Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোনার হরিণ নেই – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প1094 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোনার হরিণ নেই – ২৫

    পঁচিশ

    নিজের পৃথিবী বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জীবন প্রতারণা করেছে? বাপী তরফদার কার ওপর শোধ নেবে? কাকে ক্ষমা করবে? নিজের দুটো পা কপাল পর্যন্ত ওঠে না। নইলে সবার আগে ওটাকেই থেঁতলে দিত। এই কপালের ওপর বড় বেশি আশা ছিল। আস্থা ছিল। প্রেম প্রীতি ভালবাসার কোনো দুর্জয় শক্তির উপর নির্ভর করে বসেছিল। যেন যত খুশি লম্বা দুটো হাত বাড়িয়ে তারা স্থান-কালের গণ্ডী টপকে কারো জন্যে কাউকে আগলে রাখতে পারে। এই বিশ্বাসে সত্তার সব কড়ি উজাড় করে ঢেলে দেয় এমন বোকাও কেউ আছে!

    আজ ফিরছে গায়ত্রী রাই জানে না। বাগডোগরায় তাই গাড়িও অপেক্ষা করে নেই। লাউঞ্জে পা দিতেই একদিকের সোফার দিকে চোখ গেল। যাবার সময় যে সোফায় মাস্টারমশাই ললিত ভড়ের মেয়ে কুমকুম বাপীর সামনে এসে বসেছিল। হাওয়া আপিসের এক অফিসার স্ত্রী সাজিয়ে ওকে কলকাতায় নিয়ে যাবে এ আশায় দু মাস ধরে দিন গুনছিল আর এখানে হানা দিচ্ছিল। আত্মনির্ভর জীবনে ফেরানোর আশ্বাস দিয়ে বাপী তাকে আট দশ দিন বাদে বানারজুলির ঠিকানায় দেখা করতে বলেছিল। বাপীর গলা দিয়ে নিঃশব্দ একটা কটূক্তি বেরিয়ে এলো।

    এলে কি হবে? রেশমার কাজে লাগিয়ে দেবে, না দূর করে তাড়াবে? বাসনার যে আগুন শিরায় শিরায় জ্বলছে, নাগালের মধ্যে এলে আর কোনো মেয়ের তার থেকে অব্যাহতি আছে!

    ইচ্ছে করেই বিকেল পার করে দিয়ে বানারজুলিতে পৌঁছুল। গত এক-দেড় বছরের মধ্যে সাইকেল রিকশা চালু হয়েছে এখানে। একটায় উঠে বসল। রিকশাঅলাটাকে হুকুম করল খুব আস্তে চালাতে। বানারজুলির আকাশ বাতাস জঙ্গল সব অন্ধকারে ডুবে যাক। আরো ঘন হোক, আরো গাঢ় হোক। বুকের ভেতরটা যেমন কালি হয়ে আছে তেমনি হোক।…সেই কবে আবু রব্বানী বলেছিল, তার মুখ দেখলেই ভেতর-বার সাফ মনে হয়, মেমসায়েবের পছন্দ হবে; কিন্তু আজ অন্তত বাপীর নিজের ওপর বিশ্বাস নেই। এই মুখ আজ অন্ধকারেই সেঁধিয়ে থাক!

    —মিস্টার তরফদার, এক মিনিট। সাইকেল রিকশার টিমটিম আলোয়ও মুখ চিনে যে লোকটা হাত তুলে ডেকে থামালো, সে চা-বাগানের ক্লাবের ম্যানেজার ডাটাবাবু। রাস্তার উল্টো দিক থেকে হনহন করে আসছিল। ক্লাবে সন্ধ্যায় আসর বসার আগে ফেরার তাড়া সত্ত্বেও ওকে দেখে দাঁড়িয়ে গিয়ে রিকশা থামিয়েছে।

    —কি মুশকিলে পড়েছি বলুন তো, কত দিনের মধ্যে আপনাদের কোনো চালান নেই, এদিকে ভাল মাল প্রায় শেষ—আপনি এখানে নেই খবর পেয়ে আবু রব্বানীর কাছে গেছলাম, ও বলল, আপনি কলকাতা থেকে ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিছু মাল যে আমার এক্ষুনি দরকার।

    বাপীর ইচ্ছে হল রিকশা থেকে নেমে ঠাস করে তার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়। তার বদলে ঝাঁঝালো জবাব দিল, আপনার জন্যে আমি ঘরে মদের বোতল মজুত করে বসে আছি যে এক্ষুনি পাঠিয়ে দেব?

    মেজাজের ঝাপটায় ডাটাবাবু বেসামাল।—না না, তা বলছি না, যত তাড়াতাড়ি হয়—

    —চলো! ঝাঁঝালো বিরক্তির হুকুম রিকশাঅলাকে।

    আগের বাঁকের মাথায় নেমে রিকশার ভাড়া মিটিয়ে ট্র্যাভেল সুটকেস হাতে বাপী বাংলোর দিকে এগলো। বারান্দায় আলো জ্বলছে। মা বা মেয়ে সেখানে বসে নেই। এগিয়ে এসে নিঃশব্দে নিজের বাংলোর গেট খুলে ভেতরে এলো।

    ফেব্রুয়ারির শেষ এটা। কলকাতার তুলনায় এখনো এখানে ঠাণ্ডা বেশি। অন্ধকার ঘরের জানালা-টানলাগুলোও না খুললে চলে। তবু টর্চ জ্বেলে বাপী ঘরের ভেতরটা দেখে নিল একবার। সুটকেসটা একদিকে আছড়ে ফেলল। কাধের কোটটা দূর থেকে আলনার দিকে ছুঁড়ে দিল। তারপর বিছানায় সটান শুয়ে পড়ে টর্চ নিভিয়ে দিল। পরনের ট্রাউজার বদলে পাজামা পরার ধৈর্যও নেই।

    মাথাটাকে শূন্য করে দেবার চেষ্টা। কোনরকম চিন্তা মাথায় ঢুকতে দেবে না। ভালো না মন্দ না। আশা না হতাশা না। কিন্তু এমন অসম্ভব চেষ্টার সঙ্গে যুঝতে হয়। বাপী যুঝছে।…এই রাত পোহাবে। তখন আর অন্ধকারে সেঁধিয়ে থাকা যাবে না। মুখ দেখাতে হবে। দেখতে হবে। কিন্তু মাথার এই দাপাদাপি বন্ধ না হলে ভোর হবার আগেই পালাতে হবে কোথাও।

    কতক্ষণ কেটেছে জানে না। আধ ঘণ্টা হতে পারে। জোরালো আলোর ঘায়ে বিষম চমকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো।

    ঘরের আলো জ্বেলে বিমূঢ় বিস্ময়ে তার দিকে চেয়ে আছে ঊর্মিলা। পরনে সাদা ফ্রক। তার উপর কার্ডিগান। বাপীর মুখখানা ভালো করে দেখে নিচ্ছে।

    বিছানার কাছাকাছি এসে দাঁড়াল।—ফিরে এসে এমন ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছ? তুমি ফিরেছ মা জানে?

    সরল বিশ্বাসেও কেউ হিংস্র পশুর খাঁচা খুলে দিলে কি হয়? বাপী চেয়ে আছে। ওর ভিতরের কেউ চিৎকার করে বলতে চাইছে, শিগগির চলে যাও— পালাও। কারণ, আর কেউ ওকে আরো কাছে টানার জন্য লোলুপ হয়ে উঠেছে। মাথা নাড়ল কি নাড়ল না। অস্ফুট স্বরে জিগ্যেস করল, তুমি জানলে কি করে?

    —আমি ক্লাবে ডাটাবাবুর জন্য বসেছিলাম। কটা দিনের মধ্যে তোমাদের কারো কোনো খবর নেই…যদি চিঠিপত্র এসে থাকে। ডাটাবাবু বলল, তুমি ফিরেছ আর তোমার মেজাজও খুব খারাপ। কি হয়েছে…তোমাকে এরকম দেখাচ্ছে কেন?

    —কি রকম দেখাচ্ছে?

    ঊর্মিলা এতেই অসহিষ্ণু। গায়ের কার্ডিগানটা খুলে অদূরের চেয়ারে ছুঁড়ে দিয়ে আরো একটু কাছে এসে বলল, আমি জানি না, খবর কি বলো?

    বাপীর চাউনিটা ওর মুখ থেকে বুকে নেমে আবার মুখে উঠে এলো। এই মেয়ের এমন মুখর যৌবনের দিক থেকে জোর করেই চোখ ফিরিয়ে ছিল এত দিন। আর তার দরকার আছে? ঠিক এই মুহূর্তে যে সংকল্পটা উঁকিঝুঁকি দিয়ে গেল সেটাকে প্রশ্রয় দেবে, না ঠেলে সরাবে?

    জবাব দিল, খবর ভালো না।

    সঙ্গে সঙ্গে ঊর্মিলার ফর্সা মুখ ফ্যাকাশে একটু। উদ্‌গ্রীবও।—আঃ! চেপেচুপে কথা বলছো কেন? কার খবর ভালো না, আমার না তোমার?

    মগজে লোভের হাতছানি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নয় কেন? প্রেম ভালবাসার কি মানে? শুধু শব্দ ছাড়া আর কি? মোহ ছড়ায়, ভোলায়। একবার দখলের আওতায় পাকাপাকি ভাবে টেনে নিয়ে আসতে পারলে এই মেয়েরই বা মোহ কাটতে আর ভুলতে কত সময় লাগবে? তবু আরো একবার ভিতরের আর কেউ বাপীকে এই লোভ থেকে ঠেলে সরাতে চেষ্টা করল। জোর করে ও-পাশ ফিরে বলল, আলোটা নিভিয়ে দিয়ে চলে যাও, আমার মাথায় খুব যন্ত্রণা হচ্ছে—

    কাল কথা হবে।

    কিন্তু ঊর্মিলারও ধৈর্যের শেষ। খাটের ওপর বসে পড়ে এদিক থেকেই ঝুঁকে তার মুখ দেখতে চেষ্টা করল। তারপর চিরাচরিত অসহিষ্ণুতায় এক হাতে বাপীর চুলের মুঠি আর অন্য হাতে বুকের কাছটা ধরে জোর করেই আবার তাকে নিজের দিকে ফেরাতে চেষ্টা করে বলে উঠল, তোমার মাথায় কিচ্ছু যন্ত্রণা হচ্ছে না— কি হয়েছে আমি এক্ষুনি শুনতে চাই। তুমি বলবে কি বলবে না?

    বাপীর মুখের ওপর ওর নিঃশ্বাসের হলকা, পাঁজরে মাথায় ওর হাঁটুর ওপরের আর হাতের উষ্ণ স্পর্শ। ঘন নাগালের মধ্যে তপ্ত দুরন্ত যৌবন। যা ঘটার মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল। তারপর ঘটে যেতে লাগল। কঠিন দুটো হাতের ঝটকা টানে ওই সুঠাম নারীদেহ বাপী তরফদারের বুকের ওপর। নরম দুটো অধর নিজের দুটো ঠোঁটে বিদীর্ণ করে করে রসাতলের গহ্বরে তলিয়ে যেতে চাইল। নিজের শক্ত বুকের ওপর ওই উষ্ণ নরম বুক গুঁড়িয়ে দেবার আগে হাত দুটোও আর বুঝি ক্ষান্ত হবে না।

    সমস্ত ব্যাপারটা এমন অবিশ্বাস্য যে ঊর্মিলার সম্বিৎ ফিরতেই সময় লাগল খানিকক্ষণ। তারপর প্রাণপণে ওই অমোঘ গ্রাস থেকে নিজেকে ছিনিয়ে নিয়ে ছিটকে নেমে দাঁড়াল। কপালের ওপরে বিশৃঙ্খল চুলের গোছা এক হাতে পিছনে ঠেলে দিল। দেখছে। হাঁপাচ্ছে। দুই চোখ বিস্ফারিত। এই লোককে সে চেনে না, কখনো দেখেনি।

    এবারে দুই চোখে ওই নরম দেহ ফালা ফালা করছে। ঠোঁটের হাসি ধারালো ছোরার মতো ঝিলিক দিচ্ছে। গলার স্বরেও কোনো দ্বিধার পরোয়া নেই আর। ঠিক আজই আমি এরকম করে বলতে চাইনি তোমার দিকের খারাপ খবরটা কি। তুমি জোর করে বলালে।

    নিজের দুটো কানের ওপরেও বিশ্বাস খুইয়ে বসেছে ঊর্মিলা। হাঁপাচ্ছে এখনো। চেয়েই আছে।

    —দেখছ কি? আর অত অবাক হবারই বা কি আছে? এই মূর্তি দেখেই ভেতর আরো নির্মম বাপীর।—এ তো আমার পাওনাই ছিল। ড্রাইভিং শেখানোর গুরুদক্ষিণা হিসেবে অনায়াসে চুমুও খেয়ে ফেলতে পারো, বলেছিলে না? তবে এতে হবে না, এর থেকে ঢের বেশি দক্ষিণা দেবার জন্য তৈরি হওগে যাও।

    শুধু চোখে নয়, গলা দিয়েও এবারে অস্ফুট আর্তস্বর বেরুলো ঊর্মিলার।— এ তুমি কি করলে বাপী! তুমি না ফ্রেন্ড? কলকাতায় গিয়ে হঠাৎ কি হয়ে গেল তোমার? তুমি এমন কথা বলছ কেন?

    বাপীর হাসিতে এতটুকু মায়ামমতার ছোঁয়া নেই। দু চোখে নরম তাজা দেহ লেহন করছে এখনো। একটু আগের উষ্ণ স্পর্শ আগুন হয়ে মাথার দিকে উঠছে। জবাব দিল, ফ্রেন্ড বলেই আমার দাবি বেশি, কলকাতায় গিয়ে এই বাস্তব বুদ্ধিটুকু নিয়ে ফিরে এসেছি। এমন কথা বলছি কারণ তোমার মা যা চান তাই হবে। আর কদিনের মধ্যে ডলি মিসেস তরফদার হবে। বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে?

    ঠোঁটে হাসি। গলার স্বর অকরুণ। চোখে আবারও ওকে দখলের মধ্যে টেনে আনার অভিলাষ। ঊর্মিলা সত্রাসে চেয়ে রইল একটু। তারপর ছুটে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। গায়ের কার্ডিগানটা চেয়ারেই পড়ে থাকল।

    মিনিট দশেক বাদে বাপী খাট থেকে নামল। ঠাস ঠাস করে ঘরের জানালাগুলো খুলে ফেলল। বাথরুমে এসে চোখে-মুখে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিল। একটা দুর্বোধ্য যন্ত্রণা ভিতর থেকে ঠেলে উঠছে। ওটা নির্মূল করার আক্রোশেই বাপী মাথাটা কলের তলায় পেতে দিল। তোয়ালে মাথায় বুলিয়ে ঘরে পা দিয়েই থমকে দাঁড়াতে হল।

    চেয়ারের কাঁধে হাত রেখে গায়ত্রী রাই দাঁড়িয়ে। মাত্র কটা দিনের অদেখা এই মুখ আরো সাদা, রক্তশূন্য। শরীর আরো খারাপ হয়েছে, না মেয়ে গিয়ে কিছু বলেছে বলে এমন বিবর্ণ মূর্তি বোঝা গেল না। কিন্তু প্রথম কথায় মনে হল না, মহিলা মেয়ের কাছ থেকে বড় রকমের কিছু ধাক্কা খেয়ে এসেছে। এক নজর দেখে নিয়ে বলল, এই ঠাণ্ডায় মাথা ভিজিয়ে এলে, মোছো ভালো করে, জল ঝরছে।

    বাধ্য ছেলের মতো ঘরের আর একটা শুকনো তোয়ালে দিয়ে আবার মাথাটা মুছে নিল। একটু সময় দরকার। কিছু শোনার জন্য আর কিছু বলার জন্য প্রস্তুতি দরকার। তোয়ালেটা জায়গামতো রেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথা আঁচড়াতে আঁচড়াতে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক গলায় বাপী বলল, বসুন। খুব ভালো দেখছি না তো, কেমন ছিলেন?

    —ভালো না।

    বেশি অসুস্থ না হলে এরকম বলে না। চিরুনি থেমে গেল। আয়নার ভেতর দিয়ে বাপী তার দিকে তাকালো। মহিলা এখনো দাঁড়িয়ে। ওর দিকেই চেয়ে আছে।

    —সেই কষ্টটা আবার বেড়েছিল?

    বাজে কথায় সময় নষ্ট হচ্ছে বলেই যেন বিরক্ত।—কষ্ট লেগেই আছে, ও নিয়ে ভেবে কি করবে, তুমি কখন ফিরেছ?

    —বেশিক্ষণ নয়। চিরুনি রেখে এগিয়ে এলো। আমি নিজেই তো যেতাম, আপনার কষ্ট করে আসার কি দরকার ছিল।

    চেয়ারটা তার সামনে টেনে দিতে গিয়ে বাপীর দু চোখ হোঁচট খেল একপ্রস্থ। ঊর্মিলার কার্ডিগান এখনো চেয়ারেই পড়ে আছে। গায়ত্রী রাই দেখেছে। ঠাণ্ডা মুখে বাপী ওটা তুলে আলনায় রাখল।

    গায়ত্রী রাই চেয়ারে বসল। ও খাটে এসে বসা পর্যন্ত অপেক্ষা করল। তারপর জিগ্যেস করল, ডলির কি হয়েছে?

    জবাব না দিয়ে বাপী চুপচাপ চেয়ে রইল খানিক। ভাবলেশশূন্য এই সাদা মুখ দেখে আশা করছে কি হয়েছে বা কতটা হয়েছে মেয়ে হয়তো এখনো সেটা বলে নি। কিছু যে হয়েছে তাই শুধু বুঝে তাড়াতাড়ি চলে এসেছে। ফিরে জিগ্যেস করল, ডলি কিছু বলেছে আপনাকে?

    —না।

    —কি করছে?

    —ঘরে গিয়ে বিছানায় আছড়ে পড়ে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে কাঁদছে। ওর বাবা মারা যেতে এভাবে কাঁদতে দেখেছিলাম। তারপর আর দেখিনি। রাগ হলে তেজে ফোটে, কাঁদে না। কি হয়েছে?

    মিথ্যের সঙ্গে সত্তার বিরোধ বাপীর। এই একজনের চোখে চোখ রেখে মিথ্যে বলা আরো কঠিন। তাছাড়া একলা ঘরে পশুর মতো যেভাবে দখল নৈওয়া হয়েছিল আর হামলা করা হয়েছিল, কান্না থামলে মেয়ে মায়ের চোখে সেই নিষ্ঠুর লোলুপতার দিকটাই বড় করে তুলবে। শেষ মুহূর্তে সেই দখল না ছিঁড়তে পারলে ওই পশুর হাত থেকে আজ আর অব্যাহতি ছিল না মেয়ে তাও বলতে ছাড়বে না। বাপীর চিন্তায় এখনো কোনো বিবেকের দংশন নেই, কোনো আপোস নেই। এই মুহূর্তে তাই মাথা খুব ঠাণ্ডা।

    ধীর গলায় জবাব দিল, আমাকেই বিয়ে করতে হবে, আর কারো চিন্তা আর আমার বরদাস্ত হবে না, আপনার মেয়েকে আজ সেটা আমি খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছি।

    গায়ত্রী রাই অপলক চেয়ে আছে। আগের মতো সেই ভেতর-দেখা চোখ। শুধু এ-জন্যেই মেয়ে রাগে না ফুঁসে বা গর্জে উঠে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে এ যেন বিশ্বাস করার মতো নয়। গলার স্বর নীরস একটু।—এ বোঝানোটা আরো অনেক আগে থেকে শুরু করোনি কেন?

    —অসুবিধে ছিল।

    অপলক চাউনিটা মুখের ওপর বিঁধেই থাকল খানিক। বোঝার চেষ্টা। জিগ্যেস করল, কলকাতায় গিয়ে সেই ছেলের সঙ্গে ফয়সালা করে এসেছ?

    —না। এখানে এসে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে মন স্থির করেছি। দেখছেই। পরের প্রশ্নটাতেও তাপ-উত্তাপ নেই।—এতদিন তোমার নিজেরও মন স্থির ছিল না?

    ভিতরে ভিতরে বাপী সচকিত। মায়ের কাছে এরপর নালিশ যদি করে ঊর্মিলা, পশুর মতো দখল নেবার কথাই শুধু বলবে না, মিষ্টির কথাও বলবেই। শয়তান বুদ্ধি যোগাচ্ছে বাপীকে। জবাব দিল, ছিল না। কেন ছিল না আপনার জানা দরকার। ডলিকে নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না, সব শুনে আপনি যদি আমাকে বাতিল করেন, সে-বিচার মাথা পেতে নেব।

    চাউনিতে ব্যতিক্রম দেখা দিল একটু। জিজ্ঞাসু।

    ধীর নির্লিপ্ত সুরে বাপী বলে গেল, ছেলেবেলায় এখানকার এক মেয়েকে আমি খুব পছন্দ করতাম। তখনকার রেঞ্জ অফিসার, জঙ্গলের বড়সাহেব। আমার বাবা তার আন্ডারে সামান্য কেরানী। অত বড় ঘরের মেয়ের সঙ্গে মিশতে চাইতাম বলে হামেশা তারা অপমান করত, তার ছেলে মারত, মা কান মলে দিত। সেই আক্রোশে ওই মেয়ের ওপর আমার পছন্দটা হামলার মতো হয়ে উঠেছিল। সেই পছন্দের শাস্তি কি পেয়েছিলাম এই দেখুন—

    একটু অবকাশ না দিয়ে ঘুরে বসে একটানে ট্রাউজারের তলা থেকে শার্টটা টেনে মাথার দিকে তুলে ফেলল সে।

    আধ-হাত-প্রমাণ পাঁচ-ছটা এলোপাথাড়ি সাদা দাগ পিঠের চামড়ায় স্থায়ী হয়ে আছে। জামা নামিয়ে বাপী আস্তে আস্তে ঘুরে বসল আবার। গায়ত্রী রাইয়ের সাদাটে মুখ বিমূঢ় এখন

    তেমনি নিরুত্তাপ গলায় বাপী বলে গেল, বাবার তখন জ্ঞান ছিল না, চাবুকে চাবুকে বড়সাহেব আর তার মেয়ে আর তার মায়ের আর আরো অনেকের সামনে আমাকে অজ্ঞান করে ফেলেছিল। রক্তে জামা ভিজে গেছল। আমার বয়েস তখন চোদ্দ, সেই মেয়ের দশ। তার কিছুদিনের মধ্যে তারা এখান থেকে বদলি হয়ে চলে যায়। কিন্তু আমি তাদের কোনদিন ভুলিনি, ভুলতে চাইনি। বি-এস-সি পাশ করার পর কলকাতায় যখন চাকরির চেষ্টায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, তখন আবার সেই মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আবারও অপমানে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আমি বানারজুলিতে ফিরে এসে আপনাকে পেয়েছি। কিন্তু এই চার বছরের মধ্যেও সেই মেয়ের সঙ্গে ফয়সালার চিন্তা আমার মাথা থেকে যায় নি। এবারে কলকাতা গিয়ে দেখলাম সেই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

    এর পরেও হতভম্বের মতো চেয়েই আছে গায়ত্রী রাই। রাগের চিহ্নও নেই, শুধুই বিস্ময়। এরই ফাঁকে বাপী ভিতরের আশঙ্কা ব্যক্ত করে ফেলল।—

    —ডলি হয়তো আপনাকে এই মেয়ের কথা বলেও আমাকে বাতিল করতে চাইবে।

    একটু নড়েচড়ে আত্মস্থ হল মহিলা। এবারে সদয় মুখ নয় খুব।—এত সবও ডলিকে তোমার বলা হয়ে গেছে তাহলে?

    —আমি একটি কথাও বলিনি। এতটা ও জানেও না। ছেলেবেলার ব্যাপারটা আবু রব্বানী জানত। রেশমা আর দুলারির কাছে আবু সে-গল্প করেছে। ডলি রেশমার মুখ থেকে শুনেছে।

    গায়ত্রী রাই ছোট স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল একটা। ভালবাসা-টাসা নয়, যে—মেয়ের কথা শুনল তাকে ভুলতে না পারার পিছনে পুরুষের আক্রোশটাই বড় করে দেখছে। অপমান ভোলার ছেলে যে নয় তার থেকে বেশি আর কে অনুভব করতে পারে। তবু জিজ্ঞাসা করল, সেই মেয়ের যদি বিয়ে না হয়ে যেত তাহলে কি করতে?

    সত্যি কি বাপীর মুখে শয়তান কথা যোগাচ্ছে? সাদামাটা এক জবাবে মহিলার সমস্ত সংশয়ের অবসান। বলল, তাহলে আমার এতদিনের রোগ ছেড়ে যেত কিনা আমি জানি না।

    নীলাভ দুটো চোখের গভীর স্নেহের এমন উৎসও কি বাপী খুব বেশি দেখেছে? গায়ত্রী রাই ওকে দেখছে এখনো। পাতলা ঠোঁটের ফাঁকে সেই স্নেহ হাসির আকার নিচ্ছে। বলল, নিশ্চিন্ত থাকতে পারো। আমার কাছে তোমার ছেলেবেলার কথা তুলে ডলির খুব সুবিধে হবে না।

    এতক্ষণে বাপী হাসল একটু।—আপনি যেমন ভাবছেন তেমন সুবিধেও হবে না। আমার জ্বর ছাড়লেও ডলির ছাড়েনি। বেগতিক দেখলে ও এখান থেকে পালাবে, হয়তো চিঠি লিখে বিজয় মেহেরাকে এখানে আনাবে। মাথা ঠাণ্ডা হবার আগে এরকম কিছু না করতে পারে আপনার দেখা দরকার।

    স্নেহ-উপচনো ধমকের সুরে গায়ত্রী রাই বলে উঠল, আমার কি দায়! তুমি আগলাবে, তুমি দেখবে। ওর মন ফেরানোর মতো সময় আর সুযোগ কম পেয়েছিলে তুমি?

    বাপী চুপ।

    —কলকাতায় সেই ছেলের সঙ্গে তোমার দেখা হয়েছে?

    বাপী মাথা নেড়ে সায় দিল।

    —কি বুঝলে?

    রণে বা প্রেমে নীতির বালাই রাখতে নেই। প্রেমে না হোক, রণে জেতার দুরন্ত জেদ এখন। ঠাণ্ডা জবাব দিল, বড় হয়েই ফিরেছে, ভালো মাইনে, ফ্যাক্টরির মধ্যেই কোয়ার্টারস। সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত খাটুনি চলছে এখন, ফুরসত নেই বলে এখানে আসতে পারছে না। এক্ষুনি বিয়েটা করে ফেলতে চায়। একটু থেমে বিরূপ প্রতিক্রিয়াটুকু লক্ষ্য করে যোগ করল, সিগারেট খাওয়াটা আগের থেকেও অনেক বেড়েছে দেখলাম। আর সকাল-সন্ধ্যা কাজে ডুবে থাকার পর রাতে একা ভালো লাগে না বলে ড্রিংকস-এর মাত্রাও বেড়ে গেছে নিজেই বলল।

    কাউকে পিছন থেকে ছুরি বসানোর মতো একটা গ্লানি বুকের ভিতরেই গুঁড়িয়ে দেবার আক্রোশ বাপীর।

    কঠিন আঁচড়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গায়ত্রী রাইয়ের মুখে। রাগ বেশি হলে অল্প অল্প শ্বাসকষ্ট হয়ই। একটু লক্ষ্য করেই বাপী তাড়াতাড়ি বলল, আপনার শরীর ভালো দেখছি না, এ-সব কথা এখন থাক

    —কলকাতায় তাকে তুমি কি বলে এসেছ?

    —বলেছি আপনি খুব অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া দরকার হতে পারে। বিয়ে এক্ষুণি সম্ভব নয়।

    —আমি রাজি হব না একথা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়ে এলে না কেন?

    —জানালে ছুটি নিয়ে ডলির সঙ্গে বোঝাপড়া করার জন্যে সে ছুটে আসত। আপনার মেয়ে তখন আরো অবাধ্য হত। এখনো কারো কথা শুনবে মনে হয় না।

    গায়ত্রী রাই আস্তে আস্তে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।না শুনলে আমি কোনদিন ক্ষমা করব না, সেটা তার জানতে বুঝতে বাকি থাকবে না।

    দরজার দিকে এগুলো। বাপীর উচিত তাকে ধরে ধরে পৌঁছে দিয়ে আসা। মন ঝুঁকলেও আজ আর এটুকু পারা গেল না। পিছনের দরজা পর্যন্ত এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। সব ছেড়ে কেন যেন মহিলার স্যান্ডাল পরা ধপধপে ফর্সা দুই পায়ের দিকে চোখ গেল। মনে হল এমন দুখানা পা-ও বেশি দেখেনি।

    বিবেকের গলা টিপে ধরে আছে। কিন্তু যতক্ষণ না একেবারে মরছে ওটা ততক্ষণ ছটফটানি আছেই। যন্ত্রণা আছেই। থাকুক। গুমরোক। আপনি ঢিট হবে। শয়তানের হাতে হাত মিলিয়েছে বাপী তরফদার। তার কাছে কারো জারিজুরি খাটবে না। সে নরকে টেনে নিয়ে যাবেই। বিবেকের দাস হয়ে থাকলে স্বর্গসুখ যে কত জানতে বাকি আছে? তার থেকে নরকের রাজত্ব ঢের ভালো।

    ঘণ্টাখানেক বাদে কোয়েলা এসে তাকে খেতে ডেকে নিয়ে গেল। খাবার টেবিলে শুধু সে আর গায়ত্রী রাই মুখোমুখি। ঊর্মিলা নেই। থাকবে না জানা কথাই। দু চোখ তবু তার মায়ের মুখের ওপর উঠে এলো।

    —ডলি খাবে না। তুমি শুরু করো।

    ঠাণ্ডা মুখে মহিলা নিজেও খাওয়া শুরু করল। ইদানীং তার রাতের খাওয়া নামমাত্র। কিন্তু তাতে এতটুকু ব্যতিক্রম দেখা গেল না। মেয়ে খেল না বলে ওই মুখে কোন রকম প্রশ্রয়ের ছিটেফোঁটাও নেই। কিন্তু বাপীর কি হল? এক মেয়ে খাবে না শুনে জঠরে খিদে সত্ত্বেও মুখে রুচি নেই। শয়তানেরও মায়ামমতা আছে?

    পরদিন সকালে বারান্দার চা-পর্বেও ঊর্মিলা অনুপস্থিত। ভিতরের ঘরেও তার অস্তিত্বের আভাস মিলল না। সতর্ক করার পরেও মেয়েকে আর একলা কোথাও ছেড়ে দেবার মতো কাঁচা নয় মহিলা। তবু আশঙ্কা। জিগ্যেস করল, ডলি কোথায়?

    —বিছানা ছেড়ে ওঠেনি। খুব মৃদু আর নিরুত্তাপ কঠিন সুরে বলল, ওকে যতটা বোঝানো দরকার বুঝিয়ে দিয়েছি। কোয়েলা চোখ রাখবে, তুমিও একটু খেয়াল রেখো। কিছু মতলব ভাঁজছে হয়তো, নইলে ক্ষেপে উঠত।

    বাপী তরফদার নয়, সংগোপনে শয়তান বড়সড় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। মেয়েকে কতটা বোঝানো হয়েছে এই মুখ দেখে বাপী আঁচ করতে পারে। তার পরেও মেয়ে ওর পশুর মূর্তিটা মায়ের সামনে তুলে ধরেনি। দেহ দখলের হামলার কথা বলেনি। এখনো রাগে দুঃখে অপমানে ফুঁসছে হয়তো। পরে বলতে পারে। কিন্তু বাপী আর পরোয়া করে না। বললেও এই মা-টি আরো অকরুণ সংকল্পে মেয়ের বিরুদ্ধেই পরোয়ানা জারি করবে। যতটুকু বিশ্বাস করবে তাও পুরুষের দাপট আর পুরুষের অসহিষ্ণুতা ধরে নেবে। মনে মনে মহিলা বরাবর ওকে পুরুষের সম্মান দিয়ে এসেছে বলেই আজ তার এত স্নেহ, এমন অন্ধ বিশ্বাস।

    এ কদিন ছিল না, বাপী তবু আজও আপিস ঘরের দিক মাড়ালো না। তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলো। আবুকে দরকার। এক্ষুনি গেলে ঘরেই পাবে হয়তো।

    আবুর দুটো ঘরেরই ভোল পাল্টে গেছে অনেক দিন। পয়সার ব্যাপারে ভাগ ভিন্ন ভোগে বিশ্বাস নেই বাপীর। ফলে কাঁচা টাকার মুখ আবুও কম দেখছে না। মাটির ঘর বাতিল করে কাঠের ঘর তুলেছে। তাতে হলদে সবুজ রংয়ের জেল্লা তুলেছে। টকটকে লাল টালির ছাদ বসিয়েছে। শুধু দোস্ত-এর কাছে কেনা, নইলে আবু রব্বানী এখন বুক চিতিয়ে নবাবী চালে চলে!

    গলা পেয়েই তাড়াতাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। দোস্ত্ হুট করে কলকাতা কেন চলে গেছল জানে না। ফেরার খবরও রাখে না। বাপীর সাড়া পেলে যত কাজই থাক দুলারিও না এসে থাকতে পারে না। কিন্তু আজ আবুকে নিরিবিলিতে দরকার বাপীর।

    আবু সাদর আপ্যায়ন জানালো, তুমি বাইরে থেকে হাঁক দাও কেন বাপীভাই, সোজা ভিতরে চলে আসবে। এসো—কলকাতা গেছ শুনলাম, এদিকে ডাটাবাবু তো তুমি নেই বলে চোখে অন্ধকার দেখছে।

    —বাদশাকে আজ জিপ দিয়ে পাহাড়ে পাঠিয়ে দেব’খন, সে ব্যবস্থা করবে।…এখন আর বসব না, তুমি জঙ্গলের কাজে বেরুচ্ছিলে তো?…এসো।

    দিন বদলালেও দুলারির ধাত বদলায়নি, মুখে কথা কম। দেখে বেশি। আজ বাপীর তাইতেই অস্বস্তিও বেশি।

    জঙ্গলের পথে পা চালিয়ে বাপী সোজা প্রস্তাব করল, তোমাকে দিনকতক ছুটি নিতে হবে।

    আবু হাঁ। কারো কাজে কোনো গুরুতর গাফিলতি ঘটে গেলে এ-রকম প্রস্তাব আসে জানে। দাঁড়িয়ে গিয়ে মুখের দিকে তাকালো।

    তেমনি ঠাণ্ডা গলায় বাপী আবার বলল, ছুটি নিয়ে আমার নিজের একটু কাজে লাগতে হবে তোমাকে।

    আবুর বদ্ধ নিঃশ্বাস মুক্তি পেয়ে বাঁচল। কিন্তু এবারে অবাক তেমনি।—কি করতে হবে?

    —সকালে দুপুরে আর বিকেলে একজনের ওপর নজর রাখতে হবে। তোমাদের মেমসায়েবের মেয়ে খুব সম্ভব আবার পালাতে চেষ্টা করবে।

    —এতদিনের মধ্যেও মিসিসায়েবের সেই জ্বর ছাড়েনি?

    বাপী মাথা নাড়ল। ছাড়েনি।

    বেশ মজাদার উত্তেজনার রসদ পেল আবু। দোস্ত-এর এমন গম্ভীর মুখ না দেখলে কিছু চপল রসিকতা করে বসত। সোৎসাহে বলল, কিন্তু আমি একলা কত দিক আগলাবো? আমার দু’তিনজন সাগরেদকেও লাগিয়ে দিই তাহলে?

    বাপীর ঠাণ্ডা মুখে বিরক্তির আভাস।—মাথাটা আর একটু সাফ করো। বিয়ের আগে আমার বউ পালাতে পারে বা পালাবার চেষ্টা করতে পারে এটা জানাজানি হয়ে গেলে আমার মান থাকবে? বানারজুলি থেকে বেরুনোর একটাই পথ, তুমি সাইকেল নিয়ে ডাটাবাবুর ক্লাবের রাস্তা আগলালেই হবে—যেমন দরকার বুঝবে করবে।…এদিকে কোয়েলার চোখে ধুলো দেওয়া সহজ হবে না, আর আমিও চোখ বুজে থাকছি না।

    শেষের কথাগুলো আর কানে গেল কিনা সন্দেহ। বিস্ময়ের অকূল দরিয়ায় পড়ে হাবুডুবু দশা।—তোমার বউ! তুমি বিয়ে করবে মিসিসায়েবকে?

    যে মূর্তি দেখে আর যে কথা শুনে হাসির কথা, তাই দেখে বা শুনে বাপীর রাগ হচ্ছে কেন জানে না। জবাব দিল, তোমাদের মেমসায়েবের সেই রকমই হুকুম।

    বিস্ময় আর উত্তেজনার ধকল সামলে আবু জিজ্ঞাসা করল, মিসিসায়েব বেঁকে বসেছে?

    —হ্যাঁ।

    আবুর সামনেই যেন দিশেহারা হবার মতো সমস্যা।—তাহলে কি করে হবে…ধরে বেঁধে বিয়ে করবে?

    বাপী ভিতরে ভিতরে তেতেই উঠেছে। গলার স্বরে পাল্টা শেষ।—মরদ বেঁচে থাকতেও ভিতরে ভিতরে দুলারির দিকে হাত বাড়াওনি তুমি? দুলারির মেজাজ দেখে নিজে হাল ছেড়েছিলে?

    এবারে একমুখ হাসি আবুর।—তার রাগের মধ্যেও একটু আশনাইয়ের ব্যাপার ছিল যে বাপীভাই। তোমারও যদি তাই হয়ে থাকে তো কুছ পরোয়া নেই—ধরে-বেঁধে ঘরে এনে ঢোকাও, পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।

    বাপী চুপ। আশনাই অর্থাৎ প্রেম থাকলে সব ঠিক হয়ে যাবে শুনেও ভিতরটা অসহিষ্ণু। খুশি আর উত্তেজনায় আবু টইটম্বুর।—ইস! তুমি অনেক ওপরে উঠে গেছ দোস্ত, নয়তো তোমাকে কাঁধে নিয়ে ধেই ধেই করে খানিক নেচে নিতাম

    ফেরার পথে সামনের গেটের কাছে বাপীর পা থেমে গেল। ঊর্মিলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে। এদিকেই চেয়ে আছে। পিছনে তার মা চোখে চশমা এঁটে লিখছে কিছু।

    ঊর্মিলা চেয়ে রইল।

    এত দূর থেকেও ঝলকে ঝলকে তপ্ত আগুন ঠিকরে এসে বাপীর মুখ ঝলসে দিতে লাগল।

    গেট ছেড়ে বাপী নিজের বাংলোর দিকে পা বাড়ালো। আগুনে ঝলসালে লোহা ছাই হয়, না উল্টে দগদগে লাল হয়? বাপীর মেজাজেরও সেই অবস্থা।

    পর পর চার দিন দেখা হল এরপর। চোখাচোখি হল। দুবার তিনবার করে। একদিনও ঊর্মিলা খাবার টেবিল বা চায়ের টেবিলে আসেনি। গায়ত্রী রাই তাকে ডাকেনি। কোয়েলা তার খাবার বা চা ঘরে দিয়ে এসেছে। যেতে আসতে তবু দেখা হয়েছে। বেশ তফাতে দাঁড়িয়ে ঊর্মিলা দেখেছে ওকে। দুই চোখে গলগল করে ঘৃণা ঠিকরেছে। বিদ্বেষ উপচে উঠেছে। কিন্তু ঘৃণার আঘাতে কাবু হবে বাপী তরফদার? বিদ্বেষ তাকে সংকল্প-ছাড়া করাবে? এই দেখে বরং ভিতরটা তার আরো ধারালো কঠিন হয়ে উঠেছে।

    রাত্রি। তখনো খাবার ডাক আসেনি। এ সময়টা বাপীর বই পড়ে কাটে। কদিন হল বই পড়ার নেশাও ছেড়ে গেছে। চুপচাপ চোখ বুজে শুয়ে ছিল। মাথাটাকে শূন্য করে দেবার ধকল পোহাচ্ছিল।

    একটা ষষ্ঠ অনুভূতির ধাক্কায় চোখ মেলে দরজার দিকে তাকালো।

    ঊর্মিলা। ভিতরে এসে দু হাত কোমরে তুলে দাঁড়িয়ে আছে। তপ্ত লাল মুখ চোখোচোখি হতে গলগল করে ঘৃণা ঠিকরোতে লাগল। প্রস্তুত ছিল না বলেই হয়তো বাপী বে-সামাল একটু।

    আরো পোড়ানো আরো ঝলসানোর জন্যেই যেন আরো একটু এগিয়ে এলো ঊর্মিলা।

    গলায়ও হিসহিস আগুন ঝরল।—দেখছ কি? একাই এসেছি। গেটে দাঁড়িয়ে মা তোমার ঘরে ঢুকতে দেখে নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে গেছে। কি দেখছ? দরজা বন্ধ করে দেব? তাহলে সুবিধে হবে? আজ সব সাধ মেটাবে?

    আত্মস্থ হবার চেষ্টায় বাপী নিজের সঙ্গে প্রাণপণে যুঝছে। নিজের অগোচরে উঠে বসেছে। গলা দিয়ে অস্ফুট স্বর বেরুলো, বোসো—

    বসব? তোমার কাছে এসে আনন্দে গল্প করতে এসেছি আমি? তুমি বেইমান, তুমি বিশ্বাসঘাতক, তোমার পরামর্শে বাড়িতে মা আর কোয়েলা ছায়ার মতো আমার সঙ্গে লেগে লেগে আছে, একটা চিঠি লিখতে বসলেও সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে—বাংলো থেকে নামলে কোয়েলা পিছু নেয়—কাজকর্ম ছেড়ে আড়াল থেকে তুমি চোখে আগলাচ্ছ—ক্লাবের সামনে আবু রব্বানীকে মোতায়েন রেখেছ—চারদিক থেকে আমাকে শিকলে আটকেছ—কিন্তু এই করে কি পাবে তুমি? কি পাবে আশা করো?

    বাপী নির্বাক। এখনো নিজের বশে নেই। ঊর্মিলার হিসহিস গলার স্বর চড়ছেই।—যে রেশমা তোমাকে পুজো করত সেই রেশমার মরা মুখ তোমার মনে আছে? আছে? আর একখানা মরা মুখ দেখতে চাও? এত পাহারা দিয়েও সেটা ঠেকাতে পারবে? এই জ্যান্ত ডলি তোমার কোনো দিন ভোগে আসবে না সেটা জেনে রেখো আর মাকেও জানিয়ে দিও। বুঝলে? বুঝলে?

    বোঝার ধকলে বাপীর কপালে ঘাম দেখা দিয়েছে। চেয়েই আছে। ঊর্মিলাও।

    বাপী অপলক।

    ঊর্মিলাও।

    পরের মুহূর্তে ও যা করে বসল তাও অভাবিত। এত রোষ এত ঘৃণা হঠাৎ কান্না হয়ে ভেঙে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে উপচে-ওঠা আবেগে এগিয়ে এসে ওই বিছানায় বসে পড়ে দু’হাতে গলা জড়িয়ে ধরে সমস্ত যন্ত্রণা উজাড় করে ঢেলে দিতে চাইল।—বাপী, এ হবে না—এ হতে পারে না। তুমি আমার ফ্রেন্ড—এত বিশ্বাসঘাতকতা তুমি করতে পারো না,—এমন বেইমান তুমি হতে পারো না— কলকাতায় গিয়ে তোমার সাংঘাতিক কিছু নিশ্চয় হয়েছে—তাই তুমি পাগল হয়ে গেছ। বাপী—তোমাকে আমি কত ভালবাসি তুমি জানো না—আমার ফ্রেন্ড এমন কাজ করতে পারে না—আমার এত ভুল হতে পারে না—এত বিশ্বাস না থাকলে আমি নির্ভয়ে তোমার কাছেই ছুটে আসতে পারতাম না।

    কোলে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল।

    বাপী মূর্তির মতো বসে

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসেই অজানার খোঁজে – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    Next Article মেয়েদের ব্রতকথা – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }