Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প126 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঘটনার ঘনঘটা – ২

    ২

    তপন বলল, হ্যাঁ, আমি তোর রেকর্ড প্লেয়ারটা কিনতে পারি, যদি তুই ওটা অন্য এক জায়গায় ডেলিভারি দিয়ে আসতে পারিস।

    আমি সঙ্গে সঙ্গে বললুম, হ্যাঁ, রাজি আছি। কোথায় পৌঁছে দিয়ে আসতে হবে, বল!

    তপন মিটিমিটি হেসে বলল, ঠিক দিয়ে আসবি তো?

    এর আগে আমি ছোটমামার এই রেকর্ড প্লেয়ারটা অন্তত সাতাশজনকে গছাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। কয়েকজন তো পাত্তাই দিতে চায়নি। কয়েকজন ঠাট্টা করে বলেছে, এই জাংটা কোথা থেকে তুলে আনলি? নিলয়দা বলেছিলেন, আমার বাড়িতে ওরকম একটা পড়ে আছে, তুই নিয়ে যেতে পারিস। ফ্রি।

    এদিকে ওটাকে উপলক্ষ করে আমার ছোটমামার সংসারে গৃহশান্তি নষ্ট হবার উপক্রম। নতুন মামিমা চান একটা টু–ইন–ওয়ান কিনতে। কিন্তু ছোটমামা খুব স্ট্রিক্ট প্রিন্সিপালের মানুষ। পুরোনোটা বিক্রি না করে নতুন কিছু কিনবেন না। টাকার প্রশ্ন নয়, নীতির প্রশ্ন। ফলে ও বাড়িতে গানের বদলে সর্বক্ষণ ঝগড়া শুনতে পাওয়া যায়।

    ছোটমামা আবার নিজের মুখে কারুকে ওটা বিক্রির কথা বলতে পারবেন না, তাতে তাঁর সম্মানে লাগে। ফলে, আমিই তাঁর একমাত্র সেলসম্যান। এর মধ্যে আমি কিছু কিছু সেল্সটক্ রপ্ত করে ফেলেছি। প্রথমেই ক্যাসেটের নিন্দে করতে শুরু করি। বাজারে অধিকাংশ ক্যাসেটই ভেজাল। প্রি–রেকর্ডেড যেসব গানের ক্যাসেট সস্তায় কিনতে পাওয়া যায়, সেগুলো শুনলে মানুষ দিন দিন অসুর হয়ে ওঠে। আর যেহেতু ব্যাড কয়েনস ড্রাইভ আউট গুড কয়েন্‌স, সেই রকমই ভেজাল ক্যাসেটের অত্যাচারে খাঁটি ক্যাসেট বাজারে খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। রেকর্ড হচ্ছে খানদানি জিনিস। খাঁটি মিউজিক, সূক্ষ্ম সুরের কাজ শুনতে হলে এখনো রেকর্ড ছাড়া উপায় নেই…

    তপনের ওপর আমি বিশেষ ভরসা করিনি। তপন আমার চেয়ে বছর চারেক মাত্র বড়। কিন্তু ছেলেবেলায় একসঙ্গে ফুটবল খেলেছি বলে ওকে আমি নাম ধরেই ডাকি। যদিও আমার তুলনায় তপন অনেক উঁচুতলার মানুষ। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেই, ভালো চাকরি পেয়েছে। এর মধ্যে জাপান ঘুরে এলো একবার। তাছাড়া প্রায়ই দিল্লি–বোম্বাই যায় অফিসের কাজে। গত বছর বিয়ে করেছে, শ্বশুরের কাছ থেকে গাড়ি পেয়েছে। সে সেকেণ্ড হ্যাণ্ড কোনো জিনিস কেনার খদ্দের নয়। এমনিই এ পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম বলে তপনকে একবার বাজিয়ে দিতে চেয়েছিলাম!

    তপন এখনো রেকর্ড প্লেয়ারটা চোখেই দেখেনি। তবু রাজি হয়ে গেল? দামও জানতে চায়নি।

    তপন একটা প্যাড টেনে নিয়ে বলল, তাহলে তোকে আমি ঠিকানাটা দিয়ে দিচ্ছি। যাওয়া আসার খরচও আমি দেব। তোকে শুধু পৌঁছে দিয়ে আসতে হবে।

    —যাওয়া–আসার খরচ দিতে হবে না। কিন্তু তুই জিনিসটা আগে দেখবি না?

    –তোর মুখের কথা আমি অবিশ্বাস করব? তুই তো বলছিস যন্তরটা চালু অবস্থায় আছে!

    –হ্যাঁ। চালু তো আছেই, খুব ভালো কোম্পানির জিনিস। অ্যাজ গুড অ্যাজ নিউ। সঙ্গে চারখানা রেকর্ড ফ্রি।

    —তবে তো আর কোনো কথাই নেই। কত যেন দাম বললি?

    —জিনিসটা তো আমার নিজের নয়, ছোটমামার। উনি সাড়ে সাত শো চাইছেন। অবশ্য বলে–কয়ে…

    —ঠিক আছে। আমি চেক লিখে দিচ্ছি। কার নামে লিখব, তোর নামে?

    –না–না, আমার নামে না। আমার কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই। ছোটমামার নামে লিখতে হবে।

    –তোর নামে চেক নিবি না? তা হলে তুই তোর কমিশান পাবি?

    — কমিশান? আমার ছোটমামার কাছ থেকে আমি কমিশান নেব নাকি? যাঃ!

    আমার দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে তপন বলল, নীলু, তুই আর মানুষ হলি না! এই জন্য তোর কিছু হবে না। আজকালকার দিনে ছোটমামা–বড়মামা, কাকা–জ্যাঠা যেই–ই হোক, তুই কারুর হয়ে একটা কাজ করে দিলে তার পারিশ্রমিক নিবি না? তুই যে এতটা সময় নষ্ট করছিস, তার কোনো দাম নেই?

    আমিও হাসলুম। খুব বড়লোকদের মতন আমি একটা জিনিসই যত ইচ্ছে খরচ করতে পারি, সেটা হচ্ছে সময়। সুস্থ অবস্থায় গোটা একটা দিন বিছানায় শুয়ে পা নাড়ালেও কেউ আমায় কিছু বলবে না। কটা বড়লোক এই আরাম উপভোগ করতে পারে!

    তপনকে বললুম, চেকটা তুই আমার ছোটমামার নামেই লিখে দে। কারুকে খুশি করতে পারাও তো অনেক কিছু পাওয়া। তাছাড়া, এরপর যখন তখন নতুন মামিমার কাছে খিচুড়ি খেতে চাইলেও মনের মধ্যে কোনো গ্লানি হবে না।

    তপন প্রথমে চেকটা লিখল, তারপর একটা কাগজে একটা ঠিকানা লিখে দিয়ে জিজ্ঞেস করল, কবে যেতে পারবি, বল?

    ঠিকানাটা দেখে আমি থঃ—

    অনুপমা সেন
    রাজার বাঁধ
    ভায়া ইব্রাহিমপুর
    জেলা : বীরভূম।

    চোখ কপালে তুলে আমি জিজ্ঞেস করলুম, রেকর্ড প্লেয়ারটা বীরভূমে পৌঁছে দিতে হবে?

    তপন একগাল হেসে বলল, তুই কথা দিয়েছিস, নীলু। সেই অনুযায়ী ডিল হয়েছে। চেক লিখে ফেলেছি। এখন ব্যাক আউট করতে পারবি না!

    অত দূরে যেতে হবে! বলিসনি তো আগে?

    —সেই জন্যই তো তোকে ভাড়া অফার করেছি। এটার জন্য যখন তুই কোনো কমিশান পাবি না, তোর আমি ক্ষতি করতে চাই না। ভাড়া–টাড়া সব দিয়ে দেব। যা না ঘুরে আয়। তোর ভালো লাগবে।

    –এই অনুপমা সেন কে?

    –আমার প্রথম প্রেমিকা। বিবাহিতা মহিলা…আমার নাম করে তোকে চুপি চুপি দিয়ে আসতে হবে। দেখিস, অন্য কেউ যেন টের না পায়।

    –ভাই তপন, আমি ওসব ঝঞ্ঝাটে যেতে চাই না!

    তপন এমন হাসতে লাগল যেন খুব একটা মজা পেয়েছে। আমার প্রায় সব কথাতেই হাসছে—আমি কি চার্লি চ্যাপলিন নাকি?

    –দ্যাখ নীলু। তোর কাছ থেকে সাড়ে সাত শো টাকা দিয়ে আমি যেটা কিনলুম, সেটা কোনো রেকর্ড প্লেয়ার নয়। সেটা একটা আইডিয়া। তোর কথা শোনা মাত্র আমার মাথায় আইডিয়াটা এলো। সেজন্য তোকে ধন্যবাদ। এখন তুই যদি এই জিনিসটা বীরভূম পৌঁছে দিয়ে আসতে পারিস, তা হলে আমি যথার্থ খুশি হবো। তুই তোর মামা–মামিমাকে খুশি করার জন্য এত পরিশ্রম করছিস, তুই আমার জন্য এইটুকু করবি না?

    —ভাই তপন। তোকে খুশি করার জন্য আমাকে বীরভূমের এক গ্রামে মার খেতে পাঠাবি। এটা কি ঠিক? শুনেছি বীরভূমের লোকেরা লাঠির বদলে লোহার শাবল–টাবল দিয়ে মারে!

    তপন আর একগাল অট্টহাসি চালাল। ও যেন আজ হাসি দিয়ে গলা সাধছে।

    সিগারেটের প্যাকেট বার করে আমাকে একটা দিয়ে খানিকটা শান্ত হয়ে বলল, নীলু, তোর জীবনের প্রথম প্রেমিকা কে ছিল আমি জানি না। কিন্তু আমার জীবনের প্রথম প্রেমিকা আমার মা। মাকে আমি পাগলের মতন এখনো ভালোবাসি অনুপমা নামটা শুনলে ঠিক মা মা মনে হয়। তাই না? কিন্তু আমাদের মায়েরাও এক সময় আধুনিকা ছিল। মাত্র বারো–চোদ্দ বছর আগেও আমার মা সেজেগুজে বাবার সঙ্গে পার্টিতে যেতেন। আমার মাকে তো তুই দেখেছিস?

    আমি মাথা নাড়লুম। তপনের মাকে আমি কাকিমা বলে ডেকে এসেছি। কোনোদিন তার নাম জানার প্রয়োজন হয়নি।

    তপন আবার বলল, বাবা মারা যাবার পর মা নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছে। আমার বোনের বিয়ে হয়ে গেছে জানিস তো? আমি বিয়ে করার পর মা হঠাৎ ঠিক করল আমাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে থাকবে। তা বলে ভাবিস না আমার বউয়ের সঙ্গে মায়ের ঝগড়া হয়েছে। টুনটুনির সঙ্গে আমার মায়ের খুব ভাব। কিন্তু মায়ের ধারণা শাশুড়ি–বৌয়ের অনেকদিন ভাব রাখতে গেলে একটু দূরে দূরে থাকা দরকার। আমি আর টুনটুনি মাকে অনেক বোঝাবার চেষ্টা করেছি। মা তবু জেদ করে গ্রামে চলে গেল। সে বাড়ি ভাঙাচুরো অবস্থায় পড়েছিল, সারিয়ে– টারিয়ে নেওয়া হয়েছে বটে। কিন্তু মা সেখানে একলা একলা থাকবে, এটা ভাবলে আমাদের ভালো লাগে?

    আমি বললুম, সেইজন্যই কাকিমাকে অনেকদিন দেখিনি।

    — মা বছরে একবার কলকাতায় থাকবে ঠিক করেছে। তার ফলে আমাদেরই এখন গ্রামে যেতে হয়।

    –তুই মাঝে মাঝে যাস?

    —হ্যাঁ, যাই, কিন্তু অফিসের কাজকর্ম থাকে, কত আর ঘন ঘন যাওয়া যায় বল্। আমাদের কাজে শনি–রবিবারেও ছুটি নেই। আমি আর টুনটুনি গত মাসেই গিয়েছিলুম।

    –তুই আবার যখন যাবি, তখন নিয়ে যাস রেকর্ড প্লেয়ারটা।

    –আমার কথাটা শোন, নীলু। গত মাসে যখন গেলুম, তখন একটা জিনিস দেখে আমার খটকা লেগেছিল। না সব সময় রেডিও চালিয়ে রাখে। এমনকি রান্নাঘরে রান্না করার সময়েও পাশে রেডিও চলে। আগে কোনোদিন মায়ের রেডিও শোনার এত শখ দেখিনি। এখন একা একা থাকেন তো, কথা বলারও কোনো সঙ্গী নেই। তাই রেডিওর শব্দটাই…কিন্তু সারাদিন ধরে রেডিও প্রোগ্রাম শোনা কী কষ্টকর ভেবে দ্যাখ! যা সব অসহ্য প্রোগ্রাম হয়…।

    —গ্রামে থাকলেই সবাই রেডিও বেশি শোনে।

    —কিন্তু আমার মা তো গ্রামের মেয়ে নয়। আমার বাবার দেশ বীরভূমে কিন্তু মামাবাড়ি ভবানীপুরে। তুই যখন এ রেকর্ড প্লেয়ারটার কথা তুললি, অমনি চট করে মাথায় একটা আইডিয়া এসে গেল। মাকে যদি ঐটা পাঠানো যায়, আর কিছু কিছু রেকর্ড, তা হলে মা ইচ্ছে মতন গান–বাজনা শুনতে পারে। মা অতুলপ্রসাদের গান খুব ভালোবাসে। রেডিওর গান–বাজনা তো বেশির ভাগ সময়েই—

    —কিন্তু জিনিসটা তুই নিজে গিয়ে দিয়ে এলে ভালো হতো না?

    —শোন, আমার বাড়িতে একটা প্রায় নতুন রেকর্ড প্লেয়ার আছে। সেটাই তো মাকে দিতে পারতুম, পারতুম না? কিন্তু আমার মা–টা যে দারুণ জেদি আর অহংকারী। এটা দিতে গেলে মা কিছুতেই নিত না। মা ভাবত আমরা নিজেদের অসুবিধে করে স্যাক্রিফাইস করছি। দ্বিতীয় কথা, আমি যদি আর একটা রেকর্ড প্লেয়ার হাতে করে নিয়ে যাই, মা বলত, আমি টাকা বাজে খরচ করছি, ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু তুই নিয়ে গেলে ফিরিয়ে দেবে না। তৃতীয়ত, আমাকে বোম্বেতে একটা ট্রেনিং–এর জন্য যেতে হচ্ছে, দু’ মাসের মধ্যে ফিরতে পারব না। দু’ মাস গ্রামে যাওয়া সম্ভব নয়। আইডিয়াটা যখন মাথায় এসেছে, তখন দু’ মাস অপেক্ষা করা কি ঠিক? তুই–ই বল!

    তপনের প্রথমত, দ্বিতীয়ত, তৃতীয়ত আছে। আমার সেরকম একটাও যুক্তি নেই। পট করে একটা মিথ্যে অজুহাতও মনে পড়ল না। তার ফলে আমার চোখ দুটো ফ্যালফেলে হয়ে গেল।

    তপন বলল, দা সুনার দা বেটার। তুই কালকেই বেরিয়ে পড়। আমাদের গ্রামটা প্রায় পশ্চিমবাংলা আর বিহারের বর্ডারে। আমরা হাফ–বিহারী বুঝলি, তোকে রুটটা বুঝিয়ে দিচ্ছি…

    ছোটমামার বাড়িতে চেকটা পৌঁছে দিতে গিয়ে শুনলাম, ওঁরা দুজনেই রবিশঙ্করের বাজনা শুনতে গেছেন। ফিরতে রাত হবে। বাইরে বেশ বৃষ্টি পড়ছে জমিয়ে, আমার একটু একটু খিচুড়ি খাওয়ার শখ হয়েছিল।

    মামাতো ভাই পিন্টুকে সব বুঝিয়ে বলে, কয়েকটা রেকর্ড বেছে নিয়ে, রেকর্ড প্লেয়ারটি ঘাড়ে করে বেরিয়ে পড়লুম। ট্যাক্সি নিতে অসুবিধে নেই। তপন আমাকে পঁয়ষট্টি টাকা দিয়েছে।

    হঠাৎ মনে হলো, আমি কলকাতায় কয়েকদিন থাকব না। আমি রাজকুমারীর কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি। তার নামটা এখনো জানি না। কিন্তু আবার তাকে অন্তত একবার না দেখলে চলবেই না। সমস্ত নাচের আসরে ঘুরে ঘুরে ওকে খুঁজে বার করতেই হবে। শুধু শুধু আমার বুক কাঁপিয়ে চিরকালের জন্য অদৃশ্য হয়ে যাবে! এ কি ছেলেখেলা নাকি?

    রামপুরহাট থেকে ইব্রাহিমপুর, সেখান থেকে সাইকেল রিক্সা। রাজার বাঁধ তিন মাইলের মতন রাস্তা। একটা জিনিস তপনেরও মাথায় আসেনি। আমিও জিজ্ঞেস করিনি। রাজার বাঁধে ইলেকট্রিসিটি আছে তো? এই রেকর্ড প্লেয়ারটা তো ব্যাটারিতে চলবে না। তা হলে এতখানি আসাটাই পণ্ডশ্রম।

    রিক্সাওয়ালার সঙ্গে গল্প জমাতে গিয়ে প্রথম প্রশ্নটাতেই গণ্ডগোল করে ফেললুম। যে–কোনো আলাপে প্রথম বাক্যটিই আসল। কোনো কারণ নেই, বেমক্কা জিজ্ঞেস করলুম, ভাই, এখানে কি খুব বৃষ্টি চলছে এখন?

    লোকটি গড়গড়িয়ে উত্তর দিল, কেন, আপনার খুব বৃষ্টি দরকার নাকি? বৃষ্টির জ্বালায় অস্থির হয়ে যাচ্ছি। তার ওপরেও আপনার বৃষ্টি চাই?

    লোকটির নাম দেওকীনন্দন। বাংলা বলে জলের মতন, কিন্তু, বৃষ্টি পছন্দ করে না। বৃষ্টিতে ওর জীবিকার ক্ষতি হয়। কলকাতা শহরে বৃষ্টির সময় রিক্সাওয়ালাদের পোয়াবারো। কিন্তু এখানে বৃষ্টির সময় লোকে সহজে ‘রাস্তায় বেরোয় না।

    এর পরেই বিদ্যুতের কথা কী করে জিজ্ঞেস করি! যদি আবার বকুনি দেয়। আমি ভাবছিলুম, রাজার বাঁধে বিদ্যুৎ না থাকলে পত্রপাঠ এই রিক্সাতেই ফিরে যাব। ছেলের কাছ থেকে একটা অকেজো কলের গান উপহার হিসেবে নিয়ে এসেছি, এটা দেখলে কাকিমা নিশ্চয়ই খুশি হবেন না।

    রিক্সাওয়ালা নিজের থেকেই জিজ্ঞেস করল, কলকেতায় জোর বৃষ্টি হচ্ছে বুঝি?

    –খুব। সকালে স্টেশনে আসতে গিয়ে ভিজে গেছি।

    —আপনারাই তো বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আসেন!

    —এদেশে তো জল জমে না। আমাদের কলকাতার সব রাস্তায় জল জমে যায়। বৃষ্টিতে আমাদেরই অসুবিধে বেশি হয়।

    —এখানে ধান রোওয়ার সময় বৃষ্টির দেখা নেই। এখন অসময়ে দৈনিক ঝমঝমানি। আপনি রাজার বাঁধে কোন্ বাড়িতে যাবেন?

    –সেন বাড়ি।

    –কোন্ সেন। তিনজন আছে। কবিরাজ বাড়ি?

    —না। একজন ভদ্রমহিলা একা থাকেন। কলকাতা থেকে এসেছেন।

    –অ, বুঝিচি, নাড়ু গিন্নির বাড়ি।

    —নাড়ু গিন্নি মানে?

    ওনার বাড়িতে অতিথি গেলেই উনি দু’খানা করে নাড়ু আর জল খেতে দ্যান। আমি দু’ তিনবার সওয়ারি নিয়ে গেছি। আমাকেও দিয়েছেন। মানুষটা ভালো। কোনো দেমাক নেই।

    লাল ধুলোর রাস্তা, দু’পাশে উদাত্ত মাঠ, মাঝে মাঝে জঙ্গলের মতন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মাটির রঙে একটা নয়নবিমোহন আভা এসেছে। এখানকার প্রকৃতি অনেকটা সাঁওতাল পরগনার মতন, আমার বড় প্রিয়। এই প্রথম ঠিক করলুম, এসেছি যখন, দু’তিন দিন থেকে যেতে হবে। পিওনের মতন জিনিসটা পৌঁছেই ফিরে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।

    তপনের কথা শুনে মনে হয়েছিল, ওর মা কোনো দূর এঁদো পাড়াগাঁয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সেরকম কিছু তো নয়। কলকাতা থেকে ঘণ্টা চারেকের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। গ্রামে যাওয়ার রাস্তাটিও বেশ চওড়া, মোটরগাড়ি যেতে পারে, বিদ্যুতের পোস্টও চোখে পড়ল। এ তো বেড়াবার মতন জায়গা।

    বাড়িটার দু’ ধারে বাঁশবন ও আমবাগান, অনেকখানি জমি। আমাদের রিক্সা একটা সরু নদীর ধার দিয়ে দিয়ে গিয়ে, আমবাগানের মধ্য দিয়ে ঢুকে সেই বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়াল।

    বাড়িটি পুরোনো, বাগানের পাঁচিল ভেঙে পড়েছে, একটু দূরে একটা আলাদা ঘর ঐতিহাসিক ধ্বংসস্তূপের মতন ছাদহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এই রকম পুরোনো বাড়িই আমার ভালো লাগে। রেকর্ড প্লেয়ারের ঝঞ্ঝাট না থাকলে, এই বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকাই উচিত ছিল।

    পুরুষদের তুলনায় মেয়েরা মানুষের মুখ বেশি মনে রাখে। আমি দু’ বার ডাকতেই কাকিমা বেরিয়ে এসে আমাকে দেখে অবাক হলেন ঠিকই, কিন্তু চিনতে ভুল হলো না, সঙ্গে সঙ্গে বললেন, নীলু তুই?

    আমাকে দেখলেন প্রায় সাত–আট বছর বাদে, তার আগেও আমি তপনের বাড়িতে মাত্র দু’ তিনবারই গেছি। এই সাত–আট বছরে আমার চেহারার কিছু পরিবর্তন হয়েছে আশা করি!

    –কাকিমা, আমি রামপুরহাটে একটা কাজে এসেছিলুম। আসবার আগে কলকাতায় তপনের সঙ্গে দেখা হলো, ওর কাছে শুনলুম, আপনি এখানে থাকেন।

    –আয়, আয়, ভেতরে আয়!

    –কাকিমা, আমি কিন্তু আজ রাত্তিরটা এখানে থাকবো।

    —শুধু আজ রাত কেন, তোর যতদিন খুশি থাকবি।

    রিক্সা থেকে আমার বোঝা, রেকর্ড প্লেয়ারের বাক্সটা নামালুম। কাকিমা সেটা দেখে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না, নিশ্চয়ই ভাবলেন ওতে আমার কিছু মালপত্র আছে। ওটার কথা পরে বললেই হবে।

    ঘরের মধ্যে ঢুকে দেখি ঘরের মধ্যে শহুরে পোশাকের এক দম্পতি বসে আছে। ভদ্রলোকের বয়েস পঁয়তিরিশ ছত্রিশ হবে। মহিলাটি তিরিশের কাছাকাছি। কাকিমা এঁদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। হাতে চায়ের কাপ। কাকিমা পরিচয় করিয়ে দিলেন, ভদ্রলোকের নাম চন্দন ব্যানার্জি, তাঁর স্ত্রীর নাম উজ্জয়িনী, স্বামীটি শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক, তাঁর স্ত্রীও ওখানকার লাইব্রেরিতে কাজ করেন। এঁরা কাকিমার প্রতিবেশী, মাসে একবার শান্তিনিকেতন থেকে এখানে চলে আসেন। কাকিমা আমার পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, এই হচ্ছে নীলু, আমার ছেলের বন্ধু। খেলাধুলো করতে খুব ভালোবাসে।

    খেলোয়াড় হিসেবে যে আমার কোনো রকম সুনাম আছে, তা এই প্রথম জানলুম। ছোটবেলায় ওদের বাড়ির সামনে মাঠটায় প্রত্যেক বিকেলেই খুব ফুটবল পিটতুম তো, কাকিমার সেই কথাই মনে আছে।

    আমি জানি, এখন ওদের তিনজনের মনেই কোন্ প্রশ্নটি ঘুরছে। আমার বয়েসী একজন মানুষের পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না জানা যায় যে তার জীবিকা কী। বাঙালির ছেলে চাকরিই করবে, কোন্ চাকরি, কোথায় চাকরি, সেই অনুযায়ী আমাকে মাপা হবে।

    ওঁদের কৌতূহল নিরসন করার জন্য আমি নিজে থেকেই বললুম, আমি বীরভূমের গ্রামে গ্রামে ঘুরে বাউল গান সংগ্রহ করছি। অল ইণ্ডিয়া রেডিও থেকে আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।

    এটা একটা ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের ব্যাপার হলো। এটাকে ঠিক চাকরি বলা যায় না, আবার রেডিও–র গান সংগ্রাহকদের নামও প্রচার করা হয় না নিশ্চয়ই। বস্তুত, অল ইণ্ডিয়া রেডিও–র এরকম কোনো ব্যবস্থা আছে কি না তাই–ই বা কে জানে!

    আমার কথা শুনেই চন্দন চমকে তার স্ত্রীর দিকে তাকাল।

    উজ্জয়িনী ফিক করে হেসে বলল, আমিও তো এখন ঐ কাজই করছি। আপনি কতগুলো কালেক্‌ট করেছেন?

    বিনা দ্বিধায় উত্তর দিলুম, সতেরোটা!

    —অনেকগুলো কমন হয়ে যায়নি? একই গান একটু–আধটু পাল্টে আলাদা আলাদা বাউলরা গায়।

    —হ্যাঁ। কমন তো থাকেই।

    – তারপর দেখবেন, কোনো গান নতুন বলে মনে হবে। যে গাইছে সে তার নিজের লেখা বলে দাবি করবে। কিন্তু আসলে হয়তো অনেক আগে ছাপা হয়ে গেছে। পূর্ণ দাস বাউল এরকম একটা কালেকশান ছাপিয়েছে, সেটা দেখেছেন?

    —পূর্ণ দাস বাউলের বই, হ্যাঁ। দেখেছি তো বটেই, আমি নতুন যেগুলো সংগ্রহ করি, ঐ কালেকশানের সঙ্গে মিলিয়ে নিই।

    —আপনি কী কী পেয়েছেন, আমাকে একটু দেখাবেন? আপনি আমার সংগ্রহগুলোও দেখতে পারেন। যদি আপনার কাজে লাগে…

    —আপনারটা দেখতে পেলে তো আমার অনেক উপকার হবে।

    —কিন্তু সে তো এখানে নেই। শান্তিনিকেতনে আছে। অবশ্য প্রথম লাইনগুলো আমি মুখস্থ বলতে পারি।

    চন্দন অস্থিরভাবে বলল, আঃ থামো তো। বাউল গানের কথা উঠলে তোমার আর কাণ্ডজ্ঞান থাকে না। ভদ্রলোক সবে এসেছেন, একটু বসতে দাও!

    কাকিমা বললেন, বোস নীলু, আমি তোর জন্য চা করে আনছি।

    –না, কাকিমা। এক্ষুনি চায়ের দরকার নেই। আপনি বসুন। তপনরা সবাই ভালো আছে। ওরা তো গত মাসেই এসেছিল।

    অন্য কোনো একটি ঘরে রেডিও বেজে চলেছে। তপন ঠিকই বলেছিল। রেডিওতে সেতার বাজছে।

    চন্দন আমার দিকে তাকিয়ে বলল, জানেন, আপনাদের কাকিমা যে এখানে একা থাকেন, সেটা বোধহয় ঠিক হচ্ছে না। এখানে আজকাল বড্ড ডাকাতি হচ্ছে, গত সপ্তাহেই একটা ডাকাতি হয়ে গেছে আমাদের বাড়িতে। বাড়িতে দু’জন লোক ছিল, একজনকে ঘরের মধ্যে বন্ধ করে রেখেছে, আর একজনের ঘাড়ে টাঙ্গির কোপ মেরেছে, একটুর জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে।

    কাকিমা বললেন, ডাকাতরা এ বাড়ি থেকে কী নেবে? কিছুই তো নেই। আমাকে ওরা বিরক্ত করতে আসবে না।

    চন্দন বলল, আপনি জানেন না, কাকিমা, আজকাল কী অবস্থা। চোররাও সব ডাকাত হয়ে গেছে। ঘটি–বাটি সাইকেল এই সব নেবার জন্যও দল বেঁধে ডাকাত আসে।

    কাকিমা হেসে বললেন, আসুক না। আমি কোনোদিন নিজের চোখে জলজ্যান্ত ডাকাত দেখিনি। ওরা কি গায়ে রং মেখে আসে?

    –কাকিমা, আপনি কথাটা সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না। কিন্তু আমার মনে হয়, আপনার একজন দারোয়ান–টারোয়ান রাখা উচিত।

    –আরে বলছি তো, আমার বাড়িতে দামী কোনো জিনিস নেই। ডাকাতরাও তা জেনে গেছে। থাকার মধ্যে আছে একটা ছোট রেডিও। সেটা সেকেণ্ড হ্যাণ্ড হিসেবে বিক্রি করলে পঞ্চাশ টাকাও পাবে না।

    আমি রেকর্ড প্লেয়ারের বাক্সটির দিকে একবার তাকালুম।

    কাকিমা একটা লালপাড় শাড়ি পরে আছেন। চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা। এককালে বেশ সুন্দরী ছিলেন। এখনও সে সৌন্দর্য মুছে যায়নি। শরীরে বার্ধক্যও প্রকট নয়। আসবার পথে রিক্সাওয়ালার মুখে কাকিমার প্রশংসা শুনেছি। এরকম মানুষের কাছে ডাকাতরা কখনো আসে না। এলেও দিনের বেলা আসবে, অন্য রকম পোশাকে।

    একটু বাদে চন্দন আর উজ্জয়িনী বিদায় নিল। কাল সকালে ওদের বাড়িতে আমার চায়ের নেমন্তন্ন, বিকেলে ওরা ফিরে যাবে শান্তিনিকেতনে।

    কাকিমা বললেন, আয় নীলু, তোর ঘর দেখিয়ে দিই। ট্রেন–জার্নি করে এসেছিস খুব ভিড় ছিল নিশ্চয়ই? বসার জায়গা পেয়েছিলি?

    –না, দারুণ ভিড় ছিল।

    —তা হলে একটু শুয়ে নিতে পারিস। বিকেলবেলা নদীর ধারটা ঘুরে আয়, খুব সুন্দর। দুপুরে খেয়েছিস তো?

    —হ্যাঁ খেয়েছি। এখন এককাপ চা খেতে পারি।

    কাকিমা আমাকে পাশের একটা ঘরে নিয়ে এলেন। সেখানে খাট–বিছানা পাতা আছে। তপনরা এলে নিশ্চয়ই এই ঘরে থাকে। একটা টেবিলের ওপর কয়েকখানা বই, পত্র–পত্রিকা আর তপনের কোম্পানির একটা প্যাড।

    আমার শোওয়ার দরকার নেই, দরকার একটা সিগারেট টানার। আর খান কয়েক বাউল গান এক্ষুনি লিখে ফেলতে হবে। উজ্জয়িনী সহজে ছাড়বে বলে মনে হয় না।

    আধঘণ্টা কাগজ–কলম নিয়ে ধস্তাধস্তি করেও বিশেষ সুবিধে হলো না। কিছু লিখতে গেলেই রবীন্দ্রসঙ্গীতের মতন হয়ে যায়। এখনও অনেক লোক রবীন্দ্রসঙ্গীত লিখে চলেছে শুনেছি। কিন্তু আমি সেরকম কিছু চালাতে গেলে উজ্জয়িনী ধরে ফেলবে, ও শান্তিনিকেতনের মেয়ে!

    কী কুক্ষণে যে ঐ কথাটা বলে ফেলেছিলুম! কিংবা, ঐ সময় এ বাড়িতে চন্দন আর উজ্জয়িনীর উপস্থিত থাকার দরকার কী ছিল?

    তিনটে সিগারেট পুড়িয়ে ও তপনের কোম্পানির প্যাডের পাঁচটা পাতা নষ্ট করে আমি ক্ষান্ত দিলুম। কবিতা কি সকলের হাতে আসে! গণ্ডার দিয়ে কি হাল– চাষ করানো যায়? নাঃ, এ উপমাটা ভালো নয়। ভিমরুলকে দিয়ে কি গান গাওয়ানো সম্ভব? এ উপমাটাও ভালো হলো না। যাক গে, আমার দরকার কী উপমা–টুপমা নিয়ে মাথা ঘামানোর?

    রেকর্ড প্লেয়ারের বাক্সটি খুলে, সব কিছু ঠিকঠাক করে একটা অতুলপ্রসাদের রেকর্ড চালিয়ে দিলুম। এবাড়িতে বিদ্যুৎ আছে, ছোটমামার মেশিনটাতেও খুঁত নেই, আওয়াজ বেশ ভালো।

    কাকিমা দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন। মুখখানাতে সরল বিস্ময়। আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই একগাল হেসে বললেন, এ তো বাউল গান নয়, তুই এই গানও সঙ্গে নিয়ে ঘুরছিস? আমার বাপু বাউল গান বেশি সহ্য হয় না।

    —কাকিমা, আমার কাছে আরো বেশ কয়েকটা রেকর্ড আছে। দেখুন তো, এই গানগুলো আপনার পছন্দ?

    রেকর্ডগুচ্ছ হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে কাকিমা বললেন, বাঃ, এ তো সব ভালো ভালো গান রয়েছে রে! কতদিন এই সব গান শুনিনি! তুই এই সব নিয়ে ঘুরছিস কেন রে, নীলু? তোর কাজের জন্য দরকার তো একটা টেপ রেকর্ডার! –কাকিমা, এগুলো নিয়ে আমি ঘুরছি না। আপনার জন্য এনেছি।

    –আমার জন্য? তুই এগুলো আমার জন্য এনেছিস?

    —হ্যাঁ। তপন আপনাকে এই মেশিনটা পাঠিয়েছে। আমি এদিকে আসছি শুনে ও বলল আপনাকে পৌঁছে দিতে। কয়েকটা রেকর্ড এনেছি আমার ছোটমামার কাছ থেকে, এমনি পড়েছিল।

    —খোকা আমাকে হঠাৎ এটা পাঠাল কেন?

    –আপনি গান শুনবেন বলে।

    — গান তো আমি রেডিওতে সর্বক্ষণ শুনছি। আমার আবার এত দামী জিনিসে দরকার কী?

    —এটা এমন কিছু দামী নয়।

    —রেকর্ড প্লেয়ারের কত দাম হয় আমি জানি না? একটু আগে শুনলি না, এখানে কী রকম ডাকাতি হয়? এই সব দেখলে ডাকাতদের লোভ পড়বে এ বাড়ির দিকে। না–না, ওটা আমার দরকার নেই। তুই ফিরিয়ে নিয়ে যাবি।

    –না–না, কাকিমা, এটাতে আপনি গান শুনবেন। আপনার ভালো লাগবে।

    —আমার অত গান শোনার দরকার নেই। তুই চাস এ বাড়িতে ডাকাতের হামলা হোক?

    —ডাকাতরা জানবে কী করে? ভাববে রেডিও বাজছে।

    — আজকালকার ডাকাতরা সব চেনে। তাছাড়া, তুই যে সাইকেল রিক্সায় এলি, ঐ লোকটাই বলে দেবে। ফেরার সময় তুই ঐ রিক্সাতেই যাবি, এটা সঙ্গে নিয়ে যাবি।

    —কিন্তু কাকিমা, আমি তো সোজা কলকাতায় ফিরব না, আরো অনেক জায়গায় যেতে হবে। এরকম একটা ভারি জিনিস সঙ্গে নিয়ে নিয়ে ঘোরা…

    –সে আমি জানি না। তুই এনেছিস যখন, তোকেই ফেরত নিয়ে যেতে হবে। খোকাকে বলবি, এরকম হুটহাট করে যেন কোনো জিনিসপত্র না পাঠায়।

    ওদের এখন বাচ্চা–কাচ্চা হয়েছে, অনেক খরচপত্র আছে। আমার জন্য এখন কিছু পাঠাতে হবে না। যাকগে, রেকর্ডগুলো যখন এনেছিস, শুনে নি।

    কাকিমা বসে পড়লেন মেঝেতে, মঞ্জু গুপ্তর একখানা গান শুনতে শুনতে হঠাৎ নিজেও গেয়ে উঠলেন সেই গানটা। বেশ সুন্দর গলা! কাকিমা পিসিমাদের মুখে গান শোনার তো অভ্যেস নেই, তাই চমকে গেলাম প্রথমে। তারপরেই মনে হলো, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়–সুচিত্রা মিত্রও তো এই বয়েসীই হবেন। মঞ্জু গুপ্ত বেঁচে থাকলে আমার দিদিমার সমান হতেন।

    সেই রাত্রে আমি একটা খুব গোলমেলে স্বপ্ন দেখলুম। তিনটে ডাকাত এসেছে, তার মধ্যে একজন হচ্ছে আমার রিক্সাওয়ালা দেওকীনন্দন, যে বৃষ্টি অপছন্দ করে। সে চোখ পাকিয়ে বলল, খুব যে কলকাতা থেকে বৃষ্টি নিয়ে এসেছ, এখন দাও, সব কিছু দাও! কাকিমা বললেন, এই নীলু, ওদের সঙ্গে তর্ক করিস না, রেকর্ড প্লেয়ারটা দিয়ে দে শিগগির…আমি তখন ভাবতে লাগলুম, রেকর্ড প্লেয়ারটা কার গেল, তপনের না আমার? কাকিমা ওটা ফেরত দিয়ে দিয়েছেন, তারপর ডাকাতে নিয়ে গেল…তপন বলবে, ডেলিভারি কমপ্লিট হয়নি, তুই দাম ফেরত দে! ছোটমামা বলবেন, তুই আমার জিনিসটা নিয়ে গেলি, আর ফেরত আনলি না, এখন বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছিস…। ঘামে আমার সারা গা ভিজে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Next Article নিরুদ্দেশের দেশে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }