Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গা-ছমছমে ভৌতিক অলৌকিক – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প169 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মিগুছোগলের পুঁথি

    আইস-এক্সটা একটা বরফের চাঙড়ে গেঁথে হতাশভাবে শেরপা নামচি বলল, ‘আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই অন্ধকার নামবে, তুষার ঝড়ও শুরু হবে। মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই। কাল দিনের আলো যখন ফুটবে তখন অন্তত পনেরো ফুট নীচে চাপা পড়ে থাকবে আমাদের দেহ। আর কেউ আমাদের খুঁজে পাবে না।’

    নামচির কথা শুনে আমি আর হান্স একবার চারপাশে তাকালাম। যেদিকে চোখ যাচ্ছে, সেদিকেই শুধু বরফ আর বরফ! নেপাল হিমালয়ের উত্তুঙ্গ শিখররাজি রাত্রি নামার প্রতীক্ষায়। কোথাও কোনো প্রাণের চিহ্ন নেই। আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি বারো হাজার ফুট উচ্চতায়। তিন হাজার ফুট নীচে ফেলে এসেছি বেসক্যাম্প। গ্লেসিয়ার বেয়ে এখন নীচে নামার চেষ্টা করা মানে সরাসরি মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো। আবার সামনে কোন দিকে এগোব তা এখন জানা নেই। পথ হারিয়েছি আমরা। সামনে রাত্রি আসছে। অতএব…।

    হান্স রুমেনিয়ার মানুষ। বেশ শক্তপোক্ত ধাঁচের লোক। ইউরোপের বেশ কয়েকটা পিক এক্সপিডিশনে গেছে। পাহাড় বা বরফ ওর কাছে নতুন নয়, কিন্তু তার চোখেও কেমন একটা হতাশার ভাব লক্ষ করলাম। আমার মনে পড়ল রিচেন মনাস্ট্রির অধ্যক্ষ চেন-পো-র সাবধানবাণী, ‘আপনারা মিগুছোগল গুম্ফায় যাবেন না। সে পথ বড় দুর্গম। তুষার ঝড়ে বহু মানুষ হারিয়ে গেছে ও পথে। তা ছাড়া ওই গুম্ফায় নানা অদ্ভুত ব্যাপার আছে। ওখানে আপনাদের না যাওয়াই ভালো।’

    মৃদু তুষারপাত শুরু হল। তার সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা। কোথায় যাব আমরা? এই দুর্গম বরফাবৃত প্রান্তরে দাঁড়িয়ে অনুভব করলাম বৃদ্ধ লামা চেন-পো-র কথা শুনলেই ভালো হত। আটঘণ্টা ধরে এই বরফ রাজ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু মিগুছোগল মনাস্ট্রির চিহ্ন কোথাও নেই !

    চেন-পো আমাদের সাবধান বাণী শোনালেও তিনি কিন্তু মিগুছোগল মনাস্ট্রির সন্ধানে আমাদের অভিযানের নেপথ্য ভূমিকা পালন করেছেন। আমি বৌদ্ধ শাস্ত্র গবেষক সুকুমার রক্ষিত, আর হান্স, ভেষজ বিজ্ঞানী স্ব-স্ব প্রয়োজনে কিছুদিন আগে নেপালের রিচেন মনাস্ট্রিতে এসেছিলাম মনাস্ট্রির লাইব্রেরিতে কাজ করার জন্য। বেশ কিছু প্রাচীন বৌদ্ধ পুঁথি আছে সেখানে। বলা বাহুল্য সেখানে মঠাধ্যক্ষ চেন-পোর আতিথ্যেই আমরা ছিলাম। একই জায়গাতে থাকা ও লাইব্রেরিতে কাজ করার সূত্রে হান্সের সঙ্গেও আমার পরিচয় সেখানেই। যাই হোক, কাজের জন্য প্রাচীন পুঁথি ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমরা বেশ কয়েকটা পুঁথিতে ‘ব্ৰহ্ম পুঁথি’ নামে পালি ভাষায় লিখিত এক পুঁথির উল্লেখ দেখি। যে পুঁথিতে নাকি প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল সহ, বহুবিধ মারণ রোগের ভেষজ প্রতিষেধকের খোঁজ দেওয়া আছে। কৌতূহল নিরসনের জন্য আমরা এ ব্যাপারে চেন-পোকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানান, ‘হ্যাঁ, এ পুঁথি সত্যিই আছে নেপাল হিমালয়ের তুষারাবৃত অঞ্চলে অবস্থিত এক মঠে। মঠাধ্যক্ষের নাম মিগুছোগল। তাঁর নাম অনুসারে ওই মঠের নাম। মিগুছোগল অন্ধ মানুষ। অতিবৃদ্ধ। তার বয়স নাকি তিনশো বছর! তিব্বতের প্রাচীন ছোগল রাজবংশে তাঁর জন্ম। “ব্রহ্মপুঁথিও” ওই রাজবংশের সম্পত্তি। আরও দুজন অন্ধ বৃদ্ধ লামাকে নিয়ে তিনি ওই মঠ সেই পুঁথির রক্ষণাবেক্ষণ করেন, আর ব্রহ্মজ্ঞান চর্চা করেন। প্রকৃতি মানুষ জীবজগৎ সম্পর্কে বহু গূঢ় তত্ত্ব লিপিবদ্ধ হয়ে আছে ওই পুঁথিতে।’

    লামা-চেন-পোর এ কথা শোনার পরই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কর্তব্য ঠিক করে নিয়েছিলাম আমি আর হান্স। ও পুঁথি আমাদের দেখতেই হবে! এরপর আমরা চেন-পোর কাছ থেকে রাস্তা জেনে নিয়ে, তাঁর নিষেধ অগ্রাহ্য করে মাত্র কয়েকদিনের প্রস্তুতিতে রওনা দিয়েছিলাম মিগুছোগলের মঠের সন্ধানে। সঙ্গে নিয়েছিলাম গাইড নামচিকে। ও অনেকদিন আগে একবার এ পথে এসেছিল। দূর থেকে দেখেছিল মঠটা।

    তুষারপাত ক্রমশ বাড়ছে। অসহায় আমরা। আমি হতাশ ভাবে বলতে যাচ্ছিলাম, ‘তাহলে, এখানে এভাবে মৃত্যুই কি আমাদের ভবিতব্য?’ ঠিক সেই সময় হান্স হঠাৎ বলল, “আরে ওই দেখুন কি একটা প্রাণী !’

    হান্সের দৃষ্টি অনুসরণ করে আমি আর নামচি তাকিয়ে দেখলাম, আমাদের বেশ কিছুটা দূরে বরফের সঙ্গে প্রায় মিশে দাঁড়িয়ে আছে সাদারঙের এক চতুষ্পদ জন্তু। তুষার ঝড়ের জন্য তাকে ঠিকমতো চেনা না গেলেও মনে হচ্ছে সেটা কুকুরজাতীয় কোনো প্রাণী হবে। দূর থেকে সে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে।

    তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে নামচি আমাদের বলল, ‘প্রাণীটাকে অনুসরণ করতে হবে আমাদের। নিশ্চয়ই কাছাকাছি কোনো গর্তে বা পাহাড়ের ফাটলে ওর আস্তানা। ওর পিছু পিছু গিয়ে সেরকম কোনো আস্তানাতে মাথা গুঁজে তুষারপাতের হাত থেকে রাতে যদি নিজেদের বাঁচাতে পারি তবে শেষ পর্যন্ত আমরা হয়তো বেঁচে যাব।’ এই বলে সে আইস অ্যাক্সটা তুলে নিয়ে যেদিকে প্রাণীটা সেদিকে এগোল। প্রাণীটাও চলতে শুরু করল সঙ্গে সঙ্গে। আমরাও এগোলাম।

    প্রাণীটা ধীর গতিতে চলছে। মাঝে মাঝে থামছে। পিছনে তাকাচ্ছে। আবার চলছে। তুষার পাতের মধ্যে দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে আমরাও তাকে অনুসরণ করছি। কোনদিকে চলছি আমাদের কোনো ধারণা নেই। বরফের ঢাল বেয়ে এক সময় ওপরে উঠতে শুরু করল প্রাণীটা। আমরাও তাই করলাম, বেশ উঁচু ঢাল। পা ফসকালেই কয়েক হাজার ফুট নীচে গড়িয়ে পড়তে হবে। অতি সাবধানে আমরা উঠতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ ধরে ওপরে ওঠার পর আমরা যখন ঢালের মাথায় প্রায় পৌঁছে গেছি, ঠিক তখনই কোথায় যেন হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল প্রাণীটা।

    দাঁড়িয়ে পড়লাম আমরা। হান্স প্রায় আর্তনাদের স্বরে বলে উঠল, ‘যাঃ, এবার কী হবে?’

    নামচি বলল, ‘পিছনে ফিরে তো লাভ নেই। ঢালের মাথায় ওঠা যাক। তারপর কপালে যা আছে হবে।’

    তার কথা শুনে অবসন্ন শরীরগুলো নিয়ে কোনোরকমে ওপর দিকে এগোতে থাকলাম আমরা। যা হোক কোনোরকমে এক সময় ওপরে আমরা উঠে এলাম। ওপরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তুষারপাত হঠাৎ যেন বন্ধ হয়ে গেল। আর তারপরই সামনে তাকিয়ে আমরা যা দেখলাম তাতে আনন্দে কিছুক্ষণের জন্য কথা হারিয়ে ফেললাম আমরা। তিনদিকে পাহাড়ের ঢালের মধ্যে বরফাবৃত চত্বরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে ভগ্নপ্রায় এক প্রাচীন মনাস্ট্রি। তার ঢালু ছাদ বরফে ঢেকে গেছে। চারপাশে শুধু বরফ আর বরফ। সম্ভবত এটাই সেই মিগুছোগল গুম্ফা। যার খোঁজে মৃত্যুমুখে পতিত হতে চলেছিলাম আমরা! সেই প্রাণীটাকেও আবার দেখতে পেলাম। মঠের তোরণের সামনে দাঁড়িয়েছিল সে, তারপর ভিতরে অদৃশ্য হয়ে গেল। সম্ভবত মঠের পোষা কুকুর হবে। ওই তাহলে আমাদের পথ দেখিয়ে এখানে এনেছে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমরা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরার পর এগোলাম মনাস্ট্রির দিকে।

    মনাস্ট্রির সামনে ছোট্ট চত্বরটায় দাঁড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটা চোর্তেন বা ধর্মীয় স্তম্ভ। সেগুলোও চত্বরের মতোই বরফে মোড়া। কাছে গিয়ে বুঝতে পারলাম মনাস্ট্রিটা যত প্রাচীন মনে হয়েছিল আসলে তা তার চেয়ে প্রাচীন। স্থানে স্থানে পাথর-কাঠ খসে পড়েছে। বিবর্ণ হয়ে গেছে মন্দির গাত্রের অলংকরণ। মনাস্ট্রি প্রবেশদ্বারের দু-পাশে পাথুরে খিলানে খোদিত আছে নৃ-মুণ্ডমালা শোভিত বিকট দর্শন মূর্তি। তাদের দেহের নানা স্থানও খসে পড়েছে। তবে তার জন্য সম্ভবত ওই বিকট মূর্তি দুটোর বীভৎসতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গুম্ফার মাথায় বাতাসে উড়ছে বিবর্ণ হয়ে যাওয়া শতচ্ছিন্ন এক ধর্মীয় পতাকা বা লুংদার।

    আমরা চত্বর পেরিয়ে মনাস্ট্রির সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তার ভিতর থেকে বেরিয়ে এলেন মুণ্ডিত মস্তক, ন্যুব্জ, অতিবৃদ্ধ মানুষ। পরনে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মতো লাল চাদর আর সারং। অসংখ্য বলিরেখা আঁকা তার মুখে। আর তার পিছন পিছন বেরিয়ে এলেন আরও দুজন, তাঁরাও মুণ্ডিত মস্তক, বয়ঃবৃদ্ধ। তবে তাদের পরনে সাদা পোশাক। তাঁদের দৃষ্টি দেখে আমরা একটা জিনিস বুঝতে পারলাম যে তাঁরা তিনজনই অন্ধ।

    আমাদের উপস্থিতি অনুভব করলেন তাঁরা। মুহূর্তখানেক চুপ করে থাকার পর প্রথমে আগত লামা আমাদের উদ্দেশে বললেন, ‘এই প্রাচীন গুম্ফায় মিগুছোগল আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে।’ তিব্বতি ভাষায় তিনি কথা বললেও, পেশা গত কারণে ভাষাটা আমাদের জানা। তাই তাঁর কথা বুঝতে পারলাম আমরা। বুঝতে পারলাম তিনিই লামা মিগুছোগল।

    এরপর আমরা আমাদের পরিচয় দিয়ে যখন আমাদের আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছি তখন তিনি আমাদের অবাক করে দিয়ে বললেন, ‘আমি জানি আপনারা এসেছেন ব্রহ্মপুঁথির জন্য। হ্যাঁ ও পুঁথি এ-মঠেই রক্ষিত আছে। আপনারা দেখতে পাবেন সে পুঁথি। ভিতরে আসুন।’

    শুনেছি অনেক তিব্বতিলামা নাকি দৈব ক্ষমতা সম্পন্ন হন। মিগুছোগল হয়তো সেই ক্ষমতার অধিকারী।

    মিগুছোগল আমাদের নিয়ে মঠের ভিতর প্রবেশ করলেন। অতি প্রাচীন মঠ। বহুবিধ প্রাচীন শিল্পবস্তু ছড়িয়ে আছে ভিতরে। প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি, বিভিন্ন চিত্রকলা, সোনা রুপোর কাজকরা সিল্কের থাংকা, জপযন্ত্র আরও কত কিছু! একটা ঘরে এনে তোলা হল আমাদের। মিগুছোগল বললেন, ‘এই আপনাদের রাত্রিবাসের জায়গা। খাওয়া সেরে বিশ্রাম নিন। তারপর সে পুঁথি দেখতে পাবেন আপনারা।’ এই বলে মিগুছোগল অন্তর্হিত হলেন। ঘরে রয়েছে কাঠের তৈরি কিছু আসবাব। আর রয়েছে একটা চর্বির তেলের প্রদীপ। সে আলো ছড়াচ্ছে ঘরে।

    কিছুক্ষণ পরে মিগুছোগলের সঙ্গী সাদা পোশাক পরা লামা দুজন ঘরে খাবার দিয়ে গেল। খাবার দেবার সময় লক্ষ করলাম, লামা দুজনের হাতে বিরাট বিরাট বাঁকানো নখ। সম্ভবত বহু যুগ নখ কাটেননি তাঁরা। মাখনের মণ্ড দেওয়া দইয়ের মতো খাবার বেশ তৃপ্তি করে খেলাম। দেহে বল এল, খাওয়ার পর জানলায় দাঁড়িয়ে নামচি আমাদের বলল, ‘সাহেব কি অদ্ভুত ব্যাপার দেখুন, চারপাশের পাহাড়ে তুষার ঝড় হচ্ছে, কিন্তু মঠের চত্বরে কোনো ঝড় নেই!’

    জানলার কাছে গিয়ে আমরাও দেখলাম ব্যাপারটা। সত্যি বড় অদ্ভুত ব্যাপার! যেন কোন জাদুমন্ত্রে ঝড় প্রবেশ করতে পারছে না মঠ চত্বরে। কেউ যেন মঠের চারপাশে অদৃশ্য দেওয়াল তুলে ঝড়ের গতি রুদ্ধ করে দিয়েছে! এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইরে ঝুপ করে অন্ধকার নামল। তার সঙ্গে সঙ্গে কাচের শার্সির ফাঁক গলে ঘরে প্রবেশ করতে লাগল সুতীক্ষ্ণ ঠান্ডা বাতাস। তার থেকে বাঁচার জন্য আমরা তাড়াতাড়ি জানলা বন্ধ করে দিলাম। তারপর প্রদীপের আলোতে লামা মিগুছোগলের প্রতীক্ষা করতে লাগলাম।

    বেশ কিছুক্ষণ পর মিগুছোগল ঘরে প্রবেশ করলেন। তাঁর হাতে স্বযত্নে ধরা রেশম কাপড়ে মোড়া একটা জিনিস। সেটা যে একটা পুঁথি তা তার আকার দেখেই বোঝা যাচ্ছে। ব্রহ্ম পুঁথি! লামার হাতে ওটা দেখেই রোমাঞ্চ অনুভব করলাম। ওর টানেই তো মৃত্যুর হাতছানি উপেক্ষা করে এত দূরে ছুটে এসেছি।

    লামা পুঁথিটা যত্ন করে টেবিলে নামিয়ে রেখে আমাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আপনাদের দেখার জন্য পুঁথিটা রেখে যাচ্ছি। এ বড় অমূল্য সম্পদ। তবে আপনারা এখানে আসতে দেরি করে ফেলেছেন। মাত্র একদিন আপনারা এ পুঁথি দেখার সুযোগ পাবেন। বহু যুগ আমরা এ মঠে কাটিয়েছি। মাত্র কালকের দিনটা, তারপরই আমরা এ মঠ চিরদিনের মতো পরিত্যাগ করে চলে যাব হিমালয়ের আরও গভীরে। আরও কঠিনতম তপস্যার জন্য। যে স্থান সাধারণ মানুষের পক্ষে অগম্য।’

    তাঁর কথা শুনে আমি জানতে চাইলাম, ‘আচ্ছা, এ পুঁথিতে সত্যিই এমন কিছু কি লেখা আছে যা সাধারণ মানুষের অজানা ?’

    মিগুছোগল বললেন, ‘হ্যাঁ। এ পুঁথির প্রথম অংশে বিবৃত আছে ব্রহ্মজ্ঞান, প্রকৃতিকে জাগিয়ে  তোলার তত্ত্ব। তবে তা বোঝার জন্য বিশেষ জ্ঞান ও অনুশীলনের প্রয়োজন। আর দ্বিতীয় তাংশে আছে বিভিন্ন ওষধির কথা। দ্বিতীয় অংশটা হয়তো আপনাদের কাজে লাগতে পারে।’

    হান্স শুনে বলল, “কিছু মনে করবেন না, আপনাকে একটা কথা বলি, এ পুঁথি আপনারা সাধারণ লোকচক্ষুর অন্তরালে রেখেছেন কেন? আপনাদের কথা যদি ঠিক হয় তবে এ পুঁথি থেকে তো মানুষের প্রভূত উপকারের সম্ভাবনা আছে।’

    হান্সের বক্তব্য শুনে বৃদ্ধ লামা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, ‘হ্যাঁ, আপনার কথা হয়তো সত্যি, কিন্তু প্রকৃতিকে জাগিয়ে তোলার যে অসীম ক্ষমতা এ পুঁথির আছে, তা ধ্বংসের কাজেও ব্যবহার করা যায়। তাই লোকচক্ষুর অন্তরালে এ পুঁথি স্বযত্নে রক্ষা করেছি আমরা। বলা যেতে পারে, আপনারাই বাইরের পৃথিবীর প্রথম মানুষ যারা এই পুঁথি দেখার সৌভাগ্য অর্জন করবেন। এত কষ্ট করে আপনারা এসেছেন তাই আর আপনাদের ফেরালাম না। এরপর কোনো মানুষ আর এ পুঁথির হদিশ পাবে না।’ আর কোনো কথা বললেন না লামা, পুঁথি রেখে ঘর ছেড়ে ধীর পায়ে বেরিয়ে গেলেন।

    মিগুছোগল ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়তেই সাগ্রহে আলোতে পুঁথি নিয়ে টেবিলে বসে পড়লাম আমরা। রেশমের আবরণ উন্মোচন করতেই বেরিয়ে পড়ল তুলোট কাগজে লেখা সেই পুঁথি। থরেথরে সাজানো বেশ কয়েক হাজার পৃষ্ঠা। একটা অদ্ভুত প্রাচীন গন্ধ ছড়াচ্ছে তার থেকে। অতি যত্নে পৃষ্ঠাগুলো ঘাঁটতে শুরু করলাম। সময় এগিয়ে চলতে লাগল। কালো কালির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হরফ। ভাষাটা আমরা পাঠ করতে পারছি ঠিকই, তবে কিছুতেই তার মর্ম উদ্ধার করতে পারছি না। ঘণ্টা পাঁচেকের ব্যর্থ চেষ্টার পর পুঁথির প্রথম অংশের কিছুই বুঝতে না পেরে একসময় অধৈর্য হয়ে টেবিল ছেড়ে উঠে এগিয়ে গেলাম জানলার কাছে। প্রদীপের চর্বি পুড়ে একটা ধোঁয়া আর কটু গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে ঘরের মধ্যে। জানলাটা খুললে যদি বাইরের বাতাসে ঘরের বদ্ধ বাতাসটা কেটে গিয়ে মনটা একটু চনমনে হয় সে জন্য। জানলা খুললাম আমি। হান্স আর নামচিও সম্ভবত এক ঝলক তাজা বাতাস নেবার জন্য আমার কাছে এসে দাঁড়াল। জানালা খুলতেই প্রথমে আমাদের চোখে পড়ল জ্যোৎস্না আলোকিত বরফাবৃত পাহাড়শ্রেণির অপূর্ব দৃশ্য। মেঘমুক্ত আকাশে রুপালি চাঁদের আলোতে বহু দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। আর এরপরই আমরা দেখতে পেলাম এক অদ্ভুত দৃশ্য। আমাদের জানলার কিছু দূরে মঠের সামনের চত্বরে বরফ ঢাকা একটা স্তম্ভের নীচে বসে আছেন মিগুছোগল। সম্ভবত তিনি ধ্যানস্থ। আর তার দু-পাশে পাথরে মূর্তির মতো বরফের ওপর বসে আছে বিরাট শ্বেতকায় দুটো কুকুর! চাঁদের আলোতে ধবধব করছে তাদের শরীর। যেন জ্যোৎস্না চুঁইয়ে পড়ছে তাদের দেহ থেকে। বেশ কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাদের দেখার পর হান্স বলল, ‘কুকুর দুটোকে দেখেছ, কী বিশাল আর সুন্দর দেখতে!’

    আমি তার কথায় সহমত প্রকাশ করার আগেই নামচি বলল, ‘সাহেব ওগুলো কিন্তু কুকুর নয়,হওগুলো তুষার নেকড়ে! খুব হিংস্র প্রাণী। আমি ভুল বলছি না। ও প্রাণী আমি আগে দেখেছি।’ তার কথা শুনে চমকে উঠলাম আমরা। তার মানে কি মিগুছোগল এমন কোনো জ্ঞানের অধিকারী যার দ্বারা হিংস্র প্রাণীকে বশ মানানো যায়? আর এ জ্ঞানের আধার কি এই ব্রহ্ম পুঁথি? ব্যাপারটা চিন্তা করতে লাগলাম। কিন্তু বেশিক্ষণ এরপর আমরা জানলার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। ঘরে আবার ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে শুরু করেছে। জানলা বন্ধ করে আমরা আবার ফিরে এসে বসলাম আগের জায়গাতে।

    এবার আমরা দেখতে শুরু করলাম পুঁথির দ্বিতীয় অংশ। দেখলাম এ অংশ আমরা বেশ বুঝতে পারছি। বিভিন্ন ভেষজ ওষধির কথা বিবৃত এ অংশে। কোন রোগে কি গাছগাছড়া প্রয়োজন ও তাদের উৎস সন্ধানও বিবৃত আছে পাতার পর পাতায়। বেশ কিছু মারণ রোগের প্রতিষেধক, বিজ্ঞান যা এখনও আবিষ্কার করতে পারেনি তার খোঁজও দেওয়া আছে পুঁথিতে। কৌতূহলের সঙ্গে আমরা এক একটা পাতা উলটাতে লাগলাম আর বিস্মিত হতে থাকলাম। সারা রাত যে কীভাবে কেটে গেল আমাদের তা বুঝতেই পারলাম না। এক সময় দেখি হাতঘড়িতে ভোর পাঁচটা বাজে। অথচ পুঁথির সিকি ভাগ পাতাও পাঠ করতে পারিনি আমরা। আমি তাই হান্সকে বললাম, ‘এ পুঁথির বেশির ভাগটাই অপাঠ্য থেকে যাবে আমাদের কাছে। হাতে তো মাত্র একটা দিন। নোটটোট নেওয়া কিছুই করা যাবে না ৷’

    হান্স পুঁথির থেকে চোখ সরিয়ে কী যেন ভাবছিল, আমার কথা শুনে হঠাৎ সে বলে উঠল, ‘সব করা যাবে। কিছুতেই এ পুঁথি আর হাতছাড়া করব না আমি।’

    আমি বললাম, ‘মানে?’

    সে এবার একটু ইতস্তত করে আমাকে চমকে দিয়ে বলল, ‘আমি ঠিক করেছি, এ পুঁথি নিয়ে আমরা চলে যাব। মাত্র তিনজন লোক। তা-ও আবার অন্ধ বৃদ্ধ। আমাদের বাধা দেবার কেউ নেই। বাইরে আলো ফুটলেই এ কাজ করার চেষ্টা করব।’

    আমি উত্তেজিত হয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘তার মানে আমরা লামাদের অসহায়তার, সরলতার সুযোগ নিয়ে চুরি করব? না, এ হতে পারে না। এ পুঁথি মঠের সম্পত্তি। এটা নিয়ে ওরা যা করে করুক।’

    নামচিও আমার কথা সমর্থন করে বলল, ‘সাহেব ঠিকই বলেছেন। তা ছাড়া এ কাজে পাপ হবে।’

    হান্স বলল, ‘না, এ পুঁথি নিয়ে যা খুশি করতে দেওয়া যায় না। হয়তো ওরা এ অমূল্য পুঁথিকে ধ্বংস করে ফেলবে। বহু অমূল্য গাছগাছড়ার সন্ধান আছে এতে যা চিকিৎসাশাস্ত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। আর এ পুঁথির মূল্য কত হতে পারে ধারণা আছে? বিলিয়ন ডলার! ওই টাকা পেলে আমরা আরও ভালো গবেষণা করতে পারব। নামচিকেও আর পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে হবে না। পায়ের ওপর পা তুলে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারবে।’

    তার এই কথা শোনার পর নামচিরও মুহূর্তের মধ্যে যেন মত পরিবর্তন ঘটে গেল। সে বলল, ‘তেমন হলে আমি রাজি আছি।’

    আমি তবুও প্রতিবাদ করে বললাম, ‘না আমি তবুও রাজি নই। আমি সঙ্গে পুঁথি নিয়ে যেতে দেব না, আমরা চোরের দল নই।’

    হান্সও এবার উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘তাহলে আপনি এই বরফের রাজ্যে পচে মরুন। অথবা ওই লামাদের সঙ্গে হিমালয়ে পাড়ি দিন। আপনি তো দেখছি চোখ থাকতেও লামাদের মতোই অন্ধ! এ পুঁথি আমি নিয়ে যাবই।’ বেশ রূঢ় শোনাল তার কণ্ঠস্বর।

    তার কথা শুনে আমি যেন কী বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু তার আগেই টেবিলটা কীসের ধাক্কায় যেন নড়ে উঠল। তারপর আমাদের চমকে দিয়ে টেবিলের নীচ থেকে বেরিয়ে এল বিরাট বড় একটা প্রাণী। মিগুছোগলের সঙ্গে যাদের দেখেছিলাম, ঠিক সেরকম একটা তুষার নেকড়ে।

    টেবিলের পাশ থেকে ছিটকে সরে এসে আতঙ্কে পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে পড়লাম। কিন্তু প্রাণীটা আমাদের আক্রমণ করল না। আমাদের দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে ধীরে ধীরে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল। প্রাণীটা চলে যাবার পর হান্স প্রথমে বলল, ‘প্রাণীটা হঠাৎ দেখা দিয়ে বেশ চমকে দিল। সম্ভবত যখন আমরা পুঁথিতে মগ্ন ছিলাম, তখন খোলা দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে ও টেবিলের নীচে আশ্রয় নিয়েছিল। আমরা খেয়াল করিনি। বাইরে দিনের আলো ফুটবে বলে চলে গেল।’  এ কথা বলার পর সে আমার উদ্দেশে বলল, ‘আপনি কী করবেন সিদ্ধান্ত নিন। আমি নামচিকে নিয়ে বাইরেটা একবার দেখে আসি।’ কথাগুলো বলে নামচিকে নিয়ে ঘর থেকে হান্স বেরিয়ে গেল।

    আমি খোলা পুঁথির সামনে বসে ভাবতে লাগলাম, ‘কী করব?’ ওদের সঙ্গে পুঁথি নিয়ে যেতে মন সায় দিচ্ছে না। আবার ওরা চলে গেলে এই বরফের রাজ্য থেকে আমি ফিরব কী ভাবে?

    আধ ঘণ্টা পর তারা আবার ঘরে ফিরে এল। উৎফুল্ল হান্স বলল, ‘বাইরে আলো ফুটেছে। তুষারপাতও আর হচ্ছে না। আমাদের বেসক্যাম্পে নামার অন্য একটা পথও দেখতে পেয়েছি। আমরা দ্রুত নেমে যাব। রাত্রি জাগরণের পর মিগুছোগল আর তার সঙ্গীরা মনে হয় ঘুমোচ্ছেন, কোথাও তাদের সাড়া পেলাম না। নেকড়ে দুটোও মনে হয় চলে গেছে। এই সুযোগ…।’ এ কথা বলে হান্স পুঁথিটাকে টেবিল থেকে তুলে নিয়ে এগোল দরজার দিকে। তার সঙ্গে সঙ্গে নামচি।

    আমি তাদের শেষ বারের জন্য নিরস্ত্র করার চেষ্টায় বলে উঠলাম, ‘ভেবে দেখুন, কাজটা কি ঠিক হচ্ছে?’ আমার কথার জবাবে ঘর ছেড়ে বেরোতে বেরোতে হান্স বলল, ‘আপনার ইচ্ছা হলে আমাদের সঙ্গে আসুন নইলে ঘরেই থাকুন। আর ফিরতে পারবেন না আপনি।’ হান্সের শেষ কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই কেমন আতঙ্ক সৃষ্টি হল আমার মনে। অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধেই তাদের অনুসরণ করলাম আমি।

    মনাস্ট্রি ছেড়ে আমরা পা রাখলাম বরফাবৃত চত্বরে। সূর্যোদয় হয়েছে। তুষারপাত বন্ধ ভোরের আলোতে ঝলমল করছে চত্বরকে ঘিরে রাখা তুষার আবৃত পাহাড়শ্রেণি। বেশ শান্ত পরিবেশ। চারপাশে কেউ নেই। আমার কিছুটা আগে পুঁথি নিয়ে হান্স আর নামচি, তাদের কয়েকপা পিছনে আমি। নিঃশব্দে আমরা চত্বরটা পার হচ্ছি। আমরা যখন চত্বরের ঠিক মাঝামাঝি পৌঁছে গেছি ঠিক তখনই আমাদের কানে এল একটা গলা! আপনারা কি পুঁথিটা নিয়ে চলে যাচ্ছেন?’

    কণ্ঠস্বর শুনে চমকে পিছনে ফিরে দেখি মনাস্ট্রির দরজার বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন মিগুছোগল। তার দু-পাশে তাঁর সঙ্গী দুই লামা।

    থমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমরা। প্রশ্নকর্তাকে বেশ শান্তই মনে হল, তবে তাঁর ঠোঁটের কোণে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠেছে।

    হান্স, একটু ইতস্তত করে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ, যাচ্ছি।’

    মিগুছোগল শুনে শান্ত ভাবেই বলল, ‘আমরা অন্ধ, অশক্ত বৃদ্ধ। আপনারা পুঁথিটা নিয়ে যেতে চাইলে আপনাদের বাধা দেবার ক্ষমতা নেই। তবে যাবার আগে একটা অনুরোধ আছে। অন্ধ হয়ে যাবার পর দীর্ঘ দিন ও পুঁথি পাঠে বঞ্চিত আমি। আমার সহকারীদেরও ক্ষমতা নেই। আপনি পুঁথির প্রথমাংশের অর্থ নির্ণয় করতে না পারলেও পাঠে নিশ্চয়ই সক্ষম। আমার অনুরোধ, আপনারা চলে যাবার আগে যদি ও পুঁথির কিছু অংশ পাঠ করে আমাকে শোনান।

    মিগুছোগলের অনুরোধ শুনে চুপ করে কী সিদ্ধান্ত নেবে তা সম্ভবত ভাবতে লাগল হাল। তাকে চুপ করে থাকতে দেখে মিগুছোগল এরপর বললেন, ‘এতে আপনার উপকার হবে। আমার সাহায্য ছাড়া ব্রহ্মপুঁথির গূঢ় তত্ত্বের অর্থ উদ্ধার করতে পারবেন না আপনি। আপনাকে আমি অর্থ বুঝিয়ে দেব। নিন পুঁথিটা খুলুন। প্রথম অংশের অষ্টাদশ পৃষ্ঠা থেকে পাঠ শুরু করুন। বেশ শান্ত সমাহিত স্বরে অতিবৃদ্ধ লামা কথাগুলো বললেও আমার মনে হল তার মধ্যে কোথার যেন একটা প্রচ্ছন্ন নির্দেশ আছে। কানের মধ্যে মিগুছোগলের কথাগুলো কেমন যেন অনুরণন সৃষ্টি করছে।

    দেখলাম কয়েক মুহূর্ত মিগুছোগলের দিকে তাকিয়ে থাকার পর হান্স পুঁথিটা খুলে ফেলল, তারপর সম্ভবত অষ্টাদশ পৃষ্ঠা খুঁজে নিয়ে পাঠ করতে শুরু করল। ঠিক সেই সময় আবার কোথা থেকে যেন মৃদু তুষার পাত শুরু হল। ধীরে ধীরে পাঠ করছে হান্স। মিগুছোগল এক সময় বলে উঠলেন, ‘আরও জোরে, আরও জোরে পাঠ করুন। আপনার পাঠ আমি ঠিক মতো শুনতে পাচ্ছি না। দেখলাম তাঁর নির্দেশ মেনে উচ্চস্বরে পাঠ করতে শুরু করল হান্স। তুষারপাত মুহূর্তে মুহূর্তে যেন বেড়ে চলেছে, আর তার সঙ্গে যেন বাতাসও বাড়ছে। আমাদের দেহের ওপর পেঁজা তুলোর মতো বরফ জমছে। আর তার মধ্যে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে পুঁথি পাঠ করে চলেছে হান্স আর আলোও যেন চারপাশে কমতে শুরু করেছে হঠাৎ।

    আমার কেন যেন এবার ভয় ভয় লাগল। আমার এরপর হঠাৎ চোখ পড়ল মনাস্ট্রির চারপাশে ঘিরে থাকা পাহাড়গুলোর দিকে পাহাড়গুলো যেন কাঁপছে। একটা গুড়গুড় শব্দ আর প্রচণ্ড বাতাস এগিয়ে আসছে সেদিক থেকে। আকাশ ছেয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। হঠাৎ আমার মনে হল, হান্সের পুঁথি পাঠ সত্যি সত্যিই প্রকৃতিকে জাগিয়ে তুলছে। ব্রহ্মপুঁথির গূঢ় অর্থ কি শব্দ ব্রহ্মা? তাই কি মিগুছোগল উচ্চস্বরে পুঁথি পাঠ করতে বললেন? হান্সের কোনো কিছুই খেয়াল নেই। সে যেন সম্মোহিতের মতো আরও উঁচু থেকে উঁচু গলায় পাঠ করে চলেছে। তার কাছে নামচি সে-ও যেন বাহ্যজ্ঞানহীন পাথরের মূর্তি। না হান্সকে থামাতেই হবে। আমি চিৎকার করে থামাতে গেলাম কিন্তু বাতাসের ঝাপটা আমার গলার শব্দ মুছে দিল। একটা প্রচণ্ড ঝড় হঠাৎ এরপর হান্সের হাত থেকে পুঁথিটাকে ছিটকে দিল। রাশি রাশি পুঁথির পাতা উড়তে লাগল প্রবল বাতাসে। স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে হান্স। আর এরপরই ঝড়ের মধ্যে অট্টহাসির শব্দ শোনা গেল। তাকিয়ে দেখি নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে অট্টহাস্য করছেন লামা মিগুছোগল। আর তার দু-পাশে সেই লামাদের জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছে বিরাট দুটো তুষার নেকড়ে! লাল জিভ আর হিংস্র সাদা দাঁত বার করে তারাও যেন হাসছে। আশেপাশের স্তম্ভগুলোর বরফ খসে পড়ে পড়ে তার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে বীভৎস সব মূর্তি। কান ফাটানো ঝড়ের শব্দ। দেখলাম আশেপাশের পাহাড় থেকে লক্ষ লক্ষ টন বরফের চাঁই নীচে মনাস্ট্রি চত্বরের দিকে ঝড়ের গতিতে নেমে আসছে আমাদের পিষে ফেলার জন্য! আর তার মধ্যে শোনা যাচ্ছে লামা মিগুছোগলের রক্ত জল করা হাসি। ঝড়ের ধাক্কায় ছিটকে পড়লাম আমি। মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকার নেমে এল চোখে। জ্ঞান হারাবার আগে শুধু শুনতে পেলাম মিগুছোগলের হাসির অনুরণন।

    একদিন পর আমাদের বেস ক্যাম্পের কাছে মৃতপ্রায় অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের লোকেরা। তুষার ঝড়ে ওপর থেকে এত নীচে গড়িয়ে পড়ে কীভাবে বাঁচলাম তা জানি না। একদিন পর একটা বড় দল আবার ওপরে উঠল হান্সের খোঁজে। কিন্তু তখন সেখানে হান্স, নামচি বা মিগুছোগল গুম্ফার কোনো চিহ্নই নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতবু অনন্ত জাগে – ইন্দ্রনীল সান্যাল
    Next Article কলকাতা নুয়া – রাজর্ষি দাশ ভৌমিক

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৩ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    July 25, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }