পাণ্ডুলিপি পোড়ে না
খাটের ডিভান মনে হয় সবার কাছেই সর্বদা একটা ম্যাজিক প্লেস যেখানে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে লুকিয়ে রাখা যেত নিজের সমস্ত গোপন অভিসার। আমার সেমেট্রি অফ ফরগটেন বুকস ছিল আমার খাটের ডিভান। গত কুড়ি বছর ধরে নিজের প্রত্যেকটা দিন একটু একটু করে ওখানে রেখে দিয়েছিলাম। বলা যায়, আমার নব্বইয়ের একটুকরো অংশ ঘুমিয়ে আছে খাটের ভেতর। সম্প্রতি একদিন খাট শিফট করার সময় যখন ডিভান খোলা হল বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। মনে হল এক মৃত সভ্যতার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি। যে বই খাতা হারিয়ে গেছে, মরে গেছে, সেই সব নিভে যাওয়া দিনগুলোকে কবর দিয়ে রেখেছিলাম ওখানে। একে একে বেরোতে থাকল সবকিছু। মার্সেল প্রুস্ত বলতেন তাঁর পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যায় বিশেষ বিশেষ গন্ধের মাধ্যমে। কিন্তু প্রুস্ত এটাও লিখে গেছেন যে মরে যাওয়া বইদের গন্ধ হয় না। মরে যাওয়া বইয়ের থাকে শুধুই স্মৃতি। তা নিরাকার, গন্ধহীন এবং অব্যয়।
ডিভান পরিষ্কার করছিলাম। প্রথমে বেরোল পুরনো যুগের রাশি রাশি আনন্দমেলা। সংখ্যাগুলো চোখের সামনে একের পর একভেসে উঠল। আমার গোটা নব্বই দশক জুড়ে টিনএজ সময়টুকুকে ধারণ করে রেখেছিল সেই সময়ের আনন্দমেলাগুলো। ১৯৯২ সালে বেরনো একটা সংখ্যার বিষয়বস্তু দেখলাম কমান্ডো। সেখানে প্রথম চে গুয়েভারার নাম শুনেছিলাম। ফরেনসিক নিয়ে একটা সংখ্যা ছিল। একটা সংখ্যা ছিল ডিটেকটিভ নিয়ে। তেন্ডুলকরকে নিয়ে একটা সংখ্যা হয়েছিল বিস্ময় বালক নামে। মনে আছে সেখানে তেন্ডুলকরের একটা পোস্টার বেরিয়েছিল যেটা কেটে দেওয়ালে টাঙিয়েছিলাম। এছাড়া ছিল অ্যাস্টেরিক্সকে নিয়ে একটা সংখ্যা। নব্বইয়ের দশকের মধ্যবিত্ত বাংলা মিডিয়ামদের কাছে তখনও অ্যাসটেরিক্স অতটা এসে পৌঁছয়নি যতখানি এসেছিল টিনটিন। অ্যাসটেরিক্স নামটাও আনন্দমেলার পাতাতেই শোনা প্রথম, এবং প্রথম কমিক্সটাও ওখানেই পড়া। গলযোদ্ধা অ্যাসটেরিক্স নাম। মনে আছে, টিনটিনের পোস্টারটা না পেয়ে আনন্দমেলায় চিঠি লিখেছিলাম। ওরা পরে বাড়িতে ডাকযোগে পাঠিয়েছিল। গুলিট, মারাদোনা আর ওয়াসিম আক্রমেরও পোস্টার ওখান থেকেই টাঙিয়েছিলাম। এখন সেই সব সংখ্যার পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে। খুলে খুলে পড়ছে। কয়েকটা উলটে দেখলাম। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘শিউলি’ ধারাবাহিক বেরত। একটায় দেখলাম সুনীল গাঙ্গুলির ‘অন্ধকারের বন্ধু’ ধারাবাহিকটা। পলাশী যুদ্ধের পর সিরাজের সেনাপতি মোহনলালকে নিয়ে লেখা। শিশিরকুমার দাসের লেখা একটা উপন্যাস দেখলাম, ‘চিংড়ি’ নাম। পুরো অ্যাবসার্ড রীতিতে লেখা। জানি না ইনিই গ্রিক ভাষা বিশেষজ্ঞ শিশিরকুমার কি না। আর একটায় দেখলাম একটা স্কুলের পটভুমিকায় লেখা উপন্যাস যেটা পড়ে তখন দারুণ লেগেছিল। আবার পড়লাম। ম্যাড়মেড়ে লাগল। বুঝলাম,বনফুলের গল্পের সেই পাঠকের মৃত্যু ঘটে গেছে।
ঘাঁটতে ঘাঁটতে হাতে আসল একগাদা ম্যানিফেস্টো। সেই ছাত্র রাজনীতির সময়কার সব। নিউ ডেমোক্রাসির সংখ্যাগুলো, মার্ক্সবাদ লেনিনবাদের অনেক বই, প্যাম্ফলেট, পিডিএসএফ এবং অন্যান্য নানা ছাত্র সংগঠনের মুখপত্র, পিপলস ওয়ার গ্রুপের ছোট ছোট অনেকগুলো সংখ্যা যেগুলো এক দাদা দিয়ে বলেছিল “খুব সাবধানে রাখিস। গোপন ও ষড়যন্ত্রমূলক বই সব”।আজকাল মনে হয় এসব কেউ ছুঁয়েও দেখবে না। দেবাশীষ ভট্টাচার্য্যের লেখা সত্তরের স্মৃতিচারণা দেখলাম। এখন প্রায় ঝুরঝুরে হয়ে গেছে। পার্টির হয়ে লেভি তোলার স্লিপবুকটা দেখলাম এক কোণে অনাদরে পড়ে আছে। হাতে নিয়ে একটু হাত বুলোলাম। এই লেভি তুলতে গিয়ে যত গল্প সব ইতিহাস হয়ে আছে এখানে। স্মৃতির রঙ মনে হয় সর্বদাই হলদেটে, ছেঁড়া খোঁড়া।
একগাদা লিটল ম্যাগাজিন ছিল। সব ভুলে যাওয়া লেখকদের গল্প উপন্যাস। বেশিরভাগই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সৃজন বলে একটা লিটল ম্যাগ বেহালা থেকে বেরোত। হরিণা হরিণীর, উবুদশ জারি বোবাযুদ্ধ, সুবিমল মিশ্র সংখ্যা, অয়ে অজগর বলে একটা লিটল ম্যাগের কয়েকটা সংখ্যা, গল্পকার, চতুর্থ দুনিয়ার সাহিত্য, আন্তর্জাতিক ছোটগল্প সংখ্যা, পরিকথা অনেকগুলো, আর প্রচুর ভাষাবন্ধন। ভাষাবন্ধন বেরোত নবারুণ ভট্টাচার্য্যের সম্পাদনায়। ভারতের বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যের অনুবাদে সমৃদ্ধ একটি লিটল ম্যাগ। টেকনিকালি ভাষাবন্ধন ২০০০ পরবর্তী লিটল ম্যাগ ছিল। কিন্তু আমার নব্বইয়ের ম্যানিফেস্টোদের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে তারাও ঘুমিয়ে রয়েছে দেখলাম। আর দেখলাম অনেক ভুলে যাওয়া হারিয়ে যাওয়া নাম না জানা লেখকদের ভিড়।
আরও একটা বই পেলাম। অর্ণব সেন নামের এক লেখক একটাই উপন্যাস লিখেছিলেন সারাজীবনে। নাম ‘অন্ধকারের সিঁড়ি’। লিখেছিলেন ৩০ বছর বয়সে আর বইটা প্রকাশ করেছিলেন ষাট পেরিয়ে। আর কোনও দিন কিছু লিখেছিলেন বলে জানিনা। একদম হারিয়ে যাওয়া লেখক, কিন্তু অদ্ভুত ছিল উপন্যাসটা। কেউ পড়েনি, মনেও রাখেনি।
পূর্ণেন্দু ঘোষ বলে একজনের লেখা পড়তাম বিভিন্ন লিটল ম্যাগে। অসাধারণ ছোট গল্প লিখতেন। কোথায় হারিয়ে গেলেন! আরেকজন ছিলেন, শাশ্বত শিকদার। শুনেছি খুব অল্প বয়েসে মারা গেছেন। মুর্শিদ এ এম, যাঁর জাড়কাঁটা বলে একটা গল্পের বই বেরিয়েছিল। উত্তরবঙ্গের অলোক গোস্বামী। সুকান্তি দত্ত যাঁর একটা বইয়ের রিভিউ ভাষাবন্ধনে বেরিয়েছিল। কেউ নেই আর। এঁদের কোনওদিন এলিজি লেখা হবে না ৷ পৃথিবীর সমস্ত খাটের ডিভানের অন্ধকারে মশাদের গুনগুন আর ঝুলের আদর শুধু স্পর্শের উত্তাপ ছড়িয়ে রাখবে আমৃত্যু।
সুভাষ ঘোষের সাক্ষাৎকার সম্বলিত একটা বই। সুভাষ ঘোষ? সেই হাংরি? বিতর্কিত এবং অজনপ্রিয় হাংরি ঔপন্যাসিক, যিনি কখনও ফাল্গুনী রায় অথবা বাসুদেব দাশগুপ্তদের মত কাল্ট স্টেটাস অর্জন করলেন না? ১৯৯৮ সালে বেরিয়েছিল বইটা। ছিঁড়ে খুঁড়ে পেছনের কাঠ বেরিয়ে গিয়েছে। সুভাষ ঘোষদেরই বা কে মনে রেখেছে আর! শুধু নব্বই মনে রেখেছিল। তাই পরম আদরে তার দশকদেহে লালন করেছিল এইসব হারানো মৃত লেখকদের ওপর বই, লিটল ম্যাগ, আলোচনা, সাক্ষাৎকার এবং আর্কাইভ। পরবর্তী ব্যস্ত দশকগুলিতে মনে হয় না পাঠকেরও এতখানি সময় থাকবে যে তার জন্য অবস্কিওর লেখকদের নিয়ে বই বার করা হবে ।
গাঙ্গেয় পত্র বলে একটা লিটল ম্যাগাজিন ওই সময়েই নিয়মিত ভাবে বের হত। সাহিত্য বিষয়ক আলোচনার পত্রিকা। নিজেদের উত্তরাধুনিক বলে দাবি করত কিন্তু তাত্ত্বিক অবস্থান চিরাচরিত পোস্টমডার্নিজমের ধারণার ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে ছিল। অঞ্জন সেন ছিলেন সম্পাদক। ইনি নিজেও কবি। ‘ভাণ্ডবেভাণ্ড’ বলে একটা কবিতার বই ছিল। আরেকটা বই ছিল ‘ভারতবর্ষ’ নামে।ডিভানের মধ্যে কয়েকটা পুরনো গাঙ্গেয় পত্র পেলাম। সাথে অঞ্জন সেনের কবিতার বই। সেখানে লিখতেন অমিতাভ গুপ্ত, কবি ও প্রাবন্ধিক। এনার একটা বই বেরিয়ে ছিল জানি, ‘সরমা ও পরমা’। কিন্তু এনারা হারিয়ে গেলেন। কেউ মনে রাখেনি, যদিও গাঙ্গেয় পত্র খুব সিরিয়াস সাহিত্য বিষয়ে আলোচনার পত্রিকা ছিল।
ওখানেই লিখতেন এক ভদ্রলোক, বীরেন্দ্র চক্রবর্তী নাম। ব্যক্তিগত জীবনে খুব সাধারণ একটা চাকরি করতেন। কিন্তু পড়াশোনার ব্যাপ্তি এবং সাহিত্য পাঠের ওরকম গভীরতা খুব কম দেখেছি। শেষজীবনে ওনার কিছু গুণগ্রাহী ধরে বেঁধে ওনার লেখাপত্রের সংকলন করে একটা বই বার করেছিলেন, সেটাও সুপারফ্লপ হয়েছিল। আর কোনও খবরই জানিনা এনারা মরে গেছেন নাকি বেঁচে আছেন তাও না। লেখা কমতে কমতে একসময় নমিনাল হয়ে গিয়েছিল এটুকু জানি। ইনি হারিয়ে গেলেন।
হুগলির এক কবি ছিলেন। বাপী সমাদ্দার নাম। নব্বই দশকে নিয়মিত বিভিন্ন লিটল ম্যাগে লিখতেন। একটা অসাধারণ কবিতার বই বার করেছিলেন। নাম ‘নৈবাছুর’। তারপরে এনার লেখা আর কোনওদিন কোথাও পড়িনি। পাঠক ভুলে গেছে এনাকে। এরা চুপিচুপি একা একা মরে যাবার নিয়তি নিয়েই লিখে গেছেন। তারপর নিঃশব্দে পর্দার বাইরে বেরিয়ে গেছেন।
মনে হচ্ছিল বোরহেস এর Tión, Uqbar, Orbis Tertius’ যেখানে Uqbar নামে জায়গাটা বানানোর কাজ চলছে, বোরহেস এবং সারামাগোর কল্পিত আইরিশ ঔপন্যাসিক হার্বার্ট কোয়েন যাঁকে নিয়মিত পড়ছেন রিকার্দোরেইস যিনি আসলে অ্যাংগোলা ও পোর্তুগালের কবি ফার্নান্দো পেসোয়ার ছদ্মনাম মাত্র বোলানোর স্যাভেজ ডিটেকটিভএর সিজারে টিনইয়েরো – সেই কবি, যাকে আমরা অনেকেই খুঁজে চলেছি। খাটের এই ডিভান যেন ঠিক সেই রকমই নব্বই দশকের অনেক লেখক কবিকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছে, যাতে তাকে আমি খুঁজে পেতে পারি দেড় দশক –
দুম করে হাত ফসকে একটা পুরনো ডায়রি পড়ে গেল মাটিতে। তুলে দেখলাম, ভেতরে অনেক চিঠি চাপাটি রাখা। ভুলে যাওয়া এক প্ৰেম, যার জন্য আমি প্রতিদিন কলেজ থেকে বেরিয়ে হাজরা মোড়ে আসতাম। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে হাজরা থেকে আনোয়ার শাহ প্রতিদিন। সেই হাঁটাগুলো থেকে গেছে। বিড়লা মন্দিরের পাশের গলিটাও থেকে গেছে যেখানে দুজন একসাথে ঘুরতাম। রিচি রোড, বৃষ্টির গন্ধ মাখা লাভলক সরণী, ম্যাডক্স স্কোয়ার বা ট্রায়াংগুলার পার্কের কুয়াশা, বিবেকানন্দ পার্কের মধ্যে উড়িয়ে দেওয়া বেলুনের মধ্যে সেই প্রেম থেকে গেছে। অনেক চিঠি, কয়েকটা আঁকা ছবি, আমার লেখা কয়েকটা কবিতা সে মুক্তোর মতন হাতের লেখায় তুলে রেখেছিল, যাতে হারিয়ে না ফেলি। সব থেকে গেছে। একটা হার্ট শেপড বাক্স, যার মধ্যে তুলোর বিছানায় শুইয়ে রাখা একটা ছোট্ট ভাল্লুক। আমায় দেওয়া সবকটা গিফটের মধ্যে ওটা সবচেয়ে যত্ন করে রেখেছিলাম, জানি না কী ভেবে। একদম অবিকৃত রয়ে গেছে। ডায়রিটার স্পাইন আলগা হয়ে এসেছে, সুতো বেরিয়ে পড়েছে। চিঠিগুলো আবার যত্ন করে রেখে দিলাম ভেতরে। ঘুমোক।
এত এত পুরনো বইখাতা নিয়ে আমি জানতাম না কী করব। মা বলল, “ফেলে দে”। ফেলতে গিয়েও হাত উঠল না। একটা ছেঁড়া পাতাও ফেলতে পারলাম না। খাটটাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল দোতলায়। সেখানে ডিভানের ভেতর আবার সন্তুপর্ণে ঢুকিয়ে রাখলাম সব কিছু। আবার কুড়ি বছর বাদে পঞ্চাশের এই আমি যখন ডিভান খুলব, আবার ধাক্কা দেবে এদের প্রেতাত্মা। এই সব পুরনো ই পি ডবলিউ, নকশাল আন্দোলনের বই, আনন্দমেলা, পূর্ণেন্দু ঘোষ, ভুলে যাওয়া লিটল ম্যাগ, গুলিটের পোস্টার, এরাই তো নব্বইয়ের ডকুমেন্টেশন! এই কোনওকিছুর এলিজি হয় না। এদের মৃত্যু ঘটে যাবে সবসময়েই চুপি চুপি একা একা। কেউ জানবে না। শুধু কোনও এক লুকিয়ে রাখা কবরখানায় এদের সকলের প্রেতাত্মা ঘুমিয়ে থাকবে আজীবন। চিলছাদ বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে। কোনও একদিন পুড়ে যাবে শংকর গুহনিয়োগীর ম্যানিফেস্টো। হারবার্ট সরকার জ্বরের ঘোরে মৃত বইদের ভূত একে একে আসতে দেখবে। আর তাদের পরম মমতায় আগলে রাখবে আমার খাটের ডিভান। বুলগাকভের শয়তান বলে গেছিল, “পাণ্ডুলিপি পোড়ে না”। পৃথিবীর সব প্রত্যাখ্যাত মরে যাওয়া বাদে।
পাণ্ডুলিপির জন্যই অপেক্ষা করে থাকে আগুন নয়, কবরখানা। থাকুক ওখানে। ভাল করে ঘুমোক, ঘুমোলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
কেমন ছিল ভুলে যাওয়া নব্বইয়ের দশক? তার সিনেমা, বাংলা সিরিয়াল, তার ফেলে আসা শুকিয়ে যাওয়া লাল পতাকা, তার বন্ধ কারখানা, তার প্রেম, বন্ধুতা আড্ডা? এই কলকাতার কোনও এক আন্ডারগ্রাউন্ড গুপ্তকক্ষে নাকি ঘুমিয়ে আছে ভুলে যাওয়া নব্বইয়ের লেখকদের বইয়েরা। ঘুমিয়ে আছে মুনমুন সেনের এক অ্যাডাল্ট ফিল্ম, যাকে গোটা নব্বই জুড়ে খুঁজতে খুঁজতে একটা প্ৰজন্ম হুম করে বড় হয়ে গিয়েছিল। আছে মৃত বইয়ের কবরখানা, অপারেশন সানশাইনের রাত আর ঝুপড়িহারা টারজান। এইসব মায়া-টায়া নিয়ে নব্বইয়ের পাতা ওল্টানো আরেকবার। পুরোনো বইয়ের মলাটের ফাঁকে হুট করে মিলে যাওয়া গুঁজে রাখা পেয়ারা পাতাটা। চিলেকোঠার জঞ্জাল ঘেঁটে খুঁজে পাওয়া এক চিলতে পুরোনো কৈশোর, যেখানে ছাদভর্তি অ্যান্টেনার কাঁটাতার থেকে অন্যমনে ঝুলে আছে এক পশলা অন্য নব্বই।
