Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গোরা – শৈবাল মিত্ৰ

    শৈবাল মিত্ৰ এক পাতা গল্প1220 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গোরা – ২৩

    ২৩

    বাবা জগন্নাথ মিশ্র, স্ত্রী লক্ষ্মীদেবীর পিন্ড দিতে গয়ায় যে গোরা গিয়েছিল, পিণ্ডদান অনুষ্ঠান চুকিয়ে বিশ্বরূপের খোঁজে যার দক্ষিণ এবং পশ্চিম ভারতের যত প্রাচীন দেবদেউল, মন্দির, নানা ধর্মীয় শিবির, আখড়া চষে ফেলার কথা, ভ্রমণের সেই কর্মসূচি স্থগিত রেখে দু মাসের মধ্যে সে যখন নবদ্বীপে ফিরল, সে অন্য মানুষ, তাকে দেখে চেনা যায় না। তার অবস্থা দেখে বাড়ির সবাই ঘাবড়ে গেল। তার কী হয়েছে, বিশ্বরূপের খোঁজে কেন সে দক্ষিণ ভারতে গেল না, এসব প্রশ্ন করতে শচী, বিষ্ণুপ্রিয়া, কেউ সাহস পেল না। নবদ্বীপের মানুষ অবাক হয়ে দেখল তাদের ভীষণ চেনা গোরা একদম বদলে গেছে। তার সেই উদ্ধত স্বভাব ঠোঁটে বাঁকা হাসি, পাণ্ডিত্যাভিমান কিছুই নেই, সে বিনয়ে অবনত, না জেনে কিছু অপরাধ করার ম্লানতা তার মুখে ছড়িয়ে রয়েছে। শুকনো দু’ঠোটে মুহূর্তের জন্য হাসি ফুটে উঠে তখনি মিলিয়ে যাচ্ছে। একটু যেন অন্যমনস্ক, দু’একটা কথা অনেক কষ্টে বললেও আগের কথার সঙ্গে পরেরটার বিশেষ যোগাযোগ থাকছে না। অনবরত তার দু’চোখে জল এসে গেলে, চেষ্টা করে সে কান্না সামলাচ্ছে। চোখজোড়া জলে টইটম্বুর হলেও মাজা সোনার মতো শরীর থেকে আলাদা জ্যোতি বেরচ্ছে। বিশাল, মজবুত শরীরের আড়ালে যেন আরো দশাসই আলাদা, অদৃশ্য এক অবয়ব জেগে উঠেছে। পাড়ার গুরুজনরা গোরাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যে ভাষায় আশীর্বাদ করতে থাকল, আগে কখনো তারা সেভাবে তাকে আশীর্বাদ করেনি। গোরার সমবয়সি বন্ধুরা এসে তাকে দেখে চলচ্ছক্তিহীন হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়ির উঠোনে, দাওয়ায় দাঁড়িয়ে থাকল। সবাই ভাবতে থাকল, এ কোন্ গোরা? প্রশ্নটা তাদের মনে তোলপাড় করতে থাকল।

    আত্মীয়, বন্ধু প্রতিবেশী যখন গোরাকে দেখে একই সঙ্গে বিমোহিত, বিহ্বল, বাড়িতে ছেলের দশা নজর করে শচীদেবী যখন তখন হাউমাউ করে কেঁদে উঠছিল। সতেজ, সপ্রতিভ ছেলেটা কেন এমন আলাভোলা, ছিঁচকাঁদুনে, ননীর পুতুল হয়ে গেল, বুঝতে না পেরে শচীর যত রাগ গিয়ে পড়ল বোনাই, চন্দ্রশেখরের ওপর। যত নষ্টের গোড়া এই চন্দ্রশেখর। গোরার অভিভাবক করে তাকে গয়ায় পাঠানো যে ভুল হয়েছে, তা ভেবে শচীর আক্ষেপের শেষ থাকল না। চন্দ্রশেখর দায়িত্বহীন, অপদার্থ জেনেও তার জিম্মায় গোরাকে গয়া পাঠানোর জন্যে শচীর অপরাধী মনে হল নিজেকে। চন্দ্রশেখরকে জিজ্ঞেস করল, কে আমার এমন সর্বনাশ করল জামাই? গোরাকে বিষ খাইয়ে কে পাগল করল?

    ঘাড় হেঁট করে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া চন্দ্রশেখরের কিছু করার ছিল না। গয়া থেকে নবদ্বীপে ফেরার পথে গোরার দশা দেখে চন্দ্রশেখর ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। নবদ্বীপের আত্মীয় পরিজন যে তাকে তুলোধোনা করবে, উঠতে বসতে তার মুণ্ডপাত করবে, অনুমান করে ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিল। গয়া ছাড়ার আগে থেকেই শচীর কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার অবলম্বন খুঁজতে শুরু করেছিল। গদাধরকে একা নির্জনে ডেকে নিয়ে পিণ্ডদানের আগের রাতে ঠিক কী ঘটেছে, তার সঙ্গে গোরার কী কথাবার্তা হয়েছে, বিশদভাবে জানতে কড়া জেরা করেছিল চন্দ্রশেখর। গদাধর যতটা জানে, বলেছিল। রাতে অঘোরে ঘুমনোর জন্যে তার সঙ্গে গোরার বিশেষ কথা হয়নি, জানিয়ে, ভোররাতে তাকে ঘুম থেকে গোরার ডেকে তোলার পর থেকে যা ঘটেছে, চন্দ্রশেখরকে বলেছিল। গদাধরের বিবরণ একাধিকবার শুনে যে ঘটনা চন্দ্রশেখরকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিল, তা হল, গঙ্গার স্রোতে কাপড়ে জড়ানো একটা মোড়ক, গোরার ভাসিয়ে দেওয়ার বৃত্তান্ত। পুঁথি অন্তপ্রাণ গোরা এমন অনুচিত কাজ কীভাবে করল? প্রাণে ধরে গঙ্গায় পুঁথি বিসর্জন দিতে নিশ্চয় মন থেকে সায় পাচ্ছিল না। তাই গদাধরের চোখে কিছুটা ধুলো দিয়ে গোরা কাজটা সেরেছিল। মোড়ক নিয়ে গোরাকে কোনো প্রশ্ন করেনি গদাধর। কাপড় জড়ানো মোড়কে কী ছিল, না দেখেও তার মনে হয়েছে, পাততাড়িতে লেখা পুঁথি হতে পারে!

    গদাধরের বিবরণের এ অংশ শুনে চমকে গিয়েছিল চন্দ্রশেখর। সতেরো আঠারো বছর আগে কোনো এক পুঁথি নিয়ে বড়ো ভায়রাভাই জগন্নাথ মিশ্রের সংসারে অশান্তির কিছু আভাস পেয়েছিল সে। পুঁথির বিষয়, পুঁথিটা কার লেখা, এ প্রসঙ্গে কিছু জানতে পারেনি। রগচটা জগন্নাথ মিশ্রের কাছে জানতে চাওয়ার সাহস হয়নি। বাড়ি ছেড়ে বিশ্বরূপ নিরুদ্দেশ হওয়ার পরে, তার অন্তর্ধানের সঙ্গে রহস্যময় সেই পুঁথির যোগাযোগ থাকতে পারে, এ সন্দেহ চন্দ্রশেখরের মনে জেগেছিল। জগন্নাথের জীবদ্দশায়, অথবা তার মৃত্যুর পরে, সেই পুঁথির প্রসঙ্গ আর কখনো শোনা যায়নি। চন্দ্রশেখরের কানে অন্তত পৌঁছোয়নি। জগন্নাথের যত পুঁথি, পৃথিবী ছেড়ে সে চলে যেতে গোরার হস্তগত হয়েছিল। পরিচিতিহীন সেই পুঁথি তাহলে এত বছর গোরার কাছে ছিল। পড়ুয়া ছেলে গোরা। পুঁথির বিষয়বস্তু তার অজানা নয়। এক অথবা একাধিকবার পুঁথিটা সে পড়ে থাকলে সেখানে এমন কিছু গুরুতর আখ্যান পায়নি, যা পরিবারের কাউকে বলা যায়। বালক বিশ্বরূপের পুঁথিতে পাকা মাথার পাণ্ডিত্য, আশা করা যায় না। স্বাধীনভাবে পড়তে লিখতে শেখার পরে বেশিরভাগ বালক গোপনে কালিদাস, ভবভূতির মতো শ্লোক রচনার চেষ্টা করে, মহাকবি হতে চায়। বৈদান্তিক অদ্বৈত আচার্যের ছাত্র, বিশ্বরূপ হয়তো আরো কয়েক পা এগিয়ে ন্যায়শাস্ত্রের ভাষ্য লেখার প্রয়াস চালিয়েছিল। হাসির খোরাক, বালখিল্য রচনার নিদর্শন, সেই পুঁথি গয়ার গঙ্গায় গোরা নিশ্চয় ভাসিয়ে দিয়েছে। সেই ঘটনার সঙ্গে গোরার আচরণের খোল নলচে বদলে যাওয়ার যোগাযোগ থাকতে পারে না। পুঁথি ভাসানোর বিবরণ তাই শচীকে শোনানোর দরকার মনে করেনি চন্দ্রশেখর।

    শচীর অভিযোগ, কান্না চুপচাপ হজম করলেও শেষবারের মতো নিজেকে বাঁচাতে ঈশ্বরপুরীর কাছে গোরার দীক্ষা নেওয়ার ঘটনা, বড়ো শালিকে জানিয়ে বোঝাতে চাইল পুরীগোঁসাই-এর দেওয়া ইষ্টমন্ত্রের প্রভাবে গোরার চালচলন বদলে গেছে। মগজ কিঞ্চিৎ বিগড়ে গেলে, অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে তা সাময়িক। মন্ত্র নেওয়ার জের তাড়াতাড়ি কেটে যাবে। সাংসারিক জীবনে স্বস্থানে ফিরে আসবে গোরা। সন্ন্যাসীর মতো সংসার করার ইচ্ছে নিয়ে বেশিরভাগ গৃহকর্তা তখন নির্বাচিত গুরুর কাছে মন্ত্রদীক্ষা নিয়ে থাকত। এ ঘটনাতে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না। গৃহকর্তার মন্ত্রদীক্ষা নেওয়ার ইচ্ছে জাগলে গৃহিণীও উৎসাহ জোগাত। জগন্নাথ শচী, দু’জনের দীক্ষাগুরু ছিলেন অদ্বৈত আচার্য। ঈশ্বরপুরীর কাছে গোরার মন্ত্র নেওয়াতে অস্বাভাবিক কিছু না থাকলেও চন্দ্রশেখরের কাছ থেকে সে খবর পেয়ে নতুন করে শচী ফুলে ফুলে কাঁদতে শুরু করেছিল। ঈশ্বরপুরীর মন্ত্র নিয়ে গোরা পাগল হয়ে গেছে, তখনি সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেল শচী। ঈশ্বরপুরীকে অভিযুক্ত করে অঝোরে কাঁদতে থাকল। মিশ্রদম্পতি, জগন্নাথ শচী যার কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছিল, সেই অদ্বৈত আচার্যও ছাড় পেল না শচীর অভিযোগ থেকে। অদ্বৈতের টোলে পড়ার সময়ে তার প্ররোচনাতে বিশ্বরূপ যে বিবাগী হয়ে সংসার ছেড়েছিল, শচী ভোলেনি। গুরু অদ্বৈতের দেওয়া মন্ত্র, পঁচিশ বছর ধরে শচী জপ করলেও গুরুর ওপর আস্থা হারিয়েছিল। স্বামী বেঁচে থাকতে তার সামনে গুরু সম্পর্কে কটুকাটব্য করতে ছাড়েনি। পুরনো শোকের সঙ্গে গোরার জন্যে ভয়, ভীতি উদ্বেগে থেকে থেকে শচী ডুকরে কেঁদে উঠতে থাকল। ঘরের আড়ালে তরুণী বধূ বিষ্ণুপ্রিয়ার চোখের জলে বুক ভাসতে থাকলেও বাইরের কেউ নজর করল না।

    .

    মায়ের অভিযোগ, মায়ের মুখে গুরু নিন্দা শুনেও পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে গোরা বসে থাকল। নিঃশব্দে জপ করতে থাকল ঈশ্বরপুরীর দেওয়া কৃষ্ণকেশব মন্ত্র। কৃষ্ণ মানে, প্রেম, কৃষ্ণ মানে ভালবাসা, ভক্তি, শক্তি, গান, সুর, মানুষ, প্রতিটি মানুষ, সম্মুখিত লক্ষ কোটি মানুষ, ধর্ম, জাতপাত নির্বিশেষে মানব সংঘ। মন্ত্রদীক্ষার পরে গয়ায় গঙ্গার ধারে গাছতলায় বসে ঈশ্বরপুরী সে গল্প তাকে শুনিয়েছে, তার মনে পড়ল। গল্পটা এরকম। দীক্ষা নিতে আগ্রহী দুই ভক্তকে এক সন্ন্যাসী একটা করে বীজধান দিয়ে, সযত্নে কিছুকাল বীজদু’টি রাখতে বলে তীর্থপরিক্রমায় চলে গেল। পরিক্রমা সেরে, পাঁচ বছর পরে দুই ভক্তকে দীক্ষা দিতে গুরু ফিরে এল। দীক্ষা দানের নির্ধারিত দিনে দুই ভক্তের কাছে গচ্ছিত বীজধান দুটো গুরু নিয়ে আসতে বললে, প্রথম জন কারুকাজ করা কাঠের পেটি খুলে, তুলোয় জড়ানো বীজধান বার করতে দেখা গেল, সেটা তুষ হয়ে গেছে। সন্ন্যাসীর হাতে ধানের কণাটি তুলে দেওয়ার আগে ঝুরঝুর করে ধুলোর মতো গুঁড়ো হয়ে সেটা মাটিতে ছড়িয়ে পড়ল। লজ্জায় হেঁট হয়ে গেল প্রথম জনের মাথা। দ্বিতীয় ভক্ত তার খামারের মধ্যে বড়ো এক মরাই-এর ধারে গুরুকে নিয়ে এসে গোলা ভর্তি ধান দেখিয়ে বলল, এই মরাই-এর হাজার মণ ধানের প্রতিটা আপনার। প্রথম বছরে আপনার আশীর্বাদী বীজধান মাটিতে পুঁতে যে চার মুঠো ধান পেয়েছিলাম, পরের কয়েক বছরে তা আবাদ করে আজ এই গোলা ভরে গেছে।

    দীক্ষা নেওয়ার আশা ছেড়ে প্রথম জন সরে পড়লে, দ্বিতীয়জনকে কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষা দিয়ে সন্ন্যাসী বলল, হাজার হাজার মানুষকে কৃষ্ণ নামে মিলিয়ে নাও। তাদের বলো, তুমিই কৃষ্ণ, তুমি যার সঙ্গে কথা বলছ, যাকে দেখছ, সবাই কৃষ্ণ। তাদের সংস্পর্শে যারা আসছে, সকলে কৃষ্ণ। তুমি প্রেম, ভক্তি, শক্তি, মুক্তি, ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার অধিনেতা

    অভিভূতের মতো ঈশ্বরপুরীর গল্প শুনে গোরার দু’চোখ দিয়ে জল পড়েছিল। বলেছিল, আমিও হাজার হাজার ধানের গোলা গড়ে তুলব।

    তার পিঠে সস্নেহে হাত রেখে ঈশ্বরপুরী বলল, হ্যাঁ, তুমি কৃষ্ণাবতার, স্বয়ং কৃষ্ণ, তোমার গণেদের সঙ্গে দেশবাসী মেনে নেবে তোমাকে। তুমিই পারবে তাদের চোখ খুলে দিতে, জাগিয়ে তুলবে তাদের।

    ঈশ্বর পুরী আরো কিছু কথা বলেছিল, যার প্রতিটা শব্দ গোরার মনে রয়েছে। স্মৃতিধর সে। বিশ্বরূপের পুঁথি একবার পড়ে মগজে ভরে নিয়েছে। আদ্যন্ত কণ্ঠস্থ বিশ্বরূপের পুঁথির সঙ্গে দীক্ষাগুরুর কথার প্রচুর মিল পেয়ে গোরা আশ্চর্য হয়েছিল। বিশ্বরূপের পুঁথি পড়ার সুযোগ পুরী গোঁসাই-এর না ঘটলেও কীভাবে দু’জনের আখ্যানে, বাচনে মিল হল, গোরা হদিশ পেল না। বুকের মধ্যে জমে থাকা ভাব বিহ্বলতা, ঘনিষ্ঠ সুহৃদদের জানাতে গোরা যখন ব্যস্ততা বোধ করছে, তখনো দাওয়ায় বসে মনের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছিল শচী। ঈশ্বরপুরীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে গোরাকে কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত করে পাগল বানানোর জন্যে পুরী গোঁসাইকে দায়ী করে শচী থামল না। ঈশ্বরপুরীর গুরুভাই, অদ্বৈত যেভাবে উসকানি দিয়ে বিশ্বরূপকে বিবাগী, ঘরছাড়া করেছে, সে ঘটনাও আওড়ে যাচ্ছিল। তাদের গুরু মাধবেন্দ্র পুরীও দেশের অনেক ভক্ত শিষ্য মা বাবার কোল খালি করে তাদের প্রিয়তম ছেলেকে ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার ফুসমন্তর দিয়ে সংসার থেকে যে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে, এমন কথাও তার মুখে আটকাচ্ছিল না।

    মায়ের বিষোদ্গার গোরার কানে গেলেও সে মাথা গুঁজে শুনছিল। মনে কষ্ট পেলেও রা কাড়ছিল না। সে শুধু কাঁদছিল আর কৃষ্ণনাম জপ করছিল। তার জীবন থেকে শুকনো পাতার মতো খসে গিয়েছিল ধর্মের অহমিকা, বংশ পরিচয়ের দম্ভ, পাণ্ডিত্যের ঔদ্ধত্য, এমনকী মা ছাড়া পারিবারিক সব সম্পর্ক নিষ্প্রভ ঠেকছিল। গুরু ঈশ্বরপুরীর বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ শুনে মনে ব্যথা পেলেও নিঃশব্দে অগ্রাহ্য করছিল। নিজের গুরু অদ্বৈত আচার্যকেও শচী তুলোধোনা করছিল। গুরু নিন্দা যে কত বড়ো দোষ, বৈষ্ণবাপরাধ, তা জেনেও মায়ের জন্যে সমবেদনায় গোরা মুখ ফুটে মাকে একটা কথা বলতে পারছিল না। মাথা গরম করার অনুভূতি বিশ্বরূপের পুঁথির সঙ্গে গয়ার গঙ্গায় সে ভাসিয়ে দিয়ে এসেছে। এ জীবনে আর কখনো তার মাথা গরম করার সুযোগ হবে না। পুরনো গোরা মৃত। গয়ার ধর্মশালায় বসন্তের নিস্তব্ধ রাতে প্রদীপের আলোর সামনে যে নতুন গোরার জন্ম হয়েছে, সে মিশ্র পরিবারের কেউ নয়, সে সুনম্র, অন্তর্মুখী স্বভাবের মূর্তিমান বিগ্রহ, এই পৃথিবীর অনধিকারীদের অধিকারী, গোত্রপরিচয়হীন গোপবালক, মানুষকে সে বলবে,

    পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্
    ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।

    —দুষ্কৃতি বিনাশ করে শিষ্ট সমাজ, ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে যুগের ডাকে আমি পৃথিবীতে ফিরে আসি।

    হ্যাঁ, একথা বলার অধিকার সে পেয়েছে। বিশ্বরূপের পুঁথি থেকে সে জেনেছে, আত্মপরিচয়। আপামর জনসাধারণকে নিজের এই পরিচয় জানানোর অনুমোদন তাকে দিয়েছে, তার গুরু, শূদ্রাধম ঈশ্বরপুরী।

    গোরার দু’চোখ জলে ভরে গেল। গুরুর সঙ্গে এ জীবনে তার আর দেখা হবে না। ঈশ্বর পুরী, স্বয়ং সে কথা জানিয়ে গেছে তাকে। মুখোমুখি দেখা না হলেও ভাবজগতে দু’জনের যোগাযোগ ছিন্ন হবে না, পুরী গোঁসাই স্বীকার করে নিয়েছেন। গোরাকে আশ্বস্ত করেছে।

    বৈশাখের সকাল রোদে ভেসে যাওয়ার আগে পাশের পাড়ায় সুদরিদ্র ব্রাহ্মণ, পরম বৈষ্ণব শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর বাড়িতে গোরা পৌঁছে গেল। সেখানে আগে থেকে নির্ধারিত সময় মেনে শ্রীমান পণ্ডিত, মুরারি, শ্রীবাস, মুকুন্দ, গদাধর, শ্রীখণ্ডের নরহরি, সদাশিব পৌঁছে গিয়েছিল। নবদ্বীপে ফিরে, পরের দিন বিশিষ্ট কয়েকজন অনুরাগী বৈষ্ণবভক্তকে নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করতে মুরারি আর গদাধরকে গোরা লাগিয়ে দিয়েছিল। শুক্লাম্বরের বাড়িতে নানা বয়সের কয়েকজন চেনা বৈষ্ণব ভক্তকে দেখে গোরা ভাবাকুল হয়ে পড়ল। গয়ার অভিজ্ঞতা বলতে শুরু করে দু’চার কথা বলার মধ্যে বিশ্বরূপের পুঁথির কিছু শ্লোক মনে পড়তে তখনই গোরা বেহুঁশ হয়ে গেল। বায়ুরোগাক্রান্ত মানুষ ভিরমি খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তার শরীরে যে সব লক্ষণ দেখা যায়, গোরার দেহে তেমন কিছু দেখতে পেল না প্রবীণ শ্রীবাস। তার সমবয়সি, শ্রীমান পণ্ডিতও অভিজ্ঞ দৃষ্টিতে গোরাকে খুঁটিয়ে দেখে মৃগীরোগীর বিকার, হাত পায়ের খিঁচুনি, দাঁতে জাঁতি লেগে দুষ বেয়ে গ্যাজলা গড়ানো, মুখে কালসিটে ফুটে ওঠা, এরকম, কিছু নজর করল না। বরং গোরার আদুল বুকে ফর্সা মুখে দিব্য আভা ফুটে উঠতে দেখে অবাক হল গোরার গয়া যাওয়ার তিন সঙ্গী, মুরারি, মুকুন্দ, গদাধর আগে কয়েকবার অচেতন গোরার এই মূর্তি দেখে, কিছুটা সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। গয়ার ধর্মশালা, বিষ্ণুমন্দিরে চার, পাঁচ দফায় গোরা জ্ঞান হারানোর পরে তাকে সুখ স্বপ্নে বিভাসিত ধীর, শান্ত, নিদ্রিত মানুষ ছাড়া সঙ্গীদের আর কিছু মনে হয়নি। চেতনাহীন গোরার এই মূর্তি তিনজনের অচেনা নয়। গোরার কানের কাছে মুখ নিয়ে ভাগবতের কৃষ্ণকথার শ্লোক মুরারি নিচু স্বরে সুরেলা গলায় মধুর সংগীতের মতো ঢেলে দিতে থাকল। প্রথম শ্লোক শেষ হতে মুরারিকে থামতে দিল না গদাধর। দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্লোক গান করে, মুরারি বিরতি ঘটাতে তাকে স্তবগান চালিয়ে যেতে বলল মুকুন্দ। মুরারি চুপ। তখনই গোরার হুঁশ ফিরল। গোরা যখন উঠে বসল তার অন্য মূর্তি। গোরার মুখ, সারা শরীর থেকে দ্যুতি বেরোচ্ছে, আয়ত দু’চোখে অপার্থিব চাউনি। বিশ্বরূপের পুঁথির প্রসঙ্গ ভুলে গেছে, অথচ ভোলেনি। তার রক্তে মিশে গেছে বিশ্বরূপের পুঁথির বাচনের সঙ্গে গুরু ঈশ্বরপুরীর কথকতা। সে এমন কিছু কথা বলে চলেছে যা শুনে গৃহকর্তা শুক্লাম্বর সমেত সাতজন শ্রোতার শরীরের লোম খাড়া হয়ে গেছে, বুক, পিঠে কুলকুল করে ঘাম বইতে শুরু করেছে, কাঁপুনি জেগেছে শ্রীবাস, শ্রীমানের শরীরে। ভূতগ্রস্তের মতো গোরা বলছিল, ওরে সংসারী লোক, এবার তোমরা দেখো আমার নাট্যগীত আলেখ্য। আমার কোনো পরিচয় নেই, প্রেম থেকে আমার জন্ম, প্রেম আমার কেনাবেচার হাট, কে কার বাবা, কার মা, স্বামী, স্ত্রী, ছেলে মেয়ে বন্ধু, সখা, সব স্বপ্নে পাওয়া সম্পর্ক, স্বপ্নে দেখা হয় তাদের সঙ্গে, আমরা যা দেখছি সব বাজিকর কৃষ্ণের খেলা, আমাদের জন্যে অনেক বড় ডাক আছে তার তরফ থেকে। বড়ো কাজের ডাক। সব আত্মীয়তা, স্বপ্ন, খেলা বিত্ত সম্পদ যখন সেই বড়ো কাজের হাঁকে মিশে যায়, কথার মাঝখানে নিশ্চুপ হয়ে গোরা ‘বোল কৃষ্ণ বোল, কৃষ্ণ বোল’ এমন এক হুঙ্কার ছাড়ল, যে শুক্লাম্বরের ভিটে পর্যন্ত কেঁপে গেল। রোমাঞ্চিত শ্রীবাস নিঃশব্দে ‘হরেকৃষ্ণ’ মন্ত্র জপ করতে থাকল, শ্রীমান পণ্ডিত প্রহেলিকা দেখতে থাকল। তার মনে হল, সামনে বিশালদেহী শ্রীকৃষ্ণ, ষড়ভুজ মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে। নরহরি দেখল, লক্ষ্মীর কোলে মাথা রেখে অনন্তনাগে নারায়ণ শুয়ে রয়েছে, গোরার গয়াযাত্রার তিন সঙ্গী, মুরারি, মুকুন্দ, গদাধরের চোখ দিয়ে এত জল ঝরতে থাকল যে তারা কিছু ঠাহর করতে পারল না। শুক্লাম্বরের মাটির ভিটের সঙ্গে তাদের শরীর পর্যন্ত কেঁপে গেল। ঐশী ঘোরে পাওয়া মানুষের মতো গোরা তখনো বলে চলেছে, পদ্মপাতায় জলের বিন্দুর মতো টলমল করছে মানুষের জীবন। পাতা থেকে সেই চঞ্চল জল বিন্দু, প্রতি মুহূর্তে খসে পড়ছে। স্ত্রী কাল, পুত্র কাল, ধনজন, ইষ্টমিত্র, কুটুম জ্ঞাতি সব মায়াজাল, আজ আছে, কাল নেই। আম গাছের গা থেকে তার বাকল অচিরে ঝরে যায়, যে শিশুরা এখন পথে ধুলো মেখে খেলা করছে, কাল খেলা ছেড়ে তারা যখন অদৃশ্য হবে, তখন পথের ধুলোয় খেলায় মেতে উঠবে নতুন এক ঝাঁক শিশু। একের পর এক ঢেউয়ের মতো জীবন, মৃত্যু ভেঙে পড়ছে। ‘রমণী জননী হয়, জননী রমণী।’ জলবিন্দুর মতো অল্পায়ু এই জীবন সার্থক করতে কৃষ্ণ নামের মহাসমুদ্রে মিশে যাও। কৃষ্ণ মানে, ঈশ্বর, মাটি, পৃথিবী, সমুদ্র, মহাকাশ, লাখ লাখ মানুষ, তাদের কর্ম, তাদের মুক্তি, গান, হাতে তৈরি ধর্মরাজ্য। ‘বোল কৃষ্ণ, কৃষ্ণ বোল, কৃষ্ণ, কৃষ্ণ বোল’, নামোচ্চারণের মধ্যে গোরা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। শুক্লাম্বরের ঘরে যারা বসে ছিল, তারা দেখল, গোরা তাকিয়ে থাকলেও কাউকে দেখছে না, কিছু দেখছে না, গভীর আবেশে আচ্ছন্ন হয়ে পৃথিবীর ওপারে কোনো এক দৃশ্যে ডুবে রয়েছে। তার শরীর স্থির, শ্বাস পর্যন্ত পড়ছে না। কিছুক্ষণ এভাবে কাটার পরে গোরার নিষ্কম্প দেহ নড়ে উঠল। শ্রীবাস দেখল, স্বাভাবিক হচ্ছে গোরার দৃষ্টি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাই ঘটল। ঘুম থেকে মানুষ জেগে উঠে বিছানার পাশে সুহৃদদের দেখলে, যেভাবে তাকায়, গোরা সেভাবে সবাইকে নজর করে লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, আমি যদি কিছু আবোল তাবোল বকে থাকি, তাহলে আমার অপরাধ, তোমরা নিজগুণে মাপ করে দিও। আমার বাচালতার বিবরণ দয়া করে কাউকে জানিও না। গয়াতে যাওয়ার পর থেকে আমি আর আমার মধ্যে নেই। আমার যা ছিল, সব হারিয়ে গেছে। তোমরা কৃপা করে তোমাদের পাশে আমাকে ঠাঁই দিলে আমি কৃষ্ণনামে প্রেমের হাট, খামার গোলা ভরে দেব।

    গোরার বলার বিনীত ভঙ্গিতে সুবচনে সকলের চোখ জলে ভরে গেলেও সবচেয়ে বেশি কাঁদছিল প্রবীণ বৈষ্ণবভক্ত শ্রীবাস পণ্ডিত। গোরার বাবা জগন্নাথ মিশ্রের প্রাণের বন্ধু শ্রীবাস, জন্মাতে দেখেছে গোরাকে। তার পুরো শৈশব, বেশিটা বালককাল কেটেছে শ্রীবাসের বাড়ির আঙিনায়, তার চোখের সামনে। শচীর গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর, আঁতুড়ঘরে নবজাতককে দেখে শ্রীবাসের মনে যে বিস্ময় জেগেছিল, পরের বছরগুলোতে তা ক্ৰমাগত বেড়েছে। শ্রীবাস ভেবেছে, কাকের বাসায় কোথা থেকে এল এই কোকিলশাবক? চেহারা চরিত্র আচরণে, নবদ্বীপে অদ্বিতীয় এই সন্তানকে সুহৃদ, জগন্নাথ আগলে রাখতে পারবে? গোরার জন্মের কয়েকদিন পরে নবদ্বীপের কাজির গুপ্তচরেরা সঙ্কীর্তন করার অপরাধে মাঝরাতে শ্রীবাসের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে সপরিবারে তাকে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল। পরিবারকে শ্রীবাস বাঁচাতে পারলেও তিন ভাইকে নিয়ে চোখের সামনে কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখেছিল। উদ্বাস্তু হয়েছিল গোটা পরিবার। শচী তখনো আঁতুড় ছেড়ে বেরোয়নি। শান্তিপুরে অদ্বৈত আচার্যের বাড়িতে সপরিবারে আশ্রয় নিয়ে, বাস্তু উদ্ধার করে শ্রীবাস সেখানে ফিরল দু’মাস পরে। শচীর অশৌচ কাটাতে মাঝে একদিন এসে জগন্নাথের শিশুসন্তানের মুখ দেখে তাকে আশীর্বাদ করে গিয়েছিল অদ্বৈত। জগন্নাথের নবজাত সন্তানের দিকে শ্রীবাসকে নজর রাখতে বলেছিল। কৃষ্ণাবতার আবির্ভাবে অদ্বৈতের আকুল প্ৰাৰ্থনা, কান্না, হাহাকার, হুঙ্কার নিজের চোখে দু’মাস ধরে দেখে তার বিশ্বাস জন্মেছিল, অদ্বৈতের প্রার্থনা ব্যর্থ হবে না। আচার্যের প্রার্থনা সফল হয়েছে। গোরা যে সেই মহাশক্তি, পরমপুরুষ কৃষ্ণ, এ নিয়ে শ্রীবাসের সন্দেহ থাকল না। শান্তিপুরে অদ্বৈতের কানে খবরটা পৌঁছে দিতে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। অদ্বৈতের উপদেশ শ্রীবাস ভোলেনি। গোরাকে চোখে চোখে রেখেছিল। জগন্নাথের দেহান্ত হওয়ার পর থেকে তার সংসারকে অভিভাবকের মতো সামলে রেখেছিল শ্রীনীবাস। তার পাশে দাঁড়িয়েছিল স্ত্রী মালিনী। গোরা যত বড়ো হচ্ছিল, তাঁকে বৈষ্ণব সমাজে টেনে নেওয়ার ইচ্ছে প্রলুব্ধ করছিল শ্রীবাসকে। গোরাকে সরাসরি নিজের বাড়িতে সঙ্কীর্তনের আসরে আসতে না বললেও, আভাসে ইঙ্গিতে ডাক পাঠিয়েছিল। গোরা বুঝেও না বোঝার ভান করে পাশ কাটিয়ে গেছে। ন্যায়শাস্ত্রী, স্মার্ত, তান্ত্রিক, শাক্ত বৈষ্ণব, হিন্দুধর্মের কোনো শাখা নিয়ে তার আগ্রহ নেই, হাবভাবে গোরা বুঝিয়ে দিত। তবু তাকে দেখলে শ্রীবাসের সুপ্ত ইচ্ছেটা মনের মধ্যে আনচান করত। গোরাকে পেলে বৈষ্ণব মহলে ভক্তির জোয়ার আসবে, এ নিয়ে তার সন্দেহ ছিল না। বৈষ্ণব সমাজের প্রকৃত নেতা হয়ে উঠবে সে। কৃষ্ণাবতারের জন্যে অদ্বৈত আচার্যের অর্ধশতক ধরে আর্তি, গোরাকে ঘিরে সফল হয়ে উঠবে। আকাশ থেকে নেমে আসা এই মহাবার্তা সকলের আগে জানার অধিকার অদ্বৈত আচার্যের। অসম্ভবকে সম্ভব করেছে সেই পরম ভক্ত, আচার্য। সত্যিকথা বলতে কি, গোরাকে সঙ্কীর্তনে টেনে আনার আশা শ্রীবাস প্রায় ছেড়ে দিয়েছিল। মনস্কামনা পূর্ণ হওয়ার বদলে ক্রমশ হতাশ হতে থাকল সে। বৈষ্ণবদের এড়িয়ে ম্লেচ্ছ, শূদ্র লোকসমাজের সঙ্গে গোরা মেলামেশা ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দিল। ঘরে, বাইরে শাস্ত্রীয় আচার আচরণ মেনে চলার বালাই রাখল না। বৈষ্ণবসমাজের ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেল। গোরার নির্দেশে নিজের বাড়ির উঠোনে লক্ষ্মীকাচ নাটগীতির অনুষ্ঠান করে, আরো নানাভাবে তোয়াজ করে, শেষপর্যন্ত তাকে সম্প্রদায়ভুক্ত করতে না পেরে শ্রীবাস হাল ছেড়ে দিয়েছিল। গোরাকে নিয়ে তার প্রত্যাশা যখন ধূলিসাৎ হতে চলেছে, তখনই শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর বাড়িতে ভাবাবিষ্ট গোরাকে দেখে আহ্লাদে শ্রীবাসের মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হল। গয়া থেকে গোরা পাগল হয়ে ঘরে ফিরেছে ভেবে তিন দিন ধরে শচী যে ইনিয়ে বিনিয়ে কেঁদে চলেছে, তা একেবারে কাণ্ডজ্ঞানহীন জল্পনা, গোরাকে দেখে শ্রীবাস বুঝে গেল অলৌকিক ভগবদভক্তিতে মন ভরপুর না হলে একজন মানুষ এভাবে বদলে যায় না। গোরা পাগল নয়, সে মহাভাবে আপ্লুত হয়েছে। সঙ্কীর্তনের আসরে তাকে হাজির করে গানের সুরে উজ্জীবিত করে তুলতে হবে। কৃষ্ণাবতারকে জাগানোর সেরা উপকরণ হল গান, নাচ সঙ্কীর্তন।

    সেই দুপুরে শ্রীবাস তড়িঘড়ি শান্তিপুরে গিয়ে অদ্বৈত আচার্যকে জানাল, আচার্যের আকুল প্রার্থনা নিষ্ফল হয়নি, মহাভক্তের হুঙ্কারে টলমল করে উঠেছে গোলোকপতির সিংহাসন, কৃষ্ণাবতার ধরাধামে এসে গেছে। মহাভাবে আবিষ্ট গোরার এক জীবনে জন্মান্তর ঘটে যাওয়ার বিবরণ খুঁটিনাটি সমেত অদ্বৈতকে শোনাল শ্রীবাস। আনন্দে হুঙ্কার দিয়ে অদ্বৈত জপ করতে থাকল,

    “স ভবান সর্বলোকস্য ভবায় বিভবায় চ।
    অবতীর্নোংশভাগেন সাম্প্রতং পতিরাশিযাম।।
    নমঃ পরমকল্যাণ নমঃ পরমমঙ্গল।
    হে পরম কল্যাণ, পরমমঙ্গল, ভক্তের অভিলাষ
    পূরণকারী ঈশ্বরের অবতার, তোমাকে শত কোটি
    প্রণাম জানাই।

    কৃষ্ণস্তবের জেরে অদ্বৈত ধ্যানস্থ হয়ে যেতে শ্রীবাসের মনে হল, তার সামনে স্বয়ং ব্রহ্মা বসে আছে। অদ্বৈতের পায়ের সামনে সাষ্টাঙ্গে লুটিয়ে তার দু’পা ধরে প্রণাম করল শ্রীবাস।

    নবদ্বীপে শ্রীবাস ফেরার আগে তাকে একদিন গোরাকে শান্তিপুরে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতে বলল অদ্বৈত। দিনক্ষণ পাকা হয়ে গেল। নির্ধারিত তারিখে, দুপুরে দু’জনের মধ্যাহৄভোজের আয়োজন থাকবে, সবিনয়ে অদ্বৈত জানিয়ে দিল শ্রীবাসকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআড়িয়াল খাঁ – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Our Picks

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }