Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প80 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সমুদ্র কন্যা – ১০

    দশ

    মেয়ের মুখ দেখলেন এঁরা।

    খালি কফির পেয়ালা উঠিয়ে নিয়ে চলে যেতেও দেখলেন।

    আর করে বসলেন এক অসমসাহসিক কাণ্ড।

    প্রথমে অবশ্য সুপ্রভা।

    মৃদু হাসি হেসে বললেন, ‘দেখলেন তো আমার মেয়েকে?’

    সিংহসাহেবের হাত দুটো আর একটু লীলায়িত হল।

    চেক-বইটার পাতা উড়ল ফর-ফরিয়ে। যেন একটা বাজে পত্রিকার পাতা ওলটাচ্ছেন।

    তা সেটা তো হাতের ভঙ্গী।

    মুখে স্থিতপ্রজ্ঞ হাসি। ‘দেখেইছি তো আগে। তখন আর-একটু ছোট আর রোগা ছিল।’

    অর্থাৎ এখন আর একটু লোভনীয় হয়েছে।

    শরদিন্দু নড়ে-চড়ে বসেন। সুপ্রভা কোনো কথা বলতে চাইছেন।

    সিংহসাহেব মৃদু হাসেন

    যেটার অনেক অর্থ আবিষ্কার করা যায়। অথবা কোনও অর্থ আবিষ্কার না করলেও চলে।

    সুপ্রভা ঝোপের ঘাড়ে কোপ দেন, ‘বলেছিলাম মেয়েকে—’

    সিংহসাহেব সুরেলা গলায় অলসভাবে বললেন, ‘ও, আচ্ছা—’

    এর বেশী আর বলেন না।

    প্রশ্ন করাটা যে খেলোমী।

    তা’ছাড়া সুপ্রভার মুখ দেখেই বুঝে নিয়েছিলেন তিনি। বুঝে নিয়েছিলেন পরিস্থিতি অনুকূল

    তবু ওই অলস আর কৌতূহলশূন্য ভাবটা ত্যাগ করেন না।

    অর্থাৎ, দাঁড়াও শুনি আগে ওই বলার ফলাফলটা কী। তার পরে ভাব প্রকাশ করব।

    শরদিন্দুর রক্তচাপ বৃদ্ধি হচ্ছে।

    কী বলতে চায় সুপ্রভা?

    বলল আবার কখন মেয়েকে? সে খবরটা শরদিন্দু আগে জানলেন না, জানল বাইরের লোকটা? ঈশ্বর জানেন কী উত্তর দিয়েছেন কন্যা। প্রতিকূল হলে কি সুপ্রভার মুখে অমন একটা হাসি হাসি ভাব দেখা যেত?

    সুপ্রভা সেই হাসির গলায় বলেন, ইচ্ছের কিছু অভাব দেখলাম না। আপনার মহানুভবতা দেখেই গলে গেছে একেবারে।’

    বটে বটে!

    এই সব ভালো ভালো কথাগুলো বলে নিচ্ছে সুপ্রভা? অথচ শরদিন্দুর সঙ্গে পরামর্শ করেনি একবার?

    শরদিন্দুই কি তবে মুখ বুজে থাকবেন?

    কেন?

    সে কথা জানেন না শরদিন্দু?

    জানেন, সুপ্রভার চাইতে ভালোই জানেন। তাই তাঁর কথার উপর থাবা বসান, ‘গলে গেছে বললে কিছুই বলা হল না স্যার! স্রেফ অভিভূত! অভিভূত হয়ে বলল, “টাকার জন্যে নয়। টাকা ওঁর আছে, এক কথায় দশ-বিশ হাজার খরচ করাটা হয়তো ওঁর কাছে কিছু নয়, অভিভূত হচ্ছি ওঁর মনের জন্যে। মানুষের দুঃখ অসুবিধে বোঝবার ক্ষমতা যে মনের আছে, সে মনের সংস্পর্শে আসতে পাওয়াটাই পরম ভাগ্য!”

    সিংহসাহেবের মুখে একটা আলোর ডো খেলে যায়। তবে সুরবিচ্যুতি ঘটে না। তেমনি মসৃণ গলায় বলেন, ‘এ আপনি একটু বেশি বলছেন শরদিন্দুবাবু, মানুষ মাত্রেই যা করে থাকে তার বেশি কিছু করিনি আমি।

    (‘করে ফেল না বাবা!’ মনে মনে বলেন শরদিন্দু, ‘আর কতক্ষণ ঝুলিয়ে রাখবি? বিয়ের দিনস্থির না-করা পর্যন্ত চেক-বইটা খুলবি না নাকি?’)

    তা সিংহসাহেবই কি না-ভাবছেন, ও তোমরা বুড়োবুড়ি যাই বল, মেয়েটাকে একবার নিজে যাচাই করে দেখতে চাই আমি। এদিকে তোমরা টাকাটি হাতালে, ওদিকে তোমাদের মেয়েটি হাওয়া হল। আজকালকার দিনে এসব তো নতুন নয়! কত মেয়েই অমন মা-বাপের মুখে চুনকালি লেপে হাওয়া হচ্ছে।

    হলে?

    তখন?….তবে দেখে মনে হচ্ছে, নম্র শান্ত সভ্য শিষ্ট। কৃতজ্ঞতার ভারে নুয়ে থাকবে কিছুটা। এ ভারটা চাপানোর দরকার আছে, নচেৎ এতখানি বয়সের ভারের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষে হবে কী করে?

    সিংহসাহেব এবার চেক-বইয়ে কলম ঠেকান, আস্তে বলেন, ‘নামটা তাহলে কার দিচ্ছি? আপনারই তো?’

    নাম!

    চেকে!

    তাই তো!

    এ প্রশ্নটা যে আসতে পারে তা তো কই আগে মনে পড়েনি।

    ও কী চায়?

    সোমার নামেই দেবার মতলব নাকি?

    অসহায়ভাবে সুপ্রভার মুখের দিকে তাকান শরদিন্দু। আর চিরদিনের মন্ত্রী সেখানে সহায়ের হাত বাড়িয়ে দেন।

    ‘তা দেখুন ওঁর নামেই বোধহয় দেওয়া ভালো। বাড়ি যখন ওঁরই নামে। অবশ্য দিলে আপনি সোমার নামেও দিতে পারেন। তবে মেয়েটা যদি লজ্জা পায় তাই—’

    ‘কী আশ্চর্য, ওঁর কথা উঠছে কেন?’ সিংহসাহেব চেকটা খসখস করে লিখে ফেলে নিজেকে সামলে নেন, আমি ভাবছিলাম বাড়ি হয়তো আপনার নামেই—’

    ‘না, না, এ ওঁদের পৈত্রিক বাড়ি। আমাদের আর কবে এমন অবস্থা হয়েছে—’

    ড্যাস্ টেনেই ছেড়ে দেন সুপ্রভা।

    ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল।

    চেকটা এগিয়ে দিচ্ছেন সিংহসাহেব তাঁর একদার অধস্তনের দিকে। বাঁ হাতের দু’ আঙুলে। যেমন করে এগিয়ে দিতেন চিঠির ড্রাফ্ট।

    শরদিন্দু এ অপমানটুকু হজম করেন।

    আর মনে মনে ভাবেন, আচ্ছা, আমারও দিন আসবে। ভবিষ্যতে আমার মেয়ে যখন তোর নাকে দড়ি পরিয়ে নাচাবে—

    নাচাবেই।

    কথায় বলে বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা।

    সাহেবের সেই ‘নাচা’ মূর্তি কল্পনা করে শরদিন্দু যেন মনের দাহ মেটান।

    আজীবনের অপমানের দাহ।

    এখনকার দীনতার দাহ।

    এগারো

    সিংহসাহেব বিদায় নেন।

    তারপর সোমা এসে ঘরে ঢোকে।

    বসে পড়ে বলে, ‘উঃ, কী ডাঁট তোমার সিংহীসাহেবের—’

    হাসি হাসি মুখেই বলে অবশ্য।

    ‘ডাঁট! ডাঁটের তুমি কী দেখলে?’ চটে যেন ওঠেন শরদিন্দু। অদ্ভুত এই হৃদয় রহস্য! যার উপর আক্রোশে মন জ্বলছে, তার সমালোচনা শুনেও জ্বলে ওঠা।

    সোমা তবু হাসে, বাবার প্রেসার বেড়ে যাওয়ার ভয় ভুলে হাসে, ‘ও কি আর বুঝিয়ে বলা যায় বাবা? ডাঁট হচ্ছে অনুভবের জিনিস। যাক—দেখি চেকটা। সত্যি না খেলাঘরের?’

    সুপ্রভার হাতে ছিল, এগিয়ে দেন দুরুদুরু বুকে। এই, এই হচ্ছে মোক্ষম সময়। এক বস্তা টাকার প্রতিশ্রুতি হাতে নিয়ে বসে আছে, এই জব্দ করবার মুহূর্ত।

    উলটে-পালটে দেখেটেখে দুষ্টু হাসি হাসে সোমা, ‘দেখো এ ব্যাঙ্কে এর টাকা নেই।’

    ফস্ করে জ্বলে ওঠেন সুপ্রভা। বলেন, ‘বললেই হল? ওঁর একটা-মান-মর্যাদা নেই? চেক ফেরৎ আসা অপমানের নয়? তাছাড়া আজ বাদে কাল উনি আমাদের কত আপনার লোক হবেন, ওঁকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাসা—’

    সুপ্রভার কথা শেষ হবার আগেই সোমার স্তম্ভিত গলা থেকে উচ্চারিত হয়, ‘আপনার লোক হবেন? কে?’

    ‘কেন, সিংহসাহেব? তোকে দেখে এত পছন্দ হয়ে গেল যে একেবারে পাকা কথা চেয়ে বসলেন।’

    দেখে এত পছন্দ! সোমা আরো অবাক হল। তার বেশি তার বাবা।

    শরদিন্দু অবাক নেত্রে নিজের এই চিরদিনের ঘর-গেরস্থ-করা স্ত্রীটির দিকে তাকিয়ে দেখেন।

    উঃ, কী বুদ্ধি! কী বুদ্ধি! এ যে উকিলের বাবা!

    কেমন কৌশলে আগের ইতিহাসটি ধামা-চাপা দিয়ে দিল। যেন সবকিছুই এক মুহূর্তের ফসল।

    তার মানে, টাকা দেওয়ার সঙ্গে এ ব্যাপারের কোনো সংস্রব থাকল না। তার মানে, এটাই রাষ্ট্র করা যাবে টাকাটা দিতে এসে হঠাৎ ওকে দেখে পছন্দ হয়ে গিয়ে বুড়োবয়সে মাথা ঘুরে গেছে বুড়োর।

    মন্দ কী?

    এমন ঘটনা ঘটে না তা নয়।

    কিন্তু সোমা তো কই রেগে ফেটে পড়ল না? সোমা, তার মানে, সামলেছে। সোমা বরং এখন সকৌতুকে বলে উঠল, “তা, ও ভদ্রলোক তো শুনেছি ব্যাচিলার, কাজেই ছেলের কথা ওঠে না, একটা অগা-বগা ভাগ্নে আছে বুঝি?’

    হঠাৎ শরদিন্দু ফেটে পড়েন, ‘কেন, এত অছেদ্দা করে কথা কেন? উনি নিজে বিয়ে করতে পারেন না? নিজের জন্যেই বলেছেন উনি।’

    এই, এই ঠিক। ঝড় তুলে ভয়ের-পথটা এগিয়ে যাওয়া। সাবধানে ধীরেসুস্থে বলতে গেলে ছোট হয়ে পড়তে হত মেয়ের কাছে। এ বরং মাথাটা উঁচু রইল।

    রইল।

    মাথাটা উঁচু।

    সোমারও।

    মুখ উঁচু করে বাপের দিকে নিষ্পলকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর বলল, ‘নিজের জন্যেই বলেছেন! আর তোমরা বোধহয় সেই পাকা কথাটি দিয়েও দিয়েছ? এমন একখানা পাকা দলিল যখন হাতে পেয়ে গেলে!’

    এ গলা কার?

    এ কি সোমার গলা?

    বাপ-মার সঙ্গে কবে এ-গলায় কথা বলেছে সোমা?

    বুদ্ধির দোষে যখন সর্বস্বান্ত হয়েছেন শরদিন্দু, যখন বাড়ি বন্ধক দিয়েছেন, যখন পথে বসবার নোটিস এসেছে, সুপ্রভা অনেক গলায় আর অনেক ভাষায় ধিক্কার দিয়েছেন স্বামীকে, করেছেন অনেক কটু-কাটব্য, অনেক লাঞ্ছনা। সোমা তো কোনোদিন তাতে যোগ দেয় নি! সোমা বরং তার মাকেই সামলেছে, আর বাবার জন্যে রেখেছে মমতাময় হৃদয়ের স্পর্শ। ছোট ছেলে বুদ্ধির দোষে আছাড় খেলে মা যেমন কোলে তুলে নেয়, যেন তেমনি তুলে নিয়েছে।

    কিন্তু আজ এ যেন আর এক মেয়ে।

    ঘৃণা, ধিক্কার, ক্ষোভ, গ্লানি, ব্যঙ্গ, সবকিছুর সংমিশ্রণে গঠিত এই স্বর সোমার কণ্ঠে ছিল?

    শরদিন্দু এই স্বর আর ওই দৃষ্টির সামনে অবিচলিত থাকতে পারেন না, হঠাৎ হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে বলেন, ‘আমায় তোমরা জুতো মারো! আমায় তোমরা জুতো মারো! তবু এই টাকা আমায় নিতে হবে। স্ত্রী-পুত্র নিয়ে রাস্তায় গিয়ে দাঁড়াতে পারব না আমি।’

    ব্লাড প্রেসারের রুগী—মাথায় কিল মারতে থাকেন দুম দুম করে।

    সোমা আস্তে বলে, ‘বাবা থাম। শান্ত হও, প্রেসার বেড়ে যাবে।’

    বারো

    বৃষ্টি পড়ছিল রিমঝিম করে।

    তবু বিনা-ছাতাতেই বেরিয়েছিল শঙ্খ।

    তাই অভ্যাস ওদের।

    ছাতা যে মাথা-রক্ষক, এটা মানতে রাজি নয় এ যুগের ছেলেরা। মাথার অপমান যেন ওতে।

    ঠান্ডা লেগে সর্দি হবে? রোদ লেগে অসুখ?

    হোক।

    বেশী হবে?

    হয়, বাড়ির লোক আছে।

    যাদের কথা অবজ্ঞা-ভরে ঠেলে ফেলে দিয়েছি।

    শঙ্খও সেই নীতিতেই চলে।

    মা যখন বলেছিল, ‘বিষ্টি পড়ছে অমনি মাথায় বেরোচ্ছিস?’ শঙ্খ বলেছিল, ‘শুধু বৃষ্টি? বান ডেকেছে বল।’

    তারপর বেরিয়ে পড়েছিল।

    ট্রাম লাইনের ধারে সোমার সঙ্গে দেখা

    সোমার হাতে বেঁটে একটা ছাতা আছে, সোমাদের সেই সারান কোম্পানির বদান্যতা এটি।

    মাথা বাঁচাতে ছাতা দেয়।

    বাবার ওষুধ আনতে বেরিয়েছিল সোমা। ওকে দেখে বলে উঠলো, ‘এই ছাতার নীচে চলে এসো।’

    শঙ্খ পাশাপাশি পৌঁছে বলে, ‘পাগল তো নই!’

    ‘কেন?’ সোমা তীক্ষ্ণ হয়, ‘এতে পাগলের কী হল?’

    ‘সবটাই হল।’

    ‘আমি কতদিন তোমার ছাতার তলায় তলায় এসেছি।’

    শঙ্খ হেসে ওঠে, ‘ওঃ তুমি! তুমি তো আসবেই। তুমি আমার ছাতার তলায় আশ্রয় নেবে এটাই যে বিধি! চিরকালই নিতে হবে।’

    ‘চিরকাল?’

    হঠাৎ কেমন উচ্ছৃঙ্খলভাবে হেসে ওঠে সোমা, ‘চিরকালের কথা বলতে পার তুমি? আমার মাথার জন্যে ছাতার ব্যবস্থা তো হয়েই যাচ্ছে।’

    শঙ্খ ভুরু কুঁচকে বলে, ‘অর্থাৎ?’

    ‘অর্থাৎ? তা’হলে বিশদ করে বোঝাতে হয়।’

    ‘তা বোঝাও।’

    বোঝালো সোমা। আস্তে নয়, দ্রুত। তবু বুঝতে আটকালো না।

    ‘ওঃ, দাদন!’ বুঝে নিয়ে বলে উঠল শঙ্খ, ‘তাই বল।’

    ঠোঁটটা বাঁকিয়ে ঘৃণার গলায় বলে শঙ্খ, ‘পয়সাওলা লোকেরা সুন্দরী মেয়েদের জন্যে এমন দাদন দিয়ে থাকে শুনেছি।’

    ‘অসভ্যতা কোরো না শঙ্খ!’ সোমা তীব্র ঝঙ্কার দেয়।

    ‘তা বটে!’ শঙ্খ আরো ঠোঁট বাঁকায়। ‘ওটা করবার একচেটে অধিকার শুধু বয়স্ক এবং পদস্থদের।’

    ‘আমায় অপমান করে যদি সুখ পাও তো কর। যত পার কর। কিন্তু বাবার মানসিক অবস্থা আমি বুঝতে পারছি শঙ্খ! বাবা ওকে যে কী দারুণ ঘৃণা করেন—’

    ‘ঘৃণা করেন? ও মাই গড! তথাপি জামাই করতে অনিচ্ছে নেই?

    সোমা ম্লান হেসে বলে, ‘তাহলেই বোঝো, কী যন্ত্রণা পাচ্ছেন বাবা! কী নিরুপায় অবস্থা!’

    ‘আর তোমার মা?’

    ‘মা?’ সোমা শান্ত গলায় বলে, ‘মা-র কথা তুলো না শঙ্খ! তুমি তো জানো, মা চিরকালই জগতের সব কিছুই টাকা দিয়ে বিচার করে। হয়তো দাদা ওই আঘাতেই— কিন্তু সে কথা যাক, তুমি বল এরপর কী?’

    ‘কী আবার?’ শঙ্খ বলে, ‘সেই ধনী বৃদ্ধটির গলায় মালা দিয়ে একটি ধনবতী মহিলা হয়ে বস গে।’

    ‘থাম বলছি—’

    ‘থামব কেন? বাঃ! কত বড় বাড়ি, কত দামী গাড়ি, কত ব্যাঙ্কে কত কত টাকা— আর বৃদ্ধের তরুণী ভার্যার কত আদর! একেই বলে লাক। কোথায় একখানা সিমেন্ট ওঠা রান্নাঘরে বসে পুঁই-চচ্চড়ি রেঁধে মরতে হত, সাবান কেচে আর বাটনা বেটে হাত ক্ষইত, সে জায়গায় ভেলভেটের চটি পরে ভারী কার্পেটে পা ফেলে হাঁটা, আর সোনালি পেয়ালায়—’

    ‘শঙ্খ, তুমি থামবে?’ সোমা হতাশ বিরক্ত গলায় বলে, ‘অসহ্য লাগছে তোমার এই ন্যাকামি!’

    তবু থামে না শঙ্খ।

    বলে, ‘কী আশ্চর্য, ন্যাকামি কী? আমি তো এখনই ভাবছি তোমায় ধরাধরি করে, তোমার প্রতিষ্ঠাপন্ন স্বামীর কাছ থেকে একটা মোটা মাইনের চাকরির সুযোগ বাগিয়ে নেব।’

    সোমা কঠিন হয়।

    সোমা বলে, ‘শঙ্খ, তুমি বাবার কাছে যাও। যাও বলছি—বল গে এ হতে পারে না।’

    আমি? আমি বলব মানে?’ শঙ্খ যেন সোমাকে কেটে কেটে নুন দেয়, ‘আমি কে? আমায় যদি তোমার বাবা বলে বসেন, ‘তা তুমি শঙ্খবাবু, ওই দশটি হাজার দিয়ে দাও আমায়, তারপর সিংহসাহেবকে দিচ্ছি বিদায় করে তখন?’

    ‘তখন?’ হঠাৎ যেন ক্ষেপে ওঠে সোমা, ‘আনবে তাই যোগাড় করে। পুরুষমানুষ, পার না এটুকু?’

    ‘এটুকু?’

    হা হা করে হাসতে শুরু করে শঙ্খ, অনেকক্ষণ ধরে হাসে, যেন একটা যন্ত্রের শব্দের মতো লাগে হাসিটা।

    ‘তবে আমি কী করব বল?’

    শঙ্খ এবার সিরিয়াস হয়, ‘তোমার কর্তব্য তোমার মনই বলবে। তবে আমি যদি তোমার জায়গায় থাকতাম, তাহলে পষ্ট জানিয়ে দিতাম, “আমি বেচাকেনার মাল হতে পারব না। এতে আমায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দাও আর যাই কর”।’

    সোমা হতাশ গলায় বলে, ‘কিন্তু বাবা? বাবাকে তো তাহলে স্রেফ্ মেরে ফেলা হবে। আশাভঙ্গের দুঃখে, আর কথার খেলাপের লজ্জায়—’

    শঙ্খ তীব্র গলায় বলে, ‘তবে আর কথায় কী কাজ? বাবাকে বাঁচাও গে। দধিচির মতো, কর্ণের মতো, রাজা শিবির মতো আত্মোৎসর্গের মহিমায় ভাস্বর হয়ে থাক।’

    সোমাও ক্রমশ হিংস্র হয়।

    ক্রুদ্ধ গলায় বলে, ‘বেশ, তোমার বাড়িটা বাঁধা দিয়েই তবে আমাদের বাঁধা বাড়ি ছাড়ানোর টাকা যোগাড় কর—’

    শঙ্খ আকাশ থেকে পড়ে। ‘আমার বাড়ি? বাঁধা দিয়ে?’

    সোমা হিংস্ৰগলায় বলে, ‘কেন নয়? আমাকে নীলেমে তোলার বদলে পার না এটুকু? কিসের তবে তোমার ভালোবাসা? কিসের বড়াই?’

    এবার শঙ্খর মুখটা আস্তে আস্তে শান্ত আর বিষণ্ণ হয়ে আসে। সেই ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের রেখাগুলো মিলিয়ে যায়। বিষণ্ণ গলাতেই বলে, ‘বড়াই কিছুরই নেই সোমা! গরিবের ভালোবাসার দাম রাস্তার একটা ঢিলের বেশী নয়। নিরুপায়ের সম্বল ব্যঙ্গ, সেটাই করে মনের জ্বালা মেটাচ্ছি।….তুমি কি মনে কর ও-কথা ভাবিনি আমি? অনেক আগেই ভেবেছি। যখনই ভেবেছি তোমার বাবার সংসার ঠেলবার জন্যে চাকরি ছাড়বার উপায় নেই তোমার, উপায় নেই নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবার, তখনই মনে হয়েছে, দূর ছাই, আমাদের বাড়িটাই দিই বিক্রয় করে। বরং ওতেই ভাড়াটে হয়ে থাকবে, টাকাটা তোমার বদলে তোমার বাবাকে —

    তার মানে সেই কেনা-বেচা?’ সোমা তীক্ষ্ণ হয়, ‘তা তাই বা করলে কই? শুধু ভাবলেই হবে?’

    শঙ্খ মলিন হয়, ‘সে ক্ষমতাই বা কই? বাড়ি তো আমার একার নয়। বিধবা মা, নাবালক ভাই, তাদের সই-স্বাক্ষর চাই। এবং নিশ্চয়ই তারা দেবে না সেটা।’

    ‘তা নিশ্চয় দেবে না,’ সোমা বলে, ‘আমি আত্মহত্যা করলে যদি সমস্যার সমাধান হত, তাই করতাম। কিন্তু তাতে তো সংসারটাকে বাঁচানো যাচ্ছে না।’

    শঙ্খ মনে মনে বলে, ‘আত্মহত্যার পথেই পা বাড়িয়েছ তুমি! বেশ বুঝতে পারছি মন তুমি স্থির করে ফেলেছ।’

    মুখে বলে, ‘থাক, ওই সাধু সংকল্পটি আর কাজে পরিণত করে কাজ নেই। তবে আমার মতে তোমার উচিত ওই বুড়োর সঙ্গে দেখা করে যাচ্ছেতাই করা—’

    ‘যাচ্ছেতাই?’

    সোমা বিস্ময়ের চোখে তাকায়।

    শঙ্খ বলে, ‘না তো কী? বাবার অসাক্ষাতে গিয়ে বলবে, ‘শয়তান বুড়ো, তুমি একটা অসহায় লোকের অভাব আর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটা যুবতী মেয়ের জীবন ধ্বংস করতে চাও? লজ্জা করছে না তোমার? টাকা আছে, যাও না সেই টাকার জোরে প্রবৃত্তির আগুন নিবৃত্তি করতে। শহরে অভাব নেই কোনও কিছুরই। বিদুষী পাবে, সুন্দরী পাবে। শুধু আমায় রেহাই দাও। আমি কথা দিচ্ছি, আস্তে, আস্তে এই টাকাটা শোধ করে দেব তোমায়।’

    রিমঝিমে বৃষ্টি, তবু হাঁটতে হাঁটতে ভিজে যাচ্ছিল ওরা। কিন্তু সেদিকে খেয়ালই ছিল না ওদের। ছোট্ট ছাতাটা দুজনের কারোই উপকারে লাগছিল না, শুধু মাঝামাঝি থেকে অসুবিধে বাড়াচ্ছিল।

    সোমা যেন এতক্ষণে অবহিত হল ওর বাম বাহুমূলটা ভিজে যাচ্ছে। হাতটায় একটা ঝাঁকুনি দিয়ে জল ঝেড়ে ফেলবার চেষ্টা করে সোমা, তীব্র গলায় বলে, ‘বলব এই কথা? ভরসাটা কী? শোধ করে দেব।’

    ‘তোমার দাদাকে কড়া করে চিঠি লেখো, আর আমিও—’

    ‘দাদাকে?’ সোমা হাসে, ‘দাদাকে কি এমনিই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তোমার ধারণা? ও-সব ঢের হয়ে গেছে। আর তুমিই বা কোথা থেকে পাবে শঙ্খ? তোমার অবস্থাই কি জানি না আমি?’ নরম হয়ে আসে। ছলছলে হয়ে আসে।

    দুজনে দুজনের হাতটা মুঠোয় নেয়, মৃদু চাপ দেয়। সেই স্পর্শের মধ্যে যেন একটা নিরুপায় অসহায়তা শুধু সান্ত্বনার আশ্রয় খোঁজে।

    আশ্চর্য, এত লোকের এত টাকা, পৃথিবীতে কত টাকা, অথচ সামান্য কিছু টাকার জন্যে দুটো মানুষ তাদের আজীবনের স্বপ্ন হারাচ্ছে, হারাচ্ছে জীবন সুখ আনন্দ। আর একটা অসহায় মানুষ হারাচ্ছে সভ্যতা-ভব্যতা, পাপ, পুণ্য, ধর্ম, সত্য, চক্ষুলজ্জা, কর্তব্য। আর? আর একটা দাম্ভিক শয়তান সেই টাকা ক’টা দিয়ে কিনছে ওই সমস্তগুলো।

    ‘এখুনি নাই বা বাড়ি ফিরলে?’

    শঙ্খ বলে।

    সোমা হাতের জিনিসটা দেখায়, বাবার ওষুধ।’

    ‘একটু দেরীতে আর ক্ষতি কী?’

    শঙ্খ ওর সেই ধরা হাতটায় একটু চাপ দেয়, ‘চল না দীপালীতে গিয়ে একটু বসি।’

    ‘দীপালী রেস্তারাঁ’!

    ওদের অনেকদিনের লুকিয়ে পালিয়ে আসার একটা আশ্রয়।

    মোড়ের কাছেই।

    সোমা ইতস্তত করে বলে, ‘মা যদি বলেন এত দেরী কিসের?’

    ‘বলবে ভিজে যাচ্ছিলাম, তাই একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।’

    সোমা একটু হাসে, বলে ‘সত্যি কথাটা বলা যাবে না?’

    ‘বলতে পারলে আমার আপত্তি নেই। তোমারই তো কোনোকালে সাহস হয় না।’

    ‘ঠিক আছে—চল’ একটু বসা যাক।’

    গিয়ে ওঠে। ‘দীপালী’র খিদ্‌মদগার ছোকরা ওদের দেখে একটু হাসে। যে হাসিতে বেশ একটু ব্যঞ্জনা ফুটে ওঠে, ‘কী চাই?’

    ‘শুধু চা। দু’পেয়ালা। ভীষণ ভিজে গেছি।’

    তেরো

    কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে দুজনে চায়ের পেয়ালা নামিয়ে রেখে। তারপর সোমা বলে, ‘যা হোক একটা কিছু করতেই হবে। লোকটার বিবেকের কাছে আবেদন জানিয়ে দেখব! তবে এত ডাঁট লোকটার! ভারী খারাপ লাগে।’

    ‘ডাঁট হবে না?’ শঙ্খ আর একবার ঝাঁকিয়ে ওঠে, ‘এরাই তো বিধাতার সুয়ো ছেলে, ভাগ্যদেবীর বরপুত্তুর। উঃ! কী অবিচার!’

    তারপর সোমা চলে যায় নিজের বাড়িতে, শঙ্খ বেরিয়ে পড়ে যত্রতত্র। আর একটা চিরকালের সভ্য-ভদ্র বাড়ির ছেলে যার শিরায় শিরায় মধ্যবিত্তের ঠান্ডা রক্ত ছাড়া কোন দিকে কোনো মিশেল পর্যন্ত নেই, তার মনের মধ্যে একটা কুটিল অমানবিক বর্বর চিন্তা মাথাচাড়া দিতে থাকে।

    লোকটার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয় না?

    ভারী লরির সঙ্গে সাধের স্টুডিবেকারটির রাম-ধাক্কা? থেঁতলে যায় মুখটা, পিষে যায় দেহখানি। বিয়ের বাসনা অপূর্ণ রেখেই ইহজগৎ থেকে বিদায় নিতে হয় বাছার!

    বেশ হয়।

    তাহলে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করবে জগতে কোথাও একটা সুবিচারক আছে। টাকাটা তো পাওয়া হয়ে গেছে। কাকাবাবুর চিন্তা মিটেছে।

    সই নেই, হ্যান্ডনোট নেই, দাতার ওয়ারিশানও নেই। কাজেই আর কোনো বিপদেরও ভয় নেই।

    অদেখা লোকটার থেঁতলে যাওয়া মুখটার অবস্থা চিন্তা করতে করতে একসময় হঠাৎ লজ্জা পায়, তবু সমাধানের ওই সহজ পথটাই মনের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে থাকে শঙ্খ বোসের।

    চৌদ্দ

    সোমা এসে দেখল দরজায় গাড়ি! দেখল বাড়িতে সাড়া পড়ে গেছে। একটি আত্মীয় ছোকরা, হয়তো অগা-বগা ভাগ্নেই হবে, আর জনৈক পুরোহিতকে সঙ্গে করে সিংহসাহেব এসে হাজির হয়েছে।

    এটা অভাবিত!

    এটা স্বপ্নের অগোচর!

    সোমা যখন শঙ্খর সঙ্গে কথা কয়ে এসে বুকটায় একটু বল পাচ্ছিল, হঠাৎ এই অঘটনে ধড়াস করে উঠল। দমে গেল।

    লোকটা যেন তাকে গ্রাস করে ফেলার তোড়জোড় করছে।

    যেন তাকে ছেঁকে তোলবার জন্যে জাল ফেলছে!

    টাকার বস্তার শোকে হয়তো এ ক’দিন ঘুমোয় নি। হয়তো তাড়াতাড়ি দেখতে এসেছে এরা ভেগে গেল কিনা।

    কিন্তু এখন পুরুত সঙ্গে নিয়ে আসার কারণ কী?

    কারণ আবার কী, পাকা দেখা! অথবা দলিল পাকা করা!

    অর্থাৎ দশ হাজার টাকায় কেনা সম্পত্তিটা তাড়াতাড়ি পাকাপাকি রেজেস্ট্রী করিয়ে নিতে চায়।

    সুপ্রভা হানফান করছিলেন, মেয়েকে দেখেই চাপা আক্রোশে ফেটে পড়লেন, ‘কোথায় ছিলি? ওষুধ আনতে গেলি তো. গেলি! ‘

    সোমা কখনো মা-বাপকে রুক্ষ কথা বলত না, হঠাৎ আজকাল বলছে।

    আর ‘বলা মুখ’ বলছেই।

    ‘বৃষ্টি পড়ছিল দেখতে পাওনি? চোখ নেই?’

    ‘না, নেই! চোখ-কানের মাথা খেয়েছি যে! উঃ, কী অবস্থা! এদিকে এই কাণ্ড, ওদিকে তোর বাবার শরীর কেমন করছে, আমি একা কী করি তার ঠিক নেই। এক্ষুণি পাকা দেখবে।’

    সোমা এবার মূঢ়ের মতো তাকায় মা-র দিকে, তারপর বলে, ‘জানতে না এ-সব তোমরা?’

    ‘কোথায়? জানলে এই রকম অব্যবস্থা করে রাখি?’

    ‘তা সেই কথাটাই বলছো না কেন?’ সোমা কঠিন হয়, ‘সামাজিক একটা আইনও তো আছে। নাকি, সব কিছুই টাকা দিয়ে কেনা যায়? সেই আইন-টাইন সব?’

    সুপ্রভা কালিমুখে বলেন, ‘তা আমায় বলছিস কেন? আমি কী করব? বললাম তো, ঠিকঠাক নেই, কী করে হবে? তা বললেন, ‘ঠিকঠাকের কী আছে, কী কী আয়োজন করতে হয় বলুন, ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, গাড়ি রয়েছে, ড্রাইভার রয়েছে’

    ‘ওঃ। আজ থেকেই তাহলে উনি তোমাদের এই ভাঙা নৌকোর ভার নিয়েছেন?’ সোমা রুদ্ধকণ্ঠে বলে, ‘এতবড় একটা নির্লজ্জতার প্রতিবাদ করতেও সাহস হল না তোমাদের? এটুকুও বলতে পারলে না, এর জন্যে তো পাঁজি-পুঁথির অনুমতিও লাগে!’

    সুপ্রভা যেন এইবার পায়ের তলায় মাটি পান।

    ‘সেই জন্যেই তো! ওঁর পুরুত নাকি পাঁজি দেখে বলেছেন, আজ এই সময়টুকু ভালো আছে, তারপর সাত-আট দিন আর দিন ভালো নেই। ‘

    সোমা ছিটকে ওঠে, ‘ওঁর পুরুত তো বলবেনই, ঘুষ খেয়ে এ-কথাও বলতে পারেন, আজ রাত্রে ছাড়া বছরের মধ্যে আর লগ্ন নেই।…ঠিক আছে, আমিই যাচ্ছি। বলছি গিয়ে

    সুপ্রভা মেয়ের এই মূর্তি দেখে শঙ্কিত হন।

    .সুপ্রভা কাতর গলায় বলেন, ‘বাড়িতে এসেছে, অতিথি, তা ছাড়া যতই হোক একটা মান্যগণ্য লোক, তুই তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিবি?’

    ‘তাড়িয়ে দেব? অপমান করে?’

    সোমা ঘাড়টা ফিরোয়

    সোমার মসৃণ ঘাড়টা ব্লাউজের উপর থেকে যেন একটা রহস্যের ইশারা দিয়ে যায়।

    সোমার এই সুছাঁদ গ্রীবায় এক চিলতে সোনা নেই। নির্নিমেষ চোখে তাকিয়ে দেখেন সুপ্রভা।

    সিংহসাহেব মস্ত একটা গহনার বাক্স হাতে করে এসেছেন। অতবড় যখন, হয়তো নেকলেস।

    গোটা কতক বছর আগে পৃথিবীতে এসে পড়ার অপরাধে এত আশা এত আগ্রহ ব্যর্থ যাবে লোকটার?

    আর সোমাও এতখানি হারাবে?

    কিন্তু ওই মেয়েকে কে বোঝাবে?

    এতদিন জানা ছিল নরম, ঠান্ডা, স্নেহ-মমতামতী মেয়ে। হঠাৎ তার মধ্যে থেকে আগুনের ফিনকি দেখা গেল যেন।

    তা, সে আগুন মুহূর্তেই অন্তর্হিত হল। সোমা যেন অবাক গলায় বলে, ‘অপমান করে তাড়িয়ে দেব কী বল? আমি কি ভূত? যা বলবার ভদ্রভাবেই বলব—’

    ‘কিন্তু সে তোমার ওই ‘ভাবে’র ধার ধারবে? ক্ষেপে যাবে না?’

    সোমা শান্ত গলায় বলে, ‘তাহলে তো বুঝতেই হবে লোকটা ‘সুস্থ’ নয়। ক্ষেপে যাওয়া রোগ আছে।’

    ‘রোগ আছে?’ সুপ্রভাই ক্ষেপে ওঠেন, ‘কারণ নেই ক্ষ্যাপবার?’

    টাকা ছাড়া আর তো কোনো কারণ নেই।’

    ‘তা সেটাই কি সোজা?’

    ‘সোজা অবশ্য নয়। তবু বলতেই হবে, ওই শক্ত কাজটা করতে হবে আপনাকে। আস্তে আস্তে শোধ নিতে হবে।’

    ‘শোধ!’ সুপ্রভা ছিটকে সরে যান।

    যান স্বামীর দরবারে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত
    Next Article ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Our Picks

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }