Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    রজতশুভ্র মজুমদার এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অত্যয় – রজতশুভ্র মজুমদার

    অত্যয়

    ‘হ্যালো, স্বাগত? শোন-না, আমি কলকাতা এসেছি। তোর সঙ্গে দেখা হবে?’

     ‘আরে নিখিলেশ! কী মনে করে? এতদিন পর!’

     ‘তুই কোথায়?’

     ‘আমি তো বস, বেঙ্গালুরুতে। একটা কাজে এসেছি। কালই ফেরা।’

     ‘ওহো… তাহলে দেখা হবে না।’

     ‘কোনো দরকার ছিল? বল-না!’

     ‘না, আসলে…’

     ‘বল!’

     ‘তোর রাজারহাটের ফ্ল্যাটটায় একটা রাত থাকা যাবে?’

     ‘আরে ইয়ার! তোকে কতবার বলেছি, যখন প্রয়োজন হবে বলবি! ওটা তো ফাঁকাই পড়ে থাকে। আমি নিজে এখনও একটা দিনও ওখানে থাকিনি, জানিস তো? শোন, ইকো পার্কের অপোজিটের রাস্তাটা ধরে নর্থের দিকে টানা আট কিলোমিটার চলে যাবি। ওখানে দেখবি, সুখবৃষ্টি বলে একটা বিশাল আবাসন আছে…’

     ‘সুখবৃষ্টির কোন ফ্লোর? কত নম্বর ফ্ল্যাট?’

     ‘সুখবৃষ্টির ঠিক পাশেই জি প্লাস সেভেনটিন যে আবাসনটা আছে, ওটারই দক্ষিণমুখী বি ব্লকের দশতলার ঠিক বাঁদিকের ফ্ল্যাটটাই আমার। তুই এক কাজ কর, নিউটাউন রাজারহাটে পৌঁছে সুখবৃষ্টির পাশে আমাদের আবাসনটার গা ঘেঁষে সোজা পশ্চিমদিকে মিনিট তিনেক হেঁটে দেখবি, পর পর কয়েকটা আনাজপাতির দোকান পাবি। ওখানে গিয়ে খোঁজ করবি, বাবলুর দোকান কোনটা! আমার নাম করে ওর কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে নিবি। ও-ই তোকে সব বুঝিয়ে দেবে।’

     ‘ও.কে. বস!’

     এরপর স্বাগত যে কথাগুলো বলেছিল, সেগুলোকে একটুও গুরুত্ব দেয়নি নিখিলেশ। স্বাগত জানিয়েছিল, আবাসনটা খুবই ফাঁকা-ফাঁকা, বেশিরভাগ ফ্ল্যাটেই এখনও লোক আসেনি। যারা এসেছে, তারাও থাকে না পাকাপাকিভাবে। একদিন-দু-দিন থাকে, আবার চলে যায়। আশপাশের পরিবেশটাও বেশ নির্জন। দশতলার ব্যালকনি থেকে রাতের আকাশটা সম্পূর্ণ অন্যরকম দেখায়, রাস্তার দিকে তাকালে গা ছমছম করে। গেটে সিকিউরিটি আছে ঠিকই, কিন্তু…

     নিখিলেশ বরাবরই ডাকাবুকো স্বভাবের। স্বাগতর কাছে যে বিষয়টা ভয়ের উদ্রেক করে, সেটা তার কাছে নিতান্তই হাস্যকর। স্বাগতর কখনো সাহস হয়নি নিজের ফ্ল্যাটে একা একটা রাত কাটাতে। নিখিলেশ সহজেই বাবলুর কাছে হাজির হয়ে যায়, ‘না না, তোমাকে যেতে হবে না, আমি একাই যেতে পারব।’

     ‘আপনার সাহস আছে, স্যার। বি ব্লকের দশতলার একটা ফ্ল্যাটও কমপ্লিট হয়নি এখনও!’

     ‘তো?’

     ‘বাবু বলেছেন, আশপাশের ফ্ল্যাটে লোকজন চলে এলে তবেই বউদিমণিকে নিয়ে এসে রাত কাটাবেন।’

     ‘আমার নিরিবিলিই ভালো লাগে।’

     ‘কোনো সমস্যা হলে সিকিউরিটিকে ফোন করবেন।’ বাবলু সিকিউরিটির ফোন নম্বর-লেখা একটা চিরকুট ধরাল নিখিলেশকে।

     ‘সমস্যা আর কী হবে! সঙ্গে খাবার আর জল নিয়ে নিয়েছি। রাত্রিটুকু তো থাকা। সকাল হলেই কেটে পড়ব।’ নিখিলেশ কয়েক সেকেন্ড থেমে বলল, ‘সকালে দোকান খুলবে ক-টায়? তোমাকে তো চাবি ফেরত নিতে হবে।’

     ‘আমি খুব সকাল সকাল চলে আসব, স্যার। তখন আপনার ঘুম ভাঙবে না।’

     ‘তুমি কি প্রথম থেকেই এই ফ্ল্যাটের দেখাশোনা করো?’

     ‘না না, এই তো কয়েক মাস হল। তার আগে অন্য একজন ছিল। সে মারা গেল, অমনি বাবু আমায় জোর করলেন। না করতে পারলাম না। খুব ভালো মানুষ! অনেক উপকার করেন কিনা!’

     ‘হ্যাঁ, সত্যিই স্বাগত খুব ভালো ছেলে। আমার ক্লাসমেট ছিল। আমরা দু-বছর পড়েছি একসঙ্গে। কোলা ইউনিয়ন হাই স্কুলে।’

     ‘সেটা কোথায়, স্যার?’

     ‘পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট বাজারে। ওখানেই ওদের বাড়ি ছিল তো! দেশের বাড়ি।’

     ‘ওহো, আচ্ছা আচ্ছা। আপনিও ওখান থেকেই আসছেন?’

     ‘ওরা জমি-জায়গা সব বেচে দিয়ে শ্যামবাজারে বাড়ি কিনল।’ আপনমনে বলে চলেছে নিখিলেশ, ‘এখন ব্যাবসা ফুলেফেঁপে উঠেছে।’

     ‘আচ্ছা।’

     ‘আমি তো আর আসতে পারিনি, ওখানেই থেকে গিয়েছি।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলল নিখিলেশ।

    বাবলু বুঝতে পারল, নিখিলেশ সুখে নেই। সে আর কথা বাড়াল না। নিখিলেশই কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘কোলাঘাটের বাড়িটা বিক্রি করে এখন মেচেদায় একটা ছোট্ট বাসা বানিয়েছি। ওখান থেকেই আসছি, বুঝলে বাবলু?’

     ‘বাবু সিকিউরিটিকে ফোন করে দিয়েছেন। আপনি নিজের পরিচয় দিয়ে সোজা ঢুকে যান স্যার, কাল সকালে আবার কথা হবে।’ বাবলু দোকান বন্ধ করার উপক্রম করতে লেগেছে। নিখিলেশ বাবলুকে বিদায় জানিয়ে সোজা আবাসনের দিকে হাঁটা লাগাল।

    দুই

    তালা খুলে ফ্ল্যাটে ঢুকেছে নিখিলেশ। ১৬০০ স্কোয়্যার ফিটের থ্রি বি. এইচ.কে ফ্ল্যাট। উচ্চমানের মার্বেলে মোড়া মেঝে। বিশাল ডাইনিং হল। প্রত্যেকটা ঘরের সঙ্গে লাগোয়া ঝুলবারান্দা। দুটো বাথরুম, দুটো অ্যান্টিরুম, কিচেন। আসবাবপত্র খুব কমই আছে। দেখলেই বোঝা যায়, এ বাড়ির সঙ্গে মালিকের শোয়াশুয়ির সম্পর্ক এখনও তৈরি হয়নি সেভাবে। ওই আড়ো আড়ো-ছাড়ো ছাড়ো প্রেমই চলছে। ডাইনিংয়ে একটা নরম গদির সোফা। সেখানে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসল নিখিলেশ। ততক্ষণে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাইরে। সঙ্গে শোঁ শোঁ হাওয়া। নিখিলেশ ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। জমাট সন্ধে নেমেছে নিউটাউনের আকাশে। ঘন কালো মেঘে চারদিক ঢাকা। হালকা মেঘের গর্জন। থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। প্রকৃতির কী অপার মহিমা! কিছুক্ষণ আগেও মেঘের লেশমাত্র ছিল না, আকাশ ছিল উজ্জ্বল। কেউ ভাবতে পেরেছিল, রাজারহাট জুড়ে বৃষ্টি নামবে এখনই? নিখিলেশের গায়ে বৃষ্টির ফোঁটা এসে লাগছে। সে দরজা বন্ধ করে ঘরে ঢুকে গেল। সদর দরজা লক করেছে কি না একবার চেক করে, সোজা চলে গেল উলটোদিকের বেডরুমটায়। একমাত্র এই ঘরটাতেই খাটের উপর বিছানা পাতা আছে। সাদা ধবধবে চাদর। নরম বালিশ। একজোড়া পাশবালিশ। নিখিলেশ গা এলিয়ে দিল। ভীষণ ভালো লাগছে তার এখন। সারাদিনের ক্লান্তিনাশের এত মনোরম বিছানা সে আগে কখনো দেখেনি। আলো জ্বালেনি নিখিলেশ। আলো একদম পছন্দ করে না সে। এসি নেই। মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে বনবন করে। ছোট্ট টুলের উপর বিশাল চীনামাটির ফুলদানিতে রাখা প্লাস্টিকের ফুলের পাপড়ি ঈষৎ কেঁপে কেঁপে উঠছে হাওয়ায়। জানালা খোলেনি নিখিলেশ। ফলে বাইরের বৃষ্টির গতি জরিপ করার একমাত্র উপায় মেঘের ডাক শোনা। সে ডাক এমনই ক্রমবর্ধমান যে, ইচ্ছে করলেও তাকে উপেক্ষা করা যায় না। তবু নিখিলেশের দু-চোখ বুজে আসে।

     খুব কাছে একটা মৃদু শব্দে ঘুম ভেঙে যায় নিখিলেশের। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসেই সে দেখে, সামনে ছায়ামূর্তির মতো কেউ একজন দাঁড়িয়ে। কালো কুচকুচে গায়ের রং, পেটানো চেহারা, মাথার চুলে কদমছাঁট, দাড়ি-গোঁফ পরিষ্কার করে কামানো, চোখ দুটো কোটরে ঢোকা কিন্তু ঘন, কালো, উজ্জ্বল। নিখিলেশ কিছু বলার আগেই মুখে অকৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে লোকটা বলে উঠল, ‘দাদাবাবু আমায় পাঠিয়েছেন আপনার দেখভাল করতে।’

     ‘কী নাম তোমার?’ নিখিলেশ নরম গলায় জিজ্ঞেস করল।

     ‘আজ্ঞে ভীম।’

     ‘এই বৃষ্টিতে এলে কী করে? ভিজে যাওনি তো?’

     ‘আজ্ঞে বাবু, আমরা ভিজি না।’

     ‘সে কী!’ নিখিলেশ হো হো করে হেসে উঠল লোকটার কথায়। সে কিছু বলার আগেই লোকটা খুব বিনীত গলায় জানতে চাইল, ‘বাবু, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?’

     ‘হ্যাঁ বলো।’

     ‘আমার হাতে খেতে আপনার কোনো আপত্তি নেই তো?’

     ‘মানে? আপত্তি থাকবে কেন?’

     ‘না মানে…’ লোকটা ইতস্তত করতে লাগল।

     ‘পরিষ্কার করে বলো, আমি বুঝতে পারছি না।’

     ‘আমি খুব ভালো রান্না করতে পারি গো বাবু। খাওয়াতে ভীষণ ভালোবাসি! কিন্তু কেউ আমার হাতে খায় না।’

     ‘আরে কেন খায় না, সেটা তো বলবে।’

     ‘আমি ম্লেচ্ছ, বাবু। আমার পদবি ডোম।’

     ‘অস্পৃশ্য? আনটাচেবল?’ আবার হো হো করে হাসতে লাগল নিখিলেশ। হাসতে হাসতেই বলল, ‘শোনো, তোমার নামেই আরেকজন ভদ্রলোক ছিলেন। তিনিও অস্পৃশ্য। তাঁর হাতেও কেউ খেত না। ছেলেবেলায় সে যখন স্কুলে পড়ত, বন্ধুরা কেউ বসত না পর্যন্ত তার পাশে। প্রচণ্ড গ্রীষ্মে তেষ্টায় ছাতি ফেটে যেত, কিন্তু স্কুলের কুয়ো থেকে জল তুলে খাওয়ার অধিকারটুকুও ছিল না তার। বন্ধুরা দল বেঁধে জল খেতে যেত, ভীম বসে থাকত ক্লাসের ভিতর এককোণে, মাথা নিচু করে। শেষে কোনো একজন বন্ধু একটা মাটির পাত্রে তার জন্য জল নিয়ে আসত। কিন্তু সে জল খাবে কী করে ভীম? সে তো অস্পৃশ্য! বন্ধু তখন অনেকটা উঁচু থেকে ভীমের হাঁ-করা মুখে জল ঢেলে দিত, যাতে তার শরীরের সঙ্গে পাত্রের কোনোরকম সংস্পর্শ না ঘটে। এমনই জীবন ছিল ভীমের।’

    লোকটা মুগ্ধ হয়ে শুনছে নিখিলেশের কথা। নিখিলেশ একনিশ্বাসে বলে চলেছে, ‘আর-একবার কী হয়েছিল, জানো? ভীম তার বাবার সঙ্গে দেখা করবে, ভীষণ জরুরি দরকার। কিন্তু রাস্তায় যানবাহন পাচ্ছে না কিচ্ছু। গুরগাঁও যেতে হবে, অনেকখানি পথ। শেষে একটা গোরুর গাড়ি পেল সে। ভাড়া ঠিক হল। ভীম উঠে বসল গাড়িতে। এমন সময়ে গাড়ির চালক জানতে পারল, ভীম অস্পৃশ্য, হরিজন। সঙ্গে সঙ্গে ভীমকে অপমান করে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছিল চালক, ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল তার মালপত্তর।’

     ‘হ্যাঁ বাবু, আমারও ঠিক এমন অবস্থাই হয়েছিল।’

     ‘কীরকম?’

     ‘আমি ভালো রান্না করতে পারি বলে দাদাবাবু একবার আমাকে একটা হোটেলে কাজে লাগিয়ে দিয়েছিলেন। আমি জানি, আমার পদবি বললে ওরা আমায় কাজে নিত না, তাই পদবি লুকিয়েই কাজে লেগে গিয়েছিলাম। কিন্তু সত্যিটা ফাঁস হয়ে গিয়েছিল বাবু। আর তাতেই আমাকে মেরেধরে বের করে দিয়েছিল হোটেল থেকে। এই দেখুন, এখনও দাগ আছে শরীরে!’ ভীম তার ঢোলা পাজামা গুটিয়ে হাঁটুর নীচের ক্ষতচিহ্ন দেখাল।

     ‘তারপর?’

     ‘তারপর আর কী! মানুষ যা চায়, তা কি পায়? আমার স্বপ্ন ছিল ভালো ভালো পদ রান্না করা। রান্না করে মানুষকে খাইয়ে তৃপ্তি দেওয়া। কিন্তু কেউ কোনোদিন আমার হাতে খেতে চায় না, বাবু। বাধ্য হয়ে দাদাবাবুকে বললাম, একটা কাজ দেখে দিন যাহোক, না হলে তো খেতে পাব না দু-মুঠো। দাদাবাবু দেবতার মতো, শেষে উনিই কাজ দেখে দিলেন একটা।’

     ‘কী কাজ?’

     ‘ট্যাক্সি চালাই আমি। কলকাতার রাস্তায় ট্যাক্সি চালাই। দাদাবাবুই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু এ কাজটা আমার একদম ভাল্লাগে না, বাবু। পেটের দায়ে করি। আর এই ফ্ল্যাটটা দেখাশোনা করি। দাদাবাবুরা এখানে একদিনও থাকেননি এখনও। কিন্তু এই যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখছেন… এগুলো আমারই কাজ।’

     ‘বাঃ, তুমি তো বেশ কাজের লোক!’ নিখিলেশ স্বগতোক্তি করল।

     ‘কিন্তু আপনি তো বললেন না, আমার হাতের রান্না খাবেন কি না!’ ভীম পুরোনো প্রসঙ্গটা ফের উত্থাপন করল।

     ‘আমাকে দেখে তোমার কী মনে হয়, বলো তো!’ নিখিলেশ মুচকি হাসল।

     ‘তাহলে বলুন, আপনি কী খেতে ভালোবাসেন?’ নিখিলেশের প্রশ্রয়ে-আহ্লাদে আটখানা হল ভীম।

     ‘আমি তো সর্বভুক। সবরকম খাবারই আমার ভালো লাগে। কিন্তু কিছুই তো জোটে না কপালে।’

     ভীম দেখল, কথাগুলো বলার সময়ে করুণ হয়ে গেল নিখিলেশের মুখটা। বড়ো মায়া হল তার। খুব আন্তরিক গলায় সে জিজ্ঞেস করল, ‘কিছুই জোটে না কেন, বাবু?’

    নিখিলেশ কথা ঘোরানোর চেষ্টা করল, ‘হ্যাঁ, জোটে না তো! এই তো আজ যেমন তুমি খাওয়াতে চাইছ, কিন্তু আমার কপালে তো নেই সেই খাবার। এখানে ঢোকার আগেই আমি খাবার কিনে নিয়েছি। তখন তো জানতাম না, তুমি আসবে।’

     ‘সে খাবার এতক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে, বাবু। ও আপনি খেতে পারবেন না।’

     ‘কিন্তু উপায়? খাবার কি ফেলে দেওয়া যায়?’

     ‘কেন ফেলবেন? আমি খেয়ে নেব। বলুন, আপনার কী খেতে ইচ্ছে করছে?’

     ‘তা কী করে হয়? তুমি রান্না করবে আমার জন্য আর নিজেই খাবে না সে খাবার?’

     ‘কেন খাব না? নিশ্চয়ই খাব। আপনার কেনা খাবারটা রাতে খাব আর আমার রাঁধাটা নিয়ে যাব কালকের জন্য।’ সাদা ধবধবে দাঁতগুলো বের করে কালো কুচকুচে লোকটা চওড়া হাসল। ভারী সুন্দর এই হাসিটা। নিখিলেশ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে হাসিটুকুই শুধু দেখা যায়। কিন্তু যতটা দেখা যায়, অনুভব করা যায় তার চেয়েও অনেক বেশি।

     ভীম ডোম রান্নাঘরে চলে গিয়েছে ততক্ষণে। নিখিলেশের প্রিয় পাঁঠার মাংস আর পরোটা রাঁধছে সে। বাইরে অবিশ্রান্ত বৃষ্টি আর তেমনই মেঘের গর্জন। সঙ্গে বজ্রপাত। বিদ্যুৎচমকে ফালা ফালা হয়ে যাচ্ছে আকাশ। মাঝে মাঝে তার উদ্ভাস এসে লাগছে জানালার কাচে। নিখিলেশ পরমানন্দে বসে আছে খাটের উপর। পা গুটিয়ে। কোনোদিকে তার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। সমস্ত পৃথিবী যেন তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে আজ। এই বিচ্ছিন্নতায় সে মহাখুশি।

     ‘বাবু ঘুমিয়ে পড়বেন না।’ রান্নাঘর থেকে চিৎকার করল ভীম।

     ‘আরে না না, তোমার হাতে না খেয়ে আমার ঘুম হবে নাকি?’

     ‘আমি ঝটপট নামিয়ে ফেলব,’ তৃপ্তির হাসি হাসল ভীম।

     ‘আমার কোনো তাড়া নেই।’ নিখিলেশ আশ্বস্ত করল।

     ‘খিদে পাবে তো! সেই কখন খেয়েছেন।’ মাংসটা কষতে কষতেই কথা বলছে ভীম। নিখিলেশ কোনো সাড়া দিল না। শুধু মনে মনে ভাবল, ‘আমার কথাও কেউ ভাবে?’ সত্যিই তার খিদে-তেষ্টা-ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে যে কারো মাথাব্যথা হতে পারে, নিখিলেশ কোনোদিন কল্পনাই করতে পারে না। সে বিছানা থেকে উঠে রান্নাঘরে এল। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, কোথাও কিছু দেখা যায় না। ওই তো ভীম একমনে রান্না করছে। আভেনের আলোয় চকচক করছে তার কপালটা, চোখ-দুটো। আর কী অপূর্ব ঘ্রাণ! এই ঘ্রাণ সে কত যুগ পায়নি! সেই ছোটোবেলায় মা যখন মাংস রাঁধত, এইরকম গন্ধ পেত নিখিলেশ। তারপর একটু বড়ো হতেই মাংস বন্ধ হয়ে গেল। একে অভাবের সংসার, তার উপর বাবার রেড মিট নিষিদ্ধ হল ডাক্তারবাবুর নির্দেশে। বাবার ছিল হার্টের প্রবলেম, কিশোরবেলাতেই বাবাকে হারাতে হয়েছিল। তারপর একদিন মা-ও চলে গেল। নিখিলেশের পৃথিবীটা সেই যে অন্ধকার হয়ে গেল…

     ‘বাবু, এখানে এলেন কেন? খুব খিদে পেয়েছে? আর দেরি নেই। মাংসটা নামিয়েই পরোটা তৈরি করে ফেলব।’

     ‘তোমার সঙ্গে দুটো কথা বলতে এলাম।’

     ‘আমি আবার একটা কথা বলার মানুষ!’ করুণ হাসি ভীমের ঠোঁটে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম মুক্তোর মতো ছড়িয়ে। হাতে খুন্তি। চোখে অদ্ভুত একটা মায়া মাখানো আছে। সে মায়ায় দুনিয়া জয় করে নেওয়া যায়। অন্তত নিখিলেশ তা-ই ভাবল। সে খুব মৃদুস্বরে বলল, ‘খুব ছোটোবেলায় মা এইরকমভাবে মাংস রাঁধত।’

     ‘মা নেই আপনার?’

     ‘না গো, আমার কেউ নেই।’

     ‘সে কী! অমন কথা কেন বলছেন বাবু? ইস্ত্রি, ছেলে-মেয়ে…’

     ‘আমার ছেলে-মেয়ে নেই।’

     ‘আর?’

     ‘আমার স্ত্রী অন্য ধরনের মানুষ। আমাদের মধ্যে কোনো ভালোবাসা নেই।’ নিখিলেশ বলব না-বলব না করেও বলে ফেলল কথাটা, ‘ওর শুধু টাকা চাই। অনেক টাকা। আমি গরিব মানুষ। সামান্য একটা কাজ করি। চাকরিবাকরি পাইনি। ওর অত চাহিদা মেটাব কী করে?’ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার বলতে লাগল নিখিলেশ, ‘জানো ভীমদা, আমাকে ঠিকমতো খেতেও দেয় না! কতদিন না খেয়ে শুয়ে পড়ি, ওর কিছুই যায়-আসে না!’ কথাগুলো বলতে বলতেই চোখ ছলছল করে উঠল নিখিলেশের।

     ‘না খেয়ে খেয়ে শরীরের কী অবস্থা করেছেন!’ ভীম আটা মাখছে।

     ‘ওকে টাকা দিতে পারলেই আমি ভালো। পারি না বলেই আমায় খেতে দেয় না।’

     ‘খেতে তো হবেই। বাইরে বেরিয়ে খাবেন।’

     ‘ক-টাকা আর রোজগার করি! আমার কাছে অত টাকা থাকে না, ভীমদা!’

     ‘তা-ই বললে হবে? না খেলে রোজগার করবেন কী করে?’

     ‘বাবার ভিটেটাই বিক্রি করে দিতে হল টাকার জন্য। শেষে মেচেদায় একটা ছোট্ট মাথা গোঁজার ঠাঁই করলাম। ওর চাই বড়ো বাড়ি, গাড়ি, দামি গয়না…’ নিখিলেশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ‘আসলে ভুল লোককে বিয়ে করেছে ঋতা, আমি ওর যোগ্য নই।’

     ‘টাকাপয়সাই কি জীবনে সব, বাবু? মানুষের মনটাই আসল। আপনি অনেক বড়ো মনের মানুষ!’

     নিখিলেশ যেন দীর্ঘদিনের অব্যবহারে জং পড়ে-যাওয়া লোহা! ”বড়ো মনের মানুষ” কথাটায় তার হৃদয় বিগলিত হল। কেউ যে তাকে এত বড়ো সার্টিফিকেট দিতে পারে, তা নিখিলেশের দূর কল্পনাতেও আসে না। সে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে ভীম ডোমের দিকে। ভীম অবাক হয়ে বলে, ‘কী দেখছেন, বাবু?’

     ‘কিছু না।’

     ‘খাবার রেডি। চলুন ও ঘরে।’

     ‘চলো।’

     গরমাগরম কষা মাংস আর পরোটা বেড়ে দিয়েছে ভীম। একটা ছোট্ট বাটিতে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা। গ্লাসে ঠান্ডা জল। পরম তৃপ্তিতে খাচ্ছে নিখিলেশ। জীবনের চরম প্রাপ্তি তার। ‘রান্না ভালো হয়েছে, বাবু?’ ভীম জিজ্ঞেস করল।

     ‘দারুণ!’

     ‘নুন ঠিক আছে তো?’

     ‘একদম।’

     ‘ঝাল হয়েছে?’

     ‘ঠিকঠাক।’ নিখিলেশ মুখ তুলে বলল, ‘এত ভালো খাবার জীবনে কখনো জোটেনি।’ তারপর স্বগতোক্তি করল, ‘দু-মুঠো রাঁধা ভাতের জন্য এত লড়াই, এত তিতিক্ষা… কী অদ্ভুত এই জীবন!’

     ভীম ডোম একদৃষ্টে চেয়ে আছে নিখিলেশের মুখের দিকে। তৃপ্তি কি তারও কিছু কম হচ্ছে আজ? কাউকে খাইয়ে এত সুখ, এত তৃপ্তি সে তো সারাজীবনে পায়নি কখনো। আজ তার পরম প্রাপ্তির দিন। দুজনে দুজনের মুখোমুখি। কেউ কোনো কথা বলছে না। বাইরে অনিবার বৃষ্টিতে ধুয়ে যাচ্ছে রাজারহাটের রাস্তাঘাট, বাড়িঘর। জগতে যেন কেউ নেই, কিছু নেই, শুধু দুজন দুজনের তৃপ্তির দিকে আকুল চেয়ে আছে।

    তিন

    তীব্র বেগে গাড়ি চালাচ্ছে স্বাগত। এত জোরে গাড়ি সে সাধারণত চালায় না। কিন্তু মনের মধ্যে ঝড় বয়ে গেলে, গাড়ি কি আর আস্তে আস্তে চালানো যায়? সেই ভোরবেলা দমদম বিমানবন্দরে নামতে নামতেই ফোনটা এসেছিল, ‘হ্যালো স্বাগত, তোর চাবি রিটার্ন করে দিয়েছি। রাত্রিটা দারুণ কাটল রে! কোনোদিন ভুলব না। আর তুই যে লোকটাকে পাঠিয়েছিলি, ওই যে ভীম ডোম—লোকটার তুলনা নেই। খুব ভালো মানুষ। আমি তো ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছি! কী রান্না মাইরি! জাস্ট ফাটাফাটি। লাইফের শেষ দিন অবধি মনে থাকবে। এনিওয়ে, এখন রাখছি, পরে কথা হবে। বাই, টা টা…’

     ‘শোন নিখিলেশ… হ্যালো… হ্যালো…’ ততক্ষণে ফোন কেটে দিয়েছে নিখিলেশ। তারপর থেকে অন্তত পঞ্চাশবার স্বাগত ফোন করেছে তাকে, প্রতিবারই শুনেছে, ‘দিস টেলিফোন নাম্বার ডাজ নট এগজিস্ট।’ ফোনটা পাওয়ার পর কয়েক মুহূর্ত কান-মাথা ভোঁ ভোঁ করছিল স্বাগতর। বিমানবন্দরের বাইরেই কয়েক মিনিটের জন্য চুপ করে বসে পড়েছিল সে। তারপর বেশ কয়েকবার রিং ব্যাক করেও যখন পেল না নিখিলেশকে, তখনই সিদ্ধান্ত নিল মেদিনীপুর যাওয়ার। এ ছাড়া তার কোনো উপায় ছিল না। কারণ ওই প্রচণ্ড ঝড়টা বুকের মধ্যে অনির্দিষ্টকাল লালন করা স্বাগতর পক্ষে সম্ভব ছিল না, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঝড়টা থামাতে হত। আর সেটা করতে গেলে নিখিলেশের মুখোমুখি হওয়া ছাড়া দ্বিতীয় রাস্তা ছিল না। কারণ নিখিলেশ যে মানুষটার কথা বলেছে কিছুক্ষণ আগে, সেই ভীম ডোম কয়েক মাস আগেই কলকাতার ভয়াবহ উড়ালপুল দুর্ঘটনায় চিরতরে পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে। ভীম গরিব মানুষ। আজন্ম অকৃতদার এই মানুষটার শেষকৃত্য স্বাগত নিজে দাঁড়িয়ে থেকে করেছে। সেই ভীমকে নাকি স্বাগত পাঠিয়েছে নিখিলেশের কাছে? এর মানে কী? কী বলতে চাইছে নিখিলেশ? কী করেই বা সে জানল, ভীম ফাটাফাটি রান্না করে?

     যতক্ষণ পর্যন্ত না এই রহস্যের সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার মনে শান্তি নেই। তাই বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পৌঁছেই সোজা গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে মেচেদার উদ্দেশে। তাকে জানতেই হবে, কেন নিখিলেশ ওই কথাগুলো বলল! কী তার উদ্দেশ্য! এত অল্প সময়ে কলকাতা থেকে টানা ৫৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া মুখের কথা নয়। কিন্তু কোনোদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই তার। কোলাঘাট বাজারে তার শৈশব কাটলেও, মেচেদার ঠিক কোন জায়গায় নিখিলেশ বাড়ি বানিয়েছে, স্বাগতর জানা নেই। নিখিলেশদের আগের বাড়িটা সে চেনে, গিয়েছেও বেশ কয়েকবার, কিন্তু সে বাড়ি তো বিক্রি হয়ে গিয়েছে কবে! স্বাগত জানালার কাচ খুলে দু-একজনকে জিজ্ঞেস করল। কিন্তু কেউ সঠিক দিশা দেখাতে পারল না। তবে কি সে নিখিলেশদের কোলাঘাট বাজারের পুরোনো বাড়িটায় একবার যাবে? ও বাড়িটা যারা কিনেছে, তারা নিশ্চয়ই বলে দিতে পারবে, মেচেদার ঠিক কোন জায়গায় নতুন বাড়ি করেছে নিখিলেশ। এইসব ভাবতে ভাবতেই রাস্তার বাঁদিক দিয়ে হেঁটে-চলা এক বৃদ্ধকে টার্গেট করল স্বাগত, ‘কাকু, নিখিলেশ রায়চৌধুরীর বাড়িটা কোথায় বলতে পারবেন?’

     ‘আপনি তো ঠিক জায়গাতেই এসেছেন। গাড়িটা ছেড়ে বাঁদিকের গলিতে ঢুকে যান। পুরোটা হেঁটে ডানদিকে ঢুকেই বাঁ হাতের তিন নাম্বার বাড়িটা।’ ভদ্রলোক এত সুন্দর পথনির্দেশ করেছেন, যেকোনো অন্ধ মানুষও পৌঁছোতে পারবে এবার। অবশ্য স্বাগত পূর্ব মেদিনীপুরেরই ছেলে, কোলাঘাটে জন্ম, পড়েছে কোলা ইউনিয়ন হাই স্কুলে, তাই এসব এলাকার নাড়িনক্ষত্র তার জানা। না হলে সে কি এত সহজে ঠিক জায়গায় আসতে পারত? এইসব ভাবতে ভাবতে বৃদ্ধকে ধন্যবাদ জানিয়ে, স্বাগত গাড়িটা পার্ক করল একটা ফাঁকা জায়গায়। তারপর হনহন করে হাঁটা লাগাল।

    বাড়ির দরজায় পৌঁছে গিয়েছে সে। বুকটা ঢিপঢিপ করছে। অসম্ভব উত্তেজনা মনের মধ্যে। নিখিলেশ যদি ইয়ারকিও মেরে থাকে তার সঙ্গে, সে জানল কী করে, ভীম ডোম খুব ভালো মানুষ? ফাটাফাটি রান্না করে? ইন ফ্যাক্ট, তার পক্ষে তো ভীম ডোমের নাম জানাই সম্ভব নয়। এমনকী, ভীম ডোমের নাম বা তার সম্পর্কে ডিটেল ইনফর্মেশন দিতে পারে নিখিলেশকে এমন কাউকেই চেনে না স্বাগত। বাবলু? বাবলু জানে যে একজন লোক ফ্ল্যাটের দেখাশোনা করত তার আগে। কিন্তু ওইটুকুই! কী নাম তার, সে রান্না করতে পারত কি না—এসব কিছুই তার জানার কথা নয়। সে মারা গিয়েছে তাই বাবলু এখন দায়িত্বপ্রাপ্ত, এটুকুই জানে সে। তাহলে কাল ওই শেষ-বিকেলে ঢুকে আজ ভোরের মধ্যে এত কিছু জানল কী করে নিখিলেশ? তাও কাল বিকেল থেকেই সারারাত বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বৃষ্টি বলে বৃষ্টি! এত প্রবল বৃষ্টি গত পাঁচ বছরে দেখেনি বাংলার মানুষ। যদিও এখন আকাশ পরিষ্কার, কিন্তু স্বাগতর গাড়ির চাকায় কাদা, রাস্তায় জল, নিখিলেশদের বাড়ির গলিতে পুকুর! স্বাগতর প্যান্ট হাঁটু অবধি গোটানো, জুতো হাতে ধরা। বাড়ির দরজায় টোকা মারতেই তার খেয়াল হল, এত্ত বড়ো একটা তালা ঝুলছে গেটে। ও মা, বাড়ি তো বন্ধ! তবে কি এখনও ফেরেনি সে কলকাতা থেকে? বাড়ির লোকজনই বা কোথায় গেল? স্বাগত এখন কী করবে? বুদ্ধি করে সে পাশের বাড়িতে টোকা মারল। নিখিলেশদের বাড়িটা খুব ছোট্ট। খুবই সামান্য জায়গার উপর তৈরি। পাশের বাড়িটার সঙ্গে এই বাড়িটার মাঝের স্পেস খুবই কম। পৌরসভা সাধারণত এত কম স্পেস রাখার পারমিশন দেয় না। একমাত্র দুটো বাড়ির মধ্যে ঘনিষ্ঠ বোঝাপড়া থাকলে, তবেই এটা সম্ভব। এ থেকেই স্বাগতর ধারণা হল, ওরা নিখিলেশের সম্পর্কে নিশ্চয়ই সঠিক তথ্য পরিবেশন করবে—কোথায় আছে, কখন ফিরবে, আর কোনো ফোন নম্বর আছে কি না তার, ওই ফোনটাই বা কেন বিগড়ে গিয়েছে, বাড়ির লোক কোথায়… এই সব।

     স্বাগত কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ফের টোকা মারল দরজায়। এবার এক ভদ্রমহিলা সামনে এসে দাঁড়াল—চুড়িদার পরা, ছোটো চুল, বয়স সাতাশ-আটাশ, একটু থপথপে, রং শ্যামলা, ‘কাকে চাই?’

     ‘ওই বাড়িতে একটু দরকার ছিল। কিন্তু লকড…’ পাশের বাড়ির দিকে আঙুল দেখিয়ে স্বাগত আমতা আমতা করে বলল।

     ‘বউদি তো থাকেন না এখানে।’

     ‘আমি কলকাতা থেকে আসছি।’

     ‘আপনি বউদির কে হন?’

     ‘কেউ না, আমি নিখিলেশের খোঁজে এসেছি।’

     ‘মানে?’ প্রায় ভূত দেখার মতো চমকে উঠল ভদ্রমহিলা, ‘কে আপনি? কী নাম?’

     ‘আমি নিখিলেশের বন্ধু।’

     ‘কীরকম বন্ধু? আপনি জানেন না পোস্তার বিবেকানন্দ উড়ালপুল দুর্ঘটনায় নিখিলেশ মারা গিয়েছে?’

     ‘হোয়াট?’ স্বাগত পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে গেল, মুখ দিয়ে আর কথা সরছে না তার, চোখের পাতা পড়ছে না, ঠোঁট দুটোও কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে আছে। ভদ্রমহিলা ফের জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার নাম কী?’

    কথা বলার ক্ষমতা নেই স্বাগতর। চোখে অন্ধকার দেখছে সে, জিভ শুকিয়ে কাঠ। পিঠ দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যাচ্ছে যেন! অতি কষ্টে কোনোরকমে উচ্চারণ করল, ‘স্বাগত মিত্র। একটু জল দেবেন?’

     ‘কী বললেন? স্বাগত মিত্র? কোলা ইউনিয়ন হাই স্কুল?’

     ‘হুম,’ স্বাগত ঘাড় নাড়ল।

     ‘আপনি ভিতরে আসুন, দাদা। আমি ঝুমকি। ওর মাসতুতো বোন। সেদিন খাওয়ার থালা ফেলে আমার দাদা উঠে গিয়েছিল। খাবার দিয়েই বউদি শুরু করত অপমান করতে। যা নয় তা-ই বলত। অথচ ডিভোর্স দিত না। খুব খারাপ মেয়ে! ও-ই আমার দাদাটাকে মারল। পোস্তায় আমার দিদির বাড়ি। রাগ করে ওখানেই যাচ্ছিল।’ ভদ্রমহিলা ঝরঝর করে কাঁদছে, ‘আসলে মৃত্যু ওকে টানছিল। না হলে ও তো দিদির কাছে যাবে বলে বেরোয়নি। দিদি-জামাইবাবু যখন লাশ নিয়ে এল এখানে, একটা কথাই বার বার বলছিল দিদি, দাদা নাকি ওকে ফোন করে বলেছিল, ”শোন রুমকি, আমি কলকাতায় এসেছি। আজ রাতটা তোর ওখানেই থাকব রে! জানি তোর স্পেস প্রবলেম, ঘর কম। কিন্তু কী করব বল, স্বাগতর ফ্ল্যাটে থাকব ভেবেই এসেছিলাম, কিন্তু কিছুতেই ওকে ফোনে পাচ্ছি না…”’

     ঝুমকির গলা বুজে এসেছে এবার। ওরা দুজনে বাড়ির ভিতরে এসেছে। স্বাগত জল খাচ্ছে। প্রায় অবশ হয়ে-যাওয়া শরীরটা কোনোরকমে সোফায় ঠেলে দিয়ে স্বাগত ভাবছে, এই ব্রহ্মাণ্ডে কিছু কিছু জিনিস আছে, সত্যিই তার ব্যাখ্যা হয় না কোনো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    Next Article উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Our Picks

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }