Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গোরা – শৈবাল মিত্ৰ

    শৈবাল মিত্ৰ এক পাতা গল্প1220 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গোরা – ২২

    ২২

    ভোরের আলো ফোটার আগে ঘুম থেকে গদাধরকে জাগিয়ে গোরা জানাল, তাকে এখনই একবার গঙ্গার ঘাটে যেতে হবে। গদাধর ঘুমচোখে তাকিয়ে গোরাকে শিশুর মতো ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসে কী ঘটেছে, বোঝার চেষ্টা করল। গোরা কিছু না বলে এক টুকরো কাপড় জড়ানো লম্বাটে পুঁথির মতো কিছু নিয়ে ঘরের দরজা খুলে বাইরে পা দিতে গদাধর বিছানা ছেড়ে লাফিয়ে নেমে, গোরার পাশে এসে দাঁড়াল। শ্রীহট্ট থেকে লুঙির মতো ফেত্তা দিয়ে ধুতি পরতে শিখে এসেছিল গোরা। কোমরে ধুতি জড়ানোর হেরফেরে গোড়ায় হাঁটাচলাতে তার অসুবিধে হলেও ক্রমশ এই রদবদল সে রপ্ত করে ফেলেছিল। ব্রাহ্মণপাড়াতে তার এই যাবনী পোশাক নিন্দিত হলেও তাকে অনুকরণ করার মতো ছেলেছোকরা নবদ্বীপে কম ছিল না। তাদের একজন গদাধর। সে-ও ধুতি ফেত্তা মেরে লুঙির মতো করে পরতে থাকল।

    ধর্মশালার বাইরে মেঠো পথ ধরে কাপড়ে জড়ানো মোড়ক হাতে গোরা হনহন করে হেঁটে চলেছে। তাকে ধাওয়া করল গদাধর। পুব আকাশে সবিতৃদেবের লোহিত শরীর শ্লথ গতিতে জেগে উঠলেও ধর্মশালায় এখনও কারও ঘুম ভাঙেনি। আড়াইশ’ ক্রোশ পথ হেঁটে গয়া পৌঁছনোর ধকলে, দু’দিন আগে রাজগৃহ ছেড়ে দলের যারা এসে গেছে, তারাও মড়ার মতো ঘুমোচ্ছে।

    ঝড়ের গতিতে গঙ্গার ধারে পৌঁছে, সেখানে স্নানের ঘাটে নেমে, সাত ডুবের মধ্যে হাতের মোড়ক স্রোতের জলে ভাসিয়ে দিয়ে দু’দণ্ডের মধ্যে গোরা যখন ধর্মশালায় ফিরল, সেখানে তখন তার খোঁজ শুরু হয়ে গেছে। তাকে ঘরে না দেখে নবদ্বীপের তীর্থযাত্রীরা রীতিমতো হৈচৈ জুড়ে দিয়েছে। সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে চন্দ্রশেখর আচার্য জেগে উঠে কৃষ্ণনাম জপ করে গোরার ঘরে উঁকি দিয়ে তাকে না দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। কোথায় গেল গোরা? গদাধর-ই বা কোথায়? চন্দ্রশেখর ঘরে ঘরে গিয়ে গোরার তল্লাশি চালাতে যারা ঘুম থেকে উঠে পড়েছিল, আর যারা তখনও ঘুমোচ্ছিল, তারা জেগে উঠে কোলাহল শুরু করে দিল। চন্দ্রশেখরের সঙ্গে তারা যখন গোরাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেছে, গঙ্গায় স্নান সেরে পিণ্ডদান অনুষ্ঠানের জন্যে কেনা নতুন পাটভাঙা ধুতি, চাদরে শরীর ঢেকে ধর্মশালায় ফিরল গোরা। তার পাশে গদাধর। গদাধরের মুখে ঈষৎ সঙ্কোচ মিশে থাকলেও গোরাকে বেশ খাপছাড়া দেখাচ্ছিল। তার থমথমে মুখ, লালচে চোখ দেখে চন্দ্রশেখর ভয় পেয়ে গেলেও নবদ্বীপবাসী উদ্বিগ্ন সাথীরা আনন্দে হৈ হৈ করে উঠল।

    বসন্ত ঋতু শেষ হলেও তখনও গয়ায় বেশ শীত রয়েছে। কাঁথামুড়ি দিয়ে রাতে ঘুমনোর সময়ে চন্দ্রশেখর টের পেয়েছিল, নবদ্বীপের চেয়ে গয়ায় শীত বেশি, প্রলম্বিত হেমন্তের ঠাণ্ডা শরীরের হাড় পর্যন্ত জড়িয়ে ধরছিল। জ্বর থেকে সদ্য ভুগে উঠে, গোরা ভোররাতে গঙ্গায় স্নান করতে যাবে, চন্দ্রশেখর জানত না। আগের রাতে শেষবার দেখা হওয়ার সময়ে তাকে গোরা কিছু বলেনি। তেমনি হয়েছে গদাধর। সব জেনেও ঠোঁট টিপে ছিল। গোরার ঘরে তার সঙ্গে গেল রাতে নিজে না থাকার জন্যে চন্দ্রশেখরের আক্ষেপ হল। ঘরে সে থাকলে ভোররাতে গঙ্গায় গোরার স্নান করতে যাওয়া ঠেকাতে পারত। তার অনুরোধ, উপরোধ গোরা এড়াতে পারত না। চন্দ্রশেখরের যত রাগ গিয়ে পড়ল মাধব পণ্ডিতের ছেলে গদাধরের ওপর। গঙ্গাস্নানে গোরার সঙ্গী হওয়ার আগে তাকে একবার জানাতে পারত গদাধর। ছোকরা শুধু দায়িত্বজ্ঞনহীন নয়, একেবারে নির্বোধ। গোরার ন্যাওটা শুধু নয়, তার চেয়ে অনেক বেশি। গোরাকে দেখলে সে এলিয়ে পড়ে, তার মুখচোখে ফুটে ওঠে ‘সখি ধরো ধরো’ ভাব।

    নিজের ঘরে গোরা ঢুকে গেছে। তার সঙ্গে ছায়ার মতো ঘরে সেঁধিয়ে গেছে গদাধর প্রাতঃকৃত্য সেরে মুরারি এসে পাশে দাঁড়াতে তাকে চন্দ্রশেখর জানাল, গঙ্গাস্নান থেকে গোরার ফেরার খবর। গোরার মুখ থমথমে লাল, দু’চোখ ছলছল করছে, যে-কোনও মুহূর্তে ধুম জ্বর আসতে পারে, আশঙ্কার করার মতো এই তথ্যগুলো চন্দ্রশেখর তুলে দিল মুরারির কানে। চন্দ্রশেখর যা চেয়েছিল, তাই ঘটল। শশব্যস্ত হল মুরারি। অসুস্থ গোরাকে নিজের চোখে দেখতে তার ঘরে ঢোকার আগে চন্দ্রশেখরকে অভয় দিয়ে আশ্বস্ত করল। গোরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে না পড়লে পিণ্ডদান অনুষ্ঠানের আগে তাকে চাঙ্গা করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিল। গোরার চেয়ে মুরারি বয়সে কিছু বড় হলেও গঙ্গাদাসের টোলে সহপাঠী থাকার সময় থেকে বন্ধুর প্রকৃতি সে হাড়ে হাড়ে জেনে গিয়েছিল। পারিবারিক পেশা, বৈদ্যবৃত্তি শুরু করে অল্পসময়ে নবদ্বীপে পসার জমিয়ে নিয়েছে। গোরাকে পরীক্ষা করে তার শরীরের হালচাল বুঝতে মুরারির অসুবিধে না হলেও গোরার মনের নাগাল পেল না সে। বায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে ছেলেবেলা থেকে কয়েকবার বেহুঁশ হয়ে গেলেও গোরার শরীরে রোগব্যাধির লক্ষণ নেই। সম্পূর্ণ সুস্থ সে। অথচ কথা বলতে গিয়ে কান্নায় কেন বুজে যাচ্ছে তার গলা, মুরারির বোধগম্য হল না। পটের ছবির মতো গোরার গভীর দু’চোখে জল টলটল করছে। রাতারাতি সে অন্য মানুষ হয়ে গেছে। গোরার মনের খবর জানতে তাকে দু’-একটা প্রশ্নের খোঁচা মুরারি দিতে শালগাছের পাতায় জমে থাকা জলের মতো ঝরঝর করে ঝরে পড়তে থাকল তার অশ্রুবিন্দু। মুরারি ভ্যাবাচাকা খেল। খাটিয়ায় গোরার পায়ের কাছে বোবার মতো বসে আছে গদাধর। ব্যাপারটা জানতে তার দিকে তাকাল মুরারি। তার দু’চোখে একরাশ জিজ্ঞাসা জড়ো হয়ে থাকলেও সে কোনও প্রশ্ন করল না গদাধরকে। তাকে প্রশ্ন করলেও সে প্রকৃত ঘটনা বলতে পারত না মুরারিকে। গোরার ডাকে ভোররাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখলেও কান্নার কারণ তারও অজানা। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে, তাকে নিয়ে গঙ্গার ঘাটে যাওয়া থেকে গোরা যা যা করেছে, সবটাই তার কাছে হেঁয়ালি। গোরাকে এত আকুল হয়ে সে কখনও কাঁদতে দেখেনি। সত্যি কথা বলতে কি, গোরা কাঁদতে পারে, এ ধারণা তার ছিল না। গোরার আচরণের মাথামুণ্ডু, সেই মুহূর্তে যেমন তার বোধগম্য হচ্ছিল না, তার কাছে যেমন হেঁয়ালি ঠেকেছিল, স্নানের ঘাট থেকে ফিরে তেমনি অগোচরে রয়ে গেছে। মুরারির নিস্তব্ধ দৃষ্টির সামনে বিব্রতবোধ করলেও তাকে বলার মতো গদাধরের কিছু ছিল না। সে যা দেখেছে, সেটুকুই শুধু বলতে পারে। ঘুম থেকে উঠে দু’চোখ কচলে সে দেখেছিল, গোরা অঝোরে কাঁদছে। নিরবচ্ছিন্ন কান্নার মধ্যে, ঝাপসা চোখে থান কাপড়ে জড়ানো মোড়ক আর নতুন ধুতি, চাদর নিয়ে গোরা প্রায় দৌড়ে গঙ্গার ঘাটে পৌঁছে, স্নানার্থীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে জলে নেমে ক্রমাগত ডুব দিয়ে যাচ্ছিল। গোরার মুখে কোনও মন্ত্র নেই, প্রত্যূষের সূর্যবন্দনা নেই, সকালের ভরা জোয়ারে গঙ্গার স্রোতে তার চোখের জল মিশে পারাপারহীন রহস্যে পৌঁছে দিয়েছিল গদাধরকে। গঙ্গায় একগলা জলে নেমে গোরার পাশে দাঁড়িয়ে থেকেও তাকে কোনও প্রশ্ন করতে গদাধর সাহস পাচ্ছিল না। গোরার যাতে কোনও বিপদ না ঘটে, এই ভেবে তাকে শুধু পাহারা দিচ্ছিল। গলা জলে দাঁড়িয়ে গোরা একের পর এক টুপটুপ করে ডুব দিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর মধ্যে গদাধর একসময়ে নজর করল, কাপড়ে জড়ানো মোড়কটা গোরার হাতে নেই। ডুবন্ত অবস্থায় জোয়ারের টানে গোরা সেটা ভাসিয়ে দিয়েছে। কী ছিল মোড়কে? গদাধরের মনে প্রশ্ন জাগলেও সে জানতে চায়নি। রাতে, ঘুমের মধ্যে কোনও দুঃস্বপ্ন দেখে পিণ্ডদানের কিছু উপচার কি গোরা গঙ্গায় বিসর্জন দিল? কী সেই উপচার? বিশ্বরূপের লেখা পুঁথির বৃত্তান্ত গদাধরের জানার কথা নয়। জগন্নাথ মিশ্রের পরিবারের বাইরে তার বড় ছেলের লেখা পুঁথির খবর কেউ জানে না। তরুণ গদাধরের বোধবুদ্ধি কাজ করছিল না। রাতে, পাশাপাশি খাটিয়ায় যে গোরার সঙ্গে সে ঘুমিয়েছে, সকালে সেই মানুষটা যেন একেবারে অন্যরকম হয়ে গেছে। কী এমন ঘটল রাতে সে জানে না। গভীর ঘুমে সে ডুবেছিল। সে ঘুমিয়ে পড়ার আগে পর্যন্ত গোরা জেগে ছিল। খাটিয়ায় গোরার জন্যে বিছানা পেতে সব আয়োজন করে তবে সে শুয়েছে। খাটিয়ায় শরীর এলিয়ে দিয়ে গোরার সঙ্গে কথা বলার মধ্যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল, খেয়াল নেই। তখনও পর্যন্ত গোরা জেগে ছিল। নিজের ঝুলি খুলে জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করছিল। গোরা কখন ঘুমিয়েছে সে জানে না। ঘুমের আগে পর্যন্ত প্রদীপ জ্বলতে দেখে মাথা পর্যন্ত কাঁথামুড়ি দিয়ে চোখ বুজেছিল। ভোররাতে গোরা না ডাকলে তার ঘুম ভাঙত না। গোরা আদৌ রাতে ঘুমিয়েছে কি না, এ নিয়ে এখন তার সন্দেহ জাগল। রাতে না ঘুমোলে কি করছিল গোরা? দিগন্তবিস্তৃত অন্ধকারের মতো গেল রাতটা তার কাছে প্রহেলিকাচ্ছন্ন হয়ে উঠল।

    গোরার কপালে হাত রেখে, তার কব্জি ধরে নাড়ির গতি দেখে, জ্বরের কোনও লক্ষণ না পেয়ে মুরারি নিশ্চিন্ত হলেও অস্বস্তি কাটাতে পারল না। থমথমে গোরার মুখ। সদানন্দময়, উজ্জ্বল সেই মুখ কী কারণে এমন লালাভ হয়ে উঠেছে, মুরারি অনুমান করতে চেষ্টা করল। গোরার পুরনো বায়ুরোগ কি আবার ফিরে এল? বায়ুরোগে আক্রান্ত গোরাকে একাধিকবার সে চিকিৎসা করেছে। তার দেওয়া বিষ্ণুতেল মাথায় মেখে পুরোপুরি রোগ নিরাময় না হলেও গোরা আরাম পেয়েছিল। রোগের ধাক্কায় বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইদানীংকালে ঘটেনি। দুষ্ট বায়ুরোগ নিরাময়হীন, যখন তখন ফিরে আসতে পারে। গোরা কান্নায় ভেঙে পড়লেও বেহুঁশ হওয়ার লক্ষণ তার শরীরে নেই। তার দু’চোখে জল আর বিহ্বলতা একাকার হয়ে থাকলেও তাকে অতিরিক্ত সজাগ মনে হল মুরারির। ভেজা চোখে, রুদ্ধ গলায় স্বগতোক্তির মতো বারবার নিজেকে যে প্রশ্ন গোরা করছিল, তা শুনে মুরারির মনে হল, মৃত বাবার শোকে, প্রয়াত স্ত্রীর জন্যে কাতরতায়, তাদের পিণ্ডদানের আগে গোরা বেসামাল হয়ে পড়েছে।

    আমি কে, এখানে কেন এসেছি, ঘুরেফিরে গোরার এই দুটো প্রশ্ন, মুরারি শুনেও চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল। গোরার প্রশ্নের জবাবে এখন কিছু বলা বাতুলতা। কিছুক্ষণের মধ্যে মনের শোক সরিয়ে রেখে, গোরা শান্ত হয়ে যাবে, অনুমান করে, ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে চন্দ্রশেখরকে বিষ্ণুপাদ মন্দিরে যাওয়ার জন্যে তৈরি হতে বলল মুরারি। বৈদ্য মুরারির কথা শুনে চন্দ্রশেখর হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। গোরা অসুস্থ নয়, দু’জন মৃত মানুষের পিণ্ডদান পর্বের ধকল সামলাতে পারবে, জেনে সে নিশ্চিন্ত হল। নবদ্বীপের পুণ্যার্থীরা সকালের ক্রিয়াকর্ম সেরে তৈরি হওয়ার মধ্যে তাদের নিতে ধর্মশালায় মন্দিরের পাণ্ডা পুরোহিত এসে গেল। পিতৃপুরুষের পিণ্ড দিতে নবদ্বীপ থেকে যত মানুষ এসেছে, তার চেয়ে বেশি এসেছে মুমুক্ষু পুণ্যার্থীরা। সূর্য ওঠার কয়েক দণ্ডের মধ্যে পুরোহিত আর পাণ্ডার সঙ্গে পিণ্ডদানের উপচার, পুজোর নৈবেদ্য নিয়ে ফল্গু নদীর পশ্চিম তীরে কালো পাথরের বিশাল মন্দিরের হাতায় নবদ্বীপের যাত্রীরা পৌঁছে গেল। মন্দিরের মাথায় আটকোণা বিশাল গম্বুজ। গম্বুজের চূড়া রুপোর পাতে মোড়া। মন্দিরের উত্তরে শোণ নদীর ধারে সূর্যমন্দির। আরও দক্ষিণে, আধক্রোশ দূরে বহমান গঙ্গা। সীতার শাপে ফল্গু অন্তঃসলিলা হলেও সামান্য বালি সরালে জলস্রোত বেরিয়ে পড়ে।

    বিষ্ণুপাদ মন্দিরের গর্ভগৃহে পুরোহিতের সঙ্গে চন্দ্রশেখর, মুরারি, মুকুন্দ, মাঝখানে গোরাকে নিয়ে ঢুকল। তাদের পেছনে গদাধর, নবব্দীপের যাত্রীরা। মন্দিরে কোনও মূর্তি নেই। তার বদলে রয়েছে, পুরাকালে গয়াসুর নিধনে, তার বুকে চাপিয়ে দেওয়া যে পাথরে তেত্রিশ কোটি দেবতা জাঁকিয়ে বসলেও গয়-র মৃত্যু না হওয়ায়, গোলোকধাম থেকে ভগবান বিষ্ণু, স্বয়ং এসে দেবতাদের সরিয়ে সেখানে নিজের ডান পা রেখেছিলেন সেই পদচিহ্ন আঁকা জগদ্দল পাথর। পাথরের ওপর চিরকালের জন্যে খোদিত হয়ে গেল বিষ্ণুর পায়ের ছাপ। পাথরে চাপা গয়কে তার মৃত্যুর আগে ভগবান বিষ্ণু বর দিয়েছিল, তাকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ না করে কেউ স্বর্গে যেতে পারবে না। প্রাচীন সেই জনপদ, তখন থেকে গয়া তীর্থক্ষেত্র নামে পরিচিত হতে শুরু করল। গয়াসুরের বুকে চাপানো পাথর হয়ে উঠল রাক্ষসরাজ রাবণের পরিকল্পিত, অথচ অনির্মিত-স্বর্গে যাওয়ার সিঁড়ি। লঙ্কার রাজা রাবণের সিঁড়ির সঙ্গে অসুর বংশের গয়-র বুকে ধৃত পাথরের তফাত হল, লঙ্কাধিপতি যেখানে পৃথিবীর মানুষকে সশরীরে স্বর্গে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল, গয় সেখানে মৃত মানুষের আত্মার স্থায়ী অভিবাসনের পাকা বন্দোবস্ত করেছিল।

    মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢোকার আগে থেকে গোরার দু’চোখ উপচে জল পড়তে শুরু করেছিল। গাল বেয়ে চিবুক, গলা, বুকের ওপর দিয়ে গড়িয়ে কোমরের বস্ত্রাংশ পর্যন্ত ভিজিয়ে দিচ্ছিল। গর্ভগৃহের আবছা অন্ধকারে ভিজে চোখে ঝাপসা দেখছিল সে। অস্থির করছিল তার শরীর।। পুরোহিতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মন্ত্রপাঠে বসার আগে কয়েক পা এগিয়ে পাথরে খোদিত বিষ্ণুর পাদপদ্মে দু’হাতে অর্ঘ্য চড়াতে গিয়ে গোরা বেহুঁশ হয়ে গেল। পেতলের থালায় কলাপাতার ওপরে সাজানো অর্ঘ্য গোরার দু’হাত থেকে শব্দ করে গর্ভগৃহের মেঝেতে পড়ে ছড়িয়ে গেল। পাথরের মেঝেতে কাটা কলাগাছের মতো গোরা আছড়ে পড়ার আগে তাকে দু’হাতে ধরে ফেলল বলিষ্ঠ-শরীর মুরারি।

    অর্ঘ্যের থালা গোরা হাতে তোলার পর থেকে তার শরীরে কাঁপুনি ধরতে দেখে চন্দ্রশেখর অবাক হওয়ার সঙ্গে ভয় পেয়েছিল। বিষ্ণুর পাদপদ্ম পর্যন্ত জগন্নাথ মিশ্রের পিণ্ডের উপচার পৌঁছবে না, এ আশঙ্কা সে করেছিল। গোরার শরীরের কাঁপুনি মুরারিরও নজর এড়ায়নি। দুর্ঘটনার ভয় সে-ও পেয়েছিল। চন্দ্রশেখরের ফ্যাকাসে মুখের দিকে তাকিয়ে তার কথা সরেনি। গোরা নিজেও জেনে গিয়েছিল যে, জগন্নাথ মিশ্রের পিণ্ডদানে সে অনধিকারী, শচীর সন্তান, বিশ্বরূপের সে ছোট ভাই হলেও মিশ্রবংশের কেউ নয়। লক্ষ্মীর সঙ্গে শাস্ত্রীয় নিয়মবিধি মেনে তার বিয়ে হলেও বিশ্বরূপের পুঁথি পড়ে সে জেনে গেছে, সে পরিণয় সিদ্ধ নয়, লক্ষ্মীর স্বামী হওয়ার দাবি সে করতে পারে না। লক্ষ্মীর আত্মার মুক্তি কামনায় তার দেওয়া পিণ্ড যথাস্থানে পৌঁছবে না। গয়াসুরের পবিত্র মন্দিরে ঢুকে মহাপাপ করেছে সে। হিন্দুদের এই পবিত্র তীর্থভূমিতে তার মতো অজ্ঞাতকুলশীলের ঢোকা নিষিদ্ধ। গত রাতে সে জেনেছে, নবদ্বীপে সবাই যে পরিচয়ে তাকে জানে, সেটা তার প্রকৃত পরিচয় নয়। সে বিশ্বম্ভর মিশ্র নয়, নিমাই পণ্ডিত, গৌরাঙ্গ, গোরা নয়, সে নামগোত্রহীন, আকাশ থেকে খসে পড়া সদ্যোজাত এক শিশু। তাকে খুঁজে নিতে হবে নিজের ধর্ম, নিজের কুলশীল, নাম, আত্মপরিচয়। বিশ্বরূপের পুঁথির সঙ্গে গলায় জড়ানো উপবীতটা গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার কথা মনে না থাকার জন্যে তার আক্ষেপ হল। গঙ্গায় উপবীত বিসর্জন দিয়ে এলে তাকে এই পিণ্ড দেওয়ার বিড়ম্বনা পোহাতে হত না। ধর্মশালা থেকে বিষ্ণুপাদ মন্দিরে পা রেখে, অর্ঘ্যের থালা হাতে নেওয়ার মুহূর্ত থেকে তার শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়েছিল। ঘোর অনাচার করছে ভেবে ঘূর্ণিঝড় বইছিল মাথার ভেতরে, ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিল দৃষ্টি, সে টের পেয়েছিল অর্ঘ্যের থালা হাতে বিষ্ণুশিলা স্পর্শ করতে পারবে না, তার আগে অঘটন ঘটবে।

    মুরারির সঙ্গে মুকুন্দ, গদাধর মিলে বেহুঁশ গোরার বিশাল শরীর ধরাধরি করে গর্ভগৃহের বাইরে মন্দিরের চাতালে এনে শুইয়ে দিল। বিষ্ণুর পাদপদ্ম দেখে প্রগাঢ় ভক্তিতে গোরা যে হুঁশ হারিয়েছে, এ নিয়ে তাদের সন্দেহ ছিল না। চন্দ্রশেখরের কানে মুখ রেখে ফিসফিস করে মুরারি বলল, পৃথিবীতে অতি বড় ভক্ত ছাড়া এ দশা কারও হয় না। এ বায়ুরোগ নয়, মৃগী নয়, এ হল ভাবসমাধি, সাত্ত্বিক বৈয়বের লক্ষণ।

    মুরারির ব্যাখ্যা, এক কথায় চন্দ্রশেখর উড়িয়ে দিতে পারল না। বিড়বিড় করে বলল, হ্যাঁ, ভাবসমাধি।

    মুকুন্দরও মনে হল, গোরার মনের ভাবসমুদ্রে জোয়ার এসেছে। তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভক্তির স্রোত। গদাধরকে কথাগুলো মুকুন্দ বলতে সে বিশ্বাস করল। মন্দিরের চাতালে, সুপুরুষ গোরাকে বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে তাকে ঘিরে ভিড় জমতে থাকল। গরদ-বস্ত্র জড়ানো উজ্জ্বল স্বর্ণাভ, লম্বা, মজবুত শরীর, খঙ্গের মতো নাক, ঘন ভ্রু-যুগলের নিচে মুদ্রিত টানা চোখ, শক্ত চিবুক, লালাভ পাতলা ঠোঁট, ঘাড় পর্যন্ত কালো চুল, স্বর্গভ্রষ্ট দেবরাজ ইন্দ্রের মতো অনুপম সুন্দর, জ্ঞানহারা মানুষটাকে কিছু তীর্থযাত্রী দেবতা ভেবে নিল। তাদের মতো হেটো-মেঠো লোকেদের ধারণা দিব্যকান্তি, সুদর্শন সব মানুষ-ই আসলে ছদ্মবেশী দেবতা। তাদের শরীর থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয়। তাদের মতো চোয়াড়ে চেহারার গৌড়িয়ারা কখনও দেবতা হতে পারে না। বেহুঁশ গোরাকে ঘিরে নবদ্বীপের যাত্রীরা নিরাপদ বেষ্টনী করে রেখেছে।

    দিন গড়ানোর সঙ্গে মন্দিরের ভেতরে বাইরে পিণ্ডদানকারীদের ভিড় বাড়ছে। পরিবারের মৃতদের স্বর্গবাসের আয়োজন করতে তারা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। পিণ্ডদানের শাস্ত্রীয়বিধি আর লোকাচার কম নয়। শুরু বিষ্ণুর পাদপদ্মে অর্ঘ্য নিবেদন করে, মন্দির প্রাঙ্গণের শেষপ্রান্তে অক্ষয়বটের তলায় কর্মফল ত্যাগের প্রতীক হিসেবে নিজের প্রিয় ফলটি উৎসর্গ করতে হয়। ইহজীবনে সেই ফল দাঁতে কাটা যাবে না। কর্মফলত্যাগের অনুষ্ঠান শেষ করে পিণ্ডদাতাদের অনেকে অক্ষয় বটের পাশ দিয়ে একহাজার সিঁড়ি ভেঙে ব্রত্নজনি পাহাড়ের চূড়ায় শিবমন্দিরে অর্ঘ্য দিতে যায়। ভোলা মহেশ্বরকে তুষ্ট করে মৃত স্বজনের ইন্দ্রলোকে পৌঁছনোর ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে তাদের এই অর্ঘ্যদানের অনুষ্ঠান।

    গোরা জ্ঞান হারালেও অচেতন মৃগী রোগের শরীরে যত রকম বিকার ঘটে, দাঁতে দাঁত লেগে যায়, খিঁচুনি ধরে শরীরে, দু’কশ বেয়ে গাঁজলা বেরোয়, গোরার শরীরে তেমন কিছু ঘটেনি। মৃগী রোগের কোনও লক্ষণ তার দেহে নেই। তাকে দেখে অচেনা যাত্রীদের দু’-একজন ভাবছিল, দূরের দেশের এই মহাকায় তীর্থযাত্রী বিষ্ণুপাদ মন্দিরে পৌঁছে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছে। আধঘন্টা পরে গোরার হুঁশ ফিরতে চোখ খুলে সে প্রথমে দেখল ঈশ্বরপুরীকে। এক নজরে চিনতে পারল তার প্রিয় মানুষ পুরী-গোঁসাইকে। ঈশ্বরপুরীর দু’চোখে টলটল করছে কৌতুক আর কৌতূহল। দ্বারকায় যার এখন থাকার কথা, জীবনের এই ক্রান্তি মুহূর্তে তাকে গয়ায় সামনে দেখে গোরার মুখে কথা সরল না, ঠোঁট দুটো কাঁপতে থাকল, স্বস্তির ভাব ফুটে উঠল তার মুখ জুড়ে। গোরার মুখ হঠাৎ কেন আলোকিত হয়ে উঠেছে, ঈশ্বরপুরীর বুঝতে অসুবিধে হল না। গয়ায় পা দেওয়ার পর থেকে যা যা ঘটেছে, চন্দ্রশেখরের মুখে একটু আগেই সে বিবরণ ঈশ্বরপুরী শুনেছে। বিষ্ণুপাদ মন্দিরে ঢুকে গোরার শরীরের কাঁপুনি, ভাবাবেশ, অর্ঘ্যদানের আগের মুহূর্তে মূর্ছিত হওয়ার বৃত্তান্ত জেনে ঈশ্বরপুরীর ধারণা হল, নবদ্বীপের এই সুসন্তানের ওপর কৃষ্ণের কৃপাবর্ষণ শুরু হয়েছে। গোরার জন্মান্তর ঘটে গেছে। মানুষ নিষ্কলুষ হয়ে না উঠলে তার দেহ থেকে এমন দ্যুতি বেরোয় না। কৃষ্ণাবতারের জন্যে নবদ্বীপে গুরুভাই অদ্বৈত আচার্যের তীব্র আর্তি এতদিনে বোধহয় মিটতে চলেছে।

    হুঁশ ফিরে পেয়ে চোখের সামনে ঈশ্বরপুরীকে দেখে গোরা উঠে বসতে তাকে ঘিরে থাকা নবদ্বীপবাসীরা আনন্দে ভগবান বিষ্ণু আর পবিত্র গয়াধামের মহিমায় জয়ধ্বনি দিয়ে উঠল। সহযাত্রীদের কোলাহল গোরার কানে ঢুকল না। তার চোখ ফেটে জল ঝরতে থাকল। তার মুখের দিকে স্নেহাতুর চোখে তাকিয়ে থাকল ঈশ্বরপুরী। গোরার চোখ দিয়ে জল পড়লেও তার মুখে, শরীরে মুক্তির মহাভাব নজর করে, ঈশ্বরপুরীরও জ্ঞান হারানোর অবস্থা হল। তাকে গোরা জিজ্ঞেস করল, আমি কে, কী আমার পরিচয়?

    ভক্তিতে বিহ্বল ঈশ্বরপুরী বলল, আমার মতো তুমিও একজন শূদ্রাধম, নামপরিচয়হীন, সন্ন্যাসী, কৃষ্ণপ্রেমের কাঙাল।

    স্থির চোখে পুরীগোঁসাই-এর দিকে তাকিয়ে তার কথা শুনছিল গোরা। মাঝরাতে আত্মপরিচয় হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঈশ্বরপুরীর মুখ থেকে সে এমন এক সত্যের খবর পেল, যা তার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সর্বস্ব হারানোর অস্থিরতা মুছে দিয়ে তাকে বিনয়ে বিগলিত, শান্ত করে দিল। কুলশীল, বংশগতির চেয়ে মানুষের যে আরও বড় পবিত্র, সর্বজনীন এক পরিচয় আছে, গয়াধামে এই সংকট মুহূর্তে সেই বার্তা তাকে শুনিয়ে দিয়েছে ঈশ্বরপুরী। নতুন ভবিষ্যৎ রচনার পথ দেখিয়ে দিয়েছে। সন্ন্যাসীর কোনও পরিচয় দরকার হয় না। সে শূদ্রাধম, ধর্ম বর্ণ জাতপাত নির্বিশেষে, আপামর জনসাধারণের একজন, জলের মধ্যে মাছের মতো তার বিচরণভূমি।

    গোরার পিণ্ডদানে বিঘ্নের কাহিনী সে বেহুঁশ থাকার সময়ে চন্দ্রশেখরের মুখ থেকে ঈশ্বরপুরী শুনে তাকে ক্রিয়াদোষের কথা মুখে আনল না। নতুন করে পিণ্ডদানের নির্দেশ দেওয়ার বদলে বলেছিল, গোরার নিবেদিত পিণ্ড যথাস্থানে পৌঁছে গেছে। গোরাকে একই অভিমত জানিয়ে ঈশ্বরপুরী বলল, তোমার শরীর ফুটে বেরনো আলো দেখে বুঝতে পারছি, পৃথিবীতে তুমি সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছ, বিষ্ণুপাদপদ্মের আলো ঢুকে গেছে তোমার শরীরে। ক্রমশ তা উজ্জ্বল হবে।

    চাতালে বসে বিষ্ণুপাদ মন্দিরের রুপো বাঁধানো গম্বুজ, নীল আকাশ, জনিপাহাড়ের শিবপীঠ, চারপাশে পুণ্যার্থী মানুষের ভিড় দেখে গোরাও অনুভব করছিল, মাতৃরূপা পৃথিবীর কোলে শুয়ে এই প্রথম চোখ খুলে সে বিশ্বরূপ দর্শন করল। তার হারানোর কিছু নেই। সকালে গঙ্গায় বিসর্জিত বিশ্বরূপের পুঁথি থেকে নিজের আত্মপরিচয়, ভবিষ্যতের দিশা পেয়ে গেছে সে। তার দু’চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়তে থাকল। সে বলল, আপনার মতো আমিও শূদ্রাধম, উপবীত ছেড়ে আমিও সন্ন্যাস নেব। আমার কুলপরিচয়, পিতৃপরিচয় কেউ জানতে চাইবে না। আপনি সন্ন্যাসের মন্ত্র দিন আমাকে।

    গোরার আকুল প্রার্থনা শুনে ঈশ্বরপুরী হকচকিয়ে গিয়ে তাকাল চন্দ্রশেখরের দিকে। গোরার সন্ন্যাস নেওয়ার প্রস্তাবে চন্দ্রশেখর যেমন আঁতকে উঠল, ততোধিক ভয় পেল মুকুন্দ, মুরারি। গোরার তারা বন্ধুলোক। গোরাকে হাড়ে হাড়ে চেনে। মুখ থেকে গোরা কোনও কথা খসালে, তার নড়চড় হয় না। গোরার সন্ন্যাস নেওয়ার ইচ্ছে যে ফেলনা নয়, টের পেয়ে মুরারির দু’চোখে জল এসে গেল। ভয় পেল মুকুন্দ। কান্না সামলাতে গদাধর সরে দাঁড়াল। পরিস্থিতি সামাল দিতে চন্দ্রশেখর সময় নিল না। গোরাকে বলল, বাড়িতে তোমার বিধবা মা, অল্পবয়সি বউ রয়েছে। তুমি ছাড়া তাদের দেখার কেউ নেই। তুমি সন্ন্যাস নিলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। তুমি কি তাই চাও?

    গোরার দিকে তাকিয়ে তার দু’চোখ ছলছল করছে দেখে নরম গলায় চন্দ্রশেখর বলল, তুমি শাস্ত্রজ্ঞানী, পণ্ডিত, তুমি ভালোই জানো, মা, বউ-এর অনুমতি না নিয়ে সংসার ছেড়ে তুমি চলে যেতে পার না। সেভাবে সন্ন্যাস নিলে তা শাস্ত্রবিরুদ্ধ হবে।

    ঈশ্বরপুরীর অনুমোদন পেতে তার দিকে কাতর ভঙ্গিতে চন্দ্রশেখর তাকাতে পুরীগোঁসাই শান্ত গলায় বলল, চন্দ্রশেখর আচার্যমশাই যা বলছেন, ভুল নয়। তাছাড়া একলাফে সন্ন্যাসী হওয়া যায় না। ধাপে ধাপে এগোতে হয়, শাস্ত্রবিহিত সন্ন্যাস নেওয়ার আগে মন্ত্রদীক্ষা নিয়ে নামজপ, সঙ্কীর্তন করে কিছুকাল গৃহীসন্ন্যাসীর মতো জীবন কাটাতে হয়। গোরাকে নবদ্বীপে গিয়ে নামজপ, সঙ্কীর্তনের ঢেউ তুলতে হবে, সুলতানি আদেশে নিষিদ্ধ প্রেমগীতি, ভক্তিগীতির অবরুদ্ধ স্রোতকে মুক্ত করতে হবে। শাস্ত্রানুমোদিত পরামর্শ দিল ঈশ্বরপুরী। বলল, কৃষ্ণ শুধু একটা নাম নয়, এক বিশাল ভাবৈশ্বর্য, মহান আদর্শ, পাপতাপমোচনকারী দেশব্যাপ্ত কর্মযজ্ঞ। কৃষ্ণ মানে মুক্তি, কৃষ্ণ মানে জ্ঞান, দুর্নীতির উচ্ছেদ, দুষ্কৃতি দমনের শেষে সাধুসমাজের অভ্যুদয়। মাধ্ব সম্প্রদায়ের গুরু, মধ্বাচার্য থেকে পাঁচশ’ বছরের বেশি সময় ধরে পরম্পরাক্রমে গুরু ব্যাসতীর্থপুরী, লক্ষ্মীপতিপুরী, তাঁর শিষ্য মাধবেন্দ্রপুরীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে এপর্যন্ত অসংখ্য দুর্যোগ সত্ত্বেও পরিত্রাতা কৃষ্ণের অবতারতত্ত্ব নিয়ে বিশ্বাসের যে ধারা বয়ে চলেছে, তা ব্যর্থ হওয়ার নয়। আমি অনুভব করছি, সুদীর্ঘ তপস্যার শেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসে গেছে। তুমিও সেই শুভক্ষণ টের পেলে, গৃহস্থাশ্রমে তোমাকে বেঁধে রাখা যাবে না। সন্ন্যাস নেওয়ার শুভক্ষণ হাজির হবে। তোমাকে সন্ন্যাস মন্ত্র দেওয়ার উপযুক্ত গুরুও অপেক্ষা করে থাকবে। তোমার মা, স্ত্রী মেনে নেবে তোমার সন্ন্যাসব্রত।

    গোরার পিঠে আশীর্বাদী হাতের ছোঁয়া রেখে ঈশ্বরপুরী বলল, ভগবান কৃষ্ণকে মহাপ্রেমিক, ত্রাণকর্তা মেনে নিয়ে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে, লক্ষ কোটি মানুষের মধ্যে তার অবস্থান, তার দেহের তাপ, বুকের স্পন্দন অনুভব কর, অভিভূতের মতো নিজেকে কৃষ্ণ ভাবো, সবাইকে কৃষ্ণজ্ঞান কর, সবাইকে কৃষ্ণ দেখাও, নবদ্বীপ আর গৌড়বাসীকে গুরু মাধবেন্দ্রপুরীর ভাবস্রোতে ভাসিয়ে দাও। সাধুসমাজের জেগে ওঠার সঙ্কেত দেখা যাচ্ছে, দুরাচারের পতন ঘটতে দেরি নেই, ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার যে সঙ্কল্প পাঁচশ’ বছর ধরে প্রদীপের মতো জ্বলছে, তা জ্যোতির্ময় হওয়ার লক্ষণ দশ দিগন্তে ফুটে উঠেছে, গোরা তুমি এক বার ‘কৃষ্ণ’ বল, গেয়ে ওঠ ‘সারঙ্গধর, তুয়া চরণে মন লাগহুঁ রে।’

    গোরা আচ্ছন্নের মতো ‘কৃষ্ণ’ শব্দটা উচ্চারণ করে তখনই জ্ঞান হারাল। তার দিকে তাকিয়ে ভাবাবেশে আচ্ছন্ন হয়ে গেল ঈশ্বরপুরী। গোরার কপালে গুঁড়ো ঘাম, শরীরে কাঁপুনি দেখা দিল। তাকে ঘিরে থাকা যাত্রীরা হরিধ্বনি দিল, মন্ত্রোচ্চারণের মতো কেউ কেউ বলল, কৃষ্ণ গোবিন্দায়, বাসুদেবায়, নমঃ।

    শুদ্ধ সাত্ত্বিকতার এত জীবন্ত মূর্তি ঈশ্বরপুরী আগে দেখেনি। সে ভাগবতের শ্লোক আওড়াতে থাকল। দ্বারকা যাওয়ার পথে গয়ায় রাত্রিবাস করার জন্যে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হল তার। গুরুভাই, অদ্বৈত আচার্যের আকুল আহ্বানে গোলোকপতি বিষ্ণু অবতার যে নবদ্বীপে অবতীর্ণ হয়েছে, গোরাকে দেখে ঈশ্বরপুরীর মনে এ ধারণা দৃঢ় হল। গোরার জ্ঞান ফিরতে তাকে একান্তে ডেকে নিয়ে, নবদ্বীপে ফিরে গোরাকে প্রথমে অদ্বৈত আচার্যের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিল ঈশ্বরপুরী। পণ্ডিতপ্রবর, পরমভাগবত অদ্বৈত আচার্য পঞ্চাশবছর ধরে গোরার জন্যে অপেক্ষা করছে। গোরাকে তার সঠিক আত্মপরিচয় শুধু অদ্বৈত জানাতে পারে। মহাসমারোহে তার অভিষেকের আয়োজনও করবে অদ্বৈত।

    বিশ্বরূপের পুঁথির ভাষ্যের সঙ্গে ঈশ্বরপুরীর পরামর্শের মিল পেয়ে গোরা ফের মহাভাবে ডুবে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআড়িয়াল খাঁ – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Our Picks

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }