃষ্টিতে তাকান।

    সুপ্রভা ঠিক এই পরিস্থিতির উপযুক্ত প্রসঙ্গ খুঁজে পান না।

    সুপ্রভার মধ্যেও তোলপাড় চলছিল বই-কি। চলছিল যুদ্ধ।

    যুদ্ধ চলছিল স্নেহের সঙ্গে স্বার্থের, লোভের সঙ্গে বিবেকের। আর বারে বারেই একটা অন্ধকার ভবিষ্যৎ যেন ভয়ের ছায়া ফেলে ফেলে এক পক্ষের শক্তি হরণ করে নিচ্ছিল।

    এ তো তবু খেয়ে না-খেয়ে পড়ে থাকা যাচ্ছে। এখনো লোক সমাজে ‘শরদিন্দুবাবুর বাড়ি’ বলে একটা পরিচয়ের মর্যাদা আছে।

    কিন্তু এই বাড়ির চৌকাঠ পার হয়ে ফুটপাথে নামলে?

    সেই বিভীষিকার ছবির সামনে সভয়ে চোখ বোজেন সুপ্রভা, আর তখনই বলবান পক্ষের তীক্ষ্ণ যুক্তির অস্ত্রগুলো ঝকঝকিয়ে ওঠে।…দ্বিতীয় পক্ষেও তো বিয়ে হয় লোকের। বয়েসই বেশী, স্বাস্থ্যে শক্তিতে লোকটা তাজা তরুণদের চেয়ে কিছু কম নয়। টাকা জিনিসটাও ফেলনা নয়, চিরদিনই তো মেয়েটা অভাবের মধ্যেই মানুষ, ইচ্ছেমতো দু’খানা শাড়ি কেনবার সুযোগও হয় না। বলতে গেলে অবস্থার গতিকেই লেখাপড়া হল না। ওখানে বিয়ে হলে একেবারে রাজ-সিংহাসনে বসবে। যা বোঝা যাচ্ছে, বুড়ো একেবারে টাকার কুমীর। তা’ টাকা দিয়েই অনেক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কেনা যায়। সচ্ছলতার বাড়া সুখই বা কী আছে জগতে? অনটনের বাড়া কষ্ট?

    ওই প্রকাণ্ড গাড়িটা সোমার নিজের হবে, ইচ্ছে হলেই যখন-তখন মা-বাপের সঙ্গে দেখা করতে আসবে, ছোট ভাইদের দেবে-থোবে, বেড়াতে নিয়ে যাবে। পড়ালেখার সুরাহা করে দেবে। জীবনভোর ওই সাবান কোম্পানীর চাকরিতে ঘসটালেও যা না হবে, এতে কড়ে আঙুলে আগা নাড়লেই তা হবে।

    কিন্তু শঙ্খ?

    এইখানেই যেন থতমত খাচ্ছেন। যেন চলতে চলতে পায়ের নীচে প্রকাণ্ড একটা গর্ত দেখছেন।

    শঙ্খ কী বলবে?

    তা’ বলবে হয়তো অনেক কিছুই। হয়তো ব্যঙ্গহাসি হাসবে, হয়তো ধিক্কার দেবে, আর নয় তো বা বিস্ময়ের আঘাতে শুষ্ক হয়ে গিয়ে শুধু বলবে, কাকীমা, আপনারা এই?’

    বলাই স্বাভাবিক।

    ছেলেবেলা থেকেই তো চন্দ্র-সূর্যের মতোই নিশ্চিত আছে ওদের দুজনের বিয়ে হবে।

    সেই যখন ছোট ছিল, শঙ্খ যত ছেলেদের খেলা খেলতো, সোমা তার খিদমদারি করে বেড়াতো। নিজের সমবয়সী মেয়েদের পুঁছতই না সোমা, বন্ধু সঙ্গী গুরুদেব— সবই ওই শঙ্খ।

    আনুগত্যও যত, আধিপত্যও তত। শঙ্খ যেন ওর খাসতালুক।

    শঙ্খও সোমাকে শাসন করে যত, ভয় করে তত।

    আস্তে আস্তে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আধিপত্য আর আনুগত্য যে নিশ্চিত বিশ্বাসের ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে সেকথা কি সুপ্রভা জানেন না?

    কিন্তু ইদানীং সুপ্রভাকে চোখ ফিরিয়ে নিতে হয়েছে সেদিক থেকে। সোমা বিয়ে করে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে একথা ভাবতেই পারেন না সুপ্রভা

    তাই চোখ বুজে না বোঝার ভান করে চলছেন ইদানীং।

    তবে আজ পর্যন্ত মুখ ফুটে ঠিক বিয়ের প্রস্তাব তো কোনো পক্ষ থেকেই হয়নি। কাজেই সে চক্ষুলজ্জার দায় নেই। এরপর যদি সেকথা ওঠে, আকাশ থেকে পড়লেই হবে। বললেই হবে, ‘ওমা সে কী? চিরটা কাল ভাইবোনের মতো হাসল খেলল। বলতে গেলে ভাইবোনই তো! একই তো বাড়ি।’

    ব্যস্, চুকে যাবে চক্ষুলজ্জা।

    জামাইয়ের ঐশ্বর্যেই তাক লাগিয়ে দেওয়া যাবে সবাইকে।

    আর সোমা?

    তা’ তাকেও একটু বুঝিয়ে বলতে হবে।

    হতে পারে মেয়ের শঙ্খর ওপর আছে টান, কিন্তু ও আমার পেটের সেরা সন্তান, ওর দাদা-দিদিদের মতো আত্মসর্বস্ব স্বার্থপর নয়। ও আমাদের দুঃখ বুঝবে। বুঝবে, ওর একটু বিবেচনায় এই সংসার ভরাডুবি থেকে রক্ষে পাবে। কিছুই না, বিয়ের পাত্র একটু বয়সে বড়।

    আর এমনিতেই কি হচ্ছিল বিয়ে?

    হচ্ছিলই না তো।

    ওই অফিস আর বাড়ি! এই করতে করতেই বুড়িয়ে যেতে হত, এ তো তবু ঘর বর, রাজার সংসার, সব কিছু পাচ্ছিস। দোজবরে নয়, সতীনের চারটি ছেলে-মেয়ে নেই, আপত্তির কী থাকতে পারে? না, ওকে আমি বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ম্যানেজ করে নেব, ও বুঝদার।

    ও বুঝদার! অতএব ওর প্রতি অবুঝ হও।

    ও সকলের প্রতি মমতাময়ী, অতএব ওর প্রতি নির্মম হও।

    ও স্বার্থপর নয়, অতএব বাকি সবাই স্বার্থপর হও।

    এই নিয়ম পৃথিবীর। কাজেই পৃথিবীর নিয়মেই চলেন সুপ্রভা। মনে মনে সংকল্প করেন, ওকে বলতে হবে।

    বলতে হবে বই-কি। বিয়ে বলে কথা, না জানিয়ে তো হবে না?

    যুদ্ধ চলছিল মনের মধ্যে। থামল সে যুদ্ধ।

    যুদ্ধের একপক্ষ সম্পূর্ণ পরাজিত হল, অতএব আর এসব চিন্তায় লজ্জা নেই।

    আর লজ্জা কি থাকলেই হল?

    হাজার দশেক টাকার আচ্ছাদন পড়ল না তার ওপর

    তবে হ্যাঁ, আস্তে আস্তে বলতে হবে।

    কাজেই সেদিন যখন সোমা ফিরল, শুধু সিংহসাহেবের মহানুভবতার কথাই বলা হল তাকে। কোন সেই নন্দবাবু, তাঁর মুখে নাকি শরদিন্দুর অসুখ শুনে দেখতে এসেছেন।

    কে কবে শুনেছে এমন?

    সোমা অবশ্য অবাক হয়।

    বলে, ‘কিন্তু আগে তো ওর অহঙ্কারী বলে খুব নিন্দে শুনেছি বাবার মুখে।’

    ‘ওই, তো’, সুপ্রভা হাসেন, ‘তোমাদের বাবা বললেন, অহঙ্কারী ছিল ওর চেয়ারখানা। আসলে লোকটা উদার মহৎ। শুধুই কি দেখতে আসা? আরও যা বলে গেছেন, শুনলে অবাক হয়ে যাবি।’

    ‘আরও অবাক?’ হেসে ওঠে সোমা।

    বাড়ি ছাড়ার নোটিস আসা পর্যন্ত হাসিখুশি তো ছিল না এ-বাড়িতে, আজ বইছে তার হাওয়া। সোমা বাড়ি ফিরেই এ-হাওয়ার স্পর্শ পেয়েছে, তাই সোমাও হাসে, ‘আরও অবাক! বাবাকে আবার ডেকে অফিসার করে দিতে চাইল নাকি?”

    সুপ্রভাও হেসে ওঠেন, ‘অফিসের সঙ্গে আর সম্পর্ক কী তাঁর? তিনিও তো রিটায়ার করেছেন। এ একেবারে অবিশ্বাস্য অদ্ভুত,—

    ‘খুলেই বল না বাবা, অত গৌরচন্দ্রিকা কিসের?’

    ‘বলবে, তোর বাবা বলবে।’ সুপ্রভা রহস্যকে জীইয়ে রাখেন। আমি হয়তো কী বলতে কী বলব!’

    সোমা আর দু-একবার বলে, “আঃ! এত রহস্যের আবছায়া কেন? কী এমন মারাত্মক অবিশ্বাস্য আশ্বাস দিয়ে গেলেন তোমাদের সিংহসাহেব?’

    বলে, ‘মনে হচ্ছে যেন পরশপাথর-টাথরের সন্ধান দিয়ে গেলেন তিনি!’

    সুপ্রভা মৃদু হেসে বলেন, ‘তা’ প্ৰায় তাই।’

    ‘আশ্চর্য!’ সোমা ভুরু কুঁচকে বলে, ‘বাবা যখন চাকরিতে ছিলেন, উঠতে-বসতে ওই সিংহীসাহেবের শ্রাদ্ধ করেছেন। তুকতাক কিছু করে গেল না কি?’

    সুপ্রভার মনটা ছটফট করে কথাটা বলে ফেলবার জন্যে, তবু সুপ্রভা ভয়ে বলেন না। মেয়েকে তাঁর বড় ভয়।

    তাই সোমার সব প্রশ্নের উত্তরই এড়িয়ে যান। বলেন, ‘তোর বাবা বলবে।’

    ছয়

    বললেন বাবা। দশ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতিটার কথা মেয়ের কাছে প্রায় সিংহসাহেবের মতোই অবহেলাভরে বললেন। তবে একটু কারচুপি করে বললেন। চেনেন তো মেয়েকে! হয়তো সাহেব করুণায় বিগলিত হয়ে সাহায্য করতে চেয়েছে, এ-কথা শুনলে দপ্ করে জ্বলে উঠবে মেয়ে। তাই বলেন, ‘যেচে ধার দিতে চাইল। তাও শোধ দেবার জন্যে তাড়া নেই, সুদের কোনো কথা নেই, একেবারে নিশ্চিন্ত শান্তি’।’

    সোমা শুনে তীক্ষ্ণ গলায় বলে, ‘খুব দুঃখের গাথা গেয়েছিলে বুঝি পুরোনো মনিবকে কোর্টে পেয়ে?”

    শরদিন্দু উষ্ণ হন। বলেন, দুঃখের গাথা গেয়েছি এ-কথা ভাবতে গেলে কেন হঠাৎ?’

    ‘বাঃ, অকারণ একটা লোক হাত বাড়িয়ে ধার দিতে এলে অবাক লাগে না?’

    ‘হ্যাঁ, তা অবাক লাগে। তাই বলে অবিশ্বাস্য নয়। মানুষের মধ্যেই ভগবান দেখা দেন। দুঃখের গাথা বলছিস? বলি, এ-বাড়িতে এসে দাঁড়ালেই কি বোঝা যায় না যে আমাদের অবস্থা কোথায় ঠেকেছে? যায় না বোঝা? যাদের দৃষ্টি শার্প, তারা এক নজরেই বুঝতে পারে।’

    ‘তা বুঝতে পারলেই কি কেউ—’ সোমা বলে।

    ‘কেউ করে না, উনি মহৎ বলেই সেই অবস্থার ব্যবস্থা করতে ইচ্ছুক।’

    ‘তা ভালোই বলতে হবে।’ সোমা বলে, ‘তাহলে বলতে হয় উনি তোমাদের সেই ঈশ্বর-প্রেরিত না কী, তাই হয়েই এসেছিলেন। সত্যিই যদি আপাতত কিছু টাকা—’

    সাত

    যদিও সোমা বাবার কথা ভালো করে বিশ্বাসে আনতে পারছে না। খামোকা একটা লোক একেবারে দশ-দশহাজার টাকা দিতে চাইবে স্বেচ্ছায়, শুধু পূর্বতন অধস্তনের দুরবস্থা দেখে?

    সত্যযুগেও হয়েছে কখনো এমন ঘটনা?

    তবে কি বাবা এই বন্ধকী বাড়িকেই আবার চালাকি করে বন্ধক দিতে বসেছেন? অথবা বিক্রি করে দিচ্ছেন লুকিয়ে?

    বাবার সম্পর্কে এ কথা ভাবতে লজ্জা করলো সোমার, তবু ভাবলো। তারপর আবার ভাবলো, “তা ওই সিংহসাহেবটি কি খোকা? তিনি দলিল-পত্র দেখবেন না ভালো করে?’

    তা’হলে কি ওই চিরকেলে ঘুষখোর লোকটা কোনো চোরা কারবার ফেঁদেছে? বেনামীতে করবে বলে ঝুঁকি নিতে রাজি এমন কোনো পার্টনার খুঁজছে? আর বোকাসোকা শরদিন্দুকে মনে পড়েছে সেই খোঁজার সূত্রে?

    সোমা কি জোর তলবে তদন্ত করবে ব্যাপারটা কী? না কি চোখ বুজে ভাববে— মরুক গে যা হয় হোক, আসুক কিছু টাকা বাড়িতে!

    টাকা টাকা! কিছু টাকা!

    এই তো ধ্যানজ্ঞান সংসারের।

    সোমার দাদার হৃদয়হীন ব্যবহারের নমুনা দেখা ইস্তক সোমারও তো শয়নে স্বপনে চিন্তা, টাকা!

    তার ওপর ওই নোটিস!

    ক’দিন ধরে তো আর কোনো চিন্তা নেই। শুধু প্রত্যাশা করা হঠাৎ ঘরের ছাদ ভেদ করে নেমে আসছে এক বস্তা টাকা, ঘুম থেকে উঠেই দেখা যাচ্ছে খাটের শিওরে পুঁটুলি-ভরতি টাকা, পথ চলতে পায়ের কাছে টাকার থলি, পিওন এসে কড়া নেড়ে অকস্মাৎ দিয়ে যাচ্ছে টাকার বার্তাবাহী টেলিগ্রাম, রেঞ্জার্সের ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছেন শ্রীশরদিন্দু সরকার!

    অলৌকিকে কখনো আস্থা ছিল না সোমার, এখন যেন ওই অলৌকিকই ভরসা।

    তা সেই অলৌকিকের স্বপ্ন দেখতে দেখতে সত্যিই যে অলৌকিক এসে ধরা দিল।

    নইলে বাবার সেই সিংহসাহেব, উঠতে বসতে বাবা যাকে শাপমন্যি দিতেন, তিনি হঠাৎ মহানুভব হয়ে—

    কে জানে, বাবার কথাই হয়তো ঠিক, চেয়ারটারই দোষ ছিল, মানুষটার নয়। কিংবা কর্মকালীন যত ‘কালি’র চিন্তা হয়তো এখন লোকটার বিবেককে পীড়িত করছে। তাই এই কালি মোছার প্রচেষ্টা।

    সোমা তহলে লোকটাকে শ্রদ্ধা করতে শুরু করবে?

    অনুতপ্ত পাপীও তো শ্রদ্ধার পাত্র।

    অথবা সোমা সত্যিই সেই চিরকেলে প্রবাদটার বিশ্বাসী হবে?

    ‘খোদা যব্ দেতা তর্ ছাপ্পর ফোঁড়কে দেতা!’

    এ খবরটা কতক্ষণে আর কীভাবে শঙ্খকে দেওয়া যাবে, ভাবতে থাকে সোমা।

    আট

    খবর শঙ্খর কাছে পৌঁছতে দেরি হল না।

    সোমার মা-র মারফত আগেই পৌঁছেছিল। আবার সোমার মারফত!

    ভয়ানক ঈর্ষার কারণটা তো এখনো ঊহ্য, তবু কেমন যেন ঈর্ষা বোধ করে শঙ্খ। সোমার বাবা অকূলে কূল দেখতে পেয়েছেন, অন্ধকারে আলোর রেখা, এতে উৎফুল্ল হবার কথা, তবু হতে গিয়েও হতে পারে না। ওই ঈর্ষার কাঁটাটুকুই তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে।

    যেন শঙ্খর প্রাপ্য জয়মাল্যখানা হঠাৎ কোথা থেকে কে এসে ছিনিয়ে নিয়ে নিজের গলায় পরে ফেলেছে।

    টাকা, শুধু টাকার জোরে।

    অথচ এ-টাকা শঙ্খর থাকলে কবেই শঙ্খ এমনি অনায়াসে অবহেলায় বলতে পারত, ‘হাজার দশেক পেলেই আপাতত চলবে আপনার? তা, বেশ তো নিন না আমার থেকে। আপনার ব্যাঙ্কে থাকা আর আমার ব্যাঙ্কে থাকায় তফাত ভাবছেন কেন কাকাবাবু?’

    এই সুন্দর কথাগুলো সুললিত ভঙ্গীতে বলতে পেল না শঙ্খ, একটা ঘুষখোর বুড়ো এসে বলে নিল! কী আপসোস!

    সেই ঝাঁজটাই বেরিয়ে আসে কণ্ঠস্বরে, বাচনভঙ্গীতে, দেবে না কেন? ঘুষের টাকা তো! মা-বাপ নেই টাকার, গোনা-গুনতিও নেই। দশ কেন পুরো তিরিশ হাজারও দিতে পারত।’

    সোমা অবাক হয়ে বলে, ‘ওমা, রাগ করছ কেন?’

    ‘রাগ নয়, কথা হচ্ছে বে-আন্দাজী টাকা থাকলে অমন বেপরোয়া হওয়া যায়।’

    ‘তা বলে তা নয়—’ সোমা হাসে, ‘ওদেরই ওয়ান পাইস ফাদার-মাদার হয়। টাকাই তো ইষ্টদেবতা ওদের!’

    ‘তবে বলতেই হবে, ওই তোমাদের সিংহসাহেব, একদা জুট ব্যাগের কেলেঙ্কারীতে যিনি প্রায় দেশবিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন, তিনি একজন মহৎ ব্যক্তি।’

    ‘দেখ শঙ্খ, লোকটাকে মহৎ আমি বলছি না, এবং ওর টাকাটাও যে খুব পবিত্ৰ নয়, তাতে সন্দেহ নেই। তবে মনে হয়, বড়মানুষের মেজাজ তো! দৈবাৎ পুরোনো পরিচিতের দুঃখ দুরবস্থা দেখে মনটা দুলে উঠেছে। বাবা ওই সুযোগটা না নিয়ে পারছেন না। জানোই তো অভাবে স্বভাব নষ্ট!

    ‘জানি, তবু এটা যদি কাকাবাবু না নিয়ে পারতেন!

    সোমা গাঢ় হয়, সোমা গম্ভীর হয়। ‘আমিও কি সে-কথা ভাবছি না শঙ্খ? অনেকবার ভাবছি। কিন্তু বাবাকে সে-কথা বলব কোন মুখে? বাড়তি একশোটা টাকাও কি হাতে এনে দিতে পারছি? ওদিকে দুর্ভিক্ষ-পীড়িতের সামনে সাজানো থালা!

    এ যুক্তির খণ্ডন নেই।

    শঙ্খও তাই গুম হয়ে থাকে।

    তারপর আবার বলে, ‘জানি না শেষ পরিণাম কী হবে। তবে আমার তো মনে হয় না এসব লোক বিনা মতলবে কিছু কাজ করে—’

    ‘বাবাকে দিয়ে ওর আর এখন কোন মতলব হাসিল হবে?’

    ‘কিছু না হোক ইনকামট্যাক্স ফাঁকির ব্যাপারে সুরাহা হতে পারে। বাথরুমের দেয়ালে টাকা গেঁথে রাখবার সময় নেই বোধহয় হাতে—’

    ‘তা, এই একটা কারণ থাকতে পারে।’

    কারণ ভেবে দিশেহারা সোমা ভেবেছিল, এটাও অসম্ভব নয়। হয়তো বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-পরিচিতের কাছে বিশ্বাস নেই, এই হচ্ছে একেবারে হিসেবের বাইরের মানুষ। এই ভাবেই হয়তো আরো কারো কারো কাছে বদান্যতা দেখাচ্ছে নিজে বিপদমুক্ত হতে।

    তা মরুক গে, ওর ব্যাপার ও বুঝবে।

    বিনা রসিদের টাকায় বাবার আর বিপদে পড়ার আশঙ্কাটা কোথায়?

    নয়

    —ওই টাকাটা হলে আপাতত তোমাদের গৃহ-সমস্যাটা মেটে তাহলে?’ শঙ্খ বলে, “তাহলে ধরাই যাক ঈশ্বর-প্রেরিত।’

    তা’ তাই ধরল সবাই। কিন্তু না আঁচালে বিশ্বাস নেই।

    অবিরত ভাবছেন সেকথা শরদিন্দু আর সুপ্রভা। ‘না আঁচালে বিশ্বাস নেই!’

    কই, আর তো কোনো সাড়া-শব্দ নেই!

    তবে কি লোকটা তখন নেশায় ছিল?

    যেমন নেশায় লোকে হাতি কেনে, রাজ্য দান করে?

    হয়তো তাই। পয়সাওলা লোক, নিশ্চয় মদ টদ খায়, সেই মেজাজের মাথায় যা মুখে এসেছে বলে গেছে।

    আর তাঁরা বোকাসোকা ভালোমানুষ, সে-কথা বিশ্বাস করে বসেছেন। ছি ছি! দুজনে বলাবলি করেন, সোমাকে চট করে না বলে ফেললেই হতো। এরপর সোমা হাসবে। বলবে ‘কী বাবা, কী হল তোমার সিংহসাহেবের? এত আস্ফালন করে হঠাৎ বিবরে ঢুকে পড়লেন যে?’

    তা’ তেমন কথা একদিন বলেও ছিল সোমা হেসে হেসে।

    কিন্তু সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়ে ক’দিন পরেই আবার একদিন এসে হাজির হলেন ঈশ্বরের দূত। খুব সম্ভব চেক বই নিয়েই।

    সেদিন সোমা বাড়িতে।

    সোমা ওঁকে বসিয়েই বাড়ির মধ্যে চলে গেল চা করতে।

    এখানে শরদিন্দু আর সুপ্রভা।

    মনস্থির হয়ে গেছে দুজনেরই তবু ঘামতে থাকেন গলগলিয়ে।

    সোমাকে যে এ পর্যন্ত আসল কথাটাই বলা হয়নি।

    কীভাবে, কোন্ ভূমিকা দিয়ে আরম্ভ করা যাবে, তাই ভাবতে ভাবতেই ক’দিন কেটে গেছে।

    আর তারপর অবিশ্বাস আসতে শুরু করেছে। সেদিনের কথা মন থেকে ঝাপসা হয়ে গেছে।

    কিন্তু এখন, সিংহসাহেবের আবার আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই কথাটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সোমাকে আসল কথাটাই বলা হয়নি।

    হঠাৎ শরদিন্দু পূর্ব পরিস্থিতি ভুলে সুপ্রভার ওপর খিঁচিয়ে উঠে বলে উঠলেন, ‘বলনি সোমাকে?’

    ‘কই, বললাম আবার কখন?’

    ‘বললাম আবার কখন! চমৎকার! এখন? এখন কী হবে? সাহেব যদি হঠাৎ ওকেই জিগ্যেস করে বসে, কী ঠিক করলে?’

    ‘তা’ আমায় বকছো কেন? আমার কী দোষ? তুমিই বা বলনি কেন?’

    ‘আমি!’ শরদিন্দু গোঁয়ারের মতো বলে ওঠেন, ‘আমি মেয়ের কাছে বিয়ের মতামত চাইতে যাব? তুমি মা, তুমি এই সাত-আট দিনের মধ্যে আস্তে আস্তে সইয়ে সইয়ে বলতে পারনি?’

    —তুমিই বলেছিলে মেয়ে-বেচা টাকায় দরকার নেই। বরং ফুটপাতে দাঁড়াব—’

    ‘বলেছিলাম। পাগলে কী না বলে! শেষ পরে বলিনি কি ওসব মান-সম্ভ্রম গরিবের জন্যে নয়? কন্যাপণ বলে একটা কথাও তো আছে বাংলাদেশে?’

    বলেছিলেন সে কথা শরদিন্দু। সুপ্রভা উত্তেজিত হন, ‘তা তোমার সাহেবেরও তো আর খোঁজ ছিল না। যদি মন ঘুরে যায়, শুধু শুধু নিষ্ঠুর কথাটা বলে মেয়ের কাছে হেয় হব আমি?’

    শরদিন্দু আরো উত্তেজিত হয়েছিলেন, ‘তা, সাহেবও ভাবতে পারে, কই, এদের তো ইচ্ছে দেখছি না। মেয়ের মতো আছে কি না জানাবে তো সে-কথা।”

    এমনি পরিস্থিতিতে সিংহসাহেব একা বসে ঘামতে লাগলেন। আর ভাবতে লাগলেন, একখানা পাখাও করতে পারেনি লোকটা, কী অপদার্থ!

    অপদার্থ! সত্যই অপদার্থ!

    অতএব ঘামতে ঘামতে এসে বসলেন তাঁরাও। একই দুঃখে দুঃখী দুটো মানুষ। একই অপরাধে অপরাধী দুই অনুতপ্ত। মনে চিন্তা—ইস্, খবর করা উচিত ছিল। লোকটা মহৎ সেকথা ভুলে যাচ্ছিলাম।

    চেক বইটা পকেট থেকে বার করে লীলাভরে লোফালুফি করতে করতে বলেন সাহেব, ‘ওদের সঙ্গে রফা একটা করে ফেলেছেন তো?”

    না, বিয়ের কথা নয়। স্রেফ শরদিন্দুর সমস্যা নিয়েই কথা। রফাটফা কিছুই করেননি শরদিন্দু। তবু বলেন, ‘সে একরকম হয়েছে।’

    বলেন, ‘তিন মাস সময় দিয়েছিল, তার মধ্যে মাস দুই রয়েছে এখনো।’

    ‘তা বেশ।’ সাহেব হৃষ্ট হন।

    কিন্তু কই, চেকটা কাটা হচ্ছে কই? শুধু কথাই বলছে।

    ঘুঘু বুড়ো তাহলে মুখে যতই উদারতা দেখাক, ওই বিয়ের ব্যাপারটির ফয়সালা না-করা পর্যন্ত টাকাটি ছাড়বে না।

    কে তাহলে বলবে সোমাকে?

    না কি সোমার আড়ালে বলেই ফেলা হবে—’মেয়ে তো খুব রাজি! বলেছি তো, ভারী মমতাশীল মেয়ে! বাবাকে নিশ্চিন্ত করতে, মানে বয়স্থা মেয়েও যে বাপের একটা দুশ্চিন্তা, বোঝে তো সেটা। তা ছাড়া আপনার মতো স্বামী পাওয়া—’

    আশ্চর্য!

    লোকটার আড়াল হলে শরদিন্দুর তার ওপর যেন বিরূপতার শেষ থাকে না। এই ক’দিনের মধ্যে মনে মনে কতবারই ভেবেছে, এমন ব্যাপারটা হলে কেমন হয় যদি লোকটাকে মুখের ওপর যাচ্ছেতাই করতে পারা যায়? যদি বলা হয়, ‘আমার মেয়ের তোমার মতন একটা বুড়ো বদমাস পাজি ঘুষখোরকে বিয়ে করতে দায় পড়েছে হে! সরে পড়। মনে করেছ ঘুষ দিয়েই পৃথিবী কেনা যায়? তোমার জানা পৃথিবীর বাইরে অন্য পৃথিবী আছে, বুঝলে? সৎ সুন্দর সভ্য পৃথিবী। বেশী লোভ দেখাতে আসো তো দেবো পাড়ার রকবাজ ছেলেগুলোকে লেলিয়ে। দেবে তোমার বিয়ের বাসনা জন্মের শোধ ঘুচিয়ে। দাঁতের পাটিটি নামিয়ে দেবে মুখের মধ্যে থেকে। যদি অবশ্য দাঁতটা তোমার নিজের হয়। পয়সা দিয়ে কেনা দাঁত হলে ঘুসির পরিশ্রমটুকুও লাগবে না।’

    এরকম অনেক কড়া কড়া আর ঝাঁঝালো ঝাঁঝালো কথা বলতে ইচ্ছে হয়েছে লোকটার মুখের ওপর। দশ হাজার টাকার অঙ্কটা ধূসর হয়ে গেছে।

    কিন্তু কী যে প্রভাব আছে লোকটার উপস্থিতির।

    তাই মুখোমুখি হলেই মুখে আর কথা যোগায় না। সব কথা গিয়ে জমে যেন হাতের তালু দুটোর মধ্যে। তাই সেই দুটোই কচলাতে ইচ্ছে হয়।

    স্ত্রীকে একবার ইসারা করতে চেষ্টা করলেন শরদিন্দু, সফল হলেন না। সুপ্রভাও যেন শত্রুতা সাধছেন, তাকাচ্ছেন না অলক্ষে।

    সোমা এসে পড়ল এর মধ্যে।

    বুদ্ধিমতী মেয়ে, চা নয়, কফি করে এনেছে, সভ্য সমাজে যেটা বেশী চালু। কফি আর কাজু-বাদাম। সূক্ষ্ম সুরুচিসম্পন্ন আতিথ্য।

    এত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থাটা করল কী করে?

    দুটোর একটাও তো থাকবার কথা নয় বাড়িতে। আর কিছু নয়, অগতির গতি শঙ্খদের বাড়ি। ওদের তবু থাকে ওসব। অবশ্য শরদিন্দুর সংসারও আগে এমন অলক্ষ্মীর সংসার ছিল না।

    সময় অসময়ে দু-পরিবারই জিনিসের লেনদেন করেছে। এদের বাড়ি কুটুম এসে পড়া, ওদের বাড়িরও কুটুম আসা। ওদের বাড়ির হঠাৎ অতিথি, এদের বাড়িরও হঠাৎ অতিথি।

    চা, চিনি, চায়ের দুধ, কাঁচালঙ্কা, পাতিলেবু, আদা, এইসব হঠাৎ করিয়ে যাওয়ার বস্তু এক বাড়িতে থাকা মানেই দু-বাড়িতে থাকা।

    ইদানীং ভাগ্য-বিপর্যয়ে সোমারাই চাওয়ার হাতটা কমিয়েছে, কাজে কাজেই ও-পক্ষ ও সে হাত গুটিয়েছে।

    আজ বোধহয় সোমা এত মাননীয় অতিথি দেখেই—

    তা’ খুব সমীহের ভাবই তো দেখা যাচ্ছে, খুব যত্নের ভাব। মুখের রেখায় অপ্রসন্নতার চিহ্নমাত্র নেই। অবশ্য কারণও নেই। আসল কথাটি তো জানে না। কিন্তু এমনিই লোকটার প্রতি সোমা বিরূপ নয় বোঝা যাচ্ছে।

    না হবারই তো কথা

    তা’ সত্যি বলতে, সোমাও তাই ভেবেছিল। আর এ ক’দিন মনে মনে লোকটাকে জোচ্চোর মিথ্যেবাদী ভাবছিল। ভেবে ভারী লজ্জাবোধ করেছিল।

    অতএব চলে গিয়েছিল ও বাড়ি।

    শঙ্খ ছিল না!

    দেখে স্বস্তিবোধ হয়েছিল।

    শঙ্খর মাকে বলেছিল, ‘কফি আছে জেঠাইমা?’

    শঙ্খর কফি খাওয়ার সখ আছে, মাঝে মাঝে খায়, সে কথা সোমার অগোচর নেই।

    শঙ্খর মা বলেছিলেন, ‘দেখি দাঁড়া। কেন কেউ এসেছে বুঝি?’

    সোমা বলেনি, ‘হ্যাঁ বাবার বসেই সিংহীসাহেব এসেছে।’ সোমা শুধু বলেছিল, ‘হ্যাঁ’।

    আর খুব ব্যস্ততা দেখিয়েছিল ওই সংক্ষিপ্ত ভাষণের ত্রুটিটুকু ঢাকতে।

    শঙ্খের মা কৌটোটা হাতে করে এসে বলেছিলেন, ‘তোর ভাগ্যে রয়েছে একটু।’

    ‘ওতেই হবে’ সোমা আরো ব্যস্ততা দেখিয়েছিল।

    বিপদে মধুসূদন, অকূলে কাণ্ডারী!

    তারপর শঙ্খর ছোটভাই চক্রকে ডেকে বলেছিল, এই চট করে একটা চার আনার কাজুবাদামের প্যাকেট এনে দে তো। বাবার অফিসের এক বুড়ো এসেছে, মিষ্টি নোনতা চা এসব খাওয়াতে গেলে তো আস্ত একটা টাকাই বেরিয়ে যাবে। কিনে ওখানে আমার কাছে দিয়ে দিস।’

    চক্র হাসতে হাসতে চলে গিয়েছিল, ছুটে গিয়ে এনে দিয়েছিল পেছনের গলি দিয়ে।

    সোমা এসব সৌষ্ঠব করেছিল। শরদিন্দু দেখে বাঁচলেন। তবু ভাবলেন আধুনিক ছেলেমেয়েদের মতি-গতি তো বোঝা যায় না, ওরা গাছের যে ডালে বসে থাকে, সেই ডালটার গোড়াতেই আগে কোপ দেয়।

    হয়তো চেকটা বাক্সে তুলতে তুলতে ও বলতে পারবে, ‘লোকটাকে দেখে কিন্তু হাড় জ্বলে গেল বাবা!’

    কিন্তু মনে হচ্ছে তা বলবে না।

    সত্যিই বলবে না।

    নিজের কাছেই নিজে ভারী লজ্জাবোধ করছিল সোমা। সে-দিনের পর থেকে আর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ও তো ধরেই নিয়েছিল বাবাকে ভালোমানুষ পেয়ে স্রেফ দুটো কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে গেছে লোকটা। আর জীবনে ও এ পথ মাড়াচ্ছে না।

    যদি এরপর বাবা নিয়ে ধর্না দেন, হয়তো বলবে, ‘সেকী, আপনাকে খামোকা টাকা দিতে যাব কেন?’ অথবা বলবে, ‘ইস্, স্রেফ ভুলে গেছি। কী ব্যাপারে দেব বলেছিলাম বলুন তো? ওঃ, বাড়ির ব্যাপারে? আচ্ছা, আজ বড় ব্যস্ত, পরে একদিন আসবেন।’

    ঘোরাবে।

    ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিরস্ত করবে।

    এ চিন্তা একেবারে বদ্ধমূল করে ফেলেছিল সোমা মনের মধ্যে। কিন্তু লজ্জা পেল। লোকটা আবার এল। খুব শান্ত অমায়িক গলায় প্রশ্ন করল, ‘বাবা কেমন আছেন আপনার? সেদিন এসেছিলাম, বাড়ি ছিলেন না আপনি। ভারী ভালো লোক আপনার বাবা। অফিসে তো আরো অনেকেই ছিলেন, কিন্তু শরদিন্দুবাবুর মতো—’

    এ লোকের ওপর অপ্রসন্ন হতে যাবে কেন সোমা?

    মানুষ বৈ তো জানোয়ার নয় সে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত
    Next Article ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Our Picks

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }