Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প80 Mins Read0
    ⤶

    সমুদ্র কন্যা – ২০

    কুড়ি

    আর একদিন এলেন সিংহসাহেব।

    বিয়ের আর দিন-তিনেক বাকি।

    বিনীত অনুরোধ জানালেন, বিয়ে-বাবদ আসল ভালো শাড়িগুলোই কেনা বাকি। ইচ্ছে যে, যে পরবে সে নিজে পছন্দ করে নেবে। অবশ্য একা নিয়ে যাবার মতো অসভ্য প্রস্তাব তিনি করছেন না, সোমার মা-ও চলুন।

    সোমার অনুমতি চাইলেন তিনি।

    সোমা এই বিনীত অনুরোধের সামনে রূঢ় হবে কী করে?

    অথচ সোমা বেশ টের পাচ্ছে এ আর একটা প্যাঁচ। গাড়িতে নিয়ে ঘোরানো মানেই মেয়েটিকে চিহ্নিত করে রাখা।

    তবু ভদ্রভাবেই জানায়, দরকার কী? সিংহসাহেবের তো পছন্দটা নিন্দের নয়।

    সিংহসাহেব মৃদু হাসেন।

    মুখের সেই দাম্ভিকতার খোলসটা যেন খসে গেছে। শুধু আশা আর আনন্দের একটি আভা সেখানে জ্বলজ্বল করছে। সেই জ্বলজ্বলে মুখে বলেন সাহেব, ‘পছন্দটা নিন্দের নয়, সে বিষয়ে আমিও তোমার সঙ্গে একমত।’

    কথাটার নিগূঢ় অর্থে সোমার কানটা লাল হয়ে ওঠে, তবু সোমা না-বোঝার ভান করে বলে, ‘তবে আর কি, ও আপনি নিজেই যা পারবেন করবেন।’ সোমা আরো শান্ত গলায় বলে, ‘তাছাড়া জানেনই তো গরীবের মেয়ে, দামী দামী জিনিস কখনো চোখেও দেখিনি, কাজেই দোকানে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাব বৈ তো নয়!’

    ‘তার মানে অ্যাভয়েড করছ।’ সিংহসাহেব সহসা ব্যাকুল হয়ে ওঠেন, সহসা প্রায় হরিণ-শাবকের ভঙ্গিতে বলেন, ‘কিন্তু তোমার মা তো থাকবেন সঙ্গে। ভয় করবার কী আছে? আমাকে কি তোমার একটা জানোয়ার বলে মনে হয়?

    সোমা লাল হয়। সোমা বলে, ‘কী আশ্চর্য, এ আপনি কী বলছেন? তবে চলুন।’

    .

    সোমার মা মেয়ের সুমতি দেখে যাত্রাকালে মা কালীর ছবিতে নমস্কার রেখে যান।

    সোমারা সরু রাস্তাটুকু পার হয়ে দ্রুতপায়ে গিয়ে গাড়িতে ওঠে।

    হঠাৎ পাশের রোয়াকের জটলা থেকে একটা সিটি ওঠে, একটা গলা বলে ওঠে, ‘এটা কী হচ্ছে দিদিমণি?’

    সোমা ঘাড় নিচু করে গাড়িতে ওঠে।

    সোমার ভয় হচ্ছিল এক্ষুনি বুঝি ওই জটলাটা এসে গাড়ি ঘেরাও করে দাঁড়াবে। সিটি দেবে, অশালীন কথা বলবে, হয়তো আরোহীদের টেনে নামাবে। রাস্তায় ভিড় জমে যাবে।

    সোমা সেই ভয়াবহ অবস্থাটা কল্পনা করে। সোমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। তবু সোমা ওদের সঙ্গে ইশারায় একটা ষড়যন্ত্রের আভাসের ভঙ্গী করে।

    ওরা হয়তো সেটা বুঝতে পারে। তাই হাসতে থাকে ফ্যাকফ্যাক করে।

    পাড়ার এলাকা ছাড়িয়ে সাহস ফেরে সোমার।

    তবে শাড়ি জামা পছন্দটা প্রকৃতপক্ষে সোমার মা-ই করেন। সোমা শুধু মাঝে দু-একবার

    বলেছে, ‘এত পয়সা নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।…এই একটা শাড়ির দামে আমাদের

    মত গৃহস্থের দু-মাস স্বচ্ছন্দে সংসার চলে যায়।’

    মা-র অন্তর-টিপুনিতেও থামেনি।

    সিংহসাহেব এতে বিচলিত হননি। শুধু গলা খাটো করে বলছেন, ‘দেখ, সারাজীবন শুধু ভূতের মতো খেটেইছি, কখনো এসব করবার সুযোগ পাইনি। সুযোগ পেয়েছি, করতে দাও না। ভবিষ্যতে বিউটি অ্যান্ড বীস্টের প্রতীক হয়ে বেড়াতে বেরোনো যাবে।’ সোমা ওই বয়স্ক লোকটার আবেগ-বিহ্বল মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছে, আর প্রতিবাদ করেনি।

    শাড়ির দোকান থেকে জুয়েলারের দোকানে ফোন করেন সিংহসাহেব, ‘ওগুলো কালকের মধ্যেই পাচ্ছি তো? হ্যাঁ নিশ্চয়।… ও আচ্ছা…তাহলে এক কাজ করবেন, কাল সন্ধের দিকে ফোন করবেন একটা। আমি নিজেই ডেলিভারী নিয়ে নেব। ফোন-নাম্বারটা মনে আছে তো? আচ্ছা তবু আর একবার লিখেই নিন। নিয়েছেন কাগজ-পেন্সিল? লিখুন—’

    পর পর ছ’টা সংখ্যা বলে যান সাহেব থেমে থেমে।

    একুশ

    ওরা যখন পায়ে ‘ল্যাং মেরে স্রেফ ল্যাংড়া বানিয়ে’ দেবার পরিকল্পনায় মসগুল হয়ে শীস্ দিচ্ছিল, সিংহসাহেব তখন সেই পায়ের জোরে টগাবগ করতে করতে দুটো সিঁড়ি টপকে টপকে দোতলায় উঠছিলেন।

    মনের সঙ্গে শরীরটাও বুঝি অর্ধেক হালকা হয়ে গেছে।

    ঘরে ঢুকে আরশির সামনে দাঁড়ালেন, একটি সুন্দরী তরুণীর চোখ দিয়ে নিজেকে দেখতে চেষ্টা করলেন।

    এমন কী ত্রুটি খুঁজে পাবে সে এই স্বাস্থ্যদীপ্ত দীর্ঘ দেহটার মধ্যে? প্রৌঢ়ত্বের ছাপ পড়েছে কোথাও? আর যৌবন কি শুধুই বয়সে?

    ওই যে সিংহসাহেবের দূর-সম্পর্কের জ্ঞাতি ভাগ্নেটা, যাকে বলতে গেলে বাজার সরকার হিসেবেই বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছেন সিংহসাহেব, তার বয়েস নাকি আটাশ! তার মানে সিংহসাহেবের বয়সের অর্ধেক।

    মশলাহীন সেদ্ধ ঝোল খেয়ে কাটায় সে

    তেল মশলা খেলেই নাকি আমাশা হয় তার। আর একখানার বেশী দু’খানা মাছ খেলে চোয়া ঢেঁকুর ওঠে। এই ঐশ্বর্যের ঘরে আশ্রয় পেয়েও ভোগের সুখ নেই।

    শুধু ও কথাই বা কেন, আজকালকার কোনো ইয়ংম্যানটারই বা ওর চেয়ে ভালো অবস্থা? সময় মেপে খায়, থেমে থেমে হাঁটে, গুরুপাক খাদ্য দেখলে শিউরে ওঠে, আর ডাক্তারকে আর জ্যোতিষীকে শিয়রে নিয়ে বসে থাকে।

    ভগবান মানেন না বাবুরা, কিন্তু ভূত মানেন।

    মানেন গ্রহদের ষড়যন্ত্র আর তার দরুণ দুর্বিপাক। তাই সেকেলে মাদুলী কবচকে ত্যাগ করে একেলে ‘স্টোন’ পরে একগাদা।

    সিংহসাহেব কি ওই ক্ষীণ-বক্ষ শীর্ণ-মুখ, ডিপেপটিক্ যুবকদের থেকেও বৃদ্ধ?

    আর একবার মদগর্বভরে নিজেকে দেখেন সিংহসাহেব।

    অনেক আধুনিক যুবকদের থেকে অনেক বেশী যুবক সিংহসাহেব।

    পুরোনো চাকর এল।

    বললো, ‘বাবু দর্জি এটা দিয়ে গেছে।’ সিল্কের পাঞ্জাবী আনলো একটা।

    হ্যাঁ, বরসজ্জার জন্যে এই সেরা দামী গরদের পাঞ্জাবীটি করতে দিয়েছিলেন সিংহসাহেব।

    কিন্তু—

    সিংহসাহেব হাসলেন, মনে মনে বললেন, তা’ বললে কী হবে, বিয়ে করতে তো— আমি বুশসার্ট আর প্যান্ট পরে যাব না?

    হ্যাঁ, ওইটাই পরে থাকেন সাহেব। অবশ্য পার্টি ফার্টি বাদে।

    সে সব জায়গায় ফুল স্যুট পরতেই হয়

    যখন যা উপলক্ষ, তখন তার উপযুক্ত।

    কিন্তু বাকি সময় ওই—টেরিলিন প্যান্ট, ডেক্ৰন শার্ট।

    ধুতি পাঞ্জাবী কদাচ না।

    আত্মীয়জনের বাড়িতে কাজে কর্মে নেমন্তন্নেও না।

    আগে আগে পরতেন ‘ধুতি পাঞ্জাবী।

    সামাজিক কাজে সামাজিক সাজ নিয়ে গিয়ে উদয় হতেন!

    কিন্তু বয়েস একটু বাড়ায় আর চেহারাটা একটু ঢিলে হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টের পেলেন সিংহসাহেব, ধুতি পাঞ্জাবী পরলেই কেমন যেন বুড়ো বুড়ো লাগে।

    কোনোমতেই অভ্যস্ত স্মার্ট ভাবটা ফোটানো যায় না। পেটটা বড় লাগে, কাঁধটার কাছে যেন একটা অসহায়তার ছাপ!

    অথচ ওই প্যান্ট-শার্টে?

    টগবগে চকচকে!

    যেন একটা তেজী ঘোড়া!

    যেন একটা নতুন মডেলের মোটর গাড়ি!

    আজও তা দেখায়।

    অতএব তদবধি ধুতি পাঞ্জাবী বাতিল। যাতে যাতে বয়েস বেশী দেখায় সেগুলো সর্বদা পরিত্যজ্য।

    কিন্তু—

    সিংহসাহেব হাসলেন একটু, বিয়ে বলে কথা!

    বিয়েতে তো ঠিক বরের মতোই সাজতে হবে।

    গরদের পাঞ্জাবী, চেলির ধুতি—তাতে জরিপাড়, আর মাথায় টোপর, হাতে জাঁতি।

    অতএব এই পাঞ্জাবীটা যেমনই হোক, আর প’রে যেমনই দেখাক, পরতেই হবে।

    এখনি একবার পরব! দেখব কেমন দেখায়! ভাবলেন সিংহসাহেব।

    তারপরেই ভাবলেন, না না সেটা অন্যায় হবে।

    একেবারে শুভলগ্নেই নতুন পরবেন।

    এখন শুধু আর্শির সামনে দাঁড়িয়ে একবার গায়ে ধরে দেখা! তার বেশী নয়।

    দেখলেন।

    পছন্দই হচ্ছে না।

    তবু কী আর করা যাবে।

    বিয়ের সময় কি অতটা তাকিয়ে দেখবে কনে?

    কনে!

    কনে!

    কী চমৎকার শব্দটি!

    পাঞ্জাবীটা নামিয়ে রেখে একবার চারিদিকে তাকিয়ে দেখেন সিংহসাহেব।

    কনের উপযুক্ত সাজানো আছে তো সব?

    নতুন কেনা জোড়া খাটের দিকে তাকালেন, ড্রেসিং আয়নাটার দিকে তাকালেন।

    কল্পনা করতে লাগলেন। ওই আর্শির সামনে নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চুল বাঁধছে সে।

    কী রোমাঞ্চময় হবে সেই দৃশ্য!

    .

    বিয়েটা পাকা করে ফেলে আসার পর থেকে ভাবী বধূর সুখ সুবিধে আরামের জন্যে আয়োজনের অবধি নেই, তবু চারিদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন কোথায় কী ত্রুটি রয়ে গেল!

    মাঝে মাঝে অবশ্য সোমাদের সেই দেয়ালে চটা ওঠা গলির মধ্যেকার বাড়িটা আর তার সাজসজ্জার কথা মনে পড়ে মুখে একটু সূক্ষ্ম হাসি ফুটে উঠছে, যেটাকে করুণারই বলা চলে।

    সেটা মাঝে মাঝেই। তারপরই সেই ভাঙা বাড়ির ছায়াকে আড়াল করে এসে দাঁড়াচ্ছে—একটি অলৌকিক লাবণ্যে মণ্ডিত পূর্ণ যৌবনের মহিমা

    গাড়িতে যখন উঠে এসে বসলো, যখন তাকে তার জীর্ণ পরিবেশ থেকে মুক্ত মূর্তিতে দেখতে পেলেন সিংহসাহেব, যেন দিশেহারা হয়ে গেলেন। এই লাবণ্যের প্রতিমা আর দু’দিন পরে হবে সিংহসাহেবের নিজস্ব। তাকে নিয়ে এসে এই প্রাসাদে স্থাপন করবেন।

    লাল ভেলভেটের চটি পরা দু’খানি সোনালি পা সিংহসাহেবের এই কার্পেট পাতা মেজেয় বিচরণ করে বেড়াবে।

    আজ ‘রসভঙ্গ’ স্বরূপ ওই প্রৌঢ়া মহিলাটি গাড়িতে বসেছিলেন, এরপর থাকবেন না। সিংহসাহেব আর সেই লাবণ্য মূর্তির—মাঝখানে কোনো ব্যবধানের প্রাচীর থাকবে না।

    ওই যে আধহাত পুরু ডানলোপিলোর গদি মোড়া রাজশয্যা, ওখানে বিছিয়ে থাকবে একখণ্ড সুষমা।

    সিংহসাহেবের আবেগ আর কল্পনার রঙে রঞ্জিত হয়ে সোমা যেন অপরূপ হয়ে ওঠে। নইলে এ যাবৎ ওর সম্বন্ধে এত কে ভেবেছে!

    ছেলেবেলা থেকে ‘সুন্দরী’ আখ্যাটা পেয়েছে বটে, তবে এমন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কে দেখেছে? কে ভেবছে? কে তার প্রতিটি অঙ্গের আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা করেছে।

    বড়জোর শঙ্খর মা কি দিদি বলেছেন, ‘এত কাজ করিস, তবু তোর আঙুলগুলো কী চমৎকার বাবা! যেন চাঁপার কলি!’

    বড়জোর ক্লাসের মেয়েরা বলেছে, তুই যে এখনো রাস্তায় ঘাটে চরে বেড়াচ্ছিস কী করে তাই ভাবি। কোনকালে লুঠ হয়ে যাবার কথা।’

    আর ইদানীং যখন দুপুরে দুপুরে ঘুরে সাবান কোম্পানির ক্যানভাসিং করতে গেছে, মহিলারা ওকে ভাগিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেবার পর বলাবলি করেছেন, ‘তোমার আবার সাবান বেচে বেড়াবার কী দরকার বাবা? এত রূপে একটা কেষ্ট বিষ্টু বর বাগাতে পারছ না?’

    আর শঙ্খ? সে হয়তো আবাল্যের নিত্য সাহচর্যে ভুলেই গেছে সোমা নামের ওই অরূপের মূর্তিটার রূপ আছে।

    অতএব সোমার রূপ এতদিন গেরস্থর উঠোনের গাছের গোলাপের মতো অবহেলিতই ছিল। সিংহসাহেব তাঁর বুভুক্ষু চোখ আর অসময়ের আবেগের মন নিয়ে সে-রূপকে নতুন করে আবিষ্কার করছেন।

    তাই সিংহসাহেব আর আগের মতো বাড়ি ফিরে আরামে গা ডুবিযে পড়ে থাকতে পারছেন না, ছটফট করছেন, ওঠাবসা করছেন, এটা নাড়ছেন ওটা নাড়ছেন।

    আর মাঝে মাঝেই পুলক রোমাঞ্চে বিহ্বল হচ্ছেন।

    তরুণী মেয়ের সঙ্গ কি সিংহসাহেবের জীবনে এতই দুর্লভ ছিল?

    তা-তো নয়।

    তবু এই বিহ্বলতা।

    তেমন একটি মেয়েকে বৈধভাবে নিজের ঘরে প্রতিষ্ঠিত করতে পারার কল্পনায় যে এত সুখ, সম্পূর্ণ অধিকারের দাবিতে আয়ত্তে পাওয়ার ভাবনায় যে এত শান্তি, কে জানতো এ কথা?

    এই মেয়ে শুধু তাঁর লীলাসঙ্গিনীই হবে না, জীবনসঙ্গিনীও হবে।

    একে তিনি কোনোদিন বলতে পারবেন, চাকর-বাকরের হাতে আর হোটেলে খেয়ে খেয়ে জীবন গেল, একদিন তোমার হাতে খাবো কিন্তু। আচ্ছা তুমি পোস্ত চচ্চড়ি রাঁধতে জানো না? ছেলেবেলার মার হাতে খেতাম। কী ফার্স্টক্লাস যে লাগতো!’

    কোনোদিন হয়তো একথাও বলা যাবে, ‘তোমাদের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয় না? জানো না কী ভাবে করতে হয়? মা লক্ষ্মীপুজো করতেন, ধূপের গন্ধ ফুলের গন্ধ এই সব মিলিয়ে বেশ লাগতো বাড়িটা। এমনিতে তো ফুলও আসে রাশি রাশি, ধূপও জ্বালা হয় গোছা গোছা, কিন্তু সেই গন্ধটা পাই না। করতে পারোনা তুমি? কী কী লাগে ওতে?’

    হ্যাঁ, এসব ইচ্ছের আভাস আসছে মনের মধ্যে।

    ছেলেবেলাটা স্মরণে আসা, ছেলেবেলার কথা কারো কাছে বলার ইচ্ছেটা যে বার্ধক্যের লক্ষণ, সেটা টের পান না সিংহসাহেব। শুধু মনটা ভূষিত হয়ে ওঠে কাউকে সে কথার শ্রোতা পাবার জন্যে।

    ওই মেয়েটি হতে পারবে সে শ্রোতা।

    ও গেরস্থ ঘরের মেয়ে।

    যেমন ঘরের ছেলে ছিলেন সিংহসাহেব নিজে। আজকের এই প্রাচুর্যের বৃহৎ চাপের নীচেও সেই ছেলেটা কোথাও যেন টিকে আছে।

    কর্মজীবনের বহু দুর্নীতি আর বহু অনাচারের আড়ালেও যার স্মৃতির ঘরে মায়ের লক্ষ্মীপুজোর ধূপের গন্ধটি আজো অম্লান আছে।

    স্ত্রীর মধ্যে মায়ের ভাব-রূপটিকে খুঁজে পেতে চায় পুরুষ মাত্রেই, সিংহসাহেবও তার ব্যতিক্রম নন।

    চাকর এসে বলল, ‘খেতে দেওয়া হবে?’

    সিংহসাহেব তাকালেন ওর দিকে।

    আয়োজন চলছে বহুবিধ, বিস্মিত কৌতূহলের দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে চাকর-বাকররা, কী জানি নিজেরা কী বুঝছে, কী বলাবলি করছে, কিন্তু সিংহসাহেব স্পষ্ট করে বলেননি ওদের কাছে।

    হয়তো নিজের কাছেই জিনিসটা অস্পষ্ট ছিল সিংহসাহেবের তাই।

    হয়তো আশাটা আশঙ্কার ঝঙ্কারে স্পন্দিত হচ্ছিল বলেই।

    .

    আজ একসঙ্গে অনেকক্ষণ এক গাড়িতে চড়ে, দোকানে দোকানে ঘুরে, নিতান্ত সন্নিকটে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কথা কয়ে যেন আশঙ্কাটা ঝাপসা হয়ে গেছে, আশা পায়ের নীচে মাটি পেয়েছে।

    তাই ভাবলেন এদের বলা দরকার।

    ভাবলেন আত্মীয় মহিলাদের মধ্যে কাকে আগে থেকে এনে রাখা যায়?

    চাকরটার দিকে তাই তাকালেন উৎফুল্ল কৌতুকের চোখে।

    বললেন, ‘দে! আর দু-চারদিন দে। এরপর তোর দায়িত্ব কমবে।

    দায়িত্ব কমবে!

    এ আবার কী কথা!

    ও থতমত খেয়ে বলে, ‘আজ্ঞে কী বলছেন?’

    ‘বলছি—আর আমার খাওয়া নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না তোকে। বাড়িতে গিন্নী আসছেন!’

    হ্যাঁ, এই রকম বেখাপ্‌পা কথাটাই বলে ফেলেন সিংহসাহেব।

    বলেন না ‘মেমসাহেব আসছেন।’

    ‘তোমাদের মা আসছেন’ বলতেও বাধল। তাই ওই গ্রাম্য শব্দটাই ব্যবহার করে বসেন।

    .

    পুরোনো চাকর, তবে মাইডিয়ার নয়, মানে তেমন হবার সাহস তাকে কখনো দেননি সিংহসাহেব, তাই সে শুধু মাথাটা একটু নিচু করে বললো, ‘কবে?’

    ‘এই তো সামনের বারো তারিখে। বিয়ে বাড়িতে খাটিস ভালো করে, বখশীস পাবি বলে সহসা এই প্রথম একটু মাইডিয়ার হাসি হাসলেন সিংহসাহেব। আর তারপরই তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, ‘কই, দে খেতে?’

    হয়তো লজ্জা ঢাকতেই এই ব্যস্ততা!

    ওরা যে ওঁর সেই ভাগ্নের সদ্বিবেচনার ফলে প্রথম দিনেই খবরটা পেয়ে অবহিত আছে তা খেয়াল করলেন না।

    ব্যস্ততা দিয়ে লজ্জা ঢাকলেন।

    চাকরটা চলে গেলে উঠলেন।

    আর একবার আর্শির সামনে দৃপ্ত ভঙ্গীতে দাঁড়ালেন। তারপর কল্পনা করতে চেষ্টা করলেন ধুতি পাঞ্জাবী টোপর আর ফুলের মালা পরে কেমন দেখাবে। জানতে পারলেন না সেই মালা ছিঁড়ে ধুলোয় লুটোবার ষড়যন্ত্র চলছে ঠিক এই মুহূর্তেই।

    বাইশ

    সোমাকে, সোমার মাকে ওদের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে গিয়েছেন সিংহসাহেব।

    ঈশ্বর রক্ষা করেছেন যে ফেরার সময় সেই ছেলেগুলোর সঙ্গে চোখাচোখি হতে হয়নি। দিনের মধ্যে খানিকটা সময় জায়গাটা ফাঁকা রাখে ওরা, নেহাতই নাওয়া-খাওয়ার দরকারে।

    সোমা শান্তির নিশ্বাস ফেলে। অথচ সোমার মনের মধ্যে একটা অশান্তির ঝড় বয়। সোমার চোখের সামনে সিনেমার ছবির মতো অনেক দৃশ্য ছুটোছুটি করে। সোমা একটা উচ্ছৃঙ্খল জটলার ভয়ঙ্কর অসভ্য চিৎকার শুনতে পায়। সোমা একটা ভাঙা-চোরা তোবড়ানো গাড়ি দেখতে পায়, সোমা একটা থ্যাৎলানো মানুষের খানিকটা খানিকটা দেখতে পায়, তার সঙ্গে সোমা একখানা জ্বলজ্বলে মুখ দেখতে পায়, আশা আনন্দ আর বিশ্বাসের আভায় জ্বলজ্বলে।

    মুখটায় বয়সের ছাপ

    কিন্তু সোমা নামের মেয়েটার গায়ে ওটা কিসের ছাপ? ক্লেদাক্ত কালচে। রাত্রিভোর ওই ছাপটা তাড়া করে ফেরে সোমাকে

    সোমার মাথার মধ্যে, মস্তিষ্কের সমস্ত কোষে কোষে ছ’টা সংখ্যা হাতুড়ি পিটতে থাকে…থ্রি ফোর জিরো সেভেন…থ্রি ফোর জিরো সেভেন…আরো যেন কী? হ্যাঁ, মনে পড়েছে। কানের পর্দা মনে পড়িয়ে দিয়েছে। পরপর দুটো একই সংখ্যা।

    ওই সংখ্যাগুলো এত সশব্দ হচ্ছে কী করে?

    সারাক্ষণ হাতুড়ি পিটিয়ে পিটিয়ে ঘোষণা করছে কেন নিজেকে?

    কী বলছে ওরা সোমাকে?

    সকালবেলা সোমা মা-র কাছে গিয়ে কি যেন বলতে গিয়ে ফিরে আসে, দুপুরবেলা সোমা একটা বইয়ের পাতার ওপর মন বসাবার আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মা-র ঘরে এসে দাঁড়ায়, আবার ফিরে যায়।

    অসম্ভব চাঞ্চল্য নিয়ে ঘুরে বেড়ায় ছাতে—ঘরে। অবশেষে সোমা বিকেলবেলা মা-র কাছে এসে বলে, ‘মা, একবার বাসন্তীদের বাড়ি যাচ্ছি।’

    বাসন্তীদের বাড়ি।

    সোমার মা প্রসন্ন হন।

    বাসন্তীরা বড়লোক, ওদের বাড়ি যাওয়া চলে এখন।

    আগে সোমার মা বলতেন, ‘ওদের বাড়ি আবার যাওয়া কেন বাপু? ওরা বড়লোক!’

    আজ সোমার মা প্রসন্ন সম্মতি দেন। ভাবেন, ভয়ানক চাঞ্চল্য দেখছি, যাক বন্ধুর সঙ্গে দুটো গল্প-গাছা করে আসুক। মন স্থির হবে।

    সোমা বেরিয়ে আসে।

    রকের ছেলেগুলো হৈ-চৈ করে ওঠে। সিটি মারে, কে একটা বলে ওঠে, ‘নিশ্চিন্দি থাকুন দিদি!’

    সোমা দ্রুতপায়ে পার হয়ে যায় রাস্তাটা।

    বাসন্তীদের বাড়িতে গিয়ে দেখল বাসন্তী নেই। সোমা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।

    বাসন্তীর মা বলেন, ‘বোস একটু, আসবে এখুনি।’

    সোমা বলে, ‘বসছি। তারপর বলে ওঠে, ‘মাসীমা, একটা ফোন করতাম।’

    ডায়াল করতে থাকে সোমা, মস্তিষ্কের কোষে কোষে একটা সিটির শব্দ ওঠে। সোমা ঘামে-ভিজে হাতে রিসিভারটা চেপে ধরে।

    তারপর ছাড়া ছাড়া থামা থামা কাঁপা গলা শোনা যায় সোমার, ‘জানেনই তো আজকালকার এইসব ছেলেদের কাণ্ড! শুনেছে আর কি। ….তাই ভাবছি যদি অন্য কোথা…মানে আর কি যদি আগের দিন বাবা-মা আমি…না, ধন্যবাদের কী আছে? একটা বিশ্রী ব্যাপার ঘটে, এ আর কার ইচ্ছে হয় বলুন?…

    .

    তারপর সোনা বাসন্তীর টেবিল থেকেই একটা কলম কাগজ টেনে নেয়। লেখে—

    ‘শঙ্খ, দেখছি বিশ্বাসভঙ্গ কাজটা যত সোজা ভেবেছিলাম, তত সোজা নয়। সহজ নয় ‘মানুষ’ শব্দটার গণ্ডির বাইরে চলে যাওয়া।…তাই নিজের পাতা জাল নিজেই কেটে দিচ্ছি। তবে যদি তোমার সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গের প্রশ্ন তোল? তা, সে তো তুমি আগেই বদান্যতার খাতায় সই করে রেখেছ। আর এখন ভাবছি একটা ক্লেদাক্ত অনুভূতির উপরে প্রতিষ্ঠিত জীবনে কি সুখী হতে পারতাম আমরা? ধরেই নাও অতএব সোমা বলে কোনো মেয়েকে দেখনি কোনোদিন।

    ইতি
    সোমা’

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত
    Next Article ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026
    Our Picks

    নিমফুলের মধু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    April 25, 2026

    মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }