অয়দিপাউসের প্রস্থান
স্লেটরঙের আকাশ উথালপাথাল করে ঝড় আসছে। উদ্দাম হাওয়ায় শরীর মেলে লুটিয়ে পড়ছে বাগানের আম তেঁতুল নারকোল গাছ। পুরনো দিনের বিশাল বড় বাড়িটার ছাদে শুকোতে দেওয়া একরাশ দানাশস্য, সম্ভবত সর্ষে বা তিল, গায়ে ঢেউ খেলিয়ে এদিক ওদিক ছড়িয়ে গেল। একটা সাইকেল দেওয়ালের গায়ে হেলান দিয়ে রাখা ছিল। হাওয়ায় টলতে টলতে পড়ব পড়ব করছে। যাহ, পড়েই গেল! আর ঠিক তখনই সেই খোলা হাওয়ায় নিজেকে লুটিয়ে দেবার জন্য বাড়ির এক তরুণী মেয়ে বেরিয়ে আসল। কোমরে আঁচল বেঁধে ছাদের দিকে দৌড় লাগাল তার শিশুপুত্রের হাত ধরে। দুহাত আকাশের দিকে বাড়িয়ে উন্মুখ প্রত্যাশায় শুষে নিল জলবিন্দুগুলি। সেই পাগলা হাওয়ার অদম্য আকর্ষণে চরাচর ভেসে গেল। আর সেই নারীমূর্তি তার সন্তানকে নিয়ে মেতে মেতে উঠল অদ্ভুত ছেলেমানুষী নাচে।
বিজ্ঞাপনটা এখানেই শেষ। টেনেটুনে কুড়ি সেকেন্ডের অ্যাড। সংগে প্ৰতীক চৌধুরীর গলায় গান ‘পাগলা হাওয়া, আয় রে আয়/ বৃষ্টির দমক ভয় দেখায়’। সম্ভবত ওয়াটারবেরিজ কমপাউন্ডের অ্যাড ছিল। আজ নব্বই দশকের বাংলা টিভি প্রোগ্রাম আর অ্যাড নিয়ে ভাবতে বসে কিছুতেই এটার থেকে বেশি প্রতীকী কোনও বিজ্ঞাপন খুঁজে পাচ্ছি না। আমাদের নব্বইয়ের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক উপাদানগুলো তখন আস্তে আস্তে মনমোহিনী অর্থনীতির খোলা হাওয়ায় নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করছিল। সেই একটি দশক নিজেকে চুপিচুপি প্রস্তুত করে গেছে পালটানো যুগের দাবিতে। আর তারপর দু’হাজার সালে এসে নিজেকে সটান ঝোড়ো গ্লাসনস্তে ভাসিয়ে দিয়েছে। নব্বই ছিল এক সন্ধিক্ষণ, যেখানে দাঁড়িয়ে দূরগামী এক ঝড়ের দিকে পথ চেয়ে ছিলাম আমরা।
সেই ঝড়ের প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়ে গিয়েছিল শেষ আশি এবং শুরুর নব্বইয়ের ওই নস্টালজিয়া মাখানো বাংলা দূরদর্শনের অনুষ্ঠানগুলোর থেকেই। ‘তেরো পার্বণ’, ‘উড়নচণ্ডী’, ‘সিদ্ধার্থ সেন অন্তর্ধান রহস্য’, ‘সেই সময়’, ‘কানামাছি’, ‘বকুলবাসর’, রাজা সেনের সাহিত্যনির্ভর কাজগুলো -কত কত সিরিয়াল আমাদের মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের জানালাগুলো একটু একটু করে হাট করে দিচ্ছিল! আমাদের সেই মলিন হাক্লান্ত ভাড়াটে বাড়ির একচিলতে উঠোনে কখনও চাঁদ এসে ধরা দেয়নি। তার মনে হয় এক ম্লান ক্ষয়ে যাওয়া নিম্নমধ্যবিত্ত জীবনে হালকা আলোর আঙুল বুলিয়ে দিতে বয়েই গিয়েছিল। কিন্তু নরম ব্যথার আদর হয়ে নেমে এসেছিল বাংলা সিরিয়াল। যাদের ঘরে টিভি থাকত, প্রতি সন্ধ্যেবেলা তাদের সেই একচিলতে ঘরটুকু ভেঙে পড়ত আশেপাশের কাকিমা জেঠিমাদের ভিড়ে। গোরা আর সোরার ভ্রাতৃদ্বন্দ্ব হোক অথবা বকুলবাসরে মাসিমার (কাজল গুপ্ত) অদ্ভুত আচরণের রহস্য – তুমুল আলোচনা হতে দেখেছি মায়েদের মধ্যে। সমরেশ মজুমদারের ‘কালপুরুষ’ অবলম্বনে নির্মিত ধারাবাহিকটির কল্যাণে কৌশিক সেন অর্ক নামে ঘরে ঘরে পরিচিত হয়েছিলেন। অনসূয়া রায়চৌধুরীর মাধবীলতা জীবনযুদ্ধে বিপর্যস্ত, রুক্ষ ঊষর এক নারী। সব্যসাচী চক্রবর্তী এবং লাবণি সরকারের জুটি তখন ছোটপর্দার হার্টথ্রব। ‘সুন্দর’ বলে একটি টেলিফিল্ম করেছিলেন তাঁরা, যেখানে সব্যসাচী লাবণিকে শিখিয়েছিলেন কোনও অসুন্দর মানুষকে সুন্দর বলে তাঁর কাছ থেকে যে কোনও কাজ আদায় করে নেওয়া যায়। লাবণি সেই বিদ্যা যখন উলটে প্রয়োগ করলেন সব্যসাচীরই উপর আলতো মুখ তুলে বললেন “আপনি খুব সুন্দর”, ব্যাস! লজ্জার লাল আভা এসে লেগেছিল সব্যসাচীর বুদ্ধিদীপ্ত রুক্ষ মুখে। আর সংগে সংগে ম্যাজিকের মত ভোল বদলে গিয়েছিল চারপাশের বিবর্ণ প্রকৃতির। সবকিছু যেন এক লহমায় রঙিন হয়ে উঠেছিল। ঝলমলিয়ে হেসে ওঠেনি কি আমাদের দারিদ্রপীড়িত ভাড়াবাড়ির বারো ঘর এক উঠোনটাও?
অনেকে হারিয়ে গিয়েছেন। তেরো পার্বণে সব্যসাচী চক্রবর্তীর যিনি প্রেমিকা হয়েছিলেন, খুশি মুখার্জি, তিনি তুমুল জনপ্রিয় রোলটির পরেও ছুটকোছাটকা কয়েকটা সিরিয়াল কি সিনেমার বাইরে আর নিজেকে বিশেষ মেলে ধরতে পারেননি। উত্তীয় রাউত বা শিলাদিত্য পত্রনবীশের মত কেউ কেউ মারাও গিয়েছেন অসময়ে। দীপন তফাদার, রঞ্জন ভট্টাচার্য্যরা ( এঁরা দুজনেই বিবাহ বিভ্রাট সিরিয়ালটিতে অভিনয় করেছিলেন) একটা ধারাবাহিক করেই ফুরিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু অল্পচেনা হোক কি বিখ্যাত, একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা জুড়ে আমাদের দমচাপা জীবনে এঁরা সেই খোলা হাওয়ার প্রথম প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছিলেন। এঁদের ভোলা যায়? কী করে উপেক্ষা করব ত্রমিলা ভট্টাচার্য্যের মত ভুলে যাওয়া এক অভিনেত্রীকে, যিনি শীর্ষেন্দুর ‘দূরবীন’ উপন্যাসটির সিরিয়ালীকৃত ভার্সনটিকে অনেকটা সময় পর্যন্ত প্রায় একা টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন? সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (হেমকান্ত) এবং পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়ের (ধ্রুব) মত শক্তিশালী অভিনেতারাও কখনও কখনও রেমি চরিত্রটির কাছে ম্লান হয়ে যাচ্ছিলেন। অনেকেই দূরবীন দেখতেন শুধু ত্রমিলার জন্য। পরে উল্লেখযোগ্য আর কোনও অভিনয় না করলেও কী এসে যায়!
শুধু সিরিয়াল? তাহলে কে বলবে দর্শকের দরবারে, সাপ্তাহিকী, চিচিং ফাঁক, চিত্রহার অথবা চিত্রমালার কথা? শাশ্বতী গুহঠাকুরতা আর চৈতালী দাশগুপ্ত, যাঁদের অমোঘ আবেদন আমূল ছুরির মত বিদ্ধ হয়ে যেত আমাদের আটপৌরে যাপনে। আবার পংকজ সাহার একটা অভিনব কায়দা ছিল। মাঠেঘাটে ঘুরে ঘুরে র্যান্ডম লোকজনের মুখের কাছে মাইক ধরে স্বাধীনতা, বিশ্বকাপ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসব ব্যাপারে মতামত চাওয়া ৷ পুরোটা একটা মন্তাজ হিসেবে দেখানো হত। আর ছিলেন সেই প্রথমযুগের সংবাদপাঠক-পাঠিকারা। দাড়িওয়ালা তরুণ চক্রবর্তী, সতীনাথ মুখোপাধ্যায় (ইনি নানা সিরিয়ালে এবং রেডিওনাটিকাতেও অভিনয় করেছেন), দেবরাজ রায়।ছন্দা সেন ছিলেন। চশমাপরা বয়স্ক, ছোটখাট চেহারা। তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন ইনি। বাড়িওয়ালা-ভাড়াটে মামলায় জড়িয়ে সাসপেন্ডেড হন। কিন্তু দর্শকদের দাবিতে ওনাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এঁদের হাঁ করে গিলতাম। ট্যাগলাইনগুলো এখনও হন্ট করে। ‘আকাশ অংশত মেঘলা থাকবে। কোনও কোনও জায়গায় ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা’। ‘পরবর্তী সংবাদ রাত দশটায়’। ‘নিরুদ্দেশ সম্পর্কে ঘোষণা’।
এবং অবধারিত ভাবে উঠে আসবে বাংলা অ্যাডগুলো। ওয়াটার বেরিজ কমপাউন্ডের কথা তো আগেই বলেছি। উডওয়ার্ডস গ্রাইপওয়াটারের ক্যাচলাইন ছিল, ‘তুমি যখন ছোট ছিলে তোমাকেও খাইয়েছিলাম’। ধারা ধারা বিশুদ্ধ ধারা’, যেখানে লোলুপ গৃহকর্তার সম্মুখে ইলিশমাছ ভাজা তুলে ধরে গিন্নি জিজ্ঞাসা করছেন, “কোন তেল? হ্যাঁ গো?” শালিমারের অ্যাডগুলো। কুইন্টেশেন্সিয়াল শিক্ষিত বাঙালি ভদ্রলোক ভদ্রমহিলাদের হৃদয়ের সন্ধান এই অ্যাডগুলো পেয়ে গিয়েছিল কোনও এক জাদুবলে। ঋতুপর্ণ ঘোষের সেই বিখ্যাত ট্যাগলাইন ‘বঙ্গজীবনের অঙ্গ’ তো আর শুধু বোরোলিনেই আটকে ছিল না। এমনকি শেষ নব্বইতে এক লিটল ম্যাগে এই প্রবাদপ্রতিম ট্যাগলাইনটির নামে একটা কবিতাও দেখেছিলাম। লিরিলের বিজ্ঞাপনে প্রীতি জিনতার উচ্ছ্বল অনাবৃত যৌবন আমাদের নাড়িয়েছিল ঠিকই। কিন্তু কম ঝাঁকুনি দেয়নি এইসব তুলনামূলকভাবে নিষ্পাপ অ্যাডগুলো, যাদের আস্তিনের লুকনো মারণ তাস কখনও কখনও আচমকাই বেরিয়ে আসত। সম্ভবত অজন্তা হাওয়াইয়েরর একটা অ্যাড ছিল যেখানে একটি তরুণী একটা শর্ট ড্রেস পরে হাওয়াই চটি পায়ে হাঁটত। কুড়ি কি পঁচিশ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনটিতে প্রায় পাঁচ সেকেন্ড ধরে দেখানো হত তার নগ্ন পা। মেয়েটি হাঁটছে, পায়ের পেশি কাঁপছে, জংঘা আন্দোলিত হচ্ছে, হাঁটুর কাছটায় লালচে – আর কিছু দেখার আগেই স্যাট করে ছবি পালটে যেত। যেই সময়ের কথা বলছি তখনও স্প্যাগেটি টপ, লো রাইজ জিন্স, হল্টার নেক এসব শব্দগুলো আমাদের মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনে দূরগ্রহের জিনিস। ড্রেস জিনিসটাই অনেকে জানতাম না। সেইসময়ে ওই সুঠাম পায়ের আবেদন, এবং দেখানো-না-দেখানোর আবছা রহস্যময় নো ম্যানস ল্যান্ড থেকে দুম করে ক্যামেরা ঘুরে যাওয়া সম্ভবত ওই সময়ের অনেক টিনেজ ছেলের বুকেই রক্তচলাচল বাড়িয়ে দিত। আমি হাঁ করে দেখতাম সেই বিজ্ঞাপন। অথবা ক্যাডবেরির সেই তুমুল জনপ্রিয় ছবিটি, যেখানে বয়ফ্রেন্ড ছয় মেরে সেঞ্চুরি করার পর নিরাপত্তারক্ষীর বাধা ডিঙিয়ে মেয়েটি মাঠের মধ্যে ঢুকে নাচতে শুরু করে। ওই উচ্ছ্বলতা, ওই সবকিছুতে ডোন্ট কেয়ার ভাব, খোলা হাওয়ায় সমস্ত ইনহিবিশন ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া, এগুলো থেকে বড্ড বঞ্চিত ছিল আমাদের বাস্তবের নিম্নমধ্যবিত্ত কিশোরবেলা। তাই এগুলো দেখে নিজের অজান্তেই কান লাল হয়ে যেত। কেন তখন বুঝতাম না।
তখন বুঝতাম না। কিন্তু এখন বুঝি। আসলে সেই কাল ছিল আমাদের প্রস্তুতিপর্ব। ভাল হোক খারাপ হোক, খোলা হাওয়ার ঝাপটা যখন আছড়ে পড়েছিল আমাদের মধ্যবিত্তের আঙিনায়, আমরা বানভাসি হয়ে গিয়েছিলাম। আর তার আগের মুহূর্তগুলোয় আমাদের বেচমক আঘাতে নিয়ত শানিয়ে নিয়েছিল সময়। দূরদর্শন তার একটা হাতিয়ার ছিল। আজ পেছন ফিরে তাকালে মনকেমনের পাশাপাশি সেই ঋণটুকুও অনিবার্য অবশ্যম্ভাবিতায় তার প্রাপ্য দাবি করে বসে। নস্টালজিয়া? অনস্বীকার্য। কিন্তু তার বিরাজনীতিকরণটুকু করি কী করে? প্রতি সন্ধ্যেবেলা রান্নাবান্না শেষ করে টিভির পাট চুকিয়ে ভাড়াবাড়ির উঠোনটিতে মা কাকিমারা বসে থাকতেন। লোডশেডিং আঁচানো রাত্রি হলে তো কথাই নেই। সারা সন্ধ্যেটুকু ওই জায়গাতেই নরক গুলজার।পাশের কারেন্ট থাকা সৌভাগ্যবান বাড়ির ঘুরতে থাকা ফ্যানের ঝাপটে উড়ন্ত পর্দা লুটোপুটি খেত আর তার ফাঁক দিয়ে ছিটকে আসত কয়েক টুকরো ‘তেরো পার্বণ’ বা ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’।সেদিকে তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে মা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলত, “আজ আর পদ্ম ঝিয়ের ঝগড়া দেখা হোল না”। ওইটুকু সময়ে যেন সকলে নিজের নিজের অভাব, মালিন্য আর পারস্পরিক বিদ্বেষ ভুলে যেতেন। গল্পের সিংহভাগ জুড়ে থাকতেন খেয়ালি দস্তিদারদের চরিত্ররা, তাঁদের সংকট, তাঁদের অভিনয়। ওই যে মুক্ত আকাশ, সমস্ত সীমাবদ্ধতাটুকু নিয়েই – তার রাজনীতি ছিল না? তার ইতিহাস কে লিখবে তাহলে?
হ্যাঁ তারপরে যুগান্ত এসেছিল। মেগা সিরিয়ালগুলো, ‘জননী’, ‘সীমারেখা’, ‘তৃষ্ণা’, ‘মোহিনী’, এগুলো এসে কোণঠাসা করে দিচ্ছিল সাপ্তাহিকদের। আস্তে আস্তে অন্যান্য চ্যানেল চলে আসছিল। আমাদের গতিময় ঝিনচ্যাক জীবন কেনই বা আর মরসুমি চাষের ওপর বিশেষ প্রোগ্রাম দেখবে! চিত্রমালা চিত্রহারই বা কেন অত পাত্তা পাবে, যেখানে ততদিনে এমটিভি চলে এসেছে? দূরদর্শন তার জৌলুস হারিয়ে ম্যাড়ম্যাড়ে হয়ে যাচ্ছিল। বিব্রত, সময়ের সংগে খাপ খাওয়াতে না পারা, এবং নন কনফর্মিস্ট এক বৃদ্ধ ব্যক্তির মত ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছিল পর্দার আড়ালে। অন্ধ রাজা অয়দিপাউস যেমনভাবে আস্তে আস্তে মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন।
তবুও, আমরা যারা নব্বইয়ের কাছে অনেকখানি গচ্ছিত রেখে এসেছি নিজেদের, যারা ওই দর্শকের দরবারে অথবা চিচিং ফাঁকের অমোঘ জাদু আকর্ষণের কাছে বারবার নিজেদের লয়ালটিকে লুটিয়ে দিয়েছি, তাদের অনেকেই এখনও চোখ বুজলে আচমকা হয়ত শুনতে পাই কেয়োকার্পিন বিজ্ঞাপনের জিংগল। মাথার মধ্যে অব্যর্থ ঢং করে বাজে ‘আকাশ অংশত মেঘলা থাকবে’। কোনও এক কর্মব্যাস্ত দুপুরের কাজের ফাঁকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহুতল অফিসের কাঁচ ভেদ করে যখন অনেক দূরে চোখ মেলে দিই, ভিক্টোরিয়ার পরির মাথা, বিষণ্ণ ময়দান এবং ফোর্ট উইলিয়ামের একলা গম্ভীর মিনারের ওপর দিয়ে যখন দেখতে পাই ছাইরঙা মেঘ ঝাঁপিয়ে পড়তে আসছে এই পচা শহরটার বুকে, আমাদের অনেকেরই তখন সেই পুরনো বাড়ির ঝোড়ো বিকেলটার কথা মনে পড়ে যায়৷ উদ্দাম হাওয়ায় শরীর মেলে লুটিয়ে পড়ছে বাগানের আম তেঁতুল নারকোল গাছ। ছাদে মেলে দেওয়া সর্ষেরা খেলতে চলে গেল এদিক ওদিক। মেয়েটি তার শিশুপুত্রের হাত ধরে ছুট লাগাল। দেওয়ালে হেলান দিয়ে রাখা সাইকেলটা পড়ছে, পড়ছে, পড়ছে…
