Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    রজতশুভ্র মজুমদার এক পাতা গল্প173 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভুয়ো – রজতশুভ্র মজুমদার

    ভুয়ো

    ‘আমি তো ভাবতেই পারছি না জামাইবাবু,’ দেবাংশু বিষাদগ্রস্ত গলায় বলল, ‘একজন ডাক্তারবাবু এত নীচে নামতে পারেন?’

     ‘অপারেশনটা কবে হয়েছে?’ শান্ত গলায় প্রশ্ন করলাম।

     ‘গতকাল।’

     ‘তখন কিছু বুঝতে পারিসনি?’

     ‘না গো, এত বড়ো ডাক্তার, এত নামডাক!’

     ‘সত্যিই।’ দু-আঙুলের ফাঁকে ধরা জ্বলন্ত সিগারেটটা আমার অন্যমনস্কতার সুযোগে এমনি এমনিই বাষ্পীভূত হচ্ছিল দেখে, অনেকক্ষণ পর ফের একটা টান মেরে বললাম, ‘কী করে বুঝলি?’

     ‘আরে বাবার তো একটা চোখ আগে…’

     ‘এখানেই?’ দেবাংশুকে প্রায় থামিয়ে দিয়েই প্রশ্ন করলাম।

     ‘না না, কলকাতায়। এবারও কি এখানে করাতাম? একমাত্র শ্যামল চক্রবর্তীর মতো নামকরা ডাক্তার এখানে এসেছেন বলেই…’

     ‘কথাবার্তা খোলাখুলি হয়েছিল? সেখানে কোনো অস্পষ্টতা ছিল না তো?’ এবারও কথা শেষ করতে দিলাম না দেবাংশুকে। এই এক বাজে স্বভাব আমার! কোনো উত্তেজক বিষয়ে আলোচনা হলে, কৌতূহল চেপে রাখতে পারি না একদম। কত তাড়াতাড়ি বিষয়টার সম্পূর্ণ মহিমা অনুধাবন করতে পারি, সে ব্যাপারে মরিয়া চেষ্টা চালাতে শুরু করি। দেবাংশু আমাকে প্রাঞ্জল করে বোঝাতে লাগল, ‘শোনো…’

     ‘হ্যাঁ বল।’

     ‘সকালে যখন কাউন্টারে টাকা জমা দিই, তখন খুব স্পষ্ট ভাষায় ওদের সঙ্গে আমার কথা হয়ে গিয়েছিল। টোটাল ষোলো হাজার টাকার প্যাকেজ। অনেকগুলো লেন্সের কথা বলেছিল—শেষে আমি ষোলোহাজারি প্যাকেজের লেন্সটাই ফাইনাল করি। এটা ফেকো সার্জারিরই প্যাকেজ। ওরা পরিষ্কার করে বলেছিল, এই লেন্স দিয়েই মাইক্রো করে নিলে, খরচ পড়বে সাড়ে আট হাজার মতো। কিন্তু মাইক্রো আমি থোড়ি করাব?’

     ‘আচ্ছা।’

     ‘বন্ধুরা আমায় পইপই করে বলে দিয়েছিল, মাইক্রো করাস না, মাইক্রো এখন আর চলে না। ওতে অনেকটা কাটে, শুকোতে বড্ড দেরি হয়। সারতে অনেক বেশি সময় লাগে।’

     ‘তা ছাড়া মাইক্রো তো হাতের কাজ, ফেকো মেশিনের।’

     ‘ঠিক। এস.আই.সি.এস.-ই যদি করাব, তো আগের বার কলকাতা ছুটলাম কেন?’

     ‘এস.আই.সি.এস.-টা কী?’ কিঞ্চিৎ বিস্মিত হলাম।

     ‘আরে ওটাকেই তো মাইক্রো বলে। তুমি না! সত্যি!’ দেবাংশু কিঞ্চিৎ রাগতস্বরে বলল।

     দেবাংশুর দোষ নেই। আমি যদি নেত্রনীড়ের মালিক হয়ে এস.আই.সি.এস.-এর মানে না বুঝি, রাগ করবে না দেবাংশু? অবশ্য দেবাংশু খুব ভালো করেই জানে, নেত্রনীড় আমি চালাই না, ওটার সবকিছুই দেখে ভোলা, আমার ভাই। ভোলা অত্যন্ত ভালো ছেলে, আমার ভাই বলেই বলছি না। মূলত ওরই উদ্যোগে আমরা দু-ভাই মিলে সেবামূলক আদর্শে এই নেত্রনীড় খুলেছিলাম। এখান থেকে আমরা কেউ সংসার চালাই না, আমাদের আদর্শে বাধে। তা ছাড়া, ঈশ্বরের কৃপায়, কখনো তেমন প্রয়োজনও পড়েনি আমাদের। বাবা রেখে গিয়েছেন, যতটুকু পেরেছেন। তার বাইরে লিখে যতটুকু ইনকাম করি, তাতেই আমার দু-বেলা পেট চলে যায়, জুটে যায় সিগারেটটাও। নয় নয় করে দিনে তিন প্যাকেট সিগারেট লাগে আমার! গর্ব করছি না, এ তো লজ্জার কথা! কিন্তু লজ্জা নিবারণ করতে পারছি কই? আর ভোলা? সে তো আমার থেকে অনেক বেশি ধনী লোক! তিনখানা ডাম্পার আছে তার, দুটো সুমো। এগুলো ভাড়া খাটায়, চিপসের ব্যাবসা করে, আরও অনেক কিছু… কিন্তু নেত্রনীড়কে সে কোনোদিনই ব্যাবসার জায়গা বলে মনে করে না। ভোলা চিরদিনই ভোলাভালা। ওর ব্যাবসাগুলো দেখে কর্মচারীরা। আর নিজে বেশিরভাগ সময়টাই কাটায় নার্সিং হোমে। নার্সিং হোমটা ওর ভালোবাসা। প্রথমে ছিল ছোট্ট দু-কুঠুরি বাড়ি, সেটাই আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে… জাস্ট কথা হবে না! আগে শুধু ছানি অপারেশন হত, এখন ক্রিটিক্যাল অপারেশনও হয়! বাইরে থেকে বড়ো ডাক্তারবাবু আসে সপ্তাহে একদিন, মাসে এক-দু-দিন করে আরও একজনকে আনার প্ল্যান চলছে, আর লোকাল ডাক্তারবাবু তো আছেই সর্বক্ষণের জন্য! গ্রাউন্ড ফ্লোরে বিভিন্নরকম টেস্ট হয়, মানে, যে টেস্টগুলো অপারেশনের জন্য জরুরি আর কী—যেমন, ই.সি.জি., ব্লাড এইসব। চার-পাঁচজন অপ্টোমেট্রিস্ট রেখেছে ভাই আমার—তারা অহরহ চোখের পাওয়ার পরীক্ষা করছে! চশমার দোকানটা হয়েছে দোতলায়। খুব বেশি দিন হয়নি, এরই মধ্যে হরেক কিসিমের ফ্রেম আর সানগ্লাসও আমদানি করে ফেলেছে ভোলা। আর ওষুধের দোকানটা হল এই তো সেদিন। কত ধুমধাম করে উদবোধন হল! এক ছাদের তলায় এত সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা এই মফসসল শহরে ভাবা যায়? আমাদের শুভার্থীরা তো বলে, ‘এক টুকরো কলকাতা!’

     অবশ্য নেত্রনীড়ের জনপ্রিয়তার গ্রাফ এই মুহূর্তে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বেশ নিম্নগামীই। ভোলার এই সাজানো বাগান কেউ তছনছ করে দিলে, আমরা তো তাকে ছেড়ে কথা বলব না! শ্যামলবাবু বড়ো ডাক্তার, গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তার নাম, সবই ঠিক আছে—তাই বলে যা খুশি তা-ই করবে? আমাদের গুডউইল নষ্ট করে দেবে? আর আমরা তা-ই মেনে নেব? আমি বেশ গম্ভীর হয়ে দেবাংশুকে প্রশ্ন করলাম, ‘তা’লে তুই নিশ্চিত যে ফেকো করেনি, মাইক্রোই করেছে?’

     ‘অবশ্যই।’ দেবাংশুর গলা আত্মবিশ্বাসী।

     ‘এনি এভিডেন্স?’

     ‘যেসব নিয়মকানুন, মানে, ডুজ অ্যান্ড ডোন্টসের কথা বলেছেন, সেগুলোই তো এভিডেন্স!’

     ‘যেমন?’

     ‘যেমন ধরো, এক মাস চান করতে মানা করেছেন, কোনোভাবেই চোখে জল লাগানো যাবে না এক মাস!’

     ‘এক মাস?’

     ‘কিন্তু ডান চোখটায় যখন ফেকো করিয়েছিলাম কলকাতায়, তখন ডাক্তারবাবু এক সপ্তাহ মাত্র স্নান করতে মানা করেছিলেন। তাহলেই বোঝো! শুধু কি তা-ই, এই যে প্রতিদিন স্টেরিলাইজড কাপড় দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা, গৃহবন্দি থাকা, দিনের বেলা ডার্ক গ্লাস ইউজ করা, ঘুমের সময়ে প্লাস্টিক আই গার্ড… সবকিছুরই নির্দেশিত সময়সীমা আগের বারের থেকে অনেক অনেক বেশি!’

     ‘বুঝেছি।’

     ‘ডান চোখ অপারেশনের পর কলকাতার ডাক্তারবাবু বলেছিলেন, সাত দিন পর সবকিছু করতে পারবেন। সত্যি সত্যিই বাবা সাত দিনে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন।’

     ‘ড্রপ দেয়নি?’

     ‘হ্যাঁ দিয়েছেন। দুটো। একটা অ্যান্টিবায়োটিক, আরেকটা—প্রেশারটা যাতে নর্মাল থাকে, তার ওষুধ।’ দেবাংশু নিচু গলায় বলল, ‘এগুলো নিয়ে তো প্রবলেম নেই আপাতত। প্রবলেমটা হল, করাতে গিয়েছি ফেকো, টাকা নিয়েছে ফেকোর আর করেছে মাইক্রো!’

     ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টসগুলো যখন রেকমেন্ড করল, তখন সরাসরি প্রশ্ন করলি না কেন? বড়ো ডাক্তারবাবু বলে প্রশ্ন করা যাবে না?’

     ‘না না, তা না, প্রবলেমটা হল, প্রথম থেকে আমিই ছিলাম বাবার কাছে, কিন্তু বিকেলে ডিসচার্জের সময়ে আমার একটা জরুরি কাজ পড়ে যাওয়ায় ইন্দ্রাণী গিয়েছিল। ও অতশত…’ দেবাংশু আমতা আমতা করতে লাগল।

     ‘তুই রাত্রে বাড়ি ফিরে নিশ্চয়ই জেনেছিস!’

     ‘হ্যাঁ তা-ই তো!’

     ‘তারপর?’

     ‘তারপর আজ সকালে গিয়েছিলাম নেত্রনীড়ে। কিন্তু শ্যামল ডাক্তার তো আসবেন আবার নেক্সট ওয়েডনেসডে।’

     ‘ওহো, তাই তো!’

     ‘অনেক দেরি।’

     ‘ভোলার সঙ্গে দেখা হল?’ কথাটা বলতে বলতেই মনে পড়ে গেল, ভাই তো বিশাখাপত্তনমে। বেশ ক-দিন হল গিয়েছে সে। ফিরবে পরের সপ্তাহে। নিজেকে সংশোধন করে নিয়ে বললাম, ‘দেখা আর হবে কী করে, সে তো বাইরে আছে!’

     ‘হ্যাঁ, ম্যানেজারদা তা-ই বললেন।’

     ‘ম্যানেজারকে বলেছিস তো সবটা?’

     ‘হুঁ। ম্যানেজারদা বললেন, একটা রিটন কমপ্লেন্ট জমা দিতে হবে। ডাক্তার চক্রবর্তীর এগেনস্টে। ওটা জমা দিয়েই তোমার কাছে আসছি।’

     ‘খুব ভালো করেছিস।’ সিগারেটের পিছনটা অ্যাশট্রেতে জমা দিয়ে উদাসীনভাবে বললাম, ‘চা খাবি?’

     ‘না।’

     ‘চিন্তা করিস না, আমি তো আছি! দেখছি কী করতে পারি!’

     দেবাংশু উঠে গেলেও, আমার মনে কিন্তু জাঁকিয়ে বসেছে ডাক্তার চক্রবর্তীর কাঁটাটা। আফটার অল আমি এই নার্সিং হোমের অন্যতম মালিক! ভাই বাইরে! তাই কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারি না। তা ছাড়া দেবাংশু আমার রিলেটিভ! আমার শ্বশুরমশাইয়ের পিসতুতো ভাইয়ের ছোটোছেলে সে। ওর কমপ্লেন্ট আমার কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এইসব ভাবতে ভাবতেই ফের একখানা সিগারেট ধরালাম। সিগারেট টানলে হয় কী, মাথাটা ফ্রেশ হয়ে যায় নিমেষে। তখন বিভিন্ন ডায়মেনশনে ভাবনাটা ছড়িয়ে পড়তে পারে, ঠিক যেভাবে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ মাঝে মাঝে ছড়িয়ে পড়ে শরতের আকাশে। শুধু তো দেবাংশু না, আজকাল ডাক্তার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ কানাঘুষো শুনছি এখানে-সেখানে। অথচ প্রথম যখন চক্কত্তি এখানে এল, কী ভিড়টাই না হতে শুরু করেছিল! রুগি উপচে পড়ছিল নেত্রনীড়ে! একটামাত্র লোকাল ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে ঝিমিয়ে-পড়া, জীবন্মৃত নেত্রনীড়ে প্রাণসঞ্চার করেছিল চক্রবর্তী। একদিন ভোলা বলল, ‘দাদা, নেত্রনীড় আবার বেঁচে উঠেছে! এর থেকে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না!’

     ‘তোর উপর আমার বিরাট ভরসা, ভাই।’

     ‘আমি কিছুই না গো, সবই ডাক্তার চক্রবর্তীর ক্রেডিট।’

     ‘অত বড়ো ডাক্তার এনেছিস! গোটা শহর জুড়ে, আশপাশের গ্রামগুলোতে এত মাইকিং করেছিস… হবে না? তোর মেধা আর পরিশ্রমের ফল তো ফলবেই!’

     প্রথম থেকেই ডাক্তার চক্রবর্তী বসত বুধবার। রবি, সোম, মঙ্গল—এই তিন দিন নাম লেখানো হত। প্রথম প্রথম এমন অবস্থা হয়েছিল, চারটে লোকে হিমশিম খেত নাম লিখতে। ভোর চারটে থেকে মানুষের লাইন। মফসসলের মানুষ ধন্য করেছিল ভাইকে। এই অভাবিত সাফল্য দেখেই, ভোলা সিদ্ধান্ত নিল চশমার দোকানটা খোলার, পরে ওষুধের দোকানটা। সবই ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু ছ-মাস ঘুরতে-না ঘুরতেই, পরিস্থিতি পালটে গেল। জোয়ারের পর যেমন ভাটা আসে, মানুষ সেইভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল ডাক্তার চক্রবর্তী তথা নেত্রনীড় থেকে। এই তো গত সপ্তাহেই একজন বলল, ‘নেত্রনীড় তো পুরো ফাঁকা! ডাক্তার চক্রবর্তীর কাছে কোনো রুগিই হয় না।’

     ‘কীরকম?’

     ‘নাম লেখাই ছিল। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে হঠাৎ ম্যানেজারদা ফোন করে ডাকলেন, এক্ষুনি আসুন। নাম পেরিয়ে গেলে তখন সন্ধে হয়ে যাবে।’ বাঁকা হাসি হেসে লোকটা বলল, ‘পড়ি-মরি করে গিয়ে দেখলাম, কোথাও কোনো রুগি নেই, শুধুই আমি।’ লোকটা মিথ্যে কথা বলছে—এটা আমার একবারও মনে হয়নি। ডাক্তার চক্রবর্তী নাকি তাকে দেখার পর, বাইরের বারান্দা অবধি সি অফ করতে এসেছিল! সেটা নিয়েও হাসাহাসি করেছে লোকটা, ‘বাবার জন্মে শুনিনি, কোনো ডাক্তার চেম্বার ছেড়ে রুগিকে সি অফ করতে আসছেন!’

     ‘কী মনে হয়, চক্রবর্তীর ফিজ বেশি বলে রুগি হচ্ছে না?’ প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়ে পাবলিক ওপিনিয়ন পরখ করতে চাইলাম। আমাকে প্রায় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লোকটা উত্তর দিল, ‘একেবারেই না। এ শহরের মানুষ ভালো পরিষেবা পেলে, টাকার জন্য পিছিয়ে আসে না।’ বিলক্ষণ সত্যি কথা! আমিও মনেপ্রাণে এটাই বিশ্বাস করি। না হলে প্রথম দু-তিন মাস এত ভিড় হত না! কিন্তু প্রবলেমটা ঠিক কোথায়?

     সেদিন সবজি বাজারে একজন বলল, ‘ডাক্তার কাগুজে বাঘ।’ হতে পারে নামডাক অনেক, কিন্তু রুগির মন জয় করতে পারছে না। এটাও মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু ফেকোর টাকা নিয়ে মাইক্রো? এ তো জালিয়াতি! জোচ্চুরি! একজনের কাছে তো এমন কথাও শুনলাম, তার এক আত্মীয়-রুগিকে যে ড্রপটা দিয়েছিল চক্কত্তি, সেটা লাগাতেই চোখ ফুলে, চুলকে… সে যাচ্ছেতাই কাণ্ড! ভদ্রলোক তো কলকাতা গিয়ে, ভালো ডাক্তার দেখিয়ে, নার্সিং হোমে দু-দিন ভরতি থেকে সুস্থ হয়। ডাক্তার চক্রবর্তীর ওষুধ লেখা নিয়ে এরকম আরও কমপ্লেন্ট আছে বিস্তর। ওর ওষুধে নাকি—ক-দিন আগে তো জবার মা-ই বলছিল—খুব কম মানুষেরই কোনো সাইড এফেক্ট হয় না! বেশিরভাগ ওষুধেই নাকি চোখ লাল হয়ে যায়, পিঁচুটি কাটে! অবশ্য মানুষ তো প্রচারসর্বস্ব জীব! কেউ একবার খারাপ কিছু প্রচার করে দিলেই, সেটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আজকাল! কেউ কেউ আবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেও এসব ছড়ায়। ডাক্তারের শত্রু আছে, আমাদের শত্রু আছে, ইন ফ্যাক্ট, বন্ধু না থাক, শত্রু সব মানুষেরই আছে! তবে আমার মনে হয় না, এই শহরের মানুষ এতটা খারাপ কাজ করতে পারে! আমার জন্মভূমি বলেই বলছি না, এই মফসসলের মানুষগুলো বড়ো সরল, সাধারণ, আবেগসর্বস্ব! এরা নিজেরা যেমন সদ্ভাবে বাঁচে, অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তেমনি কুচক্রী ষড়যন্ত্রী জোচ্চোর জালিয়াতদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমে পড়তেও ভয় পায় না একবিন্দু। ডাক্তার চক্কত্তি যদি জালিয়াত প্রমাণিত হয়, বা ভুয়ো ডাক্তার হয়, এখানকার মানুষ ওকে ছেড়ে কথা বলবে না, এই আমি বলে দিচ্ছি।

     এই যে এতরকমভাবে ভাবতে পারছি—আর ভাবতে পারছি বলেই তো পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিতে পারব—তার একমাত্র কারণ আমার এই সিগারেট! লোকে শুধু ক্যান্সার-ক্যান্সার করেই চিল্লায়, ভালো দিকটার কথা একবারও বলে না! যাক গে যাক, আমি বিলক্ষণ বুঝি, সিগারেট খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে আমাকে! এবং, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে, খুব শীঘ্রই সেটা আমি করে দেখাব! তবে এখনকার মতো আরেকখানি না ধরালেই নয়, কারণ এই ডাক্তার চক্কত্তির ব্যাপারে একটা হেস্তনেস্ত না করে আমি ছাড়ছি না, হ্যাঁ! ভেবেছিলাম, বিশাখাপত্তনমে ভোলাকে আর বিরক্ত করব না, কিন্তু প্রায় বাধ্য হয়েই, ওকে ফোনে ধরলাম, ‘ভালো আছিস ভাই?’

     ‘হ্যাঁ, তোমরা?’

     ‘ঠিক আছি।’ একটু ইতস্তত করেই বললাম, ‘আচ্ছা শোন, শ্যামল চক্কত্তির ব্যাপারে বড্ড কমপ্লেন্ট আসছে, বুঝলি?’

     ‘হ্যাঁ দাদা, আমি জানি। আমাকে একবার ফিরে যেতে দাও, তারপর কেসটা দেখছি।’

     ‘আমার শ্যালক ওর বাবার ক্যাটারাক্ট…’

     ‘হ্যাঁ আমি শুনেছি।’ সে আমাকে থামিয়ে দিয়েই বলে উঠল।

     ‘আচ্ছা। তা আমি বলি কী, ও ভুয়ো ডাক্তার নয় তো?’

     ‘ভুয়ো ডাক্তার? কী বলছ?’ ভোলার গলায় যারপরনাই বিস্ময়।

     ‘জানি না বাপু, তা নিয়োগের আগে তুই ভালো করে বাজিয়ে দেখে নিয়েছিলিস তো?’

     ‘বাজিয়ে দেখে… না… মানে…’ ও প্রান্তের গলা যেন মিয়োনো বিস্কুট।

     ‘সে কী! এটা তোর অবশ্যকর্তব্য ছিল! আজ চক্রবর্তী ভুয়ো ডাক্তার প্রমাণিত হলে, পাবলিক আমাদের ছেড়ে দেবে?’

     ‘আমরা কী করব, কেউ যদি কাগজপত্র জাল করে?’

     মুখে এ সমস্ত বললেও বুঝলাম, ভাই আমার ভয় পেয়েছে! মনে হল, ওর মধ্যেও সংশয় আছে, ডাক্তার চক্রবর্তী ভুয়ো নয় তো? আজকাল তো খবরের কাগজে, টেলিভিশনের পরদায় ভুয়ো ডাক্তারের ছড়াছড়ি। কেউ এইট পাশ, কেউ মাধ্যমিক! ধরা পড়ার পর সুড়সুড় করে ঢুকে পড়ছে শ্রীঘরে! আবার কখন বেরিয়েও পড়ছে টাকাপয়সা খরচ করে—সেসব আর মিডিয়া হারগিস দেখাচ্ছে না! যা-ই হোক, ভোলা বড়ো ইনোসেন্ট। ওর মুখটা চিন্তা করে মায়া হল। ওকে সাহস দিয়ে বললাম, ‘আমি একটু খোঁজখবর লাগাচ্ছি। তুই একদম চিন্তা করিস না।’

    ‘তোমাকে কিছু করতে হবে না, দাদা! এমনিতেই তোমার শরীর ভালো নেই। তার উপর আবার এক্সট্রা প্রেশার। আমি ফিরি, তারপর যাহোক কিছু একটা করব। তুমি টেনশন নিয়ো না।’ ভোলা এরকম বললেও, কেন জানি না, আমার মনে হল, সে চাইছে, আমি একটা কিছু সুরাহা করে রাখি। ফিরে তাহলে ছেলেটা নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে পারবে দু-দিন। খুব ছোটো থেকেই দেখে আসছি, ভাই টেনশন সহ্য করতে পারে না একদম! বেচারি বিদেশ-বিভুঁইয়ে টেনশন করে মরবে!

    নেট সার্চ করে জানলাম, প্রতি শুক্রবার ডাক্তার শ্যামল চক্রবর্তী বসে চন্দননগরের শুশ্রূষায়। শুশ্রূষার ঠিকানা, ফোন নম্বর নিয়ে নিলাম। ধৈর্য আমার এমনিতেই বড়ো কম। রাতটা কোনোরকমে জেগে ঘুমিয়ে, ভোরবেলা স্নান সেরে বেরিয়ে পড়লাম চন্দননগরের উদ্দেশে। শুশ্রূষা বড়ো চমৎকার জায়গা। একটা বড়ো হলঘরের ভিতর পার্টিশন দিয়ে পাঁচটা ছোটো ছোটো খোপ বানানো। প্রত্যেকটায় একজন করে অপ্টোমেট্রিস্ট। তারা মনের আনন্দে রুগি দেখছে। বাইরে একজন কম্পাউন্ডার গোছের লোক। সে অনায়াসে পাঁচটা অপ্টোমেট্রিস্টের প্রায় পঞ্চাশজন দস্যি রুগি আর তাদের আরও কম-বেশি জনা পঞ্চাশেক ততোধিক ব্যস্তবাগীশ অভিভাবককে সামলাচ্ছে একা হাতে। দোতলায় চেম্বার ডাক্তার শ্যামল চক্রবর্তীর। সে এখনও উপস্থিত হতে পারেনি। কলকাতা থেকে আসছে তো, এখনও নির্ঘাত রাস্তায়! অনেকক্ষণ বসলাম। কম্পাউন্ডার মুখের কাছে মুখ নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘কত নম্বরে নাম?’

    ‘আজ্ঞে আমি রুগি না।’

    ‘তা’লে এখানে কী করতে?’

    ‘দরকার আছে ডাক্তারবাবুর সঙ্গে।’

    ‘কী দরকার?’

    ‘পার্সোনাল।’

    ‘কোত্থেকে আসা হচ্ছে?’

    নাম-ঠিকানা বললাম। ততক্ষণে ডাক্তারবাবুর প্রবেশ।

    আমাদের নেত্রনীড়ে একদিন এক ঝলক দেখেছিলাম ডাক্তার চক্রবর্তীকে। তার সঙ্গে তো কোনো মিলই নেই এই ডাক্তারবাবুর চেহারায়! এই ডাক্তারবাবু লম্বা, সে ঠিকঠাক; এই ডাক্তারবাবু কিঞ্চিৎ রোগা-পাতলা, সে গোলগাল; এই ডাক্তারবাবুর গোঁফ নেই, তার তো হালকা গোঁফ ছিল, যদ্দূর মনে পড়ে! উত্তেজনায় আমার বুক ঢিপঢিপ করছে। তবে কি সে ব্যাটা ভুয়োই? আমার সন্দেহই তবে সত্যি? কম্পাউন্ডারের পারমিশন নিয়ে ঢুকে পড়লাম ডাক্তারবাবুর চেম্বারে। খানিক ইতস্তত করে বলেই ফেললাম, ‘আমি রুগি নই ডাক্তারবাবু, এসেছিলাম একটা ছোট্ট প্রস্তাব নিয়ে।’

    ‘কে আপনি? কোথা থেকে আসছেন?’ ডাক্তারবাবুর মিহি গলা। নিজের এবং নেত্রনীড়ের পরিচয় দিয়ে বললাম, ‘আপনি যদি মাসে একটা দিন নেত্রনীড়ে বসেন, ওখানকার মানুষ বড়ো উপকৃত হয়, ডাক্তারবাবু।’ ডাক্তারবাবু সবিনয়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। সেই সঙ্গে আমায় নিশ্চিত করলেন, জীবনে কোনোদিন আমাদের মফসসল শহরে আসেননি তিনি ইতিপূর্বে। এমনকী, আমাদের জেলাতেই সারাজীবনে তাঁর পদার্পণ ঘটেছে সাকুল্যে দু-তিনবার! একবারের ঘটনা তাঁর বেশ মনে আছে, জেলা হাসপাতালে একটি বিশেষ মেডিক্যাল যন্ত্রের উদবোধনে তাঁকে আনা হয়েছিল। জেলার মানুষের প্রশংসা করতে ভুললেন না তিনি। আমাকেও ধন্যবাদ জানালেন এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে এতদূর থেকে আসার জন্য। তিনি যে সে প্রস্তাবে সম্মত হতে পারছেন না, সেজন্য মৃদুভাষী বিনয়ী মানুষটি আমার কাছে ক্ষমাও চেয়ে নিলেন। আমি ঘামছি। বেশি কথা বলার ইচ্ছে বা মানসিকতা কোনোটিই আর অবশিষ্ট নেই। প্রতিনমস্কার ও সৌজন্যমূলক দু-চার কথা বিনিময় করে, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম দ্রুত। অবশ্য সমস্ত কথোপকথনটা মোবাইলে রেকর্ড করে নিতে ভুলিনি!

    বাড়ি ফিরে লোকাল থানায় পুরো ব্যাপারটাই জানালাম। দারোগাবাবু পরামর্শ দিলেন, সামনের বুধবার পর্যন্ত একেবারে সেঁটে যেতে, যাকে বলে স্পিকটি নট! মুখ যেন কোনো অবস্থাতেই না খুলি। এমনকী, আমার ভাইকেও বিরক্ত না করতে পরামর্শ দিলেন তিনি! এইটুকু সময় নাকি পুলিশের লাগবে! এবং এই ক-দিনের গোপনীয়তাটুকুও। সেটুকু যদি আমি প্রোভাইড করতে পারি, ওঁরা ভুয়ো ডাক্তারকে জেলের ঘানি টানিয়েই ছাড়বেন! আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা, ভুয়ো ডাক্তারের আশ্রয়দাতা হিসেবে আমার ভাইও কি আইনত…’

     ‘আরে না না, একদম চিন্তা করবেন না।’ আমার মুখ-চোখ বেয়ে সারা শরীরে নেমে-আসা সংশয়ের কালো ছায়াটা সম্ভবত স্পষ্ট পড়ে নিতে পেরেছেন দারোগাবাবু, ‘কেউ কাগজপত্র জাল করলে আপনার ভাই কী করবেন? তিনি কেন দোষী হবেন?’

     ‘বাঁচালেন স্যার।’ ভিতর থেকে বেরিয়ে এল শব্দ দুটো।

     ‘আপনি নিশ্চিন্তে বাড়ি যান।’

     বুধবার সকাল দশটা। নেত্রনীড়ে ডাক্তার চক্রবর্তীর চেম্বারের বাইরে বেশ ভিড়। এত ভিড় কেন? রুগি তো আজকাল হয় না এ ডাক্তারের ! বোঝা গেল, মানুষজন এসেছে অভিযোগের ঝাঁপি নিয়ে। কারো অভিযোগ, ওষুধে কাজ হচ্ছে না; কারো অভিযোগ সাইড এফেক্টের—এর চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে, ওর চোখে জ্বালা করছে, চুলকোচ্ছে! বেশিরভাগই আশপাশের গ্রাম থেকে আসা মানুষ—যারা খেটে খায়, গরিব, সঞ্চয়ের সবটুকু দিয়ে ভালো ডাক্তারবাবুর কাছে চিকিৎসা করিয়েছিল ভালো ফলের জন্য। কিন্তু ভালো চিকিৎসা তো দূরের কথা, শ্যামল ডাক্তার তাদের হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে ছেড়ে দিয়েছে! যে অবস্থায় তারা রুগিকে এখানে নিয়ে এসেছিল, চিকিৎসা কিংবা অপারেশনের পর, রুগির সে অবস্থার উন্নতি তো দূরের কথা, আরও অবনতি হয়েছে! কেউ ছুটেছে বর্ধমান-দুর্গাপুর-কলকাতা, কেউ টাকার অভাবে কোথাও নিয়ে যেতে পারেনি—তাদের রুগি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বিছানায়। এইসব মানুষ ছেড়ে দেবে ডাক্তার চক্রবর্তীকে? একটা আদ্যন্ত অসৎ, ভুয়ো লোক ডাক্তার সেজে এইভাবে এত এত মানুষের জীবনের বিনিময়ে নিজের অর্থলিপ্সা চরিতার্থ করে চলেছে দিনের পর দিন—ভাবা যায়? সুঠাম চেহারার কিছু ডাকাবুকো যুবককেও ঘোরাফেরা করতে দেখলাম এদিক-ওদিক। স্থানীয় লোকজনও প্রচুর। শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে। দেবাংশু-ইন্দ্রাণীকেও দেখলাম একটু আগে। কথা হল। দেবাংশু বলল, ‘বাবার চোখের অবস্থা খুব খারাপ হয়েছিল।’

     ‘মানে?’

     ‘দারুণ ব্যথা আর সোয়েলিং!’

     ‘তারপর?’

     ‘ব্যারাকপুরে নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন একটু বেটার।’

     আমরা দু-ভাইয়ের কেউই এইসব লিটিগেশন নিতে পারি না। ভোলা ক্রমাগত নখ খাচ্ছে। ও পুলিশের ব্যাপারটা জানে না। মানে, ওকে জানানো হয়নি ! আই.সি. আমাকে ইশারায় ডেকে, ডাক্তার চক্রবর্তীর ঘরে ঢুকলেন। ‘তুমি পুলিশে খবর দিয়েছিলে?’ ভোলা অবাক।

     ‘আসছি, দাঁড়া।’ আমার কথা বলার সময় নেই। পুলিশের পিছন পিছন ঢুকলাম চক্রবর্তীর চেম্বারে। কী আশ্চর্য, লোকটার কোনো হেলদোল নেই! হাসতে হাসতে সে কিছু কাগজপত্র ব্যাগ থেকে বের করে পুলিশকে দেখাচ্ছে, ‘আমি সব সময়ে অরিজিনাল কাগজপত্র সঙ্গে রাখি, বুঝেছেন? যা দিনকাল পড়েছে!’ পুলিশের মুখে কোনো রা নেই। চক্কত্তি আঙুল দেখাল একটা বিশেষ কাগজের দিকে, ‘এই যে, এইটেই আমার রেজিস্ট্রেশন।’ কাগজপত্র পরীক্ষা করে আই.সি. মিনমিন করে বললেন, ‘আপনি তাহলে…’

     ‘কী তাহলে?’ চক্রবর্তীর গলায় কোনো উত্তেজনা নেই।

     ‘এই যে এটা দেখুন।’ আই.সি. নিজের মোবাইলে গুগল সার্চ করে কলকাতার বিখ্যাত ডাক্তার শ্যামল চক্রবর্তীর ছবি ও পরিচিতি দেখালেন।

     ‘ইনস্পেকটর, একই নামে কি দুজন ডাক্তারবাবু থাকতে পারেন না? বিখ্যাতদের আড়ালে অখ্যাতরা তো চাপা পড়েই থাকেন, এটাই দস্তুর। কিন্তু তাঁরা ভ্যানিশ হয়ে যান না, তাঁরা থাকেন।’ ডাক্তার চক্রবর্তীর গলা নির্লিপ্ত।

     ‘কিন্তু এখানে তো প্রচার করা হয়েছে…’

     ‘সেটা কি আমি করেছি? প্রমাণ দেখাতে পারবেন?’

     ‘না মানে…’ আই.সি. আমতা আমতা করতে লাগলেন। ততক্ষণে অভিযোগকারীরা ঢুকে পড়েছে হুড়মুড়িয়ে, ‘আমরা ওসব কাগজপত্র মানি না। টাকা নিয়ে চিকিৎসা করেছেন, রুগিরা সেরে উঠছে না কেন? জবাব দিন!’

     ‘আমি প্রত্যেকের অভিযোগের জবাব দেব, কিন্তু একে একে, শান্তভাবে প্লিজ…’ ডাক্তারবাবু যেন স্রোতস্বিনী স্বচ্ছতোয়ার জল।

     হাতে লেন্সের খোলা প্যাকেট আর প্রেসক্রিপশন নিয়ে প্রথমেই এগিয়ে এল দেবাংশু, ‘কেন আপনি মাইক্রোসার্জারি করেছেন বাবার? আমি তো ফেকোর জন্য টাকা জমা দিয়েছিলাম।’

     ‘আপনি শান্তভাবে কথা বলুন, দেবাংশুবাবু।’ চক্রবর্তী দেবাংশুর হাত থেকে প্রেসক্রিপশন আর পরিত্যক্ত প্যাকেটটা নিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে বিস্ময়ে কেঁপে উঠল যেন, ‘এ প্যাকেট আপনি কোত্থেকে পেলেন? এটা তো হাইড্রোফোবিক অ্যাক্রিলিক ফোল্ডেবল থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি স্কোয়্যার এজ ইন্ট্রাকুলার লেন্স। এ লেন্স তো অনেক দামি! যতদূর মনে পড়ে, আপনার বাবাকে খুব নর্মাল লেন্স দেওয়া হয়েছে।’

     ‘আমাকে এই প্যাকেটটাই ডিসচার্জের সময়ে দেওয়া হয়েছে রিসেপশন থেকে।’

     ‘এ জিনিস এখানে আসে না, দেবাংশুবাবু। এই দামি মোড়কের ভিতরে, আমি নিশ্চিত, আসল জিনিস ছিল না মোটেও।’ ডাক্তারবাবুর চোখ যেন জ্বলে উঠল মুহূর্তে, ‘আর ফেকোর কথা বলছেন? ফেকো সার্জারি তো এখানে হয়ই না! ওই মেশিনও এখানে আসেনি এখনও।’ এরপর আরও কয়েকজন অভিযোগকারীর ব্যবহৃত ওষুধের শিশি কিংবা প্যাকেট পরীক্ষা করে চক্রবর্তী যা নিদান দিল, তাতে আমি বিস্ময়ে, অপমানে, যন্ত্রণায় পাথর হয়ে গেলাম—’এই ওষুধগুলো তো ভেজাল! কোনোটা ডেট এক্সপায়ার্ড! মানুষের জীবন নিয়ে এখানে ছিনিমিনি খেলা চলছে তো! ছি ছি! আমি আগে জানলে…’

     ডাক্তার চক্রবর্তীর বাকি কথাগুলো আমার কানে আর ঢুকছে না। আমার সারা শরীর অবশ, দু-চোখে জমাট অন্ধকার। ততক্ষণে লুকিয়ে-পড়া ভাইটাকে খুঁজে বের করে বেদম পেটাচ্ছে শক্তপোক্ত লোকগুলো—কিল, চড়, লাথি, ঘুষি! ওদের হাত থেকে ছাড়িয়ে ইনস্পেকটর দত্তগুপ্ত যখন ভোলাকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাচ্ছেন, নিজের ব্যর্থ লেখক-জীবনকে ধিক্কার জানিয়ে স্বগতোক্তি করলাম, ‘একজন লেখকের সব চেয়ে বড়ো কাজ মানুষ চেনা। হায়, আমি নিজের ভাইকেই চিনতে পারিনি!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    Next Article উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026
    Our Picks

    উন্মাদ আশ্রম – ওবায়েদ হক

    September 5, 2026

    এক ডজন রহস্য গল্প – রজতশুভ্র মজুমদার

    September 5, 2026

    চাঁদের তাঁবু – অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }