Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গোরা – শৈবাল মিত্ৰ

    শৈবাল মিত্ৰ এক পাতা গল্প1220 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গোরা – ৫

    ৫

    শচী তেরো মাস গর্ভধারণের পরে, তার বাবা জ্যোতিষশাস্ত্রজ্ঞ এবং পণ্ডিত নীলাম্বর চক্রবর্তীর গণনা অনুযায়ী রামচন্দ্রপুর গ্রামে, জগন্নাথ মিশ্রের বাড়ির উঠোন আগলে দাঁড়ানো, বিশাল নিমগাছের নিচে, খড়ের ছাউনি, মাটির আঁতুড়ঘরে, গোধূলি মুহূর্তে অসাধারণ রূপলাবণ্যমণ্ডিত যে শিশুটি জন্ম নিল, তাকে দেখে আত্মীয়স্বজনের মনে হয়েছিল, সে এক স্বর্গভ্রষ্ট নবজাতক, নক্ষত্রলোক থেকে নেমে এসেছে। গায়েগতরে এমন লম্বা, স্বাস্থ্যবান শিশু আগে কেউ দেখেনি। চেহারায় শুধু বড়সড় নয়, পাকা সোনার মতো তার গায়ের রং। সারা শরীর থেকে দুধ-হলুদ যেন গড়িয়ে পড়ছে। রূপবান এই শিশুটিকে দেখে তারা যেমন অবাক হল, তেমনি ভয় পেল। ব্রাক্ষ্মণ জগন্নাথ মিশ্র অথবা নীলাম্বর চক্রবর্তীর পরিবারে কেউ কুরুপ না হলেও হিন্দুকুশ পাহাড়ের উত্তর-পশ্চিম থেকে ভারতে আসা কাঞ্চনবর্ণ জনগোষ্ঠীর দেহসৌষ্ঠব, গায়ের বর্ণের সঙ্গে ভারতীয় ব্রাহ্মণদের চেহারায় খুব সামান্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়। জগন্নাথ মিশ্রের সংসারে এমন এক বিনন্দিত সুন্দর শিশুর জন্মগ্রহণে পাড়াপড়শিদের দু-একজন যেমন নাক সিঁটকালো, তেমনি ধর্মভীরু মানুষের বড় অংশ আনন্দে ভাবাকুল হয়ে বলাবলি করতে থাকল, সুলতান ইলিয়াস শাহের আতঙ্ক, মদ্রদেশীয় সেই মহাপুরুষ, বোধহয় ধর্মস্থাপনে ভূমিষ্ঠ হলেন। স্মার্ত আর নৈয়ায়িকদের চাপে প্রেমের গান গাওয়া নিষিদ্ধ করে সুলতান কুতবুদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে জারি করা ফতোয়া, এতদিনে বোধহয় বাতিল হতে

    চলেছে।

    শিশুটির জন্মের রাতে শুভ লক্ষণসূচক এমন আরও কিছু ঘটনা ঘটেছিল, যা আপাতবিচারে কাকতালীয় মনে হলেও সেই ঘটনাস্রোতে কার্যকারণের শৃঙ্খলা খুঁজে পেয়েছিল কিছু মানুষ জগন্নাথ মিশ্রের ঘরে তার কনিষ্ঠ ছেলের জন্মমুহূর্তকে স্বাগত জানাতে পরিবার আর পাড়ার মেয়েরা শাঁখ বাজানোর সঙ্গে যে উলুধ্বনি শুরু করেছিল, আধ ঘণ্টা পরেও তা থামেনি। গোধূলির পরে অন্ধকার যত বাড়ছিল, সন্ধে গড়িয়ে যাচ্ছিল রাতের দিকে, গঙ্গার পূর্ব-পশ্চিমে দু’তীরে নবদ্বীপ, কাটোয়া জুড়ে তত জোরালো হচ্ছিল শাঁখ আর উলুর আওয়াজ। জগন্নাথের বাড়ির একটা প্রদীপের আলো যেন গঙ্গার দু’তীরের হাজার গেরস্থর ঘরে প্রদীপ জ্বেলে দিয়েছিল। জগন্নাথের ঘরে শাঁখের আওয়াজ থামার আগে তার বাড়ির সবচেয়ে কাছের ঘাটে, গঙ্গায় স্নানার্থীরা যাকে বলে আপন ঘাট, সেখানে শাঁখ বেজে উঠেছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে শুধু আপন ঘাট নয়, যে ন’টি দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে নবদ্বীপ, সেই অস্তদ্বীপ, সীমন্তদ্বীপ, গোদ্রুমদ্বীপ, মধ্যদ্বীপ, কোলদ্বীপ, ঋতুদ্বীপ, ভাঙ্গুদ্বীপ, মোদক্রমদ্বীপ, রুদ্রদ্বীপ-এর ঘাটগুলো শাঁখের আওয়াজে মুখর হল। আপন ঘাটের কাছাকাছি বারকোণা ঘাট, নাগরিয়া ঘাটও কেঁপে উঠল অসংখ্য শাঁখের আওয়াজে। গঙ্গার পশ্চিম দিক, কাটোয়া থেকে বাতাসে ভেসে আসছিল শঙ্খধ্বনি, অনেক মানুষের গলার আওয়াজ। ফাল্গুনি পূর্ণিমার রাতে ষোলকলায় পরিপূর্ণ সোনার থালার মতো চাঁদ, থেকে থেকে মেঘের প্রলেপে ম্লান হয়ে গেলেও, মেঘ সরে গেলে স্বমহিমায় জেগে উঠছিল। হু হু করে হাওয়া বইলেও লালচে আভা জাগছিল আকাশে। লালের আভা ঢেকে দিচ্ছিল ঘন কালো মেঘ। চন্দ্রগ্রহণের এই রাতে চাঁদকে খাওয়ার জন্যে রাহুর সঙ্গে মেঘের যে ধুন্ধুমার লড়াই বাঁধতে চলেছে, গঙ্গার দু’তীরের অনেক মানুষ অনুমান করতে পারছিল। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের রাত ছিল সেটা। পঞ্জিকা অনুযায়ী, কিছুক্ষণের মধ্যে গ্রহণ লাগবে, চাঁদকে ধীরে ধীরে গিলতে শুরু করবে রাহু। গ্রহণের সময়ে, তা সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ, আংশিক বা সম্পূর্ণ হোক, পৃথিবীর পক্ষে হিতকারী কাল নয়। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে এ সময়ে সৃষ্টি রসাতলে যেতে পারে, নেমে আসতে পারে প্রলয়। রাহুর অমিত্রজনোচিত আচরণ থেকে ঈশ্বরের সৃষ্টি, সূর্য, চন্দ্র, বিশ্বচরাচরকে বাঁচাতে গ্রহণের সময়ে মানুষকে তাই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিষেধের কড়াকড়ির মধ্যে থাকতে হয় গৃহস্থকে। রান্নার উনুন তখন জ্বলবে না। রান্না করা ভাত-তরকারি ঘরে রাখা চলবে না, এক কণা ভাত, একফোঁটা জল, এমনকি মুখের থুথু গেলাও তখন মহাপাতকের কাজ। গ্রহণ শুরুর আগে যারা স্নান-খাওয়া সেরে, বাসনকোসন মেজে, ইষ্টমন্ত্র জপ করতে বসে যায়, পাপ স্পর্শ করতে পারে না তাদের। গ্রহণকালের পুরো সময় উপোসে কাটিয়ে, গ্রহণ কেটে গেলে সংসারের স্বাভাবিক কাজকর্ম তারা শুরু করতে পারে। প্রকৃত পুণ্যাত্মারা অর্থাৎ ব্রাহ্মণেরা গ্রহণের দিনটা নিরম্বু উপোসে কাটায়। মনু প্রবর্তিত, তাঁর পবিত্র সংহিতার নির্দেশ মেনে, বহুকালের আচরিত সংস্কার থেকে শাস্ত্রজ্ঞানী ব্রাক্ষ্মণ স্মার্ত আর নৈয়ায়িকরা যে বিধি-বিধান তৈরি করেছে, সেখানে পান থেকে চুন খসার উপায় নেই। বিধানভঙ্গকারীর মৃত্যু অনিবার্য। সপরিবারে তাকে রৌরব কুম্ভিপাকে ডুবে মরতে হয়। এর যে ব্যত্যয় নেই, এমন সহস্র সহস্র উদাহরণ গৌড়বঙ্গের পণ্ডিতরা, বিশেষ করে নবদ্বীপের ডাকসাইটে পণ্ডিত, স্মার্ত, নৈয়ায়িকরা শোনাতে পারে।

    ফাল্গুনি পূর্ণিমার গোধূলিতে, চন্দ্রগ্রহণ শুরুর কয়েক দণ্ড আগে, জগন্নাথ মিশ্রের যে পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হল, তার মুখ দেখে আত্মীয় পরিজন যেমন আনন্দে বিহ্বল হল, তেমনি ভয় পেল। শিশু যে সুলক্ষণযুক্ত, এ নিয়ে কারও সন্দেহ ছিল না। শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্তে আকাশে আস্ত চাঁদ জেগে উঠেছে, সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে জমাট কালো মেঘের আনাগোনা, আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চিরে ঘনঘন ঝলসে উঠছে বিদ্যুৎ, ভিজে বাতাস বইতে শুরু করেছিল। দু’বছর ধরে খরায় জ্বলে যাওয়া, দুর্ভিক্ষে হুমড়ি খেয়ে পড়া গৌড়বঙ্গের মাঠ-ঘাট ভাসিয়ে ঝেপে বৃষ্টি নামতে চলেছে, এ নিয়ে জগন্নাথের আত্মীয় পরিজনদের সন্দেহ ছিল না। ঠিক তাই হল। গ্রহণ শুরু হওয়ার অল্পসময় পরে রাহুর গালে থাপ্পড় কষিয়ে গোটা আকাশের দখল নিল কালো ঐরাবতের ঝাঁকের মতো আভূমিলুণ্ঠিত ঘন মেঘ। খরায় পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া গৌড়, সুষ্ম, রাঢ়ের পাথুরে মাটি নরম হয়ে গলতে শুরু করল। চাষের মাটি ফেটে যেখানে ধোঁয়া বেরোচ্ছে, ধরিত্রীর সেই হাঁ-মুখ দিয়ে তার গর্ভে ছলছল কলকল করে জল ঢুকতে লাগল। শুকনো খটখটে নবদ্বীপের যেসব দিঘি, পুকুরে খাওয়ার জল দুর্লভ হয়ে উঠেছিল, সেখানে ভরে উঠতে থাকল জলের আঁজলা। বিশাল বিশাল সেই বাঁওড়ের পাশে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল তেষ্টায় দড়ি ছিঁড়ে মাঠে-ঘাটে দৌড়ে বেড়ানো ক্ষিপ্ত গৃহপালিত মোষ, বলদ, গাভীন গরু, ছাগল, পথের কুকুর। জলে মুখ ডুবিয়ে তাদের জল খাওয়ার চোঁ চোঁ শব্দ বাতাসের গভীরে মিশে যেতে থাকল। জগন্নাথের ঘরে একটি শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘটনা, নবদ্বীপবাসীরা সবাই না জানলেও সাড়ম্বর একটানা বৃষ্টির মধ্যে তারা দৈবী আশীর্বাদ খুঁজে পেল। জলের আকাল যে শেষ হতে চলেছে, মৃত চাষ-আবাদের পুনর্জন্ম ঘটতে দেরি নেই, অনুভব করতে তাদের অসুবিধে হল না। গঙ্গার কোমরডুব জলে দাঁড়িয়ে যারা মন্ত্র জপ করছিল, শাস্ত্র আবৃত্তি করছিল, জলের ওপর জল পড়ার শব্দ শুনে আরও তেড়েফুঁড়ে উঠল তাদের কণ্ঠস্বর। বৃষ্টি শুরু হতে গঙ্গার ধার থেকে কিছু মানুষ পালিয়ে গেলেও, যারা থেকে গেল, তাদের শঙ্খের হুঙ্কার প্রচণ্ডতর হল। জগন্নাথের ঘরে সদ্যোজাত শিশুটি সেই মুহূর্তে এত খবর না জানলেও তার জন্মের সঙ্গে দুর্ভিক্ষে জর্জরিত গৌড়ভূমিতে নতুন প্রাণের আশ্বাস জাগল। নবদ্বীপের মানুষ জানল, উপোস করে শুকিয়ে মরার দিন শেষ হতে চলেছে। উত্তর-পূর্বের জনপদ, সোনার গাঁ, সাতগাঁ, লখনৌতি, বাঙ্গালা জুড়ে গত দু’বছর যে প্রবল বন্যা চলেছে, সেখান থেকে যৎকিঞ্চিৎ জল, খরায় পুড়তে থাকা গৌড়, সমতট, সুষ্মের ভূক্ষেত্রে পাঠিয়ে দিয়েছেন জলের দেবতা বরুণদেব। নবদ্বীপ এ যাত্রা বেঁচে গেল।

    ভ্রাতুষ্পুত্র সুলতান-সিকন্দর শাহের হত্যাকারী, সুলতানি মসনদে আসীন, জালালুদ্দিন আবুল মুজফ্‌ফর ফতেহ্ শাহ এখন গদি থেকে উৎখাত হলে গৌড়ের মানুষ স্বস্তি পায়। গত কয়েক বছর ধরে সেই সুদিনের প্রতীক্ষায় রয়েছে গৌড়বঙ্গের মানুষ। লোকমুখে রটনা, শুভক্ষণ আসতে দেরি নেই। চাঁদ সদাগর, সুমন্ত সদাগর, লাউসেন কিংবা নিষাদরাজা কালকেতু হয়তো এই খুনি সুলতানদের শাসন থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে পারে। পারবে কি? স্মার্ত আর নৈয়ায়িকরা কি মেনে নেবে নবশাক সম্প্রদায়ের বণিকদের কর্তৃত্ব? শূদ্র কালকেতুকে কি তারা সিংহাসনে বসতে দেবে?

    জগন্নাথ মিশ্র, তার পরিবার, পাড়ার মানুষ ভাবছিল, বিশালাকার, তপ্ত সোনার বর্ণ, সদ্যোজাত এই সন্তান শুধু দুর্ভিক্ষ বিমোচনের বার্তা নিয়ে আসেনি, কায়ক্লেশে কাটানো সংসারে সে আনবে সুখ, সচ্ছলতা। তাদের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, এই সংসারে, আজ রাতের বৃষ্টির মতো ঝরে পড়বে অফুরন্ত খুশি আর আনন্দ। বর্ষণমুখর সেই রাতে পাশের পাড়ায় শ্রীবাস আচার্যের বাড়ির দাওয়াতে বসেছিল বিষ্ণুভক্তদের গানের আসর। গান মানে, কীর্তন। বাঙালির অতি প্রিয় কবি জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্য থেকে রাধাকৃষ্ণের রাগ-অনুরাগের অংশ, সুর যোজনা করে গাইতে শুরু করে তারা এমনই আবিষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে অনেকের দু’চোখ, মুখ বেয়ে ক্রমাগত অশ্রু ঝরছিল। মৃদঙ্গ, খোল, করতাল বাজিয়ে তারা নাচগান করছিল। ঝড়বৃষ্টির শব্দে চারপাশ ডুবে যেতে গলা ছেড়ে, কীর্তনের অনুষঙ্গ চারটে বাদ্যযন্ত্র, ওত, অবনদ্ধ, ঘন, সুষির-এ সোচ্চার বোলবোলাও তুলে তারা গাইছিল,

    “ধীর সমীরে যমুনারি তীরে বসতি বনে বনমালী
    পীন পয়োধর পরিসর মর্দন চঞ্চল করযুগশালী।”

    বাড়ির সদর দরজার হুড়কো আটকে বন্ধ করে নবদ্বীপের জনা দশ ভাবাবিষ্ট বৈষ্ণব যেভাবে আকুল হয়ে কীর্তন করছে, তা দেখলে মনে হত, যাকে নিয়ে এই প্রেমগান চলছে, সে কাছাকাছি কোথাও রয়েছে, ভক্তদের ডাকে এখনি হাজির হয়ে যেতে পারে। কীর্তনে শ্রীবাসের তিন ভাই, শ্রীরাম, শ্রীপতি, শ্রীনিধি ছাড়া হাজির ছিল বাসুদেব দত্ত, মুরারি গুপ্ত, শিবানন্দ সেন, গোবিন্দ ঘোষ, মাধব ঘোষ, বাসুদেব ঘোষ এবং আরও কয়েকজন সুকণ্ঠ গায়ক। গুরুভাই ঈশ্বরপুরীকে নিয়ে শান্তিপুর থেকে অদ্বৈত আচার্যের আসার কথা থাকলেও, সম্ভবত ঝড়বৃষ্টির জন্যে তারা তখনও এসে পৌঁছোয়নি।

    গৌড় বাংলায় তখন প্রবলপ্রতাপ সুলতানি আমল। মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া থেকে আগত মুসলিম শাসকরা কম বেশি পাঁচশো বছর এখানে কাটালেও এ দেশটাকে সম্পূর্ণ বুঝে উঠতে পারেনি। কোথাও একটা ভয় ছিল। সন্ন্যাসী আর জাদুকরে বোঝাই প্রজাপুঞ্জ যে কোনও সময়ে মসনদ ছিনিয়ে নিতে পারে, এই ভয় তারা পেত। নানা ফতোয়া জারি করে প্রজাদের বাগে রাখতে চাইত। ফলে যথেষ্ট গোপনীয়তা বজায় রেখে বিষ্ণুভক্তদের গানের আসর আয়োজন করতে হত। গৌড়ের সুলতানের গুপ্তচররা রাজ্য জুড়ে ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতাসম্পন্ন কৃঘ্ন নামের মানুষটাকে তখনও খুঁজে চলেছে। মহাভারতের কাহিনী ওপর ওপর শুনে দেড়শো বছর ধরে প্রায় প্রত্যেকটি সুলতান ভয় পাচ্ছিল যে কৃষ্ণ নামের লোকটা যে কোনও মুহূর্তে তাদের মসনদ উল্টে দিতে পারে। মানুষটা সঙ্গীত ভালোবাসে। সঙ্গীত দিয়ে তাকে আবাহন করলে সে বুঝে নেয়, দুষ্কৃতের অত্যাচার থেকে বাঁচাতে দেশবাসী তার খোঁজ করছে। সঙ্গীতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি না করে তাই সুলতান ইলিয়াস শাহের উপায় ছিল না। কৃষ্ণ আর বিষ্ণু যে এক, তা না জেনেও বৈষ্ণবদের দল বেঁধে গান করা কড়া হাতে সুলতানরা দমন করত। কোথা থেকে কী হয়, কে বলতে পারে! সংস্কৃত মহাভারত, ভালো করে বোঝার জন্যে সেই গ্রন্থের ভাষান্তর করতে সুলতানরা পণ্ডিত নিয়োগ করেছিল। মহাভারত তখনও সেভাবে জনপ্রিয় হয়নি। অষ্টাদশ পর্বের সেই বিশাল পুঁথি আদ্যন্ত পাঠ করার মতো নগন্য কয়েকজন পণ্ডিত থাকলেও সর্বসাধারণ যে সেই মহাকাব্য শোনার যোগ্য, এটা তারা ভাবত না। বরং সংস্কৃত ভাষার শুদ্ধতা ও শাস্ত্রবাক্যসমূহের পবিত্রতা বজায় রাখতে শূদ্র সম্প্রদায় আর মেয়েদের সংস্কৃত শিক্ষা থেকে তারা দূরে সরিয়ে রেখেছিল। হাতে লেখা মহাভারতের নানা পুঁথির আখ্যানেও বিস্তর প্রভেদ ছিল। পাঁচ স্বামীর সহধর্মিনী দ্রৌপদীকে তারা যেমন কুলটা স্ত্রীলোক বিবেচনা করত, তেমনি মদ্রদেশীয় যদুবংশের রাজা, কুচকুচে কালো কৃষ্ণকে শ্বেতাঙ্গ আর্যসমাজের শত্রু ধরে নিয়ে বহু বছর তাকে ব্রাত্মণ্য ধর্ম ও সংস্কৃতির অন্দরমহলে ঢুকতে দেয়নি। কৃষ্ণকে তারা ভাবত শূদ্রকুলজাত এক লম্পট, বলবান জাদুকর। নায়কের মর্যাদা দিয়ে যে মহাকাব্য কৃষ্ণকে প্রথম জনসমক্ষে হাজির করেছিল, সুলতানি আমলের শুরুতে শুধু অল্প কয়েকজন সংস্কৃত জানা, মানুষ, সেই গ্রন্থের সঙ্গে পরিচিত ছিল। ইতিহাসবোধ তাদের প্রখর ছিল না। তারা অনেকে বিশ্বাস করত, নিকট অতীতে দাক্ষিণাত্যে অপ্রতিহত প্রতাপশালী যে রাষ্ট্রকূট রাজবংশ, চালুক্যরাজ দ্বিতীয় কীর্তিবর্মণের হাত থেকে শাসনক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়, সেই রাজবংশের অধিপতি ইন্দ্রের ছেলে কৃষ্ণ, দক্ষিণ-মধ্য-পূর্ব ভারতের একাংশ জুড়ে যে সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল, সেই সম্রাট কৃষ্ণ আর ভাগবত এবং মহাভারতে বর্ণিত, ঈশ্বরের দশ অবতারের একজন, ‘কৃষ্ণ’ একই ব্যক্তি। চালুক্যরাজ বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পরে ব্রোচ অঞ্চল আর মালবের গুর্জর প্রতিহার রাজ্য রাষ্ট্রকূটরাজ কৃষ্ণ দখল করে। মধ্যপ্রদেশের পূর্বভাগেও কৃষ্ণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়। তার প্রতিপত্তি যত বাড়তে থাকে, তত বেশি করে সেই চরিত্রে পুরাণের দ্বারকারাজ কৃষ্ণের অপার মহিমা আরোপিত হতে শুরু হয়। চালুক্যরাজ কীর্তিবর্মণও দ্বিতীয় দফায় কৃষ্ণের হাতে বিধ্বস্ত হয়। দাক্ষিণাত্য জুড়ে কৃষ্ণের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে কৃষ্ণ দাক্ষিণাত্যের রাজসিংহাসনে সমাসীন হয়। রাষ্ট্রকূট রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা ইন্দ্র তখন লোকান্তরিত। কৃষ্ণের রাজত্বকালে চালুক্যরা আরও একবার ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়। কৃষ্ণের বিজয়রথ অপ্রতিহত এগোতে থাকে। নাঙ্গ আর ভেঙ্গির চালুক্যবংশীয় অধিপতিদের উচ্ছেদ করে সমগ্র চালুক্য সাম্রাজ্যের সম্রাট হয় কৃষ্ণ। ইলোরার বিখ্যাত মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতাও কৃষ্ণ। রাজতক্তে বসে কৃয়ের ছেলে ধ্রুব বিন্ধ্য পেরিয়ে উত্তরভারত পর্যন্ত রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্য বিস্তার করে। উত্তরভারতে প্রথমে পালরাজ পরে গুর্জর প্রতিহারদের সঙ্গে এক ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্রাট ধ্রুব জড়িয়ে পড়ে। প্রতিহার বৎসরাজ আর পালশাসক ধর্মপালকে যুদ্ধে ধ্রুব পর্যুদস্ত করলেও উত্তরভারতে স্থায়ী সাম্রাজ্য গঠনের পরিকল্পনা ধ্রুবর ছিল না। উত্তরভারত জয় করে প্রচুর বিত্তসম্পদ নিয়ে ধ্রুব দাক্ষিণাত্যে ফিরে গেলে উত্তর-মধ্য ভারতের মানুষ তাকে ‘কৃষ্ণ’ নামে অভিহিত করতে থাকে। ধ্রুবর ছোট ছেলে তৃতীয় গোবিন্দ সিংহাসনে বসার পরে তাকেও নবতর এক কৃষ্ণ হিসেবে মানুষ গ্রহণ করে। পুরাণে ‘গোবিন্দ’ আর ‘কৃষ্ণ’, একই ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখিত হওয়ায় সম্ভবত এরকম ঘটেছিল। গোবিন্দের দাপটেও উত্তর ও মধ্যভারত প্রকম্পিত হয়েছিল। মহাভারতের মদ্রদেশীয় জাদুকর কৃষ্ণ-ই যে বহু বছর ধরে বিভিন্ন নামে রাষ্ট্রনীতির মঞ্চে আবির্ভূত হচ্ছে, এবং অপরাজেয় ক্ষমতা প্ৰদৰ্শন করছে, এমন ধারণা আর্যাবর্তের ব্রাহ্মণ্যবাদীদের মগজে চেপে বসেছিল। চালুক্য, পল্লব, নাঙ্গ, পাণ্ড্য, দাক্ষিণাত্যের প্রায় সব রাজশক্তি এককভাবে এবং জোটবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রকূট অধিপতি তৃতীয় গোবিন্দের সঙ্গে সংঘর্ষে পরাভূত হয় এবং তার অধীনতা মেনে নেয়। উত্তরভারতে প্রতিহাররাজ নাগভট্টকে, পালরাজা ধর্মপাল এবং তার মনোনীত কনৌজের শাসক চক্রায়ুধকে বশ্যতা স্বীকারে গোবিন্দ বাধ্য করে। কনৌজ ছাড়ার আগে এক সভা আহ্বান করে গোবিন্দ নিজেকে গোটা উত্তরভারতের সার্বভৌম অধিপতি হিসেবে অভিষিক্ত করে। তার অধীনতা স্বীকার করতে সেই সভায় যারা এসেছিল, তাদের মধ্যে ছিল ভোজরাজ, মৎস্যরাজ, মদ্ররাজ, কুরুরাজ, যদুরাজ, যবনরাজ, অবন্তী, গান্ধার প্রভৃতি রাজ্যের অধিপতিরা।

    ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট রাজবংশ শাসন চালিয়েছিল। তৃতীয় গোবিন্দের ছেলে অমোঘবর্ষ আর তার ছেলে তৃতীয় কৃষ্ণের রাজত্বে রাষ্ট্রকূট শক্তি, ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছেছিল। বিদ্যোৎসাহী, সুলেখক, সুগায়ক, বাঁশিবাদক রাষ্ট্রকূট সম্রাট, তৃতীয় কৃষ্ণের বীরত্বের সঙ্গে এমন কিছু সম্মোহনী শক্তি ছিল, যা কিংবদন্তির মতো আর্যাবর্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। দুষ্টের যম আর শিষ্টের রক্ষক হিসেবে কৃষ্ণের খ্যাতি, তাকে আরও বেশি করে মহাভারতের কৃষ্ণের মহিমা দিয়েছিল। চোলরাজশক্তিকে উচ্ছেদ করে দক্ষিণে রামেশ্বরম থেকে উজ্জয়িনী, বুন্দেলখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল কৃষ্ণের রাজ্য। রাজ্যবিস্তারের চেয়ে তার যুদ্ধাভিযানের বড় উদ্দেশ্য ছিল, সাম্রাজ্য জুড়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন অঞ্চলের অত্যাচারী শাসককে সরিয়ে সেখানে জনহিতৈষী শাসককে ক্ষমতায় বসানো। হিন্দুকুশ পেরিয়ে, খাইবার গিরিপথ ধরে ভাগ্যান্বেষী যবন ঘোড়সওয়ারদের ভারতে ঢোকা তখন শুরু হয়েছে। তারা যেখানে যায়, শুনতে পায় সর্বশক্তিমান কৃষ্ণের বিবরণ, তাকে নিয়ে রচিত নানা কিংবদন্তি। মহাভারত কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র, কৃষ্ণাবতারের সঙ্গে এভাবে মিশে একাকার হয়ে যেতে থাকে রাষ্ট্রকূট রাজ তৃতীয় কৃষ্ণ, তার বিদ্যোৎসাহিতা, শিল্পপ্রীতি, প্রেমিকস্বভাব, বিচক্ষণতা, বীরত্ব আর পরাক্রমের কাহিনী। নতুন এক আখ্যান ধীরে ধীরে জন্ম নিতে থাকে। আর একশ বছর পরে গজনীর সুলতান মামুদ যখন বারবার ভারত আক্রমণ আর লুঠ করছে, তখন তার অন্যতম যুদ্ধকৌশল ছিল, দাক্ষিণাত্য অর্থাৎ কৃষ্ণের সাম্রাজ্যের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা উত্তর-পশ্চিম ভারত বিশেষ করে আর্যাবর্ত জুড়ে ঈশ্বরের অবতার, মহাভারতের কৃষ্ণের সঙ্গে রাষ্ট্রকূট সাম্রাজ্যের একাধিক অধীশ্বর, কৃষ্ণ, তৃতীয় গোবিন্দ, তৃতীয় কৃষ্ণকে অভিন্ন কল্পনা করা শুরু হয়ে গেছে। জাদুশক্তির জোরে অমর, কৃষ্ণকে ছলে বলে কৌশলে আটক করা বা খুন করার ছক তৈরি করে ইসলামী শাসকরা। বাছাই করা অঞ্চলগুলোতে গুপ্তচর পাঠানো শুরু করেছে। মহাভারত কাহিনীর ব্যাসকূট রহস্য উদ্ধার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল মুসলমান মৌলানা, মৌলভিরা। অন্ধ দৈববিশ্বাসের যুগ ছিল সেটা। অলৌকিক, অনায়াসে বাস্তব, আর বাস্তব আরও সহজে অলৌকিক হয়ে উঠত। দুটোকেই মানুষ সমানভাবে বিশ্বাস করত। বলায় ভুল হল। বাস্তবের চেয়ে দৈব আর অলৌকিকে হাজার গুণ বেশি বিশ্বাস ছিল মানুষের।

    ইতিহাসের সেই ধূসর প্রেক্ষাপটে পাঁচশো বছর পরে নবদ্বীপে চৈতন্যের জন্ম হল। ইন্দ্রপ্রস্থ অর্থাৎ দিল্লিতে আর গৌড়ে জবরদস্তভাবে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেও পাঁচশো বছর আগের সংস্কার, নবাব, বাদশা, সুলতানদের মন থেকে কাটেনি। কৃষ্ণভীতি শিথিল হয়নি। কৃষ্ণমহিমা কীর্তন নিষিদ্ধ করে আরোপিত হুকুম যথারীতি বহাল ছিল। অমিতবিক্রম রাষ্ট্রকূট সম্রাট, মৃত কৃষ্ণ যে ইচ্ছে করলে, শ্মশানের ছাই সরিয়ে সশরীরে উঠে দাঁড়াতে পারে, মরা মানুষকে বাঁচিয়ে দিতে পারে, গৌড়ের সুলতানরা, যে যখন ক্ষমতাসীন হত, বিশ্বাস করত। তাদের ধারণা হয়েছিল, কৃষ্ণকে কাফেররা ঈশ্বরের অবতার হিসেবে মানলেও আসলে সে উচ্চমার্গের জাদুকর। ভেল্কির জোরে যা খুশি ঘটাতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে সে অপরাজেয় উত্তর-পশ্চিম, মধ্যভারতের কুড়ি-পঁচিশ জন রাজাকে নিয়ে, তাদের মধ্যে একাধিক যবন রাজা ছিল, পুতুলখেলা খেলেছে সম্রাট কৃষ্ণ। সবচেয়ে বড় কথা, তাকে দেখে অল্পবয়সী স্ত্রীলোকেরা সুস্থির থাকতে পারে না। ভালোবাসায় গলে যায়। তার বাঁশির সুর শুনে রান্নাঘরে চুলোর সামনে তারা সম্মোহিতের মতো বসে থাকে। উনুনে বসানো ভাত, তরকারি পুড়ে গন্ধ ছাড়লেও তাদের সম্বিত ফেরে না। চোখের ইসারায়, কিংবা হাতছানি দিয়ে কোনও মেয়েকে কৃষ্ণ ডাকলে সে যতই অভিজাত, বিত্তবান পরিবারের কন্যা হোক, এমনকি রাজকন্যা হলেও ঘর ছেড়ে সে বেরিয়ে আসে। মানুষটার আবার একশো এক নাম। নাম ভাঁড়িয়ে কখনও সে হরি, কখনও গোবিন্দ, শ্যাম, বাসুদেব, বিষ্ণু, কানাই, নারায়ণ, নন্দলাল, জগন্নাথ, আরও কত নাম, হিসেব নেই। মানুষটার আসল নাম, চেহারা নিয়ে নানা বিবরণ চালু থাকলেও,কোনটা সঠিক, কেউ বলতে পারে না। তার বয়স নিয়েও সুনির্দিষ্ট ধারণা কারও নেই। বয়সের হিসেব রাখার জন্যে মাথাব্যথা তখন কারও ছিল না। কোনও বৃদ্ধ, নিজের বয়স দুশো বা তিনশো বললে, সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করত। সন, তারিখের ব্যবহার রপ্ত ছিল কিছু পণ্ডিতের।

    সেখানেও অস্পষ্টতা ছিল যথেষ্ট। মহাভারত নামে স্বল্প পরিচিত এক সংস্কৃত পুঁথির কৃষ্ণের সঙ্গে হাজার বছর পরের রাষ্ট্রকূট বংশের দুই অধীশ্বর কৃষ্ণ ও তৃতীয় কৃষ্ণকে মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার করে দেখতে তাদের অসুবিধে হয়নি। শৌর্যবীর্য, অশেষ কলাবিধিসম্পন্ন, মহাভারতের কৃষ্ণ যে অমর, মরে গিয়েও মরে না, এ বিশ্বাস তাদের মনে চিরকালের মতো বিধৃত হয়ে গিয়েছিল। যদুবংশীয় কৃষ্ণ আর রাষ্ট্রকূট বংশীয় কৃষ্ণকে অভিন্ন ভাবতে তাদের অসুবিধে হয়নি। মহাভারতের হাতে লেখা পুঁথির রকমফের থেকে এমন ঘটেছিল। বহু বছর আগে সিংহাসন নিয়ে কুরু-পাণ্ডবদের মধ্যে বড়রকম যুদ্ধে যে কৃষ্ণ জড়িয়ে পড়েছিল, হাজার বছর পরেও সে রকম অনেকগুলো যুদ্ধে সেই নামের মানুষটা সমান তৎপরতায় অংশ নিতে, সময়ের ব্যবধান মুছে ফেলে কৃষ্ণের যে সর্বকালীন, সর্বজনীন, অভেদ মূর্তি তৈরি হয়, ইতিহাসবোধহীন, কিংবদন্তিপ্রিয় মানুষের কল্পনাকে তা উদ্দীপ্ত করেছিল। কুরুপাণ্ডবের যুদ্ধ, কুরুপাঞ্চালের যুদ্ধ, চালুক্য আর রাষ্ট্রকূটদের যুদ্ধ, রাষ্ট্রকূট বনাম কনৌজ বা গুর্জর, প্রতিহার, ভোজ, পল্লব, নাঙ্গ, পাণ্ড্য যে কোনও যুদ্ধ, কৃষ্ণ চরিত্রের সূত্রে পুরাণ, ইতিহাস, কিংবদন্তী জুড়ে ঘটনার যে মালা তৈরি করেছিল, তার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন করার কেউ ছিল না। প্রশ্ন করার চেয়ে বিশ্বাস করে তখন মানুষ বেশি আরাম, শান্তি পেত। মানুষের মনের গঠন ছিল বিশ্বাসপ্রবণ। ভয়ে অথবা ভক্তিতে কিংবা দুটোর তাড়নায় সত্যি-মিথ্যে (মিথ্যের অংশ বেশি) চট করে বিশ্বাস করে নিত।

    পুরাণের কৃষ্ণ আর রাষ্ট্রকূট বংশের কৃষ্ণের একত্ব বিশ্বাস করে নিয়ে তারা জেনে গিয়েছিল যুদ্ধ আর যুদ্ধের ফলাফল, সবই পূর্বনির্ধারিত, কৃষ্ণের তৈরি কর্মসূচি। যুদ্ধে যারা নিশ্চিহ্ন হবে এবং যারা জিতবে, দু’পক্ষের চরম পরিণাম এক, দু’পক্ষকেই অচিরে মহাপ্রস্থানের পথে যেতে হবে। পথ দেখাবে কৃষ্ণ। দু’পক্ষকে যুদ্ধে কৃষ্ণ সমান মদত দিলেও নিজে একবারের জন্যে অস্ত্রধারণ করে না। দুধ, ক্ষীর, সর, মাখন, ননী খেতে মানুষটা ভালোবাসে। ষোলশো প্ৰেমিকা আছে, অসম্ভব সংগীতপ্রেমী। গান শুনলে অস্থির হয়ে গায়কের কাছে ছুটে যায়। সুরের ঝর্নাধারা খুঁজে বেড়ায়। অসাধারণ বাঁশি বাজায় বলে তার নাম বংশীধারী, কেউ বলে বংশীবদন। উত্তর-মধ্য আর্যাবর্তে তার অসংখ্য ভক্ত থাকলেও পূর্বভারতে তার মহিমা সেভাবে তখনও প্রচারিত হয়নি।

    চৈতন্যের জন্মের কিছু আগে থেকে গৌড়ের সুলতানদের সূত্রে সমতট, সুম্ম, বাঙ্গালার মানুষের কাছে বেশি করে কৃষ্ণ তখন পরিচিত হচ্ছিল। সুলতানদের কৃষ্ণ-ভীতি থেকে ছড়িয়ে পড়ছিল কৃষ্ণের প্রচার। যে মানুষটা যবনদের ভয়ের কারণ, স্বাভাবিকভাবে কাফেরদের কাছে সে প্রিয়জন হয়ে উঠছিল। মহাভারতের পুঁথি শোনার জন্যে কথকঠাকুর খুঁজে বেড়াচ্ছিল দেশীয় মানুষ। বাংলায় ভাষান্তরিত মহাভারত পুঁথির সন্ধান না পেয়ে হতাশ হচ্ছিল। রামায়ণের কাহিনী মুখে মুখে যতটা প্রচার পেয়েছিল, মহাভারতের বৃত্তান্ত তার সিকিভাগ ছড়ায়নি। রামায়ণের কথকতা যারা শুনেছে, তারা বলত, রাম নাকি আসলে ছদ্মবেশি কৃষ্ণ। দু’জনেই রাজা, রাজপরিবারের ছেলে। চেহারাতেও অনেক মিল। সত্যি-মিথ্যে জানার সুযোগ গৌড়ের বেশিরভাগ মানুষ এখনও পায়নি। তারা মজে আছে মনসার ভাসান গানে, চণ্ডীমাহাত্ম্য কথকতায়, পঞ্চ ‘ম’-এর মৌতাতে, শিবের গাজনে, যথেচ্ছ ভোগসুখে। তাদের কাছে ধর্ম মানে সমৃদ্ধি। বিলাসব্যসনে ডুবে থাকার সহজ উপায়। ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থেকে তাদের তোষামুদি করাই ধর্ম। ছেঁড়া গায়ের চাদরের মতো এক ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্ম গ্রহণে সাধারণ মানুষের অসুবিধে হয় না। স্বধর্ম আঁকড়ে যারা পড়ে থাকত, সেই ব্রাহ্মণরা শুধু ধর্মনাশের ভয় পায়। সংখ্যায় মুষ্টিমেয় হলেও সমাজরক্ষা আর রাষ্ট্রশাসনে তারা রয়েছে পুরোভাগে।

    সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসম্প্রদায়, যাদের শূদ্র অভিহিত করা হয়েছিল, তারা জানত না ধর্ম দিয়ে কী করতে হয়, ধর্ম খায়, না গায়ে মাখে! ধর্মরক্ষার তাগিদ তাদের নেই। যখন যা রাজধৰ্ম, তখন তার পেছনে পুরো গোষ্ঠী দাঁড়িয়ে যায়। ধর্মরক্ষার পুরো দায়িত্ব ব্রাহ্মণদের, এই বিধান মেনে নিয়ে ব্রাহ্মণদের তারা এড়িয়ে চলত। ব্রাহ্মণদের যত না ভক্তি করত, তার চেয়ে বেশি ভয় পেত। ব্রাষ্মণ রুষ্ট হয়ে অভিশাপ দিলে সপরিবার ভস্ম হয়ে যেতে পারে, এ বিশ্বাস তাদের হাড়ে মজ্জায় ঢুকে গিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি তারা ভয় পায় নৈয়ায়িক, স্মার্ত ব্রাহ্মণদের। তারাই ছিল ব্রাক্ষ্মণ্যধর্মের প্রবক্তা, হর্তাকর্তা-বিধাতা। হিন্দুধর্ম বলতে তারা বুঝত মনুসংহিতা। মনু রচিত ধর্মীয় আচরণ বিধিকে তারা ধর্ম মনে করত। তারা আবার চুকলিখোর। সুলতানি গুপ্তচরদের খবর জোগায়, সুলতানের নেকনজরে থাকতে চায়। ধর্মের মধ্যে কাব্যসাহিত্য, সংগীত, শিল্পসৌন্দর্য, দর্শন, এমনকি প্রেম-ভালোবাসার জন্যে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে তারা রাজি ছিল না। অথচ অভ্যন্তরীণ বিকাশের নিয়মে আর পরিস্থিতির চাপে ধর্মীয় কাঠামোর রূপান্তর ঘটেছিল। দেড় হাজার বছর আগে বৈদিক ধর্মকে যে গৌতম বুদ্ধ বদলে দিয়ে গিয়েছিলেন, একেশ্বরবাদ থেকে নিরীশ্বরবাদ থেকে নির্বাণে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাঁর প্রচারিত অহিংসা, করুণা, প্রেম, ভালোবাসার সেই বোধি, দেড় হাজার বছর পরেও জাগরূক ছিল।

    ভালোবাসার গান সঙ্কীর্তনের অভিযোগে এক রাতে শ্রীবাসের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিল সিরাজুদ্দিন কাজির গুপ্তচররা। নবদ্বীপের বিষ্ণুভক্তরা ভয়ে গা-ঢাকা দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআড়িয়াল খাঁ – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026
    Our Picks

    চাঁদের অমাবস্যা – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

    July 31, 2026

    সংশপ্তক – শহীদুল্লা কায়সার

    July 31, 2026

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }